ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার সেই প্রিয়সী

২৩তম পর্ব

লেখক: শ্যামলী রহমান

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী

লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান

পর্ব: ২৩

রুহি তখন রিশাদের পিছন পিছন এসেছিলো ছাঁদ এসে রিশাদকে ফোনে কথা বলা পুরোপুরি না শুনলেও শেষের টুকু শুনতে পেয়েছে। তার মনের ভেতর কৌতূহল আরও বাড়লো কি ধুমধুমার ধামাকা হবে। "রাঘব বুয়াল" বিষয়টা কী হতে পারে? রিশাদের কথায় মনে হচ্ছিল, সে যেন কোনো গোপন পরিকল্পনা করছে। রুহি জানে, দুই বাড়ির শত্রুতার কারণে রিশাদ হয়তো কোনো বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে।

রিশাদ ফেরার আগে রুহি রুমে ফিরে এল যাতে ওকে দেখতে না পায়।

রুহি মনে মনে ভাবছে,

এই শত্রুতা শেষ করতে গেলে আমাকে সত্যি অতীতটা জানতে হবে। কিন্তু আব্বু কিছুতেই বলবেন না, আর আম্মুও নিশ্চুপ। তবে রিশাদ হয়তো কিছু জানে! ওর কাছ থেকে আমাকে জানতে হবে।"

রিশাদ ছাঁদ থেকে নেমে এলো। রুহি রুমে বসে ছিল। তার মুখে চিন্তার ছাপ দেখে রিশাদ ভ্রু কুচকে তাকায় কিন্তু কিছু বলেনা।

রুহি গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

"আমি কিছু জানতে চাই। সত্যি করে বলবেন?"

"রিশাদ রুহির চোখের দিকে তাকিয়ে দেখে চোখের এই চাহনি দেখে মনে হচ্ছে, কিছু জানার আকাঙ্খা তা বুঝতে পারছে।

গম্ভীর মুখে বলে,

" কি জানতে চাও বলো?

রুহি ধীর স্বরে বলল,

"দুই বাড়ির শত্রুতার কারণটা কী, আপনি জানেন?"

রিশাদ কিছুক্ষণ চুপ করে রুহির দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল,

"জানার দরকার আছে?"

"হ্যাঁ, খুব। কারণ এই শত্রুতাই আমাদের সব সমস্যার মূল। এই শত্রুতার কারণ কি জানতে চাই আর শেষ করতে চাই।

রিশাদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

অতঃপর বলে,

"তুমি শত্রুতা শেষ করতে পারবে না?তুমি তো শুধু আমাকে শেষ করতে পারবে কারণ আমি তোমার শত্রু।

এখনো সব কিছু জানিনা আর তোমাকে জানাতেও পারবো না একটু অপেক্ষা করো ঠিক জানতে পারবে (মনে মনে)

রিশাদের কথায় রুহির মন খারাপ হয় ভুল করেছে বলে আজ এরকম কথা শুনতে হচ্ছে।

রুহি নিচে কাউকে দেখতে পায়নি কেউ নেই কোথাই গেছে এতো কিছুর মধ্যে জানা হয়নি তাই জিজ্ঞেস করে,

'বাবা, মা কোথাই গেছে?

"তোমার বাবা মা বাসায় আছে আর কোথাই যাবে।

'আমি আমার বাবা, মা 'র কথা বলছি না আমি আপনার বাবা মা'র কথা বলছি।

রিশাদ একটু বাঁকা চোখে তাকায়।

" আব্বু, আম্মু মামার বাসায় গেছে।

'আর রাফিয়া?

"ও গেছে তবে ওকে ফোন করেছি বিকেলে আসবে আর আব্বু আম্মু থাকবে।

রুহির আর কিছু বলার আগে রিশাদ ওয়াশ রুমে ঢুকে পড়লো রুহিও রুম থেকে বাহির হয়ে রান্না ঘরে রিশাদের জন্য খাবার বানাতে গেল।

রুহি খাবার বানানো শেষ করে এসে দেখে রিশাদ গোসল সেরে শার্ট কোর্ট পরে রেডি হয়েছে।

রুহি সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করে,

'কোথাও যাচ্ছেন?

"অফিসে যাই যানো না?

'ওহ! তা জানি কিন্তু আমি বাড়িতে একা থাকবো?

কথাটা আস্তে বললেও রিশাদ শুনতে পায়।

"ওকে বাসা থেকে চলে যেতে পারো আর একা থাকতে পারবে না। তাছাড়া এখন দিন ভূত আসবে না আমার অফিসে কাজ আছে যেতে হবে আব্বু ও নেই।

রিশাদের কথায় রুহি বুঝতে পারছে ওকে খোটা দিয়ে বলছে আর এখনো কিছুটা রাগ,অভিমান আছে।

রিশাদ নিচে নামে রুহি খাবার খেতে টেবিলে ডাকলে ও তাড়াতাড়ি করে যেতে যেতে বলে,

" সময় নেই অফিসে খেয়ে নিবো বলে বেরিয়ে যায় রুহি দাঁড়িয়ে দেখে আর ভাবপ,

এসব ভুল বোঝাবুঝি না হলে আজকের সময়টা সুন্দর হতো অফিসে যাওয়ার আগে আমার হাতের খাবার খেত যাওয়ার আগে কপালে চুমো একে দিতো এই স্বপ্ন তো ছিলো রিশাদকে নিয়ে কিন্তু নিজের কারণে এমন হয়েছে চোখে হাল্কা পানিটুকু মুছে নেয়।

রিশাদ বাহির হয়ে এসে হেঁসে ফেলে আর বলে,

"তোমার শাস্তি এগুলো তবে বেশিদিন না একদিনই দিবো তুমি আমায় অনেকদিন কষ্ট দিয়েছো কিন্তু আমি দিতে পারবো না কারণ আমি তোমায় ছাড়া বেশি সময় দূরে থাকতে পারবো না।

রিশাদ বেরিয়ে যাওয়ার পর রুহি দরজা আটকে দিয়ে কিছু সময় ছাঁদ থেকে ঘুরে আসে একা একা ভালো লাগছেনা তাই ছাঁদ থেকে ফিরে ও মন খারাপ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে কখন যে দুপুর গড়িয়ে যায় বুঝতে পারে না।

কলিং বেল বাজার শব্দে রুহির ঘুম ভাঙে তাড়াহুড়ো করে

নিচে দৌড়ে নামে দরজা খুলে দেয়।

দরজার সামনে রোহানকে দেখে অবাক হয়।

'ভাইয়া তুমি এই সময়?

রোহান ভিতরে আসতে আসতে বলে,

-আমি হসপিটালে গিয়েছিলাম আজকে দুপুরের পর কাজ ছিলে না তাই বাসায় যাচ্ছিলাম কিন্তু পথে রিশাদ ফোন করে বললো তুই একা আছিস তোর জন্য আমাকে আসতে বললো তাই চলে আসলাম।

'ওহ! আমি ভেবেছিলাম রাফিয়া আসছে ওর আসার কথা ছিলো।

-রাফিয়ার আসতে সন্ধ্যা হবে আর রিশাদের কাজ একটু বেশি হয়ে গেছে আসতে রাত হবে তাই আমাকপ আসতে হলো।

'বাসায় আব্বু কি কিছু বলছে?

-না কিছু বলেননি শুধু গম্ভীর মুখে বসে ছিলেন। তোর আাসার একটু পর আমি তো হসপিটালে চলে আসছিলাম।

-রিশাদের রাগ অভিমান ভেঙেছে?

'ক্ষমা তো চেয়েছি তবে মনে হচ্ছে রাগ করে আছেন।

-আচ্ছা শোন এমন কিছু কর যাতে রাগ করে থাকতে না পারে।

'কি করবো?

-আমার এসব বিষয়ে তেমন ধারণা নেই তুই বরং রাফিয়াকে তাড়াতাড়ি আসতে বল ও মেয়ে মানুষ ওর কাছে আইডিয়া থাকতে পারে।

রোহানের কথায় রুহি রাজি হয়ে যায়।

'আইডিয়া ওর কাছে ভালো থাকে তাহলে ওকে ফোন করি।

-ওকে কর কিন্তু আমি এসেছি এটা বলিস না।

'কেন?

-এমনি বলতে হবে কেন?আমি তো চলে যাবো।

রুহি রাফিয়াকে ফোন করে সব কিছু বলে রাফিয়া কিছু প্ল্যান দেয় আর আসার সময় যা লাগবে নিয়ে আসবে বলে ফোন কেটে দেয়।

রোহান এসেছে এই কথাটা বলে না।

-কি প্ল্যান দিলো?

'রুহি রোহানকে সব বললো।

রোহান শুনে মনে মনে বলে,

-মায়াবিনী তুমি অন্য কারো ভালোবাসার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি শেষ করার উপায় বলে দিচ্ছো অথচ আমার ভুলের জন্য দূরে যাচ্ছো নাগালে পাচ্ছি না।

'ভাইয়া কিছু ভাবছো?

রুহির কথায় রোহান ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসে।

-না বল?আর রাফিয়া কখন আসবে?

'আসতে সন্ধ্যা হবে বললো।

-ওকে আমার জন্য এক কাপ কফি নিয়ে আয় মাথাটা ধরেছে।

'ভাইয়া এবার বিয়েটা করে নেও ভাবি আসলে ভালো হবে বলে রুহি রান্না ঘরে চলে যায়।

এদিকে রোহান বলে,

-ভাবি খুব শিগগিরই হবে শুধু তাকে একটু মানিয়ে নেই আর আজকে সেটা করবো।

দুই ভাই বোনের গল্প, আড্ডা, আলোচনা কি করবে না করবে এই নিয়ে বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামতে চললো।

গোধূলি বেলার সোনালী সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে যাচ্ছে আর কিছুক্ষণের মধ্যে সন্ধ্যা নামবে চারদিক অন্ধকার হয়ে আসবে আর এখন রাফিয়া আসবে দেখে রোহান রুহিকে বলে,

-আমি একটু ছাঁদে যাচ্ছি বলে উপরে চলে যায়।

রুহি রাতের রান্না করছে তখন কলিং বেল বাজে রুহি গিয়ে দরজা খুলে দেয় রাফিয়া দৌঁড়ে এসে রুহি জড়িয়ে ধরে বলে,

;সেই আমার ভাইয়ের কাছে এলি তো,?আগেই বলেছিলাম ভাইয়াকে ভুল বুঝিস না এখন বুঝ মজা রাগ ভাঙা।

"তোর প্ল্যান হলেই হবে।

;কি দিন আসলো নিজের ভাইয়ের রাগ ভাঙগানোর জন্য আমাকে আইডিয়া দিতে হচ্ছে।

" আমি তোর হেল্প নিচ্ছি ননদ হিসাবে না আমার বান্ধবী হিসাবে হেল্প নিচ্ছি বুঝেছিস।

;তাহলে আমার ভাইকে দুলাভাই ডাকবো নাকি?

রুহি দাঁত বের করে হাঁসতে হাঁসতে বলে,

"ডাকতে পারলে ডাকিস আমার কিন্তু সমস্যা নেই।

আমার রান্না পুড়ে যাচ্ছে বলে রুহি দৌড়ে দেয়।

রাফিয়া চিল্লিয়ে বলে,

;আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি তার পর সব প্ল্যান অনুযায়ী করবো।

" তাড়াতাড়ি আসিস তোর ভাই এক দু ঘন্টার মধ্যে চলে আসতে পারে।

রাফিয়া নিজের রুমে যায় খুব গরম লাগছে রুমের এসিটা দেয় রাস্তায় জ্যামে বসে থেকে অবস্থা শেষ ক্লান্ত লাগছে তাই ওয়াশ রুমে ফ্রেশ হতে যায়।

দশ মিনিট পর ফ্রেশ হয়ে বাহির হয়ে রোহানকে নিজের বেডে বসে থাকতে দেখে একটু চমকে যায়।

ওয়াশ রুমের দরজা খোলার শব্দে রোহান ও সেদিকে তাকায় রাফিয়া দৃঢ় কন্ঠে বলে,

;আপনি এখানে কি করছেন?আর আসলেন কিভাবে?

রোহান বেড থেকে ওঠে রাফিয়ার সামনে এসে দাঁড়ায় সদ্য ভেজা ঠান্ডা হাত দুটো নিজের হাতে নেয় অনুতপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,

-সরি!ভুল বোঝার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। আমি না বুঝে কত কি বলে ফেলেছি তখন মাথা ঠিক ছিলো না এবারে মাফ করে দেও কথা দিচ্ছি আর কখনো এমন ভুল হবে না।

রাফিয়া হাত দুটো ছাড়িয়ে নেয়।

;মিস্টার রোহান চৌধুরী আপনাকে আমি আগেই বলেছি আমি যদি একবার মুখ ফিরিয়ে নেই তাহলে আর ফিরবো না।

-ভালোবাসার ভুল বোঝাবুঝি থাকবে তাই বলে দূরে সরে যাবে?যোগাযোগ বন্ধ করে দিবে?

জানো তোমায় না পেয়ে আমার অবস্থা কেমন হয়েছিলো?

রাফিয়া উপহাস করে বলে,

;দূরে চলে গেলে, যোগাযোগ না করলে কেমন লাগে এবার বুঝতে পেরেছেন তো?

আমিও অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম কান্না করেছি র্নিঘুম রাত কাটিয়েছি।

রোহান রাফিয়ার হাত ধরে চোখ চোখ রাখে।

রাফিয়া হাত ছাড়াতে চাচ্ছে কিন্তু পারছে না।

-আমার ভালোবাসা ঠুনকো নয় যে একটা ভুল বোঝার কারণে শেষ করে দিবে আর আমি মেনে নিবো তুমি না চাইলে তোমার আমার হতে হবে পারলে তোমার ভাইয়ের মতো জোর করে হলেও নিজের করে নিবো আর হাত এতো মুচড়া মুচড়ি করছো কেন?

যেদিন প্রথম হাত ধরেছিলাম সেদিন কি বলেছিলাম মনে নেই?

সেদিন বলেছিলাম এই হাত একবার ধরেছি আর ছাড়বো না যত নিশ্বাস আছে ততদিন তুমিও আমার পাশে থাকবে।

রাফিয়া নিলুপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কিছু বলার আগে নিচ থেকে রুহির ডাক আসে রাফিয়া হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যায় রোহান একা রুমে রয়ে যায় মুখে তার হাঁসি এখন যেটুকু বলেছে বাকিটা পরে বলবে আর সব ভুল বোঝাবুঝি শেষ করে মায়াবিনীর মুখে হাঁসি ফুটিয়ে যাবে।

চলবে.............?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন