ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার সেই প্রিয়সী

২৪তম পর্ব

লেখক: শ্যামলী রহমান

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী

লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান

পর্ব:২৪

রোহান রুমে দাঁড়িয়ে এক মুহূর্ত রাফিয়ার চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে থাকে। ওর মনে হলো, রাফিয়ার চোখের সেই অভিমান আর কষ্ট ওর হৃদয়কে টুকরো করে দিচ্ছে। কিন্তু এই কষ্টগুলো মিটিয়ে তাকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে।

রাফিয়া নিচে এসে রুহির রান্না শেষ হয়নি দেখে তাগদা দিয়ে বললো তাড়াতাড়ি করো সময় কম।

"তুই গিয়ে কাজ শুরু কর আমি আসছি।

রাফিয়া একা ছাঁদে চলে যায় মনের মধ্যে তার অস্থিরতা এক বাড়িতে ভালোবাসার মানুষটা সে ভুল বুঝতে পেরেছে কি করবো?

না উনি আমায় কষ্ট দিয়েছেন।

কিন্তু যতই রাগ অভিমান করে থাকি উনাকে ছাড়া থাকাটাও অসম্ভব।

এমন শতশত প্রশ্ন তার মনে কিন্তু এসব বাদ দিয়ে নিজের কাজে চলে যায়।

রোহান নিচে নেমে এলো, রুহি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে তাকে দেখতে পেয়ে বলল,

“ভাইয়া, কী হলো? এত গম্ভীর মুখ কেন?”

রোহান নিজের ভাবনায় আটকে থাকা গলা সরিয়ে বলল,

“কিছু না, একটু মাথা ধরেছে। তোর কাছে পেইন কিলার আছে?”

রুহি চিন্তিতভাবে বলল,

“নাহ, আছে মনে হয় না। কিন্তু মাথা ধরে কেন? ঠিক আছো তো?”

রোহান হালকা হাসি দিয়ে বলল,

“আমি ঠিক আছি আমাকে নিয়ে এতো চিন্তা করতে হবে না আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী সব করতে হবে সময় নেই রান্না হয়েছে তো?ছাঁদে যেতে হবে কিন্তু।

রুহি বুঝতে পারছে রোহানের কোনো একটা টেনশন আছে, কিন্তু সে কিছু বলল না। তাড়াহুড়ো রান্না ঘরে যেতে যেতে বললো,

-হয়ে আসছে আর দু মিনিট রাফিয়া গেছে তুমি যাও আমিও আসছি।

রোহান ছাঁদে গিয়ে চুপচাপ বসে রাফিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। রাফিয়া ছাঁদের উপরে ছোট ঘরটা সাজানোর জন্য বেলুন ফলাচ্ছে মৃদু বাতাসে চারপাশের নিস্তব্ধতাকে অনুভব করতে করতে ওর মনে হলো,

“জীবনে আমি রাফিয়ার মতো মেয়েকে পেয়েছিলাম কিন্তু নিজের ভুলের কারণে আজ ও এত দূরে চলে যাচ্ছে। রুহি যদি রিশাদের ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে দিতে পারে, তাহলে কেন আমি পারব না?এসব ভেবে রোহান ওঠে রাফিয়ার পাশে বসে ওর মন গলাতে ওর সাথে বেলুন ফোলাচ্ছে ফুল দিয়ে সাজাতে সাহায্য করেছে রাফিয়া সব কিছু দেখে যাচ্ছে কিছু বলছে না।

ফুল দিয়ে সাজানোর সময় ফুল টেপ দিয়ে আটকে দিয়ে সেটা কাটার জন্য ছুরি হাতে অন্যমনষ্ক হয়ে কাটতে গিয়ে হাতে লেগে হাত কেটে যায় রাফিয়া চিল্লায়ে ওঠে রোহান তখনি দেখে রাফিয়ার হাত কেটে গেছে তাড়াহুড়ো করে হাতটা মুখে পুরে নেয় চোখে মুখে আহাজারি মনে হচ্ছে ব্যথা ওর নিজের লেগেছে আর কত কি হয়েছে তখন ও রাফিয়া নিশ্চুপ হয়ে দেখে আছে রোহান উপরে তাকাতে দুজনের চোখাচোখি হয়ে যায় রুহি ছাঁদে আসতে আসতে বলে হয়েছে তোদের?

রুহির কন্ঠ শুনে দুজন সরে যায় রাফিয়া বলে,

"হ্যাঁ কাজ কম্পিট শুধু তোর কাজ বাকি চল এবার।

রাফিয়া রুহিকে নিয়ে রুমে যায় সুন্দর একটা কালো রঙের জামদানী শাড়ি পরিয়ে হাল্কা সাজিয়ে দিয়ে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলে,

" ইসস!তোকে পরী লাগছে রে আমার ভাই দেখলে নির্ঘাত ফিদা হয়ে যাবে।

রুহি লাজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে নিঃশব্দে হাঁসে দেখে রাফিয়া একটু ধ্বাক্কা দিয়ে বলে,

"এতো লজ্জা পেতে হবে না ভাইয়া হয়তো এসে পড়বে তুই ছাঁদের রুমে গিয়ে বসে থাক ভাইয়া আসলে পাঠিয়ে দিবো।

রাফিয়ার কথা মতো সব হচ্ছে রুহি চলে যায় ছাঁদে রোহান আছে কারণ রুহি একা ভয় পায় তাই প্রাণের ভাই সাথে আছে রিশাদ গেলে চলে আসবে।

রাফিয়া নিচে অপেক্ষা করছে রিশাদের জন্য বসে থাকতে থাকতে কলিং বেল বাজে রাফিয়া তড়িৎ গতিতে ওঠে দরজা খুলে দেয়। রিশাদ রাফিয়াকে দরজা খুলতে দেখে আবাক হয় ও ভেবেছিলো অভিমান ভাঙানোর চেষ্টায় নিজে দরজা খুলে দিবে কান্ততার জন্য ঠান্ডা পানি এনে সামনে ধরবে।

রিশাদ ভিতরে আসে আশে পাশে ঘাড় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রুহিকে দেখতে পায় না রাফিয়া জিজ্ঞেস করে,

" কি খুঁজছো ভাইয়া?রুহিকে?

রিশাদ গুমোট মুখ করে বলে,

"না এমনি দেখতে পাচ্ছি না তাই।

'ওহ আচ্ছা কিন্তু রুহি তো ছাঁদে মন খারাপ করে বসে আছে।

" কেন?

'তোমার জন্য নাকি মন খারাপ ওতো কিছু বলছে না তুমি গিয়ে শুনো।

রিশাদ উপরে ওঠে নিজের রুমে যায় অফিসের ব্যাগটা রেখে ওয়াশ রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বাহির হয় রুমে রুহি আসেনি দেখে ছাঁদে পা বাড়ায় সেখানে গিয়ে রোহানকে দেখতে পায় কিন্তু পুরো ছাঁদে কোথাও রুহি নেই তাই রোহানকে জিজ্ঞেস করে,

"তোর বোন কই?

রোহান একটু মজা করে বলে,

-আশে পাশে খুঁজিয়া দেখো আপনার বেগমকে অন্ধকার হতে ফিরিয়ে আনো।

রোহানের মাশকারা কথা শুনে ভ্রু কুচকে তাকায় ওর কাঁধে একটা ঘুসি দিয়ে বলে,

" তোর হেয়ালি বন্ধ করে বল কোথায়?

-আচ্ছা বলছি তার আগে চোখ বন্ধ করতে হবে।

"আবার?

রোহান এক হাত দিয়ে রিশাদের চোখ ধরে ছাঁদে রুমের দরজা খুলে রিশাদকে ঢুকিয়ে দিয়ে চলে আসে।

রিশাদ চোখ খুলে আশেপাশে তাকিয়ে দেখে অন্ধকার রুমে মিটিমিটি মোমবাতি জ্বলছে ঘরের ছোট্ট বেডটা ফুল আর বেলুন দিয়ে সাজানো সব মিলিয়ে রুমটা অনেক সুন্দর লাগছে। রিশাদ পুরো রুম দেখতে দেখতে শেষে চোখ পড়ে রুমের কোনার আড়াল থেকে বেরিয়ে আসা শাড়ি পরিহিত এক অপূর্ব সুন্দরী রমনি হ্যাঁ এটা আর কেউ নয় তারই প্রিয়শী যার দিক থেকে চোখ সরানো যাচ্ছে না অসম্ভব সুন্দর লাগছে কালো শাড়ি পরিহিত নিজের স্ত্রী কে যে ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে আসছে হাতে তার রঙিন মোমবাতি জ্বলছে এতে আরো সুন্দর লাগছে।

রঙিন মোমবাতির অগ্নিশিখা, সৌন্দর্য বাড়িয়ে করছে অতুলনীয়,

যে সৌন্দর্য করছে প্রিয় পুরুষের মন উতালপাতালনীয়।

রুহি রিশাদের সামনে এসে দাঁড়ায় রিশাদ এখনো মুগ্ধ হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।

রুহি হাতে থাকা মোমবাতিটা পাশে রেখে রিশাদের চোখে চোখ রেখে বলে,

"এই দেখতে পাচ্ছেন জ্বলন্ত মোমবাতি এটার মতো আমাদের ভালোবাসা সব সময় উজ্জল হয়ে আলো দিবে আমাদের পথ ভুল হলে পথ দেখাবে যতক্ষণ পর্যন্ত মোমবাতির মোম গলে না ফুরিয়ে যায় ততক্ষণ পর্যন্ত আলো দিতে থাকবে তেমনি আমি শেষ হওয়া না পর্যন্ত আমাদের ভালোবাসা শেষ হতে দিবো না। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি আমি আপনার কাছে ফিরতে চাই।আপনার সানিধ্যে থাকতে চাই আজীবন। আপনি কি আমায় ভুল ক্ষমা করে নিজের কাছে আগলে নিবেন?

রিশাদ চুপ করে আছে আর রুহি চাতক পাখির মতো উত্তরের অপেক্ষা করছে।

অবশেষে রিশাদ নিরবতা ভেঙে হুট করে রুহি জড়িয়ে ধরে বলে,

" তুই আমার জীবন তুই আমার মরণ। এই মোমবাতির মতো আমার ভালোবাসা সেদিন শেষ হবে যেদিন আমি শেষ হয়ে যাবো।

আমি তোকে তোর চেয়ে বেশি ভালোবাসি তুই আমায় ছাড়তে চাইলেও ছাড়তে দিবো না সে যতই ভুল বোঝাবুঝি হোক তবে তোর সেদিনের কথায় একটু কষ্ট পেয়েছিলাম তার পর ভাবলাম অবুঝ ভুল বুঝে এসব বলেছে এসব বলে নিজেকে শান্তনা দিয়েছিলাম।

এর আজকে সকালে একটু হার্ট করে কথা বলার জন্য সরি আসলে আমি তোকে এটা বুঝাতে ওইরকম বলেছিলাম যে ভালোবাসার মানুষের অবহেলিত কথ্য কেমন কষ্টদায়ক।

-আপনি আমায় মাফ করে দিয়েছেন সত্যি?

রিশাদ রুহিকে ছেড়ে দেয় তার পর রুহির গালে হাত দিয়ে হাঁসি মুখে হ্যা বলে রুহি খুঁশিতে হাঁসে সাথে কান্না করে দেয়।

রিশাদ মাথা নাড়িয়ে কাঁদতে না করে চোখের পানি মুছে দেয় নিজের সুক্ষ ঠোঁট ছোয়ায় রুহির কপালে রিশাদের ছোয়ায় রুহি আবারে জড়িয়ে ধরে সামনে থাকা ব্যাক্তিকে রিশাদ ওর মাথা উঁচু করে বলে,

"চেয়েছিলি আমার সান্নিধ্য তা কি গভীর ভাবে উপলব্ধি করতে তোমার অনুমতি আছে?

-রুহি লজ্জায় মাথা নিচু করে নেয় রিশাদ নিঃশব্দে হাঁসে

অতঃপর রুহি আগলে নেয় নিজের সানিধ্যে যার অর্থ দুজন একে অপরের ভালোবাসার সাগরে ভেসে যায়।

ওই সময় ছাঁদ থেকে নেমে রোহান নিচে এসে একা বসে আছে রাফিয়া নিজের রুমে আছে । রোহানের চোখে একটা দৃঢ় সংকল্প। সে অনেক ভেবে রাফিয়ার রুমের সামনে এসে দরজায় টোকা দিল।

রাফিয়া দরজা খুলে বলল,

“এখন আবার কী চাই?”

রোহান কোনো কথা না বলে একটা ছোট্ট বক্স তার সামনে ধরে বলল,

“এটা তোমার জন্য।”

রাফিয়া বক্সটার দিকে তাকিয়ে থেকে নিতে রাজি হয় না বন্ধ করে দিতে চাইলো দরজা কিন্তু রোহান তার আগে ওর রুমে ঢুকে পড়লো।

'আপনি আমার রুমে ঢুকলেন কেন?আপনাক যা বলার বলে দিয়েছি তার পর ও বেহায়ার মতো আসছেন?

রোহান মুচকি হেসে বলে,

-ভালোবাসায় একটু আধটু বেহায়া হতে হয়, র্নিলজ্জ হতে হয় নিজের ভালোবাসাকে নিজের করার জন্য লড়াই করতে হয়।

'ফিল্মি ডাইলোগ বাদ দিয়ে চলে যান রাত হয়েছে বাড়ি যাবেন না?

-থাকতে আসিনি যাবো তো বটেই তবে এর পর যেদিন আসবো জামাই হয়ে আসবো আর থাকবো।

এবার বক্সটা নেও তার পর আমাকে ক্ষমা করে ভালোবাসি বলো তার পর যাবো।

তোমায় ছাড়া আমার সবকিছু আউল বাউল লাগে কোনো কাজে মন বসেনা ভয় লাগে তুমি যদি হারিয়ে যাও ফিরে না আসো তাহলে আমি শেষ হয়ে যাবো।

রোহানের কথায় রাফিয়া তাড়াতাড়ি বক্সটা হাতে নেয় তার পর বক্সটা খুলে অবাক হয় । তার মধ্যে ছিল একটা সুন্দর ব্রেসলেট। ব্রেসলেটের সঙ্গে একটা ছোট্ট কার্ডে লেখা ছিল,

“তুমি না থাকলে আমি অসম্পূর্ণ। মায়াবিনী, আমাকে আর দূরে রেখো না।”

রাফিয়া কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু রোহান তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,

“আর একটাও সুযোগ দাও, আর কখনো তোমায় কষ্ট দেব না। এই ভুল বোঝাবুঝির গল্প এখানেই শেষ হোক। কী বলো?”

রাফিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর হালকা হাঁসি দিয়ে বলল,

“আপনার আমার ভুল বুঝাবুঝির এই গল্পটা শেষ করে আমাদের ভালোবাসার গল্প আবার শুরু হবে নতুন করে আপনি কি রাজি?

রোহান হাঁসি মুখে কাছে এসে কাঁধে হাত রেখে মাথা ঝাকায় নিজের আলিঙ্গনে নেয় মায়াবিনীকে চোখে মুখে অফুরন্ত উৎস ভালোবাসাকে মানিয়ে নিতে পারার আনন্দ।

রোহানের মন থেকে তখন একটা কথা প্রকাশ পাচ্ছিলো,

-মায়াবিনীর আলিঙ্গন মুছে দিতে পারে সব যন্ত্রণা।

ভুল বোঝাবুঝি মিটে গেলে, যখন দুইজন একে অপরকে কাছে পায়, তখন অনুভূতি যেন এক অদৃশ্য বন্ধন তৈরি হয়। আলিঙ্গনের মাঝে সমস্ত ক্ষোভ, দুঃখ আর দূরত্ব মিলিয়ে যায়, এবং একে অপরের মধ্যে শুধুমাত্র ভালোবাসা আর সহানুভূতির অনুরণন শোনা যায়। সেই মুহূর্তে, পৃথিবীটা যেন থেমে যায়, এবং শুধুমাত্র দুজনের অস্তিত্বে পৃথিবী পূর্ণ হয়।

চলবে............?

[সবার মিল করিয়ে দিলাম এবার কি রহস্য উম্মচন করার ধাপে যাবো?]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন