#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:২৫
ভোরের আলো আকাশে ছড়িয়ে পড়লে নতুন দিনের সূচনা যেন একটি নতুন আশা নিয়ে আসে। সূর্য যখন ধীরে ধীরে আকাশে ওঠে, তার সোনালী রশ্মি পৃথিবীকে আলোকিত করে। সকাল বেলার স্নিগ্ধতা এক অদ্ভুত শান্তি অনুভূতি সৃষ্টি করে, যেমন সকালের ঠাণ্ডা হাওয়া মৃদু স্পর্শে গাছের পাতাগুলিকে নাচায়, আর পাখিরা আনন্দিত গানে দিনটির আগমনী বার্তা দেয়। চারপাশে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা থাকে, যেন প্রকৃতি নতুন দিনের জন্য প্রস্তুত। সকালের তাজা পরিবেশ এক শান্তি ও সতেজতার অনুভূতি সৃষ্টি করে, যা মানুষের মনকে আনন্দিত করে।
সকাল ছয়টার দিকে রুহির ঘুম ভাঙে বুঝতে পারে ওকে কেউ আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে চোখ খুলে মাথা ঘুরাতেই স্বামী নামক প্রিয় মানুষটার স্নিগ্ধ মুখ খানা দেখতে পায় মনে মনে আওড়ায় কি সুন্দর! আপনি এতো সুন্দর কেন হয়েছেন বলেন তো?
রিশাদ হুট করে চোখ খুলে রুহির প্রশ্নের উত্তর দেয়,
"কারণ তুমি আমাকে ভালোবাসো তাই তোমার আমাকে বেশি সুন্দর লাগে। ভালোবাসার মানুষ কালো হোক না সুন্দর হোক তা শুধু চামড়ার সৌন্দর্য দিয়ে হয় না মনের চোখ দিয়ে দেখলে সবার তার প্রিয় মানুষ সুন্দর লাগে যেমন তোমাকে আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী মনে হয়।
রুহি মুগ্ধ হয়ে রিশাদের কথা শুনছিলো সাথে লজ্জা পেল হয়তো ঠিকই বলেছেন ভালোবাসার মানুষের কাছে সুন্দরের ডেফিনিশন এইরকম।
রোহান রাতে বাসায় চলে গেছে রাফিয়া কালকের কথা ভেবে মনে মনে হাঁসছে তখনি রুহি ওর রুমে এসে জিজ্ঞেস করে,
" কি রে একা একা হাঁসছিস কেন?
রাফিয়া তাড়াতাড়ি হাঁসি বন্ধ করে বলে,
-ক কই হাঁসছিনা তো এমনি আর কি।
রাফিয়ার তোতলানো কথা শুনে রুহি ভ্রু কুচকে তাকায় ওকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে রাফিয়া বলে,
-তোর আর ভাইয়ার মান অভিমান শেষ তো?
এবার আমাকে ফুফি হওয়ার ব্যবস্থা করে দে।
রাফিয়ার কথায় রুহি লজ্জায় পড়ে যায় কয়েকটা কিল মেরে বলে,
"তোর ফাজমালো বাহির করতো দাঁড়া তোকে বিয়ে দিয়ে বিদায় করবো।
-বিদায় আর কোথাই করবে সেই তোমার বাপেট বাড়ি গিয়ে পড়..... পুরোটা বলতে থেমে যায় বুঝতে পারে ভুল করে বলে ফেলেছে রুহিও শুনতো পেয়েছে।
" কি বললি রে?
-কই কিছু না তো।
"আমি স্পষ্ট শুনলাম কিছু বললি।
-ভাইয়া তোকে ডাকছে তাড়াতাড়ি যা বলে রুহিকে ঠেলে বাহির করে দেয় আসলে ডাকেনি কথাটা এড়ানোর জন্য বলেছে।
আজকে শুক্রবার হওয়ায় রিশাদের অফিস নেই সে রুমে ফোনে কথা বলছে রুহি পিছন থেকে গিয়ে শুনতে পায়।
"" সুইটির খবর নিন ওকে কালকে অফিসে আসতে বলবেন।
অপরপাশের লোক কি বললো তা শোনা গেল না।
রিশাদ কথা শেষ করে পিছনে ফিরে রুহিকে দেখে মুচকি হেঁসে বলে,
"কালকে শাড়িতে তোমাকে অপরুপা লাগছিলো প্রতিদিন শাড়ি পরলে মন্দ হবে না।
- একদিন শাড়ি সামলাতে আমি হিমসিম খাই আর মহারাজা বলেন প্রতিদিন পরবো আমার কি মরার সখ জাগছে?
রিশাদ একটু ভাব নিয়ে বলে,
" হে প্রিয়শী তুমি কেন মরিবে? মরণ আসিলে আসুক আমার তবুও তুমি থাকো বাঁচিয়া তোমায় হারানোর অনল যন্ত্রণা পারবো না আমি সাহিতে।
-ফিল্মি ডাইলোগ শেষ হলে নিচে আসেন আর বাবা মা 'র তো সকালে আসার কথা ফোন দিয়ে শোনেন কখন আসবেন।
রিশাদ রুহিকে কাছে টেনে নেয় অনেকটা নিকটে গিয়ে নাক বরাবর নাক এবং চোখের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে,
"রিশাদ মির্জা ফিল্মি ডাইলোগ দেয় না সে নিজে ভালোবাসে আর সেটাই বলে ফিল্মে তো মানুষ অভিনয় করে আর আমি তোমায় ভালোবাসি যার সীমা পৃথিবীর আকারের চেয়ে বেশি।
রুহির শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা দেখে রিশাদ সরে এসে বলে,
" কালকে এতো কাছ থেকে তার ভালোবাসা অনুভব করার পরেও এই অবস্থা কেমনে মেনে যায় বলোতো একটু সহজ হও।
কালকের কথা বলতে রুহি চোখ বন্ধ করে মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেছে তা দেখে রিশাদ জোরে হেঁসে ওঠে। তখনি ফোন বাজে রিশাদ ফোনের স্কিনে অপরিচিত নাম্বার দেখতে পায় পরিচিত কেউ হতে পারে বা দরকারি কেউ এই ভেবে ফোন ধরে কিন্তু ফোন কলে এমন খারাপ খবর শুনতে পাবে রিশাদ কল্পনাতেও ভাবেনি রিশাদের হাত থেকে ফোনটা পড়ে যায় সে নিজের অবস্থান থেকে একটু সরে যায় রুহি রিশাদের এমন অবস্থা দেখে চমকে যায় জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে?
রিশাদ কোনো জবাব দিতে পারছে না ঠোঁট কাঁপছে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে অতঃপর ওঠে দাঁড়ায় কান্নারত হয়ে রুহিকে বলে,
"আব্বু আম্মু আসার পথে এক্সিডেন্ট হয় আর আব্বু সেখানে মারা যায় বলে আবার কান্না করে।
রুহি শুনে বিশ্বাস করতে পারছে সে নিজেও কাঁদতে থাকে রিশাদ বলে চলো হসপিটালে যেতে হবে আম্মু গুরুতর আঘাত পেয়েছে তাকে হসপিটালে ভর্তি করা আছে।
রাফিয়াকে না বলে হসপিটালে ছোঁটে রুহি রিশাদ সেখানে গিয়ে দেখতে পায় বাবার লাশ সাদা কাপড়ে ঢাকা আর একরুমে আইসিইউতে চিকিৎসায় তাঁর মা নিয়তি এতো নিষ্ঠুর যা রিশাদ এখন বুঝছে।
রশিদ মির্জার মৃত্যুর খবর পৌঁছে গেছে সব জায়গায় মিজানুর চৌধুরী শুনতে পায় মনে মনে তার ও আফসোস যতই শত্রু হোক এমন মৃত্যু আশা করেনি।
অপরদিকে সাদিব ও তার বাবা রশিদ মির্জার মৃত্যুর খবর শুনে হেঁসে ওঠে বাবা ছেলে হাতে ড্রিংকস নিয়ে মাস্তি করছে আর বলছে,
:আব্বু শেষ পর্যন্ত আমাদের অর্ধেক প্ল্যান সাকসেসফুল হয়েছে এখন শুধু ওই রিশাদ মির্জাকে শেষ করার পালা। আমাকে টেক্কা দিয়ে রুহিকে নিয়ে গেলি কিছু করতে পারিনি বেচারা রশিদ মির্জা ছেলের জন্য প্রাণ হারালো।
রাশেদা মির্জা হসপিটালে ভর্তি আছে সেখানে চিকিৎসা চলছে। সকাল গড়িয়ে বিকেল হয়েছে রশিদ মির্জাকে বাসায় এনেছে দুপুরে মানুষে ভর্তি হয়েছে মির্জা বাড়ি। বাড়ির সামনে কবর দেওয়া হলো রশিদ মির্জাকে।
বাবাকে হারিয়ে রাফিয়া পাগল প্রায় কান্না করতে করতে অজ্ঞান হয়ে গেছে রুহি কান্না করছে রিশাদ পাথরের মতো বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে না
রোহান আর আকাশ ওর কাছে আসে কাঁধে হাত দিয়ে রোহান বলে,
-তোকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই এর শান্তনা হয় না । বাবা কি জিনিস সেটা না থাকলে বুঝা যায় বাবা ছাড়া জীবন কেমন তারাই বুঝতে পারে যাদের বাবা নেই।
আকাশ রিশাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলে,
:আংকেলের এক্সিডেন্ট কিভাবে হয়েছে জানতে পেয়েছিস? আর কার গাড়ি ছিলো পুলিশ জানিয়েছে?
"এক্সিডেন্ট নয় পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। কারো নির্দেশে ট্রাগ চাপা দিয়েছে।
রিশাদের কথায় রোহান ও আকাশ দুজনে ওর দিকে তাকায় রিশাদের দৃষ্টি সামনে থাকা কবরে আকাশ বলে,
-তুই কিভাবে বলছিস এটা পরিকল্পিত ভাবে করা হয়েছে আর করলেও কে বা এমন করবে।
" যে আমার শত্রু যে আমার পরিবারের শত্রু সে এসব করেছে তাকে ছাড়বোনা তাদের র্নিশেষ করে আমি শান্ত হবো।
-কে সে তাকে তুই চিনিস?
"কে সেটা কালকে জানতে পারবি শুধু সকালের অপেক্ষা একটা মানুষ কে আসতে দে প্রমান আমার হাতে পুরোটা আসুক আর অতীতের সব সত্যিটা জানি।
রোহান জিজ্ঞেস করে,
:অতীতের সাথে এ ঘটনার কি সম্পর্ক?
" সম্পর্ক আছে অতীতের সাথে বর্তমানের সম্পর্ক আছে অতীতের শত্রু বর্তমানে আছে তাকে এবার সামনে আসতে হবে সমস্ত কিছুর হিসাব দিতে হবে আমার কলিজা ছিনিয়ে নিয়েছে ওদের শেষ করবো।
চলবে...........?