#The Silent Mafia
#sonali islam
# র্পব- ২
আদ্রিয়ান পিছনে ফিরে তাকাই। দুজনই একটুর জন্য থমকে যায়। কয়েক সেকেন্ড দুজনের চোখ একে অপরের চোখে আটকে রইল। যেন এত বছরের ব্যবধান হঠাৎ করেই তাদের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়েছে।
মেহরীন প্রথমে চোখ সরিয়ে নিল। তারপর ছোট্ট করে হাসল।
—কী? এমন করে দেখছো কেন?
আদ্রিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—
—তুই তো বড় হয়ে গেছিস...
মেহরীন হালকা হেসে বলল—
—সাত বছর কম সময় না, ভাইয়া।
আদ্রিয়ানের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। তারপর সে বলল—
—হুম... তাও ঠিক।
মেহরীন এবার একটু এগিয়ে এসে বলল—
—আমাকে চিনতে কষ্ট হয়েছে?
আদ্রিয়ান মাথা নাড়িয়ে বলল—
—তোকে চিনতে একটু ওও কষ্ট হয়নি। শুধু... পুরোনো মেহরীনের সঙ্গে এখনকার মেহরীনকে মেলাতে একটু সময় লাগছে।
মেহরীন মুচকি হেসে বলল—
—তাহলে ভালো করে দেখো, আমি কিন্তু সেই মেহরীনই আছি।
কথাটা শুনে আদ্রিয়ান কিছু বলল না। শুধু কয়েক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে রইল। মেহরীন ছিল আদ্রিয়ান এর সব থেকে আদরের যখন মেহরীন জন্ম হয় আদ্রিয়ান সবার আগে কোলে নেই। আদ্রিয়ান ছোট থেকেই কারো সাথে তেমন মিশতো না বা আরিশা মাহিরা ওদের কোলেও নিতো না কিন্তু মেহরীন কে নিতো স্কুল থেকে এসেই আগে মেহরীন এর কাছে যেত ওরা যদি তালুকদার বাড়িতে থাকতো সে সেখানেও চলে যেত। বাড়ির সকলেই হাসতো আর বলতো:
—মেহরীন তো বড় হলে বিয়ে করে চলে যাবে তখন কি করবি?
আদ্রিয়ান সাথে সাথে বলতো: "নো ইট’স মাই লিটল ওয়াইফি"কাউকে দিব না ওকে।
সকলেও সম্মতি দিত আর মজা করতো ওই সবে আদ্রিয়ান এর কিছু যায় আসতো না।
জারিফা চৌধুরী ছেলে কে ফ্রেশ হতে পাঠায় । লিওন কেও গেস্ট রুমে পাঠায়।মেহরীন মাহিরা আরিশা বসে গল্প করছে। শাহারিয়া চৌধুরী জাওয়াদ চৌধুরী টিবি দেখছেন। আরিয়ান আরমান সব লাগেজ এনে রাখলো। কিছু সময় পর আদ্রিয়ান নিচে নামে একে একে সকলে খাবার টেবিলে বসে। লিওন কেও ডেকে আনে আরিফা চৌধুরী। বাড়ির মেয়েরা বসে থাকে ওরা পরে খাবে।কিন্তু মেহরীন এর খিদেতে পেটে ইদুর দৌড়া দৌড়ি করছে।সে খিদে সহ্য করতে পারে না। মাহির বোন কে খেয়াল করে কিচেন থেকে একটা প্লেটে করে খাবার নিয়ে আসে।মেহরীন মহা খুশি সে ফোনে র্কাটুন লাগায়। সে আবার ফোন ছাড়া খেতে পারে না মাহিরা বোন কে খাইয়ে দেই। ছেলেদের খাওয়া শেষ হয়। মেয়ে রা বসে পরে। মেহরীন খেয়ে আরহান এর পাশে বসে আছে ফোনে তার সব মনোযোগ। আরিয়ান, আরমান, লিওন, আদ্রিয়ান সকলে এক সাথে বসে গল্প করছে। যদিও আদ্রিয়ান শুধু শুনছে কিছু বলে না। লিওনের বাকি দের সাথে ভালোই পরিচিত হচ্ছে। তার পরিবার বলতে কেউ নেই। তাই ওর বেশ ভালো লাগছে।এর মাজে শাহারিয়া চৌধুরী আর জাওয়াদ চৌধুরী এসে বসে। শাহারিয়া চৌধুরী বড় ছেলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন :
— তুমি নাকি বিজনেস করছো ওই দেশে? তা এখন কি করবে আমাদের অফিসে বসবে নাকি চলে যাবে আবার?
— 'নো ' এই দেশে আমি কাজে এসেছি কাজ শেষ হলে ওই খানে চলে যাব। কিন্তু আমার কমপানির একটা শাখা এ দেশে খুলা হবে।
জাওয়াদ চৌধুরী:— তাহলে তুই আবার চলে যাবি? এই দেশে থেকে যাওয়া যায় না বাবা?
আরিয়ান— হে ভাইয়া তুমি তো বললে আর যাবা না। তাহলে কেন যাবে?
আদ্রিয়ান:— আসা যাওয়া থাকবে এখন থেকে। আর ওই দেশের দিক টা রাশা সামলাবে।
আরহান:— রাশা কে?
আদ্রিয়ান :— লিওন আর রাশা হচ্ছে আমার এসিস্ট্যান্ট + ফ্রেন্ড। ওরা আছে বলেই এতটুকু করতে পেরেছি।
লিওন :— মিথ্যা বলছেন কেন বস সব আপনার অবদান।
আদ্রিয়ান কিছু বলে না বাকি হেসে ওঠে লিওন এর কথার দরন দেখে আরমান এগিয়ে এসে আদ্রিয়ান কে বলে: কি ভাইয়া আমাদের জন্য কিছু আনো নি?
আদ্রিয়ান লিওন এর উদ্দেশ্য করে বলে : লিওন ওদের যার যার পেক গুলো দিয়ে দাও।
— ওকে বস।
লিওন সবার গিফট গুলো দিয়ে দেয় সবাই মহা খুশি। কিন্তু মেহরীন কে কিছু দেই নি। তার অপমান বোধহয় সে অভিমানি দৃষ্টিতে তাকায় আদ্রিয়ান এর দিকে আদ্রিয়ান দেখেও না দেখার মত করে বসে আছে। মাহিরার আরিশারও খারাপ লাগছে কিন্তু আদ্রিয়ান এর ভয় এ কিছু বলে না। মেহরীন আর দাড়ায় না দৌড়ে ওপরে চলে যায়। সকলে মেহরীন এর যাওয়ার দিকে তাকায়। কেউ বুঝতে পারছে না যে আদ্রিয়ান এমন কেন করলো। সে তার আদরের মেহরীন এর কিছু আনেনি সেটা কারো বিশ্বাস হচ্ছে না। আরহান আর চুপ থাকতে পারলো না। ভাইয়ের উদ্দেশ্য বলে:—
" কিরে তুই ওর জন্য কিছু আনিস নি?
"ওর কথা মনে ছিল না"
আদ্রিয়ান সাভাবিক ভাবেই উওর দেই। কিন্তু এইটা কেউ মানতে চাচ্ছিলো না যে আদ্রিয়ান মেহরীন এর কিছু আনে নি। জারিফা চৌধুরী ছেলের অবাক চোখে তাকায় বলে:—
" তর মেহরীন এর কথা মনে ছিল না আর এইটা আমাদের বিশ্বাস করতে বলছিস? মেয়েটা কতটা কষ্ট পেল।
আদ্রিয়ান কিছু বলে না চুপ করে আছে।সকলে যেমন খুশি হয়েছিল আবার মন খারাপ করে ফেলে কারন মেহরীন সকলেরই আদরের ছোট বোন। আরমান আরিয়ান ওও মন খারাপ করে ফেলে। আরহান আবার কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনি লিওন ও আরো একজন গাড ২ টা লাগেজ নিয়ে আসে। আর কেউ না বুঝলেও আরহান ঠিকই বুঝে এগুলো কার।সে মুচকি হাসে।আদ্রিয়ান সকলের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে:- আমি আমার লিটল ওয়াইফি কে কি করে ভুলে যেতে পারি।
সকলে আবার মুহুর্তের মধ্যে খুশি হয়ে যায়। আদ্রিয়ান ২ টা লাগেজ নিয়ে ওপরে ওঠে আসে।মেহরীন দরজার সামনে দারায় দরজায় কড়া দেয় কিন্তু দরজা খুলে না তাই আদ্রিয়ান হালকা ধাক্কা দিতেই খুলে যায় লাগেজ গুলো নিয়ে ভিতরে ঠুকে পরে আদ্রিয়ান মেহরীন কে রুমে দেখতে পাই নি। কপাল কুঁচকে তাকায় চারপাশে বারান্দাটা খোলা দেখে বুঝে ওখানে আছে। সে লাগেজ গুলো রুমে রেখে বারান্দায় গিয়ে মেহরীন এর পিছনে দাড়ায়। মেহরীন কারো উপস্থিতি টের পেয়ে পেছনে তাকাই। আদ্রিয়ান কে দেখে অভিমান এ মুখ ফিরিয়ে নেই।আদ্রিয়ান মেহরীন কে তার দিকে ফেরানোর চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। আদ্রিয়ান এবার পেছন থেকেই বলে ওঠে:
" কি হয়েছে কথা বলবি না?
........
"তাকা আমার দিকে "
.......
"মেহু....
.......
"১ বছর জালিয়ে দেশে এনেছিস এহন কথা বলবি না?"
এবার মেহরীন পিছনে ফিরে দারায়। আদ্রিয়ান এর দিকে তাকিয়ে বলে। :-
" আমি কি আগে জানতাম ওটা আপনি।?
" জানলে কি হত?"
" জানলে জিবনেও আপনার উপর ক্রাশ খাওয়া তে দূরের কথা আপনার সাথে কথাও বলতাম না।
"আমার সাথে এত রাগ এর কানর কি?
" আপনি আমাকে না জানিয়ে চলে গেছিলেন।"
আদ্রিয়ান মুচকি হেসে ওর হাত দরে রুমে নিয়ে আসে। মেহরীন ২ টা লাগেজ দেখে অবাক হয়। কিন্তু কিছু বলে না। আদ্রিয়ান কালো লাগেজ টা খুলে। যার বিতরে ছিল লেপটপ, আইফোন ১৭ প্রোমেক্স, রোলেক্সের ঘড়ি,১০ টা পারফিউম বিভন্ন ব্রেন্ড এর আরও নানা জিনিস যা দেখে মেহরীন অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। ২ নাম্বারটা খুলে এবার এটা পুরুটা তে শুধু চকলেট বিভিন্ন ধরনের। এইটা দেখে মেহরীন এর সব রাগ শেষ হয়ে যায়। সে খুশি তে আতহারা আদ্রিয়ান এবার ওর খুশি খুশি মুখটা দেখে। এই মেয়েটা ওকে না চিনে কত কিছু না করলো।
আজ থেকে ঠিক ১ বছর আগে আদ্রিয়ান এর ফেসবুক একাউন্ট সামনে আসে তখনি মেহরীন ওর উপর ক্রাশ খায়। মেহরীন বড় হওয়ার পর আদ্রিয়ান কে দেখে নি তাই ওকে চেনে না। সে নানা উপায় এ আদ্রিয়ান কে বিরক্ত করতো। মেহরীন ওকে না চিনলেও আদ্রিয়ান ঠিকই চিনে। তাও সে দরা দেইনি বরং সে ওকে ইগনোর করতো। লাস্ট এ মেহরীন আর মেসেজ দেই না যেটা আদ্রিয়ান সহ্য করতে পারে না তাই দেশে চলে আসে। দেশে আসার তার আরও কারণ আছে অবশ্য।
(চলবে......
__________________