#The Silent Mafia
# sonali Islam
# র্পব- ৩
তালুকদার বাড়িতে রান্না বান্না আয়োজন চলছে। আজ মাহিরাকে দেখতে আসবে চৌধুরী বাড়ির সকলে। মুলত তারা আরহান আর মাহিরার বিয়ে পস্তাব নিয়ে আসছে।মাহিরার মন খারাপ করে বসে আছে তার রুমে। মেহরীন ও আছে পাশে সে বসে বসে রাইসার সাথে গল্প করছে। রাইসা হচ্ছে মেহরীন এর বেস্ট ফ্রেন্ড। মেহরীন এর বিয়ে নিয়ে ভাবার কিছু নেই সে তো আরও খুশি তার সব থেকে প্রিয় ভাই এর সাথে বোন বিয়ে হচ্ছে। মাহিরা বোন এর পাগলামি দেখছে কিন্তু তার কিছু ই ভালো লাগছে না। তাকে শাড়ি পরিয়ে বসিয়ে রেখেছে। মেহরীন এর নিচ থেকে ডাক আসে সে রাইসা কে নিয়ে নেমে যায় নিচে।মাহিরা সে দিকে তাকিয়ে একটা শাস ফেলে তার কিছুই বলার নেই।
মেহরীন নিচে এসে দেখে সকলে চলে এসেছে সে দৌড়ে গিয়ে বড় মামাকে জড়িয়ে ধরে :বড় মামা..
" কেমন আছো আম্মু?
" ভালো। তুমি কেমন আছো?
" আলহামদুলিল্লাহ ভালো "
তার পর মেজো মামা মামিদের কুশল বিনিময় করে ভাইদের কাছে যায়। আরমান আরিয়ান বোনের ২ দিক থেকে ২ জন জড়িয়ে সামনে হাটে। সে পিছনের গুরে আরহান কে খুঁজে না পেয়ে ভাইদের জিজ্ঞেস করে :
" ভাইয়া..
"হুম বনু বল।
"বড় ভাইয়া আদ্রিয়ান ভাইয়া কোথায়?
"তারা আলাদা আসতেছে চলে আসবে।
"আচ্ছা "
দুই ভাই তাকে নিয়েই সামনে হাঁটতে লাগল।
সকলে ভিতরে আসে আহমেদ তালুকদার সকল কাছে এগিয়ে যায়।
"আসসালামু আলাইকুম বড় ভাই ছোট ভাই ”
শাহারিয়া চৌধুরী ও জাওয়াদ চৌধুরী সালাম এর উত্তর দিয়ে বলে :
" ওয়ালাইকুম সালাম ' কেমন আছো আহমেদ?
" আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনাদের আসতে কোনো সমস্যা হয়নি তো?
"আরে না কোনো সমস্যা হয়নি। "
এদিকে রাইসা একটু দূরে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। এত বড় পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে দেখে সে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিল। মেহরীন তার হাত ধরে বলল,
"এই যে, দাঁড়িয়ে আছিস কেন? চল, সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিই। এ হচ্ছে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, রাইসা।
জারিয়া হাসিমুখে বললেন,
—"তোমার কথা তো মেহরীনের মুখে অনেক শুনেছি।
রাইসা লাজুক হেসে সালাম দিল। সেও মেহরীন এর মত শান্ত থাকার মেয়ে সে না কিন্তু নতুন মানুষদের মাজে অস্বস্তি হচ্ছে বলে চুপ করে আছে।
আরিফা আর জারিয়া দুই জা চলে গেল আফসানার কাছে।তিনি রান্নার কাজ সামলাচ্ছে যদিও সাথে মেড রা আছে।তিনি দুই ভাবিকে দেখে জড়িয়ে ধরে।
" কেমন আছো বড় ভাবি ছোট ভাবি?
"এইতো আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুৃমি কেমন আছো?
"জি আলহামদুলিল্লাহ ভালো। "
আফসানা দুই ভাবির হাত ধরে বললেন,
—চলুন, ভেতরে আসুন। ভাইয়াদের সাথে কথা বলে আসি। নাস্তা রেডি হয়ে গেছে।
জারিয়া চারপাশে তাকিয়ে হেসে বললেন,
—নাস্তা পরে হবে। আগে বল তো, আমাদের মেয়েটা কোথায়?
আফসানা হালকা হেসে বললেন,
—মেয়েটা উপরে বসে আছে। তোমাদের আসার কথা শুনে সকাল থেকেই মুখ ফুলিয়ে বসে আছে।
আরিফা ভ্রু কুঁচকে বললেন,
—কেন? আমাদের আসার কথা শুনে খুশি হওয়ার কথা, আর মুখ ফুলিয়ে বসে আছে কেন?
আফসানা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
—বিয়ের কথা শুনার পর থেকেই মুখ ফুলিয়ে রাখছে।
জারিয়া মুচকি হেসে বললেন,
—ওকে নিচে আসতে বলো। আজ তো আমরা সবাই ওকে দেখতেই এসেছি।
আফসানা মেহরীনকে ডেকে বললেন,
—মেহরীন, গিয়ে তোর আপুকে নিচে নিয়ে আয়।
মেহরীন মুখ কুঁচকে বলল,
—আমি কেন? রাইসা, চল।
দুজন আবার উপরে চলে গেল।
রুমে ঢুকেই মেহরীন মাহিরাকে আগের মতো বসে থাকতে দেখে বলল,
—আপু, এখনো এমন মুখ করে বসে আছো? চল তোমাকে ডাকছে।
মাহিরা তাকাল না।
—তুই নিচে যা। আমাকে ডাকার দরকার নেই।
—ডাকার দরকার নেই মানে? সবাই তোমাকে দেখতে এসেছে। চল আপু।
এর মধ্যে আরিশাও চলে আসে রুমে ঠুকে মাহিরাকে জড়িয়ে ধরে।
— মাহি তুই আমার ভাবি হবি। আমার তো ভাবতেই নাচতে মন চাচ্ছে।
আরিশার কথায় মাহিরার ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি ফুটে উঠল। সেটা দেখে মেহরীন সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
— আমিও কিন্তু বিয়ের পর ভাবি ডাকবো।
মাহিরা মেহরীনের দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙিয়ে বলল,
—তুই চুপ কর তো।
রাইসা পাশে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছিল। নতুন বাড়ি, নতুন মানুষ—এসবের মাঝে সে একটু অস্বস্তিতে থাকলেও মেহরীনকে দেখে তার ভয়টা কিছুটা কমে গেছে।
আরিশা এবার মাহিরার হাত ধরে বলল,
—চল, ভাবি। সবাই নিচে অপেক্ষা করছে।
—আরে, এখনই ভাবি ডাকতে শুরু করেছিস?
মাহিরা লজ্জা পেয়ে বলল।
—হ্যাঁ, করব না? একটু পরেই তো তোমাকে আংটি পরাবে তখন তো আমার ভাবি হয়ে যাবে।
অবশেষে তিনজন মিলে মাহিরাকে নিয়ে নিচে নামল।
সিঁড়ি দিয়ে ধীরে ধীরে নিচে নামতেই ড্রয়িংরুমে বসে থাকা সবার নজর ঘুরে গেল মাহিরার দিকে। শাড়িতে সাজানো মাহিরাকে দেখে আফসানার চোখে গর্বের হাসি ফুটে উঠল।
জারিয়া মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে বললেন,
—মাশাআল্লাহ! আমাদের মাহিরা তো একেবারে রাজকন্যার মতো লাগছে।
মাহিরা লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল।
আরিফা মুচকি হেসে বললেন,
—আমি তো আগেই বলেছিলাম, আমার বড় ছেলের জন্য সুন্দর একটা মেয়ে আছে।
মাহিরাকে বসিয়ে দেওয়া হলো সবার মাঝে। কিছুক্ষণ গল্প-আড্ডা চলতে লাগল।মাহিরা যতটা সম্ভব শান্তভাবেই সবার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে।
হঠাৎ বাইরে গাড়ির শব্দে মেহরীন চমকে উঠে জানালার দিকে তাকাল।
আরমান বাইরে তাকিয়ে বলল,
—ওরা এসেছে।
—ওরা মানে?
আরমান মুচকি হেসে বলল,
—তোর আরহান ভাই আর আদ্রিয়ান ভাই।
কথাটা শুনেই মেহরীনের মুখে খুশির হাসি ফুটে উঠল।
—সত্যি?
বলেই সে প্রায় দৌড়ে দরজার দিকে চলে গেল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আরহান আর আদ্রিয়ান ভেতরে ঢুকল। দুজনকে দেখে ঘরের সবাই তাদের দিকে তাকালেও মেহরীনের দৌড়ে সোজা গিয়ে থামল আরহানের সামনে ভাইকে জড়িয়ে ধরে।
—আরহান ভাইয়া!
আরহান অবাক হয়ে বলল,
—কি হলো? আমাকে দেখে এত খুশি কেন?
মেহরীন হাসিমুখে বলল,
—আজকে খুশি হব না? তুমি আমার দুলাভাই হয়ে যাবে।
আরহান হেসে বলল,
—তাহলে এতদিন আমি কে ছিলাম?
—আগে ভাই ছিলে, এখন স্পেশাল দুলাভাই হবে।
মেহরীনের কথায় আরহান হেসে উঠল। আদ্রিয়ানও কিছুক্ষণ চুপ থেকে মুচকি হাসল।
ঠিক তখন আরিশা এসে মেহরীনের পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
—ভাইয়া চলতো ভাবিকে দেখবে না?
চলবে.....