ফন্ট সাইজ:
থিম:
The Silent Mafia

৪র্থ পর্ব

লেখক: Sonali Islam

#The Silent Mafia

# sonali islam
# র্পব- ৪
আরিশা মেহরীন আরহানকে এক পাশে বসে। আদ্রীয়ান ও যায়। মেহরীন আর আদ্রীয়ান ওইদিন পর আর কথা হয় না। আরহান একবার মাহিরার দিকে তাকাল।
মাহিরা এতক্ষণ চুপচাপ বসে ছিল। হঠাৎ করে আরহানের চোখের সঙ্গে চোখ মিলতেই সে আবার চোখ নামিয়ে নিল।
জাওয়াদ চৌধুরী সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
—আচ্ছা, অনেক গল্প হয়েছে। এবার আসল কথায় আসা যাক।কি বলো ভাইয়া আহমেদ শুভ কাজে দেরি না করি?
শাহারিয়া চৌধুরী সম্মতি দিয়ে বললেন,
— হে শুরু করা যাক। 
আহমেদ তালুকদার, 
— হে ভাই আর দেরি কিসের শুরু করে দেন। আফসানা আংটি এনেছো?
আফসানা, 
— জি এনেছি..
মাহিরাকে জারিয়া চৌধুরী সামনে এনে দার করায়।আরিফা চৌধুরী ছেলের হাতে একটা আংটির বক্স দরিয়ে দেন।আরহান ধীরে ধীরে মাহিরার সামনে এসে দাঁড়াল।
সবার চোখ এখন তাদের দুজনের দিকে। আরহান হাত বাড়িয়ে দিল। মাহিরা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে নিজের হাতটা তার দিকে এগিয়ে দিল।
আরহান খুব যত্ন করে মাহিরার অনামিকায় আংটিটা পরিয়ে দিল। মাহিরাও কাপা কাপা হাতে আরহান কে আংটি পরিয়ে দিল। মুহূর্তের মধ্যেই চারপাশে হাততালির শব্দ আর হাসির আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ল। আংটির কাজ শেষ হলে সকলে বিয়ের ডেট ঠিক করেন।৭ দিন পর বিয়ের ডেট দেন। সকলে এবার খাবার খেতে বসে পরে।
সবাই মিলে অবশেষে আরহান আর মাহিরাকে বাড়ির ছাদে পাঠিয়ে দিল। প্রথমে দুজনেরই বেশ অস্বস্তি লাগছিল। একসময় যারা ভাইবোনের মতো খুনসুটি করত, আজ তাদেরই একা পাঠানো হয়েছে বিয়ের বিষয়ে কথা বলার জন্য। ছাদে উঠে মাহিরা কিছুটা দূরে গিয়ে দাঁড়াল। নিচের দিকে তাকিয়ে রইল সে। আরহান ধীরে ধীরে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। কিছুক্ষণ দুজনের মাঝেই নীরবতা বিরাজ করল।
মাহিরা প্রশ্ন করল,
— তোমার কি সত্যি কোনো আপত্তি নেই?
—তোর?
— আমি আগে জিজ্ঞেস করেছি।
আরহান মুচকি হেসে বলল,
— আমার তেমন আপত্তি নেই। তোকে তো চিনি। নতুন করে কাউকে চেনার চেয়ে এটা ভালো।আর..
এইটুকু বলে থেমে যায়।মাহিরা তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, 
— আর কি?
— কিছু না।  
মাহিরা মাথা নেড়ে বলল,
— ওও
— আর তুই?
মাহিরা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
— আমারও আপত্তি নেই। তবে ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত লাগছে।
— কেন? 
— সবার মাথায় এই ভুত চাপলো কি করে? আর তুমিও রাজি হয়ে গেলে? 
— বড় আব্বু আর  আব্বু  চায়  তুই বাড়ির বউ হও।আর তারা আমাকে বলেছে আগেই আমি প্রথমে না করলেও পরে আম্মু বড় আম্মু ওদের কথা ফেলতে পারি নি। 
— তাদের জন্য রাজি হয়ে গেলে? কিন্তু আমি কি তোমার জন্য পারফেক্ট? 
—তোকে আমার জন্য নিখুঁত হতে হবে না...,
তর ভেতরের এই অবিন্যস্ত রূপটাই চলবে..
মাহিরা আর কিছু বলে না।  অন্যদিকে আরিয়ান, আরমান, আরিশা রাইশা সহ কয়েকজন নিজেদের মধ্যে গল্প করছে।আদ্রিয়ান একটু দূরে দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকাচ্ছিল। তার চোখ গিয়ে থামল মেহরীনের ওপর। মেহরীন সোফার একপাশে বসে ফোন দেখছিল।আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে গিয়ে তার পাশে দাঁড়াল।
— কী দেখছিস?
মেহরীন ফোন থেকে চোখ না সরিয়েই বলল,
— কিছু না।
— কিছু না আবার কী? 
মেহরীন এবার চুপ করে রইল।
আদ্রিয়ান কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে বলল,
— মেহু…
— কী?
— রাগ করেছিস?
— না।
— সত্যি? 
ঠিক তখনই  বাড়ির ভেতরে ঢুকল আতিয়া তালুকদার ও তার মেয়ে সোনালী।সকলের দৃষ্টি সেদিকে চলে গেল। সোনালী মেহরীনের চাচাতো বোন হলেও তারা একে ওপরের বেস্ট ফ্রেন্ড । ছোটবেলা থেকেই দুজন একসঙ্গে বড় হয়েছে। একি ক্লাসে পড়ে দুজন। সবসময়ই একটু আলাদা ধরনের পোশাক পরতে পছন্দ করে সোনালী। আজও তার পরনে ছিল ঢিলেঢালা ব্যাগি প্যান্ট আর ছোট কুর্তি। বাইরে থেকে দেখতে তাকে শান্ত মনে হলেও সে ছিল তীব্র রাগি। তার সঙ্গে ছিল তার মা আতিয়া তালুকদার। তিনি ভীষণ নরম মনের একজন মানুষ। সোনালীর বাবা নেই। তার বড় ভাই আসিফ তালুকদার আছে, তবে সে আজ আসেনি।তাদের বাড়ি হচ্ছে মেহরীন দের পাশের বাড়ি। তারা এতদিন ঢাকার বাইরে ছিল। আজই বাড়িতে ফিরেছে মাহিরার বিয়ের কথা শুনে।
সোনালীকে দেখার সঙ্গে সঙ্গেই রাইসা আর মেহরীন প্রায় ছুটে তার দিকে এগিয়ে গেল।
— সোনালী!
সোনালীকে দেখার সঙ্গে সঙ্গেই রাইসা আর মেহরীন প্রায় ছুটে তার দিকে এগিয়ে গেল।দুজনকে একসঙ্গে নিজের দিকে ছুটে আসতে দেখে সোনালীও হেসে উঠল।  দুহাত বাড়িয়ে দিল সে।
— আরে! আস্তে আস্তে, আমি পালিয়ে যাচ্ছি না!
রাইসা গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরতেই মেহরীনও পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
— এতদিন পর মনে পড়ল আমাদের কথা?
সোনালী ভ্রু কুঁচকে বলল,
— বাহ! তোরা আমাকে মিস করেছিস নাকি?
— করেছি তো! — রাইসা বলল।
মেহরীন সোনালীর দিকে তাকিয়ে বলল,
— তোকে অনেক মিস করেছি। 
— আচ্ছা  বুঝেছি  এখন তো চলে এসেছি।
সোনালী এবার মেহরীনের হাত ধরে সামনে হেঁটে  বলল,
— তোদের দুজনকে ছাড়া ভালোই লাগছিল না।
— মিথ্যা কথা! — মেহরীন বলল।
— সত্যি।
— তাহলে এত দেরি করলি কেন?
— কাজ ছিল তো। আর  মাহিরা আপুর বিয়ের কথা শুনেই চলে এসেছি । 
রাইসা সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— চল, আগে ভেতরে চল। তোকে অনেক কিছু বলার আছে।
সোনালী সন্দেহের চোখে তাকাল।
— আবার কী করেছিস তোরা?
— আমরা কিছু করিনি।
— তোদের “কিছু করিনি” কথাটাই তার পর দেখা যায় কত কিছু ওই করিস।
তিনজন একসঙ্গে হেসে উঠল।
এদিকে আতিয়া তালুকদার বাড়ির বড়দের কাছে এগিয়ে গেলেন। আফসানা তালুকদারকে দেখেই তিনি এগিয়ে গিয়ে সালাম করলেন।
— কেমন আছো ভাবি?
আফসানা খুশি হয়ে তার হাত ধরলেন।
— আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। তুমি কেমন আছো? এতদেরি করলে কেন?
আতিয়া মৃদু হেসে বললেন,
— অনেক জেম ছিলতো তাই।
মাহিরার কাছে গিয়ে আতিয়া আদর করে তার মাথায় হাত রাখলেন।
— মাশাআল্লাহ, আমাদের মাহিরা কে তো বেশ সুন্দর লাগছে। 
মাহিরা লজ্জায় মৃদু হেসে মাথা নিচু করে ফেলল।
বাড়ির অন্যরাও একে একে আতিয়ার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে এলেন। তিনি সবার খোঁজখবর নিতে লাগলেন।
আতিয়ার শান্ত স্বভাবের কারণে বাড়ির সবার সঙ্গেই তার খুব সহজে কথা জমে গেল। অন্যদিকে সোনালীকে নিয়ে মেহরীন আর রাইসা আবার নিজেদের মধ্যে গল্পে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।কিছুক্ষণ আগেও যে মেহরীন আদ্রিয়ানের সামনে বসে ছিল, এখন সোনালীকে পেয়েই তাকে যেন ভুলে গেছে।
আদ্রিয়ান দূর থেকে একবার মেহরীনের দিকে তাকাল।
মেহরীন অবশ্য সেদিকে খেয়ালই করল না।
সে এখন সোনালী আর রাইসাকে নিয়ে ব্যস্ত।
______________
মাহিরা আর আরহানের বিয়ের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। পুরো চৌধুরী বাড়িজুড়ে এখন বিয়ের আমেজ। সকাল থেকে কেউ ফুলের অর্ডার নিয়ে ব্যস্ত, কেউ অতিথিদের তালিকা করছে, আবার কেউ সাজসজ্জা নিয়ে আলোচনা করছে।তবে আজকের দিনটা ছিল মেয়েদের জন্য বিশেষ—শপিং ডে।
মেহরীন, মাহিরা, সোনালী, আরিশাসহ বাড়ির প্রায় সব মেয়েই শপিংয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি। তাদের সঙ্গে এসেছে আরহান, আরমান আর আরিয়ান। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বও নিয়েছে আরহান।
আদ্রিয়ান অবশ্য এসব বিষয়ে একদমই আগ্রহী নয়। সকালে নাশতা শেষ করেই সে নিজের গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেছে কাজে। শপিং মলে পৌঁছাতেই শুরু হয়ে গেল মেয়েদের উচ্ছ্বাস। প্রথমে সবাই গেল হলুদের ড্রেস দেখতে।
মেহরীন অনেকক্ষণ ধরে একটার পর একটা লেহেঙ্গা দেখছে। কখনো সোনালীকে দেখাচ্ছে, কখনো আরিশাকে।
— এইটা কেমন?
সোনালী ছোট করে বলল,
— ভালো।
— আর এইটা?
— এটাও ভালো।
মেহরীন বিরক্ত হয়ে বলল,
— তুই সবকিছুতেই ভালো বলিস কেন?
আরিশা হেসে উঠল। সোনালী কোনো উওর দেইনি। অনেক দেখেশুনে শেষ পর্যন্ত মেয়েরা একই ডিজাইনের লেহেঙ্গা পছন্দ করল। হলুদে একি কালার তবে বিয়ের দিন ড্রেসে সবার রঙে হালকা ভিন্নতা থাকবে।
মেহরীন উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল,
— ঠিক আছে, এইটাই ফাইনাল!
আরিয়ান দূর থেকে বলল,
— মাত্র ৩ ঘণ্টায়?
মেহরীন তার দিকে তাকিয়ে বলল,
— কী বলতে চাও?
— না, কিছু না। আমি ভাবছিলাম সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফেরা যাবে কি না।
মেহরীন রাগী দৃষ্টিতে তাকায়। আরিয়ান সেটা দেখে দাঁত কেলিয়ে হাসে - 
— রাগীস না বনু কিন কিন যত খুশি কিন সব বিল ভাইয়া আর আরমান দিবে কিন।
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন