ফন্ট সাইজ:
থিম:
শিউলি প্রণয় কাব্য.

১ম পর্ব

লেখক: 𐙚_মরিয়াম রিতু~ᥫ᭡

সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল।
শহরের ব্যস্ত রাস্তায় তখন একের পর এক গাড়ি ছুটে যাচ্ছে। ফুটপাতে মানুষের ভিড়, রাস্তার পাশে চায়ের দোকান থেকে ভেসে আসছে ধোঁয়া আর কোলাহলের মাঝেও আদালত চত্বরের পরিবেশে ছিল আলাদা এক ব্যস্ততা।
সাদা-কালো পোশাকে একের পর এক আইনজীবী আদালত ভবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
কেউ হাতে ফাইল নিয়ে দ্রুত হাঁটছেন, কেউ সহকর্মীর সঙ্গে মামলার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, আবার কেউ দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছেন।
সেই ভিড়ের মাঝেই ধীর পায়ে এগিয়ে আসছিল একটি মেয়ে।
পরনে সাদা-কালো এ্যাডভোকেটের পোশাক। গলায় সাদা কলার, হাতে কালো ফাইল। লম্বা কালো চুলগুলো পরিপাটি করে খোলা রাখা। কপালে ছোট্ট কালো টিপ, মুখে কোনো বাড়তি সাজ নেই।
তবুও তাকে আলাদা করে চিনে নেওয়া যায়।
সে ইশা চৌধুরী।
চৌধুরী পরিবারের ছোট মেয়ে।
বাবা সাইফুল চৌধুরী, মা সাবিহা চৌধুরী। বড় ভাই আরিশ চৌধুরী এবং ভাবি মুনতাহা চৌধুরী—সবাই তাকে ভীষণ ভালোবাসে।
কিন্তু পরিবারের আদরের ইশা নিজের পরিচয় তৈরি করেছে নিজের যোগ্যতায়।
সে একজন এ্যাডভোকেট।
অন্যায়ের সামনে মাথা নত করা তার স্বভাবে নেই।
আজও হাতে থাকা ফাইলটা শক্ত করে ধরে আদালতের সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল সে।
হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠল।
ইশা ফোনটা বের করে স্ক্রিনের দিকে তাকাল।
আম্মু।
কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে সাবিহা চৌধুরীর কণ্ঠ ভেসে এলো—
—“ইশা, বাবা, আদালতে পৌঁছেছিস?”
ইশা হালকা হেসে বলল,
—“হ্যাঁ আম্মু, এই তো ঢুকছি।”
—“সাবধানে থাকিস। আর দুপুরে তাড়াতাড়ি বাসায় আসবি। তোর আব্বু তোকে নিয়ে কোথাও যাবে।”
—“আচ্ছা আম্মু। তুমি চিন্তা করো না।”
—“আর খেয়েছিস?”
ইশা মুচকি হেসে বলল,
—“আম্মু, আদালতে দাঁড়িয়ে এখন খাবারের হিসাব নেব নাকি?”
—“তুই আবার না খেয়ে থাকবি, তাই বললাম।”
—“আচ্ছা, খাবো।”
কল কেটে ইশা ফোনটা ব্যাগে রেখে দিল।
কিন্তু সে জানত না—
আদালতের সামনে আজ শুধু তার মামলা নয়, তার জীবনেরও একটি নতুন অধ্যায় অপেক্ষা করছে।
ঠিক সেই সময় আদালত ভবনের বিপরীত পাশে একটি কালো গাড়ি এসে থামল।
গাড়ির দরজা খুলে প্রথমে একজন লোক নেমে চারপাশে তাকাল।
তারপর পেছনের দরজা খুলল।
নামল একজন পুরুষ।
কালো শার্ট, কালো প্যান্ট, হাতে দামি ঘড়ি। কালো জুতার প্রতিটি পদক্ষেপে তার আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। চুলগুলো সুন্দরভাবে সেট করা, মুখে কোনো হাসি নেই। তীক্ষ্ণ চোয়াল, গম্ভীর মুখ আর গভীর কালো চোখ—সব মিলিয়ে তার উপস্থিতিই আশপাশের পরিবেশকে যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য থামিয়ে দিল।
জায়ান সিকদার।
সিকদার পরিবারের ছোট ছেলে।
বাবা ইমরান সিকদার। মা সুফিয়া সিকদার। বড় ভাই আদনান সিকদার এবং ভাবি মায়া সিকদার।
ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হলেও জায়ানের পরিচয় শুধু এতটুকু নয়।
শহরের অন্ধকার জগতেও তার নাম পরিচিত।
মাফিয়া-টাইপ মানুষ হিসেবে তার একটা আলাদা প্রভাব রয়েছে। তার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার আগে অনেকেই দুবার ভাবে।
জায়ান গাড়ি থেকে নেমে আদালতের দিকে তাকাল।
তার চোখ হঠাৎ থেমে গেল।
কারও ওপর।
ইশা।
সাদা-কালো এ্যাডভোকেটের পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা তখন নিজের ফাইল গোছাচ্ছিল।
জায়ানের চোখ সরল না।
তার পাশে থাকা লোকটা কিছু বলতে যাচ্ছিল।
—“স্যার, আমরা কি—”
জায়ান হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিল।
তার দৃষ্টি তখনও ইশার ওপর।
কিছুক্ষণ পর ইশা হঠাৎ অনুভব করল, কেউ তাকে দেখছে।
সে ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকাল।
দূরে দাঁড়িয়ে থাকা জায়ানের সঙ্গে তার চোখাচোখি হলো।
এক মুহূর্ত।
দুই মুহূর্ত।
চারপাশের সব শব্দ যেন হঠাৎ দূরে সরে গেল।
ইশা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল।
লোকটা কে?
তার পোশাক, দাঁড়ানোর ভঙ্গি আর চোখের দৃষ্টি—সবকিছুতেই অদ্ভুত একটা কঠোরতা।
জায়ান ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এলো।
ইশা নিজের জায়গায় স্থির দাঁড়িয়ে রইল।
জায়ান কিছুটা দূরে এসে থামল।
প্রথম কথা বলল ইশাই।
—“আপনি?”
জায়ানের চোখ কয়েক সেকেন্ড তার মুখে স্থির থাকল।
তারপর শান্ত গলায় বলল,
—“জায়ান।”
ইশা অবাক হয়ে বলল,
—“আমি তো আপনার নাম জানতে চাইনি।”
জায়ানের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটল।
—“জানতে চাইবে।”
ইশা বিরক্ত হলো।
—“আপনি কি সব অপরিচিত মানুষের সঙ্গে এভাবেই কথা বলেন?”
—“না।”
—“তাহলে?”
জায়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
—“শুধু তোমার সঙ্গে।”
ইশা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকল।
তারপর বলল,
—“আপনি কি আমাকে চেনেন?”
—“চিনি।”
—“কীভাবে?”
—“ইশা চৌধুরী।”
নিজের নামটা তার মুখে শুনে ইশার চোখ সরু হয়ে এলো।
—“আপনি আমার নাম জানেন?”
—“শুধু নাম না।”
ইশার কণ্ঠ এবার কঠিন হয়ে গেল।
—“আমার সম্পর্কে আর কী জানেন?”
জায়ান কোনো উত্তর দিল না।
শুধু তার হাতে থাকা ফাইলের দিকে তাকাল।
—“তুমি এ্যাডভোকেট।”
ইশা ঠান্ডা গলায় বলল,
—“হ্যাঁ। তাতে আপনার কী?”
—“কিছু না।”
—“তাহলে?”
জায়ান একটু কাছে এসে নিচু গলায় বলল,
—“তোমাকে প্রথম দেখার পর থেকেই মনে হচ্ছে, তোমাকে নিয়ে আমার অনেক কিছু জানার বাকি।”
ইশা অস্বস্তিতে এক পা পিছিয়ে গেল।
—“আপনি অদ্ভুত।”
—“এটা নতুন কিছু নয়।”
ইশা আর কথা বাড়াল না।
সে আদালতের সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।
দু-তিন পা যাওয়ার পর হঠাৎ পেছন থেকে জায়ানের কণ্ঠ শুনতে পেল—
—“ইশা।”
সে থেমে পেছনে তাকাল।
জায়ান স্থির চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলল,
—“আমাদের এই দেখা এখানেই শেষ নয়।”
ইশা কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,
—“আমি সাধারণত অচেনা মানুষের সঙ্গে দ্বিতীয়বার দেখা করতে আগ্রহী নই।”
জায়ানের ঠোঁটে রহস্যময় হাসি ফুটল।
—“কিন্তু আমি আগ্রহী।”
ইশা আর কিছু না বলে আদালতের ভেতরে চলে গেল।
জায়ান তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
তার পাশে দাঁড়ানো লোকটা এবার সাহস করে বলল,
—“স্যার, মেয়েটাকে আপনি আগে থেকেই চিনতেন?”
জায়ান চোখ না সরিয়েই বলল,
—“না।”
—“তাহলে?”
জায়ান ধীরে ধীরে বলল,
—“এখন থেকে চিনব।”
লোকটা চুপ হয়ে গেল।
জায়ান আবার আদালত ভবনের দিকে তাকাল।
তার চোখে তখন এমন এক দৃঢ়তা, যেন সে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।
অন্যদিকে আদালতের ভেতরে ঢুকে ইশা নিজের কোর্টরুমের দিকে এগিয়ে গেলেও মনটা বারবার ফিরে যাচ্ছিল সেই অচেনা পুরুষটির কাছে।
তার চোখ দুটো কেন যেন ভুলতে পারছে না।
এতটা অচেনা একজন মানুষ তার নাম জানল কীভাবে?
আর কেনই বা তার সঙ্গে এমনভাবে কথা বলল?
ইশা জানত না—
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তার জীবনের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে যাবে, যা সে কখনো কল্পনাও করেনি।
সেদিন আদালতের সামনে তাদের দেখা হয়েছিল মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য।
কিন্তু সেই কয়েক মিনিটই ছিল—
একটি অদ্ভুত সম্পর্কের প্রথম অধ্যায়।
একদিকে আইনের পথে হাঁটা ইশা চৌধুরী।
অন্যদিকে অন্ধকার জগতের মানুষ জায়ান সিকদার।
দুজনের পথ কি কখনো এক হবে?
নাকি এই প্রথম দেখাই তাদের জীবনে নিয়ে আসবে এমন এক ঝড়, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা সহজ হবে না?
সময়ই তার উত্তর দেবে।
রানিং............!
To be continued…
[ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন]
#শিউলি_প্রণয়_কাব্য_
#লেখনীতে_মরিয়াম_রিতু_
#সূচনা_পর্ব_১_

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন