ফন্ট সাইজ:
থিম:
শিউলি প্রণয় কাব্য.

২য় পর্ব

লেখক: 𐙚_মরিয়াম রিতু~ᥫ᭡

আদালতের ভেতর তখন ব্যস্ততা তুঙ্গে।
কেউ দ্রুত কোর্টরুমের দিকে ছুটছে, কেউ ফাইল হাতে দাঁড়িয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চারপাশের সেই পরিচিত কোলাহলের মাঝেও ইশার মনটা যেন কোথাও আটকে আছে।
বারবার মনে পড়ছে সেই মানুষটার কথা।
জায়ান সিকদার।
লোকটা কে?
কীভাবে তার নাম জানল?
আর সবচেয়ে বড় কথা—তার চোখে এমন একটা দৃষ্টি কেন ছিল, যেন ইশাকে সে বহুদিন ধরে চেনে?
ইশা নিজের অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
—“ইশা?”
পরিচিত কণ্ঠে ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে এলো সে।
সামনে দাঁড়িয়ে তার সহকর্মী ও বন্ধু নাবিলা।
নাবিলা ভ্রু কুঁচকে বলল,
—“কী হয়েছে? তোকে আজ কেমন যেন লাগছে।”
ইশা দ্রুত নিজেকে সামলে নিল।
—“কিছু হয়নি।”
—“কিছু হয়নি মানে? পাঁচ মিনিট ধরে তোকে ডাকছি।”
ইশা ফাইলটা হাতে নিয়ে বলল,
—“চল, কোর্টরুমে যেতে হবে।”
নাবিলা আর কিছু বলল না। তবে ইশার মুখের অস্বাভাবিকতা তার চোখ এড়াল না।
---
অন্যদিকে আদালত ভবনের বাইরে তখনও দাঁড়িয়ে ছিল জায়ান।
তার চোখে আগের সেই স্থিরতা।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি আবার বলল,
—“স্যার, ভেতরে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে।”
জায়ান ঘড়ির দিকে তাকাল।
—“চলো।”
দুজন আদালত ভবনের ভেতরে ঢুকে গেল।
কিন্তু জায়ানের আসল উদ্দেশ্য ছিল অন্য কিছু।
সে ধীর পায়ে করিডোর ধরে এগিয়ে যেতে লাগল।
কিছুদূর গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল।
সামনের কোর্টরুমের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে দেখে তার চোখ সরু হয়ে এলো।
লোকটাকে সে চিনত।
আর সেই মানুষটাও জায়ানকে দেখেই কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে গেল।
জায়ান ঠান্ডা গলায় বলল,
—“তুমি এখানে?”
লোকটি কোনো উত্তর দিল না।
জায়ান তার কাছে গিয়ে নিচু স্বরে বলল,
—“আমি ভেবেছিলাম বিষয়টা শেষ।”
লোকটি এবার ধীরে ধীরে বলল,
—“শেষ হয়নি।”
জায়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
—“কী বলতে চাইছ?”
—“যে মামলা নিয়ে এতদিন ধরে ঝামেলা চলছে, সেটা আজ এই আদালতেই উঠবে।”
জায়ান কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর তার চোখ চলে গেল কোর্টরুমের ভেতরের দিকে।
সেখানেই বসে আছে ইশা।
কালো কোটের ওপর সাদা কলার, সামনে ফাইল খোলা।
তার চোখে দৃঢ়তা।
জায়ানের মুখের অভিব্যক্তি মুহূর্তেই বদলে গেল।
—“মামলাটা কে লড়ছে?”
লোকটি বলল,
—“একজন নতুন এ্যাডভোকেট।”
জায়ান ধীরে ধীরে জিজ্ঞেস করল,
—“নাম?”
লোকটি উত্তর দেওয়ার আগেই কোর্টরুম থেকে কণ্ঠ ভেসে এলো—
—“ইশা চৌধুরী।”
জায়ান স্থির হয়ে গেল।
তার ঠোঁটের কোণে খুব সামান্য হাসি ফুটে উঠল।
—“তাহলে…”
সে ধীরে ধীরে বলল,
—“দেখা যাচ্ছে, ভাগ্য আমাদের আবারও এক জায়গায় নিয়ে এসেছে।”
---
কোর্টরুমে বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।
ইশা নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্তি উপস্থাপন করছিল।
তার প্রতিটি কথায় ছিল স্পষ্টতা।
প্রতিপক্ষের আইনজীবী একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিলেও ইশা বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না।
—“মাননীয় আদালত, আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। শুধু সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।”
তার কণ্ঠ দৃঢ়।
কোর্টরুমের পেছনের সারিতে দাঁড়িয়ে জায়ান চুপচাপ তাকে দেখছিল।
প্রথমবারের মতো তার চোখে ইশার জন্য শুধু কৌতূহল নয়—সম্মানও ফুটে উঠল।
পাশে দাঁড়ানো লোকটি ফিসফিস করে বলল,
—“মেয়েটা বেশ সাহসী।”
জায়ান চোখ না সরিয়ে বলল,
—“সাহসী না হলে আমার সঙ্গে কথা বলত না।”
---
কিছুক্ষণ পর শুনানি শেষ হলো।
ইশা ফাইল গুছিয়ে কোর্টরুম থেকে বেরিয়ে এলো।
দরজার কাছে আসতেই হঠাৎ তার চোখ পড়ল জায়ানের ওপর।
সে থেমে গেল।
মনে হলো, লোকটা যেন ইচ্ছা করেই তার জন্য অপেক্ষা করছে।
ইশা এগিয়ে এসে বলল,
—“আপনি এখানে?”
জায়ান শান্তভাবে বলল,
—“হ্যাঁ।”
—“কেন?”
—“মামলার জন্য।”
ইশা ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
—“আপনার কোনো মামলা আছে?”
—“আছে।”
—“কী মামলা?”
জায়ান কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বলল,
—“সেটা তুমি খুব তাড়াতাড়িই জানতে পারবে।”
ইশার বিরক্তি আরও বেড়ে গেল।
—“আপনি সব কথার উত্তর এভাবে ঘুরিয়ে দেন কেন?”
—“কারণ সব উত্তর একসঙ্গে দিলে গল্পটা মজার থাকবে না।”
ইশা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল।
ঠিক তখনই নাবিলা পেছন থেকে এসে ইশার হাত ধরল।
—“ইশা, চল।”
ইশা জায়ানের দিকে শেষবার তাকিয়ে বলল,
—“আমার কাজ আছে।”
জায়ান মৃদু হেসে বলল,
—“আমি জানি।”
ইশা চলে গেল।
কিন্তু কয়েক পা যাওয়ার পরও তার মনে হলো—
জায়ানের চোখ এখনও তার ওপরই স্থির।
---
দুপুরে চৌধুরী বাড়ি।
বাড়ির দরজা দিয়ে ঢুকতেই ইশার মা সাবিহা এগিয়ে এলেন।
—“এসেছিস মা?”
ইশা মায়ের হাত ধরে বলল,
—“হ্যাঁ আম্মু।”
—“চল, আগে খেয়ে নে।”
—“আব্বু কোথায়?”
সাবিহা একটু হেসে বললেন,
—“তোর আব্বু তোকে নিয়েই বসে আছে।”
ইশা অবাক হয়ে ড্রয়িংরুমে ঢুকল।
সোফায় বসে ছিলেন সাইফুল চৌধুরী।
ইশাকে দেখেই বললেন,
—“আয় মা।”
ইশা বাবার পাশে বসে বলল,
—“কী হয়েছে আব্বু? আম্মু বলল আমাকে নিয়ে কোথাও যাবে।”
সাইফুল চৌধুরী মেয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন,
—“আজ সন্ধ্যায় আমাদের কিছু অতিথি আসবে।”
—“অতিথি?”
—“হ্যাঁ।”
—“কারা?”
সাইফুল চৌধুরী একটু থেমে বললেন,
—“সিকদার পরিবার।”
ইশার মুখের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।
তার মনে পড়ে গেল সকালের সেই কালো চোখ দুটো।
জায়ান।
সে ধীরে ধীরে জিজ্ঞেস করল,
—“সিকদার পরিবার?”
সাইফুল চৌধুরী মাথা নাড়লেন।
—“হ্যাঁ।”
ইশার বুকের ভেতর অজানা এক অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ল।
সে জানত না—
সন্ধ্যার সেই সাক্ষাৎ শুধু দুই পরিবারের সাক্ষাৎ হবে না।
বরং তার আর জায়ানের সম্পর্কের গল্পকে নিয়ে যাবে একেবারে অন্য এক মোড়ে।
আর সেই মোড়ে অপেক্ষা করছে—
একটি গোপন সত্য।
একটি পুরোনো শত্রুতা।
আর এমন এক সম্পর্ক,
যার শুরুটা হয়েছিল আদালতের সামনে কয়েক মিনিটের এক অচেনা দৃষ্টিতে।
রানিং...........!
To be continued…
[ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন]
#শিউলি_প্রণয়_কাব্য_
#লেখনীতে_মরিয়াম_রিতু_
#২য়_পর্ব

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন