ফন্ট সাইজ:
থিম:
তেঁতুলপাতায় সংসার

৫ম পর্ব

লেখক: লেখনীতে সাদিয়া

#তেঁতুলপাতায়_সংসার

#লেখনীতে_সাদিয়া
#পর্ব_৫
❌কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ
সিকান্দারের ভেতরটা অশান্ত আর উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। বেশ কিছু সময় বাহিরে নিস্তব্ধ বাতাসে ও দাঁড়িয়ে থাকে। অথচ প্রকৃতির এই নির্মল বাতাস তার ভেতর শান্ত করতে পারে না। আচ্ছা মায়ের সন্দেহ কি ঠিক? এত দীর্ঘ সময় ধরে মায়ের মনে পুষে রাখা বিশ্বাস যদি সত্যি হয় তাহলে সিকান্দার ভূঁইয়ার জীবনে আর থাকলো কি? মেহেরুন? ওই মাইয়ারে ছাড়া কি সে একটা দিন বাঁচতে পারবো? ওর ভেতরে যে আগুন জ্বলছে সেই আগুন তো তাহলে তাকে একেবারেই জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিবে। মেহেরুনের দূরত্ব ওর বোবা মন যে মানতে পারবে না। 
এত কিছুর মাঝেও সিকান্দারের বারবার মেহেরুনের মুখটা ভেসে ওঠছে। সামান্য বাদাম পেয়ে ওর মুখের জ্যোতির কথা মনে আসছে। সেই প্রথম দিনের সাক্ষাৎ, সেই বাদাম, মেহেরুনের ইতস্তত মাখা মুখ সব যেন আরো উতলে ওঠছিলো ওর বুকে। সিকান্দার দাঁত চেঁপে নিজের বুকের বা পাশ টা খামছে ধরে। আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলে, 
  "আমি যে এই জ্বালা আর মানতে পারি না। কোন জায়গায় গেলে আমার বুকের এই যন্ত্রণা মিটবো গো আল্লাহ? আমারে তুমি একটু শান্তি দাও খোদা। এই জ্বালা যে সিকান্দার ভূঁইয়া আর সইবার পারে না।"
বেশ কিছুটা সময় পার হয়ে যায়। আকাশে চাঁদ আছে। অল্পস্বল্প দেখা যায়। সেই মিটমিটে আলোতেই সিকান্দার কল চেঁপে পানি বের করছে। মুখটা বেশ থমথমে। কঠোর প্রকৃতির মন ওর। কোনো কিছু এত সহজেই তাকে পুরোপুরি কাবু করতে পারে না। তা না হলে একটু আগে যে আল্লাহর কাছে এভাবে নিজের আর্জি জানায় মিনিট কয়েকের ব্যবধানে সেটা সামলে ওঠা সম্ভব কারো পক্ষে? সিকান্দার ভূঁইয়া যে শক্ত মনের মানুষ। ওরে তো সবাই পাষাণ নামেই চিনে। কল চাঁপতে চাঁপতে সিকান্দার তাচ্ছিল্য হাসলো নিজের উপর। 
হারিকেন হাতে মেহেরুন এগিয়ে এলো। কলের হাতল ধরতে চেয়ে বলল, "আমনে পানি ঢালেন আমি চাইপ্পা দেই?"
সিকান্দার ঘাড় ফিরিয়ে একবার দেখলো মেহেরুনের মুখটা। কপাল কুঁচকে কর্কশ গলায় বলল, "তোরে কইছি এত দরদ দেখাইতে? কামের সময় তো কিছু করবার পারোস না। ধরতে গেলে শনি মঙ্গল এক কইরা ফালাস আর এহন আইছোস আমারে কামগিরি দেহাইতে?"
লোকটার কথার মানে মেহেরুন খুব ভালো করে বুঝে। তাই লজ্জায় মাথা নুয়ে নেয় সে। সিকান্দার বউয়ের রাঙ্গা মুখ দেখে কিছুটা শান্তি পায়। অথচ মুখে তা একবিন্দু প্রকাশ না করে উল্টো মোটা গলায় বলে, 
  "হেইনে গিয়া চুপচাপ দাঁড়া।"
স্বামীর কথায় মেহেরুন হারিকেন হাতে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ায়। সিকান্দার নিজেই কল চেঁপে পানি তুলে গোসল করে। বউ এর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, 
  "গামছা আনছোস?"
  "না। আমনে তো কন নাই।" 
  "তোর চোখ আছিলো না? পিরিত দেখাইয়া ঠিকি তো আইয়া পরছোস।"
  "নিয়া আইতাছি।"
  "খাড়া লাগবো না।"
  "ক্যান ভিজা শইলে ঘরে যাইবেন নাকি?"
  "ছাতার মাথা, বলদি কোনহানের। তোর ওড়না দে।"
মেহেরুন বিস্ময়ে চোখবড় করলে সিকান্দার গাছাড়া ভাবে বলে ওঠল, "এত ভাব মারাইতে হইবো না। আমি ছাড়া কেউ নাই এইহানে। আর তোর আগাগোড়া সব আমার জানা দেহা। তাই ভাব না দেহাইয়া দে ওড়নাডা।"
স্বামীর কপাল কুঁচকানো দেখেই মেহেরুন শরীর থেকে ওড়নাটা খুলে এগিয়ে ধরল। সিকান্দার গাঢ় নয়নে একবার মেহেরুনের পুরো শরীরে নজর বুলিয়ে ওড়না দিয়ে আগে মুখ মুছলো। নাসারন্ধ্রে মেহেরুনের গায়ের মিষ্টি একটা সুভাস এসে লাগলো। বউ না বুঝে এমন করেই ওড়না থেকে টেনে টেনে মেহেরুনের গায়ের গন্ধ নিলো। অবশেষে মেহেরুনের ওড়না পেঁচিয়েই ভিজা লুঙ্গি খুলে নিজেই ধুয়ে দিলো। বারান্দার রসিতে লুঙ্গি নেড়ে ঘরে গেলো সে। 
মেহেরুন ভাত বেড়েছে। সিকান্দার লোকমা মুখে তুলে বলল, "রাইত হইছে আর কার আশায় বইয়া আছোস তুই? খাস না ক্যান?"
  "আমনে খাইয়া লন পরে খামু নে।"
সিকান্দার বউয়ের নত মুখ দেখে কপাল কুঁচকে নিলো। 
  "ক্যান ভাত কি কম নাকি?"
  "না না। আমনে খান। পাতিলে ভাত আছে।"
সিকান্দার বউয়ের শুকনা মুখ দেখে কি ভেবে নিজেই তরকারির পাতিলের ঢাকনা সরিয়ে দেখে পাতিলে একটুও তরকারি নেই। তা দেখে সিকান্দার বউ এর দিকে গরম চোখে তাকায়। মেহেরুন দ্রুত মাথা নুয়ে বলে, 
  "আমি পানি আর মরিচ দিয়া ভাত খাইয়া নিমু। নাইলে ঘরে মুড়ি আছে। আমনে ভাত খান।"
সিকান্দারের ভেতরটা মুচড়ে ওঠে। তার ঘরে আইসা মেহেরুন মেলা কষ্ট করে। বাপের ঘরে থাকতে কোনোদিন পানতা ভাত খাইছে কিনা সন্দেহ। বাপের ননীর পুতুল আছিলো কিনা! অথচ তার ঘরে আইসা কতই না কষ্ট করে মাইয়াডা। আর হেয়? সারাক্ষণ খ্যাচ খ্যাচ করে। কথা শুনায়। মুখের ভাত সিকান্দারের গলা দিয়ে নামতে একটু কষ্টই হলো। 
পাতিল থেকে অল্প কয়েকটা ভাত নিলো। পাতের তরকারির সাথে মাখিয়ে নিলো সবগুলা ভাত। সাথে একটু লবণও নিয়েছে যাতে পানসে না লাগে ভাত। বেশ শুকনো করেই ভাত মাখিয়ে মেহেরুনের মুখের সামনে ধরে। বউ অবাক চোখে তাকাতেই ভারি গলায় বলল সিকান্দার, 
  "যদি খালি না খাইয়া কোনো বাহানা দেখাইয়া আমার রাগ তুলছোস মেহেরুন, ভাত টাত ফালাইয়া বাহির হইয়া যামু কইলাম।"
মেহেরুন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে স্বামীর মুখের দিকে। তার স্বামীকে নিজেও আজকাল কেমন চিনতে পারে না। তার সামনে ভাত ধরেছে অথচ মুখে রাগ ফুটিয়ে তুলেছে। স্বামীকে আজকাল চিনতে তার একটু কষ্টই হয়। সব কিছু খেয়ালও রাখবে আবার খারাপ ব্যবহারও করবে। 
  "আমার মুহে কি মাইয়া মাইনষে গো লাহান রূপ বাহির হইছে? সং এর মতো চাইয়া আছোস ক্যান? হা করবি নাকি ভাতে পানি ঢালমু?"
মেহেরুন দ্রুত করে স্বামীর হাত ধরে মুখে খাবার খেয়ে নেয়। লোকটা বড্ড ভালো শুধু একটু রাগি। ভাত খেতে খেতে মেহেরুন সিকান্দারের দিকে তাকিয়ে থাকে। হঠাৎ মনে পড়ে সেই প্রশ্নের জট। বুকটা ধক করে ওঠে আবারও। মনটা ফের উথাল হয়ে পড়ে। বারবার মনে উঁকি দিলো সিকান্দার ভূঁইয়া কি তাকে কোনো কারণে বিয়ে করেছে? সেরাতে কি শুনলো সে? নাকি ও নিজেই একটু বেশি ভাবছে? 
**
সবে মাত্র বাজার থেকে জালাল বাড়ি ফিরেছে। ওর পনেরো বছরের ছোট্ট বউ আছিয়া স্বামী বাড়ি ফিরেছে দেখে দৌড়ে এগিয়ে এলো। 
  "আমনে আইছেন? এত দেরি হইলো যে? আমি হেই কক্ষণ ধইরা অপেক্ষা করতাছি।"
  "কারেন্ট কি গেছে গা?"
  "হো। একটু আগেই গেলো।"
আছিয়া স্বামীর হাত থেকে ব্যাগপত্র গুলি নিয়ে নিলো। উচ্ছ্বাস নিয়ে শুধালো, "কি আনছেন? কি আছে এইখানে?"
জালাল বউ এর দিকে নরম চোখে তাকিয়ে বলল, "আমার পিচ্চি বউ এর লাইগা মজা আনছি। আমি বাজার থেইকা আইলেই তো আমার হাতের দিক চাইয়া থাহে।"
আছিয়া একটু লজ্জা পেয়ে বাজারের ব্যাগ খুলে দেখতে লাগল কি এনেছে স্বামী। জালালের ছোট্ট বউটার স্বভাবও বাচ্চাদের মতো। ভাত না খেয়ে সারাদিন এটা ওটা খেতে চায়। তাই ছোট্ট বউটার জন্যে কিছু না কিছু এনে রাখতেই হয়। আছিয়া ব্যাগ খুলে দেখতে পেলো চানাচুর, বিস্কুট আর খোরমা এনেছে জালাল। তা দেখেই লাফিয়ে ওঠল ও। 
  "চানাছুর?"
আছিয়া খুশি চিত্তে চানাচুরের মোড়ক খুলতে উদ্যত হলে জালাল বাঁধা দিলো, "আহ, আছিয়া করো কি তুমি?"
  "ক্যান? চানাছুর খামু। এইগুলা তো আমার লাইগাই আনছেন।"
  "তোমার লাইগাই আনছি। কিন্তু এহন রাখো এইগুলা। রাতে খাইও।"
  "কি কন আমনে? রাইতও হওয়া এহনো বাকি আছে আমনের লাইগা?"
  "সোহাগ করার লাইগা রাইত এহনো বাকি আছে। সেই সময়ই খাইও। এহন রাহো।"
স্বামীর কথায় আছিয়া মাথায় গোমটা টেনে নেয়। লজ্জায় লাল হয়ে বলে, "আমনের খালি বেলাজা কথা।"
জালাল শার্ট খুলতে খুলতে একবার আছিয়ার মুচকি হাসা মুখটা দেখে। ওর সারাদিনের ক্লান্তি যেন নিমিষে দূর হয়ে যায়। 
"তোমার মুখ লাল হইয়া গেছে আছিয়া। আসো ধইরা আরো লাল বানাইয়া ফালাই।"
আছিয়া ঠোঁট টিপে মুচকি হাসে মাথা নুয়ে। 
  "চুপ করেন। খালি পঁচা কথা। একটু চানাছুর খাই? আমনে জানেন না চানাছুর আমার কত পছন্দের?"
  "তোমার খাওয়ার লাইগাই তো আনছি আছিয়া। কিন্তু তোমার যে পাখির বাচ্চার মতো পেট এহন চানাচুর খাইলে ভাত খাতে গিয়া গাঁইগুঁই করবা। চানাচুর পরে খাইও।"
আছিয়া স্বামীরে তালপাতার পাখা দিয়ে বাতাস করছে। জালাল ক্লান্তি মাখা মুখে বলল, "একটু ঠান্ডা পানি আনবা আছিয়া?"
আছিয়া চটজলদি করে বলল, "আমনে বসেন আমি লেবু চিপ্পা শরবত কইরা আনতাছি এহনি।"
পাখা রেখে আছিয়া দৌড়ে চলে গেলো শরবত করতে। স্ত্রীর যাওয়ার পানে জালাল এক নজরে তাকিয়ে মনে মনে ভাবতে থাকে, "বউ এত আদরের জিনিস অথচ অন্য পুরুষ কেমনে মারে বউরে? সিকান্দার ডাও বা কেমন? আজকাল বউয়েরে চর থাপ্পড় মারে। ওর কি বুক কাঁপে না একবারও?"
**
পরদিন সকাল বেলা মেহেরুন জলদি করে ওঠে রান্না বসিয়েছে। আজ ওঠতেই একটু দেরিই হয়েছে। সিকান্দার ভূঁইয়া জড়িয়ে ধরে শুয়ে ছিলো। ছাড়তে চাইছিলো না একটুও। অথচ বাজারে যাওয়ার আগে ভাত তরকারি না পাইলে ঠিকি বাড়ি মাথায় তুলে ফেলতো চিৎকার চেঁচামেচি করে। সারাক্ষণ নাকের ঢগায় রাগ নিয়ে চলে লোকটা। 
সিকান্দার গোসল করতে গিয়েছে পুকুড়ে। মেহেরুন বারান্দায় ভাত ডাল আর শুঁটকি ভর্তা সুন্দর করে বেড়ে বসে আছে। সিকান্দার আসতেই মেহেরুন শাশুড়ি আর ননদ কে ডেকে নিয়ে এলো। হাফসা সারাক্ষণ কপাল কুঁচ করে রাখে মেহেরুনের সাথে বেশি কথা সে বলে না। যাও বা বলে সব গুলি কাটা কাটা কথা। যে কারো শুনলেই রাগ ওঠবে। সব বুঝেও মেহেরুন চুপচাপ থাকে। কি দরকার সংসারে অশান্তি বাড়ানো? তার দাদী বলে, "সংসারে যত মানাইয়া গুছাইয়া থাহা যায় ততই শান্তি আর মঙ্গল। ক্যাঁচাল করলে সংসারে অশান্তি বাড়ে। অলক্ষ্মী ধরে।"
খাওয়ার ফাঁকে সিকান্দারের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেহেরুনের সাথে বিনিময় হতেই স্বামীর চোখের ভাষা একটুতেই বুঝে গেলো মেয়েটা। নরম গলায় উত্তর দিলো তাই, "আমি সকাল বেলা গাছ থেইকা কাঁচামরিচ তুইলা পানতা ভাত দিয়া খাইছি। পরে খামু নে।"
সিকান্দার বউয়ের মুখ পরখ করে আর কোনো জবাব দিলো না। অথচ রমিছা বানু চোখমুখ আঁধার করে বিড়বিড় করতে লাগলেন, "আল্লাহ এমন দিন দেহার আগে তুমি আমারে মরণ দেও। এই সংসারে আমার আর টিকার এক বিন্দু আয়েশ নাই। মানে মানে আমার কব্বরে নেও আল্লাহ।"
  "খালি খালি ফাতরা আলাপ কম পারো তো। শান্তিতে একটু খাইতে দেও আম্মা।"
  "তোর কাছে তো আমি অশান্তিই রে পুত। আমি না থাকলে কালসাপের লগে ভালা থাকবার পারবি।"
মেহেরুন চুপচাপ উঠে গেলো, "বাড়ির পিছনে পাতা লাইড়া দিয়া আইছি। আমি একটু আইতাছি।"
মেহেরুন মলিন মুখে চুপচাপ স্থান ত্যাগ করলো। কিন্তু রমিছা বানুর কথা থামলো না।
  "অলক্ষ্মী অপয়া ন ডি। কালসাপ একটা। পোলাডা খাইতে বইছে আর হেয় পুটকি মুচড়া দিয়া গেছে গা। সংসারডা খাইয়া শান্তি হইবো ওই মুর্শেদের মাইয়া। আমারে নির্বংশ বানাইবো।"
নিজেই কথা শুনালো তাতে মেহেরুন ঝামেলা না করে চুপচাপ চলে গেলো দেখে সেই বকতেই আরম্ত করলো। প্রতিদিন এই অশান্তি আর ভালো লাগে না সিকান্দারের। খাইতে বইলেও অশান্তি। মায়ের এই বিলাপে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে ও। অথচ কিছু বলতে পারে না অদৃশ্য টানে। বিতৃষ্ণা মুখ নিয়েই সিকান্দার পাতের ভাত গুলি শেষ করলো।
মায়ের গুনগুনানি কান বন্ধ করে শুনেও চুপ রইলো। কিছু বললেই সারাদিন বিলাপ করে চিল্লাইবো আর না খাইয়া অসুখ বান্ধাইবো। সিকান্দারের কি আর এত টেকা আছে নাকি যে ভালা চিকিৎসা করাইবো? এই টেকা আর চিকিৎসার লাইগাই তো বাপটা মরলো।
বাজারে যাওয়ার আগে বাড়ির আশেপাশে কোথাও মেহেরুন কে দেখতে পেলো না। সিকান্দারের মেজাজ গরম হলো। কই গেছে বান্দিডা? হেয় কি জানে না বাজারে যাওয়ার আগে হের মুখটা না দেখলে মেজাজ গিটগিট করে সিকান্দারের? দোকানে যাওয়ার সময় আবার কই চইলা গেলো?
শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে সিকান্দার হাক দিবে এর আগে নারকেল শলার ঝাড়ু নিয়ে বউ তার ঘামার্ত মুখে এগিয়ে এলো। ফর্শা মুখ রোদের তাপে লাল হয়ে গিয়েছে। বেশ ক্লান্তির ছাপ এতে। সিকান্দার একপলক দেখে জিজ্ঞাস করলো, 
  "কি এমন করছোস? মুখ লাল টমেটোর মতো হইয়া গেছে ক্যান?"
  "পিছনে আরো পাতা পড়ছিলো হেইগুলা ঝাড়ু দিয়া দলা করছি।"
  "মুখে পানি মার। নাইলে মনে হইতাছে রক্ত বাহির হইয়া যাইবো টসটসা গাল দিয়া।"
মেহেরুন জবাব দেয় না। কানে ঠিকি শাশুড়ির এক কূটার্থ কথা বের হয়ে এলো। 
  "বাজারে যাইতাছেন?"
  "তো তোর কি মনে হইতাছে বিয়া খাইবার যাইতাছি?"
  "ঘরে কোনো বাজার নাই। মাছ হলুদ মরিচও নাই।"
হাতে টাকা পয়সা নাই, দোকানে বেচাকিনা নাই। বেচা কিনা থাকবো কেমনে যদি মাল না তুলতে পারে? এর মাঝে এই কথা শুইনা সিকান্দারের মেজাজ গরম হয়ে গেলো। কর্কশ গলায় বলে ওঠল, 
  "না থাকলে না থাকবো। না খাইয়া থাকবি। পারলে দুইদিন লবণ মরিচ দিয়া ভাত খাইবি। সিকান্দার ভূঁইয়ার ধনসম্পত্তির পাহাড় কইরা বসে নাই যে তোগোরে খালি মজার মজার খাওয়ামু। দুইদিন না খাইলে মানুষ মরে না। হেরপরেও আমার মাথা খাইস না।" 
রাগে গজগজ করতে করতে সিকান্দার চলে গেলো। তা দেখে মেহেরুন দীর্ঘশ্বাস ফেলে। অভাব বুঝি এমনি? মানুষকেও পাল্টে দিতে জানে? 
মেহেরুন কলপাড়ের দিকে এগিয়ে গেলো হাত মুখে একটু পানি ঝাপটা দিতে। তখুনি ননদের চিৎকার ভেসে এলো কানে। আকাশ পাতাল কাঁপিয়ে চিৎকার করছে ও,
  "আম্মা? আম্মা? কই গেছো তুমি? তাত্তাড়ি আইসা দেইখা যাও তোমার পুতের বউ কি সর্বনাশ করছে আমার।" 
চলমান......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন