ফন্ট সাইজ:
থিম:
এই অবেলায় তুমি

১ম পর্ব

লেখক: Sabiha sultana sova
#এই #অবেলায় #তুমি 

#সাবিহা_সুলতানা_সোভা 

                অনুমতি ব্যতীত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 👺🤟🏻

___________________________________________________________
সূচনা:- এই এই সমস্যা কি হ্যাঁ? এই মেহেদী তো আমি গত পরশু 30টাকা দিয়ে কিনেছিলাম [এই হলো গল্পের নায়িকা, চঞ্চল ও বাচাল প্রকৃতির মেয়ে]
হাসেম মোল্লা— মা ইরা ঈদের সময় তো তাই একটু দাম টা বাড়ালাম!
হাসেম মোল্লার কথায় ইরা মিছা রাগ দেখিয়ে বলে
—না না তা হবেনা। আমি আপনার দোকানের নিয়মিত কাস্টমার! আমাকে 30টাকা করে 6টা কাবিরি মেহেদী দিন তো
হাসেম মোল্লা আর পারলো না এই জেদি মেয়ের জেধের কাছে সে হালকা হেসে বললেন 
— তোকে নিয়ে এই পারা না যাহ নিয়ে যা 
ইরা হাসেম মোল্লা র দোকান থেকে গুণে গুণে 6টা মেহেদী নিয়ে গেলো। দোকান থেকে ইরা দের বাড়ি মাত্র 15 মিনিট এর রাস্তা ইরা ছোটকাল থেকেই এই দোকান থেকে কেনাকাটা করে। তাই হাসেম মোল্লার সাথে ইরার খুব ভালো সম্পর্ক 
ইরা সবে মাত্র কলেজ সেকেন্ড ইয়ার এ পড়ে ওর বয়স 17 দেখতে মাসাআল্লাহ! হাঁটু অবধি লম্বা ঘন হালকা বাদামী রঙ্গা চুল, দুধে আলতা গায়ের রঙ হরিণীর মতো টানা টানা চোখ, গোলাপের পাপড়ির ন্যায় এক জোড়া রক্তিম ঠোঁট , ঠোঁট এর নিচে কালো কুচকুচে একটা তিল ও আছে বটে!!ওকে দেখে যে কেও টাস্কি খেয়ে যাবে! নজর কারার মতো সুন্দর । উচ্চতা 5"1 ! তবে একটা একটা কথা আছে না? মহান সৃষ্টি কর্তা সবাইকে সব কিছু দেয় না-!! ঠিক তেমনি হয়তো সৃষ্টি কর্তা ইরাকে ওর পরিবারের ভালোবাসা দেয় নি ! মেয়েটা সবসময় একাকিত্বে ভুগে-! তবে মেয়েটা আলাদা খুব বলতে খুব চঞ্চল ওর সাথে যে কেও খুব সহজে মিলে যেতো তবে ও লাগামহীন মেয়ে মুখে যা আসে তাই বলে দেয় মাঝে মধ্যে তো এই অভ্যাস এর জন্য বড় সোরো মারাও খায় 🙂!! 
____________________________🖤_____________________________
 সকাল ৮:৩০
ইরা— উমম...আজ কলেজ যেতে ইচ্ছে করছে না! কিন্তু বাসায়তো মন কাটে না কি করি-!?? যাব নাকি কলেজ এ আচ্ছা ওই শাকচুন্নি কে কল করে দেখি যাবে নাকি 
ক্রিং ক্রিং 
— হেলো পেত্নি বল কি বলবি? 
— শালী র ঘরে শালী কলেজে যাবি? তুই না গেলে কিন্তু আমিও যাব না 
—চুনা পাখি আজকে যে ওই প্রেগন্যান্ট গণিত স্যার এর ক্লাস টা কী ভুলে গেছো? কলেজে না গেলে পরে কুত্তা মরা মাইর দিবো হালায়।
— ধুরু সালার বিয়া হইব না ওহওহ থুক্কু বেডার তো বিয়া হয়া 3/4 টা বাচ্চাও হয়া গেছে যাগ্গে শালী রেডি হও আমি আসছি কলেজে 
এই বলে 30 মিনিটের মধ্যে ইরা রেডি হয়ে কলেজে চলে যায় 
শুরু হয়ে গেলো আজাইরা গণিত ক্লাস কিনে বোরিং এই ক্লাস টা গণিত স্যার এর ক্লাসে ইরা আচ্ছা মতো জব্দ হয়েছে হোমওয়ার্ক করেছে ঠিকই তবে ম্যাথ গুলো সলভ করতে পারে না বলতে গেলে গাইড দেখে অঙ্কগুলো টেনে টুনে করে নিয়েসেছে!! স্যার পানিশমেন্ট হিসেবে ক্লাসের বাহিরে যেয়ে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছে🐸 ইরা কি আর করবে ভুল যেহুতু করেছে শাস্তি তো পাওয়া লাগবেই , সে এদিক ওদিক না তাকিয়েই সামনে দর লাগায় কিন্তু ও তো ভুলেই গিয়েছিল ওর ভাগ্য যে বহুত খারাপ হঠাৎ করে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায় !! ইরা হুট করে একটা শক্ত পোক্ত বুকে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে যায়. শেষ আমাদের ড্রামা কুইন শেষ ইস কিজে ব্যাথা পেয়েছে ।
ইরা রেগে মেগে কিছু না দেখেই বলা শুরু করে
—কোন বাঁদরের জাত রেহ😒 সালার কোন হরমজাদা আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলেছিস? চোখ কি পকেটে নিয়ে হাটিস বে?
—What nonsense? What field are you from?fuckkkkk!! এই মেয়ে সমস্যা কি? নিজেই ডেং ডেং করে দৌড় দিতে গিয়ে আমার সাথে ধাক্কা খেয়েছো আবার আমার দোষ দিচ্ছ? পুঁচকে মেয়ের মুখের ভাষার কি চিরি 
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবগের কথা শুনে ইরা নিজেই থতমত খেয়ে যায়! কি করবে বুজতেই পারছে না উফফ ধুরু এই জন্যই ইরা নিজের গু মার্কা মুখ খুলতে চায় না যখন এ কিছু বলতে চায় শুধু ঝগড়া লেগে যায়, ইরা যখন সামনে রেগে বম হয়ে যাওয়া যুবগটিকে দেখতে যায় অমনি ভূত দেখার মতো ভয় পায়!! হায়হায় শেষে কিনা নিউ জয়েন করা হিটলার স্যার এর সাথে ঝগড়া করছে চেহহহহহ!!
ইরা বেচারনি ডিপ্রেশন এ পড়ে দিলো একটা দৌড় সামনে থম মেরে দাঁড়িয়ে থাকা যুবোগটি বোধহয় বিরক্ত হলো রমনীটির এরূপ সভাবে! 
______________________________________________________
সময় যেন নদীর স্রোতের মতো কেটে যায়। দেখতে দেখতে টিফিনের ঘণ্টা বেজে উঠলো। ক্লাস থেকে বের হয়েই ইরা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। এতক্ষণ কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকার পর তার কোমর পর্যন্ত ব্যথা হয়ে গেছে।
ইরা বেঞ্চে বসে বিরক্ত মুখে বলল—
—জীবনে আর কোনোদিন গণিত স্যারের ক্লাসে হোমওয়ার্ক ফাঁকি দিবো না! 🙂 এই মানুষটা মানুষ না, আস্ত যম!
মিরা হেসে বলল—
—তুই আবার কবে হোমওয়ার্ক ঠিকমতো করছিস? গাইডের অঙ্ক দেখে দেখে লিখে আনিস, তারপর আবার এমন ভাব করিস যেন তুই গণিতে গোল্ড মেডেল পেয়ে আসছিস!
ইরা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলল—
—এই যে! বেশি কথা বলবি না। আমি কিন্তু খুবই মেধাবী ছাত্রী। শুধু আমার মেধাটা মাঝে মাঝে ঘুমায় থাকে। 
—হ্যাঁ, সেই মেধা গত সতেরো বছর ধরে ঘুমিয়েই আছে! 😂
—চুপ কর শাকচুন্নি!
দুজনেই হেসে উঠলো।
কিছুক্ষণ পর ইরা আগের ঘটনাটা মনে করে আবার মুখ গোমড়া করে বলল—
—আচ্ছা মিরা, আজকে আমার কপালটা এত খারাপ কেন বল তো?
মিরা ভ্রু কুঁচকে বলল—
—কেন আবার?
—নতুন স্যারের সাথে প্রথম দিনেই ঝগড়া! তাও কিনা আমি নিজেই গিয়ে ধাক্কা খাইলাম! 😭
মিরা হাসতে হাসতে বলল—
—তুই তো আগে মানুষটাকে না দেখেই সাত পুরুষ উদ্ধার করে দিয়েছিস। এখন বুঝলি?
—উফফ! তখন তো জানতাম না উনি স্যার! জানলে কি আর বলতাম নাকি?
—তুই জানলেও বলতি। 😂
—এই শালী!
ইরা মিরাকে মারতে গেলে মিরা দৌড়ে পালিয়ে গেল। দুজনের হাসাহাসিতে আশেপাশের কয়েকজনও তাদের দিকে তাকাতে লাগলো।
ঠিক তখনই কলেজের ঘণ্টা বেজে উঠলো।
মিরা বলল—
—চল চল, আবার ক্লাস শুরু।
ইরা বিরক্ত মুখে বলল—
—হায় আল্লাহ! আবার ক্লাস! আমার জীবনে সুখ বলে কিছু নাই! 😩
দুজনেই দ্রুত ক্লাসরুমে ফিরে গেল।
কিছুক্ষণ পর সবাই নিজেদের আসনে বসতেই দরজার কাছে একজন স্যার এসে দাঁড়ালেন। তার পেছনে সেই পরিচিত যুবকটিও ছিল।
ইরার চোখ পড়তেই তার বুক ধক করে উঠলো।
—আবার এই লোক! 😳
সে তাড়াতাড়ি মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
ক্লাসের পুরোনো স্যার সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন—
—শোনো সবাই, আজ থেকে তোমাদের কিছু ক্লাস নতুন একজন প্রফেসর নেবেন। উনি আমাদের কলেজে নতুন যোগ দিয়েছেন। আশা করি তোমরা সবাই উনাকে সম্মান করবে এবং ক্লাসে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করবে না।
তারপর তিনি পাশের যুবকের দিকে তাকিয়ে বললেন—
—Everyone, meet your new professor, আব্রাহাম আয়ান চৌধুরী
পুরো ক্লাস একসাথে—
—Good morning, sir!
ইরা চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে রইলো।
মিরা আস্তে করে তার কানে ফিসফিস করে বলল—
—ওই তো তোর হিটলার স্যার! 
ইরা দাঁত চেপে বলল—
—চুপ কর! আজকে যদি উনি আমাকে চিনে ফেলে, আমি শেষ!
আয়ান ধীর পায়ে ক্লাসের সামনে এসে দাঁড়ালেন। কয়েক সেকেন্ড পুরো ক্লাসের দিকে তাকিয়ে থাকলেন।
তারপর হঠাৎ তার দৃষ্টি গিয়ে থামলো ইরার ওপর।
ইরা সেটা বুঝতে পেরে আরো সোজা হয়ে বসে গেল।
আয়ান ঠান্ডা গলায় বললেন—
—তুমি।
ইরা ভয়ে ভয়ে চারপাশে তাকালো।
—জি... আমি? 🥲
—হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি। দাঁড়ান।
ইরা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো।
আয়ান কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন—
—আজ সকালে যার সাথে আমার দেখা হয়েছিল, আপনি কি সেই ছাত্রী?
পুরো ক্লাসে চাপা হাসির শব্দ উঠলো।
ইরার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেল।
মিরা মুখ চেপে হাসছে।
ইরা কাঁপা গলায় বলল—
—জি স্যার... তবে ব্যাপারটা আসলে...
আয়ান থামিয়ে দিয়ে বললেন—
—ব্যাপারটা আমি জানি। আপনি দৌড়ে এসে আমার সাথে ধাক্কা খেয়েছিলেন, তারপর আমাকে রাস্তার বাঁদর, হারামজাদা এবং আরো কয়েকটি সুন্দর উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
পুরো ক্লাস এবার হেসে উঠলো। 
ইরা মনে মনে বলল—
—হায় আল্লাহ! মাটির নিচে যদি এখন একটা গর্ত থাকতো, আমি ওইখানেই ঢুকে যেতাম! 😭
আয়ান শান্ত গলায় বললেন—
—তাহলে আজকের ক্লাস শুরু করার আগে একটা প্রশ্ন।
ইরা ভয়ে বলল—
—জি স্যার?
—আপনি কি সব শিক্ষকের সাথেই এভাবে পরিচিত হন?
ক্লাসে আবার হাসির রোল পড়ে গেল।
ইরা মাথা নিচু করে বলল—
—না স্যার... শুধু যাদের সাথে প্রথম দেখাতেই ধাক্কা লাগে তাদের সাথে। 🥲
কথাটা মুখ দিয়ে বের হওয়ার সাথে সাথেই ইরা নিজের মুখ চেপে ধরলো।
—ধুররর! আবার বলে ফেললাম! 😭
মিরা বেঞ্চের নিচে মাথা লুকিয়ে হাসছে।
আয়ান কয়েক সেকেন্ড ইরার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটিয়ে বললেন—
—বসুন। আর আজকের ক্লাসে আশা করি আপনার মুখটা আপনার মস্তিষ্কের চেয়ে একটু কম দ্রুত চলবে।
ইরা ধপ করে বেঞ্চে বসে পড়লো।
মিরা কানে কানে বলল—
—শেষ! তোর কপালে আজকে কেল্লা ফতে! 
ইরা দাঁত কিড়মিড় করে বলল—
—চুপ কর! আজকে বাসায় গিয়ে আমি কান্না করবো। 😭
আর ঠিক তখনই আয়ানের গম্ভীর কণ্ঠে পুরো ক্লাস আবার চুপ হয়ে গেল—
           To be continue everyone 😭🖤

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন