ফন্ট সাইজ:
থিম:
এই অবেলায় তুমি

২য় পর্ব

লেখক: Sabiha sultana sova
#এই #অবেলায় #তুমি 

#সাবিহা_সুলতানা_সোভা 

         অনুমতি ব্যতীত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 👺🤟🏻

________________________________________________________
আয়ানের গম্ভীর কণ্ঠে পুরো ক্লাস আবার চুপ হয়ে গেল।
আয়ান বোর্ডের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। কালো-সাদা ফরমাল শার্ট-প্যান্টের ওপর পরা কালো কোটটা তাকে আরও গম্ভীর করে তুলেছে। ফর্সা মুখে দাড়ির ছিটেফোঁটাও নেই। ছয় ফুট দুই ইঞ্চি লম্বা মানুষটির বাদামি রঙের একজোড়া তীক্ষ্ণ চোখ যেন মুহূর্তেই পুরো ক্লাসটা পরখ করে নিল। বাম হাতের ঘড়িটা একবার ঠিক করে নিয়ে তিনি চকটা হাতে তুলে নিলেন।
কপাল ছুঁয়ে থাকা কিছু অবাধ্য চুল বাতাসে সামান্য নড়ে উঠল।
ক্লাসের কয়েকজন মেয়ে তো প্রথম দেখাতেই একেবারে টাস্কি খেয়ে বসে আছে। কেউ ফিসফিস করছে, কেউ আবার লুকিয়ে লুকিয়ে আয়ানের দিকে তাকাচ্ছে।
তবে এসবের মধ্যে একজন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।
ইরা!
তার কাছে এই মানুষটাকে কেন জানি প্রথম দেখাতেই ভীষণ তেতো মনে হয়েছে। সকালে ধাক্কা খাওয়ার ঘটনাটা তো এখনো তার মাথা থেকে বের হয়নি।
ইরা বেঞ্চে বসে জানালার দিকে তাকিয়ে আনমনে কলম ঘুরাচ্ছিল।
আয়ান বোর্ডে একটা সমীকরণ লিখে হঠাৎ ঘুরে তাকালেন।
—আজকে আমরা ফিজিক্সের একটা গুরুত্বপূর্ণ টপিক পড়ব। সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনবে।
ইরা তখনও নিজের চিন্তায় ডুবে আছে।
মিরা কনুই দিয়ে ইরার হাতে হালকা ধাক্কা দিয়ে ফিসফিস করে বলল—
—এই শালী, স্যার পড়াচ্ছে!
ইরা বিরক্ত মুখে বলল—
—পড়াক না! আমার কী? আমি তো শুনতেছি। 
—তুই তো জানালার সাথে প্রেম করতেছিস!
—চুপ কর তো!
মিরা মুখ চেপে হাসল।
ঠিক তখনই আয়ানের কণ্ঠ শোনা গেল—
—পেছনের বেঞ্চের ওই ছাত্রী।
ইরার বুক ধক করে উঠল।
সে ধীরে ধীরে মাথা তুলল।
—জি... স্যার?
আয়ান তার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললেন—
—বোর্ডে যে সমস্যাটা লিখেছি, সেটার উত্তর বলুন।
ইরা বোর্ডের দিকে তাকিয়ে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর বোকার মতো বলল—
—জি স্যার... উত্তরটা...
মাথার ভেতর যেন হঠাৎ শূন্য হয়ে গেল।
সে পাশ থেকে মিরার দিকে তাকাল। মিরা নিজেই কিছু বুঝতে না পেরে অসহায় মুখ করে বসে আছে।
ইরা আবার বোর্ডের দিকে তাকিয়ে বলল—
—স্যার... এইটা আসলে খুব সহজ ছিল। কিন্তু আজকে আমার মাথাটা একটু...
আয়ান ভ্রু কুঁচকে বললেন—
—মাথাটা কী?
ইরা অসহায় গলায় বলল—
—একটু ছুটিতে গেছে স্যার। 🥲
পুরো ক্লাসে হাসির রোল পড়ে গেল।
আয়ানের মুখ গম্ভীরই রইল।
—খুব মজার কথা বলেন আপনি।
ইরা মাথা নিচু করে ফেলল।
—সরি স্যার।
আয়ান কয়েক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন—
—আপনি কি ফিজিক্স পড়তে আগ্রহী নন?
ইরা আস্তে করে বলল—
—আগ্রহ আছে স্যার... কিন্তু ফিজিক্সের আমার প্রতি কোনো আগ্রহ নেই।
আবারও কয়েকজন হেসে উঠল।
আয়ান এবার চোখ সরু করে তাকালেন।
—আপনার কথাবার্তা দেখে মনে হচ্ছে আপনার মেধার চেয়ে আপনার আত্মবিশ্বাসটাই বেশি।
ইরা মুখ বাঁকিয়ে চুপ করে রইল।
আয়ান বোর্ডের দিকে ফিরে বললেন—
—বসুন। আর পরেরবার ক্লাসে অমনোযোগী হয়ে বসে থাকবেন না। ফিজিক্স মুখস্থ করার বিষয় নয়, বুঝে পড়তে হয়।
ইরা ধপ করে বেঞ্চে বসে মিরার কানে ফিসফিস করে বলল—
—লোকটা আমাকে দেখলেই কেন বকা দেয় বল তো?
মিরা মুখ চেপে হাসতে হাসতে বলল—
—কারণ তুই মানুষটাকে প্রথম দিনেই বাঁদর থেকে শুরু করে হারামজাদা পর্যন্ত বানিয়ে ফেলছিস! 
ইরা দাঁত কিড়মিড় করে বলল—
—চুপ কর শাকচুন্নি! তোর জন্যই আমার কোনো শান্তি নাই।
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আয়ান কিন্তু তাদের কথোপকথনের কিছুটা শুনে ফেলেছেন।
ঠোঁটের কোণে অতি সামান্য হাসি ফুটে উঠলেও মুহূর্তেই সেটা মিলিয়ে গেল।
তিনি আবার বোর্ডের দিকে তাকিয়ে বললেন—
—চলুন, এবার দেখি আজকের ক্লাসে কে আসলে মনোযোগ দিয়ে পড়ছে।
ইরার মুখ মুহূর্তেই শুকিয়ে গেল।
—হায় আল্লাহ... আজকেও মনে হয় আমার কপালে শান্তি নাই!
আয়ান আবারও বোর্ডের দিকে তাকিয়ে কয়েকটি কঠিন সমীকরণ লিখলেন। তারপর ধীরে ধীরে ক্লাসের দিকে ফিরে তাকালেন।
—আচ্ছা, এবার দেখি কে উত্তর দিতে পারে।
তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি একবার পুরো ক্লাস ঘুরে এসে আবার থেমে গেল ইরার ওপর।
ইরা তখন খাতার পাতায় অকারণে আঁকিবুঁকি কাটছে।
আয়ানের কপালে বিরক্তির ভাঁজ পড়ল।
—এই মেয়ে!
ইরা চমকে উঠে দাঁড়িয়ে গেল।
—জি স্যার! 
—আপনি কি ক্লাসে পড়তে এসেছেন, নাকি খাতায় ছবি আঁকতে?
ইরা খাতার দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলল—
—না স্যার... আমি তো আসলে—
আয়ান কথার মাঝেই থামিয়ে দিলেন।
—কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। এতক্ষণ ধরে আমি পড়াচ্ছি, আর আপনি একবারও ঠিকমতো বোর্ডের দিকে তাকাননি।
ইরা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।
আয়ান এবার একটু রুড গলায় বললেন—
—এই মেয়ে, তুমি কি ক্লাসে ঘোড়ার ঘাস কাটতে এসেছ?
কথাটা শুনে ইরা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর অবাক হয়ে নিজের দিকেই তাকিয়ে বলল—
—হায় আল্লাহ! আমি কেন ঘোড়ার ঘাস কাটবো? 
পুরো ক্লাসে হাসির রোল পড়ে গেল।
মিরা তো হাসতে হাসতে বেঞ্চের ওপর মাথা রেখে দিয়েছে।
আয়ান কয়েক মুহূর্ত ইরার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।
—আমি কি আপনার সাথে মজা করছি?
ইরা সঙ্গে সঙ্গে মুখ বন্ধ করে ফেলল।
—না স্যার। 🥲
—তাহলে এত কথা কেন?
—স্যার... আপনি প্রশ্ন করেন, আমি উত্তর দিই। 
আয়ানের চোখ আরও কুঁচকে গেল।
—আপনার উত্তর দেওয়ার ধরনটাই সমস্যা। আমি যেটা জিজ্ঞেস করছি, শুধু সেটার উত্তর দেবেন। নিজের থেকে অতিরিক্ত জ্ঞান দেখানোর দরকার নেই।
ইরা মাথা নিচু করে বলল—
—জি স্যার।
—আর এখন বোর্ডে আসুন।
ইরা ভয়ে ভয়ে সামনে এগিয়ে গেল।
আয়ান চকটা তার হাতে দিয়ে বললেন—
—এই সমস্যাটা সমাধান করুন।
ইরা বোর্ডের দিকে তাকিয়ে রইল।
এক মিনিট...
দুই মিনিট...
তারপর খুব আস্তে করে বলল—
—স্যার...
—কী?
—আমি যদি বলি পারছি না?
আয়ান ঠান্ডা গলায় বললেন—
—তাহলে বলব, আপনি ক্লাসে মনোযোগ দেননি।
ইরা মুখ বাঁকিয়ে বলল—
—জি স্যার, ঠিকই ধরেছেন। 🥲
আয়ান বিরক্ত হয়ে চোখ বন্ধ করে একবার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
—হায় আল্লাহ...
মিরা নিচ থেকে ফিসফিস করে বলল—
—তুই শেষ! 
ইরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই মনে মনে বলল—
—এই মানুষটার ক্লাসে পড়াশোনা করার চেয়ে বকা খাওয়ার কোর্স করাই মনে হয় সহজ। 🙂
______________________________________________________
ইরা মিরার থেকে বিদায় নিয়ে রিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। সারাটা পথ আজকের ফিজিক্স ক্লাসের কথা ভাবতে ভাবতেই কখন যে বাড়ির সামনে এসে পৌঁছেছে, সে নিজেও টের পায়নি।
বাড়ির সামনে এসে রিকশা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে ইরা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেল চাপল।
ত্রিং……
কলিং বেলের শব্দে ভেতর থেকে তাহমিদা বেগম তাড়াহুড়ো করে দরজার কাছে ছুটে এলেন। দরজা খুলতেই সামনে ইরাকে দেখে মুহূর্তেই তার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। বিরক্তিতে মুখটা কুঁচকে গেল তার।
ইরা মায়াভরা চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল—
—মা, কেমন আছো?
তাহমিদা বেগম কোনো উত্তর দিলেন না। শুধু একবার বিরক্ত চোখে ইরার দিকে তাকিয়ে আবার রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন।
ইরা দরজার সামনে দাঁড়িয়েই কিছুক্ষণ মায়ের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
মেয়েটার মুখের হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
প্রতিদিনের মতো আজও একই দৃশ্য।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইরা নিজের ব্যাগটা কাঁধ থেকে নামিয়ে আস্তে করে ঘরের ভেতরে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দিল।
ইরার মায়ের মনে মেয়েটার জন্য কেন এতটা দূরত্ব—তার কোনো কারণ ইরা কখনো জানতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই তাহমিদা বেগম যেন ইরাকে নিজের সন্তান হিসেবেই মেনে নিতে পারেননি। অথচ ইরার ছোট ভাই তানজিম ছিল তার চোখের মণি।
ইরা ঘরে ঢুকতেই ছোট্ট তানজিম দৌড়ে এসে তার সামনে দাঁড়াল।
—আপু, আমার জন্য চকলেট এনেছো?
ইরা মুচকি হেসে ব্যাগ থেকে একটা চকলেট বের করে তানজিমের হাতে দিয়ে বলল—
—এই নে পেটুক! তোর জন্যই তো এনেছি।
চকলেট পেয়ে তানজিমের মুখটা আনন্দে ঝলমল করে উঠল।
—ইয়ে! আমার আপু সেরা! 🥹
ইরা হেসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।
তানজিম তার মাকে খুব ভালোবাসত। কিন্তু তার মায়ের একটা বিষয় নিয়ে ছোট্ট ছেলেটার মনে বড্ড অভিযোগ ছিল—তার মায়ের কাছে ইরার সঙ্গে তানজিমকে বেশিক্ষণ একসাথে থাকতে দেওয়া হতো না।
মাঝেমধ্যে তানজিম অভিমান করে বলত—
—আম্মু, আমি আপুর সাথে একটু থাকলে তোমার কী হয়?
তাহমিদা বেগম তখন কোনো উত্তর না দিয়ে তাকে নিজের কাছে নিয়ে নিতেন।
ইরা এসব দেখত, কিন্তু কিছু বলত না।
মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই চঞ্চল আর বাচাল। মুখে যা আসে তাই বলে ফেলার স্বভাব তার। কিন্তু মায়ের সামনে এসে সেই চঞ্চল ইরাটাই যেন কেমন চুপ হয়ে যেত।
কারণ, মায়ের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য তার ভেতরে ছোট্ট একটা ইচ্ছে সবসময়ই ছিল।
তবে সেই ইচ্ছেটা প্রকাশ করার সাহস কখনো হয়নি।
ছোটবেলায় যখন তাহমিদা বেগম তানজিমকে ফোনে খাইয়ে দিতেন, ঘুম পাড়াতেন, তখন দূরে দাঁড়িয়ে ইরা চুপচাপ তাকিয়ে থাকত।
তারও মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করত মায়ের কাছে গিয়ে একটু আবদার করতে।
‘মা, আমাকেও একটু খাইয়ে দাও।’
‘মা, আজকে আমার পাশে ঘুমাবে?’
কত কথাই যে তার মনে আসত!
কিন্তু বলা হতো না।
ভয় হতো।
যদি মা বিরক্ত হন?
যদি তাকে ধমক দিয়ে সরিয়ে দেন?
তাই ছোট্ট ইরা নিজের সব আবদার নিজের বুকের ভেতরেই লুকিয়ে রাখত।
অবশ্য ইরার জীবনে ভালোবাসার মানুষ ছিল।
তার বাবা আসিফ খান এবং দাদা রহমতুল্লাহ খান ইরাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। তাদের ভালোবাসাতেই হয়তো মেয়েটা নিজের অভাবগুলো কিছুটা ভুলে থাকতে পারত।
আর তাই হয়তো বাইরে সবার সঙ্গে এত চঞ্চল, এত বাচাল ইরা—কিন্তু মায়ের সামনে এলেই সে অদ্ভুতভাবে নীরব হয়ে যেত।
______________________________________________________
মিরা নিজের ঘরে একা কুলুপ এঁটে বসে ছিল। তার মা আর অজাত ভাই প্রায়ই তাকে একা বাসায় রেখে খালামনিদের বাসায় চলে যায়। একা একা থাকতে মিরার একদমই ভালো লাগে না। বিরক্ত হয়ে শেষমেশ সে ইরাকে কল দিল।
একবার রিং হতেই ইরা ফোনটা ধরে ফেলল।
—হ্যালো বেবি, কী করস?
—কিছু না রে, এমনি বইসা আছি। তুই কী করস?
—আমিও তো বইসা আছি। সারাদিন পড়াশোনা করতে করতে জান শেষ!
মিরা হেসে বলল—
—তুই আবার পড়াশোনা করস কবে থেকে?
—এই তো শুরু করলাম। কালকে টেস্ট আছে না!
হঠাৎ ইরা যেন কিছু মনে পড়তেই বলে উঠল—
—ওই বেবি, কালকে না আমাদের টেস্ট?
—হ, আমার পরানের বালতুনি! ধুর, এই প্যারা কথা কইস না। ভালো লাগে না!
ইরা এবার একটু গম্ভীর হয়ে বলল—
—যাই হোক, কালকে ভালো রেজাল্ট করতেই হবে।
ইরার কথায় মিরার হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে আস্তে করে বলল—
—আবারও কি তুই তোর আম্মুকে ইমপ্রেস করতে চাসস?
কথাটা শুনে ইরা কিছুক্ষণ নীরব হয়ে রইল।
তারপর না চাইতেও চোখের কার্নিশে দু-ফোঁটা অশ্রু জমে উঠল। ভরাট কণ্ঠে বলল—
—এ ছাড়া উপায় কী বল?
মিরা চুপ করে রইল।
ইরা এবার যেন মিরার কাছে নিজের মনের জমে থাকা অভিমানগুলো উজাড় করে দিতে লাগল—
—কিন্তু জানিস, আম্মু না আমার এক্সামের রেজাল্ট দেখেই না। শুধু দাদাজান দেখে। বাবা মাঝে মাঝে দেখে। আমি কত ভালো রেজাল্ট করি, কত কষ্ট করে পড়ি... আম্মুর যেন কিছুতেই যায় আসে না।
শেষ কথাগুলো বলতে বলতে ইরার গলা ভারী হয়ে এলো।
মিরা যেন কী বলবে বুঝতে পারছিল না। কিছুক্ষণ চুপ থেকে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করল—
—আচ্ছা বেবি, কান্না করিস না। শুন, তোর জন্য কালকে চকলেট আনব। এবার কান্নাটা বন্ধ কর, মেরি মা।
ইরা এতক্ষণ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল। মিরার কথা শুনে হঠাৎ ফিক করে হেসে ফেলল।
—তুই একটা আস্ত পাগল!
—হ, জানি। এখন কান্না বন্ধ কর।
—আচ্ছা।
কিছুক্ষণ পর দুজনের কথা শেষ হলো। মিরা ফোন কেটে পড়তে বসে গেল।
ইরাও ফোনটা পাশে রেখে আবার নিজের নোটস নিয়ে বসে পড়ল।
তবে ইরা জানত না, এতক্ষণ ফোনে মিরার কাছে করা তার প্রতিটি অভিযোগ আড়াল থেকে তার বাবা আসিফ খান শুনেছেন।
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আসিফ খান কিছুক্ষণ নিশ্চুপ রইলেন।
মেয়ের কণ্ঠের অভিমানগুলো যেন তার বুকের কোথাও গিয়ে বিঁধল।
তিনি ধীরে করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
তারপর কোনো শব্দ না করে নিজের কক্ষের দিকে চলে গেলেন।
             To be continue everyone 😾🤟🏻

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন