ফন্ট সাইজ:
থিম:
এই অবেলায় তুমি

৩য় পর্ব

লেখক: Sabiha sultana sova
#এই #অবেলায় #তুমি 
#সাবিহা #সুলতানা# সোভা 
      অনুমতি ব্যতীত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 👺🤟🏻
______________________________________________________

তাহমিদা খান তখন নিজের ঘর গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন। আলমারির কাপড়গুলো একটার পর একটা গুছিয়ে রাখছিলেন তিনি। এমন সময় দরজার কাছে এসে দাঁড়ালেন আসিফ খান।

কিছুক্ষণ স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থেকে গম্ভীর কণ্ঠে ডাকলেন—
—তাহমিদা।
তাহমিদা খান পেছনে ফিরে তাকালেন।
—কী?
আসিফ খান ধীর গলায় বললেন—
—এদিকে এসো। তোমার সাথে আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।
তাহমিদা খান কিছুটা বিরক্ত মুখে কাজ থামিয়ে তার পাশে এসে বসলেন।
—বলো, কী কথা?
আসিফ খান কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে বললেন—
—ইরার সাথে সব ঠিক করো, তাহমিদা।
তাহমিদা খান ভ্রু কুঁচকে তাকালেন।
—আবার শুরু করলে?
—হ্যাঁ, আবারও বলছি। কারণ প্রতিদিন তোমার আচরণ দেখে মনে হয়, তুমি ভুলে গেছ ইরা তোমার মেয়ে।
তাহমিদা খান ঠান্ডা হেসে বললেন—
—মেয়ে হলেই কি তাকে মাথায় তুলে রাখতে হবে?
—মাথায় তুলে রাখতে বলছি না। শুধু একটু ভালোবাসতে বলছি।
—আমি যাকে ভালোবাসতে চাই না, তাকে জোর করে ভালোবাসতে পারব না, আসিফ।
আসিফ খান স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলেন।
—নিজের মেয়েকে নিয়ে তুমি এভাবে কথা বলতে পারলে?
তাহমিদা খান বিরক্ত হয়ে বললেন—
—হ্যাঁ, পারলাম। কারণ তুমি জানো না, ওর কারণে আমাকে কত কিছু সহ্য করতে হয়েছে।
—কী সহ্য করেছ?
—সেটা তোমাকে বলতে হবে না।
—তাহলে ইরাকে কেন তার জন্য শাস্তি দিচ্ছ?
তাহমিদা খান এবার কঠিন গলায় বললেন—
—কারণ সবকিছু এত সহজ নয়। তুমি শুধু বাইরে থেকে দেখছ একটা চঞ্চল মেয়ে, যে সারাদিন পকপক করে বেড়ায়। কিন্তু আমি জানি ওকে দেখলে আমার ভেতরে কী হয়।
আসিফ খান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন—
—তাহলে বলো। কী হয়?
তাহমিদা খান মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
—ঘৃণা হয়।
কথাটা শুনে আসিফ খান যেন কিছুক্ষণের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন।
—তাহমিদা...
—হ্যাঁ, ঘৃণা হয়। আর এই সত্যিটা আমি লুকিয়ে রাখতে চাই না।
আসিফ খান গম্ভীর হয়ে বললেন—
—তুমি জানো, এই কথাগুলো যদি ইরা শুনত—
—শুনলে শুনুক।
—সে তোমার মেয়ে!
—জানি। প্রতিদিন নিজেকে মনে করিয়ে দিই।
—তাহলে?
তাহমিদা খান এবার একটু তীক্ষ্ণ স্বরে বললেন—
—তাহলে কী? আমি কি নিজের অনুভূতিকে মিথ্যা বানাব? ওকে দেখলেই আমার সেই দিনের কথা মনে পড়ে। সেই ঘটনার পর থেকে আমার জীবন আর আগের মতো ছিল না। আমি চেষ্টা করেছি, আসিফ। অনেকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি।
আসিফ খান ধীরে বললেন—
—ঘটনাটা ইরার জন্মের পরের। সে তখন কিছুই বোঝার বয়সে ছিল না।
—আমি জানি!
—তাহলে?
—তবুও আমি পারিনি!
তাহমিদার কণ্ঠ এবার কেঁপে উঠল।
—তুমি জানো না, কত রাত আমি একা কেঁদেছি। আর আজ সবাই এসে আমাকে বলে, ‘ইরাকে ভালোবাসো।’ যেন এত সহজ!
আসিফ খান শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বললেন—
—তোমার কষ্ট আমি অস্বীকার করছি না। কিন্তু ইরার ওপর তার বোঝা চাপিয়ে দেওয়াটা অন্যায়।
তাহমিদা খান তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললেন—
—ইরা তো ভালোই আছে। তোমার আদর আছে, তার দাদাজানের আদর আছে। তাকে নিয়ে এত চিন্তা করার কী আছে?
—মায়ের ভালোবাসার অভাবটা কি তুমি কখনো বুঝবে না?
—সবাই সবকিছু পায় না, আসিফ।
আসিফ খান স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ধীরে বললেন—
—তুমি কি জানো, ইরা আজও তোমার কাছ থেকে একটা ভালো কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করে?
তাহমিদা খান কোনো উত্তর দিলেন না।
—আজ সে মিরাকে বলছিল, তুমি তার পরীক্ষার রেজাল্ট পর্যন্ত দেখো না। সে কত ভালো করার চেষ্টা করে শুধু তোমাকে একবার খুশি করার জন্য।
তাহমিদা খান এবার বিরক্ত হয়ে বললেন—
—আমাকে খুশি করার জন্য পড়তে বলিনি তো!
আসিফ খান কষ্টভরা চোখে তাকালেন।
—কিন্তু সে নিজের মায়ের ভালোবাসা পাওয়ার জন্যই করছে।
তাহমিদা খান চুপ করে রইলেন।
আসিফ খান এবার উঠে দাঁড়ালেন।
দরজার কাছে গিয়ে থেমে ফিরে তাকালেন।
—তাহমিদা, অতীত তোমাকে কষ্ট দিয়েছে, সেটা আমি জানি। কিন্তু সেই অতীতের জন্য বর্তমানের একটা নিষ্পাপ মেয়েকে শাস্তি দিও না।
তাহমিদা খান মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
আসিফ খান এবার কঠিন গলায় বললেন—
—আর একটা কথা মনে রেখো, ইরাকে তুমি যতই দূরে ঠেলে দাও না কেন, ওর কোনো দোষ নেই। তুমি ওকে ভালোবাসতে পারছ না, সেটা তোমার দুর্বলতা। ইরার অপরাধ নয়।
তাহমিদা খান চুপ।
আসিফ খান তিক্ত হেসে বললেন—
—তুমি তো মিথেতে অন্ধ হয়ে আছো, তাহমিদা। তারপরও তোমার জন্য আয়না কিনে দিয়েছি—যেন কোনো একদিন নিজের মুখটা নয়, নিজের আচরণটাও দেখতে পারো।
কথাটা বলে আসিফ খান আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালেন না।
গম্ভীর মুখে ঘর থেকে বেরিয়ে পাশের ওয়াশরুমের দিকে চলে গেলেন।
তাহমিদা খান একা বসে রইলেন।
তার চোখের সামনে ভেসে উঠল বহু বছর আগের সেই দিন।
ইরার জন্মের পর ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা—যে ঘটনার কথা আজও তিনি কাউকে পুরোপুরি বলেননি।
সেই দিনের স্মৃতি আজও তার ভেতরে জীবন্ত।
আর সেই কারণেই নিজের মেয়েকে ভালোবাসতে চেয়েও পারেননি তিনি।
কিন্তু ইরা জানে না সেই সত্য।
সে শুধু জানে, তার মা তাকে ভালোবাসে না।
রাত প্রায় দশটা।
______________________________________________________
খান বাড়ির সবাই রাতের খাবার খেতে বসেছে। রান্নাঘর থেকে মুরগির মাংস আর পোলাওয়ের সুন্দর একটা ঘ্রাণ পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে আছে। আজ তাহমিদা খান নিজের হাতেই রান্না করেছেন।
ইরা ধীরে ধীরে নিচে নেমে এসে সবার সাথে খাবার টেবিলে বসলো।
তাহমিদা খান তানজিমের প্লেটে একটা মুরগির লেগ পিস তুলে দিয়ে বললেন—
—এই নে বাবা, তোর পছন্দের লেগ পিস।
তানজিম খুশি হয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
এরপর তাহমিদা খান ইরার প্লেটে একটা সাধারণ পিস তুলে দিলেন।
—নাও।
ইরা কিছু বলল না। শুধু মৃদু মাথা নেড়ে নিজের প্লেটের দিকে তাকিয়ে রইল।
এই বয়সে এসে ইরা অনেকটাই বুঝতে শিখেছে। ছোটবেলার সেই ইরা আর নেই, যে মায়ের প্রতিটা আচরণের ভেতর ভালোবাসা খুঁজে বেড়াত। এখন সে বুঝতে পারে, তার মা কেন তার সাথে এমন ব্যবহার করেন।
তবুও...
মায়ের কাছে তো মন আর হিসাব বোঝে না।
তানজিমকে যখন মায়ের হাত থেকে লেগ পিস নিতে দেখল, তখন ইরার বুকের ভেতর কোথাও যেন হালকা একটা চিনচিনে ব্যথা হলো।
ইচ্ছে করল বলবে—
‘আম্মু, আমাকেও একটা লেগ পিস দাও না।’
খুব সাধারণ একটা আবদার।
কিন্তু কথাটা ঠোঁট পর্যন্ত এসেও আটকে গেল।
ইরার মনে হলো, মায়ের কাছে আবদার করার অধিকারটাই যেন সে হারিয়ে ফেলেছে।
ছোটবেলায়ও তার এমনই হতো। তানজিম যখন মায়ের কোলে মাথা রেখে খেত, ইরা দূর থেকে তাকিয়ে থাকত। তারও ইচ্ছে করত মায়ের কাছে গিয়ে বসতে। ইচ্ছে করত বলবে, ‘আম্মু, আমাকেও একটু খাইয়ে দাও।’
কিন্তু সে কখনো বলেনি।
কেন বলেনি, সেটা হয়তো সে নিজেও জানে না।
হয়তো ভয় পেত।
হয়তো মায়ের বিরক্ত মুখটা দেখার সাহস ছিল না।
অথবা হয়তো ছোট্ট ইরা তখনই বুঝে গিয়েছিল—কিছু কিছু মানুষকে খুব কাছে থেকেও ছোঁয়া যায় না।
আজ এত বছর পরেও সেই দূরত্বটা রয়ে গেছে।
চোখের সামনে বসে থাকা মানুষটা তার মা, অথচ তার কাছেই নিজের ছোট্ট একটা আবদার করতে ইরার বুক কেঁপে ওঠে।
তাই সে চুপচাপ খাবার মুখে তুলতে লাগল।
মাঝে একবার আড়চোখে মায়ের দিকে তাকাল।
তাহমিদা খান তখন তানজিমের প্লেটে আরেকটু পোলাও তুলে দিচ্ছেন।
ইরা সঙ্গে সঙ্গে চোখ নামিয়ে নিল।
মুখে কোনো অভিমান নেই, কোনো অভিযোগও নেই।
শুধু বুকের ভেতর খুব ছোট্ট একটা ইচ্ছে আবারও চুপ করে মরে গেল।
_________________________________________________________খাওয়া শেষ করে ইরা আর নিচে থাকল না। চুপচাপ নিজের রুমে চলে এলো। দরজাটা বন্ধ করে বিছানায় বসতেই কেমন একটা ভারী অনুভূতি তাকে ঘিরে ধরল।
কেন জানি আজ কিছুই ভালো লাগছে না।
বারবার মায়ের মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে। তানজিমের প্লেটে মায়ের হাতে তুলে দেওয়া লেগ পিসটা, তানজিমের হাসি—সবকিছু কেমন যেন বুকের ভেতরটা খালি করে দিচ্ছে।
ইরা বিছানায় বসে হাঁটুর ওপর মুখ রেখে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। এতক্ষণ নিজেকে শক্ত রাখলেও এখন আর পারছে না। চোখ দুটো জ্বালা করছে। মনে হচ্ছে, একটু পরেই কান্নায় ভেঙে পড়বে।
হঠাৎ তার মিরার কথা মনে পড়ল।
এই মেয়েটাই তো তার সব কথা শুনে। ভালো-মন্দ, হাসি-কান্না—সবকিছু।
ইরা ফোনটা হাতে নিয়ে মিরাকে কল দিল।
একবার রিং হতেই ওপাশ থেকে কলটা রিসিভ হলো।
—উম বেবি, কী হয়েছে? হঠাৎ এই সময় কল করলি যে?
মিরার কণ্ঠ শুনেই ইরার বুকটা কেমন করে উঠল।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে আস্তে করে বলল—
—ভালো লাগছে না রে... অনেক কান্না পাচ্ছে।
ওপাশে মুহূর্তের জন্য নীরবতা নেমে এলো।
মিরা এবার চিন্তিত গলায় বলল—
—কী হয়েছে? বল আমায়। একা একা কাঁদিস না।
ইরা ঠোঁট চেপে ধরল। চোখের কোণে জমে থাকা পানিটা আর আটকে রাখতে পারল না।
এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল গাল বেয়ে।
—কিছু না রে...
—কিছু না হলে তোর গলা এমন শোনায়? বল কী হয়েছে।
ইরা উত্তর দিল না।
শুধু নিঃশব্দে কাঁদতে লাগল।
মিরা বুঝতে পারল, আজ ইরার মনটা সত্যিই ভীষণ খারাপ। তাই আর জোর করল না। বরং ইরাকে হাসানোর জন্য নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলল—
—আচ্ছা, কান্না করিস না। কালকে তোর জন্য কলেজে গিটার নিয়ে আসব। আমরা বসে গান গাইব।
ইরা কান্নার মাঝেই একটু থেমে গেল।
—সত্যি?
—হ্যাঁ, সত্যি। তুই গাইবি, আমি গিটার বাজাব। তোর ওই সুন্দর গলায় গান শুনলে হয়তো আমারই মন ভালো হয়ে যাবে।
ইরার ঠোঁটের কোণে খুব ছোট্ট একটা হাসি ফুটে উঠল।
গান ইরার খুব প্রিয়। আর তার গলার স্বরটাও অদ্ভুত সুন্দর। মন খারাপের সময় গানই যেন তার নিজের কাছ থেকে একটু দূরে পালিয়ে যাওয়ার পথ।
মিরা আবার বলল—
—শুনছিস? কালকে কিন্তু কোনো বাহানা চলবে না। গিটার নিয়ে আসবই। তুই গান ধরবি, আর আমি গিটার বাজিয়ে তোর সাথে গলা মেলাব।
ইরা এবার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে হেসে ফেলল।
—তুই একটা পাগল।
—হ্যাঁ, তোর পাগল। এখন কান্না বন্ধ কর।
ইরা চোখের পানি হাতের পিঠ দিয়ে মুছে নিল। তারপর একটু আদুরে গলায় বলল—
—আচ্ছা বেবি... কিন্তু আমার জন্য চকলেটও আনবি।
মিরা ফোনের ওপাশ থেকে হেসে একটা চুমুর শব্দ করে বলল—
—আনব রে পাগলি। তোর জন্য চকলেট আনব না, তা কি হয়?
ইরা এবার আর নিজেকে আটকাতে পারল না। ফিক করে হেসে ফেলল।
কিছুক্ষণ আগেও যে বুকটা কান্নায় ভারী হয়ে ছিল, মিরার কয়েকটা কথাতেই যেন সেখানে একটু বাতাস ঢুকল।
মিরা হয়তো ইরার সব কষ্ট দূর করতে পারে না।
তার মায়ের অভাবটাও পূরণ করতে পারে না।
কিন্তু মিরা জানে, কখন ইরাকে কথা বলতে দিতে হয় আর কখন শুধু পাশে থেকে তাকে হাসাতে হয়।
আর ইরার কাছে এইটুকুই অনেক।
কারণ পৃথিবীতে সবাই আপন না হলেও, একজন মানুষ যদি মন খারাপের সময় সত্যি করে বলে—‘আমি আছি’—তাহলে সেই একটুকু উপস্থিতিও কখনো কখনো অনেক বড় হয়ে যায়।
_________________________________________________________
ইরা ফোন রেখে ওয়াশরুমে চলে গেল। মিরার সাথে কথা বলার পর মনটা আগের চেয়ে কিছুটা হালকা লাগছিল। মুখে পানি দিয়ে ভালো করে ফ্রেশ হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের দিকে তাকাল। কান্নার কারণে চোখ দুটো এখনো একটু লাল হয়ে আছে। ইরা চুলগুলো ঠিক করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
—আজকে দিনটাই কেমন গেল!
নিজের মনেই কথাটা বলে সে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো।
রুমে ঢুকতেই হঠাৎ ফোনে নোটিফিকেশনের শব্দ হলো।
ইরা বিছানার দিকে তাকিয়ে ফোনটা হাতে নিল। স্ক্রিনে ফেসবুকের নোটিফিকেশন দেখে স্বাভাবিকভাবেই সেটায় চাপ দিল।
People You May Know
নিচে একটা নাম দেখে ইরার ভ্রু কুঁচকে গেল।
Abraham Ayan Chowdhury
নামটা পরিচিত মনে হলো তার।
ইরা কয়েক সেকেন্ড নামটার দিকে তাকিয়ে থেকে আস্তে করে পড়ল,
—আব্রাহাম আয়ান চৌধুরী...
হঠাৎ মনে পড়তেই তার চোখ বড় হয়ে গেল।
—আরে, এ তো আমাদের আয়ান স্যার!
কৌতূহল থেকেই প্রোফাইলটায় ঢুকে গেল ইরা।
প্রোফাইলের ছবিটা দেখেই সে একটু থমকে গেল। ক্লাসে আয়ান স্যারকে সবসময় ফরমাল পোশাকেই দেখে এসেছে। ছবিতে অবশ্য পোশাকটা ক্যাজুয়াল—কালো টি-শার্টের সঙ্গে একটা জ্যাকেট। চুলগুলোও একটু এলোমেলো। ছবিটা দেখে প্রথমে চিনতে সামান্য সময় লাগলেও এরপর আর কোনো সন্দেহ রইল না।
ইরা হেসে বলল,
—সত্যিই তো স্যার।
ক্লাসের কথা মনে পড়তেই তার হাসি পেল। লোকটা ক্লাসে এমন গম্ভীর হয়ে থাকেন যে মনে হয়, ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলাটাও তার কাছে একটা ঝামেলার কাজ।
ইরা প্রোফাইলের নিচে স্ক্রল করতে লাগল।
কিছুক্ষণ পর হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল ফলোয়ারের সংখ্যায়।
—এত ফলোয়ার!
সে সংখ্যাটা আবার ভালো করে দেখল।
—স্যারের এত ফলোয়ার কীভাবে?
কৌতূহলবশত আরও নিচে গেল ইরা। কয়েকটা পোস্টে অনেক রিঅ্যাকশন, কোথাও আবার কয়েকশো কমেন্ট।
ইরা অবাক হয়ে একটা পোস্ট খুলল।
কমেন্টগুলো পড়তে গিয়ে বুঝল, বেশিরভাগই মেয়েদের।
একজন লিখেছে,
—স্যার, এত গম্ভীর হয়ে ছবি দেন কেন?
আরেকজন,
—আয়ান স্যার, আপনাকে ক্লাসে একরকম আর ছবিতে আরেকরকম লাগে।
আরেকজন লিখেছে,
—স্যার, একবার হাসি দিয়ে ছবি দেন।
ইরা কমেন্টগুলো পড়ে হেসে ফেলল।
—মানুষজন দেখি স্যারকে নিয়েও কম যায় না।
আরও কিছু কমেন্ট চোখে পড়ল।
—স্যার, আপনার ফ্যান ফলোয়িং তো দেখি বেশ ভালো।
—এই ছবিটা অনেক সুন্দর হয়েছে।
—স্যার, রিপ্লাই দেন একবার।
ইরা মাথা নেড়ে আবার স্ক্রল করতে লাগল।
হঠাৎ একটা কমেন্ট চোখে পড়ল।
—স্যার, বিয়ে করেছেন?
ইরা এক মুহূর্ত কমেন্টটার দিকে তাকিয়ে থেকে নিচে থাকা রিপ্লাইগুলো পড়ল।
কেউ লিখেছে,
—আমিও জানতে চাই।
আরেকজন,
—স্যার উত্তর দেন না কেন?
ইরা মুচকি হেসে ফোনটা একটু নিচে নামিয়ে বলল,
—মানুষের কৌতূহলও দেখি কম না।
তারপর আবার প্রোফাইলে ঢুকে কয়েকটা পোস্ট দেখল। কোথাও কলেজের কোনো ছবি, কোথাও বন্ধুদের সাথে ছবি, আবার কোথাও একা তোলা ছবি।
ইরার কাছে ব্যাপারটা আসলে বেশ অদ্ভুত লাগছিল। ক্লাসে যে মানুষটাকে সবসময় এত গম্ভীর আর নিয়মকানুনের মধ্যে দেখা যায়, ফেসবুকে তাকে দেখে মনে হচ্ছে তার স্বাভাবিক জীবনটাও বেশ আলাদা।
তবে এসব নিয়ে বেশি ভাবার কোনো কারণও দেখল না ইরা।
সে তো শুধু হঠাৎ ফেসবুকের সাজেশনে স্যারের আইডি পেয়ে কৌতূহল থেকে দেখছিল।
প্রোফাইল থেকে বেরিয়ে ফোনটা বিছানায় রেখে দিল সে।
তারপর নিজের মনে বলল,
—কালকে আবার এই মানুষটার ক্লাস করতে হবে।
কথাটা মনে পড়তেই ইরা বিরক্ত মুখে বালিশটা টেনে নিল।
আয়ান স্যারের ফেসবুক প্রোফাইল নিয়ে তার কৌতূহলটুকু সেখানেই শেষ হয়ে গেল।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন