ফন্ট সাইজ:
থিম:
আফসানায়ে জ্বিনান

১৩তম পর্ব

লেখক: মীরা রায়াদ

#আফসানায়ে_জ্বিনান

#মীরা_রায়াদ

পর্ব-১৩

[📍কপি করা সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ। উপন্যাসটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এর সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই। উপন্যাসটি ভালো লাগলে রিভিউ দিবেন এবং শেয়ার করে অন্যকে পড়ার জন্য উৎসাহ করবেন। সকলে রেসপন্স করবেন।]

আমালিয়া বিছানায় শুয়ে অস্থির অস্থির করছে। কিছুতেই সে শান্তি পাচ্ছে না। হঠাৎ সে উঠে বসলো। এভা কোথায়? এত কিছু হয়ে গেলো এভাকে তো একবারও দেখা যায়নি? আমালিয়া দ্রুত নিজের কামরা ছেড়ে পা বাড়ালো এভার কামরার দিকে। ইউসুফ, এসমার কামরার ঠিক পাশের কক্ষটি এভার। আমালিয়া এভার কামরার সামনে এসে হালকা হাতে দরজা ধাক্কা দিয়ে দেখতে পেলো, খুবই কম আলোর একটি বাতি জ্বালানো। এবং এভা বিছানার মাঝখানটাতে ঘুমিয়ে আছে নিশ্চিন্তে। কি অদ্ভুত! কিছু পূর্বে যে চিৎকার চেঁচামেচি হলো তাতে তো এভার ঘুম ভেঙে যাওয়ার কথা। আমালিয়া পা বাড়িয়ে এভার কাছাকাছি গিয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। এসমার কি হবে আমালিয়া জানে না তবে মনে মনে আমালিয়া সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে সে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসে। অন্তত এই বাচ্চা মেয়েটার জন্য হলেও যেন ফিরে আসে।

---------------------

আ...আ...উ...উ

বাচ্চা শিশুটি মুখ হতে অদ্ভুত অদ্ভুত শব্দ বের করে আমালিয়ার দিকে তাকিয়ে হাসছে। আমালিয়া কিছুটা দূরেই দাঁড়িয়ে ছিল। বাচ্চাটিকে হাসতে দেখে সে এবার নিজেও হেসে বাচ্চাটির দিকে এগিয়ে গেলো। কাছে গিয়ে নরম শরীরটিকে দুহাতের সাহায্যে তুলে বুকের সাথে জড়িয়ে নিলো সে। তারা দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে হাসছে। বাচ্চাটির মুখে ওমন প্রাণখোলা হাসি দেখে আমালিয়ার মন-প্রাণ জুড়িয়ে গেলো। বাচ্চাটি আমালিয়ার বুকের সাথে মিশে গেলে আমালিয়া গুনগুনিয়ে গান গাইতে শুরু করে দিলো এবার। সেই গানের তালে বাচ্চাটি ঘুমের কোলে ঢলে পরলো। কিন্তু হঠাৎ আমালিয়া কিছু বুঝে ওঠার পূর্বেই তার শরীরে ভয়াবহ আগুন লেগে গেলো। আমালিয়া আতংকিত, ভয়ার্থ। সে বাচ্চাটিকে নিজের থেকে সরাতে চাইলো, কিন্তু বাচ্চাটি সরল না। একইভাবে আমালিয়ার বুকের সাথে মিশে হাসতে রইলো। তার হাসিতে আমালিয়ার কি ভীষণ যে কষ্ট হলো! আমালিয়া অসহায়ের মতো বাচ্চাটিকে ধরে দাঁড়িয়ে রইলো আর আগুন একটু একটু করে তার থেকে বাচ্চাটির দিকে ধাবিত হলো। অথচ বাচ্চাটির হাসি একটুও কমলো না।

আমালিয়া বিছানার মাঝে বসে সমানে হাঁপিয়ে যাচ্ছে। ঘেমে সে ভিজে গিয়েছে। তার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না এটা কোনো স্বপ্ন ছিল। সব কিছু যেন বাস্তব, খুব আপন। এই স্বপ্নের যন্ত্রনা তাকে আর কতগুলো দিন সহ্য করতে হবে তার জানা নেই। প্রতি মুহূর্তে এই আতঙ্ক অসহ্য লাগছে। এত ভয়াবহ স্বপ্ন কেউ কিভাবে দেখতে পারে তার জানা নেই।

- লিয়া, লিয়া।

বন্ধ দরজার অপরপাশ হতে কান্নামাখা ছোট ছোট ডাক ভেসে এলো, সাথে দরজায় টুকটাক আওয়াজও। আমালিয়ার বুঝতে বাকি নেই কে এসেছে। আমালিয়া দরজা খুলে দিলে এভা কোনোরূপ কথা ছাড়া তার বিছানায় উঠে গেলো। আমালিয়া সেদিক হতে দৃষ্টি সরিয়ে জানালার পানে তাকালো। বাইরে এখনো পুরোপুরি আলো ফোটেনি। তার মানে সবেমাত্র ভোর হয়েছে। এমন সময় এভা ঘুম থেকে উঠেছে এটা বড়োই আশ্চর্যজনক ব্যাপার। আমালিয়া বিছানার কাছাকাছি যেতে যেতে এভা শরীরে চাঁদর টেনে শুয়ে পরেছে। তার চোখমুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে সে কেঁদেছে। আমালিয়া এভার পাশে শুয়ে এভাকে কাছে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো, কিন্তু বাড়তি কোনো কথা বললো না। কারণ সে চাইছে শুরুটা এভা করুক। দীর্ঘ অনেক্ষন পর এভা আমালিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,

- মা হাসপাতাল থেকে কখন আসবে?

আমালিয়া অবাক হলো খুব। এভা সব জানে? কিন্তু কিভাবে? সে যখন গেলো তখন তো মেয়েটাকে গভীর ঘুমে পেয়ে ছিল। তার মনে এতশত প্রশ্ন থাকলেও সে করলো না।

- চলে আসবে খুব দ্রুত।

- আমি দেখে ছিলাম সব।

- কি দেখে ছিলে?

- বলতে বারণ রয়েছে।

আমালিয়া এভার খাপছাড়া কথার কিছুই বুঝতে পারছে না।

- কে বারণ করেছে?

- একটা এঞ্জেল।

- এঞ্জেল?

- হুম।

- কি বলেছে সে তোমাকে এভা?

- বলেছে যারা ভালোদের কষ্ট দেয় তাদের শাস্তি পেতে হয়।

- তার সাথে তোমার কখন দেখা হয়েছে?

- কাল রাতে। জানো সে আমাকে পরীদের গল্প বলে ছিল।

- তাই! আর কি বলেছে?

- বলেছে আমি যদি ভালো মেয়ের মতো ঘুমিয়ে পড়ি তাহলে মাকে তাড়াতাড়ি আমার কাছে পাঠিয়ে দিবে।

- সে দেখতে কেমন এভা?

এভা কিছুটা ভাবুক হয়ে ভাবলো। অতঃপর চোখগুলো বড়বড় করে টেনে টেনে বললো,

- সাদা।

আমালিয়া ফোঁস করে নিশ্বাস ছাড়লো। এই এভাটাও না! এত কাহিনী বানাতে পারে মেয়েটা? আমালিয়া ভেবেছিলো সত্যিই হয়তো। যদিও এসব আমালিয়ার কাছে বিরক্তকর লেগেছে, তবুও সে এভাকে কিছু বললো না।

- আচ্ছা। এরপর তোমার এঞ্জেল আবার যখন আসবে আমার সাথে দেখা করিয়ে দিও কেমন? এখন ঘুমাও।

এভা মহা আনন্দে বললো,

- আচ্ছা।

আমালিয়া এভার পিঠে ছোট ছোট চাপড় কেটে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে নিজেও ঘুমের দেশে পারি জমালো।

বিকেলে সকলে বসারঘরে বসে ছিল। আমালিয়া এভাকে নুডলস খাইয়ে দিচ্ছে। হাদিজাহ ইউসুফের ফেরার অপেক্ষায়। সেই রাতে এসমাকে নিয়ে গিয়েছে এখনো তাদের কোনো খোঁজ নেই। আরদারেরও কোনো খোঁজ নেই আজ। সকালবেলা একবার এসেছিলো সে। হাদিজাহ বলেছিলো, এই বিপদের সময় বিয়েটা না করে কয়েকদিন পিছিয়ে নেয়ার কথা। কিন্তু আরদার মানতে নারাজ। সে আমালিয়াকে নিয়ে আর ঝুঁকি নিতে চায় না বলে দিয়েছে। হাদিজাহ আরদারের চিন্তা বুঝতে পেরে আর কথা বাড়ালো না। সেই যে গেল ছেলেটা তারপর আর তার কোনো খোঁজ নেই। হাদিজাহ কেন, আলিসাও জানে না আরদার বর্তমানে কোথায় রয়েছে। এভাকে পুরোটা নুডলস্ খাইয়ে আমালিয়া যখন বাটি নিয়ে রান্নাঘরে চলে গেলো ঠিক সেই মুহূর্তে ইউসুফ বাড়িতে প্রবেশ করলো। তাকে প্রচণ্ড বিধ্বস্ত লাগলো। ইউসুফ বাড়িতে প্রবেশ করতেই হাদিজাহ তার দিকে এগিয়ে এলো। ইউসুফ তাকে দেখেও না দেখার মতো এড়িয়ে গিয়ে ধপ করে চেয়ার বসে পরলো।

- ইউসুফ।

হাদিজাহ ডেকে উঠলো ইউসুফকে। ইউসুফ খুব ধীরে মাথা তুলে তাকালো। তার চোখেমুখে শোকের ছায়া। হাদিজাহের বড্ড মায়া হলো। সে ইউসুফকে চেনে দীর্ঘদিন ধরে। ইউসুফ স্বার্থপর ও লোভী প্রকৃতির মানুষ হলেও স্ত্রী ভক্ত পুরুষ। পূর্বে একবার স্ত্রীকে হারিয়ে আবারও একই বিপদের পুনরাবৃত্তি দেখে আজ হাদিজাহের ইউসুফের জন্য খারাপ লাগছে খুব। সে ইউসুফের নিকট এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করলো,

- ওখানের কি অবস্থা? সব ঠিক আছে?

ইউসুফ ফোঁস করে নিশ্বাস ছেড়ে ধীরে বলল,

- অবস্থা খুব একটা ভালো না। ডাক্তারদের মতে এসমা কোনো কিছু দেখে ভয় পেয়ে স্ট্রোক করেছে। শরীরের ডানপাশ তার কাজ করছে না। ৭২ ঘণ্টা না গেলে কিছু বলা যাচ্ছে না এখনই।

হাদিজাহ চিন্তিত হয়ে প্রশ্ন করলো,

- ভয়! কিন্তু এমন কি দেখে ভয় পেলো? সে তখন ঘুমাচ্ছিল না? তাছাড়া তুমি ছিল তো তার সাথে।

- জানি না।

- চিন্তা করো না ইউসুফ। আল্লাহ্ সুবহানাল্লাহ্ তায়ালা আনহু যা করবেন তা তোমাদের ভালোর জন্যই করবেন।

ইউসুফ কিছু বলল না। নিশ্চুপ মেঝের দিকে তাকিয়ে রইলো। ঠিক সেই মুহূর্তে আমালিয়া রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো। ইউসুফকে ওভাবে বসে থাকতে দেখে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে খুবই নমনীয় ভাবে প্রশ্ন করলো,

- সে কেমন আছে এখন?

কে প্রশ্ন করেছে জানার জন্য ইউসুফ চোখ তুলে তাকালো। আমালিয়াকে দেখতে পেয়েই হঠাৎ তার চোখমুখের ভাব পরিবর্তন হয়ে গেলো। মুহূর্তে রাগে হিংস্র রূপ ধারণ করে ইউসুফ আমালিয়াকে বলল,

- তুমি থাকতে কেউ ভালো থাকবে তা কিভাবে সম্ভব?

আমালিয়া নির্লিপ্ত চোখে ইউসুফের দিকে তাকিয়ে রইলো। কথাটির মানে সে বুঝতে পারেনি, কিন্তু ইউসুফের বলার ভঙ্গিতে সে কষ্ট পেলো খুব। হাদিজাহ বিরক্ত হলো ইউসুফের কথায়। আপনজন বিপদের মাঝে থাকলে মাথা ঠিক থাকে না সে বুঝতে পারছে, কিন্তু তাই বলে এভাবে বলাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত? তাছাড়া এখানে আমালিয়ারই বা কি দোষ?

- কি হচ্ছে কি ইউসুফ? তুমি আমালিয়ার সাথে এভাবে কথা বলছো কেন?

- কেন বলছি আপনি জানেন না?

- দেখো ইউসুফ..

হাদিজাহকে শেষ করতে না দিয়েই আমালিয়া শান্ত স্বরে বলল,

- কি করেছি আমি?

আমালিয়ার এই একটি কথাই যথেষ্ট ছিল ইউসুফকে রাগিয়ে দেয়ার জন্য। যেন গরম তেলের মাঝে কয়েক ফোঁটা পানি পরলো এমন ভাবে ইউসুফ তেঁতে উঠে আমালিয়ার দিকে তেড়ে গেল।

- কি করনি তুমি সেটা বলো? যখন থেকে আমার জীবনে এসেছো একটার পর একটা অশান্তি, বিপদ ডেকে নিয়ে এসেছো। অলক্ষ্মী তুমি, অলক্ষ্মী।

আমালিয়া একদম নির্লিপ্ত। তার মাঝে বিশেষ ভাব নেই। যদিও উপরে সে ভীষন শক্ত দেখাচ্ছে কিন্তু মনে মন সে ভেঙে পরেছে। কান্নারা তার গলায় এসে দলা পাকিয়ে আছে। হাদিজাহের ইউসুফের কথায় ভারী রাগ হলো।

- কি হচ্ছে কি ইউসুফ এসব? ভুলে যাচ্ছো কার সাথে তুমি এভাবে কথা বলছো?

ইউসুফ আমালিয়ার দিকে ঘৃণাভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

- আমি কিছু ভুলিনি। আপনি ভুলে গিয়েছেন। সেদিনই যদি মেরে ফেলত তাহলে সব ঠিক থাকতো। না ইলারা আমাকে ছেড়ে যেতো আর না এসব কিছু হতো।

- ইউসুফ থামো বলছি।

হাদিজাহ রাগত স্বরে ভয়ানক ভাবে ইউসুফের দিকে তাকিয়ে কথাটি বলল। ইউসুফ তাকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে চেঁচিয়ে বলল,

- আর কত? আর কত চুপ থাকবো? এই মেয়েটাকে বাঁচানোর জন্য ইলারা নিজের জীবন দিয়েছিল ভুলে গিয়েছেন? এই মেয়েটার জন্য। আমি বারবার বলে ছিলাম ওকে এখানে না রাখতে, কিন্তু শুনল না আমার কথা। কার না কার মেয়েকে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসা, আদর, স্নেহ দিয়ে বড় করে কি হলো? আমার ইলারা একে বাঁচাতে গিয়ে আমার কথা একবার ভাবলো না। এখন আবার যখন থেকে আমাদের জীবনে এসেছে তখন থেকে একটার পর একটা বিপদে জড়িয়ে পরছি আমরা।

- কি সব বলছো তুমি ইউসুফ? নিজের সীমায় মাঝে থাকো। নয়তো আরদার জানতে পারলে কি হবে তা নিশ্চয়ই জানা আছে তোমার। তাছাড়া ভুলে যাবে না এবার তুমিই ওকে এখানে এনেছিলে।

- আমি আনতে চাইনি। আরদার জোর না করলে কখনো আনতাম না। আর আপনি এতো ভালোবাসা দেখাচ্ছেন কেন? এসব নাটক বন্ধ করুন। আপনাদের এই নাটক দেখে দেখে আমি বিরক্ত।

- ইউসুফ।

হাদিজাহ বজ্র কন্ঠে চেঁচিয়ে উঠলো। সেই চিৎকারে ইউসুফ, আমালিয়াসহ এভাও কেঁপে উঠল। বাচ্চাটা এক কোণে সিঁটিয়ে রইলো ভয়ে। আমালিয়া পাথরের মতো শক্ত হয়ে রয়েছে। ভীষণ ঠান্ডা কন্ঠে ইউসুফের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়লো,

- আমি আপনার মেয়ে না?

- লিয়া..

হাদিজাহ কিছু বলতে চাইলো কিন্তু আমালিয়া তার দিকে তাকালো না। বরং দৃষ্টি ইউসুফের দিকে স্থির রেখে হাত উঁচিয়ে হাদিজাহকে থামিয়ে দিয়ে বলল,

- কেউ বাড়তি একটা কথাও বলবেন না।

তার কণ্ঠে না ছিল কষ্ট, না ছিল অভিমান। কি যে ছিল হাদিজাহ জানে না। কিন্তু সে ভয় পাচ্ছে। খুব ভয় পাচ্ছে। কিছু একটা অঘটনের ভয়। ইউসুফ চোখমুখ কুঁচকে ভীষণ বিরক্ত মাখা কন্ঠে বলল,

- তুমি আমার আর ইলারার মেয়ে না। তোমাকে সে (হাদিজাহকে দেখিয়ে) আমাদের কাছে নিয়ে এসেছিল।

- আমার মা-বাবাকে চেনেন আপনি?

- লিয়া আমার কথা শোনো।

- বলেছি না কেউ একটা বাড়তি কথা বলবে না।

আমালিয়া ভয়ানক ঠাণ্ডা গলায় শান্ত ভাবে হাদিজাহের দিকে তাকিয়ে কথাটি বলল। হাদিজাহ লক্ষ্য করলো আমালিয়ার গাঢ় বাদামী চোখটি আজ অস্বাভাবিক ভাবে জ্বলজ্বল করছে। যা এর পূর্বে কখনো হয়নি। তার মানে আমালিয়ার খারাপ শক্তি তার ওপর ভারী হয়ে পরছে কি? ভয়ে আতঙ্কে হাদিজাহ এরপর আর একটি কথাও বলতে পারেনি। সে বুঝে গিয়েছে আজ অনেক না জানা সত্য আমালিয়ার সামনে আসতে চলেছে।

- তোমার মা - বাবাকে আমি চিনি না। কখনো দেখিওনি। তবে তোমার মায়ের সাথে ইলারার খুব সখ্যতা ছিল। সে তোমার মায়ের সখী ছিল।

- আমার মা-বাবা কি বেঁচে আছে?

কথাটি বলতে গিয়ে আমালিয়ার কন্ঠ বেশ কয়েকবার কেঁপে কেঁপে উঠল। ইউসুফের হয়তো এইবার মেয়েটার ওপর একটু মায়া হলো। সে তার কণ্ঠস্বর নরম করে বলল,

- নেই।

আমালিয়ার কাছে এবার সবটা পানির মতো পরিষ্কার। আশ্মী জ্বিন যা বলেছিলো সব সত্যি। তার মানে কি দাদি তাকে ব্যবহার করেছে? সে ভীষন অসহায় ভাবে তাকালো হাদিজাহের দিকে।

- আমি...তোমার সাথে কি আমার রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই?

আমালিয়া এলোমেলো ভাবে কথাটি বলে ছোট করে নিশ্বাস নিল। তার গলা শুকিয়ে আসছে বারবার। সে জানে এর উত্তর আসবে না। তবুও সে প্রশ্নটি করলো। হয়তো নিজেকে ভুল প্রমাণ করতে। হয়তো সব মিথ্যে প্রমাণ করতে। কিন্তু তাকে ভুল প্রমাণ করে হাদিজাহ উত্তর দিতে পারল না। আমালিয়া হতাশ চোখে তার দাদিকে দেখে গেলো। ভাবতেই অবাক লাগছে এতগুলো বছরে তার জানা সব কিছুই মিথ্যা ছিল। আমালিয়া আর এক মুহুর্ত সেখানে না দাঁড়িয়ে কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো। হাদিজাহ চেয়েও কিছু বলতে পারলো না। তার যে কিছুই বলার নেই। ভাবলো কিছু সময়ের মাঝে হয়তো চলে আসবে। তাছাড়া আরদারের দেয়া জ্বিন তো সর্বদা আমালিয়ার সাথে রয়েছেই। তাই সে বিশেষ চিন্তা করলো না। যদিও তার ধারণা নেই পরবর্তীতে কি হবে বা হতে পারে। সে শুধু প্রার্থনা করে গেলো যেন আমালিয়া তাকে ভুল না বোঝে।

---------------

চারিদিকে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। আকাশে পাখিরা নিজ নীড়ে ফিরতে ব্যস্ত। কিন্তু আমালিয়ার মাঝে বিশেষ তাড়া নেই। সে বর্তমানে লাইব্রেরির সামনে একটি লেকের ধারে বসে আছে। কোথায় যাবে কি করবে বুঝতে পারছে না। পুরো জীবনটাই কেমন বৃথা মনে হচ্ছে। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মাঝে কিভাবে যেন সে ফেঁসে গিয়েছে। ও বাড়িতে তার ফিরতে ইচ্ছা করছে না। যারা তার কেউ না তাদের কাছে ফিরে আর বোঝা হতে চায় না সে। কিন্তু যাবে কোথায়? এতো বড় পৃথিবীতে আপন বলতে যে কেউ নেই তার। অসহায় আমালিয়া নিশ্চুপ বসে লেকের পানি দেখতে রইলো।

- আমালিয়া।

পরিচিত কন্ঠস্বর শুনে আমালিয়া পিছু ফিরে চাইলো। তার থেকে কিছুটা দূরে মেহমেত দাঁড়িয়ে তার চিরচেনা ভঙ্গিতে। মেহমেতকে দেখে কেন যেন এতক্ষনে আটকে রাখা কান্নাগুলো বেরিয়ে আসতে চাইল। কিন্তু তবুও আমালিয়া নিজেকে ভেঙে পরতে দিলো না। চোখমুখ শুকিয়ে কালো হয়ে গেলেও আমালিয়া নিজের কষ্ট বুঝতে না দিয়ে একটু হাসলো। মেহমেত সেই প্রাণহীন হাসি দেখলো অপলক দৃষ্টিতে। আমালিয়াকে ভেঙে পরতে দেখে তার খুশি হওয়ার কথা ছিল না? কিন্তু সে খুশি হতে পারছে না। কেন যেন এই মেয়েটার দুঃখভরা দৃষ্টি তার কাছে অসহ্য লাগছে। মেহমেত নিজের ওপর বিরক্ত। ফোঁস করে নিশ্বাস ছেড়ে আমালিয়ার কাছাকাছি এসে দাঁড়ালো। আমালিয়া তখনো ঠোঁটে মিথ্যে হাসি টেনে তাকিয়ে মেহমেতের দিকে।

- এখানে কি করছেন?

- কিছু না।

আমালিয়া ছোট করে বলল। মেহমেত এবার আমালিয়ার পাশে বসে বলল,

- কি হয়েছে?

- কিছু না।

মেহমেত কপাল কুঁচকে আমালিয়ার দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল,

- কি হয়েছে আমালিয়া?

আমালিয়া অসহায় চোখে তাকিয়ে রইল, কিছু বলতে পারল না। মেহমেতের যে কি হলো! সে এই প্রথমবার আমালিয়ার দিকে মায়াভরা দৃষ্টিতে তাকালো। বলল,

- আমি আছি। সব সময় আছি।

আমালিয়া আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না। অশ্রুজল গড়িয়ে তার গাল বেয়ে নির্লিপ্ত ভাবে বইতে লাগলো। আমালিয়া ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বাচ্চাদের মতো অভিযোগ করে বলল,

- ওরা..আমি ওদের কেউ না মেহমেত। আশ্মী জ্বিন সত্যি বলেছিল। ওরা আমার আপন না। আমি একজন কি করব মেহমেত? আমার যে কেউ নেই। কোথায় যাবো এখন আমি?

আমালিয়া অনবরত কেঁদে চলেছে। তার আজ দুঃখের দিন। সে কিছুতেই নিজেকে সামলাতে পারছে না। মেহমেতের বড্ড খারাপ লাগলো এবার। মেয়েটাকে কষ্ট দিতে তার ভালো লাগছে না কিন্তু উপায়ও তো নেই।

- শান্ত হন আমালিয়া।

- কিভাবে? আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না দাদি আমার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। জানেন মেহমেত, আমি যখন দাদিকে প্রশ্ন করলাম, তার সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক রয়েছে কিনা? সে... সে উত্তর দিলো না। সে তার চোখ লুকাচ্ছিল আমার থেকে। আমার যে এই দুনিয়াতে কেউ রইলো না। আমার যে যাওয়ার মতো কোনো জায়গা রইলো না।

আমালিয়ার কন্ঠ অস্বাভাবিক ভাবে কেঁপে কেঁপে উঠছিল। তার নিশ্বাস ঘন হয়ে যাচ্ছে বারেবারে। তবুও কান্না বাঁধ মানছে না।

- আমার দাদি, সেই ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি মেহমেত। সে কিভাবে আমার সাথে, কিভাবে এরূপ করতে পারল?

মেহমেত আমালিয়ার কথার বিপরীতে কিছুই বলতে পারলো না। তার আমালিয়ার জন্য ভীষণ মায়া কাজ করছে।

- সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। চলুন উঠবেন।

- কোথায়?

মেহমেত তার কথাটি বলে উঠে দাড়ালো। আমালিয়া বুঝতে পারল না তাকে কোথায় যেতে বলছে। তাই সে চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকিয়ে রইলো। মেহমেত বন্ধুসুলভ হেসে হাত বাড়িয়ে বলল,

- আপনার একটা ঠিকানা খুঁজে দিতে। যেখানে আপনি নিজের মতো থাকতে পারবেন। আপনার নিজের একটা মানুষ হবে, একটা বাড়ি হবে সেখানে।

- মানে?

আমালিয়া অবুঝের মতো মেহমেতের দিকে তাকিয়ে রইলো। মেহমেতের আজ কি হলো সে নিজেও জানে না। তার শুধু মনে হলো রাস্তার পাশে অসহায় ভাবে বসে কান্না করা মেয়েটিকে তার একটি নিজস্ব ঠিকানা দিতে মন চাইছে। মেহমেত তার হাতটি আরো একটু এগিয়ে দিয়ে ভীষণ মোহনীয় কন্ঠে অনুমতি চেয়ে বলল,

- বিয়ে করবেন আমায়?

আমালিয়া তাজ্জব বনে গেল। তার এতক্ষনের কষ্ট, দুঃখ কই গেল কে জানে! আমালিয়া ঘোলাটে চোখে মেহমেতের বারিয়ে দেয়া হাতের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে থমকে রইলো। সে বিশ্বাস করতে পারছে না মাত্র মেহমেত তাকে যা বলেছে তা সত্যি কিনা!

- কিহ!

আমালিয়া নিশ্চিত হতে পুনরায় প্রশ্ন করলো। মেহমেত এবার দাড়ানো থেকে হাঁটু গেঁড়ে আমালিয়ার পাশে বসে নরম গলায় বলল,

- মেহমেতের বেগম হতে আপত্তি আছে আপনার?

- মেহমেত আমার শরীর খারাপ লাগছে।

আমালিয়ার কথা শুনে মেহমেত শব্দ করে হেসে ফেলল। দূর থেকে জায়াদ্রা সেই হাসি তৃপ্তি নিয়ে দেখলো। আজ অনেক গুলো বছর পর মেহমেত মন খুলে হাসছে। দুনিয়া যাকে স্বার্থপর এবং ভয়ংকর হিসেবে জানে জায়াদ্রা তাকে খুব ছোট থেকে চেনে। তার মাঝে মাঝে সকলকে বলতে ইচ্ছা করে মেহমেত নিজ থেকে এমন হয়নি তাকে বানানো হয়েছে। কিন্তু সে বলতে পারে না। তার যে বলার অনুমতি নেই। জায়াদ্রা মন থেকে আমালিয়ার জন্য দোয়া করে। তার বিশ্বাস এই মেয়েটিই পারবে পাথরের বুকে ফুল ফোঁটাতে।

- আমার সাথে আমার সম্রাজ্যে থাকবেন?

মেহমেত মেয়েটির কাছে আরো কিছুটা এগিয়ে এলো বাড়িয়ে দেয়া হাত নিয়ে। আমালিয়া বুঝল না তার কেমন প্রতিক্রিয়া করা উচিৎ। তবে সে অনুভব করতে পারছে তার মাঝে মিশ্র এক ভালো লাগা কাজ করছে খুব। আমালিয়া বেশ কিছুক্ষন মেহমেতের হাতের দিকে তাকিয়ে আবার চোখ তুলে ঠিক মেহমেতের গাঢ় বাদামী চোখ দুটির দিকে তাকিয়ে কিছু না ভেবেই ধীরে খুব সমর্পণে নিজের হাতটি মেহমেতের বাড়িয়ে দেয়া হাতের ওপর রাখলো। মেহমেত বুঝতে পারল আমালিয়ার নীরব সম্মতি। তার ঠোঁটে তৃপ্তির এক হাসি ফুটে উঠেও তা হারিয়ে গেল। আমালিয়া নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ততক্ষনে পরতে নিলে মেহমেত দুহাতে আগলে নিল তাকে। মেহমেত হতভম্ব চোখে আমালিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

- এই মেয়ে এই, আপনি কি ভয় পেয়েছেন? জ্বিন বাদশাহের অর্ধাঙ্গিনী হবেন অথচ এই সামান্য বিষয়ে জ্ঞান হারালেন? মান-সন্মান তো কিছুই রাখলেন না আমার।

অতঃপর আমালিয়ার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে কোলে তুলে চলল নিজ গন্তব্যে।

---------------

আমালিয়ার যখন জ্ঞান ফিরল তখন সে মুসলিমদের একটি পবিত্র স্থান মসজিদে মেহমেতের বাহুর সাথে মিশে হেলান দেয়া অবস্থায় নিজেকে আবিষ্কার করলো। আর মেহমেত খুব যত্ন করে আমালিয়াকে এক হাতে আগলে নিয়ে সামনে কারো সাথে সমানে কিছু বলে যাচ্ছে। আমালিয়া পিটপিট করে এদিক-ওদিক চোখ ঘুরিয়ে দেখে নিল সে এখন কোথায় রয়েছে। বুঝতে না পেরে এবার সামনে বসা লোকটির দিকে তাকালো। যে কিনা মাথায় টুপি ও জুব্বা পরিহিত। লম্বা, ঘন দাড়ি গুলো সাদা। আমালিয়া লক্ষ্য করলো সে যা দেখছে সবটাই আবছায়া, অস্পষ্ট। ভালো করে নিজের দিকে তাকিয়ে বুঝলো তার পরনে আগের সেই পোশাক। সাদা গাউন কিন্তু মাথা থেকে পুরো শরীরে পাতলা একটি দোপাট্টা জড়ানো। যা তার মুখোশ্রীও ঢেকে রেখেছে। আমালিয়া অবাক হয়ে এবার সোজা হয়ে বসলো। তাকে উঠতে দেখে মেহমেত ঘাড় ঘুরিয়ে আমলিয়ার দিকে মিষ্টি হেসে তাকালো। মেহমেতের পরণে ধপধপে সাদা আলখাল্লা, মাথায় পাগড়ি। চোখেমুখে তার নূরানী আভা। মেহমেতের এইরূপ আমালিয়ার কাছে সম্পূর্ণ নতুন। সে অবাক হয়ে তাকিয়েই রইলো। মেহমেত সামনে বসা লোকটিকে উদ্দেশ্য করে বলল,

- আপনি এবার শুরু করতে পারেন।

তার কথায় লোকটি একটি বড় খাতা খুলে বসলো এবং আরো দুজন পুরুষ মেহমেতের পাশে এসে বসলো। আমালিয়া কিছুটা ধারণা করে মেহমেতকে প্রশ্ন করলো,

- আমরা কোথায় মেহমেত?

মেহমেতের এক হাত তখন আমালিয়াকে জড়িয়ে আছে। সে আমালিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

- আমরা এখন মসজিদে। তিনি একজন ইমাম এবং সেই সাথে একজন কাজীও। আমরা বিয়ে করতে এসেছি আমালিয়া। আপনার আপত্তি নেই তো?

আপত্তি! ঘুম ভেঙে কেউ যদি জানতে পারে তার এখন বিয়ে তাহলে কেমন প্রতিক্রিয়া করা উচিৎ? তাও আবার এই রাতে? আমালিয়া এতটাই অবাক হলো যে সে কথাই বলতে পারলো না এরপর। যদিও সে চুপচাপ ছিল কিন্তু অসম্মতি জানালো না। অতঃপর সুষ্ঠ ও সাবলীল ভাবে কোনো রকম সমস্যা ছাড়াই আমালিয়া ও মেহমেতের বিয়ে সম্পন্ন হলো। বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে জায়াদ্রা ও মেহমেতের খুব কাছের বিশ্বস্ত এক জ্বিন ছিল। এমন কি কাজীও জ্বিন ছিল কিন্তু আমালিয়া তা জানতো না। আমালিয়া অবশ্য জানতেও চাইলো না। সে এখনো এক ঘোরের মাঝে রয়েছে। মেহমেতকে সে পছন্দ করে। হয়তো একটু বেশিই করে। কিন্তু তাই বলে এভাবে বিয়ে হয়ে যাবে সে স্বপ্নেও ভাবেনি। কি থেকে কি হয়ে গেলো? সে কি ঘুমিয়ে আছে? কোনো স্বপ্ন দেখছে? নাকি সব সত্যি? হে আল্লাহ এসব কি হয়ে গেলো! এখন থেকে মেহমেত তার স্বামী? সত্যি! আমালিয়া আচমকা মেহমেতের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে পরলো। তারা ততক্ষনে মসজিদ থেকে বেরিয়ে এসেছে। তখনো মেহমেতের বামহাতের মাঝে আমালিয়ার ডানহান আবদ্ধ। আমালিয়াকে দাঁড়াতে দেখে মেহমেত নিজেও হাঁটার গতি থামিয়ে পিছু ফিরে আমালিয়ার দিকে তাকিয়ে ইশারায় জানতে চাইলো কি হয়েছে? আমালিয়া ইতস্তত করে হাত ছাড়িয়ে নিল। বিষয়টি মেহমেতের একদম পছন্দ হলো না। সে ভ্রু কুঁচকে আমালিয়ার ছড়িয়ে নেয়া হাতের দিকে তাঁকিয়ে রইলো নির্নিমেষ। দীর্ঘক্ষণ তাঁকিয়ে থেকে চোখেমুখে গম্ভীর্যতা টেনে আকস্মিক আমালিয়ার অনুমতি না নিয়েই সে পূর্বের থেকে দ্বিগুণ অধিকারবোধ নিয়ে আমালিয়ার হাতটি আঁকড়ে ধরলো। মেহমেত খুব শক্ত করে হাতটি ধরে অপেক্ষা করল কিছুর। কিন্তু তেমন কিছুই হলো না। এবার কোনো রূপ বাঁধা ছাড়াই মেহমেত আমালিয়াকে স্পর্শ করতে পারায় তার ঠোঁটে বিশাল এক হাসি খেলে গেল। যেন সে যা চেয়েছিল তাই পেয়েছে। আমালিয়া লজ্জা পেলো খুব। তার কেমন কেমন অনুভূতি হলো। সে বুঝতে পারছে না কি বলবে বা করবে। মেহমেত অবশ্য আমালিয়ার প্রতিক্রিয়া করার জন্য অপেক্ষা করল না। সে ওভাবেই আমালিয়ার হাত ধরে নিয়ে চলল তার সম্রাজ্যে।

চলবে____

( হুটহাট বিয়ে দিতে যে কি মজা লাগে! ওদের বিয়ে দিয়ে দিলাম, এবার আমাকে মিষ্টি মুখ করাও।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন