#মৃগতৃষ্ণা----১৫ (কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫)
#লেখিকা-মেহরুমা নূর
★পানিতে ডুবতে নিলে যখন কেউ টেনে তুলে কিনারায় আনে। আর কিনারায় এসে দেখে সেখানে ভয়ংকর বাঘ বসে আছে। সেই মুহূর্তে যে অনুভূতি হবে তেমনই একটা অনুভূতি হচ্ছে পঙ্খির এই মুহূর্তে। ইন্ধনও ওকে বাঁচাতে গিয়ে উল্টো আরও ডুবিয়ে দিয়েছে। নিজেকে কেমন খেলার পুতুল মনে হচ্ছে পঙ্খির। এ কেমন জীবন ওর? যেখানে ওর ইচ্ছে বা মতামতের কোনো মূল্য বা প্রয়োজন কোনটাই নেই। বিয়ে নামক এই ক্রিয়া ওর সাথে দুই দুইবার রচিত হলো। অথচ একবারের জন্যও কেউ ওর মতামতের ধার ধারলো না। সেকি আদোও মানুষ নাকি কোন জড়বস্তু? যার যখন মন চায় তাকে কারোর সাথে বেঁধে দেয়। শেষমেশ কিনা ওই অসভ্য লোকটার বউ? ভাবতেই হৃদপিন্ড জমে যাচ্ছে তাঁর। এরচেয়ে তো নদীতে ডুবে ম,রে যাওয়াও হয়তো ভালো ছিলো। এই রঙমহলের রঙিন মঞ্চে ওকে খেলার পুতুল তো হতে হতোনা।
বর্তমানে ইন্ধনের রুমে বিছানায় বসে আছে পঙ্খি।ছায়া তাকে একপ্রকার ঠেলে নিয়ে এসে এখানে বসিয়ে দিয়ে গেল। বিয়ে পড়ানো শেষে ওদের বাড়িতে ফিরতে ফিরতে দুপুর হয়ে যায়। বাড়িতে আসার পর আরেক দফা তামাশা হয়। সামছুল মজুমদারের কথার আগে কেউ তেমন কিছু বলতে না পারলেও, খোদেজা দমে থাকে না। যথারীতি সে সবকিছুর জন্য পঙ্খিকেই দোষারোপ করে। ইচ্ছে মতো কতক্ষণ অকথ্য বাণী শোনায় পঙ্খিকে। তবে আজ জাহানারা কেন যেন কিছু বলেনা পঙ্খিকে। ব্যাপার টায় পঙ্খি একটু অবাক হয়েছিল বৈ কি। তবে রাবেয়া বরাবরের মতোই সবটা ইতিবাচক ভাবেই মেনে নিয়েছে। পঙ্খিকে সে আগে থেকেই স্নেহ করে। তাই সহজেই ওকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিয়েছে। সব তামাশা শেষে পঙ্খি নিজের রুমে যায়। এতক্ষণ সে কেমন অনুভূতি শূন্য হয়ে ছিলো। রুমে এসেই সে বাথরুমের দরজা আটকে হাউমাউ করে কেঁদে দেয়। কেঁদে কেটে নিজের মনকে একটু হলেও হালকা করে সে। তারপর বিছানায় গিয়ে ক্লান্ত শরীরে শুয়ে পড়ে। কতক্ষণ শুয়ে ছিলো সে নিজেও জানে না। ছায়া যখন ডাকতে আসে তখন রাত আট টা। রাতের খাবার খাওয়ার জন্য ডাকতে এসেছিল ও।তবে পঙ্খি বলে দেয় তার ক্ষুধা নেই।সে খাবেনা এখন। ছায়া অনেক বার বললেও লাভ হয়নি। তারপরই হঠাৎ ছায়া পঙ্খিকে টেনে এই ঘরে নিয়ে আসে। এখানে বসিয়ে দিয়ে বলে, এখন থেকে এটাই তোমার ঘর। তারপর ওকে বসিয়ে দিয়ে চলে যায়। এখানে বসে অস্বস্তিতে হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে ওর। মন মস্তিষ্ক জুড়ে চলছে অশান্তি আর অস্থিরতার ঘূর্ণিঝড়। জীবন তাকে এ কোন মোড়ে নিয়ে এলো? এখান থেকে ওর ভবিষ্যতই বা কোনদিকে মোড় নিবে? অথচ যার কারণে এতকিছু ঘটলো তার কোন খবরই নেই। সে ওই বিচারের পর থেকেই গায়েব। শুনেছি এখনো নাকি বাড়ি ফিরেনি।হয়তো কোথাও বসে দুঃখের নদী নালা বানাচ্ছে। গার্লফ্রেন্ড কে কি জবাব দেবে তাই ভাবছে। বেশি হিরোগিরি দেখাতে গিয়ে ফেঁসে যে গেছে। যাগ্গে যা খুশি তাই করুক। যতো না আসে ততোই ভালো। তার সাথে এখানে এক ঘরে থাকার কথা ভাবলেই পঙ্খির দম বন্ধ হয়ে আসছে। পঙ্খি ভাবলো লোকটা ফিরে আসার আগেই ও চুপ করে এখান থেকে নিজের রুমে চলে যাবে।
ভাবনা মোতাবেক সে উঠে দাঁড়িয়ে চলে আসতে নিলেই হঠাৎ ওর ওড়না কিছুর সাথে আটকে গেল। পঙ্খি পেছনে ঘুরে ওড়না ধরে জোরে টান দিতেই ওড়নার সাথে আটকে থাকা জিনিস টাও বালিশের নিচ থেকে বেড়িয়ে এলো। পঙ্খি লক্ষ্য করলো এটা একটা ছোট ফটো ফ্রেম।। কৌতূহল বশত পঙ্খি ফটো ফ্রেমটা হাতে নিয়ে দেখলো।ছবিটিতে ইন্ধন সুন্দর একটি মেয়ের গলা জড়িয়ে ধরে তার কাঁধের উপর মাথা দিয়ে আছে। দুজনের ঠোটেই এক অমায়িক হাসি। পঙ্খির মনে পড়লো এই মেয়েটাকেই সেদিন ইন্ধনের ফোনে দেখেছিল। তারমানে এটাই উনার গার্লফ্রেন্ড। ছবিটা দেখে পঙ্খির মন হঠাৎ ভারী হয়ে গেল। নিজেকে কেমন অপরাধী মনে হচ্ছে ওর। না চাইতেও ও এই দুজন ভালোবাসার মানুষের মাঝে ঢুকে পড়েছে। দুজনেই দুপাশে হয়তো কতো কষ্ট পাচ্ছে। লোকটা যেমনই হোক তবে তাঁর ভালোবাসা তো আর মিথ্যে নয়। আর আজ সেই ভালোবাসাকে হয়তো আমার কারণে হারিয়ে ফেলবে। না না এটা ঠিক না। এতবড় অপরাধ বোধ নিয়ে আমি বেঁচে থাকতে পারবোনা। কিছু একটা করতেই হবে। আমার জীবনের এমনিতেও কুল কিনারা নেই। তবে আমার কারণে দুটো সুন্দর ভালোবাসার মানুষকে আলাদা হতে দিবোনা আমি। ভালোবাসা না পাওয়ার কষ্ট কতটা সেটা আমি বুঝি।তাই অন্যকেও এই কষ্ট হতে দিতে পারি না আমি। আমার কারণে তো কখনোই না।
দরজা খোলার শব্দে পঙ্খি ঘাবড়ে গিয়ে তড়িঘড়ি করে ফ্রেমটা আবারও বালিশের নিচে রেখে দেয়। এই ছবির চক্করে ও রুম থেকে বেরুনোর কথা ভুলেই গিয়েছিল। এখন কি করবে ও? ওই লোকটা নিশ্চয় এসে পড়েছে। এখন তার সামনে কিভাবে এখানে থাকবে ও? চরম অস্বস্তির ভান্ডার নিয়ে খাটের এক কোণায় চুপচাপ মাথা নুইয়ে বসে রইলো সে। দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো ইন্ধন। ঘরে ঢুকেই সোজা ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে হাতের ঘড়িটা খুলে রাখলো। তারপর কাবার্ড থেকে টিশার্ট আর ট্রাউজার নিয়ে ওয়াশরুমে গেল ফ্রেশ হতে। তার গতিবিধি একেবারে স্বাভাবিক। যেন সে ব্যাতিত এই কক্ষে দ্বিতীয় কোন মানবী নেই। হতেই পারে না।আর না আজ তাঁর সাথে অন্যরকম কিছু ঘটেছে। সে রোজকার মতোই বাইরে আড্ডা দিয়ে এসেছে। আর এখন মায়ের হাতের খাবার খেয়ে উপুড় হয়ে পড়ে ঘুম দিবে। এই ছাড়া আর কিছুই যেন হয়নি তাঁর সাথে। আমি কি কোনভাবে অদৃশ্য হয়ে গেছি? নাকি অতি শোকে পাগল টাগল হয়ে গেল লোকটা? হতেও পারে। গার্লফ্রেন্ড হারানোর শোকে মাথার নাট বল্টু ঢিলাও হয়ে যাওয়া টা অস্বাভাবিক কিছু না। খাটি প্রেম বলে কথা। প্রেমের মরা জলেও নাকি ডোবে না। তাইলে সে বেচারা কি করে ধুয়ে দিবে?
পঙ্খির ভাবনার মাঝেই ইন্ধন ফ্রেশ হয়ে বের হলো। টাওয়াল দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে টেবিলের দিকে তাকিয়ে বললো।
--খাবার এখানে রাখা কেন? তুমি খাওনি?
পঙ্খি এবারে একটু স্বস্তি পেল। যাক কথা যেহেতু বললো তারমানে সে এখনো দৃশ্যমান আছে। খাবার তখন ছায়াই এসে রুমে রেখে গেছে। রেখে যেতে যেতে দাঁত কেলিয়ে বলছিল, তোমাদের দুজনের খাবার রেখে গেলাম। একসাথে খেয়ে নিও। তার হাসির কারণ টা বুঝতে পেরেছিল পঙ্খি। বেচারি ছায়া তো জানে না যে, সে যেটা ভাবছে সেটা কখনোই হবার নয়। তাঁর ভাই যে এখন ব্যার্থ প্রেমিক হয়ে বনবাসে যাওয়ার উপক্রম।
--কি হলো কথা বলছ না কেন? না খেয়ে বসে আছ কেন?
ইন্ধনের উচ্চস্বরের কথায় পঙ্খির মহান ভাবনায় ত্রুটি পড়ে। সে একটু নড়েচড়ে উঠে ধীর গলায় বললো।
--ছায়া রেখে গেছে।
--তো খাওনি কেন? নাকি আমার হাতে খাওয়ার জন্য বসে আছ? বিয়ে হতে হতেই আবদার নিয়ে বসে পড়েছ?
রাগে শরীর জ্বলে উঠলো পঙ্খির। দাঁত কিড়মিড় করে বললো।
--ক্ষুধা নেই।
--কেন ক্ষুধা কি তোমাকে রেখে বেড়াতে গেছে? গিয়ে থাকলে ওকে ধরে নিয়ে আসো। আর ফটাফট খেয়ে নাও। খেয়ে দেয়ে নাও। তারপর কথা আছে তোমার সাথে।
পঙ্খি আগেই ধারণা করে নিলো ইন্ধন কি বলবে। তাই সে নিজেই বলে উঠলো।
--আমি জানি আপনি কি বলবেন। আজ বিয়েটা যে,আপনি বাধ্যতামূলক করেছেন তা আমি জানি। তবে আপনি চিন্তা করবেন না। আমার জন্য আপনাকে আপনার ভালোবাসা হারাতে হবে না। আমি আপনাদের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়াব না। আমার জন্য কাওকে কষ্ট পেতে হবেনা। শুধু আপনার কাছে একটা অনুরোধ। আমাকে কোথাও একটা চাকরির ব্যাবস্থা করে দিন। তারপর আমি এখান থেকে চলে যাবো। যদিও আমি কখনো কোন দাবি করবোনা। তবুও নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপনি চাইলে ডিভোর্সও নিয়ে নিতে......
হঠাৎ কিছু ভাঙার তীব্র ঝংকারে কেঁপে উঠলো পঙ্খি। কথা বন্ধ হয়ে গেল তার। মেঝের দিকে তাকিয়ে দেখলো কাচের গ্লাস টা ভেঙে চুরমার হয়ে আছে। মাথা তুলে ইন্ধনের পানে দৃষ্টি আরোপ করতেই আরেক দফা আৎকে উঠলো সে। র,ক্তলাল মুখশ্রী আর অগ্নিকুণ্ড চোখ জোড়া দেখে হতবুদ্ধি হয়ে গেল সে। তাঁর আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিলো ইন্ধন পরবর্তী কাজটা। আচমকা ইন্ধন তেড়ে এসে এক হাতে পঙ্খির চোয়াল সজোরে চে,পে ধরলো। তীব্র ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠলো পঙ্খি। তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে চোয়াল শক্ত করে ইন্ধন বলে উঠলো।
--অন্যায় একবার মেনে নেওয়া যায়, দুইবার বার মেনে নেওয়া যায়,তিনবারও মেনে নেওয়া যায়। তবে এতবারও করা ঠিক না যে, অন্যায় মেনে নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর অস্তিত্বই না থাকে।
কথাটা বলেই ঝটকা মেরে পঙ্খিকে ছেড়ে দিয়ে হনহন করে চলে যেতে লাগলো। দরজা পর্যন্ত এসেই আবার থেমে গিয়ে পেছনে না ঘুরেই বলে উঠলো।
--খাবার যেন আমি পড়ে থাকতে না দেখি। ঢং করে না খেয়ে থাকা এসব আমার সামনে চলবেনা।খাবার এমনি এমনি আসে না।মেহনতের বিনিময়ে আসে। খাবারের অপচয় আমার একদম পছন্দ না। তাই এসব ঢং অন্য কোথাও গিয়ে দেখাবে। ভালোই ভালোই খেয়ে নিবে নাহলে খারাপ টাও আমার জানা আছে।
বয়ান শেষে দরজা খুলে ধুম করে বেড়িয়ে গেল ইন্ধন। পঙ্খি ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো। চোখ বেয়ে নেমে এলো নোনাজল। তিক্ততায় ভরে উঠলো তার মন। সে কিসের শাস্তি পেল সেটাই বুঝতে পারছে না।মানলো নাহয় সে এই ঘটনার কারণে মানুষিক চাপে আছে।কিন্তু ওতো লোকটার পক্ষেই কথা বলছিল। তাহলে এমন অসৎ আচরণ কেন করলো ওর সাথে? আর কিসব আবোলতাবোল বলে গেল তখন? একবার অন্যায়, দুইবার অন্যায় এসব কি?
এমন সময় কেউ দরজায় নক করলো। পঙ্খি নিজেকে একটু সামলে নিয়ে চোখ মুছে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিলো। কাজের মেয়ে চুমকি ঝাড়ু হাতে ঢুকলো ঘরে। মুখে তার চাপা হাসি। যেন সে খুব মনোরঞ্জনের কিছু দেখছে।পঙ্খি বুঝতে পারছে তার এই হাসির কারণ। ঘরে এসে কাচের টুকরো গুলো ঝাড়ু দিয়ে তুলতে লাগলো। ও জানলো কিভাবে? হয়তো উনিই বলেছেন। পঙ্খি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আবার গিয়ে বসলো। মনে পড়লো ইন্ধনের হুমকির কথা। খাবার নিয়েও তাকে কতো কথা শুনিয়ে গেল। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও খাবার প্লেট হাতে খাওয়া শুরু করলো। চুমকি ঝাড়ু দিতে দিতে লাজুক হেঁসে বলে উঠলো।
--ভাবিজান খাইয়া দাইয়া গায়ে শক্তি যোগান। নালি আবার ধকল সইতে পারবেন না। ভাইজান যেই তাগড়া যুবক বাবা!!
বেচারি পঙ্খির গলায় ভাত আঁটকে গেল। খুকখুক করে কাশতে লাগলো সে। চুমকি দৌড়ে এসে পানির গ্লাসটা এগিয়ে দিলো পঙ্খির দিকে। পঙ্খি পানি খেয়ে কোনরকমে বলে উঠলো।
--কি যাতা বলছিস তুই? আজাইরা প্যাঁচাল বাদ দিয়ে নিজের কাজ কর।
চুমকি বলে উঠলো।
--আরে ভাবি এতে লজ্জার কি আছে। আমরা তো মাইয়া মাইয়াই। কয়দিন আগেই তো আমার বিয়া হইলো কলিমের হাতে (সাথে)। তাই আমি এগুলান জানি। এই মদ্দা মানুষ গুলা মেলা খারাপ। রাতভর ঘুমাইতে দেয়না। আমার তো হারা গাও ব্যাথা কইরা দিছিলো।
পঙ্খির কান দিয়ে যেন গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। সে ধমকের সুরে বলে উঠলো।
--এই ছেড়ি তুই যাতো এখান থেকে। গিয়া তোর কলিমের কোলো বসে থাক। আমাকে তোর কাহিনি শুনতে হবে না। যা এখান থেকে।
বেচারি চুমকি মুখটা কালো করে চলে গেল। তাঁর মহান জ্ঞানের কোম দামই দিলো না। অথচ কতজন ওর কাছে এই জ্ঞান চায়। ভালোর কালই নাই আজকাল।
খেয়ে দেয়ে বসে থাকতে থাকতে একসময় চোখ জোড়ায় ঘুমের পাহাড় নেমে আসে। সে বসে থাকা অবস্থায়ই খাটের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম ভাঙে রোজকার সময় অনুযায়ী। ঘুম থেকে জেগে নিজেকে বিছানায় শোয়া অবস্থায় দেখে সে। গায়ে চাদর জড়ানো। পঙ্খির যতদূর মনে আছে সেতো চাদর নিয়েছিল না। তাহলে চাদর কোথাথেকে আসলো? রুমেও তো কেউ নেই। উনি কও রাতে আর আসেন নি? বিছানার থেকে নেমে টেবিলের দিকে চোখ যেতেই দেখলো খাবারের প্লেট গুলো একেবারে খালি। কিন্তু ওতো পুরো খাবার খেয়েছিল না। আসলে খেতে পারছিল না। তাই রেখে দিয়েছিল। কিন্তু এখন তো প্লেট খালি দেখছি। তাহলে কে খেলো? নাকি বিড়াল ঢুকেছিল ঘরে?
__
নামাজ শেষে খাবার ঘরের দিকে এলো পঙ্খি। রান্না না করলেও কিছু টুকটাক সাহায্য করার চেষ্টা করে সে। একেবারে বসে থাকাটা শোভনীয় দেখায় না। বসার ঘরের দিকে আসতেই এখানে উপস্থিত লোকজন কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। বিশেষ করে খোদেজা বেগম। মুখটা টক খাওয়া মানুষের মতো চুকা করে রেখেছে। পঙ্খিকে দেখেই বলে উঠলো।
--কিলো ছেড়ি শেষমেশ আমার নাতিডারে বস কইরাই ছাড়লি। কমজম ন* না তুই। এচ্ছি ছি ছি ছি। তয় বেশি খুশি হইস না। এই খুশি বেশিদিন টিকবে না।
সকাল সকাল এই অকথ্য বাণী হজম করে পঙ্খি নিজের কাজ করতে লাগলো। এসব যে এখন ওর নিত্যকার সঙ্গী হয়ে গেছে। পঙ্খি রান্নাঘরে এসে রাবেয়া আর জাহানারা কাজ করছে। জাহানারাকে দেখে একটু অবাক হচ্ছে পঙ্খি।এমিনতেতো সে ছোট ছোট কাজেই ওকে কতো কথা শুনিয়ে দেন। অথচ কালকের ঘটনা নিয়ে উনি কোন কিছুই এখনো বললোনা।খোদেজার মতো খোঁচা মেরে কিছু বললোনা। বিষয় টা কেমন অদ্ভুত। পঙ্খিকে আসতে দেখে রাবেয়া বলে উঠলো।
--আরে আরে তুমি আসলে কেন? গেদা দেখলে আবার রাগ করবো। তুমি বরং গিয়া আরাম করো।
--আপনারা কাজ করবেন আর আমি বসে থাকবো এটা কেমন দেখায়? রান্না না করলাম। আপনাদের সাহায্য তো করতে পারি।
--আচ্ছা ঠিক আছে। এক কাজ করো। তুমি এই ট্রে নিয়ে সবাইকে চা দিয়ে দাও। আর কফির মগটা ইন্ধন কে গিয়ে দাও। ও হয়তো বাইরে আছে। ওখানে দিয়ে আসো।
পঙ্খি আমতাআমতা করে বললো।
--আমি দিবো?
--হ্যাঁ তুমি দিবে নাতো কে দিবে? এননিতেও তুমি এখন ওর বউ। তো তুমিই তো ওর সবকিছুর খেয়াল রাখবে। দেখ বিয়েটা যেভাবেই হোক। এখন তোমরা স্বামী স্ত্রী। এটা দুনিয়ার সবচেয়ে পবিত্র বন্ধন। তাই এই সম্পর্কটাকে মন থেকে মেনে নাও। আর সম্পর্কটাকে সফল করার চেষ্টা করো। এখন যাও কফি দিয়ে এসো।
পঙ্খি জোরপূর্বক হেসে কফির ট্রে টা হাতে নিয়ে বাইরের দিকে গেল। বেচারি রাবেয়াকে আর তো সে বলতে পারছেনা তাঁর ছেলের আসল কহিনি। সেতো এখন প্রেমিকা বিরহে মরছে।
পঙ্খি বাইরে এসে কোথাও ইন্ধনকে দেখতে পেল না। সে আরেকটু এগিয়ে গিয়ে খুঁজলো তাও পেলনা। না পেয়ে ফিরে আসতে নিলেই হঠাৎ গেটের বাইরে থেকে কিছু আওয়াজ শুনতে পেল। পঙ্খি একটু এগিয়ে গিয়ে গেটের ফাঁক দিয়ে বাইরে উঁকি দিয়ে দেখলো ইন্ধন দুজন লোককে টাকা দিচ্ছে। পঙ্খি ভালো করে লক্ষ্য করলে ওর মনে পড়লো এরাতো সেই লোকগুলোর মাঝে ছিল। যারা কাল ওদের ঘেরাও করেছিল। কিন্তু ইন্ধন এদের টাকা দিচ্ছে কেন? তখনই ইন্ধনের বলা কথা কানে এলো। সে বলছে।
--তোদের এখানে আসতে মানা করেছিলাম না? টাকা তো আমি পৌঁছে দিতাম।
--আরে ভাই সবুজরে যে মাইর দিছেন। সেতো এখন বেশি টাকা চাচ্ছে। তাই আসতে হলো।
--আচ্ছা আচ্ছা টাকা নিয়ে জলদি ফুট এখান থেকে।
এদের কথপোকথন শুনে পঙ্খি স্তব্ধ হয়ে গেল। তারমানে এসব ইন্ধন করিয়েছে? কিন্তু কেন?
চলবে......
(ব্যাস্ততার মাঝে আছি। কাল হয়তো গল্প দিতে পারবোনা।আর হ্যাঁ আমি কোন পর্বই রিচেক করে দেইনা। তাই ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমার চোখে দেখবেন)
গল্পের লেটেস্ট আপডেট পেতে আর গল্প নিয়ে যেকোনো আলোচনা আড্ডা দিতে আমার গ্রুপে জয়েন হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। নিচে গ্রুপ লিংক দেওয়া হলো। জয়েন হতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 👇
গ্রুপ
https://facebook.com/groups/170529085281953/