ফন্ট সাইজ:
থিম:
মৃগতৃষ্ণা

১৬তম পর্ব

লেখক: মেহরুমা নূর

#মৃগতৃষ্ণা----১৬ (কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫)

#লেখিকা-মেহরুমা নূর

★পঙ্খির অন্তর্দেশ মুষড়ে উঠছে বারংবার। ভাবনারা মস্তিষ্কের তাঁর গুলো টেনে ছিঁড়ে ফেলছে। রক্তনালির ভেতরের তরল পদার্থ টা যেন জমে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। ভীতি আর অস্থিরতার সংমিশ্রণে অনূভুতি গুলো ছন্নছাড়া হয়ে যাচ্ছে। সেকি কি শুনলো তখন? ওটা কি সত্যি ছিল? এইসব কি তাহলে ইন্ধনের রচায়িত ষড়যন্ত্র? কিন্তু কেন? কেন করলো সে এমন? কি চায় সে? নিজের ভাইয়ের বিধবাকে বিয়ে করার জন্য এই নাটক কেন করলেন উনি? সেতো অন্য কাউকে ভালোবাসে। আমাকে তো সে দেখতেই পারে না। কথায় কথায় অপমান করে আমাকে। তাহলে আমাকে বিয়ে করার জন্য এতোসব পরিকল্পনা আর ছল চাতুরী কেন করেছেন উনি? লোকটা যেমনই হোক তবে এতোটা ছলনাকারী হবে সেটা কখনো ভাবেনি পঙ্খি। সে শুধু আমাকে না। আমার সাথে সাথে তার প্রেমিকাকেও ধোঁকা দিয়েছে। কিন্তু কিসের জন্য? এই শরীরের জন্য???

ভাবতেই যেন ঘৃণায় ভেতর বাহির কলুষিত হয়ে গেল পঙ্খির। শেষমেশ ইন্ধনও ওইসব নরপি,শাচ দের মতোই বের হলো। যাঁরা নারীকে শুধুই ভো,গের বস্তু মনে করে। আর তাঁদের মনকামনা পূরণ করতে তাঁরা যেকোনো পন্থা অবলম্বন করতে প্রস্তুত। পঙ্খির হঠাৎ মনে এলো সেদিন রাতের কথা। যেদিন অন্ধকারে কেউ ওর সাথে ঘৃণিত আচরণ করেছিল। তবে কি সেদিনও ইন্ধনই ছিল? কারণ ইন্ধনের আসার পরই ওই ঘটনা ঘটেছিল। তারমানে ইন্ধনই..... আর ভাবতে পারছেনা পঙ্খি। ছিহ্ এতো নি,কৃষ্ট উনি? আর আমি কিনা ওই ব্যাক্তির স্ত্রী হয়ে গেছি? এখন নিজের ওপরই ঘৃণা হচ্ছে পঙ্খির। সেদিন পানিতে ডুবে ম,রে কেন গেলিনা তুই? তাহলে আজ এই জ,ঘন্য লোকটার জালে আটকাতে হতোনা তোকে। কিন্তু এখন আর না। উনার আসল চেহারা এসে গেছে আমার সামনে। এবার আমি আর উনার জালে ফাঁসব না। কিছুতেই না।

পঙ্খির ভাবনার মাঝেই ইন্ধন দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো। ইন্ধন কে দেখেই ক্রোধের আগুন জ্বলে উঠলো পঙ্খির সর্বাঙ্গে। ফলশ্রুতি ঘটলো এক অকল্পনীয় ঘটনা। ইন্ধন ঘরের মাঝামাঝি আসতেই পঙ্খি আচমকা উঠে গিয়ে দুই হাতে ইন্ধনের কলার চেপে ধরলো। ঘটনার আকস্মিকতায় ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল ইন্ধন। বিস্মিত চোখে তাকালো পঙ্খির পানে। পঙ্খি আক্রমনাত্মক রুপ ধারণ করে বললো।

--কেন? কেন করলেন আপনি এসব বলুন?

ইন্ধন কতক্ষণ কপাল কুঁচকে তাকিয়ে রইলো পঙ্খির পানে। তারপর বলে উঠলো।

--আগে কলার ছাড়। তারপর কথা হবে। বিয়ে হতে না হতেই তোমার ভাবভঙ্গি দেখছি পুরাই পাল্টে গেছে। সোজা বরের কলার ধরে ঝুলছ? সাহস তো কম না।

--আপনি আগে আমার কথার জবাব দিন। বলুন কেন করলেন এমন? এতবড় ক্ষতি কেন করলেন আমার?

--মানে? কিসের কথা বলছ তুমি?

--একদম ন্যাকা সাজার চেষ্টা করবেন না। আমি সব জেনে গেছি। ওই লোকগুলোকে টাকা দেওয়া দেখেছি আমি। আপনিই এগুলো করিয়েছেন তাইনা?

ইন্ধন চকিত দৃষ্টিতে তাকালো। তারপর পঙ্খির হাত দুটো ধরে নিজের কলার থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ভাবলেশহীন ভাবে বললো

--আচ্ছা এই কথা? হ্যাঁ আমিই করেছি, তো? এতে এতো আচম্বিত হওয়ার কি আছে?

কথাটা বলে ইন্ধন আয়নার সামনে গিয়ে স্বাভাবিক ভাবে শার্টের বোতাম ঠিক করতে লাগলো। পঙ্খি বিস্মিত কন্ঠে বললো।

--আপনি এতো স্বাভাবিক ভাবে কি করে বলতে পারছেন এই কথা? একটুও লজ্জা করছে না এতবড় একটা অন্যায় করে?

ইন্ধন ঠোঁট বাঁকা করে জিহবা দিয়ে চ এর মতো আওয়াজ বের করে বললো।

--কই নাতো? হওয়া জরুরি বুঝি?

ইন্ধনের এমন দায়সারা ভাব দেখে পঙ্খির গা জ্বলে যাচ্ছে। এতটা নির্লজ্জ কেউ কিভাবে হতে পারে? অতিরিক্ত ক্রোধের বশবর্তী হয়ে পঙ্খি বলে উঠলো।

--ছিহ্ আপনি এতো খারাপ।

ইন্ধন এবার পঙ্খির দিকে ঘুরে দাঁড়াল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে পঙ্খির নিকট এগিয়ে আসলো। বাঁকা হাসির রেখা টেনে বললো।

--তোমার ভাবনার থেকেও বেশি খারাপ। আমার নামের অর্থ জানো? ইন্ধন অর্থ আগুন। আমি শুধু জ্বালাতে জানি।

পঙ্খির ভেতরের ক্রোধ আর ঘৃণা যেন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সে ক্রোধিত স্বরে বলে উঠলো।

--এতকিছু কিসের জন্য? শুধুমাত্র আমার শরীর ভো,গের জন্য? তো দাঁড়িয়ে আছেন কেন? নিজের মনকামনা পূরণ করুন। জানো,য়ারের মতো খুবলে খান আমাকে? নিজের পুরুষত্বের ঘৃণিত রুপ দেখান।

রাগে দুঃখে মুখমণ্ডল লাল ডগডগ করছে পঙ্খির। তবে ইন্ধনের প্রতিক্রিয়ায় তেমন কোন পরিবর্তন হলে বলে মনে হলো না। সে পূর্বের ন্যায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে তাকিয়ে রইলো পঙ্খির পানে। যেন সে অতি বিনোদনমূলক কিছু দেখছে। ঠোঁটের বাঁকা হাসিটাও আরও বিস্তর হলো তাঁর। তারপর পঙ্খির আরও কাছে এগিয়ে এসে হঠাৎ এক হাতে পঙ্খির কোমড় জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। আরেক হাতের আঙুলের সাহায্যে পঙ্খির কপালের চুলগুলো কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে বললো।

--দ্যাটস আ গ্রেট আইডিয়া।আরে এটার জন্য এতো মেলোড্রামা করার কি ছিলো? আমাকে বললেই হতো। তুমি তো দেখছি হেব্বি চালু। সরাসরি না বলে এতো নাটক করলে। যাইহোক কালকে তো বাসর টা করতে পারিনি। রাগিয়ে মাথা গরম করে দিয়েছিলে তাই। তো চলো শুভ কাজটা একন সেরে ফেলি।

অন্তর আত্মা ঝনঝনিয়ে উঠলো পঙ্খির। আতঙ্কে কলিজা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল তার। ওতো রাগের মাথায় ওসব বলে ফেলেছে। কিন্তু এই অসভ্য লোকটা সত্যি সত্যিই...। না না এটা সে কিছুতেই হতে দিবে না। এই অসুর কে জিততে দিবেনা কোনমতেই। পঙ্খি সর্বশক্তি দিয়ে ইন্ধনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো। ক্ষিপ্ত স্বরে বলে উঠলো।

--খবরদার! একদম আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না। ভালো হবে না বলে দিলাম।

--ওমা তুমিই তো বললে তোমাকে খু,বলে খেতে। তো কাছে না আসলে খাবো কিভাবে? দূর থেকে খাওয়ার মতো কোন গ্যাজেট এখন পর্যন্ত কোন বৈজ্ঞানিক তৈরি করেনি।এমন কি মোটু পাতলু কার্টুনের ডঃ ঝটকাও এমন কোন গ্যাজেট বানায় নি। তাই কাছে তো আসতেই হবে তাইনা?

--চুপ করুন আপনি। আর একটা ফালতু কথা বলবেন না। সেদিন অন্ধকারে আপনাকে দেখতে পায়নি। তাই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে আপনি আমাকে সেদিন জ,ঘন্য ভাবে ছুঁয়েছিলেন। তবে আজ না। আজ আপনাকে সেই সুযোগ দেবনা।

এবারে ইন্ধনের চেহারার রুপ বদলালো। বাঁকা হাসিটাও গায়েব হয়ে গেল মুহূর্তেই। কপালে সুক্ষ্ম ভাজ পড়লো। কঠিনত্ব ছেয়ে গেল চেহারায়। পঙ্খির দিকে এগিয়ে এসে শক্ত গলায় বললো।

--হোয়াট? এক মিনিট!! সেদিন রাতে মানে? কোনদিনের কথা বলছ তুমি? তোমার সাথে কেউ কিছু করেছিল?

পঙ্খি তাচ্ছিল্যের সুরে বললো।

--ভাব তো এমন করছেন যেন ভাজা মাছটাও উল্টে খেতে জানেন না। সেদিন আপনিই ছিলেন আমি ভালো করেই বুঝে গেছি। আপনি আসার তিন চারদিন পরই এই ঘটনা হয়েছিল। তাই আর নাটক করে কোন লাভ নেই।

--জাস্ট শাট আপ ইডিয়ট। ঠিক করে বলো কি হয়েছিল? মাথা ফেটে যাচ্ছে আমার। টেল মি ড্যাম ইট।

--আপনি নিজে জানেন না? এত ঢং করছেন কেন? মনে নেই কিভাব অন্ধকারের মাঝে আমাকে পেছন চে,পে ধরে,,,,,

আর বলতে পারলো না পঙ্খি। গলা ধরে আসলো তাঁর। চোখে নেমে এলো অশ্রুধারা। ইন্ধন পঙ্খির দুই কাঁধ ধরে বললো।

--কবে হয়েছে এই ঘটনা? তুমি আগে কখনো বলোনি কেন?

পঙ্খি আবারও ইন্ধন কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বললো।

--বললাম না ছুবেন না আমাকে! সেদিন আপনাকে ধরতে পারিনি। তাই বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে আজ খারাপ কিছু করতে চাইলে একেবারে মে,রে ফেলবো বলে দিলাম।

ইন্ধন স্মিথ হেঁসে বললো।

--মরাকে আবার কিভাবে মারবে? আমিতো সেই কবেই মরে গেছি। মরাকে আবার মারা যায় বুঝি? অবশ্য তোমার দ্বারা তাও সম্ভব।একই ব্যাক্তিকে হাজার বার মারার ক্ষমতাও তোমার মাঝে আছে।

কথাটা বলেই ইন্ধন বেড়িয়ে গেল। ইন্ধনের কথা আবারও পঙ্খির মস্তিষ্কে ঢুকলো না। আর না সে তাতে ভ্রুক্ষেপ করার চেষ্টা করলো। অতিরিক্ত ক্রোধে তাঁর মন মস্তিষ্কে জ্যাম বেঁধে আছে।

___

বসার পানি খেতে এসে দেখলো চুমকি খুব খুশি মনে গান গাইছে আর কাজ করছে। পঙ্খি ভ্রু কুঁচকে বললো।

--কিরে এতো খুশি কিসের জন্য? কি হয়েছে?

চুমকি হাসি মুখে বললো।

--আরে খুশিতো হমুই। এত্তগুলা নতুন কাপড় চোপড় পাইছি। এইগুলান বেচলে মেলা টেহা পামু।

--নতুন কাপড় চোপড় কোথায় পেলি? কে দিলো তোকে?

--আরে জাহানারা চাচী দিছে। ওইযে চেয়ারম্যান চাচা আপনের লাইগা যে সাদা পোশাক গুলা আনছিলো না? ওইগুলা সব আমারে দিয়া দিছে। কারণ আপণের তো এহন বিয়া হইয়া গেছে। আপনের তো এহন এই সাদা পোশাকের কোন কাম নাই। আপনে তো এহন রঙিন রঙিন পোশাক পইড়া ঘুইরা বেড়াইবেন। লাল নীল কাপড় পিন্দা জামাইয়ের হামনে দিয়া ঘুরঘুর করবেন। এহারে রঙ্গবতির মতোন।

পঙ্খি বিষন্ন হয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। রঙিন দুনিয়া! সত্যিই কি তাঁর জীবন রঙিন হয়েছে? নাকি কালো আধারে ছেয়ে গেছে? এরচেয়ে তো ওর আগের বেরঙ জীবনও ভালো ছিলো। এই কলুষিত কালো অন্ধকারের চেয়ে তো অবশ্যই ভালো ছিলো।

এতো এতো দুশ্চিন্তায় চারপাশ কেমন যেন গুমোট হয়ে আসছে। তাই বিশুদ্ধ বাতাসে একটু মন খুলে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য ছাঁদে এলো পঙ্খি। ছাঁদে এসে দেখলো কনিকা ছাঁদের এককোনায় মনমরা হয়ে বসে আছে। আজকাল সে প্রায় এমনই থাকে। সেদিনের পর থেকেই কেমন চুপচাপ হয়ে গেছে। কারোর সাথে ঠিকমতো কথা বলে না। হাসি আনন্দ বা অন্য কোন মনোভাবই প্রকাশ করে না সে। পঙ্খিও বিষয় টা খেয়াল করেছে। তবে নিজের এসব ঝামেলার মধ্যে কনিকার সাথে ভালোভাবে কথাই বলা হয়নি। পঙ্খি এগিয়ে গিয়ে কনিকার কাছে বসলো। কনিকার কাঁধে হাত রেখে নরম সুরে বললো।

--কি হয়েছে আপনার ভাবি? সবসময় এতো উদাসীন থাকেন কেন? আপনি কি কোন কষ্টে আছেন? আমাকে বলুন। আমিতো আপনার ছোট বোনের মতোই তাইনা? বলুন না কি হয়েছে?

কনিকা ছলছল চোখে তাকালো পঙ্খির পানে। হঠাৎ সে পঙ্খিকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। পঙ্খি ঘাবড়ে গেল। কনিকার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো।

--কি হয়েছে ভাবি খুলে বলুন আমাকে?

অনেকক্ষণ কাঁদার পর একটু শান্ত হলো কনিকা। তারপর বলে উঠলো।

--পঙ্খি তোমাকে একটা কথা বলি শুনে রাখো। কখনো মানুষের উপরের চেহারা দেখে ভুলবে না। সবসময় আমরা যেটা দেখি সেটাই সত্যি হয়না।বরং তাঁর উল্টো পিঠে অন্য কিছুও থাকতে পারে। সেটা কখনো ভাালো আবার কখনো মন্দও হতে পারে। তাই অল্পতেই কারোর উপর কোন রায় বানানে উচিত না। আর না অন্ধভাবে বিশ্বাস করা উচিত। তাই চোখ কান সবসময় খোলা রেখে চলবে। যাতে কেউ তোমার সরলতার সুযোগ নিয়ে তোমাকে ধোঁকা দিতে না পারে।

পঙ্খি মনে মনে ভাবলো, সেটা আমার থেকে ভালো আর কে জানে। কিন্তু ভাবি হঠাৎ এ কথা বলছে কেন? সেকি কিছু জেনে গেছে? পঙ্খি বলে উঠলো।

--ভাবি হঠাৎ এসব কথা বলছেন কেন? কিছু হয়েছে?

--যা হওয়ার তাতো হয়েই গেছে। এখন আর বলে কি সেটা ঠিক হয়ে যাবে? তোমাকে এসব বলছি কারণ তুমিও যাতে আমার মতো একই ভুল না করো।

--মানে কি হয়েছে আপনার সাথে?

--আমি.....

--আরে কনিকা তুমি এখানে? আর আমি তোমাকে সব জায়গায় খুঁজে বেড়াচ্ছি।

ওদের কথার মাঝেই জুবায়েদের গলা শুনে কনিকার বাকি কথা অসম্পূর্ণই থেকে গেল। জুবায়েদ কথা বলতে বলতে কনিকার কাছে এগিয়ে এসে হাসিমুখে বললো।

--আরে তুমি এখানে কি করছ? তোমার তো ঔষধ খাওয়ার সময় হয়েছে। চলো চলো ঔষধ খেয়ে আরাম করো।

জুবায়েদ কনিকার কাঁধ ধরে ওকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে লাগলো। পঙ্খি ওদের দিকে তাকিয়ে রইলো। জুবায়েদ ভাইয়া কতো ভালোবাসেন ভাবিকে। কিন্তু তবুও ভাবির মাঝে এতো কিসের কষ্ট?

জুবায়েদ যেতে যেতে আরচোখে কয়েকবার তাকালো পঙ্খির পানে। কালকে পঙ্খির আর ইন্ধনের বিয়ের খবর শোনার পর থেকেই মেজাজ বিগড়ে আছে তাঁর। এতদিন ভর চেষ্টা করেও সে এই রমনীকে কাছে নিতে পারলোনা। অথচ ওই ইন্ধন এসেই বাজি হাঁকিয়ে দিলো। আমার আগেই পঙ্খিকে নিজের ঘরে নিয়ে নিলো। এই ইন্ধন সব জায়গায় আমাকে টেক্কা দিচ্ছে। এরতো একটা ব্যাবস্থা করতেই হবে। আমার ওপর দিয়ে জিততে দেওয়া যাবে না ওকে। আমার জিনিস তো আমি পেয়েই ছাড়বো।

একটু পরে পঙ্খিও ছাঁদ থেকে নেমে এলো। করিডর দিয়ে যেতে নিলেই হঠাৎ সামছুল মজুমদারের ঘর থেকে হালকা আর্তনাদের আওয়াজ শোনা গেল। পঙ্খি বিষয় টা দেখার জন্য দরজা খুলতেই দেখলো জাহানারা মেঝেতে পড়ে আছে। পঙ্খি দৌড়ে গেল তার কাছে। জাহানারাকে ধরে বিছানায় উঠে বসিয়ে দিয়ে বললো।

--বেশি লাগেনি তো? পড়লেন কিভাবে?

জাহানারা একটু দূর্বল কন্ঠে বললেন।

--কি জানি উঠে খাঁড়া হতেই মাথা ক্যাবা জানি ঘুরে উঠলো।

--তাহলে আপনার পেশার হয়তো লো হয়েছে। ডাক্তার কাকারে আসতে বললেই তো হয়। আপনাকে এসে দেখে যাবে। আপাতত একটা ডিম সিদ্ধ করে দেই আপনাকে। খেলে একটু ভালো লাগবে।

--না না থাক লাগবে না। এমনিই ঠিক হয়ে যাবো।

--এমনি কিভাবে হবেন। আপনি বসুন আমি এখুনি নিয়ে আসছি।

পঙ্খি দ্রুত গিয়ে একটা ডিম সিদ্ধ করে নিয়ে এসে জাহানারাকে খাইয়ে দিলো। তারপর বললো।

--আপনি আরাম করুন।চলাফেরা করার দরকার নেই। আর কোনকিছু লাগলে আমাকে বলুন।

জাহানারা বলে উঠলো।

--শোন আমাদের চিন্তা আর করতে হবে না তোমার। তোমার এখন নতুন সংসার হয়েছে। সেটায় মনোযোগ দাও এখন। সংসার কিন্তু এতো সহজ না। অনেক ঝড় ঝাপটা আসে।তবে নিজেদের ধৈর্য রাখতে হয়। ইন্ধনের একটু রাগ বেশি, তবে ছেলেটা কিন্তু অনেক ভালো। তাই ধৈর্য ধরে নিজের নতুন জীবন টা সাজিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করো।

জাহানারার কথায় পঙ্খি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেল। তাঁর বিশ্বাসই হচ্ছে না এসব তাকে জাহানারা বলছে। যে আজপর্যন্ত কথায় কথায় তাঁকে গালমন্দ ছাড়া আর কিছুই বলেনি। সে কিনা আজ ওকে এসব কথা বলছে? ওতো ভেবেছিল এই বিয়ের জন্য হয়তো জাহানারা রেগে আছেন। কিন্তু এখানে তো উল্টো হচ্ছে। জাহানারার এই পরিবর্তন পঙ্খিকে ভাবনায় ফেলছে। যদিও জাহানারার এই সদয় আচরণ তাঁর ভালোই লাগছে। তবে একটা কথা ভেবেই খারাপ লাগছে। জাহানারা যাকে ভালো ছেলে ভাবছে, সে যে কতটা খারাপ তাঁর ধারণাও নেই উনার।এমন অসৎ লোকের সাথে কিভাবে সে সুন্দর সংসারের স্বপ্ন সাজাবে?

__

সারাটা দিন পঙ্খির এমন অশান্তি আর দুশ্চিন্তার মাঝেই কাটলো। সে এখন কি করবে সেই ভাবনার কোন কুল কিনারা হাজার খুঁজেও পাচ্ছেনা । এই অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে সে কিভাবে সামনে এগুবে এই ভাবনাই তাঁকে শান্তি দিচ্ছে না। রাত হচ্ছে তাঁর ভয় বাড়ছে। সারাদিন তো ওই অসভ্য লোকটা আর আসেনি বাড়িতে। কিন্তু রাতে ফিরে এসে যদি আবারও ওর সাথে কিছু করতে চায় তখন কি করবে ও? সেই ভাবনায় কলিজা কেঁপে উঠছে পঙ্খির। এই বিষয়ে তো চিৎকার করে কাওকে কিছু বলাও যাবে না। সে যে এখন স্বামী নামক হকটা পেয়ে গেছে।

রাত তখন দশ টা।পঙ্খি ভাবলো লোকটা ফিরে আসার আগেই চুপচাপ আগের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়বো। তাহলে কেউ বুঝতে পারবে না। যেই ভাবা সেই কাজ। পঙ্খি বাইরে একটু উঁকি দিয়ে দেখলো বাইরে কেউ নেই। সবাই নিজ নিজ কক্ষে ঢুকে পড়েছে। পঙ্খি এবার মৃদু পায়ে বাইরে বের হলো। ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে লাগলো ওর রুমের দিকে। তখনই হঠাৎ কেউ পেছন থেকে এসে পঙ্খিকে চেপে ধরলো। পঙ্খি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন্তুক ওর মুখে রুমাল চেপে ধরলো। মুহূর্তের মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়লো পঙ্খি। আগুন্তকের মুখে সয়তানি হাসির রেখা ফুটে উঠলো।

চলবে......

(রিচেক করা হয়না। তাই ভুল ত্রুটি মার্জনা করবেন)

গল্পের লেটেস্ট আপডেট পেতে আর গল্প নিয়ে যেকোনো আলোচনা আড্ডা দিতে আমার গ্রুপে জয়েন হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। নিচে গ্রুপ লিংক দেওয়া হলো। জয়েন হতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 👇

গ্রুপ

https://facebook.com/groups/170529085281953/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন