#মৃগতৃষ্ণা---১৮ (কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ)
#লেখিকা-মেহরুমা নূর
★উন্মুক্ত গগনতলে নৌকার ওপর পঙ্খিকে নিয়ে শুয়ে আছে ইন্ধন।রাতের পূর্ণ শশীর চন্দ্রপ্রভা বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ছে এই কপোত-কপোতীর উপর। দুটি ভালোবাসাময় মানবিকে দেখে তাঁরাও যেন আশীর্বাদ বর্ষিত করছে।তারাগুলোও ওদের আনন্দে নিত্যদিনের তুলনায় একটু বেশিই ঝলমল করছে। আনন্দে যেন গগনজুড়ে নাচতে চাইছে তাঁরা। নদীর শীতল পবনও সন্তর্পণে ছুঁয়ে দিচ্ছে ওদের। পানির কলকল ধ্বনি আর ঝিঁঝি পোকার ডাকে পরিবেশ আরও মুগ্ধময় হয়ে উঠছে।প্রকৃতির প্রত্যেক উপাদানই ওদের খুশিতে যেন খুশি হচ্ছে। তাঁরা তাদের ক্রিয়াকার্যে এই খুশি জাহির করছো। এক হাতে প্রিয়তমাকে জড়িয়ে নিয়ে গগনমুখি হয়ে শুয়ে আছে ইন্ধন। চন্দ্রবিলাসে মত্ত দুজন। যদিও ইন্ধনের চন্দ্র ওই দূর গগনের টা নয়। ওর চন্দ্র তো ওর পাশেই শায়িত। যে চন্দ্রকে হাজার জনম ভরে দেখলেও সাধ মিটবে না। আরও দুই জোড়া আঁখি থাকলেও হয়তো দেখে শেষ করতে পারবে না ও। এ যে আজন্মের তৃষ্ণা। যা মিটেও মিটবে না।
প্রিয়তমের বাহুতে শুয়ে থেকে চাঁদ দেখছে পঙ্খি।পঙ্খির মনে হচ্ছে ওই চাঁদ টারও বুঝিা আজ ওকে দেখে হিংসে। হিংসে হবেই না বা কেন? ওর কাছে কি এমন অমূল্য ধন আছে নাকি যা আমার কাছে আছে। পঙ্খি চাঁদের দিকে তাকিয়ে মনে মনে অহংকার করে বললো, কিরে হিংসে হচ্ছে তোর? জ্বলছে তাইনা? আমার রাজপুত্র কে দেখে হিংসেই পুড়ে যাচ্ছিস তাইনা? দেখিস জ্বলে পুড়ে কয়লা হয়ে যাসনা। নাহলে আবার লোকজনকে অন্ধকারে থাকতে হবে। আপসোস করিস না। তুইও একদিন তোর রাজপুত্রকে পেয়ে যাবি। কথাগুলো মনে মনে বলে আবার মনে মনেই হাসলো পঙ্খি। খুশিতে বোধহয় ও সত্যিই পাগল হয়ে গেছে।এতো খুশি আঁচলে ধরছে না ওর। সবকিছু কেমন স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। এটা যদি সত্যিই কোন স্বপ্ন হয়ে থাকে তাহলে এই স্বপ্ন থেকে কখনো জাগতে চায়না পঙ্খি। এই স্বপ্নের মাঝেই নিজের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চায় সে।
পাশে ফিরে তাকাতেই ইন্ধনের নেশাগ্রস্ত চাহুনি দেখতে পেল পঙ্খি। লাজে রাঙা হয়ে গেল সে। এই প্রথম কোন পুরুষ তাঁর এতো কাছে এসেছে।এই পুরুষ টা যে ওর স্বামী। ওর প্রেমিক পুরুষ।নতুন অনুভূতির বিশাল ঢেউয়ের দোলা উপচে পড়ছে তাঁর মনে। যে অনুভূতিরা ওর নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাচ্ছে।হৃদয়ে ভীষণ কম্পন জাগছে। চারদিক থেকে লজ্জারা ঘিরে ধরছে ওকে। এতো কেন লজ্জা লাগছে ওর। ইন্ধনের ওই চাহুনি যে জান কেঁড়ে নিচ্ছে ওর। তীরের মতো ওর হৃদয়ের আড়পার হয়ে যাচ্ছে। তাকাতে পারছেনা সে ইন্ধনের দিকে। পঙ্খি মাথা নুইয়ে লাজুক হেঁসে বললো।
--কি দেখছেন এভাবে?
ইন্ধন মুচকি হেঁসে নৌকার পাশে নদীতে হাত নামিয়ে একটা কস্তুরির ফুল ছিঁড়ে আনলো। তারপর সেটা পরম যত্নে পঙ্খির কানে গুঁজে দিলো। পঙ্খির পানে নেশাগ্রস্ত চোখে তাকিয়ে, গালে হাত বুলিয়ে মায়াবী কন্ঠে বলে উঠলো।
""তোমার ওই মায়াবী চোখে কি ছিলো বলতে পারো
যতো দেখছিলাম মন চাইছিলো দেখতে থাকি আরও
তুমি রাজকন্যারুপী স্নিগ্ধতার শহর
বলো কোন উপমা দিয়ে বোঝাই তোমার রুপের বহর
তোমার হাসির ঝংকারে মনটা উড়াল দিলো
অকপটেই যেন হৃদয় তোমার চিত্র এঁকে নিলো
দীর্ঘকেশে এলোমেলোভাবে চলা এলোকেশী
প্রশান্তি ছড়িয়ে দেওয়া তুমি যে রুপসী
তবে একদিন পাল্টে যায় সবকিছু
ক্ষণিকের বিচ্ছেদে ছাড়তে হয় তোমার পিছু
তৃষ্ণার্ত চোখে খুঁজেছি তোমায়
এই বুঝি প্রাণবন্ত করবে আমায় তোমার ছোঁয়ায়
কিন্তু তুমি আসোনি, এসেছে শুধুই তোমার স্মৃতি
না পাওয়ার আকুল আর্তনাদে অন্তকরণে হয়েছে বিকৃতি
তবুও তোমার দেওয়া জিনিস গুলোর মাঝে তোমায় পেতাম
কল্পনায় হারিয়ে আবেশে তোমায় আগলে নিতাম
এখন যখন পেয়ে গেছি, আর দিবো না হারাতে
মুগ্ধ হয়ে পড়ে থাকব তোমার পাড়াতে"""
ইন্ধন পঙ্খির নাকের সাথে নাক লাগিয়ে নেশাময় কন্ঠে বললো।
--ভেবেছিলাম তুমি আমার জীবনে আসলে আমার সব অশান্তি দূর হয়ে যাবে। তোমাকে পেলে এই পাগল মন শান্ত হয়ে যাবে। কিন্তু এখানে তো উল্টো হচ্ছে। তুমিতো আমাকে আরও ছন্নছাড়া পাগল করে দিচ্ছো। অশান্ত মনটাকে এবার ঘরছাড়া পথিক করে দিচ্ছো তুমি। রোগীর পীড়া নিবারন করার বদলে তাকে তুমি আরও অসুস্থ করে দিচ্ছো।কেমন ডাক্তার তুমি? এ কেমন মহিমা তোমার? কি কালাযাদু জানো তুমি? বলোনা?
পঙ্খি কি বলবে।ইন্ধনের এতো কাছে আসায় তাঁর তো এখন নিঃশ্বাস ছাড়াও দুর্বোধ্য হয়ে যাচ্ছে। হৃদপিণ্ড বুঝি এবার পিঞ্জর ভেঙে বেড়িয়েই আসবে। মৃদু কম্পন এবার তীব্র কম্পনে পরিণত হচ্ছে। পরিস্থিতির মোড় ঘুরাতে পঙ্খি কোনরকমে কম্পিত স্বরে বললো।
--ব বলছিলাম যে আপনি তখন বললেন আমাকে নাকি দূর থেকে সাহায্য করেছেন। কিন্তু কিভাবে সাহায্য করেছেন?
ইন্ধন মাথা তুলে বললো।
--নিজেই ভেবে দেখ। দেখ বুঝতে পারো কিনা। তোমার জীবনে হঠাৎ কি কি পরিবর্তন ঘটলো।
পঙ্খি কিছুক্ষণ ভাবতে লাগলো। তারপর হঠাৎ চোখ বড়বড় করে বললো।
--তারমানে আপনিই আমার আলমারিতে আগুন লাগিয়েছিলেন?
--হুম লাগিয়েছিলাম। কারণ তোমার ওই বেরঙ পোশাক আমাকে তীব্র যন্ত্রণা দিতো। তোমাকে ওই পোশাকে দেখলেই মাথা গরম হয়ে যেত আমার। আর আমি জানতাম হাজার বললেও তাতে কোন পরিবর্তন আসতো না। আমার পরিবারের মুরুব্বিরা এখনো সেই সো কল্ড রীতি রেওয়াজ নিয়েই পড়ে আছে। তাদের কাছে ওটাই বড়ো। তাইতো আমার পন্থা অবলম্বন করেছি। পরশুদিন যখন শুনলাম চাচা আবারও তোমার জন্য ওই বেরঙ পোশাক কিনতে যাচ্ছে। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি। তোমার জীবন থেকে আমি ওই বেরঙ পোশাক সারাজীবনের জন্য সরিয়ে দিবো। তখনই আমাদের বিয়ের পরিকল্পনা করি আমি।
--আপনি দেখছি ভারী চতুর। এক মিনিট! তারমানে আমাকে ডাক্তার দেখতে আসাটাও কোন কাকতালীয় ছিল না? আপনি ইচ্ছে করেই সেদিন অসুখ বাঁধিয়েছিলেন তাইনা?
--হ্যাঁ সেদিন দরজার বাইরে থেকে তোমাকে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখেছিলাম। তোমাকে ওই অবস্থায় দেখে আৎকে গিয়েছিলাম আমি। শুধু মনে হচ্ছিল যেভাবেই হোক তোমাকে ডাক্তার দেখানো দরকার। কিন্তু সরাসরি তোমার কথা বললে সবাই অন্য নজরে দেখতো বিষয় টা। তাই তখন ওটাই একমাত্র উপায় ছিলো। ছায়াকে চুপ করে সব বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। যদিও মোটা অংকের টাকা খেয়েছে কাজের জন্য।
পঙ্খির আঁখি যুগলে আবারও অশ্রুরা ভীড় করলো। কেউ তাকে আড়াল থেকে এতোটা ভালোবেসে যাচ্ছিল অথচ তার কোন ধারণাই ছিল না ওর। এতোটা ভাগ্যবতী কিভাবে হয়ে গেল ও। একটু সময় নিয়ে পঙ্খি আবারও বলে উঠলো।
--সেদিন খাবার নিয়ে রাগ দেখানোটাও আপনার নাটক ছিলো তাইনা? যাতে আমার রান্না করতে নাহয়?
--রাগটা পুরোপুরিও নাটক ছিলোনা। তোমার হাত কাটা দেখে আমার সত্যি সত্যিই ভীষণ রাগ হয়েছিল। হ্যাঁ তবে খাবার নিয়ে বলা কথাগুলো মিথ্যে ছিলো। তবুও তোমাকে এতগুলো কথা শুনিয়ে আমিও শান্তি পাইনি। শাস্তিও দিয়েছি নিজেকে। দুদিন না খেয়ে থেকেছি। তবুও মনে হচ্ছিল তোমার ওই অপমানের সামনে যেন এটা কিছুই না। তুমি চাইলে এখনো আমাকে যেকোনো শাস্তি দিতে পারো।
পঙ্খি মুচকি হেঁসে বললো।
--হুম দেবো তো শাস্তি। আপনার শাস্তি হলো সারাজীবন আমার হাতের ওই পঁচা খাবারই খেতে হবে।
--মঞ্জুর হে।
--আচ্ছা আপনি বললেন। বিয়েটা আপনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আপনি কি করে বুঝলেন যে তখন ঝড় আসবে। আর আমরা ওইখানে যাবো?
ইন্ধন পঙ্খিকে ধরে রাখা হাতের বাঁধন টা আরেকটু চেপে ধরে বললো।
--ভারতের অভিনেতা শাহরুখ খানের একটা ফেমাস ডায়লগ আছে। "কিসি চিজ কো আগার তুম পুরে দিল ছে চাহো, তো পুরি কায়নাত উছে তুম হে মিলানে কি সাজিশ মে লাগ যাতি হে"। যার অর্থঃ-কোন জিনিস যদি তুমি পুরো মন থেকে চাও,তো পুরো পৃথিবী সেটা সফল করার জন্য লেগে পড়ে। আমার ক্ষেত্রেও কিছুটা তেমনই হয়েছে। আমার প্ল্যান ছিলো বাচ কোনভাবে ওই জায়গাটায় পৌঁছানো। কিন্তু কিভাবে যাবো সেটা আমিও বুঝতে পারছিলাম না। তবে ভাগ্য আমাকে ঠিকই পথ দেখিয়ে দিলো। এতেই বোঝা যায়। কুদরতও আমাদের পক্ষে। ভাগ্য আমাদের কে এক করতে চায়। তাইতো এতকিছুর পর তোমাকে আমার করে দিয়েছে। রাজকন্যাকে রাজপুত্রের রাণী করে দিয়েছে।
মুচকি হাসলো পঙ্খি। ইন্ধন পঙ্খির কপালের সাথে কপাল হঠাৎ আবেগী কন্ঠে বললো।
--কিন্তু আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম পঙ্খি। তখন ওই ঝড়ের মাঝে আমার শুধু একটাই কথা মনে হচ্ছিল। তোমাকে আমি আবারও না হারিয়ে ফেলি। তোমার কিছু হয়ে গেলে আমি নিঃশেষ হয়ে যাবো পঙ্খি। একেবারে নিঃশেষ। প্রমিজ করো আমাকে। কখনো আমাকে ছেড়ে যাবে না। কখনো না।
মুষড়ে উঠলো পঙ্খির অন্তর। চোখের অশ্রু আবারও বাঁধ ভেঙে বেড়িয়ে এলো। ইন্ধনের গালে হাত রেখে কান্না মিশ্রিত গলায় বললো।
--কোথায় যাবো? এক আপনাতেই তো আমার অন্ত। আমার সব পথ আপনাতেই শুরু আর আপনাতেই গিয়ে শেষ হয়। আপনি ছাড়া কে আছে আমার।আমার ভূবণ তো শুধুই আপনি।
প্রাপ্তির হাসি ফুটলো ইন্ধনের ঠোঁটে। মুখ নামিয়ে চুমু এঁকে দিলো পঙ্খির ললাটে।প্রিয়তমের প্রথম ভালোবাসার স্পর্শ পেল পঙ্খি। আবেশে চোখ বুজলো সে। ইন্ধনের চাহিদা বাড়লো। নজর গেল তাঁর পঙ্খির অধরে। কাঁপতে থাকা পঙ্খির অধরে অধর মিলিয়ে নিলো ইন্ধন। কম্পন তীব্রতর হলো পঙ্খির। ইন্ধনের শার্ট আঁকড়ে ধরলো সে। চুম্বন ক্রিয়া শেষে পঙ্খিকে আবারও বাহু বন্ধনে আবদ্ধ করে নিলো ইন্ধন। পঙ্খিও লজ্জায় মুখ লুকালো ইন্ধনের বুকে।
কিছুক্ষণ পর হঠাৎ কিছু একটা মনে আসতেই পঙ্খি মাথা তুলে ইন্ধনের দিকে তাকিয়ে বললো।
--আচ্ছা ভালো কথা। সেদিন আপনি ভাইকে মারছিলেন কেন? কি হয়েছিল?
ইন্ধন ফোৎ করে একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো।পঙ্খির চুলে বিলি কেটে বললো।
--এই বিষয়ে তোমার না জানাই ভালো পঙ্খি। তোমার মন ক্ষুন্ন হবে।
--এমন করে কেন বলছেন? কি এমন হয়েছে? বলুন না প্লিজ? না জানা পর্যন্ত আমার শান্তি হবে না।
--ঠিক আছে শোন তাহলে। আসলে তোমার ভাইয়াকে দেখে আমি চিনে ফেলি। আমি খুশি হয়ে তার কাছে তোমার কথা জিজ্ঞেস করি।তখন সে বলে তোমার নাকি বিয়ে হয়ে গেছে। তখনই আমার সর্বস্ব যেন মুহূর্তেই প্রাণহীন হয়ে যায়। আমি চলে আসতে নেই ওখান থেকে। আবার কি মনে করে তোমার ভাইয়ের কাছে আবার ফিরে যাই। তখনই দেখি সে কারোর সাথে ফোনে কথা বলছে।উল্টো দিকে ঘুরে থাকায় সে আমাকে দেখতে পায় নি। আর তখন তার কথা শুনে আমি জানতে পারি যে তোমার ভাইয়েরা তোমাকে দশ লাখ টাকার বিনিময় তোমাকে বিয়ে দিয়েছে।
স্তব্ধ হয়ে গেল পঙ্খি। নিজের কানকে বিশ্বাস হচ্ছে না ওর।ওর ভাইয়েরা নাহয় একটু স্বার্থপর। তাই বলে এতো নিচে নামবে তারা! টাকার বিনিময়ে তাঁরা নিজের আপন বোনকে এভাবে বিক্রি করে দিবে। ভাবতেই যেন বুক কেঁপে উঠছে ওর। না না এটা হতে পারে না। এতো খারাপ ওর ভাইয়েরা হতে পারে না। পঙ্খির মনের অবস্থা বুঝতে পেরে ইন্ধন পঙ্খিকে বুকের মাঝে আগলে নিয়ে মায়া ভরা কন্ঠে বললো।
--দুঃখ করোনা পঙ্খি। যা হবার তা হয়ে গেছে। ওসব ভুলে যাও। এখম তুমি আমার কাছে আছো এটাই সবচেয়ে বড়ো কথা। আর আমি থাকতে তোমাকে এক বিন্দু দুঃখও ছুঁতে পারবেনা। আর কেউ সেই দুঃসাহস দেখালেও তাঁর পরিণাম চরম ভয়াবহ হবে। যেমনটা ওই মারুফের হয়েছে।
চমকে উঠলো পঙ্খি। বিস্মিত চোখে তাকিয়ে বললো।
--তারমানে আপনিই ওর হাত কেটেছেন??
ইন্ধন চোয়াল শক্ত করে বললো।
--ওকে তো জানে মারতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওর বউ বাচ্চার জন্য ওর জান ভিক্ষা দিয়েছি। শুধু হাত কেটেই শাস্তি দিয়েছি।
ইন্ধনের কথায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেল পঙ্খি। ইন্ধনের এই উন্মাদনা দেখে ভালোও লাগছে আবার ভয়ও করছে।পঙ্খির প্রতি এই পাগলামি আবার কোন সর্বনাশ না ডেকে আনে।
কিছুক্ষণ পর পঙ্খি আবার বলে উঠলো।
--ওসব তো ঠিক আছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিনা আপনার চাচা এতো টাকা দিয়ে কেন ছেলে বিয়ে করালেন। ওনারা চাইলে তো এমনিতেই বড়ো বড়ো ঘরের মেয়েদের উনার ছেলের সাথে খুশি খুশি বিয়ে দিতে চাইতো। তাহলে আমার মতো সামান্য গরীব ঘরের মেয়েকে এতো টাকা দিয়ে কেন বিয়ে করালেন।
--হুমম..সেটাতো আমিও ভাবছি। চাচাকে জিজ্ঞেস করলেও তিনি বলবেন না। তাই আমি উনাকে কিছু বলিনি। তবে এতটুকু বুঝতে কিছু একটা তো ঘটনা আছে। তবে আপাতত ওসব কথা বাদ দাও।ওসব নিয়ে অন্যদিন ভাববো। এখন শুধু এই সুন্দর মুহূর্ত টাকে এনজয় করো। আর তোমার স্বামীর ওপর ফোকাস করো। এতো হট গাই তোমার সাথে আছে। তাঁর ওপর নজর দাও।
পঙ্খি বোকার মতো বলে উঠলো।
--হট গাই?মানে গরম গাই? গাই আবার গরম হয় কিভাবে? গাইয়ের দুধ জাল দিলে তবে না গরম হয়।
পঙ্খির কথা শুনে ইন্ধন কতক্ষন হা করে তাকিয়ে রইলো। তারপর হু হা করে হেঁসে উঠলো। হেঁসে উঠে বললো।
--হট গাই মানে ওই গাই গরু না। হট গাই মানে হ্যান্ডসাম সুদর্শন ছেলে। জানো তুমি কতো লাকি? তোমার সামনে থাকা এই ছেলেটাকে পাওয়ার জন্য সব মেয়েরা হাহাকার করে।রাতে স্বপ্নে কতকিছু করে আমাকে নিয়ে ? তোমার জায়গায় অন্য কেউ হলে এতক্ষণে আমাকে শেষ করে দিতো।কতো কষ্টে যে নিজের ভার্জিনিটি অক্ষত রেখেছি তা শুধু আমওই জানি।
পঙ্খি ইন্ধনের বুকে আলতো করে কিল মেরে বললো।
--ছিহ..কথার কি ছিড়ি।
--ওই দেখ সত্যি কথার মূল্যই দেয়না কেউ।
পঙ্খি হেঁসে দিলো। সাথে হাসলো ইন্ধনও। বুকে মিলিয়ে নিলো পঙ্খিকে। পঙ্খি খুঁজে পেল প্রশান্তির ঠিকানা।
এভাবেই প্রকৃতির নিবিড় মায়ায় হারিয়ে দুজন রাতভর প্রেমালাপে মত্ত থাকে। একসময় নৌকার ওপরেই ঘুমিয়ে পড়ে তাঁরা। ভোরের আযান পড়তেই পঙ্খির ঘুম ভেঙে যায়। চোখ মেলে নিজেকে সে ইন্ধনের বুকে পায়। লজ্জা আর ভালোলাগার মিশ্রণে সুন্দর এক অনুভূতি ছড়ায় তাঁর মাঝে। ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে চারপাশে। লোকজন চলে আসতে পারে তাই পঙ্খি আসতে করে ইন্ধন কে ডাক দিলো। ইন্ধনের কোন হেলদোল হলোনা। পঙ্খি এবার একটু হালকা ঠেলা দিয়ে ইন্ধন কে ডাকলো। চোখ মেললো ইন্ধন। ঘুমু ঘুমু কন্ঠে বললো।
--ঘুমাতে দাওনা।
--দেখুন মানুষজন চলে আসবে। উঠুন দয়া করে। বাড়ি যেতে হবে।
বিরক্তি ভাব নিয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠে বসলো ইন্ধন। পঙ্খির পানে তাকিয়ে বললো।
--ঠিক আছে। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে কিন্তু আমি আবার ঘুমাবো। আর তোমাকেও আমার সাথে শুয়ে থাকতে হবে। বলো রাজি? তাহলে আর যাবো।
--এটা কেমন কথা? সবাই কি ভাববে?
--সেসব ভাবার সময় নেই আমার। আগে বলো রাজি?
--আচ্ছা ঠিক আছে আগে চলুন।
অতঃপর পঙ্খির হাত ধরে বাড়ির দিকে রওয়ানা হলো তাঁরা। দুজন প্রসন্ন আর সুখী মনে বাড়িতে আসলো। তবে বাড়ির দরজায় পা রাখতেই তাঁরা যা দেখলো তাঁর জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলনা ওরা। মুহূর্তেই যেন ওদের সব খুশি হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। যখন বসার ঘরে পঙ্খির প্রথম স্বামী নাঈম কে দেখতে পেল।
চলবে......
গল্পের লেটেস্ট আপডেট পেতে আর গল্প নিয়ে যেকোনো আলোচনা আড্ডা দিতে আমার গ্রুপে জয়েন হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। নিচে গ্রুপ লিংক দেওয়া হলো। জয়েন হতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 👇
গ্রুপ
https://facebook.com/groups/170529085281953/