#মৃগতৃষ্ণা---২৮ (কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫)
#লেখিকা-মেহরুমা নূর
★রুমে এসে পঙ্খিকে না দেখে ভ্রু কুঁচকে আসলো ইন্ধনের। কনিকাকে নিয়ে যাওয়ার সময় ইন্ধনও ওদের সাথে গিয়েছিল। কনিকাকে ছাড়ানোর ব্যাপারে শাকিলের সাথে কিছু কথা বলতে গিয়েছিল সে। বাসায় আসার পর থেকে পঙ্খিকে দেখেনি। এখন রুমে এসেও তাঁর দেখা নেই। ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ দেখে বুঝলো পঙ্খি ওয়াশরুমে হয়তো। তাই সে গিয়ে বিছানায় গিয়ে নিজেকে একটু এলিয়ে দিলো। কিন্তু অনেক টা সময় পার হওয়ার পরও পঙ্খিকে বের হতে না দেখে কেমন খটকা লাগলো ইন্ধনের। সে উঠে গিয়ে ওয়াশরুমের দরজায় নক করে বললো।
--পঙ্খি? তুমি ঠিক আছ? এতো সময় ভেতরে কি করছ?
কিন্তু ভেতর থেকে কোন প্রতিত্তোর এলোনা। ইন্ধন এবার আরও জোরে নক করে একটু উচ্চস্বরে পঙ্খিকে ডাকলো। তবুও কোন প্রতিক্রিয়া এলো না। ইন্ধনের এবার চিন্তা হতে লাগলো। সে জোরে জোরে দরজায় চাপড় মেরে ডাকতে লাগলো।
--পঙ্খি...পঙ্খি...কথা বলছনা কেন? দরজা খোল। কি হয়েছে তোমার??
নাহ্ কোন জবাব নেই। ইন্ধন অস্থির হয়ে গেল এবার। সে এবার সজোরে দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে বললো।
--পঙ্খি......শুনতে পাচ্ছ আমাকে? দরজা খোল বলছি। নাহলে কিন্তু দরজা ভেঙে ফেলবো আমি।পঙ্খি......
আর থাকতে পারলোনা ইন্ধন। সর্বশক্তি দিয়ে দরজা ধাক্কিয়ে দরজার সিটকালি ভেঙে ফেললো। দরজা খুলে গেল তখন। ইন্ধন দ্রুত ভেতরে ঢুকে দেখলো পঙ্খি শাওয়ারের নিচে বসে থরথর করে কাঁপছে। মুখটা রক্তশূণ্য ফ্যাকাসে হয়ে গেছে তাঁর।পঙ্খির এহেন অবস্থা দেখে আৎকে উঠলো ইন্ধন। ছুটে গেল পঙ্খির নিকট। আগে শাওয়ার টা বন্ধ করে দিলো। তারপর পঙ্খিকে ধরতে গেলেই ছিটকে পিছিয়ে যায় সে। কম্পিত স্বরে বলে।
--ছু ছুবেন না আমাকে। আমি আর আপনার উপযোগ্য নেই।অপবিত্র হয়ে গেছি আমি। পঁচে গেছি আমি। এই দেখেন কেমন দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এতো ঘষলাম তবুও যাচ্ছে না ।
ইন্ধন খেয়াল করলো পঙ্খি তাঁর হাত আর শরীর ঘষে চামড়া উঠিয়ে লাল করে ফেলেছে। মুহুর্তেই যেন চোয়াল শক্ত হয়ে এলো ইন্ধনের। চোখ মুখ ভয়ংকর কঠিন হয়ে এলো তাঁর। ক্রোধিত চোখে তাকিয়ে চোয়াল চিবিয়ে বললো।
--কি করেছ তুমি এসব?
--আমার শরীরের ময়লা পরিষ্কার করছিলাম। কিন্তু পরিষ্কার হচ্ছে না কিছুতেই। কি করবো আমি?
ইন্ধনের ক্রোধ মাথায় চড়ে গেল।রাগে কপালের রগ ফুলে উঠলো তাঁর। ইন্ধন পঙ্খির চুলের মুঠি শক্ত করে চেপে ধরে ক্রুদ্ধ কন্ঠে বললো।
--তোর সাহস কি করে হলো নিজেকে এভাবে আঘাত করার? তুই জানিস না তোর সবকিছুর ওপর শুধু আমার অধিকার। তোর সবকিছু আমার। তাহলে আমার জিনিসে তুই ক্ষত করলি কোন সাহসে? আর কি বলছিস? তোর শরীর নোংরা হয়ে গেছে? পঁচে গেছে? কে বললো তোকে হ্যাঁ? কিসের গন্ধ আসছে? তোর শরীরে শুধু আমার শরীরের ঘ্রাণ ছাড়া আর কোন গন্ধ ছুতে পারবে না। কখনো না। আমি থাকতে তোকে কেউ নোংরা করতে পারবে না। কেউ না।
পঙ্খি কাঁন্না জড়িত কন্ঠে বললো।
--কিন্তু ওই লোকটা....
--কিচ্ছু করতে পারেনি ও। কিচ্ছু না। আরে এতটুকু বোধও কি নেই তোমার? তোমার সাথে তেমন কিছু হয়ে থাকলে কি তুমি নিজে সেটা বুঝতে পারতে না?
ইন্ধনের কথায় এবার যেন পঙ্খি একটু আস্বস্ত হলো।সত্যিই তো, তেমন কিছু হলে তো ও বুঝতে পারতো। তারমানে ওই জঘন্য লোকটা তাঁর ষড়যন্ত্রে সফল হয়নি। নষ্ট করতে পারেনি আমাকে। কথাটা ভেবে আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে উঠলো পঙ্খি। ইন্ধনের ক্রোধ যেন এবার একটু দম নিলো। চোখ বন্ধ করে নিজেকে একটু শান্ত করলো সে। তারপর পঙ্খিকে দাঁড় করিয়ে গায়ের ভেজা শাড়িটা খুলে বালতিতে রেখে দিলো। পাঁজা কোলে তুলে রুমে এনে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছে দিতে লাগলো পঙ্খির। ইন্ধনের চেহারায় এখনো রাগী ভাব দেখা যাচ্ছে। পঙ্খি কেমন সম্মোহিত নজরে তাকিয়ে আছে ইন্ধনের পানে। চোখের পলকও পড়তে ভুলে গেছে। যেন ইন্ধনের মাঝে অজানা কিছু আবিষ্কার করছে সে।দেখছে তো দেখছেই।দেখতে দেখতে হঠাৎ এগিয়ে গিয়ে ইন্ধনকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো সে। আচমকা পঙ্খির কাজে প্রথমে একটু অবাক হলো ইন্ধন। তারপর বললো।
--দেখ এসব করে লাভ হবে না। আমার রাগ কমবে না। ছাড় আমাকে।
পঙ্খি ছাড়লো না। বরং হাতের বাঁধন আরও পোক্ত হলো। আরও নিবিড় ভাবে মিশে গেল ইন্ধনের সাথে। ইন্ধনের গলায় নাক ডুবিয়ে তাঁর শরীরের ঘ্রাণ টেনে নিলো নিজের মাঝে। পঙ্খির এমন আলিঙ্গনে লোমকূপ দাঁড়িয়ে গেল ইন্ধনের। এই প্রথম পঙ্খি নিজে থেকে এভাবে কাছে এলো ওর। নিজেকে শক্ত রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে ইন্ধনের জন্য। অবাধ্য হাত দুটো নিজের মতো করেই পৌঁছে গেল পঙ্খির উন্মুক্ত কোমড়ে। কোমড় পেঁচিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে পঙ্খির ভেজা চুলে নাক ডুবিয়ে দিলো। পঙ্খি ইন্ধনের কানে ফিসফিসিয়ে বললো।
--তোমার দেহের ঘ্রাণ আমার রুহুতে মিশিয়ে দাও। তোমার ঘ্রাণ ব্যাতিত অন্য কোন ঘ্রাণ যেন আমার শ্বসনতন্ত্রে না আসতে পারে। তোমার ঘ্রাণে নিমজ্জিত থাকতে চাই আমি।
পঙ্খির আকুল আবেদনে ইন্ধনের হৃৎস্পন্দন থমকে যাওয়ার উপক্রম। আজ প্রথম পঙ্খি ওকে "তুমি" বলে সম্বোধন করছে। হয়তো পঙ্খি নিজেও টের পায়নি সেটা। প্রিয়তমার আহ্বানে সারা দিতে বিলম্ব করলো না ইন্ধন। পঙ্খির মুখটা সামনে এনে তাঁর অধরে অধর আবদ্ধ করলো। পঙ্খি হাত বাড়িয়ে ইন্ধনের শার্টের বোতাম খুলে শরীর থেকে আলাদা করে দিলো শার্ট টাকে।ইন্ধনের মাঝে বিলীন করলো নিজেকে।ইন্ধনও পঙ্খির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে দিলো নিজের ঘ্রাণ।
__
সময় বহমান,কারোর জন্য থেমে থাকে না। জুবায়েদের মৃত্যুরও এক মাস গত হয়ে গেছে। পরিবেশ ধীরে ধীরে আবারও স্বাভাবিক হওয়া শুরু করেছে। শুধু জাহানারা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দুই দুইটা জওয়ান ছেলের শোকে সে এখন চুপচাপ নির্জীব হয়ে গেছে।সন্তান যেমনই হোক তবুও তো নারী ছেড়া ধন। শোক তো হবেই।জাহানারা এখন তেমন কোন কথাবার্তা বলে না। একা একা অনুভূতি শূন্যের মতো বসে থাকে। কাল কনিকাকে হাজত থেকে জামিনে ছাড়িয়ে এনেছে ইন্ধন। পোস্ট মরটামের রিপোর্টে এটা ক্লিয়ার হয়েছে যে জুবায়েদের মৃ,ত্যু ছু,রির আঘাতে হয়নি।তাঁর শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আর তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে মা,রা হয়েছে। তাই কনিকার জামিন নিতে বেশি সমস্যা হয়নি। যদিও এবাড়িতে তাঁকে দেখে কেউই তেমন খুশি হননি। খোদেজা তো কোনমতেই তাঁকে এবাড়িতে রাখার পক্ষে না। তবে ইন্ধনের দৃঢ়তার সামনে আর কেউ পেরে ওঠেনি। ইন্ধন জোর গলায় সবাইকে বলে দিয়েছে কনিকা ভাবি এবাড়িতেই থাকবে। ভাবি না চাওয়া পর্যন্ত তাঁকে কেউ তাড়াতে পারবে না। সামছুল মজুমদারও ইন্ধনের কথায় সহমত জানিয়েছেন। তাই এই নিয়ে আর কেউ বেশি কিছু বলতে পারেনি।
শরৎ প্রায় বিদায়ের পথে। আর সপ্তাখানেক পরই আশ্বিন মাস চলে গিয়ে কার্তিকের সাথে হেমন্তে আগমন ঘটবে প্রকৃতিতে। গরমের প্রখরতা অনেক টাই কমে গেছে। বাতাসে শীতলতার মাত্রা হালকা বেড়েছে। শরতের এই শীতল বাতাসে নিজেকে একটু সিক্ত করতে বিকালে ছাঁদে আসলো পঙ্খি। ইন্ধন এখনো ফেরেনি। তাঁর এখন সময় কই। নির্বাচনে তাঁর দল বহুমাত্রায় জয়ী হয়েছে। নেতা সাহেব এখন জনসেবা করতে ব্যাস্ত। তাঁর দেখা পাওয়া এখন পূর্নিমার চাঁদের মতো দুর্বোধ্য হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে খুব অভিমান হয় পঙ্খির। তবে সারাদিন পর লোকটার মুখ দেখলেই সব অভিমান মুহূর্তেই উড়ে যায়। অভিমান বলতে কিছু আছে সেটাই যেন ভুলে যায় তখন। এসব ভাবতে ভাবতেই নিজের মনেই হাসে পঙ্খি। ছাঁদে আসতেই দেখলো কনিকা ছাঁদের এককোনায় মনমরা হয়ে বসে আছে। পঙ্খি এগিয়ে গেল তার কাছে। কনিকার পাশে বসে কাঁধে হাত রেখে বললো।
--জানি আপনার সাথে যা হয়েছে তা ভোলা সহজ না। তবে কালো অতীতে ডুবে থাকলে ভবিষ্যতের নতুন আলো কিভাবে দেখবেন? তাই অতীত থেকে বের হয়ে ভবিষ্যতের নতুন আলোয় পা রাখুন।
কনিকা মলিন তাচ্ছিল্যের সুরে বললো।
--নতুন ভবিষ্যত? আমার আবার কি ভবিষ্যত? যেখানে বেঁচে থাকাটাই শুধু দায়ভার টানা। সেখানে নতুন আলো কোথাথেকে আসবে?
পঙ্খির হঠাৎ সেদিনের কথা মনে পড়লো। পঙ্খি ইতস্ততভাবে বললো।
--ভাবি কিছু মনে না করলে একটা কথা জিজ্ঞেস করতাম আপনাকে।
--হ্যাঁ বলেনা।
-- বলছিলাম যে আপনার জীবনে কি কেউ আছে? দেখুন সবারই ভালো থাকার অধিকার আছে। আপনিও চাইলে অন্য কারোর সাথে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন।
কনিকা ভ্রু কুঁচকে বললো।
--কি বলতে চাইছ তুমি? আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা।
--আসলে কিছুদিন আগে রাতের বেলা আপনাকে একটা লোকের সাথে চুপিচুপি দেখা করতে দেখেছিলাম আমি। তাই বলছিলাম যে যদি তেমন কেউ থেকে থাকে তাহলে...
--না পঙ্খি ভুল ভাবছ তুমি। তুমি যা ভাবছ তা নয়। আমি যার সাথে দেখা করি সে আমার খালার ছেলে পলাশ ভাইয়া।উনি আমাকে নিজের বোনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। তাই কোন বিপদে আপদে তাকে ডাকি আমি। তারও নিজের পরিবার আছে,দায়দায়িত্ব আছে।তাই চেয়েও সবসময় আমার জন্য লড়তে পারে না। তবে যেকোনো দরকারে ডাকলে সে ছুটে আসে। এবাড়িতে আসতে পারে না। এবাড়িতে বাইরের পরপুরুষ আসা তেমন পছন্দ করে না। তাই আমার খুবই প্রয়োজন হলে লুকিয়ে তার সাথে দেখা করে সাহায্য চাই। সেদিন তুমি যখন জিজ্ঞেস করলে আমি গর্ভবতী কিনা তখন আমি ভয় পেয়ে যাই। কারণ এর আগে দুটো বাচ্চা নষ্ট করে দিয়েছে জুবায়েদ। তাই নিশ্চিত হতে আমি ওই পলাশ ভাইকে দিয়ে শহর থেকে মেডিকেল কিট আনিয়ে পরিক্ষা করি। আর তাতে পজিটিভ আসে। সেটা দেখেই আমি ভয়ে আৎকে উঠি। আরও একটা সন্তানের অনাগত মৃত্যুর ভয়ে কাঁদতে থাকি আমি। তখন ভাইয়া আমাকে শান্ত না দিয়ে বলেছিল, আমি চাইলে জুবায়েদ কে ছেড়ে দিয়ে তাঁর বাড়ি গিয়ে থাকতে পারি। কিন্তু আমি জানি সেটা করা যায় না। নিজের গ্লানি অন্যের ঘাড়ে কিভাবে চাপিয়ে দেই। ব্যাস এভাবেই কোন প্রয়োজন হলে তাঁর সাথে দেখা করতাম। আর কিছু না।
সবশুনে পঙ্খি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। সে কি ভাবছিলো আর কি হলো। তবে কনিকার জীবনে সত্যিই কেউ আসলে ভালো হবে। তাঁর জীবনটাও একটু নতুন রঙে রঙ্গিন হবে। এমনটাই মনে মনে দোয়া করছে পঙ্খি।
__
সন্ধ্যার পর ইন্ধন ফিরলো গৃহে। তাঁকে আসতে দেখেই পঙ্খি চুলোয় কফি বসালো। নেতা সাহেবের আসতেই কফি লাগে আগে। তাই আগে ভাগেই সেটা করছে। কফি বানানোর মাঝেই হঠাৎ বাইরে কি যেন ধুম করে পড়ার শব্দ পেল পঙ্খি। একটু চমকে গিয়ে বাইরে আসলো সে। বাইরে এসে দেখলো রান্নাঘরের বাইরের ফুলদানি টা পড়ে আছে। কিন্তু আশেপাশে কাউকে দেখতে পেলনা সে। কিভাবে পড়লো তাহলে এটা? পঙ্খি আর বেশি না ঘেঁটে ফুলদানি টা উঠিয়ে ঠিক করে রাখলো। তারপর কফি বানিয়ে মগে ঢেলে নিজের রুমে নিয়ে গেল।
রুমে এসে দেখলো ইন্ধন ততক্ষণে ফ্রেশ হয়ে বের হয়েছে। পঙ্খি কফির মগটা সামনে এগিয়ে দিয়ে বললো।
--আপনার কফি।
ইন্ধন পঙ্খির হাত থেকে কফির মগটা নিয়ে টেবিলের ওপর রেখে দিলো। তারপর পঙ্খির হাত ধরে টান মেরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো তাঁকে। পঙ্খির কোমড় জড়িয়ে ধরে কাঁধে মুখ ডুবিয়ে দিয়ে বললো।
--ছাড়ো তোমার কফি। আগে আমার কাছে আসো তুমি। জানো কতদিন তোমাকে একটু মন ভরে কাছে পাইনা। ব্যাস্ততার কারণে তোমাকে একটু ভালো করে আদরও করতে পারিনা।
পঙ্খি লজ্জায় নতজানু হয়ে বললো।
--কি করছেন, কফি ঠান্ডা হয়ে যাবে তো।
--যাক, ঠান্ডা হয়ে আইসক্রিম হয়ে যাক। কফির চেয়ে বেশি উঞ্চতা তোমার মাঝে আছে। আর আমার তৃষ্ণা এখন কফিতে মিটবে না। তোমাকে পান করলেই মিটবে।
--কি বলছেন এসব...
--আরে কি আপনি আপনি লাগিয়ে রেখেছ? সেদিন তো কি সুন্দর তুমি করে বলছিলে। তারপর কি হলো। গাজনীর মতো।সর্ট টাইম মেমোরি লস হয়ে গেল নাকি তোমার?
সেদিনের কথা মনে আসতেই লজ্জায় একবারে নুইয়ে পড়লো পঙ্খি। সেদিন ওর কি হয়ে গিয়েছিল কে জানে।সেদিন যেন নিজের মাঝেই ছিলোনা ও। আর এই লোকটা সেদিনের কথা বারবার বলে বলে ওকে শুধু লজ্জা দেয়। পঙ্খি ইন্ধনের বাহু বন্ধন থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে লাজুক ভঙ্গিতে বললো।
--ছাড়ুন আমার কাজ আছে।
ইন্ধন ছাড়লো না। বরং হাতের বাঁধন আরও শক্ত করলো। পঙ্খিকে লজ্জায় ফেলতে তাঁর ভীষণ মজা লাগছে। তাই পঙ্খির লজ্জার ডোজ আরও বাড়িয়ে দিয়ে দুষ্টু সুরে বললো।
--ও আচ্ছা বুঝতে পেরেছি। আসলে সেদিন নিজের কার্য সিদ্ধি করার দরকার ছিলো তাই ওমন করেছ তাইনা? কাজ শেষেই হাত ধুয়ে ফেললে? তুমি তো দেখছি রাজনীতিবিদের চেয়েও ধুরবাজ। কেমন কুটিল ষড়যন্ত্র করে এই মাছুম বাচ্চাকে দিয়ে কার্যসিদ্ধি করে নিলে। আজ একটু বোকা বলে এমনটা করতে পারলে আমার সাথে? ছলেবলে আমার দেহটাকে ভো,গ করে নিলে তুমি? আমার যৌবন এভাবে শুষে নিলে ? এই অবলার সাথে এমন ছলচাতুরী? একটু হট বলে আজ এতো শোষণ চলছে আমার সাথে। কি যেন বলছিলে সেদিন, "তোমার ঘ্রাণ আমার রুহুতে মিশিয়ে দাও, তোমার......
আর শুনতে পারলোনা পঙ্খি। ইন্ধনের মুখে হাত চেপে ধরে বললো।
--দেখুন এসব ফালতু কথা বন্ধ না করলে কিন্তু আমি আপনার সাথে কথা বলবোনা। আর আপনার সাথেও থাকবোনা। আমি ছায়ার কাছে গিয়ে ঘুমাবো। ছাড়ুন আমাকে।
ইন্ধন পঙ্খিকে আরও শক্ত করে ধরে বললো।
--সাহস থাকলে গিয়েতো দেখাও। একদম ঠ্যাং ভেঙে খাটে বসিয়ে রাখবো।
পঙ্খি অভিমানের সুরে বললো।
--কেন? আমি নাকি আপনার সাথে শোষণ করি। তাহলে আমাকে কি দরকার আপনার?
--হ্যাঁ শোষণ তো করো। বাট আই জাস্ট লাভ দিস কাইন্ড অফ শোষণ। আমিতো এমন শোষণ বারবার চাই। শোষণ করতে করতে আমাকে শেষ করে ফেলো। একেবারে নিংড়ে ফেলো আমাকে।
--ছিহ্হ,, কি ছিড়ি কথা এসব?
--এখনি দেখাচ্ছি কি কথা এসব।
কথাটা বলেই ইন্ধন পাঁজা কোলে তুলে নিল পঙ্খিকে। পঙ্খি লাজুক হেঁসে লুকিয়ে পড়লো ইন্ধনের বুকে।
__
সকালে ঘুম থেকে চোখ মেলে রোজকার মতোই ইন্ধনের বেড়াজালে আবদ্ধ পেল নিজেকে। অনেক কষ্টে নিজেকে ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়াল সে। উঠে দাঁড়াতেই দেখলো কাল রাতের কফির মগটা টেবিলের ওপর কাত হয়ে পড়ে আছে। কফি টেবিলের ওপর নিচ দিয়ে গড়িয়ে পড়েছে। হয়তো কাল রাতে বিড়ালের কাজ এসব। এবাড়িতে বিড়ালের মেলা রয়েছে একেবারে। পঙ্খি আগে ওয়াশরুমে গিয়ে গোসল করে এসে নামাজ আদায় করে নিলো। তারপর ভেজা কাপড় নেড়ে দিতে বারান্দায় আসতেই চমকে গেল সে। বারান্দায় একটা বিড়াল কেমন মরার মতো পড়ে আছে। পঙ্খি পাশে থাকা একটা লাঠি দিয়ে খোঁচা মেরে দেখলো নড়ে না। তারমানে সত্যিই মরে গেছে বিড়াল টা। পঙ্খি খেয়াল করলো বিড়ালের মুখের সাথে কফি লেগে চিটচিটে হয়ে আছে। আৎকে উঠলো পঙ্খি। তবে কি বিড়াল টা ওই কফি খেয়েই মরেছে? ভাবতেই অন্তর কেঁপে উঠল পঙ্খির। ওই কফি তো ও ইন্ধনের জন্য এনেছিল। তাহলে কি কফিতে কেউ কিছু মিশিয়েছে? কিন্তু কফিতো আমি নিজেই বানিয়ে আনলাম। তাহলে কে কি মেশাবে? পঙ্খির মনে পড়লো কফি বানানোর মাঝে ও কিছু পড়ার শব্দে বাইরে এসেছিল। তাহলে কি তখনই কেউ কিছু মিশিয়েছে? কিন্তু কে করবে এই কাজ? পঙ্খির হঠাৎ মনে পড়লো সেই বৃদ্ধমহিলার কথা। সে বলেছিলো আমার স্বামীর ওপর কালো ছায়া আছে।ওর জানের ভয় আছে। তবে কি সেই মহিলা সত্যিই বলেছিলো? এই কফি যদি আমার ইন্ধন খেত তাহলে? আর ভাবতে পারে না পঙ্খি। হৃদপিণ্ড থমকে ওঠে কেমন। হঠাৎই চিৎকার করে ওঠে পঙ্খি।
চলবে.....
গল্পের লেটেস্ট আপডেট পেতে আর গল্প নিয়ে যেকোনো আলোচনা আড্ডা দিতে আমার গ্রুপে জয়েন হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। নিচে গ্রুপ লিংক দেওয়া হলো। জয়েন হতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 👇
গ্রুপ
https://facebook.com/groups/170529085281953/