ফন্ট সাইজ:
থিম:
মৃগতৃষ্ণা

২৬তম পর্ব

লেখক: মেহরুমা নূর

#মৃগতৃষ্ণা---২৯ (কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫)

#লেখিকা-মেহরুমা নূর

★ইন্ধনের বাহুবন্ধনে আতঙ্কে কাঁপছে পঙ্খি।দুই হাতে ইন্ধনের টিশার্ট খামচে ধরে জাপটে ধরে আছে তাঁকে। আজ অজান্তেই নিজের হাতেই ইন্ধনের ক্ষতি করতে যাচ্ছিল ও। কাল যদি ইন্ধন কফিটা খেত তাহলে কি হতে পারতো সেই ভাবনাটাও যেন হাজার বার মৃ,ত্যুর সমান। ভয়ে হৃদপিন্ড জমে যাচ্ছে পঙ্খির। ওর ইন্ধনের কেউ ক্ষতি করতে চায়, কেউ ওর জানের দুশমন হয়ে আছে আর ও কিনা সেটা জানেই না। এখন কি করবে ও? কিভাবে রক্ষা করবে ইন্ধন কে? ঘরের শত্রুকে কিভাবে খুঁজে বার করবে ও? আবারও যদি কেউ ইন্ধনকে কিছু করার চেষ্টা করে কি করবে? মস্তিষ্ক শূন্য হয়ে যাচ্ছে পঙ্খির। ভীতি যেন ওর সর্বাঙ্গ গ্রাস করে নিচ্ছে। ইন্ধনের কিছু হয়ে গেলে বাঁচবে কি করে ও? ওর দুনিয়াই তো শুধু ইন্ধন।

এদিকে ইন্ধন পঙ্খির এই আচমকা ভীতির কারণ কিছুই বুঝতে পারছে না।তখন ঘুমের মাঝে থাকতেই পঙ্খির চিৎকার শুনে ধড়ফড়িয়ে ওঠে সে। পঙ্খির কাছে ছুটে গিয়ে দেখে আতঙ্কে কেমন স্তম্ভিত হয়ে আছে পঙ্খি। ইন্ধন পঙ্খির কাছে গিয়ে চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে? কিন্তু পঙ্খি যেন বাকশক্তিহীন হয়ে গেছে। কিছুই বলতে পারেনা সে। ইন্ধন তাঁর কাঁধ ধরে আলতো ঝাকিয়ে জানতে চায় কি হয়েছে। পঙ্খি তখন ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আচমকা জাপ্ট ধরে ইন্ধন কে। ছেড়ে দিলেই বুঝি হারিয়ে যাওয়ার ভয় আছে এমনটাই মনে হয় পঙ্খির। ইন্ধন বুঝতে পারে পঙ্খি কোন কিছু নিয়ে ভয় পেয়েছে। ইন্ধন পঙ্খিকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে রুমের বিছানায় এসে বসে।তখন থেকে ওভাবেই জাপ্টে ধরে আছে ইন্ধন কে। ইন্ধন পঙ্খির মাথায় হাত বুলিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর পঙ্খি একটু শান্ত হয়ে আসলে, ইন্ধন বলে উঠলো।

--কি হয়েছে পঙ্খি? বলোনা আমাকে? চিন্তা হচ্ছে তো আমার। তোমাকে এভাবে দেখতে ভালো লাগছে না আমার। প্লিজ বলোনা।

পঙ্খি এবার ধীরে ধীরে মাথা তুলে ইন্ধনের পানে তাকালো। ভয়ার্ত কন্ঠে বললো।

--ও ওওইখানে বিড়াল মরে আছে।

ইন্ধন ভ্রু কুঁচকে বললো।

--সামান্য বিড়াল মরা দেখেই তুমি এভাবে ভয় পাচ্ছ?

--ওই বিড়াল টা কাল রাতে আপনার জন্য আনা কফি খেয়ে মরেছে। তারমানে বুঝতে পারছেন আপনি?

ইন্ধন কতক্ষণ কপাল কুঁচকে তাকিয়ে রইলো পঙ্খির দিকে। তারপর হঠাৎ হো হো করে হেঁসে উঠে বললো।

--তুমি বোধহয় আজকাল টিভি সিরিয়াল দেখা শুরু করেছ তাই এসব আবোলতাবোল খেয়াল মাথায় আসছে। আরে প্রায় দিনই বাড়ির একোণে ওকোণে বিড়াল মরে থাকে। তাহলে কি সবাই কফি খেয়েই মরে?আরে এমনই হয়তো মরে গেছে ও। আর তুমি তিলকে তাল বানিয়ে শুধু শুধু ভয় পাচ্ছ। আরে পাগলী এমন কিছুই না।

--শুধু শুধু ভয় পাচ্ছিনা আমি। আপনি হয়তো বুঝতে পারছেন না। তবে আপনার ওপর কালো ছায়া ভর করেছে। সেদিন ওই মহিলাও সেটা বলছিলো। কেউ আপনার ক্ষতি করতে চায়। আপনার জানের দুশমন হয়ে আছে কেউ।

--এক মিনিট,মহিলা মানে! কোন মহিলা? কার কথা বলছ তুমি?

পঙ্খি সেই বৃদ্ধ মহিলার কথা খুলে বললো। সব শুনে ইন্ধন বললো।

--তুমি না সত্যিই একেবারে সহজসরল। আরে এইসব পাগল বুড়িদের কথায় কেউ কান দেয়? এরা তো পাগলের মতো এমনই যা খুশি তাই বলে বেড়ায়। আর তুমি কিনা ওই কথা নিয়ে মনে মনে কতো কাহিনি বানিয়ে বসে আছ। ওসব ফালতু কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো। শুধু শুধু ভয় পেয়না। ইনশাআল্লাহ কিছু হবে না তোমার রাজকুমারের। আর আজকের পর ওইসব পাগল বুড়িদের সাথে কোন কথা বলার দরকার নেই। দেখা যাবে আমার আধা পাগল বউটাকে শেষমেশ পুরো পাগল বানিয়ে ফেললো। তখন আমার কি হবে? তাই মন থেকে ওসব ঝেড়ে ফেলো। আর তোমার সুন্দর মুখের ওপর থেকে এই কালো বাদল ঝেড়ে ফেলে একটা মিষ্টি হাসি দাও তো।তারপর না সকাল টা সুন্দর হবে।

পঙ্খি জানে ইন্ধন ওর মব ভালো করার জন্য এসব বলছে। তবে ওর মন যে এসব কথায় ভুলছেনা। ইন্ধন ব্যাপার টা হাওয়ায় উড়িয়ে দিলেও, সে বুঝতে পারছে ব্যাপার টা সত্যিই খুব ভয়ানক। ইন্ধনের ওপর সত্যিই কালো ছায়া আছে। আর এই শত্রুকে যেভাবেই হোক খুঁজে বের করতেই হবে। তবেই ইন্ধন বিশ্বাস করবে ওর কথা।

___

শাকিল থানা থেকে ফিরেছে মাত্রই। ঘরে এসে ইউনিফর্ম খুলতে খুলতে মায়ের উদ্দেশ্যে গলা উঁচিয়ে হাক ছেড়ে বললো।

--মা....ঠান্ডা পানি আনো তো। পিপাসায় গলা শুঁকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।

ইউনিফর্ম খুলে রেখে স্যান্ডেল গেঞ্জি টা খোলার জন্য মাথার উপর তুলতেই পরিচিত একটা কন্ঠ ভেসে এলো। কোমল মেয়েলি কন্ঠে কেউ বলে উঠলো।

--আপনার পানি।

শাকিল ভ্রু কুঁচকে মাথার উপর তোলা গেঞ্জি টা আবার চোখের নিচ পর্যন্ত নামিয়ে ঝট করে পেছনে ফিরে তাকালো। পানি হাতে ছায়াকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বড়সড় একটা ধাক্কা খেল সে। ওই অবস্থায়ই ছায়ার সামনে এগিয়ে এসে অবাক সুরে বললো।

--আমি কি এখনও ঘুমিয়ে আছি?

ছায়া কপাল কুঁচকে বললো।

--জ্বিহ?

শাকিল আস্বস্ত হলো সে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছে না। ছায়া সত্যিই এখানে দাঁড়িয়ে আছে। এটাতো মেঘ না চাইতেই সোজা বন্যা হয়ে গেছে। শাকিলের মনে আতসবাজি ফুটছে। সে বাঁকা হেসে বললো।

--তুই তো দেখছি বউয়ের রোলে একেবারে ফিট হয়ে গেছিস। কি সুন্দর স্বামীর জন্য পানি নিয়ে এসেছিস। মনডা এক্কেরে গার্ডেন গার্ডেন হইয়া গেল।

ছায়া ছিটকে উঠে বললো।

--কি আবোলতাবোল বলছেন এসব? মোটেই না। আমি চাচীর কাছে এসেছিলাম একটা দরকারে।চাচী কাজ করছিল তাই আপনার পানি চাওয়ার কথা শুনে চাচী আমাকে বললো একটু পানি নিয়ে আসতে। তাই এনেছি। আর কিছুনা।

--ও আচ্ছা। কিন্তু আমার তো এখন পানি খাওয়ার ইচ্ছে মিটে গেছে। আমার এখন একটু চা খেতে ইচ্ছে করছে।

--হ্যাঁ তো আমাকে কেন বলছেন? চাচীকে গিয়ে বলুন।

--এই তুই কেমন নির্দয় মেয়ে রে? একজন বয়স্ক মানুষকে তুই এইসময় খাটুনি করাবি? তোর কি বিবেক বুদ্ধি সব ভাঙ্গাচুরা ওয়ালার কাছে বিক্রি করে দিয়ে পাপর কিনে খেয়ে ফেলেছিস? তোর মাঝে কি মায়া মমতার সফটওয়্যার নেই? ছিঃ ছিঃ ছিঃ তোর কাছ থেকে অন্তত এমনটা আশা করিনি।

শাকিলের কথায় বোকা ছায়ার মনে আইফেল টাওয়ার সমান অপরাধ বোধের জন্ম হলো। সত্যি তো, এই বয়সে চাচীকে কিভাবে সে কাজের কথা বলতে পারলো। সাথে শাকিলের জন্যেও তাঁর মনে হঠাৎই শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হলো। মায়ের জন্য কতটা ভাবেন উনি। নাহ্ যতটা খারাপ ভেবেছিলাম ততটা খারাপ বলা যায়না উনাকে। ভাবনার ইতি টেনে ছায়া বললো।

--হ্যাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন চাচীকে বলা ঠিক হবে না। তাহলে কে আনবে আপনার চা?

--কেন? তুই কি মানুষ না? নাকি মঙ্গলগ্রহের এলিয়েন তুই? তুই বানিয়ে আন চা।

--আমি?

--হ্যাঁ তুই। যা সুন্দর করে এককাপ চা বানিয়ে নিয়ে আয়। আমি ততক্ষণে গোসল সেরে আসি।

ছায়ার চা বানানোর ইচ্ছা না থাকলেও ভদ্রতার খাতিরে এখন রাজি হয়ে চা বানাতে চলে গেল ও। শাকিল মুচকি হেঁসে বিড়বিড় করে বললো।

--আমার বলদি টা..

কিছুক্ষণ পর চা বানিয়ে শাকিলের রুমে এসে দেখলো শাকিল গোসল করে বের হয়েছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঝাড়ছে। হঠাৎ করেই যেন চোখের দৃষ্টি শাকিলে আবদ্ধ হয়ে গেল ছায়ার। শাকিলকে আগে কখনো ও ভালো করে চেয়ে দেখেনি। শ্যামবর্ণ গায়ের রঙ। পুলিশে থাকায় শরীরের গঠনও পেটা। বাড়তি কোন মেদ নেই। লম্বা সরু মুখখানা, নাকটাও একেবারে চোখা। মনে হয় নাক দিয়ে কাউকে খোঁচা দিলে কেটে যাবে। গালে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি। মাথার চুলগুলো কেমন শক্ত খাঁড়া খাঁড়া। গোসল পরও সেগুলো ঘাঁড় তেড়ার মতো দাঁড়িয়েই আছে। যেন নিচু হলে তাঁদের সম্মানে হানি পড়বে। সব মিলিয়ে লোকটাকে সুদর্শনের আওতায় রাখা যায়।

শাকিল পাশে ফিরে তাকাতেই ছায়াকে তাকিয়ে থাকতে দেখলো। বাঁকা হেসে ধীরে ধীরে ছায়ার কাছে এগিয়ে এলো সে। তারপর ছায়ার কানের কাছে ঝুঁকে আস্তে করে বললো।

--তোর নজরের তীর দিয়ে কি আমার ভেতর ছেদ করে ফেলবি?

শাকিলের কথায় থতমত খেয়ে গেল ছায়া। লজ্জাজনক একটা পরিস্থিতিতে পড়ে গেল হঠাৎই।তড়িঘড়ি করে হাতের চায়ের কাপটা টেবিলে রেখে বললো।

--আ আপনার চা। আমি গেলাম।

বলেই সে যেতে উদ্যোত হলো। তবে শাকিল তার আগেই ছায়ার হাত টেনে ধরলো। টেনে ধরে বললো।

--কোথায় যাচ্ছিস? আমার চা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তুই এখানেই থাকবি।

ছায়া কম্পিত স্বরে বলে উঠলো।

--আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যা হয়ে গেলে বাড়িতে সবাই রাগ করবে।

--ঠিক আছে যাবি তবে একটা শর্ত আছে। শর্ত মানলে তবেই যেতে দিবো। নাহলে কিন্তু রাত পর্যন্ত আটকে রাখবো তোকে।

--কি শর্ত?

--এখন থেকে রোজ এই সময়ে আমাদের বাড়িতে আসবি তুই। বল রাজি?

--কেন?

--কেন জানতে হবে না তোকে।রাজি কিনা বল। তানা হলে আজ বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ভুলে যা।

--ঠিক আছে।

--সত্যি তো?

--সত্যি।

--আচ্ছা যা তাহলে। কাল কিন্তু তোর অপেক্ষা করবো আমি।

হাতের বাঁধন ঢিলা হতেই দৌড়ে বেড়িয়ে গেল ছায়া। হাসলো শাকিল। তাঁর বলদিটা বোধহয় একটু চালাক হচ্ছে।

__

আতঙ্ক আর অস্থিরতার মাঝে সারা দিন পার করলো পঙ্খি। কোন কিছুতেই মন বসাতে পারছেনা সে। ইন্ধনকে সে কতবার করে অনুরোধ করলো আজ বাইরে না যেতে। কিন্তু সে শুনলোই না ওর কথা। তারমতে পঙ্খি অযথা চিন্তা করছে। আর সেইকারণে কাজ ফেলে ঘরে বসে থাকাটা নেহাৎই বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। পঙ্খি তাঁকে কোনমতেই বেঝাতে পারছে না যে,তাঁর ওপর কতবড় বিপদ ঘুরছে। ইন্ধন বাড়ি ফেরা পর্যন্ত সে শান্তি পাচ্ছে না কিছুতেই।

রাত এগারোটার পর পঙ্খির অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইন্ধন বাড়ি ফিরলো। ডাইনিং টেবিলে বসে ইন্ধনের অপেক্ষা করছিলো পঙ্খি। আজ তাঁর খুব রাগ হচ্ছে ইন্ধনের ওপর। ওঁকে এতো চিন্তায় ফেলে মাত্র ফিরছেন উনি। লোকটার সাথে আজ কথাই বলবেনা পঙ্খি। সেই মনোভাব নিয়েই দরজা খুললো সে। পঙ্খিকে দেখেই অমায়িক হাসলো ইন্ধন। কিন্তু তাঁর এই হাসি আজ পঙ্খির ওপর প্রভাব ফেলতে পারলোনা। পঙ্খি কোন প্রতিক্রিয়া না দিয়ে থমথমে মুখে ওখান থেকে সরে আসলো। রান্নাঘরে ইন্ধনের জন্য খাবার গরম করতে গেল সে। ইন্ধন ফ্রেশ হয়ে এসে খাবার টেবিলে বসলো। পঙ্খি কোনকিছু না বলে চুপচাপ ইন্ধনের খাবার বেড়ে দিতে লাগলো। ইন্ধন বুঝতে পারছে পরিস্থিতি গরম আজ। ম্যাডাম আজ সেই লেভেলের রেগে আছে। পঙ্খি খাবার বেড়ে দিয়েই ওখান থেকে চলে যেতে লাগলো। কিন্তু এগুতে পারলোনা পঙ্খি। ইন্ধন পঙ্খির হাত ধরে টেন মেরে নিজের কোলে বসিয়ে দিলো। পঙ্খি ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে লাগলো। ইন্ধন আরও শক্ত করে ধরে বললো।

--কি হয়েছে? এমন কেন করছ? সারাদিন পর কি তোমার এই গোমড়া মুখ দেখবো আমি?

পঙ্খি অভিমানি সুরে বললো।

--আমার হাসি কান্না দিয়ে আপনার কি হবে? আমার কোন কথার কি আপনার কাছে কোন দাম আছে? যা খুশি তাই করুন।

--বাপরে এতো রাগ? তো এই অধমের অপরাধ কি জানতে পারি? তোমার কথামতো ঘরে বসে থাকিনি এটাই কি আমার অপরাধ? আচ্ছা তুমিই বলো কতক্ষণ আমি ঘরে থাকবো। তোমার মনের একটা মিছে ভয়ের জন্য কি আমি কাজকর্ম ফেলে ঘরে বসে থাকবো? প্লিজ একটু বোঝার চেষ্টা করো। আমারও অনেক দায়িত্ব আছে। এভাবে ঘরে বসে থাকলে কি চলবে আমার? আর কতদিনই বা থাকবো বলো? একসময় না একসময় তো আমাকে বের হতেই হবে তাইনা?

পঙ্খি হঠাৎ ঘুরে ইন্ধন কে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। কাঁদতে কাঁদতে বললো।

--জানি না আমি। কিচ্ছু জানি না। শুধু জানি আপনার কিছু হয়ে গেলে বাঁচবো না আমি। আপনি আমার বেঁচে থাকার উৎস। আপনার একটুখানি ক্ষতিও জান নিয়ে নিবে আমার। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে আমার।

ইন্ধন দুই হাতে পঙ্খির মুখটা আগলে ধরে মাথা ঝুকিয়ে পঙ্খির নোনাজল অধর দ্বারা শুষে নিলো। তারপর ললাটে চুমু এঁকে দিয়ে বললো।

--আমার রাজরাণীর কাছ থেকে তার রাজকুমার কে কেউ আলাদা করতে পারবেনা।মানুষ মরণশীল। একদিন না একদিন সবাইকেই মরতে হবে। সেই মওত যেকোনো সময় আসতে পারে। তাই বলে কি সেই ভয়ে আমরা বেঁচে থাকাই ভুলে যাবো? তবে আল্লাহ না চাওয়া পর্যন্ত কারোর মরণ হয়না।তাই মন থেকে এসব ভয় দূর করে দাও। তুমি কি জানো তোমাকে এভাবে দেখে আমার কতটা খারাপ লাগে? । এসব অযথা চিন্তা করে নিজেও কষ্ট পাচ্ছ আর আমাকেও কষ্ট দিচ্ছ। আমার হাতে থাকলে আমি দুনিয়ার সব নেগেটিভিটি থেকে তোমাকে অনেক দূরে নিয়ে যেতাম। আমার রাজরানীকে আমি সমসময় খুশি দেখতে চাই। প্লিজ না সোনা, একটু হাসো না। নাহলে যে খাবারও গলা দিয়ে নামবে না আমার।

পঙ্খির মন থেকে না আসলেও ইন্ধনের মন রাখতে জোরপূর্বক হাসলো সে। ইন্ধন মুচকি হেঁসে বললো।

--দ্যাটস লাইক মাই গুড গার্ল। চলো এখন খাইয়ে দাও আমাকে।

পঙ্খি ভাত বেড়ে ইন্ধন কে খাইয়ে দিলো। ইন্ধনও নিজের হাতে খাইয়ে দিলো পঙ্খিকে।

___

রাত গভীর মধ্য প্রহর তখন। ঘুমে আচ্ছন্ন ধরনী। পঙ্খিকে জাপ্টে ধরে গলায় মুখ গুঁজে দিয়ে পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে ইন্ধন। পঙ্খির হাত ইন্ধনের চুলের মাঝেই এখনো। চুলে হাত বোলাতে বোলাতেই ঘুমিয়ে গেছে সে। ঘুমের মাঝেই স্বাভাবিক ভাবে একটু ঘুম হালকা হয়ে এলো পঙ্খির। অন্য কাতে শোবার জন্য চোখ মেলে তাকাতেই আতঙ্কে চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেল পঙ্খির। ওর চোখের সামনেই কেউ ধারালো ছু,রি তাক করে আছে। এখুনি গেঁথে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছু,রি ধরে থাকা মানবটা। অন্ধকারে কেবল তাঁর হাতটাই দেখা যাচ্ছে। মরণঘাতী আক্রমণ বুঝতে পেরে পঙ্খি উচ্চস্বরে চিৎকার দিয়ে উঠলো।

চলবে.....

(ছোট ছোট করবেন না। কতটা কষ্টে গল্প লেখার সময় বের করছি তা শুধু আমিই জানি। ভুল ত্রুটি মার্জন করবেন)

গল্পের লেটেস্ট আপডেট পেতে আর গল্প নিয়ে যেকোনো আলোচনা আড্ডা দিতে আমার গ্রুপে জয়েন হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। নিচে গ্রুপ লিংক দেওয়া হলো। জয়েন হতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 👇

গ্রুপ

https://facebook.com/groups/170529085281953/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন