ফন্ট সাইজ:
থিম:
মৃগতৃষ্ণা

৩০তম পর্ব

লেখক: মেহরুমা নূর

#মৃগতৃষ্ণা--৩৩ (কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫)

#লেখিকা-মেহরুমা নূর

★সময়ের স্রোতে অতিবাহিত হয়েছে আরও একটি মাস। রাবেয়ার মৃ,ত্যু,র প্রায় দুই মাস হতে চলেছে। সবকিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও অনেক কিছুই যেন পরিবর্তন হয়ে গেছে পঙ্খির জীবনে। কোলাহলে ভরপুর বাড়িটা কেমন নিস্তব্ধ নগরীতে পরিণত হয়েছে। যেখানে নেই কোনো হাসি-আনন্দ বা কোলাহল। প্রয়োজন ছাড়া কেউ কারোর সাথে কথাও বলেনা তেমন। সবার মাঝেই এক অজানা আতঙ্ক কাজ করে। ভাবে হয়তো তাদের সাথেও কোনো অঘটন ঘটে যেতে পারে। গ্রামের মানুষ তো এখন মজুমদার বাড়ি নিয়ে নানান রকম কাহিনি রটিয়ে বেড়ায়। সবাই বলে এই বাড়িতে ভুতের বাস আছে। তাই সবার এমন মৃ,ত্যু হচ্ছে। এই ভয়ে গ্রামের লোকজন এখন এবাড়িতে আসতেও ভয় পায়। অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ এবাড়ির সীমানাও মারায় না। যেন এটা কোনো ভয়ংকর ভুত বাংলো।

তবে পঙ্খির চিন্তার মূল বিষয় এসব না। তাঁর চিন্তা চেতনার অধিকারী শুধুই একজন, "ইন্ধন"।বাকিসব কিছুর সাথে ইন্ধনও বদলে গেছে। এমনটাই মনে হয় পঙ্খির। রাবেয়ার মৃ,ত্যু,র পর থেকে ইন্ধন অনেক বদলে গেছে। কেমন ছাড়া ছাড়া ভাব তাঁর। সবসময় কেমন রুক্ষতা তাঁর মাঝে। আগের মতো পঙ্খির সাথে না ঠিক মতো কথা বলে, না পঙ্খির সাথে তেমন সময় কাটায়। বেশির ভাগ সময়ই বাড়ির বাইরেই থাকে। বাসায় তাঁকে তেমন পাওয়াই যায়না। ইন্ধনের এই পরিবর্তন পঙ্খিকে ভেতরে ভেতরে আহত করে দিচ্ছে। সে যতই ভাবে, ইন্ধন হয়তো ওর মায়ের মৃ,ত্যু,তে এমন হয়ে গেছে। হয়তো শোক কাটিয়ে উঠতে পারছেনা। মনকে এসব বলে বুঝ দেওয়ার চেষ্টা করলেও, তবুও মন কেন যেন এই শান্তনার বাণী আর মানতে চায়না। না চাইতেও কলিজাটা পুড়ে তাঁর। মনে হয় যেন পঙ্খির রাজপুত্র ওর কাছ থেকে কেমন দূরে চলে যাচ্ছে। একই বাড়িতে থেকেও যেন তাঁদের মাঝে আজ শত মাইলের দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে না চাইতেও অনেক অভিমানের জন্ম হয় পঙ্খির মনে। হৃদয় কাঁদে তাঁর। আগের সেই ইন্ধনকে ফিরে পাওয়ার জন্য আকুল হয় মনটা।

বারান্দার গ্রীলে হেলান দিয়ে বসে বসে এসব ভাবনায় ডুবে ছিলো পঙ্খি। হঠাৎ ফোনের তীব্র আওয়াজে ভাবনায় ব্যাঘাত ঘটে তাঁর। ফোনের আওয়াজে মলিন মুখে যেন এক চিলতে হাসি ফোটে। ইন্ধনের ফোন ভেবে ছুটে যায় ঘরের মাঝে। তড়িঘড়ি করে ফোনটা হাতে নিতেই হাসিমুখ টা বিলীন হয়ে যায় তাঁর। ইন্ধন ফোন করেনি। আননোন নাম্বার থেকে ফোন এসেছে। আশাহত হয় পঙ্খি। অজান্তেই চোখের কোনে জমে যায় নোনাজল। ফোনটা বাজতে বাজতে একসময় বন্ধ হয়ে যায়। একটু পর আবারও বেজে ওঠে সেটা। পঙ্খি নিজেকে একটু সামলে নিয়ে ফোন টা রিসিভ করলো। জানতে পারলো ওর বড়ো ভাই ফোন করেছে। এতদিন পর হঠাৎ ভাইয়ের ফোন দেখে একটু অবাকই হলো পঙ্খি। মনে পড়লো ইন্ধনের বলা সেই কথা। কীভাবে তাঁর নিজের আপন ভাই ওকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছিল। ঘৃণায় বিষিয়ে উঠলো পঙ্খির মন। ভাবলো ফোন কেটে দিবে সে। তবে ভাইয়ের একটা কথা শুনে আর কাটতে পারলোনা ফোন। পঙ্খির ভাই ওঁকে জানালো পঙ্খির বাবা নাকি ভীষণ অসুস্থ। শয্যাশায়ী হয়ে গেছে সে। বারবার শুধু পঙ্খির নাম নিচ্ছে। পঙ্খির সাথে দেখা করতে চাচ্ছে। ভাইয়ের কথা শুনে হৃদয় ব্যাকুল হয়ে উঠলো পঙ্খির। যেমনই হোক তবুও তো জন্মদাতা পিতা। তাই তাঁর এমন করুন অবস্থার কথা শুনে অস্থির হয়ে ওঠে পঙ্খি। পঙ্খি ওর ভাইকে বলে দেয় সে আজ এখুনি যাবে দেখা করতে। ফোন রেখে তড়িঘড়ি করে বোরখা টা পড়ে নেয় পঙ্খি। ভ্যানিটি ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে বের হতে নিলেই মনে পড়লো ইন্ধনের কথা। যাওয়ার কথাটা তাঁকে একবার জানানো দরকার। ফোন বের করে ইন্ধনের নাম্বারে ফোন দিলো। কিন্তু দুই তিনবার কল করার পরও। ফোন রিসিভ হলোনা। আজকাল ফোনেও ইন্ধনকে পাওয়া যেন অসাধ্য হয়ে গেছে। ভীষণ রাগ হলো পঙ্খির। থাক দরকার নেই। তাঁর যখন আমার জন্য সময়ই নেই তাহলে আর তাঁকে আমার কথা জানিয়ে লাভ কী? এমনিতেও সে এখন আমাকে নিয়ে মাথা ঘামায় না। তাই কোথায় আছি না আছি সেটা নিয়েও হয়তো মাথা ঘামাবে না। তাই দরকার নেই। এই ভেবে পঙ্খি আর ফোন করলোনা। বাইরে এসেও তেমন কাউকে দেখতে পেল না যে,বলে যাবে। ছায়া জাহানারাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছে। সামছুল আর জহির মজুমদারও বাইরে। বাড়িতে এই মুহূর্তে কেউই নেই। অগত্যা যাওয়ার আগে পঙ্খি শুধু চুমকিকে ডাক দিয়ে বলে গেল তার যাওয়ার কথা। তারপরই বেড়িয়ে পড়লো সে।

__

প্রায় এক বছর পর আজ বাপের বাড়িতে পা রাখলো পঙ্খি। বিয়ের পড়ে আর একদিনও এবাড়িতে আসা হয়নি তাঁর। আসার জন্য কখনো চেষ্টাও করেনি পঙ্খি। কেনই বা করবে, এখানে ওর আপন বলতে আছেই বা কে? যে ছিল সেতো মারা গেছে। আর যাঁরা আছে তারা সবাই শুধু স্বার্থপর। একই র,ক্ত হলেও এ বাড়ির লোক তাঁকে কখনো আপনজনের মতো ভালোবাসা দেয়নি। স্বার্থের জন্য নিজের বোনকে বিক্রি করে দিয়েছে তাঁরা। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো পঙ্খি। উঠোনে ভাইয়ের ছেলেমেয়ে গুলো খেলছিল। বড়ো ভাবি রান্নাঘরে মাছ কুটছে। পঙ্খিকে আসতে দেখে বড়ো ভাইয়ের পাঁচ বছরের ছেলেটা দৌড়ে এসে বললো।

--তুমি কেডো?

পঙ্খি বাচ্চাটির গালে হাত বুলিয়ে মুচকি হেঁসে বললো।

--আমি তোমার ফুপি, পঙ্খি।

বাচ্চা টা তার ফোকলা দাঁত বের করে বললো।

--ওও আপনে আমার পঙ্খি ফুবু(ফুপি)?

--হ্যাঁ। তোমার মা কোথায়?

--ওইযে মাছ কাইটত্যাছে। আব্বা কইছে আইজ নাহি তুমি আইসপ্যা তাই হাট থাইকা বড়ো মাছ আইনছে।

কথার মাঝেই পঙ্খির বড়ো ভাবি হাত ধুয়ে আঁচলে হাত মুছতে মুছতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে এগিয়ে এসে বললো।

--আরে পঙ্খি! আসু তুই। আয় আয় বয়। কতদিন পর দেইখত্যাছি তোক। ধনী বাড়ি গিয়া আমাগোরে কথা এহারে ভুইলাই গেছস তুই। এল্লা তো আইসপ্যারো পারিস মাঝে মইধ্যে। নাকি গরীব বাড়ি দেইহা আর পছন্দ হয়না তোর?

ভাবির এমন অযৌক্তিক কথায় মনে মনে হাসি পেল পঙ্খির। মুখের কাছে কিছু কথা হেঁটে এলেও তা গিলে নিলো পঙ্খি। জোরপূর্বক মুচকি হেঁসে বললো।

--এমন কিছু না ভাবি। নিজের বাড়ি আবার কখনো অপছন্দ হয়? যাইহোক কেমন আছো তোমরা? বাবা কোথায়?

--ভালো আছি আমরা। আব্বা হ্যার ঘরেই আছে। গিয়া দেখা কর। আমি হাইশেলে (চুলোয়) রান্দা চড়াই। তোর ভাই তোর লাইগা বড়ো মাছ আনছে।

পঙ্খি মাথা নেড়ে ওর বাবার দোচালা ছোট্ট টিনের ঘরটাতে ঢুকলো। পুরাণ চৌকিটার ওপর নির্জীব হয়ে শুয়ে আছে ওর বাবা। শরীরে শুধু হাড্ডি গুলোই দেখা যাচ্ছে। বাবার এমন করুণ অবস্থা দেখে দুচোখের পানি গড়িয়ে পড়লো পঙ্খির। ধীর পায়ে এগিয়ে গেল সে। চৌকির পাশে টুলে বসে ডাক দিলো বাবাকে। ডাক শুনে দূর্বল চোখ দুটো মেলে তাকালো পঙ্খির বাবা। চোখের দৃষ্টি দূর্বল হওয়ায় স্পষ্ট দেখতে না পেরে দূর্বল ভাঙা গলায় বললো।

--কেডো?

পঙ্খি কান্না জড়িত কন্ঠে বললো।

--বাবা আমি। তোমার মেয়ে পঙ্খি।

মেয়ে এসেছে বুঝতে পেরে পঙ্খির বাবা হু হু করে কেঁদে উঠলেন। পঙ্খির হাত ধরে বললেন।

--তুই আসু মা! তোরে দেখার নাইগা পরাণ কান্তাছিলো আমার। মরার আগে তোরে একবার দেইখপ্যার চাইছিলাম। তুই ক্যাবা আছু মা? ভালো আছু তুই?

--হ্যাঁ বাবা।আমি ভালো আছি । কিন্তু তুমি এতো অসুস্থ হলে কি করে? ডাক্তার দেখায়নি কেউ?

--ডাক্তার আর কি কইরবোরে মা। মরার ডাক আইছে। এহন আর কোনো ঔষধে কিছু হইবো না।

--এভাবে বলোনা বাবা। কিছু হবেনা তোমার। আমি তোমাকে শহরে ভালো হাসপাতালে নিয়ে যাবো। দেখবে একদম ঠিক হয়ে যাবে।

--নারে মা। এহন আর এইসব হইরা কোনো লাভ হইবো না। শেষ সময় চইলা আইছে আমার। যাওয়ার আগে তোর কাছে মাপ চাইবার চাই আমি। আমি তোর সাথে অনেক অন্যায় করছি। এই বুইড়া বাপ টারে পারলে মাফ কইরা দিস মা।

--এসব বলোনা বাবা। বাবা মা কখনো ছেলেমেয়েদের কাছে মাফ চায়না।

--চায়রে মা চায়। যহন বাপ আমার মতো অন্যায় হরে। তহন মাফ চাইয়াও পাপের ভাড় কমে না। তাও পারলে আমারে মাফ কইরা দিস। টেহার বদলে তোর ভাইয়েরা তোরে ওই সামছুল মজুমদারের ছেলের সাথে বিয়া দিয়া দিলো। আমিও তহন কিছু করতে পারলাম না। এই পাপের দায় নিয়া যে আমি মইরাও শান্তি পামুনা।

--থাক বাবা। যা হবার তা হয়ে গেছে। এখন আর ওসব মনে করে লাভ নেই। তোমার ওপর আমার কোনো অভিযোগ নেই। ভুলে যাও ওসব।

আরও কিছুক্ষণ বাবার পাশে বসে নানান কথা বললো পঙ্খি। আসার সময় বাবার জন্য ফল আর খাবার নিয়ে এসেছিল পঙ্খি। সেগুলো কিছুটা খাইয়ে দিলো। আর ভাইয়ের ছেলেমেয়েদেরও দিলো। একটু পর পঙ্খির মেঝ ভাবি এসে বললো।

--আসা থেহে এহেনেই বইসা আছু তুই ।খাওয়া দাওয়া লাগবোনা? এহন আয় কিছু খায়াদায়া নে।ভাবি রান্না করতেছে। ততক্ষণ আমার ঘরে বইসা কিছু মুড়ি চিঁড়া খাইয়া নে। তারপর আবার আসিস।

--না না ভাবি থাক। আমার এখন ক্ষিদে নেই।

--আরে তা কলি হয়? আয় আয়।

পঙ্খিকে এক প্রকার হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল ওর ভাবি। মেঝ ভাইয়ের ঘরে নিয়ে কিছু হালকা খাবার খেতে দিলো। এদের এতো আপ্যায়ন দেখে পঙ্খি একটু অবাকই হলো। আজপর্যন্ত এদের কাছে ভালো মুখের একটা কথাও পায়নি পঙ্খি কখনো। অথচ আজ এতো দরদ উতলে পড়ছে কেন? পঙ্খির মেঝ ভাবি খেতে দিয়ে কথায় কথায় বললো।

--হ্যারে পঙ্খি তোর হশুড় বাড়িতো মেলা ধনী, তা তোক বানি(মনে হয়) মেলা কিছু দেয় তাইনা? তোর গয়নাগাটি বানি মেলা তাইন্যা? তোর ভাই তো আমাক একটো কানের দুলও কুনুদিন বানায় দিলোনা।

পঙ্খির কাছে এবার সব পরিস্কার হলো। এদের এতো আদিখ্যেতার কারণও বুঝতে পারলো এবার। মানুষের স্বভাব আসলে কখনো বদলানোর নয়। বুক চিঁড়ে দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে এলো পঙ্খির। সে প্রসঙ্গ বদলাতে বললো।

--ভাই কোথায়? দেখছিনা যে।

--ওরা দুই ভাই ক্ষ্যাত নিড়ায়তে গেছে। বাড়ির পালানে মরিচ বুনছে। হেই ক্ষ্যাত নিড়াইতে গেছে। এল্লাহানি পরেই আইসা পইরবো।

--ও আচ্ছা।

দুপুরে ভাইয়েরা আসলে প্রথমে পঙ্খির সেই কথাগুলো মনে পড়ে খুব খারাপ লাগে। কিন্তু তবুও নিজেকে সামলে নেয় সে। ওসব কথা আর মনে করতে চায়না সে।তবে একটা কথা সে জানতে চায়। তাই দুপুরে একসাথে সবাই খাওয়া দাওয়া শেষে পঙ্খি ওর বড়ো ভাইয়ের সাথে একা কথা বলে। ভাইকে জিজ্ঞেস করে।

--ভাই একটা কথা জানার ছিলো। দেখ আমি জানি তোমরা টাকার বিনিময়ে আমাকে সামছুল মজুমদারের ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো। সামছুল মজুমদার এমনটা কেন করেছিলো? সেতো চাইলেই এমনিতেই যেকোনো জায়গায় তাঁর ছেলেকে বিয়ে করাতে পারতো। তাহলে এতো টাকা দিয়ে আমাকে কেন ছেলের বউ করলো।

পঙ্খির ভাই বললো।

--মাফ কইরা দিস বোন। জানি টেহা দেইহা অন্ধ হইয়া গেছিলাম। কী করমু গরীব মাইনষের এই একটই দূর্বলতা। তাই স্বার্থপর হইয়া গেছিলাম। আর সামছুল মজুমদার কীহামে (কেন) টেহা দিয়া বিয়া করাইছে তা আমি জানি না। খালি টেহা দিছিল। আর কিছুই কয়নায়।

পঙ্খি হতাশার নিঃশ্বাস ফেলল। আজও সে এই রহস্যের জাল খুলতে পারলোনা।জানতে পারলোনা সামছুল মজুমদার কেন এমন করেছিল।

পঙ্খি দুপুরের আগে এসেছিল, এখন প্রায় সন্ধ্যা হতে চলেছে। এতদিন পর বাবার বাড়ি এসে সময় কখন পার হয়ে গেছে বুঝতেই পারেনি। ভাইয়ের ছেলেমেয়েগুলো পঙ্খিকে পেয়ে খুব আনন্দিত। আসা থেকে তার পিছু পিছু ঘুরছে। আশেপাশের কিছু লোকজনও এসেছে পঙ্খির সাথে দেখা করতে। এসবের মাঝে কখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে টেরই পাইনি পঙ্খি। তবে চারপাশে অন্ধকার নেমে আসা দেখে পঙ্খির হুঁশ এলো। সে ভাই ভাবিদের উদ্দেশ্যে বললো।

--আমার এখন যেতে হবে। দেরি হয়ে যাচ্ছে।

পঙ্খির বড়ো ভাই বললো।

--সেকি এতদিন পর আলি (আসলি)। এহনই যাবি? আজকের রাইত এহেনে থাক। কাইল নাহয় যাইস।

--না না ভাই, আমি তাড়াহুড়ো করে এসেছি। বাড়িতে কাউকে বলেও আসিনি। সবাই চিন্তা করবে।

--তাতে কি হইছে? তুই জামাইরে ফোন হইরা কয়া দে তালিই তো হয়। এক কাম হর। তারেও আসতে ক। কাইল এই গরিবের বাড়ি একটু আইসা নাহয় তোরে নিয়া যাইবো।

ভাইয়ের কথায় পঙ্খির মনে পড়লো,সে এতক্ষণ ধরে এসেছে অথচ ইন্ধন একবারের জন্যও ওঁকে ফোন করলোনা। তাঁর কি আমার কথা একবারও মনে আসেনি? ভাবতেই অভিমানের পাহাড় যেন আরও বৃহৎ হয়ে গেল। কান্নারা গলায় দলা পাকিয়ে আসলো। পঙ্খি ঢোক গিলে নিয়ে জোরপূর্বক হাসার চেষ্টা করে বললো।

--না না ভাই, অন্যদিন আসবো আবার। আজ নাহয় যাই।

পঙ্খি যাওয়ার জন্য উদ্যত হতে নিলে তখনই পঙ্খির ছোটবেলার বান্ধবী জয়া এলো। জয়াকে দেখে পঙ্খি আবারও আবেগপ্রবণ হয়ে গেল। এতদিন পর বান্ধবীকে পেয়ে দুজন সুখ দুঃখের গল্পে মজে উঠলো। কথায় কথায় ইশারের আযানও দিয়ে দিলো। পঙ্খি আবারও যাওয়ার জন্য উদ্যত হলো। রাত হওয়ায় পঙ্খির ভাই ভাবি রাতের খাবার খেয়ে যাওয়ার জন্য খুব জোর দিলো। পঙ্খি তাই না পেরে রাতের খাবার খেল ওদের সাথে। খাবার খেয়ে বের হতে হতে প্রায় রাত ৯ টা বেজে গেল। রাত অনেক হওয়ায় পঙ্খির ভাই বললো সে পঙ্খিকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসবে। পঙ্খিও মানা করলো না। এত রাতে একা যাওয়া ঠিক হবে না। গ্রামের বাড়ি হওয়ায় রাতের বেলা রাস্তায় আর কোনো ভ্যান,রিক্সা পাওয়া যাবে না। তাই অগত্যা হেঁটে হেঁটেই রওয়ানা হলো দুই ভাইবোন। বাড়ি পৌঁছাতে পৌঁছাতে ওদের প্রায় দশটার বেশি বেজে গেল। বাড়ির গেটে পৌঁছে দিয়ে পঙ্খির ভাই চলে গেল। পঙ্খি অনেক বার ভেতরে আসতে বললো কিন্তু গেলনা সে। অতঃপর পঙ্খি ওর ভাইকে বিদায় দিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকলো।

অনেক রাত হওয়ায় সবাই যার যার ঘরে চলে গেছে। কাউকে দেখতে পেল না পঙ্খি।।তাই সেও সোজা তার নিজের কক্ষে অগ্রসর হলো। দরজা খুলে রুমে ঢুকতেই হতভম্ব হয়ে গেল পঙ্খি। সারা ঘর কেমন তছনছ হয়ে আছে। মেঝেতে ভাঙা জিনিসপত্রের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মনে হচ্ছে যেন ঘরের ওপর কোনো ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। পঙ্খি দুই কদম এগুতেই বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসে থাকা অগ্নিমূর্তি ধারণকৃত ইন্ধনের কঠিন মুখমণ্ডল দেখে পিলে চমকে উঠলো তাঁর। ইন্ধনের সারা মুখে যেন র,ক্ত জমে গেছে। ঘরের এই ধ্বংসলীলা যে উনার হাতেই হয়েছে তা ভালোই বুঝতে পারছে পঙ্খি। কিন্তু তাঁর এই ভয়ংকর রুপান্তরের কারণ খুঁজে পাচ্ছে না পঙ্খি। কি হয়েছে তার?

চলবে.....

(লেখিকার আইডি থেকে পরবর্তী পর্ব ও মাঝখানের অনেকগুলো পর্ব মিসিং তাই যেরকম ছিলো ওইভাবেই গল্প পোস্ট করা হইছে)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন