ফন্ট সাইজ:
থিম:
চাঁদের আলোয় তোমার পরশ

১ম পর্ব

লেখক: তাইমা আক্তার

# চাঁদের আলোয় তোমার পরশ

#লেখিকা:তাইমা আক্তার 
#পর্ব:-১

বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর শহরটাকে সবসময় একটু অন্যরকম লাগে।
রাস্তার জমে থাকা পানিতে নীলচে আলো পড়ে, ভেজা গাছের পাতাগুলো বাতাসে কেঁপে ওঠে, আর দূরের কোনো অচেনা বাড়ির জানালা দিয়ে ভেসে আসে পুরোনো দিনের কোনো গান।
সেদিনও ঠিক এমনই একটা সন্ধ্যা ছিল।
ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে কালো রঙের গাড়িটা যখন পুরোনো শহরের দিকে ঢুকল, তখন আকাশের শেষ আলোটুকুও ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছিল।
গাড়ির জানালার পাশে মাথা ঠেকিয়ে বসে ছিল মেয়েটি।
তার নাম—ইরাবী নূর।
বয়স চব্বিশ।
চেহারায় এমন এক ধরনের মায়া ছিল, যেটা প্রথম দেখায় চোখে পড়ে না; বরং দ্বিতীয়বার তাকাতে বাধ্য করে। গায়ের রং ফর্সা নয়, উজ্জ্বল শ্যামলা—যেন সকালের নরম রোদে ভেজা মাটির রং। কোমর ছুঁয়ে নামা ঘন কালো চুলগুলো বেশিরভাগ সময় খোলা রাখত সে। বড় বড় চোখ দুটো ছিল তার সবচেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্য—গাঢ় বাদামি সেই চোখে হাসি থাকলে মনে হতো চারপাশ একটু উজ্জ্বল হয়ে গেছে, আর মন খারাপ থাকলে মনে হতো বৃষ্টির আগে আকাশটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেছে।
আজ তার চোখে কোনো হাসি নেই।
কারণ পাঁচ বছর পর সে ফিরছে সেই বাড়িতে।
শাহরিয়ার মঞ্জিল।
বাড়িটা শুধু একটা বাড়ি ছিল না।
ইরাবীর শৈশবের অর্ধেক স্মৃতি, তার হাসি, কান্না, অভিমান, লুকিয়ে রাখা চিঠি—সবকিছুর সাক্ষী ছিল এই বাড়ি।
তার মা মারা যাওয়ার পর পড়াশোনার জন্য তাকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে কয়েক মাসের জন্য। তারপর মাস পেরিয়ে বছর হয়েছে।
ফিরে আসার কথা অনেকবার উঠলেও ইরাবী আসেনি।
কেন আসেনি, সেটা সে কাউকে কখনো বলেনি।
এমনকি নিজেকেও না।
গাড়ি ধীরে ধীরে একটা বিশাল লোহার গেটের সামনে থামল।
গেটের ওপরে পুরোনো পাথরের ফলকে লেখা—
শাহরিয়ার মঞ্জিল।
ইরাবীর বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল।
সে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।
একই গেট।
একই পুরোনো দালান।
একই কৃষ্ণচূড়া গাছ।
শুধু সে আর আগের মতো নেই।
আর হয়তো এই বাড়ির কেউই নেই।
গাড়ির দরজা খুলে গেল।
ইরাবী ধীরে ধীরে নামল।
হালকা নীল রঙের সালোয়ার-কামিজ পরেছিল সে। ওড়নাটা বাতাসে উড়ছিল। হাতে ছোট একটা ব্যাগ। চোখে ক্লান্তি।
বাড়ির বারান্দা থেকে হঠাৎ একটা চিৎকার শোনা গেল—
“ইরাবী!”
সে তাকাল।
তার খালা ছুটে আসছেন।
“আমার মেয়েটা!”
ইরাবী ব্যাগটা নামিয়ে হাসল।
“খালা…”
পরক্ষণেই তাকে জড়িয়ে ধরা হলো।
কেউ কপালে চুমু দিল।
কেউ বলল, “কী শুকিয়ে গেছিস!”
কেউ বলল, “বিদেশে গিয়ে একদম বদলে গেছিস!”
ইরাবী শুধু হাসছিল।
তার চোখ বারবার চলে যাচ্ছিল বাড়িটার দোতলার দিকে।
একটা জানালার দিকে।
জানালাটা বন্ধ।
তবুও কেন যেন তার মনে হচ্ছিল—
ওখানে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
তার অপেক্ষায়।
ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা শান্ত পুরুষ কণ্ঠ ভেসে এল—
“এত বছর পরেও কি ওকে দেখে চিনতে পারলে না?”
ইরাবীর হাসি থেমে গেল।
কণ্ঠটা সে চিনত।
খুব ভালোভাবে চিনত।
হাজার মানুষের ভিড়েও চিনত।
সে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।
সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে আছে একজন পুরুষ।
কালো শার্ট।
হাতার অংশ ভাঁজ করা।
গাঢ় নীল জিন্স।
এক হাতে গাড়ির চাবি।
চুলগুলো আগের চেয়ে ছোট, কিন্তু এখনও সামান্য এলোমেলো। লম্বা, প্রশস্ত কাঁধ। মুখে হালকা দাড়ি। চোয়ালটা আগের চেয়ে স্পষ্ট। কিন্তু সবচেয়ে বেশি বদলায়নি তার চোখ।
কালো, গভীর, স্থির।
সেই চোখ।
যে চোখ একসময় ইরাবীর সব দুষ্টুমি ধরে ফেলত।
যে চোখ রাগ করলে আরও কঠিন হয়ে যেত।
আর যে চোখের দিকে তাকিয়ে ইরাবী ছোটবেলায় মনে মনে একটা অদ্ভুত নিরাপত্তা অনুভব করত।
পুরুষটির নাম—
আরিয়ান শাহরিয়ার।
ইরাবী কিছু বলতে পারল না।
আরিয়ানও না।
দুজনের মাঝখানে কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা।
তারপর আরিয়ান সিঁড়ি দিয়ে ধীরে ধীরে নিচে নামল।
ইরাবীর সামনে এসে দাঁড়াল।
অনেকটা কাছাকাছি।
ইরাবী অনুভব করল, তার বুকের ভেতরটা অকারণে দ্রুত উঠানামা করছে।
আরিয়ান আগের মতোই শান্ত গলায় বলল,
“কেমন আছ?”
মাত্র তিনটা শব্দ।
ইরাবী জানত না, এই তিনটা শব্দ শুনতে তার পাঁচ বছর লেগে গেছে।
সে ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,
“ভালো।”
আরিয়ান মাথা নেড়ে বলল,
“মিথ্যে বলছ।”
ইরাবী অবাক হয়ে তাকাল।
“কীভাবে বুঝলেন?”
আরিয়ান তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তোমার চোখ এখনও মিথ্যে বলতে শেখেনি।”
ইরাবী আর কিছু বলল না।
কারণ পাঁচ বছর পরেও মানুষটা তাকে ঠিক আগের মতোই চিনে ফেলেছে।
---
রাতের খাবারের টেবিলে সবাই গল্প করছিল।
শাহরিয়ার মঞ্জিলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল—এই বাড়িতে কখনো নীরবতা বেশি সময় টিকত না।
কেউ না কেউ কথা বলবেই।
ইরাবীর শৈশবের গল্প উঠল।
“মনে আছে, ইরাবী একবার আরিয়ানের ঘড়ি লুকিয়ে রেখেছিল?”
সবাই হেসে উঠল।
ইরাবী লজ্জায় বলল,
“আমি তখন ছোট ছিলাম!”
আরিয়ান চুপচাপ খাচ্ছিল।
একজন বলল,
“ছোট? তখনও তোমার দুষ্টুমি কম ছিল না।”
ইরাবী তাকিয়ে দেখল আরিয়ান মৃদু হাসছে।
তার সেই হাসি খুব ছোট।
কিন্তু ইরাবীর চোখ এড়িয়ে গেল না।
খাবার শেষে সবাই যখন বসার ঘরে চলে গেল, ইরাবী বারান্দায় এসে দাঁড়াল।
রাতের বাতাস ঠান্ডা।
বাগানের ফুলের গন্ধ আসছে।
কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে জমে থাকা বৃষ্টির পানি চাঁদের আলোয় ঝিলমিল করছে।
“এখনও এখানে দাঁড়াতে ভালো লাগে?”
পেছন থেকে আরিয়ানের কণ্ঠ।
ইরাবী ঘুরে তাকাল।
“আপনি সবসময় এভাবে চুপচাপ এসে দাঁড়ান?”
“তুমি ভয় পেয়েছ?”
“না।”
“তাহলে সমস্যা কী?”
“কিছু না।”
আরিয়ান বারান্দার রেলিংয়ে ভর দিয়ে দাঁড়াল।
“পাঁচ বছর অনেক সময়।”
ইরাবী নিচের দিকে তাকিয়ে বলল,
“হ্যাঁ।”
“আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারতে।”
“পারতাম।”
“রাখোনি।”
“হুম।”
“কেন?”
ইরাবী এবার তার দিকে তাকাল।
“সব প্রশ্নের উত্তর কি দিতে হয়?”
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর বলল,
“না।”
“তাহলে?”
“কিছু প্রশ্নের উত্তর মানুষ নিজেই খুঁজে নেয়।”
ইরাবী হেসে ফেলল।
“আপনি এখনও আগের মতোই কথা বলেন।”
“তুমিও।”
“আমি কীভাবে?”
“যখন কোনো কথা বলতে চাও না, তখন বেশি কথা বলো।”
ইরাবীর হাসি মিলিয়ে গেল।
আরিয়ান তার দিকে তাকিয়ে ছিল।
“তুমি কি সত্যিই ভালো আছ?”
ইরাবী এবার উত্তর দিল না।
তার বদলে প্রশ্ন করল,
“আপনি কি আমাকে মিস করেছিলেন?”
আরিয়ান থেমে গেল।
বাতাসে ইরাবীর চুল উড়ে এসে মুখে পড়ল।
সে চুল সরাতে গিয়ে বুঝতে পারল, আরিয়ান এখনও তার দিকে তাকিয়ে আছে।
“কী হলো?”
“কিছু না।”
“তাহলে উত্তর দিচ্ছেন না কেন?”
আরিয়ান ধীরে বলল,
“কিছু মানুষকে মিস করার কথা মুখে বলা যায় না।”
ইরাবীর বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
“কেন?”
“কারণ বললে তারা বুঝে যায়, তারা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”
“আমি কি গুরুত্বপূর্ণ ছিলাম?”
আরিয়ান কয়েক সেকেন্ড তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর খুব শান্ত গলায় বলল,
“ছিলে?”
সে একটু থামল।
“তুমি কি কখনো গুরুত্বপূর্ণ ছিলে না?”
ইরাবী আর কথা বলতে পারল না।
ঠিক তখনই ঘরের ভেতর থেকে ডাক এল।
“আরিয়ান! ইরাবী! তোমরা কোথায়?”
আরিয়ান সোজা হয়ে দাঁড়াল।
“চলো।”
ইরাবী তার পেছনে হাঁটতে শুরু করল।
কিন্তু তার মাথার ভেতর তখন একটা কথাই ঘুরছিল—
‘তুমি কি কখনো গুরুত্বপূর্ণ ছিলে না?’
---
সেই রাতেই ঘুম এলো না ইরাবীর।
নিজের পুরোনো ঘরে এসে জানালা খুলে দিল সে।
ঘরটা প্রায় আগের মতোই আছে।
দেয়ালে তার ছোটবেলার ছবি।
একটা কাঠের বুকশেলফ।
পুরোনো টেডিবিয়ার।
ড্রেসিং টেবিলের কোণে একটা শুকনো ফুল।
ইরাবী ফুলটা হাতে তুলে নিল।
স্মৃতি হঠাৎ ফিরে এল।
পাঁচ বছর আগে।
এই একই ঘর।
বাইরে বৃষ্টি।
তার হাতে একটা চিঠি।
চিঠিটা সে লিখেছিল আরিয়ানকে।
কিন্তু দেয়নি।
চিঠির শেষ লাইনে লেখা ছিল—
“আপনি যদি একবারও আমাকে থামতে বলেন, আমি কোথাও যাব না।”
চিঠিটা সে দিয়েছিল কি?
না।
সে চলে গিয়েছিল।
কারও চোখে না তাকিয়ে।
কারও কাছে কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে।
কিন্তু কেন?
সেটা আজও তার বুকের মধ্যে একটা বন্ধ দরজা।
ইরাবী ড্রয়ার খুলল।
ভেতরে একটা পুরোনো খাম।
সে খামটা হাতে নিল।
খামের ওপর লেখা—
আরিয়ানের জন্য।
তার হাত কেঁপে উঠল।
পাঁচ বছর ধরে সে চিঠিটা সঙ্গে করে রেখেছে।
কখনো দেয়নি।
আজও দেবে না।
এমন সময়—
ঠকঠক।
দরজায় শব্দ হলো।
ইরাবী তাড়াতাড়ি চিঠিটা লুকিয়ে ফেলল।
“কে?”
কোনো উত্তর নেই।
আবার শব্দ।
সে দরজা খুলল।
কেউ নেই।
শুধু মেঝেতে একটা ছোট্ট বাক্স।
ইরাবী অবাক হয়ে বাক্সটা তুলে নিল।
তার নাম লেখা নেই।
কোনো চিহ্নও নেই।
সে বাক্সটা নিয়ে ঘরে ঢুকল।
ধীরে ধীরে ঢাকনা খুলল।
ভেতরে একটা পুরোনো ছবি।
ছবিটা দেখে ইরাবীর নিঃশ্বাস আটকে গেল।
ছবিতে—
সে আর আরিয়ান।
দুজনের বয়স তখন হয়তো সতেরো-আঠারো।
কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে তারা।
ইরাবী হাসছে।
আরিয়ান তার দিকে তাকিয়ে আছে।
কিন্তু ছবির পেছনে লেখা একটা বাক্যই ইরাবীর শরীর ঠান্ডা করে দিল।
কালো কালিতে লেখা—
“তুমি চলে যাওয়ার আগের রাতটা আরিয়ান তোমাকে যা বলেছিল, সেটা কি এখনও মনে আছে?”
ইরাবীর হাত কেঁপে উঠল।
কারণ—
সে রাতটার কথা মনে করতে চায়নি।
আরিয়ান সেদিন তাকে কী বলেছিল?
একটা কথা।
মাত্র একটা কথা।
যেটার জন্যই হয়তো ইরাবী পরদিন কাউকে কিছু না বলে চলে গিয়েছিল।
সে চোখ বন্ধ করল।
স্মৃতিটা ধীরে ধীরে ফিরে আসতে লাগল।
বৃষ্টি হচ্ছিল।
ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল তারা।
আরিয়ান তার হাত ধরে বলেছিল—
“ইরাবী, তুমি যদি কাল চলে যাও…”
তারপর?
তারপর কী বলেছিল?
ইরাবী মাথা চেপে ধরল।
“আমি কেন মনে করতে পারছি না?”
হঠাৎ দরজার বাইরে পায়ের শব্দ হলো।
সে ঘুরে তাকাল।
দরজার কাছে আরিয়ান দাঁড়িয়ে।
তার চোখ সরাসরি বাক্সটার দিকে।
মুহূর্তেই তার মুখের সমস্ত স্বাভাবিকতা হারিয়ে গেল।
“ওটা তুমি কোথায় পেয়েছ?”
ইরাবী বাক্সটা শক্ত করে ধরে বলল,
“আমার দরজার সামনে ছিল।”
আরিয়ান ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকল।
তার চোখে এবার এমন একটা ভয়—
যেটা ইরাবী কোনোদিন দেখেনি।
“তুমি এটা খুলেছ?”
“হ্যাঁ।”
“ছবিটা দেখেছ?”
“হ্যাঁ।”
আরিয়ান কিছু বলল না।
ইরাবী এবার ছবিটা তার দিকে এগিয়ে দিল।
“এর পেছনে কে লিখেছে?”
আরিয়ান ছবিটা হাতে নিল।
কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল।
তারপর মুখ তুলে বলল,
“তুমি এখনও সবকিছু মনে রাখোনি, তাই না?”
ইরাবীর গলা শুকিয়ে গেল।
“কী?”
আরিয়ান খুব ধীরে বলল,
“তুমি কেন চলে গিয়েছিলে, সেটা তুমি নিজেও জানো না।”
“আপনি জানেন?”
“হ্যাঁ।”
“তাহলে আমাকে বলেন।”
আরিয়ান চোখ নামিয়ে ফেলল।
“এখন না।”
“কেন?”
“কারণ কিছু সত্যি সময়ের আগে জানলে মানুষ ভেঙে যায়।”
ইরাবীর চোখে পানি চলে এল।
“আমি কি এতটাই দুর্বল?”
আরিয়ান তার দিকে তাকাল।
তার চোখে এবার কঠিনতা নেই।
শুধু গভীর কষ্ট।
“তুমি দুর্বল নও।”
সে এক মুহূর্ত থামল।
“কিন্তু সেই রাতের সত্যিটা খুব নিষ্ঠুর।”
ইরাবী ফিসফিস করে বলল,
“আর আপনি?”
“আমি কী?”
“আপনিও কি আমাকে কিছু লুকিয়েছেন?”
আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না।
চুপচাপ দরজার দিকে হাঁটতে লাগল।
দরজার কাছে গিয়ে থেমে বলল,
“কাল সকালে আমার সঙ্গে ছাদে এসো।”
ইরাবী তাকিয়ে রইল।
“কেন?”
আরিয়ান পেছনে না ফিরেই বলল—
“কারণ পাঁচ বছর আগে যে কথাটা তোমাকে বলা হয়নি…”
সে একটু থামল।
“কাল সেটা শেষবারের মতো বলব।”
দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
ইরাবী স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তার বুকের ভেতর ঝড় উঠেছে।
পাঁচ বছর ধরে যে অতীতকে সে কবর দিয়ে রেখেছিল—
সেটা কি তবে সত্যিই ফিরে এসেছে?
আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—
আরিয়ান সেদিন রাতে তাকে কী বলতে চেয়েছিল?
জানালার বাইরে আবার বৃষ্টি শুরু হলো।
কৃষ্ণচূড়া গাছের পাতাগুলো বাতাসে কাঁপতে লাগল।
আর শাহরিয়ার মঞ্জিলের অন্ধকার ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা আকাশের দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে বলল—
“ইরাবী, তুমি যদি সেদিন আমার কথাটা শুনতে…”
তার চোখ বন্ধ হয়ে গেল।
“তাহলে হয়তো আমাদের গল্পটা পাঁচ বছর আগে শেষ হয়ে যেত না।”
কিন্তু গল্প তো শেষ হয়নি।
বরং—
পাঁচ বছর পর সেই গল্পের আসল শুরু হতে চলেছে।
# চাঁদের আলোয় তোমার পরশ 
#লেখিকা :তাইমা আক্তার 
#পর্ব:-১
আসসালামু আলাইকুম ☺️ গল্পটা কেমন হয়েছে জানাবেন সবাই। আর কোন ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন