ফন্ট সাইজ:
থিম:
চাঁদের আলোয় তোমার পরশ

৪র্থ পর্ব

লেখক: তাইমা আক্তার

# চাঁদের আলোয় তোমার পরশ

#লেখিকা:তাইমা আক্তার 
#পর্ব:-৪

“তোমার মা মারা যাওয়ার আগে শেষবার যে মানুষটার সঙ্গে দেখা করেছিলেন… তিনি আমার বাবা।”
আরিয়ানের কথাটা ইরাবীর কানে পৌঁছাল, কিন্তু মস্তিষ্ক যেন সেটা গ্রহণ করতে পারল না।সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।হাতে ধরা ছবিটা কাঁপছে।ছবিতে তার মা।আর পাশে একজন পুরুষ।আরিয়ানের বাবা।পাঁচ বছর ধরে ইরাবী যে মানুষটাকে নিজের মায়ের মৃত্যুর সঙ্গে কোনোভাবেই জড়াতে চায়নি, সেই মানুষটার ছায়াই আজ তার সামনে দাঁড়িয়ে।
“না…”
ইরাবী মাথা নাড়ল।
“এটা হতে পারে না।”
আরিয়ান কিছু বলল না।
“আপনি ভুল বলছেন।”
“ইরাবী…”
“না!”
সে এক পা পিছিয়ে গেল।
“আমার মা আপনার বাবাকে চিনতেন না।”
“চিনতেন।”
“আপনি কীভাবে জানেন?”
আরিয়ান চোখ নামিয়ে বলল,
“কারণ আমি সেই রাতের কিছু ঘটনা নিজের চোখে দেখেছি।”
ইরাবী তাকিয়ে রইল।
“আপনি?”
“হ্যাঁ।”
“তখন আপনার বয়স কত ছিল?”
“বাইশ।”
“আর আপনি আমাকে কিছু বলেননি?”
আরিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“তোমাকে কী বলতাম?”
“সত্যিটা!”
“তুমি তখন এতটাই ভেঙে পড়েছিলে যে নিজের মায়ের ছবির দিকে তাকাতেও পারতে না।”
ইরাবীর চোখ ভিজে উঠল।
“আপনি আমার হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কে?”
আরিয়ান চুপ।প্রশ্নটার কোনো উত্তর তার কাছে নেই।ইরাবী চোখের পানি মুছে বলল,
“আমাকে সব জানতে হবে।”
আরিয়ান তার দিকে তাকাল।
“সব?”
“হ্যাঁ।”
“যদি সত্যিটা তোমার ধারণার চেয়েও খারাপ হয়?”
“তবুও।”
“যদি সেটা তোমার মাকে নিয়ে তোমার সব স্মৃতি বদলে দেয়?”
ইরাবী ঠোঁট কামড়ে বলল,
“তবুও।”
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর আরিয়ান ধীরে বলল,
“চলো।”
“কোথায়?”
“বাড়িতে।”
“কেন?”
“কারণ এই কথা বাগানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বলা যাবে না।”
---
গাড়িতে ফেরার পুরো পথ কেউ কথা বলল না।ইরাবী জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল।রাস্তার মানুষজন, দোকানের আলো, গাড়ির ভিড়—সবকিছু তার কাছে যেন অস্পষ্ট।
তার মনে শুধু একটা প্রশ্ন—
মা কেন আরিয়ানের বাবার সঙ্গে দেখা করেছিলেন?তার মা ছিলেন শান্ত স্বভাবের মানুষ।ইরাবীর ছোটবেলার স্মৃতিতে তার মা মানেই সাদা শাড়ি, চুলে জুঁই ফুলের গন্ধ, আর ঘুম পাড়ানোর সময় মৃদু গলা।মা কখনো অতীত নিয়ে কথা বলতেন না।কখনো বাবার সঙ্গে ঝগড়া হলে ইরাবীকে সামনে রাখতেন না।আরিয়ানের পরিবারকেও সবসময় সম্মান করতেন।তাহলে?কী ছিল সেই সম্পর্ক?বাড়িতে পৌঁছানোর পর আরিয়ান ইরাবীকে সরাসরি পুরোনো লাইব্রেরিতে নিয়ে গেল।
শাহরিয়ার মঞ্জিলের এই ঘরটা বহুদিন ধরে প্রায় বন্ধ।দেয়ালজুড়ে বই।পুরোনো কাঠের আলমারি।একটা বিশাল ডেস্ক।আর দেয়ালে ঝোলানো কয়েকটি সাদা-কালো ছবি।ইরাবী ঢুকেই থেমে গেল।সামনে আরিয়ানের বাবার বড় একটা ছবি।সামির শাহরিয়ার।আরিয়ানের বাবা।কঠোর মুখের মানুষ।চোখ দুটো তীক্ষ্ণ।ইরাবী ছোটবেলায় তাকে কয়েকবার দেখেছিল।কিন্তু খুব একটা মনে নেই।আরিয়ান আলমারির কাছে গিয়ে একটা পুরোনো ফাইল বের করল।ফাইলের ওপর ধুলো জমে আছে।সে টেবিলের ওপর রাখল।
“এগুলো আমার বাবার জিনিস।”
ইরাবী চেয়ারে বসে পড়ল।
“আমার মা এখানে কেন এসেছিলেন?”
আরিয়ান ফাইল খুলল।
“পাঁচ বছর আগে নয়।”
সে থামল।
“তারও অনেক আগে।”
ইরাবী তাকাল।
“কত আগে?”
“প্রায় সাতাশ বছর।”
ইরাবীর চোখ বড় হয়ে গেল।
“আমার জন্মের আগে?”
“হ্যাঁ।”
আরিয়ান একটা ছবি বের করল।ছবিতে তার মা অনেক তরুণী।সাদা শাড়ি।চুল খোলা।মুখে হাসি।আর তার পাশে সামির শাহরিয়ার।ইরাবী ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।
“এটা কোথায় তোলা?”
“এই বাড়িতে।”
“কেন?”
“সেটাই জানার চেষ্টা করছি।”
“আপনি জানেন না?”
“না।”
“আপনার বাবা মারা যাওয়ার আগে কিছু বলেননি?”
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
“বলেছিলেন।”
“কী?”
“একটা বাক্য।”
“কী বাক্য?”
আরিয়ান ফাইলের ভেতর থেকে একটা কাগজ বের করল।পুরোনো কাগজ।হাতের লেখা।
“তিনি বলেছিলেন—‘ইরাবীর মাকে আমি একটা কথা দিয়েছিলাম।’”
ইরাবী ধীরে বলল,
“কী কথা?”
“সেটা বলেননি।”
“আর কিছু?”
“বলেছিলেন, ‘যেদিন ইরাবী সত্যিটা জানতে চাইবে, সেদিন তাকে এই ফাইলটা দেবে।’”
ইরাবীর বুক কেঁপে উঠল।
“আমার নাম?”
“হ্যাঁ।”
“তিনি আমার নাম জানতেন?”
“তখন তুমি জন্মাওনি।”
ইরাবী স্তব্ধ।
“তাহলে?”
আরিয়ান তার দিকে তাকাল।
“এটাই রহস্য।”
ঘরের বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।ইরাবী ফাইলটা নিজের দিকে টেনে নিল।প্রথম কয়েকটা কাগজ ছিল ব্যবসায়িক।তারপর কিছু পুরোনো চিঠি।একটার খাম খুলতেই ইরাবী চিনে ফেলল হাতের লেখা।তার মায়ের।চিঠির শুরু—
“সামির ভাই, আপনি যদি সত্যিই আমার কথা রাখেন…”
ইরাবীর হাত কেঁপে উঠল।সে পড়তে শুরু করল।কিন্তু তিন লাইনের পরেই থেমে গেল।কারণ পরের শব্দগুলো—
তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নের দরজা খুলে দিল।
“আমার মেয়েটাকে…”
তারপর লেখা—
“আরিয়ানের কাছ থেকে দূরে রাখবেন।”
ইরাবীর চোখ স্থির হয়ে গেল।
“কী?”
আরিয়ানও চুপ।ইরাবী চিঠিটা তার দিকে বাড়িয়ে দিল।
“এটা কী?”
আরিয়ান পড়ল।তার মুখ কঠিন হয়ে গেল।চিঠির নিচে আরও লেখা—
“কারণ ওর কাছে থাকলে আমার মেয়ের জীবন বিপদে পড়বে।”
ইরাবীর বুকের মধ্যে যেন ঝড় বয়ে গেল।
“আমার মা আমাকে আপনার কাছ থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন?”
আরিয়ান আস্তে বলল,
“হয়তো।”
“কেন?”
“আমি জানি না।”
“আপনি জানেন না?”
“না।”
“তাহলে এত বছর ধরে কী জানতেন?”
আরিয়ান এবার চুপ করে রইল।
ইরাবী উঠে দাঁড়াল।
“আপনি কি আমার মায়ের মৃত্যুর ব্যাপারে কিছু জানেন?”
“আমি জানি তিনি দুর্ঘটনায় মারা যাননি।”
ইরাবীর নিঃশ্বাস আটকে গেল।
“কী বললেন?”
আরিয়ান তার দিকে তাকাল।
“তোমার মা যে রাতে মারা যান, সেদিন তার গাড়ির ব্রেক নষ্ট হয়েছিল।”
ইরাবী ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল।
“না।”
“হ্যাঁ।”
“সবাই বলেছিল দুর্ঘটনা।”
“সবাইকে তাই বলা হয়েছিল।”
“কে বলেছিল?”
“আমার বাবা।”
ইরাবী পেছনে সরে গেল।
“আপনার বাবা?”
আরিয়ান চোখ বন্ধ করল।
“হ্যাঁ।”
ইরাবী হঠাৎ চেয়ারটা ধরে দাঁড়িয়ে রইল।তার মনে হলো পুরো ঘরটা ঘুরছে।
“তাহলে আপনার বাবা আমার মায়ের মৃত্যুর কথা জানতেন?”
“হ্যাঁ।”
“আর আপনি?”
“আমি পরে জেনেছিলাম।”
“কখন?”
“তোমাকে বিদেশে পাঠানোর ঠিক আগে।”
ইরাবীর চোখে পানি চলে এল।
“তাহলে আমাকে বিদেশে পাঠানোর কারণ…”
“ছিল তোমাকে নিরাপদ রাখা।”
“কার কাছ থেকে?”
আরিয়ান এবার উত্তর দিল না।
ইরাবী চিৎকার করে উঠল,
“কার কাছ থেকে, আরিয়ান?”
আরিয়ান ধীরে বলল,
“আমার বাবার একজন পুরোনো সহযোগী।”
“সে এখন কোথায়?”
“জানি না।”
“কিন্তু সে কি এখনও বেঁচে আছে?”
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
“হ্যাঁ।”
ইরাবীর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
“আপনি নিশ্চিত?”
“হ্যাঁ।”
“তার নাম?”
আরিয়ান তাকাল।
“ফারহান মির্জা।”
নামটা শুনে ইরাবীর মনে হলো কোথাও যেন এই নাম শুনেছে।
সে কপালে হাত রাখল।
“ফারহান…”
আরিয়ান তাকিয়ে রইল।
ইরাবী হঠাৎ বলল,
“আমি এই নামটা চিনি।”
“কোথা থেকে?”
“মা একবার বলেছিল।”
“কী বলেছিল?”
“আমি তখন ছোট।”
সে স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করল।
“মা বলেছিল, ‘ফারহান নামের কাউকে কখনো বিশ্বাস করবে না।’”
আরিয়ান স্থির হয়ে গেল।
“তুমি নিশ্চিত?”
“হ্যাঁ।”
“তোমার মা তোমাকে এটা বলেছিল?”
“হ্যাঁ।”
আরিয়ান ধীরে ধীরে চেয়ারে বসে পড়ল।
“তাহলে সে তোমাকে চিনত।”
ইরাবী তাকাল।
“কে?”
“ফারহান।”
---
সেদিন রাতেই ইরাবীর বাবা লাইব্রেরিতে এলেন।
আরিয়ান দাঁড়িয়ে ছিল জানালার পাশে।ইরাবী টেবিলের পাশে বসে।তার বাবা ঘরে ঢুকেই বুঝলেন—
সবকিছু জেনে গেছে ইরাবী।তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।তারপর ধীরে বললেন,
“তোমাকে এত তাড়াতাড়ি জানাতে চাইনি।”
ইরাবীর গলা কেঁপে উঠল।
“আপনি জানতেন?”
“হ্যাঁ।”
“আমার মা কীভাবে মারা গিয়েছিলেন?”
তিনি চোখ নামিয়ে ফেললেন।
“আমি জানতাম দুর্ঘটনাটা স্বাভাবিক ছিল না।”
“তবুও আমাকে বলেননি?”
“তুমি তখন ছোট।”
“আর পরে?”
“পরে তোমাকে হারানোর ভয় ছিল।”
ইরাবী চোখ মুছে বলল,
“আমাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন কেন?”
তার বাবা উত্তর দেওয়ার আগে আরিয়ানের দিকে তাকালেন।
“ওকে বলো।”
আরিয়ান কিছু বলল না।
ইরাবীর বাবা বললেন,
“তোমাকে বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত আমি আর আরিয়ান মিলে নিয়েছিলাম।”
ইরাবী অবাক।
“আরিয়ান?”
“হ্যাঁ।”
“কিন্তু কেন?”
“কারণ ফারহান তখন তোমাকে খুঁজছিল।”
ইরাবীর বুক কেঁপে উঠল।
“আমাকে?”
“হ্যাঁ।”
“কেন?”
তার বাবা চুপ করে রইলেন।
তারপর বললেন,
“তোমার কাছে এমন একটা জিনিস ছিল, যেটা তুমি নিজেও জানত না।”
ইরাবী ফিসফিস করে বলল,
“কী?”
তার বাবা ধীরে ধীরে বললেন—
“তোমার মায়ের ডায়েরি।”
ইরাবী থমকে গেল।
“ডায়েরি?”
“হ্যাঁ।”
“কোথায়?”
“আমরা জানি না।”
আরিয়ান এবার বলল,
“কিন্তু ফারহান বিশ্বাস করে, ডায়েরিটা তোমার কাছেই আছে।”
ইরাবী মাথা নাড়ল।
“আমার কাছে নেই।”
“হয়তো আছে।”
“না!”
“তুমি ভুলে গেছ।”
ইরাবী কিছু বলতে পারল না।তার ছোটবেলার স্মৃতির ভেতর খুঁজতে লাগল।মায়ের একটা বাদামি রঙের ডায়েরি ছিল।সবসময় আলমারির ওপরের তাকে রাখা।একদিন মা তাকে বলেছিল—
“এটা কখনো খুলবে না।”
ইরাবীর হঠাৎ মনে পড়ে গেল।সে উঠে দাঁড়াল।
“আমি জানি।”
দুজনেই তার দিকে তাকাল।
“কী জানো?”
“ডায়েরিটা কোথায়।”
“কোথায়?”
ইরাবী কাঁপা গলায় বলল,
“আমার পুরোনো ঘরে।”
---
তিনজন দ্রুত ইরাবীর ঘরে গেল।পুরোনো আলমারি খুলে একে একে জিনিস সরানো হলো।কিছু পুরোনো খেলনা।ছোটবেলার বই।পুরোনো ছবি।তারপর একেবারে নিচের তাকে একটা কাঠের বাক্স।ইরাবী বাক্সটা বের করল।ঢাকনা খুলতেই ভেতরে একটা বাদামি ডায়েরি।তার ওপর ধুলো জমে আছে।
ইরাবীর হাত কাঁপছে।
“এটাই।”
আরিয়ান ধীরে বলল,
“খুলো না।”
ইরাবী তাকাল।
“কেন?”
“কারণ এটা খুললে সবকিছু বদলে যাবে।”
ইরাবী তার দিকে তাকিয়ে রইল।
“আমার জীবন তো এমনিতেই বদলে গেছে।”
সে ডায়েরিটা খুলল।প্রথম কয়েক পৃষ্ঠা ফাঁকা।তারপর মায়ের হাতের লেখা।
তারিখ—
১২ জুলাই, ১৯৯৯।
ইরাবী পড়তে শুরু করল।
“আজ সামির আমাকে একটা সত্যি বলেছে।”
পরের লাইন—
“আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।”
তারপর—
“ফারহান আমাদের অনুসরণ করছে।”
আরও কয়েক পৃষ্ঠা।
“আমি যদি কিছু হয়ে যাই, তাহলে আমার মেয়েকে এই পরিবার থেকে দূরে রেখো।”
ইরাবীর চোখে পানি।আরিয়ান পাশে দাঁড়িয়ে।শেষের দিকের একটা পাতায় এসে ইরাবীর হাত থেমে গেল।সেখানে লেখা—
“আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ আমি আরিয়ানের হাতে তুলে দিতে চাই না। কারণ আরিয়ান যদি সত্যিটা জেনে যায়, তাহলে ফারহান তাকে ব্যবহার করবে।”
ইরাবী ধীরে ধীরে আরিয়ানের দিকে তাকাল।আরিয়ানও পড়েছে।তার মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেছে।
“আরও পড়ো,” সে বলল।
ইরাবী পরের পৃষ্ঠা উল্টাল।পাতার মাঝখানে লেখা—
“কিন্তু যদি কোনোদিন আরিয়ান নিজে সত্যিটা জানতে পারে, তাহলে আমি চাই সে আমার মেয়েকে রক্ষা করুক।”
ইরাবীর চোখ থেমে গেল।সে আর পড়তে পারল না।আরিয়ান খুব আস্তে বলল,
“তোমার মা আমাকে বিশ্বাস করতেন।”
ইরাবী তার দিকে তাকাল।
“তাহলে আমাকে আপনার কাছ থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন কেন?”
“কারণ তিনি আমাকে নয়, আমার চারপাশের বিপদকে ভয় পেতেন।”
ইরাবী কিছু বলল না।তার চোখের পানি গড়িয়ে পড়ল।হঠাৎ ডায়েরির ভেতর থেকে একটা ছোট ছবি মেঝেতে পড়ে গেল।আরিয়ান সেটা তুলে নিল।ছবিটা দেখে তার মুখের রং বদলে গেল।ইরাবী বলল,
“কী হয়েছে?”
আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না।ছবির পেছনে লেখা ছিল—
“যদি এই ছবিটা তোমাদের হাতে আসে, তাহলে বুঝবে ফারহান আমাদের চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে।”
আর ছবিতে—
ফারহান মির্জা।তার পাশে সামির শাহরিয়ার।
আর তাদের মাঝখানে—
ইরাবীর মা।কিন্তু ছবির সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় ছিল অন্য কিছু।ছবির এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট একটা মেয়ে।বয়স হয়তো চার-পাঁচ বছর।মেয়েটার মুখ ইরাবীর মতো।আর তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে—
একজন তরুণ আরিয়ান।
ইরাবী অবাক হয়ে বলল,
“আমি?”
আরিয়ান ছবিটার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“না।”
“তাহলে?”
আরিয়ান ছবিটা উল্টে দিল।পেছনে লেখা—
“ইরাবীর যমজ বোন।”
ইরাবীর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল।
“আমার… যমজ?”
ঘরের সবাই নিস্তব্ধ।ইরাবীর বাবা ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করলেন।আরিয়ান ছবিটা শক্ত করে ধরে রইল।
আর তখনই—
বাড়ির বাইরে গাড়ির হর্ন বাজলএকবার,দুবার,তিনবার।তারপর একজন কাজের লোক দৌড়ে এসে দরজায় দাঁড়িয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল—
“স্যার…”
ইরাবীর বাবা তাকালেন।
“কী হয়েছে?”
লোকটা কাঁপা গলায় বলল,
“বাড়ির গেটের সামনে একটা মহিলা দাঁড়িয়ে আছে।”
“কে?”
লোকটা ইরাবীর দিকে তাকাল।তারপর বলল
“সে নিজেকে… ইরাবীর যমজ বোন বলে পরিচয় দিচ্ছে।”
ইরাবীর হাত থেকে ডায়েরিটা মেঝেতে পড়ে গেল।আরিয়ান ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাল।
দুজনের চোখে একই প্রশ্ন—
তাহলে পাঁচ বছর ধরে তারা যে সত্যিটা খুঁজছিল, সেটা কি এতদিন তাদের চোখের সামনেই ছিল?
আর বাইরে—
শাহরিয়ার মঞ্জিলের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অচেনা মেয়েটি আকাশের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।তার চোখে ছিল ইরাবীর মতোই মায়া।
কিন্তু সেই মায়ার আড়ালে—
ছিল এমন এক রহস্য,যেটা হয়তো ইরাবী আর আরিয়ানের ভালোবাসাকে একেবারে অন্য দিকে নিয়ে যাবে।
# চাঁদের আলোয় তোমার পরশ 
#লেখিকা:তাইমা আক্তার 
#পর্ব:-৪

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন