# চাঁদের আলোয় তোমার পরশ
# লেখিকা: তাইমা আক্তার
#পর্ব:-৩
রাতটা আর স্বাভাবিক হলো না।শাহরিয়ার মঞ্জিলের বিশাল বাড়িটা বাইরে থেকে যতটা শান্ত, ভেতরে যেন ততটাই অস্থির।বসার ঘরের মেঝেতে ভাঙা ছবির কাচ এখনও ছড়িয়ে আছে। ছবির মাঝখানে আরিয়ানের মুখটা কালো কালি দিয়ে মুছে দেওয়া হয়েছে।কেউ কথা বলছে না।ইরাবী শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছবিটার দিকে তাকিয়ে আছে।তার মনে হচ্ছে, ছবির ওই মুছে যাওয়া মুখটা যেন একটা মানুষ নয়—একটা অতীত।একটা অতীত, যেটাকে কেউ ইচ্ছে করে সবার চোখের সামনে থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছে।কিন্তু মুছে ফেলতে পারেনি।আরিয়ান নিচু হয়ে কাচের টুকরোগুলো সরাচ্ছিল।তার মুখ অস্বাভাবিক শান্ত।এই শান্ত মুখটাই ইরাবীকে সবচেয়ে বেশি ভয় পাইয়ে দিচ্ছিল।কারণ সে জানে—
আরিয়ান যখন সত্যিই রেগে যায়, তখন তার গলার স্বর উঁচু হয় না।বরং আরও নিচু হয়ে যায়।
ইরাবীর বাবা ধীরে ধীরে বললেন,
“সবাই যার যার ঘরে যাও।”
একজন বলল,
“কিন্তু ছবিটা—”
“আমি বলেছি, সবাই ঘরে যাও।”
কেউ আর কিছু বলল না।এক এক করে সবাই চলে গেল।শুধু ইরাবী আরিয়ানকে অনুসরণ করে দাঁড়িয়ে রইল।আরিয়ান ছবিটা হাতে নিয়ে সিঁড়ির দিকে এগোচ্ছিল।ইরাবী বলল,
“আপনি কোথায় যাচ্ছেন?”
আরিয়ান থামল।
“ঘরে।”
“আমার সঙ্গে কথা বলবেন না?”
“এখন না।”
“কেন?”
আরিয়ান পেছনে তাকাল।
তার চোখে ক্লান্তি।
“কারণ এখন তোমার সঙ্গে কথা বললে আমি এমন কিছু বলে ফেলব, যেটা বলা উচিত হবে না।”
ইরাবী অবাক।
“কী বলতে চান?”
“কাল বলব।”
“সবসময় কাল কেন?”
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
“কারণ তোমার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো আমি সবসময় একদিন দেরিতে বলেছি।”
ইরাবী উত্তর খুঁজে পেল না।আরিয়ান চলে গেল।
---
রাত প্রায় দুইটা।ইরাবীর ঘুম আসছিল না।সে বিছানায় বসে জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল।চাঁদের আলো জানালার গ্রিল পেরিয়ে মেঝেতে পড়েছে।তার ফোনটা টেবিলের ওপর।অচেনা নম্বর থেকে আর কোনো মেসেজ আসেনি।কিন্তু একটা কথাই মাথায় ঘুরছে—
“যে মানুষটা পাঁচ বছর আগে তোমাকে চলে যেতে বাধ্য করেছিল, সে এখনও তোমার খুব কাছেই আছে।”
ইরাবী নিজের মনকে বোঝানোর চেষ্টা করল—হয়তো কেউ ভয় দেখাচ্ছে।হয়তো এটা আরিয়ানের কোনো শত্রুর কাজ।
হয়তো ব্যবসার ব্যাপার।কিন্তু মন মানল না।কারণ একটা প্রশ্নের উত্তর এখনও সে পায়নি।পাঁচ বছর আগে তাকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল কেন?সে তখন শুধু এতটুকুই জানত—
তার বাবার ব্যবসায় সমস্যা হয়েছিল।কিন্তু সেই সমস্যার সঙ্গে তার যাওয়ার সম্পর্ক কী?আরিয়ান কেন বলেছিল—
“আমার সঙ্গে।”
ইরাবী উঠে দাঁড়াল।তার মনে হলো, আজই জানতে হবে।সে ধীরে ধীরে দরজা খুলে বের হলো।করিডোর অন্ধকার।বাড়ির অন্য সবাই ঘুমিয়ে।সে পা টিপে টিপে আরিয়ানের ঘরের দিকে এগোল।দরজাটা অল্প খোলা।ভেতরে আলো জ্বলছে।ইরাবী দরজার কাছে এসে থামল।ভেতর থেকে আরিয়ানের কণ্ঠ শোনা গেল।
“আমি বলেছি, এখনই কিছু করবে না।”
ইরাবীর বুক কেঁপে উঠল।কার সঙ্গে কথা বলছে?আরিয়ান আবার বলল,
“ওকে কিছু হতে দেওয়া যাবে না।”
একটু নীরবতা।
তারপর—
“আমি জানি সে ফিরে এসেছে।”
ইরাবীর চোখ বড় হয়ে গেল।কে ফিরে এসেছে?
আরিয়ান আবার বলল,
“পাঁচ বছর ধরে আমি এই দিনটার অপেক্ষা করছি।”
ইরাবীর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।সে আর শুনতে পারল না।পেছনে ফিরে আসতে গিয়ে তার পা একটা ছোট ফুলদানিতে লেগে গেল।ঠক করে শব্দ হলো।ভেতরের কথা সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেল।
“কে?”
আরিয়ানের কণ্ঠ।ইরাবী দ্রুত নিজের ঘরের দিকে ফিরে গেল।দরজা বন্ধ করে বিছানায় বসে পড়ল।তার বুক ধুকপুক করছে।কিছুক্ষণ পর করিডোরে পায়ের শব্দ।তারপর তার দরজার সামনে এসে থামল।কেউ নক করল না।কেউ ডাকল না।কিছুক্ষণ পর পায়ের শব্দ দূরে সরে গেল।ইরাবী নিঃশ্বাস ফেলল।কিন্তু তার মনে তখন একটাই প্রশ্ন—
আরিয়ান কার ফিরে আসার কথা বলছিল?
---
সকালে ইরাবী ঘুম থেকে উঠে দেখল তার দরজার নিচ দিয়ে একটা খাম ঢোকানো।সে খামটা তুলে নিল।ভেতরে একটা কাগজ।কালো কালিতে লেখা—
“আজ বিকেল পাঁচটায় পুরোনো বাগানের কুয়োর কাছে এসো। একা।”
নিচে কোনো নাম নেই।ইরাবী কাগজটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।তার যাওয়া উচিত নয়।কিন্তু যদি এটা সেই মানুষটার কাছ থেকে হয়, যে পাঁচ বছর আগের সত্যি জানে?তাহলে?সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই পেছন থেকে কণ্ঠ এল—
“কী পেয়েছ?”
ইরাবী চমকে ঘুরে দাঁড়াল।আরিয়ান দরজার কাছে।তার চোখ সরাসরি কাগজটার দিকে।ইরাবী কাগজটা লুকিয়ে ফেলল।
“কিছু না।”
আরিয়ান কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে থাকল।
“তুমি মিথ্যে বললে এখনও চোখ নামিয়ে ফেলো।”
ইরাবী চোখ তুলে তাকাল।
“আপনি সবকিছু এত সহজে বুঝে ফেলেন কীভাবে?”
“তোমাকে অনেকদিন ধরে চিনি।”
“পাঁচ বছর তো আমাকে দেখেননি।”
“চেনা আর দেখা এক জিনিস না।”
ইরাবী চুপ করে গেল।
আরিয়ান এগিয়ে এল।
“কী পেয়েছ?”
“কিছু না।”
“ইরাবী।”
“আমি বলেছি কিছু না।”
আরিয়ান এবার আর জোর করল না।
শুধু বলল,
“ঠিক আছে।”
তারপর ঘুরে চলে গেল।ইরাবী অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।সে ভেবেছিল আরিয়ান জিজ্ঞেস করবে।কিন্তু করল না।এটাই যেন আরও সন্দেহজনক।
---
বিকেল পাঁচটার কিছু আগে ইরাবী চুপচাপ বাড়ি থেকে বের হলো।পুরোনো বাগানটা বাড়ির পেছনে।বহু বছর ধরে কেউ সেখানে যায় না।আগাছায় ভরা পথ।ভাঙা পাথরের বেঞ্চ।একটা পুরোনো কুয়ো।ছোটবেলায় ইরাবী আরিয়ান এখানে আসত।
তখন এই জায়গাটাই ছিল তাদের গোপন রাজ্য।
ইরাবী ধীরে ধীরে কুয়োর কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
“কেউ আছেন?”
কোনো উত্তর নেই।
সে আবার বলল,
“আমি এসেছি।”
হঠাৎ পেছনে শুকনো পাতার শব্দ।ইরাবী ঘুরে দাঁড়াল।কেউ নেই।তারপর একটা পুরুষ কণ্ঠ—
“তুমি এখনও আগের মতোই বোকা।”
ইরাবীর শরীর জমে গেল।কণ্ঠটা অপরিচিত।কিন্তু কোথাও যেন খুব পরিচিতও।গাছের আড়াল থেকে একজন বেরিয়ে এল।কালো পোশাক।মুখের অর্ধেক ছায়ায় ঢাকা।ইরাবী এক পা পেছনে গেল।
“আপনি কে?”
লোকটা হেসে বলল,
“তুমি আমাকে চিনবে না।”
“তাহলে এখানে ডেকেছেন কেন?”
“কারণ তোমার জানা দরকার।”
“কী?”
লোকটা ধীরে ধীরে কাছে এল।
“পাঁচ বছর আগে তোমাকে যে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল, সেটা তোমার বাবার সিদ্ধান্ত ছিল না।”
ইরাবী থমকে গেল।
“তাহলে?”
“আরিয়ানের।”
ইরাবীর বুকের ভেতর যেন কেউ ছুরি চালাল।
“অসম্ভব।”
লোকটা হাসল।
“তুমি এখনও তাকে বিশ্বাস করো?”
“হ্যাঁ।”
“তাহলে এইটা দেখো।”
সে পকেট থেকে একটা ছবি বের করল।ইরাবী ছবিটা হাতে নিল।ছবিতে—
তার বাবা।আরিয়ান।আর একজন অচেনা মানুষ।তারা তিনজন একটা অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে।
ছবির তারিখ—
পাঁচ বছর আগের।
ইরাবীর চোখ আটকে গেল।
“এই মানুষটা কে?”
লোকটা বলল,
“যার কারণে তোমাকে চলে যেতে হয়েছিল।”
“কেন?”
“কারণ সে জানত, তুমি আরিয়ানকে ভালোবাসো।”
ইরাবীর শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল।
“এটার সঙ্গে আমার বিদেশে যাওয়ার কী সম্পর্ক?”
লোকটা ধীরে বলল,
“তোমাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কারণ কেউ চেয়েছিল আরিয়ান একা হয়ে যাক।”
“কে?”
লোকটা উত্তর দেওয়ার আগেই দূরে গাড়ির শব্দ হলো।
লোকটার মুখে আতঙ্ক ফুটে উঠল।
“সে এসেছে।”
“কে?”
লোকটা পিছিয়ে গেল।
“এখন তোমার এখানে থাকা উচিত না।”
“আপনি কে?”
লোকটা আর কোনো উত্তর দিল না।
সে দ্রুত গাছের আড়ালে মিলিয়ে গেল।
ইরাবী দৌড়ে তার পেছনে যেতে চাইল।
কিন্তু হঠাৎ—
পেছন থেকে একটা হাত তার কবজি ধরে ফেলল।ইরাবী চমকে ঘুরে দাঁড়াল।আরিয়ান।তার চোখ রাগে লাল।
“তুমি এখানে কেন এসেছ?”
ইরাবী হাত ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা করল।
“আপনি আমাকে অনুসরণ করছেন?”
“আমি তোমাকে অনুসরণ করছি না।”
“তাহলে?”
“আমি তোমাকে বাঁচাতে এসেছি।”
“কার কাছ থেকে?”
আরিয়ান চুপ।
“বলুন!”
“ইরাবী, তুমি বুঝতে পারছ না তুমি কী করছ।”
“আমি শুধু সত্যিটা জানতে চাই।”
“সত্যি সবসময় নিরাপদ না।”
“আমি ভয় পাই না।”
“আমি পাই।”
ইরাবী থমকে গেল।
আরিয়ান তার হাত ছেড়ে দিল।
“তোমার জন্য।”
কথাটা এত নরমভাবে বলা হলো যে ইরাবীর সব রাগ এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল।কিন্তু তারপর তার মনে পড়ল ছবিটার কথা।সে ছবিটা আরিয়ানের সামনে ধরল।
“এটা কী?”
আরিয়ান ছবিটা হাতে নিয়ে দেখল।
তার মুখের রং বদলে গেল।
“তুমি এটা কোথায় পেয়েছ?”
“একজন আমাকে দিয়েছে।”
“কে?”
“জানি না।”
“সে দেখতে কেমন?”
“মুখ দেখিনি।”
আরিয়ান ছবিটা মুঠোয় চেপে ধরল।
“তুমি তার সঙ্গে একা দেখা করতে এসেছ?”
“হ্যাঁ।”
“তুমি পাগল?”
“হয়তো।”
“ইরাবী!”
“কিন্তু আপনি আমাকে সত্যি বলেননি!”
আরিয়ান চুপ করে গেল।ইরাবী এবার কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“আপনি জানেন কেন আমাকে পাঠানো হয়েছিল। আপনি জানেন পাঁচ বছর আগে কী হয়েছিল। আপনি জানেন কে আমাদের আলাদা করেছিল। তাহলে আমাকে কিছু বলেন না কেন?”
আরিয়ান তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তার চোখে অদ্ভুত কষ্ট।
“কারণ আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।”
“কাকে?”
“তোমার বাবাকে।”
“কী প্রতিশ্রুতি?”
“তোমাকে সত্যিটা বলব না।”
ইরাবী হতবাক।
“কেন?”
আরিয়ান ধীরে বলল,
“কারণ সত্যিটা জানলে তুমি আবার বিপদে পড়তে।”
“কিন্তু এখন তো আমি বিপদেই আছি!”
“আমি জানি।”
“তাহলে বলুন!”
আরিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“পাঁচ বছর আগে তোমার বাবার ব্যবসায় যে সমস্যা হয়েছিল, সেটা আসলে ব্যবসার সমস্যা ছিল না।”
ইরাবী চুপ করে গেল।
“তাহলে?”
“ব্ল্যাকমেইল।”
“কীসের?”
“তোমাকে নিয়ে।”
ইরাবীর মুখ শুকিয়ে গেল।
আরিয়ান বলল,
“কেউ তোমার কিছু ছবি আর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে তোমার বাবাকে হুমকি দিচ্ছিল।”
“কেন?”
“কারণ তারা আমাকে চেয়েছিল।”
“আপনাকে?”
“হ্যাঁ।”
“কিসের জন্য?”
আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
“আমার বাবার রেখে যাওয়া একটা গোপন নথি তাদের দরকার ছিল।”
ইরাবী হতবাক।
“আপনার বাবা?”
“হ্যাঁ।”
“সেই নথিতে কী ছিল?”
আরিয়ান এবার তার দিকে সরাসরি তাকাল।
“এই পরিবারের এমন একটা সত্যি, যেটা প্রকাশ পেলে অনেক মানুষের জীবন বদলে যাবে।”
ইরাবী কাঁপা গলায় বলল,
“কী সত্যি?”
আরিয়ান উত্তর দেওয়ার আগেই দূর থেকে গাড়ির ব্রেকের শব্দ হলো।দুজনেই ঘুরে তাকাল।কালো একটা গাড়ি বাগানের বাইরে এসে থেমেছে।দরজা খুলল।একজন মানুষ নামল।ইরাবী তাকে চিনতে পারল না।কিন্তু আরিয়ান চিনল।তার মুখের সমস্ত রং চলে গেল।
ইরাবী বলল,
“কে?”
আরিয়ান খুব নিচু গলায় বলল,
“যার কাছ থেকে তোমাকে পাঁচ বছর আগে দূরে রেখেছিলাম।”
লোকটা ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।তার মুখে অদ্ভুত হাসি।আরিয়ান ইরাবীর সামনে এসে দাঁড়াল।যেন নিজের শরীর দিয়ে তাকে আড়াল করল।লোকটা কিছুটা দূরে এসে থামল।তারপর বলল,
“পাঁচ বছর পরও তুমি একই কাজ করছ, আরিয়ান।”
আরিয়ান ঠান্ডা গলায় বলল,
“এবার আর ইরাবীকে নিয়ে কোনো খেলা হবে না।”
লোকটা হেসে উঠল।
“খেলা?”
সে ইরাবীর দিকে তাকাল।
“তুমি এখনও জানো না, তোমার জন্য কত মানুষ কত কিছু হারিয়েছে।”
ইরাবী কাঁপা গলায় বলল,
“আপনি কে?”
লোকটা উত্তর দিল—
“আমি সেই মানুষ, যার একটা ভুলের কারণে তোমাদের দুজনকে পাঁচ বছর আলাদা থাকতে হয়েছে।”
আরিয়ান বলল,
“চুপ করো।”
লোকটা হেসে বলল,
“না, আরিয়ান।”
তারপর ইরাবীর দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল—
“এবার ওকে সব জানতে হবে।”
সে পকেট থেকে আরেকটা পুরোনো ছবি বের করল।ছবিটা ইরাবীর দিকে ছুড়ে দিল।ছবিতে একজন তরুণী দাঁড়িয়ে আছে।ইরাবী ছবিটা হাতে নিয়ে স্থির হয়ে গেল।কারণ ছবির মেয়েটি—তার মা।আর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষটি—আরিয়ানের বাবা।ছবির পেছনে লেখা—
“তোমার মা মারা যাওয়ার আগের রাত।”
ইরাবীর হাত কাঁপতে লাগল।
“এটা কী?”
কেউ উত্তর দিল না।আরিয়ান শুধু চোখ বন্ধ করল।যেন পাঁচ বছর ধরে যে সত্যিটা সে লুকিয়ে রেখেছে, সেটার দরজা আজ অবশেষে খুলে গেছে।ইরাবী তার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—
“আমার মায়ের সঙ্গে আপনার বাবার সম্পর্ক কী ছিল?”
আরিয়ান চোখ খুলল।তারপর এমন একটা কথা বলল, যেটা শুনে ইরাবীর পায়ের নিচের মাটি যেন সরে গেল—
“তোমার মা মারা যাওয়ার আগে শেষবার যে মানুষটার সঙ্গে দেখা করেছিলেন… তিনি আমার বাবা।”
বাতাস হঠাৎ থেমে গেল।দূরে কৃষ্ণচূড়ার পাতাগুলো কাঁপছিল।আর ইরাবী বুঝতে পারল—
তার জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্যটা আসলে তার নিজের জন্মের আগের গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
আর সেই গল্পের কেন্দ্রে—
আরিয়ানের পরিবার।তার নিজের পরিবার।আর এমন এক সত্যি,যেটা জানার পর হয়তো আরিয়ানকে ভালোবাসা—তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়াবে।
# চাঁদের আলোয় তোমার পরশ
#লেখিকা:তাইমা আক্তার
#পর্ব:-৩