#নীল_জোছনা ১৮
#ইসরাত_জাহান_এশা
সকাল থেকেই আজ হৈইচৈই শুরু হয়েছে। চার জা মিলে রান্না করছে আজ সাথে ফারিহাও যোগ দিয়েছে। একটু আগে নীরার থেকে ধমক খেয়েও শুনেনি। ফারিহা ওড়না কোমড়ে গুজে পাক্কা গিন্নিদের মতো ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা গরু মাংস ধুচ্ছে। হাতে থাকা চিকন চুড়ি গুলো সিলভরের বাসনে লেগে টুংটাং আওয়াজ তুলছে। মাংস ধুয়ে নীরার কাছে দিয়ে বললো,
" মা পেয়াজ গুলো দাও কেটে দেই। তুমি বাকি কাজ গুলো করো। "
লিপি চাল, মসলা সেল্ফে রেখে কোমড়ে হাত রেখে বললো,
" এতো কাজ করতে হবে না। আর এই ঠান্ডায় আরো দরকার নেই। কাল না তোমার পরিক্ষা। যাও গিয়ে পড়তে বসো নাহলে ওদের সাথে আড্ডায় সঙ্গি হও। "
ফারিহা কিছু বলার জন্য মুখ খুলবে তখনি রিজবির স্ত্রী মুক্তি ফারিহার মুখে কেক ঢুকিয়ে দিয়ে বললো,
" আর কোনো কথা না যাও যাও। "
এই বলে রান্না ঘর থেকে বের করে দিয়ে ড্রয়িংরুমে বর্ষার পাশে বসিয়ে দিয়ে নাহিয়ানের উদ্দেশ্যে বললো,
" নিজের বউকে সামলাও নাহিয়ান। রান্না ঘরে গিয়ে গিন্নি সাজছে। বারণ করলেও শুনছে না তোমার বউ। "
নাহিয়ান ভ্রু সহ কপাল কুচলে ফারিহার দিকে তাকালো। পেটের কাছটায় ভিজে উঠেছে গায়ে শীতের কাপড় নেই। নাহিয়ান গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
" এরকম উড়নচণ্ডী সভাব হচ্ছে কেনো তোমার? মা চাচিরা বারণ করছে তাও শুনছো না তুমি। "
ফারিহা কেক শেষ করে নাহিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো,
" কতো কাজ আজকে বাসায়। তাই হাতে হাতে করে দিতে চেয়েছিলাম। "
" আর পাকনামি করতে হবে না তোমার। শীতের কাপড় কই? "
ফারিহা মিনমিন করে বললো,
" ঘরে? "
" যাও ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসো আসছি আমি। "
ফারিহা এবার বিরক্ত হলো সোফায় পা উঠিয়ে বসে বললো,
" উফ শুধু পড়া আর পড়া সকালে পড়েছিতো। আবার দুপুরের পড়ে পড়তে বসবো। "
নাহিয়ান আর কিছু বললো না। ফারিহা সকালে নামাজ পড়েই বেশ কিছুক্ষণ পড়েছে। সময় কাটাতে দিলো ফারিহাকে। বর্ষার ফারিহার পাশে বসা ছিলো। কিছুক্ষণ পর পর নাক কুচকাচ্ছে। ফারিহা গরু মাংস ধৌত করার সময় গায়ে পানির ছিটেফোঁটা এসেছে যার কারণে কাচা মাংসের গন্ধ আসছে। বর্ষা এবার দাঁড়িয়ে ফারিহার উদ্দেশ্যে একটু উচ্চস্বরে বললো,
" এই মেয়ে যাও গিয়ে ঘন্টা খানিক ধরে গোসল করে আসো। গা থেকে পচা গন্ধ আসছে ছিহ। এতো খাচ্চোর কেনো তুমি? কতো দিন ধরে গোসল দাও না। আমার সাথে তোমার তো যায় না তাও এসে আমার সাথেই চিপকে বসে থাকো স্টুপিড মেয়ে কোথাকার। সাধেই তোমায় ক্ষ্যত বলি না। "
এই বলে নাহিয়ানের পাশে বসে পড়ে। ফারিহা আহির, রাতুল, সুনায়রার সাথে কথা বলছিলো হেসে হেসে। বর্ষার এমন রিয়েক্টে সবাই চমকে উঠে। ফারিহা লজ্জা পায় এমন কথায়। সাথে কিছুটা অপমান বোধও হয়। গ্রামের মেয়ে দেখে শীত গায়ে লাগেনা। সকাল সকাল গোসল করার অভ্যাস থাকে তাদের। ফারিহার ক্ষেত্রেও তাই। সকালে, দুপুরে দুই বেলাই ফারিহা গোসল করে। ফারিহা উঠে চলে যেতে নিলে নাহিয়ান ফারিহার হাত ধরে নেয়। নাহিয়ান বর্ষার উদ্দেশ্য করে বললো,
" কে তুই? "
কন্ঠস্বরের মধ্যে ছিলো রাগ ও কঠোর মিশ্রিত। বর্ষাকে চুপ থাকতে দেখে আবারো চিল্লিয়ে বললো,
" কী হলো বলছিস না কেনো? তুই কে আমার ওয়াইফকে এসব বাজে মন্তব্য করার? "
বর্ষার কথা শুনে রান্নাঘর থেকে সবাই বসার ঘরে চলে আসছিলো । বর্ষা খানিকটা মিইয়ে যায় নাহিয়ানের কথায় । বর্ষা কথা বলছে না দেখে নাহিয়ানের রাগের মাত্রা বেরে যায়। এক হাতে ফারিহার হাত ধরে আরেক হাত দিয়ে বর্ষার মুখ চেপে ধরে বললো,
" তোর এই মুখ দিয়ে আরেকবার বাজে মন্তব্য করবি ফারিহার নামে এই নাহিয়ান তোকে আস্ত রাখবে না। মে*রে পুতে ফেলবো। কাওকে ভয় পায় না সে। তুই দশ হাত দূরে থাকবি ফারিহার থেকে। ও কিছু বলে না দেখে লাই পেয়ে গেছিস তাই না। "
এই বলে ঢাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়। ফারিহার হাত ধরে সেখান থেকে তৎক্ষনাৎ চলে যায়। বর্ষা ব্যাথা পায় প্রচুর চোখে জমা হয়েছে। রুশা দ্রুত পায়ে মেয়েকে আগলিয়ে ধরে। রুশা কান্না ভেজা কন্ঠে নীরার উদ্দেশ্যে বললো,
" বড় ভাবি এটা কি ঠিক হলো ? নাহিয়ান এমন ব্যবহার করলো কেনো আমার মেয়ের সাথে? দুই দিনের মেয়ের জন্য আমার মেয়েকে এভাবে অপমান করলো। "
নীরা ভারি গলায় বললো,
" দেখো বুবু প্রথমত তোমার মেয়ের ভুল হয়েছে। ওর কথা বলার ধরণ তুমি নিশ্চই শুনেছো কীভাবে কথা বলেছে ফারিহার সাথে। এটা কেমন ব্যবহার! ও প্রতিটা সময় ফারিহাকে হেনস্তা করে। ফারিহা কিছু বলে দেখে তোমার মেয়ের সাহস বেরেছে। ও হয়তো ভুলে যাচ্ছে ফারিহা এই বাসার বউ। "
নীরা থামতেই বর্ষা কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বললো,
" কেনো বড় মা? আমি যে নাহিয়ান ভাইয়াকে ভালোবাসতাম সেটা তো তুমি জানতে। তুমি মা, আহিয়ানা, সুনায়রা সবাই জানতো। আজ তোমার ছেলে বিয়ে করে এনেছে দেখে আমাকে ভুলে গিয়েছো তুমি। আহিয়ানা, সুনায়রা ওরা ওদের ভাইয়ের বউকে মেনে নিয়েছে । আর আমার জীবনটা মাঝপথেই থেমে গেলো। "
বর্ষা কথা বলে আর থামে না দৌড়ে নিজের ঘরে চলে যায় কান্নাকাটি করে। রুশা মেয়ের কষ্ট বুঝে মেয়ের পিছুপিছু যায়। নীরা দ্বীর্ঘ শ্বাস ফেলে রান্না ঘরে চলে যায়। বাসায় পুরুষ গুলো থাকলে আজ হাঙ্গামা হতো এটা নিশ্চিত।
★
নাহিয়ান ফারিহাকে ঘরে এনে দরজা আটকিয়ে দেয়। ফারিহা একটু ভয় পায়। সে দ্রুত বিছানার উপর উঠে যেতে চাইলে আর পারে না। নাহিয়ান ফারিহার হাত টেনে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে। এত দ্রুত হওয়ায় ফারিহা ঘাবড়ে যায় অনেক। চোখ খিচে বন্ধ করে রাখে। নাহিয়ান ভারিক্কি স্বরে বললো,
“ লুক এট মি ফারিহা। “
ফারিহা শুকনো ঢোক গিলে পিটপিট করে চোখ খুলে। নাহিয়ান ফারিহার হাত এখনো দেয়ালের সাথে চেপে ধরে আছে। নাহিয়ান ফারিহার দিকে তাকিয়ে কঠিন গলায় বললো,
“ তুমি এডভোকেট নাহিয়ান চৌধুরীর বউ। তুমি যদি এভাবে চুপচাপ থাকো কিছু না বলে সয়ে যাও তাহলে কীভাবে হবে শুনি। তোমার হাসবেন্ড তোমাকে অনুমতি দিচ্ছে এখন থেকে যে তোমাকে অপমান করবে তাদের উচিত শিক্ষা তুমি দিবে। এটা তোমার হাসবেন্ড এর অর্ডার। আরেকদিন যদি দেখেছি চুপচাপ থাকতে তাহলে সেদিন আমি তোমায় মাথার উপর তুলে আছার মারবো বলে দিলাম। “
এটা বলে সরে আসে। ফারিহা যেনো এখন দেহে প্রাণ ফিরে পেলো। চোখ বন্ধ করে নিজেকে ধাতস্থ করে। চোখ খুলে দেখে নাহিয়ান বারান্দায় চলে গেছে তাই সে আর দেরি করেনি। আলমারি থেকে লং ব্লু স্কার্ট আর হোয়াইট টপ নিয়ে গোসল করতে ঢুকে যায়। দশ মিনিট পর বের হয়ে দেখে নাহিয়ান উদাম হয়ে পুশআপ দিচ্ছে। শীতের মধ্যেও বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা হয়েছে। হাতের বাইপাস গুলো ফুলে ফুলে উঠেছে সাথে রগ গুলো ফুলে উঠছে । ফারিহা চুল মুছতে মুছতে নাহিয়ানের পাশে বসে গালে হাত দিয়ে বললো,
“ আপনাকে না পুরো মাখনের মতো লাগছে লাইক চকলেট আইসক্রিম। “
নাহিয়ান পুশআপ থামিয়ে বিষ্ময়কর দৃষ্টিতে ফারিহার দিকে তাকালো। একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে বললো,
“ কী বলছো এসব? “
ফারিহা আগের ন্যায় বসে বললো,
“ কী সুন্দর বডি আপনার। হায় কতো কিউট আমার জামাইটা। “
নাহিয়ান দ্রুত টি-শার্ট গায়ে জড়িয়ে ফারিহার দিকে চেয়ে দুষ্ট হেসে বললো,
“ অনেক সুন্দর বুঝি? “
ফারিহা অকপটে বললো,
“ ভিষণ! “
নাহিয়ান ফারিহার দিকে ঝুকে গিয়ে বললো,
“ তুমি চাইলে টেস্ট করে দেখতে পারো। আমি কিছু মনে করবো না “
এহেন কথায় ফারিহা নিজের বোধশক্তি ফিরে পায়। একটু মনে করতেই বুঝে যায় কী বলেছে সে। ফারিহা আমতা আমতা করে মেকি হেসে বললো,
“ আমি ভুলে বলে ফেলেছি। আমি মায়ের কাছে যাই ক্ষুদা পেয়েছে। “
ফারিহা উঠতে যাবে তখনি নাহিয়ান ফারিহার হাত হেচকা মেরে নিচে ফেলে দেয়। ফারিহার উপর নাহিয়ান ভর দিয়ে শুয়ে পড়ে। ফারিহার ভিজা চুল গুলো নাহিয়ান কানের পিঠে গুজে দিয়ে বললো,
“ এই না তুমি বললে আমাকে মাখন আর চকলেট আইসক্রিম এর মতো লাগছে। তাহলে টেস্ট করবে না তুমি? “
ফারিহা মাথা দুই পাশে নাড়িয়ে বললো,
“ ওইগুলো বাজে কথা। এসব কথা বলতে হ.. “
নাহিয়ানের উত্তপ্ত অধর জোড়া ফারিহার ললাটে ছুয়ে যায়। আর ফারিহার আপনা আপনি চুপ হয়ে যায়। নাহিয়ান বেশ কিছু সময় নিয়ে ফারিহার ললাটে চুমু দেয়। নাহিয়ান ঠোট জোড়া তুলে ফারিহার বন্ধ চোখ জোড়ার পাতায় চুমু দেয়। ফারিহা এতে কেপে উঠে। অন্তরকায়া সব কেপে উঠে প্রনয়নের প্রথম পুরুষের ছোয়ায়। হাতের লোমকূপ গুলো জানান দিচ্ছে সময় তোর এসেছে স্বামীর বুকে জায়গা করে নেওয়া। নাহিয়ান ঠোট জোড়া তুলে নেয়। ফারিহা এখনো চোখ বন্ধ করে আছে। নাহিয়ান ফারিহার গালে স্লাইট করতে করতে বললো,
“ চোখ খুলো শ্যামাঙ্গিনী। “
নাহিয়ানের ডাকে ফারিহা তাকায়। নাহিয়াম মুচকি হেসে বললো,
“ এই সামান্য চুমুতেই এভাবে কাপছো! যদি গভীর থেকে গভীরতম ছুয়ে দেই তখন কী করবে মায়াবতি ? “
নাহিয়ানের লাগামহীন বেহায়াপনা কথায় ফারিহা প্রচুর লজ্জা পায়। দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে। নাহিয়ান হাসে তার বাচ্চা বউয়ের কান্ডতে। নাহিয়ান ফারিহাকে ঘুড়িয়ে নিজের বুকের উপর নিয়ে শুয়ে পড়ে। ফারিহা নিজেই নাহিয়ানের গলা আকড়ে ধরে। আদুরি গলায় বললো,
“ জানেন আপনাকে পারফেকশন নামটা দিয়ে ভুল কিছু করিনি। আপনি সব দিক থেকে পারফেক্ট। আপনি একজন পারফেক্ট ছেলে, পারফেক্ট ভাই সাথে একজন পারফেক্ট স্বামী। আর ভবিষ্যতে পারফেক্ট বা.. “
ফারিহা চুপ হয়ে যায়। কী বলতে যাচ্ছিলো সে। লজ্জারা হানা দেয় ফারিহায় বদনে। নাহিয়ান চোখ বন্ধ করে ফারিহার কথা শুনছিলো। লাস্টের কথা শুনে চোখ খুলে শুন্যে তাকায়। ফারিহার মুখ দেখার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। নাহিয়ানের মুখে হাসির রেখা দেখা যায়। ফারিহাকে জড়িয়ে ধরে। মুখে আর কিচ্ছুটি বলে না। কিছু কথা না বললেও বুঝা যায়। শুধু শুধু লজ্জা দেওয়ার কোনো মানে আছে বুঝি। উহু! নেই।
★
শীতের সন্ধ্যা মানে গরম গরম চা পকরা অথবা গরম পিঠে। চারদিকে কুয়াশাজড়ানো পরিবেশ। পাখিদের কোলাহল নেই। কুয়াশায় শিশির জমচগে পাতায় পাতায়। চৌধুরী ভিলায় সব সাঙ্গ পাঙ্গরা এক হয়ে চোর পুলিশ খেলছে। বিকেলের দিকে মুন্নি, সায়ন, রেহান আসে বাসায়। নাহিয়ানের জন্মদিনের উপলক্ষে নীরা আসতে বলেছে। তারা এসেছে তো যাওয়ার আর নাম নেই। সায়ন, মুন্নি, রেহান, ফারিহা, সুনায়রা, আহিয়ানা সবাই মিলে চোর পুলিশ খেলছে। কারো কোনোদিকে মন নেই। নাহিয়ান বিকেলের দিকে ঘুমিয়েছিলো। তাই সে আর নেই। থাকলে অবশ্য ঝাড়ি দিতো।
নাহিয়ানের ঘুম ভাঙ্গে এশার আজানের সময়। তারা ৬ জন এখনো খেলছে। নাহিয়ান ঘুম থেকে উঠে নিচে এসে দেখলো ছয় মাথা এক জায়গায় ঘড়িতে সময় দেখলো প্রায় ৮ টা বাজতে চললো। নাহিয়ান ফারিহার পিছনে এসে কান টেনে বললো,
“ কালকে না তোমার ভুগোল পরিক্ষা আর তুমি এখানে বসে বাচ্চাদের মতো খেলছো। পড়া লাগবে না তাই না। “
হঠাৎ আক্রমনে ফারিহা সহ সবাই চমকে উঠে। ফারিহা কানে ব্যাথা পায় প্রচুর। মুখে ব্যাথাতুর আওয়াজ তুলে বললো,
“ আ- কান ছাড়ুন ব্যাথা পাচ্ছি খুব। “
নাহিয়ান ফারিহাকে টেনে তুলে বললো,
“ এখন চাপকে পিঠের ছাল তুলবো যাও পড়তে বসো। পরিক্ষা শেষ হলে যত মনে চায় ততই খেলো। “
এই বলে কান ছেড়ে দেয়। নীরা, মুক্তি মিলে চুই পিঠা বানাচ্ছিল। ফারিহা কাদো কাদো ফেস বানিয়ে নীরার কাছে গিয়ে বললো,
“ মা ও মা দেখেছো তোমার ছেলে কীভাবে আমার কান টেনে ধরলো। “
নীরাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেই বললো। মুক্তি ফুটন্ত দুধে এলাচি পাওডার, দার-চিনি আর শীত কালিন টাটকা খেজুরের গুড় দুধে দিয়ে দিলো। গুর দুধে দিতেই মিষ্টি একটা ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়লো। পুরো বাড়ি মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে। ফারিহা নিমেষেই দুঃখ কষ্ট ভুলে গিয়ে মা চাচির সাথে পিঠে বানাতে শুরু করলো।
★
রাত এগারোটা কুয়াশায় চারদিকে ছেয়ে আছে। আদি আর মুন্নি ছাদে দাঁড়িয়ে আছে রেলিং ধরে। মুন্নি ঠান্ডায় কাপছে। ঠোট থরথর করে কাপছে। আদি সেটা দেখে বললো,
“ কী হয়েছে? “
মুন্নি রেগে বললো,
“ এই ঠান্ডায় আমায় এখানে ডেকে এনেছেন কেনো? ঠান্ডায় হাত পা সব বরফ হয়ে যাচ্ছে আমার। ‘“
আদি মুন্নির একেবারে কাছে এসে দাড়ালো। মুন্নিকে নিজের চাদর দিয়ে ঢেকে নিলো। বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে বললো,
“ অপেক্ষায় আছি তোমাকে আমার অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে পাওয়া। “
মুন্নি প্রিয় পুরুষের আশ্রয় পেয়ে আদির বুকে গুটিশুটি মেরে চুপ করে থাকলো। কোনো কথা বললো না। আদিও চুপ করে থাকলো প্রিয় মানুষকে বুকে নিয়ে।
চলবে…….. 🍃🍃
( আপনারা রেসপন্স কমিয়ে দিচ্ছেন কেনো? লাল বাত্তি জ্বলছে লাইক কমেন্ট করুন)