#নীল___জোছনা___পর্ব___৩৪
#ইসরাত__জাহান__এশা
বিকেলের শেষ ভাগ। পশ্চিম আকাশে সূর্যটা ধীরে ধীরে হেলে পড়েছে। সোনালি আলো বারান্দা পেরিয়ে চৌধুরী বাড়ির উঠোনজুড়ে নরম আভা ছড়িয়ে দিয়েছে। হালকা শীতল বাতাসে বাগানের রজনীগন্ধার সুবাস ভেসে বেড়াচ্ছে। দীর্ঘ এক সপ্তাহের উৎকণ্ঠার পর আজ বাড়ির পরিবেশে যেন আবার একটু প্রাণ ফিরে এসেছে। তবু সবার চলাফেরায় সতর্কতা—বাড়ির সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন।
আমেনা চৌধুরী নিজের ঘরের বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে আছেন। মাথার পেছনে নরম বালিশ ঠেস দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর পাশে বসে আছে তার সব নাতনিরা। সবাই মিলে টুকটাক কথা বলছে যাতে আমেনা চৌধুরীর বোর ফিল না করে। নাহিয়ান ফ্রেশ হয়ে ঘুমাচ্ছে। এতদিন তারও বিশ্রামের সুযোগ হয়নি। এক্সামের প্রেশার তারউপর আমেনা চৌধুরী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া। সব দিকেই সামলিয়েছে।
*
*
বিশাল ড্রয়িংরুমে অবস্থান করছে সায়ন, তার বাবা রাজিব মির্জা, মা শায়লা মির্জা আর ছোট বোন সাথি মির্জা । হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন শুনেই আজ আর দেরি করেননি তারা। এতদিন সায়নের কাজের প্রচণ্ড ব্যস্ততার কারণে আসা হয়ে ওঠেনি। সায়ন এসেছে দেখে ফারিহা নাহিয়ানকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে এসেছে। নাহিয়ান এক রাশ বিরক্তি নিয়ে কপাল কুচকে নিচে এসেছে। সায়নের মা শায়লা মির্জা নীরার উদ্দেশ্যে বললো,
“ ভাবি খালাআম্মার সাথে আমরা একটু দেখা করে আসি।”
নীরা হাসি মুখে বললো,
“ হ্যাঁ অবশ্যই। “
সায়ন সহ সিবাই গেলো আমেনা চৌধুরী সাথে দেখা করতে। নীরা, রুশাকে নিয়ে নাস্তা আনতে চলে গেলো।
সায়ন সবার শেষে আমেনা চৌধুরীর ঘরে ঢুকেই দেখতে পায় আহিয়ানা আমেনা চৌধুরীর পাশে বসে তার চুলে তেল দিয়ে দিচ্ছে। আহিয়ান তাদের দবাইলে দেখে চমকে উঠে। খানিকটা ইতস্তত ছড়িয়ে পড়ে। আহিয়ানা টুকটাক কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যাবে তখনি সায়ন অগোচরে আহিয়ানাকে উড়ন্ত চুমু ছুড়ে মারে। তা দেখে আহিয়ানা অবাক হয়ে যায়। নাক মুখ কুচকে ভেঙচি মারে একটা। সায়ন হাসলো আহিয়ানার রিয়েকশন দেখে।
***
ঘরে ঢুকতেই রাজিব মির্জা এগিয়ে এসে সালাম দিলেন।
“ আসসালামু আলাইকুম, খালাআম্মা। এখন কেমন আছেন?
আমেনা চৌধুরী মৃদু হাসলেন।
“ ওয়ালাইকুমুস সালাম। আলহামদুলিল্লাহ, এখন অনেক ভালো আছি। আল্লাহ নতুন করে আরেকটা সুযোগ দিয়েছেন।
শায়লা মির্জা বিছানার পাশে বসে তাঁর হাত আলতো করে নিজের হাতে নিলেন।
“ নিজের শরীরের দিকে এবার একটু খেয়াল রাখবেন। সবাইকে নিয়ে এত চিন্তা করবেন না।”
আমেনা চৌধুরী হালকা হেসে বললেন,
“ আমি আর কী নিয়ে চিন্তা করবো মা। আমার বউমারাই সংসারের সব কিছু করছে আমি তো পায়ের উপর পা দিয়ে বসেই থাকি। আর আমার এই সাজানো সংসারের মায়া কি আর সহজে ছাড়তে পারি?”
কথাটায় ঘরে উপস্থিত সবাই মৃদু হেসে উঠল।
সাথি এগিয়ে এসে মিষ্টি কণ্ঠে বলল,
“ দাদু , আপনি তাড়াতাড়ি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তারপর কিন্তু আমাদের বাসায়ও বেড়াতে আসতে হবে।”
আমেনা চৌধুরী স্নেহভরা চোখে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বললেন,
“ ইনশাআল্লাহ, বু “
কিছুক্ষণ সবাই হালকা গল্পে মেতে রইল। অসুস্থতার কথা, চিকিৎসকের পরামর্শ, বিশ্রামের প্রয়োজন—এসব নিয়েই কথা হলো। অনেকদিন পর ঘরটায় আবার প্রাণের ছোঁয়া ফিরে এলো।
★
সন্ধার দিকে সবাই এক সাথে হয়ে টুকটাক কথা বলছে। কথাবার্তার এক ফাঁকে রাজিব মির্জা ধীরে ধীরে তূর্যের দিকে তাকালেন। যেন কিছু বলতে চাইছেন, কিন্তু সংকোচ বোধ করছেন। ব্যাপারটা তেমনবকেউ খেয়াল না করলেও ফারিহা, বর্ষা, আহিয়ানা খেয়াল করলো। বর্ষা ফারিহার নিকট এগিয়ে এসে বললো,
“ বউমণি কিছু তো একটা আজ হবেই দেখে নিও।”
ফারিহা হাতের মুঠোয় থাকা বাদাম খেতে খেতে বললো,
“ বর্ষা বুবু আমার মনে হচ্ছে কী জানো? “
বর্ষা আগ্রহ নিয়ে বললো,
“ খুব শিগ্রই এই বাড়িতে আবার বিয়ের সানাই বাজতে চলছে। “
বর্ষা চোখ ছোট ছোট ছোট করে বললো,
“ কীভাবে বুঝলে? “
ফারিহা বাকা হেসে বললো,
“ আমি হচ্ছি অ্যাডভোকেট নাহিয়ান চৌধুরীর বউ। তার সাথে থাকতে থাকতে চোখ আমার শকুন হয়ে গেছে। “
বর্ষা বুঝলো না কথাটা তাই আবার বললো,
“ বুঝিনি বুঝিয়ে বলো, “
ফারিহা বর্ষার দিকে তাকিয়ে বললো,
“ সায়ন ভাইয়ার আজকে আহিয়ানা আপু কে ফ্লাইং কিস দিয়েছে তা আমি বাহির থেকে দেখেছি। ভাইয়া আপুকে পছন্দ করে। আর আমার মনে হচ্ছে আজকে আপুর হাত তারা চাইতে আসছে। “
ফারিহার কথা শুনে বর্ষা শুকনো ঢোক গিললো। সেও তো নাহিয়ান ভাইয়ার বন্ধুর সাথে প্রেম করছে এবার কী হবে। বর্ষা কোনো কথা বললো না চুপচাপ থাকলো।
রাজিব মির্জা শায়লা মির্জাকে কিছু ইশারা করে তিনি কয়েকবার গলা পরিষ্কার করে বললো,
“ ভাই সাব.. আমি আসলে... মানে…”
কথা শেষ না করেই আবার থেমে গেলেন। তূর্য অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। রাজিব মির্জা একবার চারপাশে চোখ বুলিয়ে আবার বললেন,
“ ভাইসাব দেখুন আমি কথা আর পেটে রাখতে পারছি না। যা বলছি সরাসরিই বলছি। “
এবার সবার নজর আটকালো রাজিব মির্জার উপর। আহিয়ান ধীর পায়ে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো। হয়তো সেও কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে। রাজিব মির্জা আবার বললেন,
“ আমি আমার ছেলের জন্য আপনার বড় কন্য আহিয়ানার হাত চাইতে এসেছি। “
এই কথায় যেনো বোম ব্লাস্ট হওয়ার মতো হয়ে গেলো। সবার মুখে তালা ঝুলে গেলো কেউ কিছু বলছে না। সায়ন সবার দিকে নজর বুলাচ্ছে। নাহিয়ান অবাক হয়ে সায়নের দিকে তাকিয়ে আছে। সুনায়রা খুশি হয়ে বললো,
“ তারমানে সায়ন ভাইয়া আমার দুলাভাই হবে রুসু আপুকে বিয়ে করলে। “
তূর্য সায়নের উদ্দেশ্যে বললো,
“ সায়ন। “
সায়ন তূর্যের দিকে তাকালো। সোফা থেকে উঠে তূর্যর সামনে দাঁড়িয়ে শান্ত গলায় বললো,
“ আঙ্কেল আমি আহিয়ানাকে ভালোবাসি। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি আপনার মেয়ের নূন্যতম কষ্ট পেতে দিবো না। নিজের রক্ত বেচে হলেও আপনার রাজকন্যাকে সুখে রাখবো। একটিবার আপনি আপনার আদরের কন্যাকে আমার হাতে তুলে দিন বধু রূপে আমি আপনার মেয়েকে আমার ঘরে তুলতে চাই। খুব ভালোবেসে ফেলেছি। “
সায়নের কথায় সবাই মুগ্ধ হলো আহিয়ানা উপর থেকে দেখলো তার সাহেবকে। তূর্য হাসলো ক্ষীণ। তূর্য নিজেও উঠে দাঁড়িয়ে বললো,
“ যদি মেয়েকে না দেই তখন? “
সায়নও ক্ষীণ হেসে বললো,
“ তুলে নিয়ে যাবো না। নিজেকে আরো দক্ষ্য বানিয়ে আপনার সামনে আপনার কন্যাকে আমার সাথে নিয়ে যাবো। “
নীরা সায়নের কাধে হাত রেখে বললো,
“ আর আমাদের আহিয়ানা। “
নীরার কথায় আহিয়ানা উপরের বারান্দায় তাকালো। আহিয়ানা দাঁড়িয়ে আছে। নীরার দিকে তাকিয়ে সায়ন বললো,
“ আপনার গম্ভীর মেয়েকেই নাহয় জিজ্ঞেস করুন আন্টি। “
নাহিয়ান এগিয়ে এসে ফারিহাকে বললো আহিয়ানাকে নিয়ে আসার জন্য। আফারিহা বর্ষা দুইজনেই গেলো আহিয়ানাকে আনতে। আহিয়ানাকে নিয়ে এসে সায়নের পাশে দাড় করিয়ে দিলো। তূর্য আহিয়ানার মাথায় হাত রেখে আদুরি কন্ঠে বললো,
“ মামুনি ভালোবাসো সায়নকে?”
আহিয়ানা মুখ তুলে তাকালো তূর্যর দিকে। কিচ্ছু বললো না। আহিয়ানা এগিয়ে এসে তূর্যর হাত নিজের মুঠোয় নিয়ে বললো,
“ পাপা, ছোট থেকে যেটা বলেছো সেটাই করেছি। আমি যা যা আবদার করেছি তুমি তা পূরণ করেছো। মাম্মার থেকে আমি তোমায় আর ভাইয়ূকে বেশি বিশ্বাস করি পাপা। “
নাহিয়ান বোনকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বললো,
“ তোর ভাইয়ূ কোনো দিন তোর কথা ফেলতে পারেনি। তুই যদি সায়নকে ভালোবাসিস বলে দে আমায়। আম্মু আর বাবা রাজি না থাকলেও আমি তোর সাথে সায়নকে বিয়ে দিবো।”
নাহিয়ানের কথায় তূর্য ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বললো,
‘“ নিজে একা একা বিয়ে করেছো দেখেকি আমার মেয়েকেও একা একা বিয়ে করতে হবে নাকি। আমি মেয়ের বাবা রাজি থাকলে কার বাপের কী। আমার মেয়ের সুখ যেখানে আমিও সেখানেই। “
থেমে সায়নের বাবা অর্থাৎ রাজিব মির্জার দিকে তাকিয়ে বললো,
“ ভাইসাব আমার চোখের সামনে সায়ন বড় হয়েছে আমাদের জানামতে সায়ন খুব ভালো ছেলে। আমার মেয়েকে নির্ধিদায় তার হাতে তুলে দিতে পারি। আমার অমত নেই। কিন্তু আমার স্ত্রী অর্থাৎ আমার ছেলে মেয়ের মা এখনো কিছু বলেনি ও যদি অমত করে আমি আমার মেয়েকে আপনার ছেলের হাতে তুলে দিতে পারবো না। “
নীরা বাকা চোখে তাকালো তূর্যর দিকে। সায়ন এবার নীরার সামনে হাটু মুরে বসে বললো,
“ মেয়েকে দিবেন না আন্টি আমার কাছে? “
নীরা কী বলবে এখন? একবার মেয়ের দিকে তাকালো আরেকবার তার সামনে বসে থাকা ছেলেটার দিকে । নীরা হাতের ইশারায় মেয়েকে ডাকলো। আহিয়ানা এগিয়ে আসতেই নীরা ওর পাশে বসালো। সায়নেকে উঠিয়েও তার আরেক পাশে বসালো। দুই ছেলে আর মেয়ের হাত একে অপরের হাতে দিয়ে সায়নের উদ্দেশ্যে বললো,
“ আমার মেয়ে খুব জেদি, রাগি, গম্ভীর একটা মেয়ে। ওর সমস্যা ওর বাবা ভাইকেই বলবে আমাকে না। ওকে ওর বাপ ভাই হাতের তারায় বড় করেছে। ও আমাকে আদেও ভালোবাসে কিনা জানি না। তবে ওর মনটা খুব ভালো। ও যাকে ভালো বাসে জান প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে। ওর ভাই আর বাবার যেহেতু কোনো আপত্তি নেই আমারও কোনো আপত্তি নেই। “
আহিয়ানা এবার নিজের মা'কে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে কেদে উঠলো, ফুপাতে ফুপাতে বললো,
“ মাম্মা আমিও তোমায় খুব ভালোবাসি। হ্যাঁ এটা সত্যি আমি তোমায় যতটা ভালোবাসি তার থেকে দ্বীগুন আমি ভাইয়ু আর পাপাকে ভালোবাসি। তারাই আমার কাছে বেস্ট। তুমি তো আমাদের ঘরের বাত্তি। তুমি না থাকলে আমরা চোখের উপর ছানি পরে থাকতো। “
নীরা মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললো,
“ পাগলি মেয়ে একটা। কতো বড় হয়ে গেলো এখন আমার মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে ভাবা যায়। “
নাহিয়ান এসে সায়নের পিঠে ঠাস করে থাপ্পড় দিয়ে বললো,
“ শোন আমি তোর বড় এখন থেকে আমায় সম্মান দিবি। আফটার অল আমি তোর হবু বউয়ের বড় ভাই। “
নাহিয়ানের কথায় হেসে ফেললো সবাই। শায়লা মির্জা আর রাজিব মির্জা হাসি মুখে বললো,
“ তাহলে তো আর দেরি করার কারণ দেখছি না সবাই যেহেতু রাজি তাহলে পাকা কথা সেরে ফেলা যাক। “
তূর্য স্বাভাবিক কন্ঠে বললো,
“ “ ভাই সাব শুনুন আমার একটা ভাইও বাসায় নেই আমি তাদের ছাড়া তো কথা আগাতে পারি না। আমার মেয়েকে তারা নিজের মেয়ের মতোই লালন পালন করেছে তাদেরও দায়িত্ব আছে আমার মেয়ের পাকা কথায় থাকা। “
রাজিব মির্জা হাসি মুখে বললো,
“ আচ্ছা বেশ বেশ তাহলে আপনারা সময় করে আমাদের জানাবেন আমরা সেদিনেই এসে পাকা কথা বলবো আর আংক্টি পড়িয়ে যাবো। “
সবাই সম্মতি দিলো তাতে। নীরা, রুশা, লিপি মিলে তাদের আপ্যায়ন এর ব্যবস্থা করছে। আহিয়ানা এক পাশে দাড়িয়ে ছিলো। সায়ন আহিয়ানাকে ইশারা দিয়ে বাহিরে চলে গেলো। আহিয়ানা লজ্জা পেলেও বর্ষা খোচা মেরে বললো,
“ হইছে হইছে লজ্জা পাওয়া লাগবে না তুই যা। “
আহিয়ানা চলে যায়। বাগানে আসতেই দেখে সায়ন দাঁড়িয়ে আছে। আহিয়ান সায়নের পিছে দাঁড়িয়ে গলা খাকারি দিলো। সায়ন ফিরে মুচকি হাসি দিলো। একটু ঝুকে বললো,
"ভালোবাসি আমার হৃদয়ের রাণি। প্রস্তুতি নিন ম্যাম, মিসেস সায়ন মির্জা হওয়ার জন্য।"
আহিয়ানা লজ্জা মাখা হাসি দিয়ে বলল,
"আপনিও প্রস্তুতি নিন, মিস্টার। বিষ পোকার বিষাক্ত বিষ নিজ ইচ্ছায় গ্রহণ করার জন্য।"
সায়ন হো হো করে হেসে উঠল। ধীরে ধীরে আহিয়ানার আরও এক পা কাছে এসে মৃদু স্বরে বলল,
"সেই বিষ যদি তোমার ভালোবাসা হয়, তাহলে আজীবন সেই বিষেই ডুবে থাকতে রাজি আছি।"
আহিয়ানা চোখ নামিয়ে ফেলল। লাজুক কণ্ঠে বলল,
"পরে কিন্তু আফসোস করবেন না।"
সায়ন আলতো করে তার কপালের এলোমেলো চুলগুলো কানের পেছনে সরিয়ে দিয়ে উত্তর দিল,
"তোমাকে ভালোবেসে আফসোস করার দিন যেন কখনো না আসে, সেই দোয়াই করি।"
চারপাশে নরম বাতাস বইছিল। সন্ধ্যার আলোয় দু'জনের চোখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। কথার প্রয়োজন যেন আর ছিল না। নীরবতাই বলে দিচ্ছিল—এই সম্পর্কের নাম শুধু ভালোবাসা নয়, বরং সারাজীবন একসঙ্গে পথ চলার প্রতিশ্রুতি।
★
এশার আজানের কিছু সময় পর তারা বসে আড্ডা দিচ্ছিলো সবাই মিলে। দরজা মুখো থেকে রেহানের কথা শুনে সবাই চমকে তাকালো,
" আমিও বিয়ে করবো। "
সবাই অবাক হয়ে রেহানের দিকে তাকালো। রেহানের দুই হাত ভর্তি মিষ্টির প্যাকেট। এটাই যথেষ্ট হলে ভালোই হতো কিন্তু না রেহান তার সেক্রেটারির হাতেও ফল মিষ্টি ভরে নিয়ে আসছে। বর্ষা মাথায় হাত দিয়ে দিলো। কি করছে এই লোক। পাগল হয়ে গেলো নাকি।। নাহিয়ান ভ্রু কুচকে বললো,
" পাগল হইছিস তুই? কাকে বিয়ে করবি? আর এসব কি? তুই কি এই বাড়ির জামাই যে আসার সময় এসব নিয়ে আসবি। "
রেহান নাহিয়ানের কথায় মুখ বেকিয়ে রুশার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললো,
" আন্টি আমি কি ছেলে হিসেবে খারাপ? "
রুশা হেসে বললো,
" খারাপ হবে কেনো বাবা। তোমাকে তো ছোট বেলা থেকেই দেখছি খুব ভালো তুমি। "
রেহান নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে ফারিহাকে ডেকে বললো,
" আমার উকিল সাহেবের বাচ্চা বউ এদিকে এসে আমার হাত থেকে এইসব নাও। "
ফারিহা নক দাত দিয়ে কাটছিলো আর দুই বন্ধুর কাহিনি দেখছিলো। রেহান ডাকায় কপাল কুচকে তাকালো নাহিয়ানের দিকে। তাকে সব সময় বাচ্চা বলা হয় কেনো? সে কি আসলেই বাচ্চা। নাহিয়ান রেহানের হাত থেকে মিষ্টির প্যাকেট নিতেই রেহান রুশার পা ধরে সালাম করে বললো,
" তাহলে মেয়ের জামাই বানিয়ে নেন শ্বাশুড়ি আম্মা। "
চলিবে……..🙊
#বিদ্রঃ ১৭৬৭ শব্দের পার্ট আজকে। কাল গল্প আসবে না বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে যাবো তাই আজকে বড় করে দিয়েছি। আপনাদের কাজ কি রিয়েক্ট করা আর কমেন্ট করা।
#বিদ্রঃ আর মাত্র এক দিন বাকি প্রি অর্ডার করা। যারা যারা প্রি অর্ডার করেননি তারা দ্রুতই প্রি অর্ডার করে ফেলুন।