ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের ঘ্রাণ

১ম পর্ব

লেখক: ইরফা মাহনাজ

প্রথম ক্রাশ রুদ্ধের উপর খেয়েছি আজ থেকে দুই বছর আগে ফ্যামেলি ট্রিপ সিলেট গিয়ে।

সিলেটের স্নিগ্ধ সকালে পাহাড়ে উঠে ভোরের সূর্যোদয় দেখবো বলে রুদ্ধ আর আমি ঠিক করি। সেই সূর্যোদয় দেখার মুহূর্তে আরো একটি জিনিসের উদয় ঘটে সেদিন। তা ছিলো আমার রুদ্ধের প্রতি এক অদ্ভুদ ভালো লাগা। সূর্যের আলো যখন এসে ওর মুখে পড়লো আমি থমকে গেলাম তখনই।

হঠাৎ আমার ভিতর উথালপাতাল শুরু হলো। হার্টটা এতো জোরে বিট করতে লাগলো মনে হচ্ছিলো এই বুঝি বের হয়ে আসবে। তবে সেদিনের সেই অনুভূতিটাকে ভালোলাগা বলে চালিয়ে গেলেও এই দুই বছরে সেই ভালোলাগা যে এক গভীর ভালোবাসার রুপ নেয় তা বুঝতে আমার আর বাকি থাকে না।

এতোটুকু বলেই থেকে যায় প্রভা। ওর কথা থামতেই পাশে বসে থাকা ওর বন্ধুমহলের উৎসুক দৃষ্টি পড়ে ওর উপর। প্রভাকে উদ্দ্যেশ্য করে স্নিগ্ধা বলে,

--- তারপর কি হলো?

মুচকি হাসি দিয়ে নিজের বন্ধুমহলের দিকে তাকিয়ে জবাব দিলো,

--- তারপর আর কি এভাবেই চলছে দিনকাল। ভালোবেসে যাচ্ছি রুদ্ধকে আমি।

--- আর রুদ্ধ? ও জানে তুই যে ওকে ভালোবাসিস!

প্রভার কথার পাল্টা কথায় জিজ্ঞেস করলো স্নিগ্ধ।

ডানে বায়ে মাথা নাড়িয়ে না বোঝাতেই ধ্রুব বসিয়ে দেয় এক চাটি ওর মাথায়। দাঁত কিড়মিড় করে বলে,

--- গাধী এতোই যখন ভালোবাসিস জানাসনি কেনো ওকে এখনো?

--- কি করে জানাতাম?

--- কি করে আবার মুখ দিয়ে।

--- মজা করছি না আমি।

--- আমরাও কেউ মজা করছি না আর ধ্রুব তো ঠিক কথাই বলেছে প্রভা। তুই ওকে বলে দে।স্নিগ্ধা বলল।

--- অসম্ভব!

--- কেনো অসম্ভব?

স্নিগ্ধর কথায় দাঁতে দাঁত চেপে প্রভা জবাব দিলো,

--- বয়স দেখেছিস আমাদের? ও আমার ছোটো স্নিগ্ধ! আমি কিভাবে বলতাম আমি ওকে ভালোবাসি। আমার ভয় হয় যদি এতে হিতে বিপরীত হয় তখন? আমার ওর সম্পর্ক আমি নষ্ট করতে চাই না। তাছাড়া আমার ফ্যামেলি সম্পর্কে তো তোদের ভালোই ধারণা আছে তারা কখনোই মানবে না আমার ভালোবাসা।

--- ভাই বিশ্বাস কর তোর ওই হিটলার ফ্যামিলির জন্যই তোর জীবন টা শেষ হয়ে যাবে।

--- মুখ সামলে কথা বল ধ্রুব। আমার ফ্যামেলি যথেষ্ট ভালো শুধু তারা এইসব বয়স নিয়ে অনেক সেনসিটিভ।

--- হ্যাঁ বুঝেছি আমাদের মা আমাদের ভুল হয়ে গেছে। স্নিগ্ধা বলল।

--- তথাস্থ।

বলেই খিল খিল করে হেসে উঠলো প্রভা। আর ওর হাসি দেখে ওর বন্ধুরাও হেসে দিলো।

হঠাৎ প্রভা হাসি থামিয়ে দিয়ে ওদের উদ্দেশ্যে বলে,

--- আচ্ছা তুরাজ কোথায়? ভার্সিটি আসেনি নাকি আজ?

স্নিগ্ধা এবার ব্যাঙ্গ করে বলে,

--- দেখ আবার কোন নতুন সকিনা জোগাড় করেছে তার সাথেই কোন চিপায় এখন আছে আর টাঙ্কি মারছে।

--- কপাল তো ওরই।শা*লার আমরা পাই না একটাও আর এদিকে সে একলাই চার পাঁচটা নিয়ে ঘুরছে।

--- হো হো তুই ঠিক বলেছিস ধ্রুব বেটা ডাবল টাইমিং ও ছাড়িয়ে গেছে এখন ট্রিপল টাইমিং করছে। ধ্রুবর কথায় স্নিগ্ধ বলে।

**************

প্রভা যার পুরো নাম আয়েলিন প্রভিকা প্রভা। আর এতক্ষন ধরে যাদের সাথে ও কথা বলছিলো তারা হচ্ছে ওর ফ্রেন্ডসার্কেল।

স্নিগ্ধ, স্নিগ্ধা,ধ্রুব,তুরাজ এই চার জনকে নিয়ে প্রভার বন্ধুমহল। এদের মধ্যে স্নিগ্ধ আর স্নিগ্ধা জমজ। আজকে সবাই মিলে ঘিরে ধরেছিলো প্রভাকে যার কারণে তার ভালোবাসার এই কাহিনী বাধ্য হয়েই বলা লাগছে।

ভার্সিটির শুরুর আগেই ভার্সিটি মাঠে বসে আড্ডা দেয়া এদের রোজকার কাজ। আজকেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। শুধু এই আড্ডায় আজ অনুপস্থিত ছিলো তুরাজ। এক নম্বরের প্লেবয় সে। অগণিত রিলেশন করলেও তার মনে আজ পর্যন্ত কেউ জায়গা নিতে পারেনি।টাইম পাস করেই সে এসব কাজ করে সিরিয়াস কখনোই ছিলো না এসবে।

কিন্তু যাই করুক ছেলের মেধা হচ্ছে তুখোড়। শুধু তুরাজই নয় প্রভা সহো ওর বন্ধুদের সবাই ভালো স্টুডেন্ট। তাইতো প্রফেসরদের প্রিয় স্টুডেন্টদের তালিকায় তারা সবাই। দুষ্টুমিও কম করে না তারা তবে সম্পূর্ণই সীমার মধ্যে থেকে।এবার মাস্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তারা।

****************

কিছুক্ষন পর ~

--- প্রভিইই!!!

--- কি হয়েছে এভাবে চিৎকার করছিস কেনো?

হাঁটুতে ভর দিয়ে হাঁপাতে থাকা তুরাজের উদ্দ্যেশ্য কথাটা বলল প্রভা।

প্রভা কিছুতেই এই ছেলেটাকে নিয়ে পারে না যেখানে সবাই ওকে প্রভা বলে ডাকে সেখানে এই এক বান্দা তার প্রভিকা নামকে শর্ট করে প্রভি ডাকে। কতবার বলেছে হয় প্রভিকা ডাক নয়তো প্রভা কিন্তু না সেতো শোনার পাত্র নয় তাই আর প্রভাও এখন বলা ছেড়ে দিয়েছে।

--- আগে পানি দে পানি খেয়ে একটু গলাটা ভিজিয়ে নেই তারপর বলছি। পুরো এক দৌড়ে এসেছি!

--- তো এরকম এক দৌড়ে আসার কারণ টা কি শুনি?

ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে দিতে দিতে জিজ্ঞেস করলো প্রভা।

স্নিগ্ধা আর ধ্রুবর ডিপার্টমেন্ট এক হওয়ায় ওরা ওদের ক্লাসে চলে গেছে। ক্লাস শুরু বিধায় তাদের যেতে হয়েছে আর স্নিগ্ধকে ম্যাম ডেকেছে দেখে সে সেখানে গিয়েছে।তাই প্রভা বর্তমানে একাই দাড়িয়ে ছিলো তখনই কোথা থেকে যেনো দৌড়ে আসে তুরাজ।

এক ঢোকে পুরো পানি শেষ করে বোতলটা ফিরিয়ে দিয়ে তুরাজ বলল,

--- রুদ্ধ...

রুদ্ধের নামটা শুনতেই উৎকন্ঠা হয়ে পড়লো প্রভা।

--- কি হয়েছে রুদ্ধের? কিরে চুপ করে আছিস কেনো বল কি হয়েছে?

--- আরে বাবা আমাকে বলতে তো দিবি।

--- হ্যাঁ তাড়াতাড়ি বল।

--- তোর ভাই আবার মারামারি করছে।

--- কি??

--- হুম ওই যে ওইদিকে মারামারি করছে সে।

আঙুল তাক করে দেখিয়ে দেয় তুরাজ।

--- কাদের সাথে আর কেনো?

তড়িঘড়ি করে দৌড়াতে দৌড়াতে কথাগুলো বলে প্রভা। প্রভার সাথে নিজেও দৌড়াতে লাগলো তুরাজ।

--- ক্লাসমেট মেবি ওর আর কেনো করছে জানিনা।

*************

বিশালআকার মাঠের এক সাইডে ব্ল্যাক গেঞ্জি তার উপর ধূসর রঙের শার্ট, ব্ল্যাক জিন্স পড়া একটা ছেলে মারামারি করছে। তার সামনে থাকা কয়েকটা ছেলেকে ইচ্ছে মতো পিটাচ্ছে সে।

বাম হাতে একটা ব্রেসলেট, গলায় ঝুলছে একটা লকেট। মারের দরুন হাত থেকে রক্তও পড়ছে কিন্তু এতেও সেই ছেলের মধ্যে কোনো ভাবান্তর হতে দেখা গেলো না।

ওদের কেন্দ্র করে চারপাশে গড়ে উঠেছে ভিড়। বেশির ভাগ মেয়ের নজর কাড়তে সক্ষম সেই ছেলেটি। মেয়েদের মুখে লেগে আছে হাজার হাজার প্রসংশা বানী। সিনিয়র, জুনিয়র সকলের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে মারতে থাকা ছেলেটি।

হায় কি সুন্দর দেখতে , ওয়াও হোয়াট আ ফাইিটিং স্টাইল, আমাকে কেউ ধর ভাই, এত্তো সুন্দর কেনো এই ছেলে এসব কথাগুলোই শুনা যাচ্ছে চারপাশের জটলা থেকে। ছেলেটি যখনই তার লেয়ার কাট চুলে হাত দিয়ে চুল ঠিক করে তখন তো মনে হয় পাগলই হয়ে যায় মেয়েগুলো। আরো জোরে ডাকতে শুরু করে রুদ্ধ, রুদ্ধ বলে। যেনো তারা চিয়ার আপ করছে রুদ্ধকে।

এতসব ডাকের মাঝখানে হঠাৎ একটা ডাকে হাত থেমে যায় রুদ্ধের। মাত্রই ঘুষি উঠিয়েছিলো সামনের ছেলের মুখের নকশা পাল্টাতে কিন্তু তার আগেই অকস্মাৎ পরিচিত গলা শুনে থামতে হয় তাকে।

ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে যেতে যেতে রুদ্ধের নাম ধরে ডাকতে থাকে প্রভা।

--- রুদ্ধওওও, রুদ্ধ।

ডাকতে ডাকতে রুদ্ধের সামনে গিয়ে দাড়ায় সে। হাত ধরে টেনে নিজের মুখোমুখি দাড় করায় তাকে। এরপর ধমকে বলে,

--- সমস্যা কি তোর হ্যাঁ? ঝামেলা না করলে ভালো লাগে না?

--- প্রভাত তুই বুঝছিস না..

--- কি বুঝবো আমি? রোজ রোজ মারামারি কেনো করিস তুই?

চুপ হয়ে যায় রুদ্ধ। তার নিশ্চুপতাকে দেখে দ্বিগুণ ক্ষেপে গেলো প্রভা। ঝাঁঝালো গলায় বলল,

--- কিরে চুপ করে আছিস কেনো? বল।

চোখ তুলে সোজা প্রভার চোখে তাকায় রুদ্ধ। যেখানে কেউ ওর সাথে জোর গলায় কথা বলতে পারে না শাসন তো বহু দুরের। সেখানে এই একটা মানুষ যে রুদ্ধের সাথে জোর গলায় কথাও বলে আবার তাকে শাসনও করে।

*****************

রুদ্ধ পরিবারের একমাত্র ছেলে। প্রভার কাজিন সে। প্রভাদের পরিবারে একমাত্র ছেলে রুদ্ধ, যে কারণে পরিবারের সবার চোঁখের মণি সে। যার উপর কেউ একটা ফুলের টোকাও দেয়নি। বড়ো আদরের ছেলে সে, আজ পর্যন্ত যখন যা চেয়েছে তাইই পেয়েছে। এতে করে আরো বদমেজাজি, আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। কারো কথা শুনবে না যখন যা মন চায় তখন তাই করবে।

*****************

কিছুক্ষন তাকিয়ে সেখান থেকে চলে যায় রুদ্ধ। ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে প্রভা। খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে এখন একটা ঝড় উঠবে।

নিজেও আর দাঁড়িয়ে না থেকে হাটা ধরে। তন্মধ্যেই তুরাজ এসে হাজির হয়। প্রভাকে যেতে দেখে বলে,

--- প্রভি কোথায় যাচ্ছিস তুই?

--- কোথায় আবার দেখছিস না পাগল ক্ষেপেছে ওকেই এখন ঠান্ডা করতে যেতে হবে। আমি না যাওয়া পর্যন্ত শান্ত হবে না ও। পুরো বাড়ি ভাঙচুর করবে এই ছেলে।

--- হু বুঝলাম তা যাবি কিসে?

--- দেখি রিকশায় যাবো, বাড়ির গাড়ি তো এখন আসবে না যেহেতু এখনো ছুটি হয়নি।

--- রিকশায় যাওয়া লাগবে না আমার সাথে চল আমি তোকে বাইকে করে ছেড়ে আসছি।

প্রভাও রাজি হয়ে যায় এছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

**************

রুদ্ধ পুরো নাম আরবিন আরিন রুদ্ধ। প্রভার ভার্সিটিতেই পড়ে সে। এবার অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে সে। পুরো ভার্সিটি কাঁপিয়ে ফেলতে সে একাই একশো। মেধা থাকলেও জীবনেও পড়ালেখা করবে না, সারাবছর টই টই করে ঘুরবে আর পরীক্ষার দুই দিন আগে পড়া শুরু করবে। এতেই ভালো রেজাল্ট নিয়ে আসে। বাড়ি দিয়ে অবশ্য তাকে কোনোদিনই চাপ দেয়নি। কখনোই কোনো কিছুতে জোর করেনি কেউ।

**************

আলোককুঞ্জ বাড়িটির সামনে বাইকটা রাখতেই নেমে পড়ে প্রভা। সফেদ রঙের আট তলা বিশিষ্ট বাড়ির নামপ্লেটে গোটা গোটা করে সোনালি অক্ষরে খোদাই করে লেখা আছে "আলোককুঞ্জ"। বাড়িটির নাম আলোককুঞ্জ দেয়ারও যথেষ্ট কারণ আছে যা আমরা পরে জানতে পারবো।

তড়িঘড়ি করে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে প্রভা। যা ভেবেছে তাই বাড়ির উপর ঝড় উঠেছে। ড্রইং রুমের পুরো লণ্ডভণ্ড অবস্থা। আশেপাশে কাউকে দেখাও যাচ্ছে না। যাবে কি করে তারা এখন আছে রুদ্ধের রুমের সামনে।

ফোস করে একটা শ্বাস ছাড়লো সে। পুরো বাড়িটিই তাদের। কোনো ভাড়া টারা দেওয়া হয়নি। নিচতলায় ড্রয়িং, ডাইনিং আর রান্না ঘর। তারপরের তলায় বাড়ির বড়রা এবং একদম সপ্তম তলায় বাড়ির ছোটরা থাকে। মাঝের ফ্লোর গুলো গেস্ট আসলে ইউজ করা হয়। সব গুলো আবার গেস্ট দের জন্য না। কয়েক ফ্লোরে আছে বিভিন্ন জায়গা যেমন গেমিং জোন, পেট জোন, পার্লার টাইপের একটাও আছে আরো আছে সবই পরে জানা যাবে।

প্রভা শুনেছে এসব কিছুই নাকি করে রেখে গিয়েছেন তাদের দাদু। তার মতে বাড়ি এমন ভাবে বানানো উচিত যেখানে সবকিছুর প্রয়োজন মিটে। সে নাকি এও বলেছে সে চায় না তার নাতি নাতনিদের কোনো অসুবিধা হোক। এসব কথা প্রভা তার মা চাচিদের কাছে শুনেছে কেনোনা প্রভার জন্মের আগেই তার দাদু গত হয়।

কষ্ট করে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেও ভদ্রলোক লিফটের ব্যবস্থাও করেছেন। এই বিষয়টার জন্য প্রভা তার দাদুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সর্বদা।

লিফটে উঠে সেভেনথ ফ্লোরের বাটন প্রেস করে প্রভা। লিফট থেকে নামতেই কিছুটা এগিয়ে গেলেই নজরে আসে বাড়ির সব সদস্য দাড়িয়ে আছে রুদ্ধের দরজার সামনে।

যা ভেবেছে ঠিক তাই। সকলের উদ্বিগ্ন স্বরের ডাক শোনা যাচ্ছে। মেজো মা তো কান্নাই করে দিয়েছে। কাঁদবে না কতো কষ্টের পর তার এই একমাত্র ছেলে। বারবার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে আর ডাকছে।

মা, মেজো মা, ছোটো মা, আভা, তনয়া প্রত্যেকেই আছে এখানে। বাড়ির মহিলাগণ থাকলেও পুরুষগণ বর্তমানে বাহিরে আছে কাজের জন্য। নাহলে তারাও এতক্ষণে এখানেই থাকতেন।

****************

বাড়ি - "আলোককুঞ্জ"

পরিবারের সদস্যদের পরিচয়:-

বাড়ির বড়ো ছেলে - আদ্রিক রায়ান

বাড়ির বড়ো বউ - এলিনা প্রাভি

আদ্রিক ও এলিনার দুই মেয়ে :

বড়ো মেয়ে - আয়েলিন প্রভিকা প্রভা (২৩)

ছোটো মেয়ে - সায়েলিন আরভিকা আভা (২০)

বাড়ির মেজো ছেলে - আরভান রুদ্র

বাড়ির মেজো বউ - মিহিকা রুহানি

আরভান ও রুহানির একমাত্র ছেলে :

আরবিন আরিন রুদ্ধ (২২)

বাড়ির ছোটো ছেলে - রায়ান্দ্রো রিহান

বাড়ির ছোটো বউ - রিয়ানা তৃষা

রায়ান্দ্রো ও রিয়ানার একমাত্র মেয়ে:

রিহেলা তনয়া (১৭)

*****************

সামনে এগিয়ে সকলকে উদ্দ্যেশ্য করে প্রভা বলে উঠে,

--- দেখি সরো তোমরা আমাকে দেখতে দেও কি হয়েছে।

প্রভার কথায় রিয়ানা বলে,

--- হ্যাঁ রে মা দেখতো পারলে তুই একমাত্র পারবি ওকে দড়জা খুলাতে।

ছোটো মায়ের উদ্দেশ্যে আশ্বাস বাণী দিয়ে প্রভা বলে,

--- তুমি চিন্তা করো না ছোটো মা আমি বের করছি ওকে।

এই বলেই দড়জা ধাক্কাতে লাগলো,

--- রুদ্ধ, এই রুদ্ধ দড়জা খোল।

দড়জা না খোলায় আবারো বলে উঠে প্রভা,

--- খুলবি না তো বেশ আমি চলে যাচ্ছি আর কোথায় যাবো সেটা আশা করি বুঝতে পেরেছিস?

কথাটা বলতে দেরি দড়জা খোলতে নয়। দরজা সামান্য খুলে কারো দিকে না তাকিয়ে , কোনো কিছু পরোয়া না করে প্রভার হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দিয়ে ওকে ভিতরে নিয়ে আবারো দড়জা আটকে দেয় রুদ্ধ।

চলবে....

#প্রণয়ের_রং

#পর্ব_১

#লেখিকা_irfa_mahnaj

(এতোদিন এই গল্প কেউ চায়নি তাই লিখিনি এখন চেয়েছে তাই লিখেছি। আশা করি কারো সমস্যা হবে না।

#কটম্যারেজ দিতে থাকবো তাই কেউ টেনশন করবে না সাথে কটম্যারেজ হ্যাপিএন্ডিংই হবে রিলস টা আমি জাস্ট এমনেই বানাইছি। ধন্যবাদ।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন