#প্রণয়ের_ঘ্রাণ
#লেখিকা_Irfa_Mahnaj
#পর্ব_২
📌[গল্পের পূর্ববর্তী নাম ছিলো প্রণয়ের রং যা পরিবর্তন করে প্রণয়ের ঘ্রাণ রাখা হয়েছে।]
প্রভাকে নিয়ে রুদ্ধকে ভিতরে যেতে দেখে এলিনা সবার উদ্দেশ্যে বলে,
--- প্রভা যেহেতু এসে গেছে তাই আর কোনো চিন্তা নেই। ওই সব সামলে নিবে। তোমরা এখন সকলে যে যার কাজে যাও।
কান্না থামালেন রুহানি, জায়ের কথায় সম্মতি প্রকাশ করে বললেন,
--- হ্যাঁ। এই এতক্ষন পর মনে একটু শান্তি লাগছে। প্রভা থাকুক রুদ্ধের কাছে আমরা বরং যাই এখান থেকে।
তারপর সকলে চলে যায়। সকলে গেলেও রয়ে যায় একজন সে আর কেউ না এ বাড়ির মেঝো মেয়ে প্রভার ছোটো বোন সায়েলিন আরভিকা আভা।
কিছুপল বন্ধ দড়জাটির দিকে তাকিয়ে থাকে মনে মনেই বিড়বিড় করে উঠে,
--- রুদ্ধ ভাই তুমি যে সবসময় এমন করো বুঝি না। আমরা সকলে যেখানে এতো করে ডাকলাম তুমি সাড়া দিলে না আপু একবার ডাকতেই সাড়া দিয়ে দিলে!
কয়েকফোটা অশ্রুও ঝড়লো রমণীর চোখ বেয়ে। হাতের উল্টো পিঠে চোখের জল মুছে সেই জায়গা ত্যাগ করলো।
*************
রুমের মধ্যে বিছানার উপর বসে আছে রুদ্ধ। এক হাত খাটের উপর ভর দিয়ে রেখে মেঝেতে পা ঠেকিয়ে আছে সে, দৃষ্টি তার সিলিংয়ের দিকে।
তার পাশেই রুদ্ধের খরখরে পুরুষালী হাতটা নিজের নরম মেয়েলি হাতের উপর ধরে ওষুধ লাগাচ্ছে প্রভা। যার সম্পূর্ণ মনোযোগ এখন রুদ্ধের হাতের উপর।
কি করেছে হাত টার! ইস কতখানি রক্ত ঝরলো এখন কেনো যে এই ছেলেটা এমন করে সেটাই বুঝে না আসে না প্রভার। ওর হাতের ক্ষত দেখে কেনো যেনো বুকটার ভিতর খাঁ খাঁ করে উঠলো। ভালোবাসা বুঝি এমনই ভালোবাসার মানুষের সামান্য আঘাতেই বুকে ব্যাথা উঠাতে সক্ষম। কিন্তু এই কথাটা এই ছেলেকে কে বুঝাবে?
কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই কখন যে চোখ বেয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে সেদিকে খেয়ালও নেই প্রভার।
হঠাৎ হাতের উপর তরল কিছুর স্পর্শ পেতেই ধ্যান ভাঙ্গে রুদ্ধের। চোখ মুখ কুঁচকে তাকায় হাতের দিকে যা ভেবেছিলো তাইই। এই মেয়েটাও না! এইটুকুই তো ব্যাথা পেয়েছে এতে এতো কান্নার কি আছে?
ঝারা মেরে হাত টা সরিয়ে নিলো সে। তার হাত সরাতেই প্রভা চেঁচিয়ে বলল,
--- এই এই করছিস কি তুই দেখছিস না ওষুদ লাগাচ্ছি?
প্রভার হাত থেকে ওষুধ নিয়ে নিজেই লাগানো শুরে করে গম্ভীর গলায় আওড়ালো,
--- হু, হয়েছে তোর আর ওষুধ লাগাতে হবে না। কান্না করেই তো ভাসাচ্ছিস তুই।
--- আচ্ছা আর কান্না করবো না এবার দে। ভালো করে ওষুধ টা লাগিয়ে দি নাহলে যে ক্ষত সারবে না।
--- লাগবে না।
--- জেদ করবি না বলে দিলাম।
ফোস করে একটা শ্বাস ফেলে আবারো হাত টা এগিয়ে দিলো প্রভার কাছে। ওর হাতটাতে পুনরায় ওষুদ লাগাতে লাগাতে জিজ্ঞেস করলো প্রভা,
--- মারামারি করেছিলি কেনো?
--- তোকে কেনো বলবো?
--- ভালো হবি না তুই না?
--- উঁহু একদম না। ভালো হলে মানুষ টিকে থাকতে পারে না। তাছাড়া তুই তো আছিসই ভালো। তোর মতো ভালো মানুষকে প্রোটেক্ট করতে আমার মতো মানুষের যে খারাপ হতে হয় প্রভাত।
সহসাই হাত টা থেমে গেলো প্রভার। পূর্ণদৃষ্টিতে তাকালো রুদ্ধের দিকে। ছেলেটা ওর ছোটো কিন্তু তাও মাঝে মাঝে এমন সব কথা বলে যে তার কোনো বুঝ সে খুঁজে পায় না।
--- ওষুদ লাগানো হয়ে গেছে। আমি এখন যাচ্ছি তুই খেতে চলে আসিস।
বলে উঠে যেতে নিলেই প্রভার হাত ধরে ফেলে রুদ্ধ। পিছনে ঘুরে ওর দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালে ও বলে উঠে,
--- নিচে যাবো না খাবার নিয়ে উপরে আয়।
--- আচ্ছা তুই থাক আমি তোর খাবার নিয়ে আসছি।
তারপর সেখান থেকে চলে যায় প্রভা।
***************
আলোককুঞ্জ বাড়িটি প্রভার দাদা অরুণ রায়েদ তার স্ত্রী প্রার্থনা প্রিয়া আলোর নামে নামকরণ করেন। তাছাড়াও এবাড়ির সকল সদস্যের নামের সাথে আলো অর্থ প্রকাশ পায়। অরুণ তার ছেলেমেয়েদের নামও আলো অর্থ দিয়ে রাখেন সাথে ছেলের বউদের ও একই অর্থবহ নামের আনেন।
এটা এ বাড়ির একটা বিশেষত্ব বলা যায়।
*************
নিচে নেমে সোজা রান্নাঘরে আসে প্রভা। রান্নাঘরে গিয়ে দেখে সেখানে অলরেডি তার মা, মেজো মা আর আছেন। তাদের দেখেই সে বলে,
--- মেজো মা খাবার কিছু থাকলে দেও তো।
--- কেনোরে? এলিনা জিজ্ঞেস করে।
--- আহা বুবু কি সব বলছো মেয়েটার মনে হয় ক্ষুদা লেগেছে। হ্যাঁ রে মা আছে তো তুই বরং একটু দাড়া আমি এখনই দিচ্ছি।
--- আরে আমার জন্য না। আমি তো রুদ্ধের খাবারের কথা বলছি। ও নাকি ঘরে বসেই খাবে।
--- ওহ! আচ্ছা দাড়া দিচ্ছি।
খাবার সাজিয়ে কি যেনো ভাবলো রুহানি। তারপর প্রভাকে বলল,
--- প্রভা মা ছাদে কিছু জামাকাপড় দিয়েছিলাম ওগুলো একটু নিয়ে আসবি?
--- কেনো নয় তার আগে বরং রুদ্ধকে খাবার দিয়ে নেই। বেচারা সেই কখন থেকে না খাওয়া।
--- তোকে এতো ভাবতে হবে না আমি খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা করছি তুই আগে জামা কাপড় গুলো নিয়ে আয়।
অগত্যা প্রভাও আর কি বলবে। আচ্ছা বলে চলে গেলো ছাদের দিকে। সে যেতেই রুহানি এবার আভাকে ডাক দিলো।
--- আভা, এই আভা কোথায় গেলি?
রুহানির ডাকে সঙ্গে সঙ্গে এসে হাজির হয় আভা। জিজ্ঞেস করে,
--- কি হয়েছে মেজো মা আমাকে ডাকলে কেনো?
হাতে খাবারের থালাটা দিয়ে বলল,
--- নে ধর রুদ্ধের ঘরে দিয়ে আয়।
--- কি এগুলো?
--- খাবার এবার যা তাড়াতাড়ি।
--- ঠিক আছে দিয়ে আসছি।
বলে হাটা শুরু করলো রুদ্ধের ঘরের দিকে। মনে মনে বেজায় খুশি হলো সে।
দুরু দুরু বুক নিয়ে নক করলো রুদ্ধের দরজায়। তখনি ভিতর থেকে ভেসে এলো এক পুরুষালী গলার আওয়াজ,
--- ভিতরে আয়।
খাটে আধশোয়া হয়ে শুয়ে আছে রুদ্ধ। চোখ বুজে এক হাত কপালে ঠেকিয়ে রেখেছে সে। দরজায় কড়া নাড়তেই ভাবলো প্রভা এসেছে। তাইতো আসতে বলে।
দড়জা খোলার শব্দে সে অবস্থাতেই শুয়ে শুয়ে বলল,
--- এতক্ষণ লাগে বুঝি প্রভাত?
আবারো মনটা ভেঙ্গে গেলো আভার। সে তো এতক্ষণ এটা ভেবে আনন্দ পাচ্ছিল তার রুদ্ধ ভাই তাকে তার রুমে আসতে বলেছে! কিন্তু না এখানেও প্রভা। দীর্ঘশ্বাস ফেলে কোনোরকমে বলে,
--- আমি আভা রুদ্ধ ভাই।
তড়িৎ চোখ খুলে তাকালো রুদ্ধ। সহসাই চোখ মুখ কুঁচকে গেলো। রাগ উঠলো মাথায়, দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
--- তুই? তুই এখানে কি করছিস?
--- মেজো মা তোমার জন্য খাবার পাঠিয়েছে সেটাই দিতে এলাম।
--- খাবার! সেতো প্রভার আনার কথা ছিলো তুই কেনো এনেছিস? আর প্রভাত কোথায়?
--- আপুর খবর তো জানিনা তবে মেজো মা আমাকে বলেছে বলেই আমি খাবার নিয়ে এসেছি।
--- খুব ভালো করেছিস, খাবার রেখে এখন চলে যা।
--- চলে যাবো! তুমি নিজে খেতে পারবে? হাত তো কেটে গেছে তোমার আমি বরং খাইয়ে দেই।
--- একদম না। আর তোকে এতো চিন্তা করতে কেউ বলেনি। যা বললাম সেটাই কর করে বিদায় হ।
--- রুদ্ধ ভাই!!!
ফোস করে দম ফেললো রুদ্ধ। বুঝতে পারলো মেয়েটা কষ্ট পেয়েছে। আসলে প্রভার আসার কথা ছিলো সেখানে আভাকে দেখে বেশ রাগ হলো ওর। প্রভার উপরের রাগটাই সে ঝেড়ে দিয়েছে মেয়েটার উপর। কন্ঠ টা একটু নরম করে বলে,
--- তুই রেখে যা আভা আমি খেয়ে নিবো চিন্তা করিস না।
আভাও আর কিছু জিজ্ঞেস করে না। চুপচাপ বেড সাইড টেবিলে খাবারের প্লেট টা রেখে চলে যায়।
ও যেতেই রুদ্ধ বলে উঠলো,
--- কাজ টা তুই একদম ঠিক করিসনি প্রভাত। আমিও রুদ্ধ এই খাবার যতক্ষণ না তুই নিজে হাতে আমাকে খাওয়াবি আমি কিছুতেই খাবো না।
চলবে....
[ভূল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। রেসপন্স করবেন, কমেন্ট করে মন্তব্য করবেন। ধন্যবাদ।]