#প্রণয়ের_ঘ্রাণ
#লেখিকা_Irfa_Mahnaj
#পর্ব_৯
--- সরি, সরি তুরাজ ভাই। কীভাবে যে বলটা লাগলো।
বাস্কেট বলটা ফিরত নিতে নিতে কথা টা বলল রুদ্ধ। পুনরায় আবার জিজ্ঞেস করলো,
--- ব্যথা কি বেশি লেগেছে?
রুদ্ধের পানে হাসি দিয়ে তাকালো তুরাজ। বলল,
--- না না বেশি ব্যাথা লাগেনি। তুমি খেলাতে যাও।
পাশ থেকে প্রভা এ কথা শুনে উদগ্রীব হয়ে বলে,
--- কি ব্যথা লাগেনি। কপালের দিকটা কেমন ফুলে গেছে আর তুই বলছিস লাগেনি।
--- আরে প্রভি চিন্তা করিস না আমার আসলেই লাগেনি।
--- তুই বললেই হলো নাকি...
আরও কিছু বলবে তার আগেই সেখানে এসে হাজির হয় স্নিগ্ধ, ধ্রুব। কি হয়েছে জানতে চাইলে স্নিগ্ধা পুরো ঘটনার বিবরণ দেয়।
বিবরণ শুনে ধ্রুব বলে,
--- সেকিরে দেখেই তো বোঝা যাচ্ছে বেশ ব্যথা পেয়েছিস।
ধ্রুবর কথায় ফোড়ন কাটে প্রভা,
--- দেখাদেখির কিছু নেই। ওর কথা বাদ দে তো। ওকে নিয়ে মেডিকেল রুমে চল।
তুরাজ বাঁধা দিবে বুঝতে পেরেই স্নিগ্ধ বলে,
--- প্রভা একদম ঠিক বলেছে। তুই আর বাধা দিবি না।
স্নিগ্ধর কথায় স্নিগ্ধা জবাব দেয়,
--- ও বাঁধা দিলেও আমরা ওর কথা শুনবো নাকি।
--- হ্যাঁ সেই তো। ধ্রুব বলল।
তারপর ওরা সবাই মিলে ওকে নিয়ে যেতে লাগলো মেডিকেল রুমের দিকে।
ওদের সাথে প্রভাও পা বাড়ায় কিন্তু তখনি ওর হাত টা চেপে ধরে রুদ্ধ।
বলিষ্ঠ পুরুষালী হাতের শক্ত পিস্টোন প্রভার হাতের অবস্থা করুণ।
রুদ্ধের দিকে অসহায় মুখ করে তাকালেও বিশেষ প্রভাব পরে না এতে রুদ্ধের।
বরং মুখের আদল শক্ত, গম্ভীর বানিয়ে ঠান্ডা স্বরে শুধায়,
--- কোথায় যাচ্ছিস তুই প্রভাত?
বেশ বিরক্ত হলো ওর এমন লজিক ছাড়া কথায় প্রভা। বিরক্তি নিয়েই জিজ্ঞেস করলো,
--- আজব এই সামান্য কথাটা জিজ্ঞেস করতে তুই আমার পথ আটকেছিস?
--- উহু এটা মোটেও সামান্য নয়। তোর সামান্য লাগলেও ব্যাপারটা আমার কাছে একদমই সামান্য না।
--- কিসব বলছিস তুই! মাথা গেছে?
--- খেলা আছে বিধায় তুই এখন বেচে গেলি। বাসায় ফিরি অন্য কেউ কেনো তোর ওড়না ধরবে আর তুইও মানুষের জন্য এতো উতলা হয়ে ধেই ধেই করে ছুটবি তার হিসেব নিবো আমি।
তারপর কি মনে করে যেনো প্রভার ওড়না টা দিয়ে নিজের মুখের ঘাম মুছলো। ফের চিরবিড়িয়ে উঠে বলে,
--- আমার জিনিস দেওয়ার সাহস বেরে গেছে না? আবার যদি দেখি না ফল ভালো হবে না।
কথাগুলো বলে হনহনিয়ে চললো বাস্কেট বল কোর্টের দিকে।
যেতে যেতে আরো একবার শাসাতেও ভুললো না রুদ্ধ। বলল,
--- এখন চুপচাপ বাড়ি ফিরবি। মেডিকেল রুমের দিকে ভুলেও যাবি না।
মূলত বল পড়ার কান্ডটার জন্যই রুদ্ধদের খেলাটা পজ করা হয় কিছু সময়।
আর সেই সুযোগই লুফে নেয় রুদ্ধ। প্রথম থেকেই মেজাজ চড়ে যায়। সেই যে তুরাজ প্রভার পাশে বসে সেই থেকেই খেয়াল রুদ্ধের সেদিকে।
তারপর প্রভার ওড়না টানা সহ্যের বাহিরে চলে যায়। যাও একটু প্রভার মুখটা দেখে রাগ ভাটা পড়েছিলো তুরাজের প্রভাকে প্রভি বলে শুনে তা পুনরায় হাই হয়ে যায়।
এদিকে প্রভা পুরো বোকার মতো দাড়িয়ে আছে। কি হয়েছে না হয়েছে মাথার উপর দিয়ে গেছে।
তবে রুদ্ধের আদেশ অমান্য করার সাধ্য মেয়েটার হয়নি। যদিও বয়সে দেখলে সেই বড়ো কিন্তু তাও রুদ্ধের রাগ সম্পর্কে তার যথেষ্ট ধারণা আছে।
রাগ, জেদ একটু বেশিই রুদ্ধের। যখন যেটা বলবে তখন সেটাই হবে। কেউ এর উপর কথা বলতে পারে না।
ছোটো বেলা থেকেই এমন ছেলেটা। এতো জেদি! এসব ভেবেই প্রভার বুক চিড়ে বেরিয়ে আসে এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস।
হাটা দেয় বাড়ির উদ্দেশ্যে। এমনিতেও আজ আর ক্লাস করতো না। ফোন বের করে ফ্রেন্ডস গ্রুপে একটা ম্যাসেজ লিখে পাঠিয়ে দেয়।
"বাড়ি থেকে ফোন দিয়েছে আমাকে যেতে হচ্ছে দুঃখিত তোদের জয়েন না করার জন্য।"
ফোনটা টোট ব্যাগে ঢুকাতে গিয়েও কি মনে করে থেমে যায়। পুনরায় টাইপ করে,
"@তুরাজ আপডেট জানাবি কিন্তু আমাকে"
*************
"Fivefold Souls" নামের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ তাঁদের।
গ্রুপটা তুরাজ খুলে আর নামকরণ স্নিগ্ধা করেছে। নামকরণ নিয়েও স্নিগ্ধ আর স্নিগ্ধার একজোট লেগেছিল।
দুজন জমজ হলেও কোনো মিল নেই এদের। বাকি সব জমজদের মতো নয় এরা।
এ উত্তর তো আরেকজন দক্ষিণ। তবে এই ঝগড়ার পড়েও তাঁদের বন্ডিং কিন্তু অনেক স্ট্রং।
স্নিগ্ধ আর স্নিগ্ধা এখানে একাই থাকে। দুই ভাই বোন মিলে এক ফ্ল্যাট নিয়েছে সেখানেই থাকে।
তাঁদের বাবা-মা উভয়েই থাকে সুদূর প্রবাসে। তাঁদের ভার্সিটি শেষ হলেই তাঁদের কেও সেখানেই নিয়ে যাবে।
**************
রিকশার জন্য দাড়িয়ে আছে প্রভা। আসার সময় তো রুদ্ধের সাথে এসেছিলো এখন তো একা সে।
তন্মধ্যেই একটা গাড়ি এসে থামে প্রভার সামনে। গাড়িটি চিনতে মোটেও অসুবিধা হয়নি প্রভার।
এটা তাদের বাড়ির গাড়ি। তবে এখন গাড়ি! সে তো বলেনি তাহলে?
প্রভার চিন্তার মাঝেই গাড়ির দড়জা খুলে ডাক দিলো তনয়া।
গাড়ির ভিতর থেকে হাসি দিয়ে বলল,
--- কি হলো প্রভাপু আসছো না কেনো?
সম্ভিত আসতেই উঠে পড়লো চটপট। দড়জা দিয়ে বসে তনয়াকে জিজ্ঞেস করলো,
--- কিরে তনু তুই এখানে? আমি তো আসতে বলিনি।
--- আরে তুমি বলোনি তো কি হয়েছে রুদ্ধ ভাই বলে দিয়েছিলো।
--- রুদ্ধ বলেছে!
মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি দিলো তনয়া।
মনে মনে হাসলো প্রভা। এই ছেলেটা যতোই ব্যস্ত থাকুক ওর ঠিক খেয়াল রাখবে।
*************
অনেক্ষন যাবৎ প্রভা খেয়াল করছে তনয়া কিছু একটা বলার জন্য কেমন উশখুশ করছে।
ওর অবস্থা দেখে মুখ খুললো প্রভা। প্রশ্ন করলো,
--- কিরে তনু কি হয়েছে? কিছু বলবি?
--- হ্যাঁ বলতাম আরকি।
--- বল।
--- আসলে আপু অনেকদিন হয়েছে আমরা কোথাও ঘুরি না। চলো না আজকে ঘুরি?
তনয়ার বেবি ফেইস করে রাখা মুখপানে কতক্ষণ তাকিয়ে থেকে প্রভা শুধালো,
--- ঘুরবি বলছিস?
মুখটা যতোটা সম্ভব ইনোসেন্ট বানিয়ে মাথা ঝাঁকালো তনয়া।
ওর এরুপ চেহারা দেখে হেসে দিলো প্রভা। বলল,
--- বেশ তবে। তার আগে অভুকে একটা ফোন করি।
--- হ্যাঁ করো আভাপু গেলে তো আরো ভালো।
***************
আজকে একটানা ক্লাস করতে হয়েছে। ব্রেক ছিলো না মাঝে।
তাই একটু বেশিই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে আভা। ক্লাস শেষ। এখন বাসায় ফিরবে।
ক্লান্ত পা নিয়ে কলেজ গেটের দিকে হাটা দেয়।
পরিহিত এফ্রনের পকেটে থাকা মুঠোফোনটি বেজে উঠে। তড়িৎ সেটি নিয়ে কলদাতার নামটি দেখতেই মুখে ফুটে এক চিলতে হাসি।
তার আপাই কল দিয়েছে। ফোন রিসিভ করে কানে দিয়ে বলে,
--- আসসালামু আলাইকুম আপাই।
অপরপ্রান্ত থেকে প্রভার জবাব দিলো,
--- ওয়ালাইকুম আসসালাম। শোন অভু তোকে যে কারণে ফোন করলাম। তোর ক্লাস শেষ?
--- হ্যাঁ। কেনো?
--- যাক ভালোই হলো। তনু বায়না জুড়েছে ঘোরার তাই ভাবলাম ঘুরি। আসলেই অনেকদিন হলো তিন বোন একসাথে ঘোরা হয় না।
--- এটা বেশ ভালো কথা। তো তোমরা কোথায় এখন?
--- তোর কলেজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। বাড়ির গাড়ি এসেছে?
--- জানিনা। দেখি দাড়াও।
--- তাহলে তুই গাড়ি মানা করে দিস। ড্রাইভার চাচাকে বলিস চলে যেতে।
--- আচ্ছা বলবো। তোমাদের আসতে কতক্ষণ লাগবে?
--- বেশি না প্রায় চলে এসেছি। তুই গেটের সামনেই দাড়াস কিন্তু।
--- ঠিকাছে বাবা দাড়াবো।
কথা শেষে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে হাটা দিলো গেটের দিকে।
যা ভেবেছে তাইই। গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ড্রাইভিং সিটের জানালার কাঁচে হাত দিয়ে ঠক ঠক আওয়াজ করলো আভা।
আওয়াজ পেতেই গাড়ির কাচ নামিয়ে দেন ড্রাইভার জাবের। পান খাওয়া দাঁত দিয়ে হেসে বলে,
--- উঠে পড়ুন আম্মাজান।
বিনয়ের সহিত পুরো ব্যাপারটা বলল আভা।
--- চাচা আপনি চলে যান। আজকে আপাই আসবে। আমরা তিন বোন ঘুরবো।
--- আইচ্ছা আম্মাজান।
এই বলে সা সা করে গাড়িটি নিয়ে চলে যান জাবের।
গাড়িটি যেতেই হাত ঘড়ির দিকে নজর দিলো। তারপর আবার তাকালো রোডের দিকে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা গাড়ি এসে হাজির হয়। গাড়িতে উঠে বসে আভা।
তারপর গাড়ি ছুটে তার নিজস্ব গন্তব্যে।
প্রথমেই ঠিক হয় আগে পেটপূজা করা হবে তারপর বাকি সব।
বড়ো একটা রেস্টুরেন্ট দেখে নামে তারা। পেট ভরে খেয়ে বের হয়ে আসে।
আজ প্রায় অনেকগুলো দিন পর তিন বোন এভাবে ঘুরছে। তিনজনের মুখেই হাসি।
অবশেষে ঘুরাঘুরি শেষে বাড়ি ফিরে আসে "আলোককুঞ্জ" বাড়ির তিন মেয়ে।
প্রভা প্রফুল্ল মনে ভাবে,
--- আজকের দিনটা তার অনেক ভালো কেটেছে।এভাবেই যেনো সর্বদা তারা তিন বোন একসাথে থাকে। কখনোই যেনো আলাদা না হয়
চলবে.....
[রিয়েক্ট করবেন। কমেন্ট করবেন। আপনাদের রেসপন্সের উপর নির্ভর করে আমার গল্পটা নিয়মিত দেয়ার উপর। রেসপন্স ভালো পেলে লেখার আগ্রহ এমনিতেই চলে আসে। ধন্যবাদ।]