ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের ঘ্রাণ

১২তম পর্ব

লেখক: ইরফা মাহনাজ

#প্রণয়ের_ঘ্রাণ

#লেখিকা_Irfa_Mahnaj

#পর্ব_১০

মাত্রই ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হলো আভা। টাওয়েল দিয়ে নিজের মুখ মুছতে মুছতে বের হয় সে।

রুমের মধ্যে থাকা সোফায় টাওয়েল টাকে ঢিল মেরে ছুঁড়ে ফেলে। ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে যায় বেডের দিকে।

ক্লান্ত শরীরটাকে বিছানায় এলিয়ে দেয়। চোখ বুজে কয়েকটা লম্বা শ্বাস টানে।

আজকের দিনটা সত্যিই অসাধারণ ছিলো। আগে প্রায়ই ওরা তিন বোন ঘুরতে যেতো।

কিন্তু এখন ব্যস্ততার কারণে আর হয়ে উঠে না। সারাদিনের হাবিজাবি চিন্তা ভাবনা করার মধ্যেই হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়তে উঠে বসে আভা।

বেড থেকে নেমে ফোন টা চার্জ থেকে খুলে সেটা নিয়ে পুনরায় বেডে গিয়ে বসে।

আভার এই এক অভ্যাস কোথাও থেকে আসলেই ফোন আগে চার্জ দিবে।

বালিশ টাকে বেডের হেডবোর্ডের সাথে হেলান দিয়ে নিজেও সেখানে আরাম করে আধশোয়া হয়ে শোয়।

পাশ থেকে তুলে আরো একটা বালিস কোলে নেয়। যাতে আরেকটু আরাম করে বসতে পারে।

ফোনের লক খুলে সোজা চলে যায় ম্যাসেঞ্জার অ্যাপসে। ম্যাসেঞ্জার অ্যাপ ওপেন করে খুঁজতে লাগে কাঙ্ক্ষিত আইডি।

নিম্ন ওষ্ঠ কামড়ে ধরে অতি মনোযোগের সহিত কাজটা করতে থাকে আভা।

মুখে ফুটে হালকা হাসির রেখা যখন আইডি টা খুঁজে পায়।

"তুরাজ দেওয়ান"

আইডিতে গিয়ে ম্যাসেজ টাইপ করতে লাগে। টাইপিং শেষে কি মনে করে যেনো আবার লেখাগুলো ডিলেট করে দেয়।

মুখ দিয়ে "চু" শব্দ বের করে ফোনটা পাশে ছুঁড়ে মারে। পা নাচাতে থাকে অনবরত।

মূলত জড়তা কাজ করছে আভার। কিন্তু তাও জিজ্ঞেস তো করতেই হবে।

আজকে প্রভার থেকে শুনেছে তুরাজের মাথায় নাকি বাস্কেট বল লেগেছে। সেদিন তাকে সাহায্য করেছে তুরাজ।

আজ তো আভার উচিত তাকে জিজ্ঞেস করা, তার খোঁজ নেয়া। মানবতা বলতেও তো কিছু আছে নাকি!

কথা গুলো এক মনে ভেবে ফোনটা তুলে নেয়।কিছুটা সাহস নিয়েই টাইপিং করতে শুরু করলো।

--- আসসালামু আলাইকুম

আভা ভেবেছিলো উত্তর আসবে না কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই আসলো।

--- অলাইকুম আসসালাম

ম্যাসেজ টিতে একটা অবাক হওয়ার ইমোজি রিয়েক্ট হিসেবে দিলো আভা।

এহেন রিয়েক্ট দেখে মুচকি হাসলো তুরাজ।

সেও কিছুক্ষণ হবে বাহির থেকে এসেছে। ফ্রেশ হয়ে ফোন নিয়ে বসে।

ফোন অন করতেই রক্তিম আভা আইডি দিয়ে ম্যাসেজ আসে। কিছুটা অবাক হলেও রিপ্লাই করে ম্যাসেজের।

আভার আইডির নাম মোটেও রক্তিম আভা না। সেটা তো তুরাজের দেয়া নিকনেম।

আভাকে এই নিকনেম দেয়ার পিছনে অবশ্য একটা কারণও আছে।

তুরাজ প্রথম যখন প্রভাদের বাড়ি যায় তখন কোথা থেকে জানি আভা দৌড়ে আসছিলো।

হঠাৎ তুরাজের সামনে দুম করে আছাড় খেয়ে পড়ে। নিজের সামনে আভাকে পড়ে যেতে দেখে হকচকিয়ে যায় তুরাজ।

তড়িঘড়ি করে আভার কাছে গিয়ে তাকে তুলতে সাহায্য করে। তুলে দাড় করানোর পর আরেকদফা চমকে উঠে তুরাজ।

আভার পুরো মুখ লাল হয়ে গিয়েছিলো। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো লজ্জা পেয়েছে মেয়েটা।

এতোদিন শুধু নাটক আর গল্পেই শুনে এসেছে লজ্জা পেলে নাকি মুখ লাল হয়ে যায়। আজ তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণও দেখে নিয়েছে।

আশ্চর্যের ব্যাপার তো তখন ঘটলো যখন তুরাজ বলল আভাকে,

--- আরে এতে লজ্জা পাওয়ার কিছু হয়নি। ব্যথা পেয়েছ বেশি?

তখন আভা অস্বীকার করে বলে,

--- না না। লজ্জা পাইনি আমি।

কথাটা শুনে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিলো তুরাজ। কিন্তু আভা তো জবাব দিয়েই খালাস।

তব্ধা খেয়ে কিছুপল ওই যায়গায় ঠাঁই দাড়িয়ে রইলো। তারপর হু হা করে হেসে উঠলো তুরাজ। ঠোঁট নাড়িয়ে আওড়ালো,

--- ইন্টারেস্টিং!

লজ্জার তোপে পুরো মুখ রক্তিম হয়ে গিয়েছিলো। বেশ লেগেছিলো তুরাজের। হঠাৎ মুখ থেকে অস্ফুটে বেরিয়ে আসে একটা নাম।

--- রক্তিম..উম মেয়েটার নাম টা তো জানা হলো না।

মনের মতো নিকনেম দিতে পেরে বেশ লাগলো তুরাজের।

তারপর নিকনেম টি ম্যাসেঞ্জার এও দিয়েছে সে।

****************

ম্যাসেজের টুং আওয়াজে পুরোনো কথা থেকে বেরিয়ে আসে তুরাজ।

--- শুনলাম আপনার মাথায় নাকি বাস্কেট বল লেগেছিলো?

--- হুম লেগেছিলো তো।

--- কেমন আছেন এখন তাহলে?

--- কেমন চাও?

--- মানে?

--- এখন ঠিক আছি আমি। তাছাড়া এসব ছোটো খাটো তে এই তুরাজ দেওয়ানের কিছুই হয় না।

--- ওহ!

আভার রিপ্লাই টা কেনো জানি মনমতো হলো না তুরাজের। সে লিখলো,

--- ব্যথা করলেও সমস্যা নেই।

--- কেনো?

--- ডক্টর তো আছেই! ভাই ব্যথা দিবে বোন না উপশম করবে।

ঠোঁট কামড়ে ধরে তুরাজের ম্যাসেজ দেখে আভা। লোকটা কি তার সাথে ফ্লার্ট করছে!

টাইপ করলো,

--- ফ্লার্ট করছেন?

তিনটা হা হা ইমোজী সেন্ড করে তুরাজ। জবাব দেয়,

--- ওহ কামন! তুমি তুরাজের ফ্লার্টের লেবেলে না। এমনিতেও আমি যার তার সাথে ফ্লার্ট করি না।

তুরাজের কথাটা ভালো লাগেনি আভার। সে শুধু লিখলো,

--- ওহ। আচ্ছা বাই।

কপাল কুঁচকে গেলো তুরাজের। কি হয়েছে মেয়েটার। রাগ করলো কথাটায় নাকি?

--- রাগ করেছো?

--- রাগ করবো কেনো?

--- এই যে বললাম।

--- না রাগ করিনি।

--- তাহলে বাই বলছো যে?

--- কথা শেষ তো কি বলবো।

--- আমার খোঁজ নেয়া হয়ে গেলো?

--- হুম।

--- ওহ! আচ্ছা বাই।

কথা শেষে ফোনটা রাখতে গেলেই টুং করে ম্যাসেজের আওয়াজ আসলো। আভার ম্যাসেজ দেখে হাসি ফুটলো তুরাজের মুখে।

--- আপার থেকে জেনেছিলাম আপনার ব্যথা পাওয়ার কথা।

হাসলো তুরাজ। মেয়েটা কথা বলার কিছু খুঁজে না পেয়ে এসব বলছে। বেশ বুঝলো কিন্তু তাও ভালো লাগলো।

নিজেও রিপ্লাই দিলো আভার,

--- জানতে চাইনি।

লোকটা এমন কেনো? কেমন করে কথা বলছে। ভেবেই টাইপ করলো,

--- বেশ জানার দরকার নেই। বিরক্ত করলে দুঃখিত বাই।

আহাম্মক বনে গেলো তুরাজ। কি বলেছে সে? তার কথা টা কি রুড শুনালো?

--- ওহ শিট!

বলে হাত চালিয়ে টাইপ করলো,

--- কল দেই একটু?

কল করেই মেয়েটাকে বুঝানোর সিদ্ধান্ত নিলো তুরাজ। যদিও মনে হয় না মেয়েটা পজিটিভ কিছু বলবে তবুও।

তবে বিস্ময়কর ব্যাপার তো এটা। আভা সম্মতি দিয়েছে।

--- আপনার সমস্যা না থাকলে দিতে পারেন আমার কোনো আপত্তি নেই।

সঙ্গে সঙ্গে কল দিলো তুরাজ।তবে প্রথম বারেই ধরলো না আভা। দ্বিতীয় বার অনেক্ষন বাজলে ধরে।

ধরে ফোন কানে দিতেই ধমকে উঠে তুরাজ,

--- সমস্যা কি প্রথম বারে রিসিভ করোনি কেনো?

--- ইচ্ছে আমার। তাছাড়া প্রথম বারে আমি কারো ফোন ধরি না।

--- করো ফোন না ধরলেও আমার ফোন প্রথম বারেই ধরবে। মনে থাকবে?

--- হু।

*****************

রাত প্রায় ১.৩০,

নিজের রুমে বসে এ্যাসাইনমেন্ট করছে প্রভা।

পরশু জমা দেওয়ার লাস্ট ডেট বিধায় রাত জেগে করা। আজকে আর কালকে করে শেষ করতে হবে।

প্রভারা যেই ফ্লোরে থাকে এই ফ্লোরে একটা ছোটো খাটো রান্নাঘরও আছে।

নিচেরটার মতো বড়ো না হলেও ভালোই। রান্নাঘরে থাকা টুকটাক জিনিস পাতিও আছে।

সেখান থেকেই কিছুক্ষণ আগে কফি করে নিয়ে এসেছে প্রভা। তখন একবার রুদ্ধের রুমের দিকেও দেখেছিলো। দড়জা লক মানে রুদ্ধ এখনো বাড়ি আসেনি।

আজকের বাস্কেট বল ম্যাচ জেতার উপলক্ষে ফ্রেন্ড রা মিলে নাকি একটা পার্টির অ্যারেঞ্জমেন্ট করেছে।

সেখানেই রুদ্ধ। বাড়ি থেকে কেউ কিছুই বলেনি শুধু মেজো বাবা রাগ হয়েছিল।

কিন্তু এতে কি ও পাত্তা দেয়ার লোক? উহু। ও যাবে মানে যাবেই।

দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে আসে প্রভার বুক চিড়ে। ভাবনা বাদ দিয়ে আবারো লেখায় মনোযোগ দেয়।

হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজে লিখতে থাকা হাত টা থেমে যায় প্রভার।

এদিকে অনবরত নক করেই যাচ্ছে দরজার অপরপ্রান্তের ব্যাক্তি। বিরক্ত হয় প্রভা। এতো রাতে কে এই ভাবে দড়জা টাকাচ্ছে।

চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে দড়জা খুলে দেয়। বাইরের মানুষটিকে দেখে অবাক হয় প্রভা।

জিজ্ঞেস করে,

--- রুদ্ধ তুই?

প্রভা কে ঠেলে ঠুলে রুমের ভিতর ঢুকে রুদ্ধ। টালমাটাল পায়ে রুদ্ধকে হাটতে দেখে কপাল কুঁচকে যায় প্রভার।

রুদ্ধ পড়ে যেতে নিলেই এগিয়ে গিয়ে ওকে ধরে ফেলে প্রভা।

ধরলেও কি এরকম একজন শক্ত, সামর্থ্য, বলিষ্ঠ ও সুঠাম দেহী পুরুষকে তোলা কি চারটি খানি কথা!

একদমই নয়। তবুও কোনো মতে রুদ্ধকে নিয়ে গিয়ে ফেলে দিলো বেডের উপর।

বেডের উপর ফেলতেই উঠে বসে পড়লো রুদ্ধ। বড়ো বড়ো চোখ করে তাকিয়ে রইলো প্রভার দিকে।

রুদ্ধের উপর ঝুঁকে গিয়ে জহুরী চোঁখে পরখ করতে করতে জিজ্ঞেস করলো,

--- তুই ড্রিংক করেছিস রুদ্ধ?

বাবু হয়ে বসে চোখের পাপড়ি দ্রুত ফেলে বলতে লাগলো,

--- একদমই না। আমি তো শুধু লাল পানি খেয়েছি।

হাসি পেলো প্রভার। কেমন কিউট করে বাচ্চাদের মতো কথা বলছে। প্রভার ভাবনার মাঝেই রুদ্ধ ওর হাত টেনে ওর পাশে বেডে বসালো ওকে।

তারপর প্রভার দিকে ঘুরে বলতে লাগলো,

--- তুই খুব পঁচা প্রভাত।

--- কেনো?

প্রভার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়লো। ওভাবেই বলতে লাগলো,

--- সারাক্ষণ শুধু ওই তুরাজ না ফুরাজ ওর সাথেই থাকিস। কেনো থাকিস?

--- থাকলে কি হয়েছে? ও তো ফ্রেন্ড।

--- থাকুক ফ্রেন্ড তাতে কি। তুই শুধু আমার সাথেই থাকবি।

--- কেনো থাকবো তোর সাথে?

হঠাৎ দুম করে উঠে বসে রুদ্ধ। প্রভার মুখ টা দুই হাতের আজলায় নিয়ে বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে বলে,

--- প্লিজ প্রভাত আমার সাথেই থাকিস। তোকে ছাড়া আমার চলে না।

তারপর নিজের বুকের বাম পাশে আঙ্গুল তাক করে বলে,

--- তুই যখন আমাকে ছাড়া অন্য কারো সাথে থাকিস তখন আমার এখানে ব্যথা করে।

বিস্মিত নয়নে তাকায় প্রভা রুদ্ধের দিকে। সেভাবেই জিজ্ঞেস করে,

--- তুই কোনো ভাবে জেলাস হোস রুদ্ধ?

--- খুউব। খুব খুব জেলাস হই আমি।

মনের মাঝে প্রশান্তি বয়ে গেলো প্রভার। সে আবারো জিজ্ঞেস করলো,

--- কিন্তু সারাজীবন তো আমি তোর সাথে থাকতে পারবো না।

--- হোআই?

--- বিয়ে হয়ে গেলে তো আমাকে অন্যের ঘরে যেতে হবে। তখন কি করবি?

মন টা আকুপাকু করছে প্রভার।রুদ্ধের উত্তর জানতে আগ্রহী।

--- না যাবি না। আমি যেতে দিবো না।

--- তা বললে হবে নাকি। বিয়ে হলে তো সব অধিকার বরের থাকবে। সে নিশ্চয়ই বউকে রেখে যাবে না।

কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলো প্রভার মুখপানে। থুতনিতে আঙ্গুল ঠেকিয়ে ভাবুক ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলো,

--- একমাএ তোর বরেরই কেবল তোর উপর অধিকার থাকবে?

--- হ্যাঁ।

--- বিয়ে হলে তো আর কোথাও যেতে পারবি না?

--- মানে?

--- বউ করবো তোকে আমার। বিয়ে করে নিবো। তখন চাইলেও তুই যেতে পারবি না। সারাজীবন আমার সাথেই থাকবি।

চলবে.....

[অনেক বড়ো পর্ব দিয়েছি সবাই রেসপন্স করবেন। ভূল গুলো ক্ষমা করে দিবেন। লাইক, কমেন্ট করবেন। ধন্যবাদ।]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন