ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের ঘ্রাণ

১৫তম পর্ব

লেখক: ইরফা মাহনাজ

#প্রণয়ের_ঘ্রাণ

#লেখিকা_Irfa_Mahnaj

#পর্ব_১৩

রুদ্ধের কথাগুলো যেনো একেকটা কথা ছিলো না। এ ছিলো প্রভার জন্য রুদ্ধের ছোঁড়া লজ্জার বান।

কান দিয়ে গরম দোয়া বের হচ্ছে প্রভার। মুখ লুকানোর জায়গা খুঁজছে সে। মাটির তলায় যেতে পারলে ভালো হতো তবে সেটা তো সম্ভব না।

তাই যার জন্য সে এই লজ্জায় পড়েছে তার বুকেই মুখ লুকায় প্রভা।

নিজের বুকের মাঝে খরগোশ ছানার মতো প্রভার মুখ লুকানো দেখে এবার হো হো করে হেসে উঠলো রুদ্ধ।

প্রভার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,

--- বাহ! যার জন্য লজ্জায় পড়লি তার বুকেই মুখ লুকালি!

মস্তিষ্কে যখন রুদ্ধের কথাটা বুঝতে পারলো তখন যেনো আরো একধাপ লজ্জায় আড়ষ্ট হলো প্রভা।

ইশ! কি একটা বোকার মতো কাজ করলো। ধুর।

তড়িৎ বুক থেকে মুখ উঠিয়ে নেয় প্রভা।কিছু বলতে যাবে তার আগেই সেখানে উপস্থিত জনতারা সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠে।

তনয়া তো সিটিই মেরে বসে। আর ওর সিটি বাজানো দেখে পাশ থেকে স্নিগ্ধ আবার খোঁচা মেরে বলে,

--- আজকাল দেখি মেয়েরাও সিটি মারে। তা তনয়া বুঝি ছেলেদের ইভটিজিং করতে গিয়েই সিটি মারা শিখলে?

--- সে আমি যে কারণেই শিখি না কেনো আপনার তাতে কি?

--- আমারই তো সব।

বিড়বিড় করে বলল স্নিগ্ধ।

--- কি বললেন শুনিনি।

--- না কিছু না।

এদিকে প্রভার তো মরি মরি দশা। না আর সেকেন্ডও দাড়ায় না প্রভা। দৌড়ে নিচে চলে যায়। আর তার পিছে পিছে রুদ্ধও যায়। সাথে মুখে লেগে আছে তার দুষ্টু হাসি।

সবাই এই দৃশ্য দেখে মজা নিলেও দুজনের চেহারায় নেই কোনো হাসি। বরং তাদের চেহারায় আধার নামে।

একজন তুরাজ তো অন্যজন আভা। কী হবে এই দুজন ওয়ান সাইডেড লাভারের!

********************

রুদ্ধ প্রভা চলে গেলেও আভা আর তুরাজ যেতে পারে না। কি বলবে তারা তাই বাধ্য হয়েই এখনো এখানে বসে আছে।

ধ্রুব বোতল ঘুরাতে নিলে বাধ সাধে স্নিগ্ধা। তার বক্তব্য অনেক্ষন হয়েছে ধ্রুব বোতল ঘুরাচ্ছে এবার অন্যজনের উচিত।

এ কথা শুনেই স্নিগ্ধার মাথায় এক চাটি মেরে বসে ধ্রুব। বলে,

--- দেখবো আনে কেমন ঘুরাস তুই।

মুখ ভেংচি দিয়ে স্নিগ্ধা জবাব দেয়,

--- হু দেখিস। তোর থেকে ভালোই ঘুরবো আমি।

দুজনের ঝগড়ার অবসান ঘটিয়ে বোতল ঘুরায় স্নিগ্ধা। সকলের নজর ঘুরতে থাকা বোতলের দিকে।

এই বুঝি নিজের দিকে পড়ে এরকম ভাবনা ভাবতে ভাবতেই বোতল এসে থামে তুরাজের সামনে।

আবারো হই হই করে উঠে সকলে। ধ্রুব বলে,

--- তুরাজের ডেয়ার আমাদেরকে নেচে দেখাতে হবে।

ও ও করে সমস্বরে সম্মতিও জানায় উপস্থিত জনতা। এর মাঝে আবার মশলা পাতি মিশিয়ে তনয়া বলে,

--- এই না না। সিঙ্গেল ডান্স তো পুরোনো হয়ে গেছে তুরাজ ভাই বরং কাপল ডান্স করবে।

তনয়ার কথায় স্নিগ্ধা বলে,

--- আইডিয়া টা তো ভালোই কিন্তু ও কাপল ডান্স টা করবে কার সাথে?

বিরক্ত হয়ে যায় তুরাজ। সে গম্ভীর হয়ে বলে,

--- উফ! কি শুরু করলি তোরা এসব। আমি কোনো ডান্স টান্স করতে পারবো না।

তুরাজের কথার বিরোধিতা করে স্নিগ্ধ বলে উঠে,

--- উহুম তা বললে তো হবে না সোনা তোকে তো ডান্স করতেই হবে।

--- হ্যাঁ তাই।ধ্রুব শুধায়।

--- সে না হয় হলো এবার ওর পার্টনার টা কে হবে?

স্নিগ্ধার কথায় তনয়া বলে,

--- এরও আইডিয়া আমার কাছে আছে।

তনয়ার বাহবা দিয়ে ধ্রুব বলে,

--- আরেব্বাস! তনয়ার তো দেখি গাটে গাটে বুদ্ধি!

ধ্রুবর কথায় টিপ্পনী কাটে স্নিগ্ধ,

--- হ্যাঁ এসব বুদ্ধি তেই তো ভরা থাকবে মাথা। ভালো কিছু তো আর মাথায় থাকে না।

খেঁকিয়ে উঠে তনয়া। বলে,

--- এই আপনার সমস্যা কি? তখন থেকে আমার পিছে লেগে আছেন।

ওদের ঝগড়া আর বাড়তে না দিয়ে স্নিগ্ধা বলে,

--- আহ স্নিগ্ধ থাম কি শুরু করলি। তুমি বলো তনয়া আইডিয়াটা।

--- তো যা বলছিলাম। আমরা সবাইর নাম কাগজে লিখে লটারি করবো যার নাম উঠবে সেইই হবে তুরাজ ভাইয়ের ডান্স পার্টনার।

--- হ্যাঁ হ্যাঁ তাই করা হোক। তাহলে কাগজ কান।

ধ্রুবর আদেশে তনয়া গিয়ে কাগজ কলম নিয়ে আসে। এরপর স্নিগ্ধা কাগজে নাম লিখে আর স্নিগ্ধ কাগজ ভাঁজ করে।

কাগজ ঝাকানোর দায়িত্ব দেয়া হয় আভাকে।

এতক্ষণ অনাগ্রহ নিয়ে এখানে বসে ছিলো আভা। তার কিছুই ভালো লাগছিলো না। প্রথম যেই আনন্দ নিয়ে সে এখানে ছিলো সেসব যেনো হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।

তাই হঠাৎ সম্বোধনে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেও সবার কথামতো কাগজ গুলো নিতে হয়।

কাগজ মিশিয়ে ঝাঁকানোর পড় নিচে রাখতে গেলেই বাঁধা দেয় ধ্রুব। বলে,

--- হাতেই রাখো তুরাজ নাহয় তোমার হাত থেকেই একটা কাগজ তুলবে।

ধ্রুবর কথায় ওর দিকে কটমট করে তাকায় তুরাজ। তবে তুরাজের এই তাকানো পাত্তা না দিয়ে উল্টো তাড়া দেয় সে।

অগত্যা আভার হাত থেকেই কাগজ উঠাতে হয় তুরাজ কে। কাগজ উঠিয়ে কাগজ খুলতেই নাম দেখে খানিকটা দ্বিধায় পড়ে যায় তুরাজ।

এদিকে বাকি সবাই তাড়া দিতে থাকে। জিজ্ঞেস করে কার নাম এসেছে।

কোনো কথা না বলে কাগজ টা এগিয়ে দেয় ওদের দিকে। বন্ধুপার্টি সবাই ঝুঁকে পড়ে কাগজের উপর। নাম দেখেই তো স্নিগ্ধ দেয় এক লাফ।

চেচিয়ে উঠে চিয়ার করতে থাকে। কাগজ খুললেই গোটা গোটা অক্ষরে স্পষ্ট একটা নাম "আভা"।

***************

তখন তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়েছিলো প্রভা। লাস্ট সিঁড়ি পার না হয়েই তার আগের সিঁড়ি থেকে ঠাস করে নিচে পড়ে যায়।

এখন প্রভার হাত পা ছুড়ে কাদতে ইচ্ছে করছে। ছোটবেলায় খালি এমন যেখানে সেখানে পড়ে যেতো ও। এই নিয়ে কি যে মজা নিতো সবাই।

তার এই পড়ার কারণে তাকে সবাই ব্রয়লার মুরগী বলে ডাকতো। ছোটো থাকতে প্রভা দেখতেও ছিলো ব্রয়লারের মতোই।

আর এখন তো সে বড়ো হয়েছে। বাড়ির বড়ো মেয়ে সে। এখনো এভাবে পড়তে হয়! ছি ছি কেউ দেখলে কি যে বলতো।

তবে প্রভার মনোবাসনা কবুল হলো না। রুদ্ধ ঠিক ওর পিছেই আসছিলো। কিন্তু হঠাৎ প্রভাকে পড়ে যেতে দেখে আহাম্মক বনে যায়।

এগিয়ে যায় প্রভার নিকট। এক হাঁটু ভাঁজ করে ফ্লোরে বসে। জিজ্ঞেস করে,

--- দেখে শুনে চলবি না তুই প্রভাত?

চোখ তুলে রুদ্ধের পানে তাকায় প্রভা।

--- দেখি কোথায় ব্যথা পেয়েছিস।

বলেই প্রভার পা নিয়ে দেখতে থাকে। বেশ ভালোই ব্যথা পেয়েছে। লাল হয়ে ফুলে গেছে সাথে সাথে।

প্রভা কি ব্যথা পেয়েছে রুদ্ধকে দেখলে মনে হয় ওই দ্বিগুন ব্যথা পেয়েছে।

এমন একটা অবস্থা ব্যথা যেনো প্রভা পায়নি ব্যথা রুদ্ধই পেয়েছে। এসব আকাশকুসুম ভাবনার মাঝেই নিজেকে শূন্যে ভাসতে অনুভব করে প্রভা।

হকচকিয়ে উঠে। ভালো করে দেখলে বুঝতে পারে রুদ্ধ মহাশয় ওকে কোলে তুলে নিয়েছে।

হাত দিয়ে রুদ্ধের গলা জড়িয়ে ধরে প্রভা বলে,

--- আমি তো হেঁটেই যেতে পারতাম। তোর কোলে নেয়ার দরকার ছিলো না।

প্রভার আল্লাদী কথা শুনে রুদ্ধের মাথায় শয়তানি বুদ্ধি খেলে। শয়তানি হাসি দিয়ে বলে,

--- ছি প্রভাত তুই তো বলতেই পারতিস যে আমার কোলে উঠতে চাস। আমি তো তোকে ছাদ থেকেই নিয়ে আসতে পারতাম।

চলবে.....

[ভূল ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। রেসপন্স করবেন। মন্তব্য করবেন। ধন্যবাদ।]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন