ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের ঘ্রাণ

১৬তম পর্ব

লেখক: ইরফা মাহনাজ

#প্রণয়ের_ঘ্রাণ

#লেখিকা_Irfa_Mahnaj

#পর্ব_১৪

দাঁড়িয়ে থেকে সামান্য নিচের দিকে ঝুঁকে নিজের এক হাত বাড়িয়ে দেয় আভার দিকে তুরাজ।

বাড়ানো হাতটির দিকে একবার তো তুরাজের মুখের দিকে একবার তাকায় আভা।

কেমন অস্বস্তি লাগছে তার। দেনামোনা করে অবশেষে নিজের ছোট্ট হাতখানা নিয়ে রাখে তুরাজের হাতের উপর।

তুরাজের বড়ো পুরুষালী হাতের মাঝে আভার হাতটা একদম এইটুকুনি দেখাচ্ছে।

শক্ত, খরখরে পুরুষালী হাতের গাঢ় বাঁধনে যেনো পুরো শরীর জুড়ে শিহরণ বইছে আভার।

তুরাজের পায়ে পায়ে কদম ফেলে এগিয়ে যায় তার সাথে আভা।

সকলে সমস্বরে চেঁচিয়ে ওদের চিয়ার করছে। তনয়া আবারো সিটি মারলে আবারো এক জোট ঝগড়া হয় স্নিগ্ধ আর তার মাঝে।

ধ্রুব নিজের ফোন বের করে মিউজিক ছাড়ে। রোমান্টিক সং লাগায়।

ব্যাপারটা বেশ বুঝতে পেরেছে তুরাজ। তবে এখন শুধু কটমট করে তাকানো ছাড়া তার কিছুই করার নেই।

সেই সুযোগের ফয়দা উঠিয়ে বন্ধুমহল তাড়া দিতে থাকে। কিছুটা সংকোচ নিয়েই নাচতে আরম্ভ করে তুরাজ।

নিজ কোমরে এক শক্তপোক্ত ঠান্ডা পুরুষ স্পর্শ পেয়ে ঝাঁকি দিয়ে উঠে আভার মেয়েলি কায়াটি।

ধুপ ধুপ করে বাজতে থাকে বক্ষের মাঝের হৃদযন্ত্রটি। পরমুহুর্তেই অনুভব হয় সামনের লোকটি তার এক হাত টেনে নিজের কাঁধে রাখে।

অস্বাভাবিক ভাবে কাপছে মেয়েটার শরীর। আচ্ছা এই কাপন কি সামনে দাড়ানো পুরুষ টিও টের পাচ্ছে?

ভাবনার মাঝেই কর্ণে এসে হানা দেয় তুরাজের ভারিক্কি গম্ভীর গলায় বলা কথা,

--- হাত এতো নরম কেনো? হাত ধরে মনে হয়েছিলো তুলো ধরেছি। হাড় টাড় কিছু নেই নাকি শরীরে?

প্রথম কথায় লজ্জা পেলেও শেষের কথায় অপমানিত বোধ করে আভা। মুখ ফুলিয়ে বসে রয়।

আভার মুখ ফুলানো টা বেশ লাগে তুরাজের নিকট। খুব ক্ষীণ হাসির ঝলক ফুটে উঠে অধর কোণে।

*****************

রুদ্ধের কথা সম্পুর্ণ নাকোচ করে দেয় প্রভা। বলে,

--- মোটেও না। আমার কোনো শখ হয়নি তোর কোলে উঠার।

হেসে উঠে রুদ্ধ। জবাবে জানায়,

--- হ্যাঁ সেই তো। তোর কেনো ইচ্ছে হবে। ইচ্ছে তো আমার হয়েছিল তোকে কোলে নেয়ার। খুব নরম তো তোর শরীর তাই আরকি!

রুদ্ধের কথা বলতে দেরি কিন্তু প্রভার রুদ্ধের পিঠে মারতে দেরি হয়না।

গাল ফুলিয়ে ঘাপটি মেরে পড়ে রয় রুদ্ধের কোলে।

****************

খুব যত্নের সাথে প্রভাকে খাটে বসায় রুদ্ধ। তারপর দৌড়ে নিজের ঘরে গিয়ে একটা স্প্রে নিয়ে আসে।

প্রায়ই মারামারি করে আসলে বা খেলে আসলে শরীর ব্যথা করে তখন এই স্প্রে কাজে দেয়।

প্রভার ঘরে এসব জিনিস ভুলেও থাকবে না। মেয়েটা মেডিকেল রিলেটেড জিনিস এতো বেশি ভয় পায় বিশেষ করে ইনজেকশন।

ছোটো বেলায় নাকি কিসের টিকা দিতে গিয়ে বড়ো আম্মুর মাথার ক্লিপই ভেঙ্গে এসেছিলো। সেই থেকে এতো ভয় পায়।

তারপর যখন আবার করোনা টিকা দিতে গেলো সেবার রুদ্ধ সাথেই ছিলো।

এক স্কুলে পড়ায় একসাথেই দিতে গিয়েছিলো। প্রভা কি রুদ্ধ কে সামলাবে রুদ্ধকেই শেষে প্রভাকে সামলাতে হয়েছিলো।

তার এখনো মনে আছে নার্স যখন বলেছিলো কিছু হবে না শুধু পিঁপড়ায় কামড় দিবে এমন মনে হবে।

ওরে সে কি কান্না। কান্না করে চোঁখের জলে রুদ্ধের স্কুল ইউনিফর্মই ভিজিয়ে দিয়েছিলো।

সেই কথা মনে পড়লেও হাসি পায়।

আসলে প্রভার শরীর বড্ড নাজুক আর সেনসিটিভ। ওর সবকিছু খুব সাবধানের সাথেই করতে হয়। বিশেষ করে ওষুধ পত্র।

নাহয় সাইড ইফেক্ট হয়ে যায়। এই করোনা টিকা দিয়ে যেখানে কারো কিছু হয়নি সেখানেও সাইড ইফেক্ট এর জন্য ওর এ্যালার্জি হয়ে গেছে।

[তোমাদের লেখিকা আপারও প্রভার মতো এ্যালার্জির সমস্যা বাঁধছে টিকা দিয়ে।এত্তো বিরক্তিকর এটা😑।]

সেই থেকে ভয়ের সাথে সাথে একটা বিরক্তিও কাজ করে ওর মাঝে।

তবে এটায় রুদ্ধ অবাক হয় যখনই ও ব্যথা পাবে তখনই ওষুধ লাগানের সময় মেয়েটার এসব ভয়, বিরক্তি কোথায় জানি গায়েব হয়ে যায়।

প্রভা যথেষ্ট বুঝদার একটা মেয়ে। বাচ্চামি স্বভাব বলতে গেলে নেই। কিন্তু মাঝে সাঝে শুধুই রুদ্ধের সাথে বাচ্চামি করবে।

তখন দেখে মনে হবে ও ছোটো আর রুদ্ধ বড়ো।

যদিও রুদ্ধের এটা ভালোই লাগে।

*****************

স্প্রে দেখেই তো চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে প্রভা। বলে,

--- এসব লাগবে না এমনিই ঠিক হয়ে যাবে।

ধমকে উঠে রুদ্ধ। জানতো এরকমটাই হবে তাই আগেই প্রিপারেশন নিয়ে এসেছে।

--- চুপ একদম। বললেই হলো নাকি। দেখি হাত সরা আমি স্প্রে টা দেই।

ফুলো মুখ আরো ফুলিয়ে বলে প্রভা,

--- ভুলে যাবিনা আমি তোর বড়ো হই।

প্রভার চোঁখের দিকে গাঢ় দৃষ্টি দিয়ে উওর দেয়,

--- জানি আমি। বারবার এই কথা মনে করাতে হবে না তোর।

তারপর এক হাত দিয়ে প্রভার দুই হাত শক্ত মুঠো করে ধরে। খুব সহজেই রুদ্ধের এক হাতের মাঝে প্রভার দুই হাত এটে যায়।

যা দেখে মুচকি হাসে রুদ্ধ। মনে মনে ভাবে,

--- বড়ো হওয়ার নমুনা দেখাই যাচ্ছে।

মনোযোগ দিয়ে পায়ের উপর স্প্রে করে রুদ্ধ। কাজ শেষে হাত ছেড়ে দেয়।

এবার স্প্রে রেখে দিয়ে প্রভার পাশে খাটে গিয়ে বসে। ভালো করে নজর বুলায় প্রভার মুখে।

নজর বুলিয়েই ফিক করে হেসে উঠে রুদ্ধ।

ফোলা গাল গুলো এতবেশি আদুরে লাগছে! মন চাচ্ছে এই ফোলা গালে আঙুল দাবিয়ে দিতে।

নিজের ইচ্ছে কে আর দমিয়ে রাখলো না সে। তর্জনী দাবিয়ে দিলো রুদ্ধ।

দাবাতেই মনে হলো আঙুল একদম ডুকে গেছে। এতো সফট গাল ভাবতেই বিস্মিত হয় রুদ্ধ।

কিছু একটা মনে হতেই নিজের দুই হাতের আজলায় প্রভার মুখ টা ধরে রুদ্ধ। কিছুটা চিন্তিত গলায় শুধায়,

--- এতো সফট আর নরম হলে চলবে? সামান্য হাত দিতেই গাল দেবে যাচ্ছে তোর। আমার তো চিন্তা হচ্ছে ফিউচারে কি হবে। আমি তো আর নরম না আমার শক্ত হাতের চাপে তুই আদতেও থাকবি তো!

মুখ হা হয়ে যায় প্রভার। আর ওর হা মুখ আরো হা করতে আবারো রুদ্ধ বলে,

--- আমার ভার সহ্য করার মতো তোর এবেলিটি নেই। এখন আবার তুই এতো নরম। তুই জানিস তোকে যতবার কোলে নিয়েছি মনে হয়েছে তুলোর বালিশ নিয়ে যাচ্ছি। তুই দেখছি আমার তলে কোনদিন চেপ্টাই হয়ে যাবি। ওহ গড ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার এখন খুব টেনশন হচ্ছে।

মাথা কাজ করছে না রুদ্ধের। এই মেয়ের শরীরে তো হাতও দেয়া লাগবে বুঝে শুনে। ধুর ভালো লাগে না। নতুন এক চিন্তা মাথায় চাপলো রুদ্ধের।

কিছুটা রাগ নিয়ে প্রভাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

--- বা*লের বড়ো তুই আমার। এই কাল থেকে জিম করবি। শরীর শক্ত বানাবি।

চলবে.....

[সারাক্ষণ আম্মাজান আমার কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করছে মোবাইল রাখ রেখে পড়তে বস তোর না পরীক্ষা বলে😑। বহু কষ্টে এইটুক লিখছি তাইই আপলোড দিয়া দিলাম। সবাই কিন্তু রেসপন্স করবা। সাইলেন্ট রিডাররা রিয়েক্ট কইরো। কমেন্ট করবে। ধন্যবাদ।]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন