ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের ঘ্রাণ

১৭তম পর্ব

লেখক: ইরফা মাহনাজ

#প্রণয়ের_ঘ্রাণ

#লেখিকা_Irfa_Mahnaj

#পর্ব_১৫

--- না প্রভাত কোথাও যাবে না মানে যাবে না।

রুদ্ধের কথা শুনে তনয়ার মুখ টা আরো কাঁদো কাঁদো হয়ে যায়। অনুরোধ করে বলতে থাকে,

--- প্লিজ ভাই যেতে দেও না।

--- প্রশ্নই আসে না।

--- কেনো?

--- আমি বলেছি মানে ও যাবে না।

এতক্ষণ ধরে রুদ্ধ আর তনয়ার এই যুদ্ধ নিরব দর্শকের মতো দেখছিলো প্রভা।

প্রথমে ভালো লাগলেও এখন সে বিরক্ত হয়ে গেছে। আশ্চর্য যাবে সে আর তার যাওয়া না যাওয়া ঠিক করছে রুদ্ধ!

--- এই তোরা তোদের ঝগড়া শেষ করে আমাকে সিদ্ধান্ত জানা।

প্রভার কথায় দুজোড়া চোখ একসাথে ওর দিকে তাকায়। রুদ্ধ চোখ মুখ কুঁচকে বলে,

--- সিদ্ধান্ত জানানোর কি আছে তুই যাবি না মানে যাবি না ব্যস।

এবার ভাইয়ের পাশ থেকে উঠে গিয়ে বোনের পাশে গিয়ে বসে তনয়া। প্রভাকে উদ্দেশ্য করে বলে,

--- প্রভাপু ও প্রভাপু চলো না প্লিজ।

তনয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে বেশ মায়া হয় প্রভার। তাই রাজি না হয়ে আর পারে না।

--- আচ্ছা যাবো।

খুশিতে লাফিয়ে উঠলো তনয়া। তারা খুশি হলেও খুশি হতে পারলো না বিপরীত সোফায় বসা মানবটি।

খেঁকিয়ে উঠলো তৎক্ষণাৎ,

--- প্রভাত মানা করেছি না আমি তার মানে তুই যাবি না।

--- আমি ছোটো নই ইনফ্যাক্ট তোদের সবার বড়ো আমি। তনয়ার খেয়াল সহ নিজের খেয়াল রাখার যোগ্যতা আমার আছে।

--- তুই বড়ো দেখেই তো আমার আরো বেশি চিন্তা না জানি কখন কোন শকুন নজর দিয়ে বসে।

রুদ্ধের বিড়বিড় করে বলা কথা শুনতে না পেলে প্রভা জিজ্ঞেস করে,

--- কি বললি শুনিনি।

--- বলেছি তোর যাওয়া হবে না এটাই।

নিজের স্পষ্ট মতামত জানিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করলো রুদ্ধ।

ওর যাওয়ার দিকে এক বার তাকায় তো প্রভার দিকে একবার তাকায় তনয়া।

বোনের অসহায় চেহারা বুঝতে পারে প্রভা। আশ্বস্ত করে যে সে যাবে তার সাথে।

****************

মূলত তনয়ার কলেজ থেকে পিকনিকে যাবে। এখন বাড়ি থেকে তো আর ওকে একা ছাড়বে না। সেজন্যই গার্ডিয়ান বানিয়ে প্রভাকে নিবে ঠিক করেছে।

সোফায় বসে থাকা প্রভাকে যখন কথাটি বলে তখনই বিপরীত সোফা থেকে রুদ্ধ তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে।

এক জোট ঝগড়াও করে মহিলাদের মতো। তনয়ার দাবি প্রভাকে নিবে সে কিন্তু রুদ্ধ এতে নাকচ করে দেয় সঙ্গে সঙ্গে।

রুদ্ধের বক্তব্য ওখানে অনেক ছেলে পেলে থাকবে তার উপর তার প্রভাত তো এতো আদুরে দেখতে। যদি কোনো শয়তান আবার ওর দিকে নজর দেয়।

নাআআআ!!! বলে চিৎকার দিয়ে উঠে কল্পনা করতে গিয়ে ব্যাপারটা। কোনো ভাবেই দিবে না যেতে।

এদিকে রুদ্ধের এমন চিৎকার শুনে ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায় প্রভা আর তনয়া।

দুজনে নিজেদের মুখের দিকে একবার চাওয়া চাওয়ি করে। তারপর তনয়া চলে যায় তার রুদ্ধ ভাইকে মানাতে।

****************

দূর থেকে এসব কিছুর দৃশ্য দেখছিলো রুহানি।

এমন না যে সে প্রভাকে দেখতে পারে না। বরং নিজের মেয়ের মতোই দেখেন ওকে।

কিন্তু রুদ্ধের প্রভাকে নিয়ে এরকম ওভার পসেসিভ ব্যবহার তিনি মানতে পারেন না।

মা তিনি চোখ দেখলে আর ছেলের আচরণ দেখলেই বোঝেন তিনি। এতেই আরো টেনশন বেড়ে গেছে তার।

দিনকে দিন প্রভার প্রতি রুদ্ধের পাগলামি বেড়েই যাচ্ছে। এখনই না থামালে ভবিষ্যতে বড়ো কিছু ঘটতে পারে।

প্রভার যদি রুদ্ধের প্রতি কিছু থেকেও থাকে তাহলেও প্রভা কোনোদিন সেটা প্রকাশ করবে না এই বিশ্বাস রুহানির আছে।

রুদ্ধের জেদ সম্পর্কেও তার ধারণা আছে। কতোটা জেদি এই ছেলে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

এমনিতে তো প্রভা যথেষ্ট বুঝদার কিন্ত এই ছেলের জেদের কাছে যদি ও হেরে যায়!

না এটা কিছুতেই হতে দেয়া যাবে না। সব কিছু হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই কিছু একটা করতে হবে।

***************

ফ্রেশ হওয়ার জন্য ঘামে গায়ের সাথে লেপ্টে থাকা শার্ট টা খুলে বেডের উপর ছুঁড়ে মারে তুরাজ।

শার্ট খুলতেই উন্মুক্ত হয় বেশিবহুল পুরুষালী শরীর। অসম্ভব আকর্ষণীয় লাগছে তাকে।

কাভার্ড থেকে ট্রাউজার আর টিশার্ট নিয়ে চলে যায় ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে।

গলায় টাওয়েল ঝুলিয়ে ওয়াশরুম থেকে বাইরে আসে তুরাজ।

চুলও ঠিক মতো মুছেনি। চুল থেকে পানি পড়লেও কোনো ভাবান্তর ঘটে না তার।

শার্টের মতোই টাওয়েল টাও ছুঁড়ে মারেলম্বা ঘুমের প্রয়োজন অনুভব করে।

বেডের উপর গিয়ে সটান করে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ে তুরাজ।

ডিস্ট্রাব করবে না কেউ তাকে। আসলে ডিস্ট্রাব করার মতো কেউ নেইই।

এই ছন্নছাড়া জীবন টা বড়োই একলা। একাকিত্ব তুরাজ দেওয়ানের সঙ্গী।

**************

রুদ্ধের মানা করার পরেও প্রভা যাচ্ছে তনয়ার সাথে।

খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেছে দুজনে। ব্যাগ পত্র আগের দিনই গুছিয়ে রেখেছিলো।

দুইদিন এক রাত থাকবে তারা। এই কারণেই তনয়া প্রভাকে নিবে। আভার এক্সাম থাকায় তাকে নিয়ে যেতে পারবে না।

নাহয় এতো ঝামেলা হতো নাকি! আচ্ছা রুদ্ধ ভাই কেনো এতো পসেসিভ প্রভাপু নিয়ে সেটাই তনয়ার এই ছোট্ট মাথায় ডুকছে না।

ভাবনার মাঝেই শুনতে পায় প্রভার গলা।

--- কিরে তনু হলো তোর?

দরজায় দাড়ানো অতিব সুন্দর রমনীটির পানে একবার তাকিয়ে মুচকি হেসে জবাব দিলো তনয়া।

--- এই তো হয়ে গেছে। চলো।

--- হ্যাঁ তাড়াতাড়ি চল।

তারপর তারা বেরিয়ে আসে। যাওয়ার আগে রুদ্ধের রুমের দরজার দিকে একবার তাকায় প্রভা।

চোখ সরিয়ে নেয় সে।ফোস করে শ্বাস নিয়ে হাটা দেয়। যখন জানবে তখন না জানি কি তুলকালাম করে।

প্রভাদের এগিয়ে দিতে বাড়ির গেইট পর্যন্ত যায় বাড়ির তিন গিন্নি।

সাবধানে যাওয়ার হুশিয়ার করা হয় তাদের। এলিনা তো মেয়েকে বলেন,

--- শোনো আয়েলিন নিজের আর তনুর দুজনের খেয়াল রাখবে কিন্তু।

মাকে আশ্বস্ত করে প্রভা। জড়িয়ে ধরে বলে,

--- চিন্তা করো না মা। আমি খেয়াল রাখবো।

তারপর সবাইকে বিদায় জানিয়ে রওনা দেয় প্রভা, তনয়া।

**************

দুই হাত পকেটে গুঁজে শিস বাজাতে বাজাতে ডাইনিংএ এসে বসে রুদ্ধ। অভ্যাস অনুযায়ী রান্নাঘরে উঁকি মারে।

মুহুর্তেই ভ্রু কুঁচকে যায়। প্রভাত কোথায়? প্রশ্নটা মাথা চাড়া দিতেই অস্থির হয়ে যায় রুদ্ধ।

চারপাশে ভালো করে দেখে। না প্রভা নেই কোথাও। প্রভার টিকিটিও দেখা যাচ্ছে না।

আসার সময় দেখে এসেছে দড়জা আধখোলা তার মানে পরিষ্কার উঠে গিয়েছিলো।

এমিতেও প্রভা সকাল সকালই উঠে।

বিষয়টা ফেলনার নয়। থমথমে মুখে মাকে জিজ্ঞেস করে,

--- মা প্রভাত কই?

স্বামীর পাতে রুটি দিতে দিতে জবাব দেয় রুহানি,

--- প্রভা। ও তো তনুর সাথে গেলো। আজ নাকি ওদের পিকনিক আছে।

ব্যস রুদ্ধের ঠান্ডা মেজাজ মুহূর্তেই বিগড়ে গেছে। দাঁতে দাঁত পিষে মাকে উদ্দেশ্য করে বলে,

--- ফিরবে কখন?

--- শুনেছি তো দুইদিন এক রাত থাকবে।

আপাত দৃষ্টিতে স্বাভাবিক দেখলেও আসলে কিছুই স্বাভাবিক নেই। ব্লাস্ট হলো যেনো রুদ্ধের মাথায়।

যেখানে চোঁখের আড়াল হলেই হাঁসফাঁস লাগে সেখানে এতক্ষণ দূরে থাকবে! তার উপর আবার রাতে!

কোনো কথা না বলে টেবিল থেকে উঠে চলে যায় রুদ্ধ।

রুদ্ধকে উঠতে দেখে রুহানি জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে। এলিনাও জিজ্ঞেস করে। কিন্তু কারো কোনো কথার জবাব না দিয়েই সেখান থেকে হনহন করে চলে যায় রুদ্ধ।

চলবে.....

[ভূল ত্রুটি ক্ষমা করবেন। আর এবার থেকে কন্ডিশন পূরণ করলে পর্ব আসবে। আজকের পর্বে ২০০ রিয়েক্ট হলেই নেক্সট পার্ট আসবে। যতজন পড়েন প্রত্যেকে রিয়েক্ট না করলেও ২০০ হওয়া কোনো ব্যাপারই না। আপনারা সাইলেন্ট যারা থাকেন তাদের জন্যই এমন করছি 😒। যারা রেসপন্স করেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ 💙💙।]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন