ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের ঘ্রাণ

১৯তম পর্ব

লেখক: ইরফা মাহনাজ

#প্রণয়ের_ঘ্রাণ

#লেখিকা_Irfa_Mahnaj

#সারপ্রাইজ_পর্ব

--- ঢুকছে না প্রভাত।

অসহায় ফেইস বানিয়ে কথাটা বলতেই খেক করে উঠলো প্রভা। বলল,

--- সামান্য জিনিসটা ঢুকাতে পারছিস না পারবি কি তাহলে।

--- আরে বাবা রেগে যাচ্ছিস কেনো?ঢুকছে না আমি কি করবো এখানে।

--- কথা না বলে ঢুকা।

প্রভার ঝাড়ি খেয়ে কতক্ষণ চেষ্টা করলো কিন্তু তাও সুবিধা হলো না শেষে আবারো প্রভাকে বলতে বাধ্য হয় রুদ্ধ।

এ পর্যায়ে এসে ভারি বিরক্ত হয় প্রভা। ছো মেরে রুদ্ধের হাত থেকে বাবুর জামাটা নিয়ে নেয়। নিজেই এবার পড়াতে লাগে।

কিন্তু একি! জামাটা টাইট হয়ে গেছে। হবে না দুটোই একেকটা ফুটবলের ছানা।

রুদ্ধ আর প্রভার টুইন ছেলে মেয়ে

আর্যভ প্রভিন ও আরিন্যা প্রভাতী। দুজনের বয়স এক বছর এক মাস হয়েছে।

গোল ফুটবলের মতো দেখতে। এত্তো কিউট দেখতে প্রভার ছানা গুলো যে সারাক্ষণ প্রভার মনে চায় চুমাইতে।

গাল গুলো ফুলো ফুলো টসটসা তার উপর সারাক্ষণ লাল হয়ে থাকবে। ফর্সা মাত্রাতিরিক্ত বললে ঠিক হবে বোধহয়।

বাচ্চা গুলোর দিকে তাকালেই মন ভালো হয়ে যায় প্রভার। এখনো তাই।

হঠাৎ মনে পড়ে যায় এক গর্ধভের কথা। মুখ থেকে "চ" শব্দ উচ্চারণ করে প্রভা শুধায়,

--- এই গর্ধভ জামা যে টাইট হচ্ছে সেটা বললেই তো হতো।

নাকোচ করে দেয় রুদ্ধ প্রভার কথা। চোখ বুজে আঙুল নাড়িয়ে বিজ্ঞদের মতো করে বলে,

--- ছি প্রভাত নিজের স্বামীকে তোর গর্দভ বলতে একটুও বিবেকে বাজছে না?

দাঁত কটমট করে প্রভা জবাব দেয়,

--- না বাজছে না।

--- তা বাজবে কেনো। জানিসনা স্বামীর পদতলে স্ত্রীর বেহেশত কথা না শুনলে, রেসপেক্ট না করলে বেহেশত পাবি না তো।

মুখ ভেংচি কেটে উত্তর দিলো প্রভা,

--- দরকার নেই আমার।

নাক মুখ কুঁচকে ফেলে রুদ্ধ। এই মেয়েকে শুধু রাত ছাড়া সে বাগে আনতেই পারে না।

ফোস করে শ্বাস নিয়ে হাটা দেয় রুমের বাহিরে।

রুদ্ধের যাবার দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে উঠে প্রভা।

***************

সাত মাসের প্রেগন্যান্ট প্রভা। উঁচু পেট নিয়ে হাটা চলা করতে খুব অসুবিধা হয় তার।

সেজন্যই তো রুদ্ধ সব কাজ করবে। খাবার পর্যন্ত নিয়ে এসে নিজের হাতে খাইয়ে দিবে।

রুদ্ধের সাফ মানা প্রভাত জানি বেশি হাঁটাচলা না করে। ছেলেটা প্রভার যত্নে কোনো খামতি রাখে না।

এতো ভালোবাসা, আদর আর যত্নে মুড়িয়ে রাখে যে মাঝে মাঝে মনে হয় এগুলো বোধহয় স্বপ্ন।

কিন্তু না এগুলো সব বাস্তব। নিজেকে তখন পৃথীবির সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হয় প্রভার।

লাস্ট সিঁড়ি পার হতেই হাঁপিয়ে যায় প্রভা। এক হাত পেটে আরেক হাত কোমরে দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নেয় সে।

ছেলে মেয়ে দুটোকে ঘুম পাড়িয়ে এসেছে। এখন তার কাজ ছেলে মেয়ের বাপকে মানানো।

প্রভার আগমনের সাথে সাথেই ওর অস্তিত্ব টের পেয়েছে রুদ্ধ। কিন্তু ইচ্ছে করেই ফিরেনি পিছনে।

তবে যখনই প্রভার এরকম জোরে শ্বাস নেয়া শুনতে পেলো আর স্থির থাকতে পারলো না রুদ্ধ।

দ্রুত ছুটে গিয়ে ধরলো প্রভাকে। দোলনায় নিয়ে গিয়ে বসালো ওকে।

চোখ মুখে ধরা দিলো কাঠিন্যতা। কিছুক্ষন আগের রুদ্ধ আর এই রুদ্ধের মাঝে বিস্তর ফারাক।

ধমক দিয়ে উঠলো প্রভাকে রুদ্ধ,

--- এই তোর কমনসেন্স কোথায়? এই অবস্থায় কেউ হাঁটাচলা করে? আমি যেখানে তোর খাবার পর্যন্ত রুমে নিয়ে যাই সেখানে তুই ছাদে উঠে এলি!

ফিক করে হেসে দিলো প্রভা। মুক্তোর দানার মতো চকচক করছে প্রভার হাসি। নিজেকেও একটা বড়সড় ধমক দিলো রুদ্ধ।

এই হাসি দিয়েই মেয়েটা আবার ওকে ঘায়েল করতে চাইছে। কিন্তু না রুদ্ধ এবার নরম হবে না। কিছু কড়া কথা শুনাতে হবে।

গলা পরিষ্কার করে বলতে আরম্ভ করলো রুদ্ধ,

--- যতোই হাস এবারে আর গলবো না।

রুদ্ধের গাল টেনে দিয়ে প্রভা বলে,

--- তাই?

মুখ ঘুরিয়ে নেয় রুদ্ধ। মেয়েটা তো ভীষণ চালাক। বাচ্চাদের মতো গাল ফুলালো রুদ্ধ। ভোঁতা মুখ নিয়ে বলল,

--- হ্যাঁ।

রুদ্ধের গাল ফুলানো দেখলো প্রভা। পুনরায় ওর ফুলো গাল টেনে দিয়ে বলে,

--- আমার ছোট্ট রুদ্ধ।

মুহুর্তেই কপালে ভাঁজ পড়লো রুদ্ধের। জিজ্ঞেস করলো,

--- এই তুই কি বললি আবার বলতো?

--- বলেছি আমার সেই ছোটো রুদ্ধ। যে ছোটো বেলায় এভাবেই গাল ফুলাতো যখন না পারতো।

--- আমি মোটেই ছোটো নেই এখন। তাই আমাকে ছোটো বলা বন্ধ কর।

--- আমার থেকে তো তুই ছোটই।

এবারে বাকা হাসলো রুদ্ধ। প্রভার কানের কাছে মুখ নিয়ে ডিপ গলায় বলে,

--- নিজের দিকে একবার তাকা প্রভাত।

--- মানে?

--- এই যে দুটো ঘরে ঘুমিয়ে আছে আর একটা তোর সুন্দর বেলিতে।

লাস্ট কথাটা প্রভার পেটের উপর হাত রেখে বলল রুদ্ধ।

হকচকিয়ে গেলো প্রভা। ছেলেটার মুখে কিচ্ছু দেখি আটকায় না। আমতা আমতা করে বলে,

--- তো তাতে কি হয়েছে?

--- কি হয়নি সেটা বল। মানুষ যেখানে একটাই জন্ম দিতে পারেনা সেখানে প্রথম বারেই আমি দুইটা টুইন কিউট ছানার বাবা হয়ে গেছি। আর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আরেকটা তোর পেটে এসে গেলো। তারপরও তুই বলবি আমি ছোটো? আরও প্রমাণ চাস?

বলেই চোখ টিপ মারলো প্রভাকে রুদ্ধ।

***************

পকেটে মানি ব্যাগ ঢুকাতে ঢুকাতে হাক ডাক শুরু করে তুরাজ,

--- আরভিকা, আরভিকা কোথায় তুমি?

কোলে চার বছরের একটা বাচ্চা ছেলেকে নিয়ে রুমে প্রবেশ করে আভা। বলে,

--- কি হয়েছে কি এভাবে চিৎকার করছেন কেনো।

জবাব দিলো না তুরাজ। এগিয়ে গেলো স্ত্রী সন্তানদের কাছে। ছেলেকে কোলে তুলে আদর করতে লাগলো।

ছেলেকে আদর দেয়া শেষ হলে এবার কাছে টেনে নিলো স্ত্রীকে। আভার কপালের মাঝ বরাবর গম্ভীর চুম্বন একে বলল,

--- জানোনা বের হওয়ার আগে আমি তোমাদেরকে আদর করে যাই। তাও যাওয়ার সময় কাছে থাকো না কেনো?

--- রান্না করছিলাম তো।

কপাল কুঁচকে গেলো তুরাজের। জিজ্ঞেস করলো,

--- সার্ভেন্ট কোথায়?

মিন মিন করে উওর দিলো আভা,

--- ওই মানে আসলে...

--- ভুলেও মিথ্যা বলবে না আরভিকা। ওই মিসেস দেওয়ান বলেছিলো?

মাথা নিচু করে ফেলে আভা। আভার মাথা নিচু দেখেই ধপ করে মাথায় আগুন জ্বলে উঠে।

দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

--- মিসেস দেওয়ানের এতো বড়ো স্পর্ধা আমার বউকে দিয়ে কাজ করায় সে।

আভাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে ফুঁসে উঠে এগুতে লাগে তুরাজ। তবে তার যাওয়ার পথে বাধা দেয় আভা।

হাত চেপে ধরে বলে,

--- দরকার নেই।

--- না আজ এর একটা বিহিত আমি করবোই।

--- লাগবে না আপনি একটু শান্ত হোন।

এবার ধমকে উঠে আভার উপর তুরাজ।

--- এই মেয়ে তোমাকে বলেছি না তুমি করে বলতে আমাকে।

--- আচ্ছা তুমি করেই বলবো। তবুও তুমি যেও না।

ফোস করে শ্বাস ছাড়ে তুরাজ। ঘুরে দাড়ায় আভার মুখোমুখি।

আভার নাক টেনে দিয়ে ওর ছোটো খাটো মুখ টাকে নিজের বিশাল পুরুষালী হাতের তালুতে ধরে বলে,

--- তুমি এতো ভালো কেনো মেয়ে!

*****************

আস্তে আস্তে দড়জা খুলে রুমে প্রবেশ করে রুদ্ধ। যাতে শব্দে ঘুম না ভেঙ্গে যায়।

এগিয়ে গিয়ে বেডে শুয়ে থাকা তোতাপাখিটাকে আর চড়ুই ছানা গুলোকে দেখে নেয়।

তারপর ধীরে সুস্থে ফ্রেশ হতে চলে যায়। এদের দেখলেই ওর সব ক্লান্তি গায়েব হয়ে যায় কর্পূরের মতো।

ফুরফুরা মেজাজে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হয় রুদ্ধ। হাতের টাওয়েলটার দিকে একবার তাকিয়ে ছুঁড়ে মারে সোফায়।

শয়তানি হাসি দিয়ে বিড়বিড় করে বলে,

--- কাল আবার ঝগড়া করবো।

আসলে প্রভার পছন্দ না ভিজা টাওয়েল এভাবে রাখা আর রুদ্ধের তো সবচেয়ে পছন্দের কাজই হলো প্রভাকে রাগানো।

রুদ্ধ মনে করে এতে করে একটা আলাদাই মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায় যা অন্যকিছুতে নেই।

বেডের কাছে গিয়ে প্রথমে মেয়ের মাথায় একটা চুমু দেয়, তারপর ছেলের মাথায়।

ছেলেমেয়েকে মন ভরে আদর করে চলে যায় শুতে নিজের বরাদ্দ করা জায়গায়।

প্রভার ওষুধের ডোজে ও একটু বেশিই গভীর ঘুমে থাকে। যার কারণে একটুতেই ঘুম ভেঙ্গে যায় না।

এতে একটু শান্তি পায় রুদ্ধ। ঘুমাক মেয়েটা। সারাদিন তো কম ধকল যায় না।

প্রভাকে বুকের মাঝে নিতেই ঠান্ডা এক পশলা শীতলতা বয়ে যায় শরীর জুড়ে।

শান্তিতে চোঁখ দুটো বুজে আসে। লম্বা শ্বাস নিয়ে টেনে নেয় প্রভার গায়ের নিজস্ব সত্ত্বার মনকারা ঘ্রাণ।

এই ঘ্রাণ বারংবার রুদ্ধকে বাধ্য করে প্রভার প্রেমে পড়তে। শুরু হয় প্রণয়ের। তাইতো রুদ্ধ এই ঘ্রাণকে বলে #প্রণয়ের_ঘ্রাণ।

আগের মতো আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে ধরতে পারে না প্রভাকে। তাতে কি এই যে বুকে নিতে পারে এতেই সন্তুষ্ট রুদ্ধ।

চোখ বুজে প্রভার মাথাটা নিজের বুকের মাঝে নিয়ে বিড়বিড় করে বলে,

--- আমার সুখগুলো।

এই প্রভা আর তার ছেলেমেয়েগুলো রুদ্ধের জন্য একেকটা সুখের বড়ি। আগে ছিলো একটা দুর্বলতা এখন আরো আছে আরো দুটো। সামনে আরেকটা আসতে চলেছে।

রুদ্ধের দুর্বলতা তো বেড়েই যাচ্ছে। কথাটা মাথায় আসতেই হেঁসে উঠলো ছেলেটা।

চলবে.....

[ভূল ত্রুটি ক্ষমা করবেন। এটার সাথে আগের পর্বগুলোর মিল ধরতে যাবেন না। সবাই রিয়েক্ট করবেন, কমেন্ট করবেন।]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন