ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের ঘ্রাণ

৩৫তম পর্ব

লেখক: ইরফা মাহনাজ

#প্রণয়ের_ঘ্রাণ

#লেখিকা_Irfa_Mahnaj

#পর্ব_৩২ [18+এলার্ট 🔞]

❌ কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌

*

*

*

বাড়িআলার বাড়ি থেকে রাতের খাবার খেয়ে এখন নিজেদের সেই ছোট্ট ঘরে এসেছে রুদ্ধ প্রভা।

তখন বহুত কষ্ট হলেও কিছুই করার ছিলো না। প্রভা যদিও রুদ্ধকে মানা করেছিল কিন্তু রুদ্ধ নাছোড়বান্দা। সেও কাজ করেছে।

এখন রাত প্রায় ১০.০০ টার উপর বাজে। প্রভারা তো শুধু চারটা হাত পা ছাড়া কিছুই আনেনি। এমনকি ফোনের চার্জারও না।

অতএব দুজনের ফোনই বন্ধ। আশ্চর্য হলেও দুজনের ফোনই। একজনের আগে তো আরেকজনের পরে এই যা।

প্রভা শুধু ভাবে রিয়ানা টাকা না দিলে কি করতো ও? এসব ভেবে ভেবেই দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে প্রভার বুক চিড়ে।

এখন আপাতত সব ভাবনা বাদ দিয়ে ফ্লোরে বিছানা পাতছে প্রভা। রুদ্ধ বারান্দায় গেছে। বাড়িআলা বৃদ্ধার থেকে একটা কম্বল, মাদুর, বালিশ আর কাথা এনেছে।

শোবার মতো দুজনের জায়গা হলেও তা যথেষ্ট নয়। দুজনেই দুটো বিশাল খাটে ঘুমায়। সেখানে এটুকু জায়গা!

জায়গা নিয়ে সমস্যা ঠেকানো গেলেও মূল সমস্যা হচ্ছে বালিশ। বৃদ্ধার নিকট এক্সট্রা একটাই বালিশ পেয়েছে।

কি করবে কি করবে ভাবতে ভাবতে শেষে প্রভা সিদ্ধান্ত নেয় বালিশ রুদ্ধের জন্যই বরাদ্দ থাকবে। ও নাহয় একটু কষ্ট করে নিচেই ঘুমাবে।

তবে প্রভা তো আর জানেনা রুদ্ধ তার প্রভাতকে কখনই কষ্ট করতে দিবে না। দরকার পড়লে সে নিজে করবে সব কষ্ট।

বিছানা গুছিয়ে রেখে উঠে দাড়ায় প্রভা। উদ্দেশ্য এখন রুদ্ধকে ডাকা। প্রভা যেইনা দাড়িয়ে পিছনে ঘুরে অমনি বলিষ্ঠ কোনো কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে ধরে।

পড়ার হাত থেকে বাঁচতে সামনে যা পেয়েছে তাইই ধরে টান দিয়েছে প্রভা। ফলে রুদ্ধকে নিয়ে সোজা ফ্লোরে।

রুদ্ধের ভারি শরীরের নিচে পরে বেচারি প্রভা চেপ্টা হয়ে গেছে। এতো ওজন এই ছেলের। ও মুখ দিয়ে বাথাতুর আওয়াজ বের করে।

কিন্তু এসবের কিছুতেই খেয়াল নেই রুদ্ধের। ও তো ব্যস্ত সামনের নারীটির দিকে তাকাতে। যে তার, একান্ত ও ব্যক্তিগত।

এই নারীর জন্য সে সব কিছু করতে রাজি। সব মানে সব। রুদ্ধ প্রভাকে নিজের মন দিয়েছে সেই ছোট বেলা থেকে।

ও তখন ক্লাস এইটে পড়তো আর প্রভা নাইনে। এমনিতেই ছোট থেকেই রুদ্ধ ছিলো প্রভার ন্যাওটা। ভালো লাগতো সারাক্ষণ প্রভার আশেপাশে ঘুর ঘুর করতে।

প্রথম কিশোর মনের প্রেমছিলো প্রভা। রুদ্ধ এও জানে প্রভা তাকে কবে থেকে ভালোবাসে। আসলে যাকে তুমি মন প্রাণ দিয়ে অনুভব করো তার চোখ দেখলেই সব বুঝে ফেলা যায়।

রুদ্ধ ছোট থেকেই জেলাস প্রকৃতির। তার উপর প্রভার উপর একটু বেশিই। সেবার নাইনে থাকতে প্রভাকে ওরই ক্লাসের এক ছেলে প্রেমপত্র দেয়।

যা দেখে ফেলে রুদ্ধ। ব্যস ও সেই ছেলের বারোটা বাজিয়ে ছাড়ে। মেরে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে ওইটুকু ছেলে।

এর মাঝেই রুদ্ধ অনুভব করে সে এই মেয়েটার প্রতি দুর্বল। ভীষণ বাজে রকমের দূর্বল।

যা দিন দিন এক চুল তো কমেইনি উল্টে নেশার মতো এর অ্যাডিকশন তৈরি করে দিয়েছে এই মেয়েটার প্রতি।

দিন যতো যাচ্ছিল রুদ্ধ প্রভার ততো আকৃষ্ট হচ্ছিল। আসক্তির মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। তাইতো সবসময় ইন্সিকিউরিটি তে ভুগত ছেলেটা।

*******************

টেবিলের উপর কতোগুলো ম*দে*র বোতল রাখা। আছে চারটা গ্লাস। এগুলো ওয়াইন খাওয়ারই গ্লাস।

সোফার উপর চিৎপটাং হয়ে শুয়ে আছে আভা। তার এক পা তুরাজের গায়ের উপর। তুরাজ নিজেও হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে।

দুজনের কারোই এইসব খাওয়ার অভ্যাস না থাকায় অল্পতেই নেশা চড়ে গেছে। তার উপর এরা দুই বোতল শেষ করে বসে আছে।

এই প্রথম বোধহয় কোনো বাসর ঘরে স্বামী স্ত্রী দুজনেই নেশা করে পড়ে আছে। ভালোবাসায় এরা হেরে এখন এসব দিয়ে পূরণ করছে।

আভা হঠাৎ এক অদ্ভুদ কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলে। সে উঠে গিয়ে বসে পড়ে তুরাজের কোলে। দুই পা ওর দুই পাশে রেখে বাচ্চাদের মতো গিয়ে বসে পড়ে।

নিজের উরুর উপর নরম কিছুর অস্তিত্ব পেতেই পিট পিট করে চোখ তুলে তাকায় তুরাজ।

আভা তাল সামলাতে না পেরে পড়ে যেতে নিলেই তুরাজ ওর শক্ত পোক্ত হাত দিয়ে আভাকে ধরে ফেলে।

ওর কোমর শক্ত করে ধরে ওকে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। আভাও তুরাজের গলা জড়িয়ে ধরে। তবে এর মাঝে ঘটে এক অপ্রীতিকর ঘটনা ।

আভাকে নিজের দিকে পুশ করার কারণে নিষিদ্ধ কিছু জায়গার মিলন ঘটে। যা দুটো বিপরীত লিঙ্গের মানুষকে উত্তেজিত করে দিতে সক্ষম।

তার উপর হয় যদি তারা নেশাগ্রস্ত তাহলে তো কথাই নেই। তুরাজের পুরুষত্ব জেগে ওঠে। নিজের ভিতরের পৌরুষ কিছুতেই শান্ত থাকতে পারছে না।

উপরন্তু নারীর সেই কামুকীয় ময় দেহটি পুরুষ দেহটির এত নিকটে। এ তো কখনই সম্ভব না যে কোনো পুরুষ তা পায়ে ঠেলবে।

একটা ঢোক গিলে তাকায় আভার রক্তাভ ঠোঁটের দিকে। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে নেয় তুরাজ।

নিজের পুরুষালী ঠোটটার মিলন ঘটায় নরম ঠোঁটের সাথে। ঝংকার দিয়ে উঠে আভার শরীর।

প্রথম বার কোনো পুরুষের নিকট থেকে এরকম স্পর্শ আভাকে করে দিচ্ছে নাজুক। অন্যদিকে তুরাজ নিজের খেই হারিয়ে বসে।

হাতের স্পর্শে ভরিয়ে দেয় নারী দেহের জায়গায় জায়গায়। শুধু স্পর্শ না ঠোঁটের তপ্ত ছোঁয়া আর উষ্ণ শ্বাসে কাপিয়ে তুলছে আভাকে।

ধীরে ধীরে আভার সমস্ত কাপড় উন্মুক্ত করে তুরাজ। সাথে সাথে উন্মুক্ত হয় আভার আকর্ষণীয় মেয়েলি কায়াটি।

যা নেশার মাথায় আরো নেশা চাপিয়ে দেয় তুরাজের মাথায়। পাগল হয়ে যায় ছেলেটা। উন্মাদের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে আভার উপর।

শুষে নিতে থাকে আভার দেহের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে লেগে থাকা অমৃত সুধা। আভাও তাল মেলাতে থাকে স্বামীর বেসামাল স্পর্শগুলোতে।

সুখের গোঙানি আর ভারি শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে মুখরিত হয় তুরাজের রুমটি। দুটি দেহ আজ মিলে মিশে একত্রিত হয়।

___________

চলবে~

"ইরফা মাহনাজ"

[এই পর্বে পর্যাপ্ত রেসপন্স করো পরের পর্বে রুদ্ধ-প্রভার রোমান্স ও দেখাবো তাহলে 🌚🐸]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন