#প্রণয়ের_ঘ্রাণ
#লেখিকা_Irfa_Mahnaj
#পর্ব_৩৩ [বাসর স্পেশাল 🔞]
❌ কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌
*
*
*
--- প্রভাত চল প্রসেসিং শুরু করে দেই। আমার বাবা মায়ের মতো ভূল তো করতে পারি না। তারা আমায় আনতে দেরি করেছে কিন্তু আমি আমার প্রডাক্ট আনতে দেরি করব না।
এক দৃষ্টিতে রুদ্ধের দিকে তাকিয়ে ছিলো প্রভা। রুদ্ধ নিজেও প্রভার দিকে তাকিয়ে ছিলো।
সুন্দর একটা মুহূর্ত দুজন দুজনের চোঁখের মধ্যে হারিয়ে যেতে লাগলো। কল্পনায় বুনতে লাগলো অনেক কিছু।
তন্মধ্যে রুদ্ধের বলা কথা শুনে ঘোর থেকে বেরিয়ে আসে প্রভা। ওর অনুভূতি আবেগের উপর এই বান্দা জল ঢেলে দিয়েছে।
এসব ভাবনার মাঝেই প্রভা খেয়াল করলো রুদ্ধ ওর উপর এখনও। খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে প্রভা।
গলা খাঁকারি দিয়ে বোঝায় রুদ্ধ যাতে উঠে পড়ে। রুদ্ধ বুঝলেও মিটিমিটি হাসছে। ওকে এভাবে হাসতে দেখে আমতা আমতা করে প্রভা বলে,
--- এভাবে হাসছিস কেনো? আর এখনো আমার উপর কি উঠ।
প্রভার মুখের উপর আরেকটু ঝুঁকে পড়লো রুদ্ধ। ঘাবড়ে গেলেও বুঝতে দিলো না ব্যাপারটা প্রভা।
মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে ফেলতেই ওর চিবুক ধরে নিজের দিকে মুখ ঘুরায় রুদ্ধ। তারপর কণ্ঠ খাদে নামিয়ে বলে,
--- বিবাহিত পুরুষদের তার স্ত্রীর উপরেই থাকতে হয়!
শিরশির করে উঠল প্রভার সর্বাঙ্গ। সে নেকা কোনো মেয়ে নয়। তবে আজ কেনো যেনো প্রভা অন্যরকম অনুভব করছে।
ইচ্ছে করছে সেই আবেগী মেয়েদের মত হতে। আর তার ইচ্ছেটাও বুঝি পুরুন হলো। লজ্জায় ওর মুখ লাল হয়ে উঠে। সমগ্র মুখমণ্ডল ললিমায় ছেয়ে যায়।
প্রভার এহেন দশা দেখে শব্দ করেই হেসে উঠে রুদ্ধ। বলে,
--- ও মাই গড প্রভাত! সিরিয়াসলি এটা তুই? জাস্ট একটা কথায় এভাবে পাকা টমেটো হয়ে গেছিস!
মেকি রাগ দেখলো প্রভা। ওর বুকে একটা চাপড় মেরে বলে,
--- দূরে সর তুই।
প্রভার ছোট খাটো হাত দুটো নিজের বড় হাতের মুঠোয় পুড়ে রুদ্ধ। তারপর আরেক হাত দিয়ে কোমড় জড়িয়ে ধরে নিজের আর কাছে টেনে আনে।
প্রভার চোখের দিকে তাকিয়ে ওর লাল হয়ে যাওয়া নাকের অগ্রভাগে ছোট্ট একটা কামড় বসায়। এতে প্রভার মুখ থেকে আহ মূলক ধ্বনি বের হতেই রুদ্ধ নেশালো গলায় বলে উঠে,
--- তোর এই অসামাজিক আওয়াজ গুলো আমাকে আরো ডেসপারেট করে দিচ্ছে জান।
তারপর নিজের মুখটা এগিয়ে নিয়ে রাখে প্রভার কানের লতিতে। রুদ্ধের গরম শ্বাস গুলো আছড়ে পড়ছে প্রভার এক সাইড জুড়ে।
কেমন যেনো ভিতরটা করে উঠে প্রভার। গলা শুকিয়ে যায় হাসফাঁস করে উঠে প্রভা। এরপর যেই না রুদ্ধ প্রভার কানের লতিতে ছোট ছোট সিক্ত চুমুতে ভরিয়ে ফেলে তখনই নিজের চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলে প্রভা।
রুদ্ধ এবার বলে,
--- প্রভাত? জান?
--- হুম।
--- আজ যদি একটু অসভ্য হই খুব কি সমস্যা হবে? একটু ছুঁই তোকে। ভালোবাসি তোকে? যেখানে কোনো কিছু গোপন থাকবে না। আজ আমরা বরং এক হয়ে যাই।
কেঁপে উঠে প্রভা। রুদ্ধের এই ধরনের কথা গুলো প্রভাকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। রুদ্ধ আবার বলে,
--- গভীর ভাবে আর খুব বাজে ভাবে যদি তোকে আজ ছুঁয়ে দেই? এতো গভীরে তোকে উপলব্ধি করতে চাই যাতে আজকের পর থেকে আর কখনোই আমাদের মাঝে কোনো গোপনীয়তা না থাকে।
তারপর রুদ্ধ প্রভার চোখের পানে তাকায়। ওর ঠোঁটের দিকে নজর দিয়ে বলে,
--- ভালোবাসবো? এই জান বল না? বাসি? একটু খানি গভীরে গিয়ে ভালোবাসি তোকে?
লজ্জায় প্রভার মরি মরি দশা তবুও কোনো রকমে মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি দেয় সে। ব্যস রুদ্ধের আর কি লাগে।
ও এবার নিজের পুরু ঠোঁট চেপে ধরে প্রভার ঠোঁটে। বহু সাধনার পর আজ সে প্রভাকে পেয়েছে। প্রভাত যে তার বড্ড শখের।
যখন থেকে বুঝতে শিখেছে তখন থেকেই রুদ্ধ প্রভাকে ভালোবাসে। প্রভার আগে থেকে রুদ্ধ প্রভাকে চায়।
শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলো। আর আজ সেই সময়ের অবসান ঘটেছে। এবার শুধু প্রভাকে আপন করে নেওয়ার পালা।
অধরের চুম্বন গাঢ় হয় রুদ্ধের। রুদ্ধ এমন ভাবে প্রভার ওষ্ঠের প্রেম মধু শুষছে যেনো কতো বছরের তৃষ্ণার্ত চাতক সে।
একটু আগেই যেই ছেলেটা মধুর সুরে কথা বলছিল এখন সেই ছেলেটাই উন্মাদ হয়ে যাচ্ছে। পরিবর্তন হচ্ছে তার ব্যবহার।
দম বন্ধ হয়ে আসছে প্রভার তবুও রুদ্ধের ছাড়ার কোনো নাম নেই।১ মিনিট,২ মিনিট করতে করতে প্রায় ১০ মিনিট পর গিয়ে রুদ্ধ ছাড়ে প্রভাকে।
লাল হয়ে ফুলে যায় প্রভার ঠোঁট। বড় বড় নিশ্বাস নিচ্ছে প্রভা। এই উদ্ধত রুদ্ধকে সামলাতে বেগ পোহাতে হচ্ছে প্রভাকে।
রুদ্ধ একবার প্রভার ওই শ্বাস নেওয়ার কারণে উঠা নামা করা বুকের দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলে। অস্থির অস্থির লাগছে। নিজেকে সামলাতে পারছে না। আজকে আর সামলাতে চায় ও না রুদ্ধ নিজেকে।
রুদ্ধ এবার প্রভার সেই ভিতর উত্থান পতন করে দেয়ার কোমল বক্ষ ভাঁজে মুখ গুঁজে। মুহূর্তেই জমে যায় প্রভা।
এটা কেমন অনুভূতি প্রভা জানে না। তবে এটা যে সুখের আর কষ্টের মিশ্র অনুভূতি। এই অনুভূতি যে সবচেয়ে সুন্দরতম।
নিজ বক্ষের মাঝে রুদ্ধ তার আধিপত্য বিস্তার করে। ওর দখল দারিত্ত বাড়তেই প্রভা রুদ্ধের চুল খামচে ধরে।
রুদ্ধ কিস করছে কখনো তো কখনো দাঁতের সাহায্যে কামড় দিচ্ছে। তো আবার কখনো মুখ নাক ঘষছে।কেঁপে কেঁপে গুঙিয়ে উঠছে প্রভা।
বুক থেকে মুখ তুলে পুনরায় প্রভার ওষ্ঠ আঁকড়ে ধরে। পুরুষালী রুক্ষ হাতের এক হাত দিয়ে গালের একপাশ চেপে সুবিধা মতো শুষে নিচ্ছে প্রেমরস।
দুজনের চোখই বন্ধ। দুজনেই বর্তমানে অন্য দুনিয়ায়। রুদ্ধ নিজের খরখরে অন্য হাতের সাহায্যে প্রভার জামার পিছনের হুক খুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
জামায় হাত দিতেই বাঁধা দেয় প্রভা। বলে,
--- না।
ঘন ঘন শ্বাস নিতে নিতে রুদ্ধ জিজ্ঞেস করে,
--- কি হয়েছে?
--- তোকে চিনতে পারছি না। তোকে সামাল দিতে পারবো না।
প্রভার বাঁধা অগ্রাহ্য করে নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে রুদ্ধ। একটা একটা করে হুক খুলতে খুলতে বলে,
--- আমার অনেক বছরের ধৈর্য্য সংযমের বাধ ভেঙেছে আজ। একটু বেপরোয়া হবই। তবে যাই হই এই রুদ্ধকে তোকেই সামলাতে হবে।
জামার সবগুলো হুক খুলে কাধ থেকে সরিয়ে ফেলে রুদ্ধ। কাঁধে নাক নিয়ে কিছুক্ষণ ঘ্রাণ নেয়।
অতপর কিস করতে করতে বলে,
--- বাঁধা দিলেও আজ শুনবো না জান। তাই আমায় বাধা না দিয়ে সঙ্গ দে।
অগত্যা প্রভাও সঙ্গ দেয় তার জুনিয়র স্বামীকে। উঁহু আজ সে জুনিয়র নয়। আজ সে এক অন্য রুদ্ধ। এই নতুন রুদ্ধকে প্রভা আগে কখনো দেখেনি।
কাঁধে , গলায় , ঘাড়ে একের পর এক কিস করতে থাকে রুদ্ধ। শুকনো, ভিজে সবধরনের চুম্বনে ভরিয়ে দিচ্ছে প্রভার নাজুক শরীর।
সেই সাথে কামড় দিয়ে দাঁত বসিয়ে জায়গায় জায়গায় বানাচ্ছে লালচে ছোপ ছোপ দাগ। দাঁতের চিহ্ন জ্বল জ্বল করে উঠে প্রভার ফর্সা দেহে।
নিজের শার্টের বোতামে হাত চালিয়ে সেটাকে খুলে ফেলে রুদ্ধ। অতপর কোমর গলিয়ে পড়ে যাওয়া প্রভার জামাটাও এ পর্যায়ে সম্পূর্ণ খুলে মেঝেতে ফেলে দেয় রুদ্ধ।
এতক্ষণ শরীরের উপরিভাগ থেকে কোমর পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকলেও এবার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত প্রভা।
ধীরে ধীরে অনাবৃত হতে থাকে নারি আর পূরুষ দেহ দুটি। প্রভার পেটের নাভিপদ্মের পাশেই জ্বলতে থাকা কালো কুচকুচে তিলটা লোভ বাড়িয়ে দেয় রুদ্ধের।
মুখ দাবিয়ে সেথায় অনেকটা সময় নিয়ে চুম্বন আকে রুদ্ধ। পুরুষালী ওষ্ঠের ছোঁয়া নিজ উদরে পেতেই পুরুষটির পিঠ খামচে ধরে সে।
পূরুষটি বোধহয় এতে আরো উগ্র হয়ে পরে। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে জায়গাটায় বসিয়ে দেয় দন্তপাটি।
দাঁতের চাপ বেশি জোরেই হওয়ায় প্রভার মুখ দিয়ে নিঃসৃত হয়ে আসে ব্যাথাতুর সুখের ধ্বনি। চোখের কোল ঘেঁষে গড়িয়ে পড়ে অশ্রুরা।
উদরের সর্বত্র নিজের রাজত্ব চালিয়ে এবার পূরুষটি হামলে পড়ে নারী দেহের সবচেয়ে নাজুক অংশের উপর।
বক্ষ ভাঁজের নরম মাংসপিণ্ডের উপর নিজের আধিপত্য বিস্তার করে রুদ্ধ। ব্যথায় গুঙিয়ে ওঠে প্রভা।
প্রভার মুখের এই ব্যাথাতুর আওয়াজ গুলো রুদ্ধকে আরো বেসামাল করে তোলে। ডিপ শ্বাস ওঠা নামা গলায় বলে উঠে,
--- স্ক্রিম প্রভাত। চিৎকার কর, কান্না কর জান আরো জোরে। এটা আমাকে স্যাটিসফাই করছে।
এভাবেই মিলিত হতে থাকে দুটো দেহ। আজ সম্পূর্ণ হলো রুদ্ধ প্রভা। তাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পেলো আজ।
ভারি শ্বাস প্রশ্বাসে মুখরিত হয় সেই বদ্ধ ঘরটি। প্রভার সেই সুখকর ধ্বনি গোঙানি বাজতে থাকে ঘরের প্রতিটি দেওয়ালে।
পাগল ছেলেটা এতে আরো পাগল হয়ে যায়। ডেসপারেটলি আপন করে নিতে থাকে নিজের সাধের প্রিয় ব্যক্তিগত নারিটিকে।
সর্বোচ্চ আপন করার জন্য উদ্যত হতেই রুদ্ধ হঠাৎ বলে,
--- আজকের এই মুহুর্তের পর থেকে আমাদের মধ্যে আর কোনো গোপনীয়তা থাকবে না। এর পর থেকে তোর শরীরে এমন কিছু থাকবে না যা আমার নিকট অজানা।
থেমে গিয়ে আবার বলে উঠলো,
--- তোর দেহের প্রত্যেকটি অঙ্গে, অংশে আমার স্পর্শ, ভালোবাসা আর চিহ্ন লেপ্টে দিলাম। আমার কাছে তোর কোনো রহস্যই আর লুকায়িত থাকবে না আজ থেকে।
অতঃপর পূর্ণ সম্মতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আপন করে নেয় রুদ্ধ প্রভাকে। মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় ঘামে মিশ্রিত দুটি ভিন্ন সত্ত্বার দেহ।
সুখের জোয়ারে ভেসে যায় দুজন ভালোবাসার মানুষ। যাদের ভালোবাসা আজ সম্পূর্ণ রুপে পূর্ণতা পেলো।
___________
চলবে~
"ইরফা মাহনাজ"
[কেউ ছোট বলবেন না আগের পর্বের থেকে বড়ই দিয়েছি। তাছাড়া মেন্টালি আমি ডিপ্রেসড। লিখতে পারছি না বার বার ফ্লো হারিয়ে ফেলছি। কিছুদিন যাবৎ যা হচ্ছে ইচ্ছে করছে সব ছেড়ে দেই। আমার মানসিক অবস্থা বাজে তাই কেউ ছোট পর্বে বা আজকের পর্বে নিরাশ হবে না।]
⛔ বিঃদ্রঃ আজকের পার্টটি অনেকের পছন্দ হতে নাও পারে। তারা নির্দ্ধিধায় কমেন্ট করে বলবে ডিলেট করে দিতে আমি ডিলেট করে দিবো। অনেকেই রোমান্টিক পছন্দ করে না। কিন্তু কেউ বাজে কমেন্ট করবে না আমি এসবে অভ্যস্ত নই। ধন্যবাদ।