ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিভৃতে যত্নে রাখা প্রিয়তমা

২১তম পর্ব

লেখক: মারিয়াম ফুল

#নিভৃতে_যত্নে_রাখা_প্রিয়তমা

#মারিয়াম_ফুল 
পর্ব :২১
রিদ অনুর বিছানার একদম মুখোমুখি হয়ে বসল। ওর চোখে-মুখে তখন এক দুনিয়ার কৌতূহল । ও অনুকে জেরা করার ভঙ্গিতে চেপে ধরে বলল,
 “একদম মিথ্যা বলবি না, রুপ! তোকে সোজা বাংলায় বলতে হবে ওই ছেলেটা কে? কাল রাতে আমি নিজের চোখে দেখেছি, পুরো কনসার্ট মাঠে কত মেয়ে উষ্টা খেয়ে জাস্ট ওই ছেলেটার চোখের সামনে পড়েছে, তাও ও কাউকেই হাত বাড়িয়ে কোলে তুলতে যায়নি! আর কালকে ও তোকে ওভাবে সবার সামনে কোলে তুলে নিল, আর তুইও একদম চুপচাপ ওর গলা জড়িয়ে ধরে রইলি, কিছু বললিই না? আজ যদি তুই সত্যি কথাটা না বলিস, আমি কিন্তু এখনই মামীকে ডেকে সব বলে দেব!”
মায়ের নাম শুনতেই অনুর বুকের ভেতরটা ভয়ে কেঁপে উঠল। কট ম্যারেজের আসল সত্যটা জানাজানি হলে যে পরিবারে কী তোলপাড় হবে, তা ভেবে ও শিউরে উঠল। ও তাড়াহুড়ো করে রিদের মুখটা নিজের হাত দিয়ে চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল, “এই... আস্তে আস্তে কথা বল! চুপ কর একদম... বলছি সব...”
রিদ অনুর হাতটা নিজের মুখ থেকে সরিয়ে দিয়ে এক ভ্রু উঁচিয়ে তাকাল, “বল,শুধু কি উনি তোর ইউনিভার্সিটির সিনিয়ার? নাকি অন্য কিছু? "
ও মামী! শুন...... 
অনু এবার সত্যি সত্যি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেল। ও রিদের হাতটা শক্ত করে ধরে এক নিঃশ্বাসে সত্যিটা আড়াল করার জন্য তড়িঘড়ি করে বানিয়ে বলল,
 “এই না না... মাকে ডাকিস না, প্লিজ... বলছি! উনি... উনি আসলে আমাকে ভীষণ পছন্দ করেন।”
রিদ এবার একগাল দুষ্টুমিভরা হাসি নিয়ে প্রশ্নাতুর ভঙ্গিতে অনুর একদম মুখের কাছে মুখ এনে জিজ্ঞেস করল, “ওহ! আচ্ছা... তা তুই...”
অনু এবার সম্পূর্ণ লজ্জার সাগরে ডুবে গেল। ও নিজের ওড়নাটা দিয়ে মুখটা আংশিক ঢেকে, মতা করে, লাল হয়ে যাওয়া মুখটা নামিয়ে ফিসফিস করে বলল, “হ্যাঁ... করি।”
রিদ এবার অনুর গাল টেনে দিয়ে চরম কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কতোটুকু পছন্দ করিস শুনি, রূপ?”
অনু জানালার বাইরে দূর আকাশের দিকে তাকাল। ওর মনের কোণে তখন কাল রাতের এহসানের সেই চোখ, পায়ে পানি লাগিয়ে দেওয়ার সেই স্পর্শ আর ‘মিসেস সিদ্দিকী’ ডাকটা বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। ও এক বুক গভীর ভালোবাসা আর দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে নিয়ে অত্যন্ত মৃদু গলায় জবাব দিল,
 “জানি না রে কতোটুকু... তবে, যতটুকু চাইলে জীবনে তাকে সম্পূর্ণ নিজের করে পাওয়া যায়, ঠিক ততটুকুই।”
অনুর উত্তর শুনে রিদ ওকে আর ঘাঁটাল না, কিন্তু মনে মনে একটা খটকা ওর রয়েই গেল। রিদ ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর অনু ওর মচকানো পা-টার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। হাত বাড়িয়ে টেবিল থেকে ফোনটা তুলে নিতেই দেখল স্ক্রিনে একটা স্থানের নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে। 
মেসেজটা ওপেন করতেই অনুর হার্টবিট যেন এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয়ে গেল। খুব সংক্ষিপ্ত কিন্তু ধারালো ভাষায় লেখা—
‘পায়ে বরফ দিয়েছো ? নাকি এখনো সেই জেদ নিয়েই বসে আছিস? ঠিকমতো রেস্টে থাকবে। আর ওই রিদ যেন তোমার ঘরের আশেপাশে বেশি ঘোরাঘুরি না করে, না হলে আগে ওর পা ভাঙবো, তারপর তোমার পা ভেঙ্গে আমার এখানে নিয়ে আসব ।’
অনু ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। এই মানুষটা রাগ দেখায়, ধমক দেয়, আবার ভীষণ ভালোবাসি... ও আসলে এহসান- কে বুঝতে পারতেছেনা ।অনু নিজের অজান্তেই মেসেজটা বুকে চেপে ধরে বিছানায় এলিয়ে পড়ল।
এদিকে ইউনিভার্সিটির এক্সাম হলের সামনে তখন এক থমথমে পরিবেশ। পরীক্ষা শেষ করে নীল, আহিয়ান আর সাজিদ করিডোরে দাঁড়িয়ে জেডের কনসার্টের সাকসেস নিয়ে কথা বলছিল। কিন্তু নীলের মনটা সেখানে ছিল না। কাল রাতের সেই দৃশ্যটা—এহসান যেভাবে সবার সামনে অনুকে কোলে তুলে নিয়ে নিজের গাড়িতে বসাল, সেই দৃশ্যটা ওর চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছিল। মনের ভেতরের তীব্র হিংসা আর ক্ষোভ ও কোনোভাবেই চেপে রাখতে পারছিল না।
ঠিক তখনই করিডোর দিয়ে হেঁটে আসছিল এহসান। এহসানকে দেখেই নীল বাকি বন্ধুদের পাশ কাটিয়ে সরাসরি ওর সামনে গিয়ে পথ আটকে দাঁড়াল।নীল কপাল কুঁচকে বিরক্তি মেশানো গলায় বলল,
 “কাল রাতের হিরোইজমটা একটু বেশি হয়ে যায়নি, এহসান? অনু আমাদের ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র, ওর একটা সম্মান আছে। একটা মেয়ের ওপর এভাবে নিজের এরকম ভাবে কর্তৃত্ব খাটানোটা একদম ভালো দেখেনি তোর ।সবার সামনে কোলে তোলার কী দরকার ছিল? জুনিয়রকে জুনিয়র হিসেবেই রাখ। ”
এহসান এক মুহূর্তের জন্য থামল। ও নিজের চশমাটা আঙুল দিয়ে সামান্য ঠিক করে নীলের দিকে তাকাল। ওর চোখে কোনো রাগ নেই, বরং এক ধরনের শীতল গলায় বলল,“আমার জিনিসের ওপর আমি কতটুকু অধিকার খাটাব, সেটা বোঝার জন্য অন্য কারও সার্টিফিকেটের প্রয়োজন পড়ে না, নীল। আর অনু আমার ঠিক কে হয়—সেটা তোর ধারণারও বাইরে। সো, নিজের সীমানার মধ্যে থাকো। ওটাই তোর জন্য ভালো হবে।”
কথাটা বলেই এহসান নীলকে এড়িয়ে বড় বড় পা ফেলে সামনে এগিয়ে গেল। নীল পেছনের দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে নিজের হাত দুটো শক্ত করে মুষ্টিবদ্ধ করল, নীল নিজে মনে মনে ভাবতে থাকলো , এহসান আর অনুর মাঝে কি কোন সম্পর্ক রয়েছে..... নীল নিজের মনকে কোনোভাবেই বোঝাতে পারল না। হয়তো সে অকারণেই ভুল ভাবছে। এহসান তো এমনিতেই একটু রাগচটা । রেগে গেলে কখন কী বলে বা কী করে, সেটা সে নিজেও বুঝতে পারে না।
দুপুরের দিকে অনুর ঘরের কলিংবেলটা বেজে উঠল। অনুর মা দরজা খুলতেই দেখলেন দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে এক সুঠাম দেহের ডেলিভারি বয়। তার হাতে একটা বড় ফার্স্ট এইড বক্স আর এক তোড়া তাজা সাদা গোলাপ।
অনুর মা কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “এটা কার জন্য?”
ডেলিভারি বয় বিনয়ের সাথে বলল, “ম্যাম, এটা রূপকথা নামের কাউকে পাঠানো হয়েছে। অনু মা খানিকটা হতভম্ব হয়ে বক্স আর ফুলের তোড়াটা হাতে নিলেন ।
বক্স আর ফুল নিয়ে অনুর মা যখন ঘরে ঢুকলেন, অনু তখন বিছানায় শুয়ে ছটফট করছিল। মায়ের হাতের সেই সাদা গোলাপের তোড়া আর বক্সটা দেখেই ও এক পলকে বুঝে গেল এটা কার কাজ। ও তাড়াহুড়ো করে মা-কে বলল, “মা, ওটা আমার এক বান্ধবীর পাঠানোর কথা ছিল। তুমি রেখে যাও।” 
এরকম ফুল মাঝেমধ্যেই অনামিকা পাঠায়, তাই তিনি প্রথমে কোনো সন্দেহ করলেন না। তবে মনের কোথাও একটা খটকা থেকেই গেল। মেয়েটা আর ছোট নেই। তাই এভাবে কেউ গোলাপ পাঠাচ্ছে, ব্যাপারটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার মতো নয়। তবু অযথা দুশ্চিন্তা বাড়াতে চাইলেন না বলে নিজের সন্দেহের কথা কাউকে প্রকাশ করলেন না।
মা ঘর থেকে বের হতেই অনু ফুলের তোড়াটা টেনে নিল। গোলাপের পাপড়ির ফাঁকে একটা ছোট চিরকুট গোঁজা ছিল। অনু কাঁপা কাঁপা হাতে চিরকুটটা খুলে পড়তে শুরু করল:
“যে জেদ নিজের ক্ষতি করে, সেই জেদ আমার সামনে না দেখানোই ভালো, রূপ। ব্যান্ডেজটা পায়ে বেঁধে নিবি। আর হ্যাঁ, হিল জুতো জোড়া আমি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছি। নিজেকে ছোট ভাবার কোনো প্রয়োজন নেই, আমার বুকে মাথা রাখার জন্য ওই উচ্চতাই পারফেক্ট। গেট ওয়েল সুন, মিসেস সিদ্দিকী।”
চিরকুটটা পড়ে অনুর পুরো মুখটা লজ্জায় আর এক অদ্ভুত অভিমানে লাল হয়ে উঠল। ও রাগ করবে নাকি হাসবে, তা ভেবে পেল না। লোকটা ধমকাতে ধমকাতেই তার যত্ন নিচ্ছে। অনু নিঃশব্দে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এহসান সিদ্দিকীকে ভালোবাসতে কষ্ট হয় না, কষ্ট হয় তাকে বুঝতে। লোকটার মন যেন এক দুর্ভেদ্য গোলকধাঁধা, যার শেষ কোথায়, তা আজও অনুর অজানা।
অন্য দিকে, রাতের শহর তখন নিয়ন আলোর চাদরে ঢাকা। কনসার্টের ঝামেলার পর জেডের মাথাটা কেমন যেন জ্যাম হয়েছিল, তাই ও আর অনামিকা মিলে রাতের বেলা একটা বড় শপিং মলে গেল। অনামিকার সাথে জেডের সম্পর্কটা এই মুহূর্তে এক অদ্ভুত দোলাচলে দাঁড়িয়ে আছে।
 জেডের মন খুব ভালো করেই জানে, অনামিকার বাবা একজন চরম অমানুষ,। এই মেয়েটার যাওয়ার মতো কোনো নিরাপদ জায়গা নেই, মাথা গোঁজার মতো কোনো আশ্রয় নেই। ও যদি এই মেয়ের পাশে না দাঁড়ায়, তবে অনামিকা কোথায় যাবে? কার কাছে হাত পাতবে? ঠিক এই দায়িত্ববোধ থেকেই জেড সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে অনামিকার দিকে শুধু বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ।
শপিং শেষে ওরা যখন মলের বাইরে বের হলো, তখন রাতের ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। অনামিকা রাস্তার অপর পাশে ফুটপাতের এক কোণায় দাঁড়িয়ে ল্যাম্পপোস্টের আবছা আলোয় জেডের দিকে তাকিয়ে ছিল। জেড ওর জন্য রাস্তার এপাশের একটা আইসক্রিমের দোকানে গেল। কাউন্টারের ওপাশে দাঁড়িয়ে ও অনামিকার দিকে ইশারা করে জানতে চাইল, “কোন ফ্লেভার খাবে?”
রাস্তার ওপাশ থেকে অনামিকা দুই হাত নেড়ে মুখে আলতো করে মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে উচ্চস্বরে বলল, “জানি না! আপনার পছন্দেরটাই এনে ফেলুন না.... ”
জেড দোকানে খোঁজ নিয়ে দেখল সেখানে মোট ছয় রকমের আলাদা ফ্লেভারের আইসক্রিম আছে। ও কোনো একটা নির্দিষ্ট ফ্লেভার বেছে না নিয়ে, দোকানদারকে বলল প্রতিটি ফ্লেভারের দুটো করে মোট বারোটি আইসক্রিম প্যাক করে দিতে।
জেড যখন বারোটি আইসক্রিমের মস্ত বড় প্যাকেটটা হাতে নিয়ে রাস্তা পার হয়ে অনামিকার কাছে ফিরে এলো, তখন অনামিকা গোল গোল চোখ করে হাঁ হয়ে তাকাল। ও অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “এত আইসক্রিম কে খাবে "
—"তুমি"? 
— "আমাকে কি আমাকে রাক্ষস মনে করো নাকি?”
জেডের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে দুষ্টুমিভরা হাসি ফুটে উঠল। ও প্যাকেট থেকে দুটো আইসক্রিম বের করে বলল, “আচ্ছা, এই দুটো আমি খাচ্ছি, আর বাকি দশটা তুমি একাই সাবাড় করবে।”
অনামিকা কপাল কুঁচকে, কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে দুই গালে হাওয়া ভরে বলল, তাই বলে দশ-দশটা আইসক্রিম আমি খাব? অসম্ভব...
জেড ওর মিষ্টি রাগ দেখে আলতো হেসে বলল, “আচ্ছা বাবা, তোমার যতটুকু ভালো লাগে খাও। বাকিগুলো রাস্তায় যদি কোনো পথশিশু বা কাউকে পাই, তবে বিলিয়ে দেব। এবার খুশি?”
অনামিকা আর কথা না বাড়িয়ে আইসক্রিম খেতে শুরু করল। ও এতটাই মগ্ন হয়ে খাচ্ছিল যে, অসাবধানতাবশত নিজের হাত লেগে আইসক্রিমের ক্রিম ওর নাক আর গালে লেগে গেল। একদম ছোট বাচ্চাদের মতো দেখাচ্ছিল ওকে। জেডের চোখে সেই অবুঝ, নিষ্পাপ দৃশ্যটা ধরা পড়তেই ওর বুকের ভেতর কেমন যেন করে উঠল। ও নিজের ডান হাতটা বাড়িয়ে পরম মমতায় অনামিকার গালের আইসক্রিমটুকু মুছে দিতে গেল।
ঠিক সেই মুহূর্তে দুজনের চোখের মণি স্থির হয়ে গেল। জেডের আঙুলের উষ্ণ স্পর্শ অনামিকার নরম গালে লাগতেই মেয়েটার নিশ্বাস আটকে গেল। জেড আলতো টানে অনামিকাকে নিজের আরও কাছে টেনে নিল। ওদের মাঝখানের দূরত্বটুকু এক নিমেষে মুছে গেল। দুজনের তীব্র নিশ্বাসের শব্দ একে অপরের কানে আছড়ে পড়তে লাগল। এত কাছে যে, আর এক চুল এগোলেই হয়তো দুটি ওষ্ঠাধর এক হয়ে যাবে। অনামিকা চোখ দুটো বন্ধ করে জেডের শার্টের হাতাটা শক্ত করে খামচে ধরল। জেডের মনের ভেতরের সুপ্ত পুরুষটা তখন কাঁপছিল এক তীব্র আকর্ষণে।
ঠিক তখনই, সব মোহ আর ঘোর ভেঙে দিয়ে জেডের পকেটের ফোনটা বিকট শব্দে বেজে উঠল।
সেই কর্কশ আওয়াজে জেডের সমস্ত জ্ঞান এক ঝটকায় ফিরে এলো। ও যেন এক মহাবিপদ থেকে সটকে পড়ল। মনে মনে নিজেকেই ধিক্কার দিয়ে বলল, ‘একী করতে যাচ্ছিলাম আমি? অনামিকাকে তো আমি নিজের বউ হিসেবে মনে মনে এখনো মানিই না! তবে কেন এই দুর্বলতা?’
জেড আর এক মুহূর্তও অনামিকার চোখের দিকে চোখ মেলাল না। ও নিজের মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, “গাড়িতে বসো।” ও অনামিকাকে প্রায় জোর করেই গাড়ির ভেতরে বসিয়ে দিল এবং বাইরে থেকে সজোরে ধড়াম করে দরজাটা লাগিয়ে দিল। গাড়ির ভেতর পুরোটা পথ ওদের দুই জনের মধ্যে আর একটি কথাও হলো না। এক দমবন্ধ করা নীরবতা পুরো গাড়ির ভেতর রাজত্ব করতে লাগল। অনামিকা জানালার বাইরে মুখ ফিরিয়ে রইল, আর জেডের হাত স্টিয়ারিং হুইলে শক্ত হয়ে রইল।
অন্য দিকে, তামরিনের বাড়ির ড্রইংরুমের পরিবেশটা বেশ ভারী ও থমথমে। ওর বাবা-মা সোফায় বসে আছেন, আর তামরিন মাথা নিচু করে অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে আছে। ওর বাবা-মা বেশ কিছুদিন ধরেই ওকে বিয়ের জন্য অনবরত চাপ দিয়ে যাচ্ছেন।
তামরিনের মা হাসনাহেনা বেগম মেয়ের দিকে একরাশ আকুলতা আর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে তাকিয়ে বললেন, “তামরিন, আর কয়েকটা দিন পর তোর পড়াশোনার পাট চুকে যাবে। তুই কেন কোনো সম্বন্ধেই রাজি হচ্ছিস না মা? তোর কি কাউকে পছন্দ আছে মনে মনে?”
তামরিন চুপ করে রইল, ওর চোখ দিয়ে পানি পড়ার উপক্রম হলো। মেয়ের এই নীরবতা দেখে হাসনাহেনা বেগম ওর হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে অত্যন্ত ভাঙা ও আবেগঘন গলায় বলতে লাগলেন, “তোর বাবার অবস্থা দিন দিন ভালো না রে মা। মা-বাবা হিসেবে আমাদের একটাই তো স্বপ্ন, একটা ভালো ছেলের হাতে তোকে তুলে দিয়ে যেন মরার সময় শান্তিতে মরতে পারি। আমাদের কথা ভেবে অন্তত তুই না বলিস না মা। তোর বাবা অলরেডি দুই-দুইবার হার্ট অ্যাটাক করেছেন। সারাক্ষণ শুধু তোর চিন্তাতেই বুড়ো মানুষটা তিলতিল করে শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমরা চোখ বোজার আগে তোকে সুখে দেখে যেতে চাই মা।”
মায়ের এই আকুল মিনতি আর বাবার অসুস্থতার কথা শুনে তামরিনের ভেতরের সব জেদ আর আত্মপক্ষ সমর্থনের ভাষা যেন মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গেল। ও দেয়ালের দিকে তাকিয়ে শুধু নিজের ভেতরের কান্নাটা চেপে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল।
চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন