ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ স্পর্শ

১ম পর্ব

লেখক: Nahid Matabbor
নিষিদ্ধ স্পর্শ 
(যারা অতিরিক্ত রোমান্টিক গল্প পছন্দ করেন না দয়া করে স্কিপ করে যাবেন..!🙏)

আলিশা নিজেকে আবিষ্কার করলো একটা অন্ধকার কুটিরে, ওর শরীরে শুধু মাত্র একটা বিছানা চাঁদর ছাড়া আর কোনো পোশাক ই নেই, মুহূর্তের মধ্যে যেন ওর শরীরে কারেন্ট এসে গেলো ও এক মুহূর্তের জন্য মূর্ছা গেলো, এরপর দম ফাটিয়ে চিৎকার করে ডাকতে লাগলো কিন্তু কেউ কোনো সারা দিলো না, খানিক বাদেই একটা পুরুষালি শব্দ ভেসে আসলো এভাবে ডেকে কোনো লাভ নেই বেইব কেউ আসবে নাহ, আর এটাই চির সত্য এন্ড এটাই তোমাকে মেনে নিতে হবে, কোনো প্রকার চালাকি তো একদম ই করার চেষ্টা করবে না বুঝতে পারছো আমি কি বলেছি..?

আলিশা ভয়ে জুবুথুবু হয়ে গেলো দম ফেটে কান্না আসছে ওর কিন্তু এই মুহূর্তে ওর কিছুই করার নেই, ওর ভাবতেই এমন ঘেন্না লাগছে ওকে কোনো অপরিচিত পুরুষ স্পর্শ করেছে যাকে সে চিনে না যার সাথে ওর কোনো সম্পর্ক নেই, এসব ভাবতেই ওর গা গলিয়ে বমি আসছে, আলিশা ছেলেটার কথা শুনেছে ঠিক কিন্তু ওকে দেখেনি আর ভয়েস টা ও ওর পরিচিত নয়, ঠিক সেই মুহূর্তে ছেলে টা বলে উঠলো এতো ভেবে কোনো লাভ নেই আমি তোমাকে না ছাড়া পর্যন্ত তুমি এখান থেকে বের হতে পারছো না বুঝলে?
So কোনো প্রকার চালাকি না করে কাভার্ডে কুর্তি রাখা আছে সেগুলো পড়ে নাও ওয়াসরুম থেকে, আর রেডি হয়ে নাও তোমাকে নিয়ে বাজারে যাবো কোনো প্রকারের কথা বলবে না, আলিশা কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো তারপর ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো আমার অপরাধ টা কি আমাকে এখানে কেন আটকে রেখেছেন ছেড়ে দিন না আমায়, আমি বাসায় যাবো আব্বুর কাছে যাবো আমি প্লিজ ছেড়ে দিন, আলিশার কথা আইমান এর কান পর্যন্ত পৌছালো না সে বেরিয়ে গেলো ঘর ছেড়ে, আলিশা কিছুক্ষন বসে রইলো গায়ে চাঁদর জড়িয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করে উঠলো, পরিচয় টা দিয়ে নেই_ ওর নাম আলিশা জাহান ঐশী সবাই আলিশা বলেই ডাকে, বর্ণনা টা না হয় পরেই দেই এবার আসুন সেই অপরিচিত যুবক এর নাম টা জেনে নেই..!
তার নাম "আইমান আরিশ" সবাই অবশ্য আইমান নামে ই ডাকে পেশায় একজন বিজনেস ম্যান..!
আচ্ছা তাহলে নায়কের পরিচয় টা দেওয়া যাক বয়স ছাব্বিশ বছর। লম্বা, সুঠাম ও ছিপছিপে গড়নের শরীর। গায়ের রং একদম উজ্জ্বল ফর্সা, পরিষ্কার মুখাবয়ব আর নিখুঁত গড়নের কারণে প্রথম দেখাতেই চোখ আটকে যায়। ঘন কালো চুলগুলো সামান্য এলোমেলো, কপালের ওপর নেমে থাকা কয়েক গোছা চুল তার সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তার চোখ দুটো বড় নয়, তবে ভীষণ গভীর। চোখের মণি গাঢ় বাদামি—আলো পড়লে সেখানে মৃদু মধুরঙা আভা দেখা যায়। ঘন কালো ভ্রু, লম্বা পাপড়ি, সুঠাম নাক আর সুস্পষ্ট চোয়াল মিলিয়ে মুখে রয়েছে এক ধরনের স্বাভাবিক আকর্ষণ। হালকা দাড়ি তার চেহারায় এনে দিয়েছে পরিণত সৌন্দর্য।
পোশাকেও তার রুচির ছাপ স্পষ্ট। বেশিরভাগ সময় সাদামাটা অথচ অভিজাত পোশাকেই দেখা যায় তাকে। অতিরিক্ত সাজসজ্জা পছন্দ না করলেও তার ব্যক্তিত্ব এমন যে, সাধারণ পোশাকেও তাকে আলাদা করে নজরে পড়ে..!
তার এহেন কর্মকান্ড সব যেন আলিশার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে, ও ভেবেই পাচ্ছে না কেন ওকে তুলে আনা হয়েছে, ও আর সময় ব্যয় না করে ওয়াশরুমে চলে গেলো নিজের দিকে তাকিয়ে নিজের ই ঘৃণা লাগতে শুরু করলো..!
এবার আসি ওনার পরিচয়ে,বয়স আঠারো বছর। কোমরের নিচ পর্যন্ত নেমে আসা ঘন, কালো চুল তার সবচেয়ে সুন্দর বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। চুলগুলো স্বাভাবিকভাবেই মসৃণ, পিঠ বেয়ে নেমে কোমর পেরিয়ে আরও নিচে ছড়িয়ে থাকে।
মুখটা গোলগাল ও মায়াবী। উজ্জ্বল ফর্সা ত্বকের সঙ্গে মানানসই সুন্দর দুটো চোখ, নরম ভ্রু আর ছোট্ট টানটান নাক—সব মিলিয়ে মুখের মধ্যে রয়েছে এক ধরনের কোমল সৌন্দর্য। সবচেয়ে আকর্ষণীয় তার হাসি। হাসলেই দুই গালে ছোট্ট টোল পড়ে, আর সেই টোল যেন তার পুরো মুখটাকেই আরও মিষ্টি করে তোলে।
খুব বেশি সাজগোজের প্রয়োজন হয় না তাকে। খোলা চুল আর মুখের স্বাভাবিক হাসিটুকুই তার সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। কথা বলার সময় চোখেমুখে এক ধরনের প্রাণবন্ততা ফুটে ওঠে, আর হাসলে গালের টোল দুটো সহজেই নজর কাড়ে।
তার সৌন্দর্য খুব জাঁকজমকপূর্ণ নয়; বরং শান্ত, কোমল আর মায়াবী—যে সৌন্দর্য প্রথম দেখায় মুগ্ধ করে, আর সময়ের সঙ্গে আরও বেশি আপন হয়ে ওঠে..!
কিন্তু ওর কাছে এখন মনে হচ্ছে ওর এই রূপ ই ওর জন্য অভিশাপ নিয়ে আসলো ওর জীবনে, এসব ভাবতে ভাবতেই আবার সেই কঠিন কণ্ঠ ভেসে আসলো, তোমাকে কখন বললাম রেডি হতে কথা কানে যায় না, এতো সময় লাগে ওয়াসরুমে জলদি বের হও আমার আরো কাজ আছে তোমাকে নিয়ে বসে থাকার মতো কোনো আজাইরা টাইম নেই So get ready soon..!
আলিশার শরীর রি-রি করে উঠলো আর ওর কথা গুলো যেন বিষের মতো বিধছে ওর গায়ে তবুও অনিচ্ছা সত্ত্বেও বের হলো ওয়াসরুম থেকে ব্ল্যাক কালারের থ্রি পিছ পড়ে যেন অসম্ভব সুন্দর লাগছে কপালে চুল গুলো লেপ্টে আছে, আইমান তখন ই বলে উঠলো এভাবে তাকিও না মেয়ে আমি কন্ট্রোললেস হয়ে গেলে নিজেকে সামলাতে পারবে না..!
আলিশার যেন কান গরম হয়ে গেলো এসব শুনে, নিচু আওয়াজে বললো অসভ্য লোক কোথাকার, আইমান বললো কি বললে বেইব আরেকটু জোরে বলো বুঝিনি..!
আলিশা রাগী স্বরে বললো আপনার বেহায়াপনা বন্ধ করুন, আর আমার সাথে আপনি কি করেছিলেন রাতে..?
জবাব দিন না হয় আমি আপনাকে ছাড়বো নাহ..!
আইমান খানিক টা হাসলো তারপর মৃদু স্বরে বললো বেইব মেয়ে মানুষের এতো জোরে কথা বলতে নেই জানো না? আর আমি তো এখনো কিছুই করিনি সোনা, কিছু করলে তুমি সোজা হয়ে হাঁটতে পারতে না তো!
এসব কথা শুনে আলিশার গা গলিয়ে বমি আসতে লাগলো, নিজেকে সামলিয়ে বললো অসভ্য লোক আপনার এসব বাজে কথা বন্ধ করুন আর আমাকে কেন রেডি হতে বলছেন সেটা বলুন, আশ্চর্যের বিষয় হলো এতক্ষনেও আলিশা এইমানের মুখ টা দেখতে পেলো নাহ, আইমান যখন ওর দিকে ফিরলো ওই মুহূর্তে ওর মুখের উপর একটা আলো এসে পড়লো আলিশা ওর দিকে তাকিয়ে ভূত দেখার মতো চমকে গেলো..!
ওর চাহনি তে আলিশার যেন হুশ উড়ে গেলো ও মনে মনে ভাবছে এতো সুন্দর একটা মানুষ কি করে এতো টা খারাপ হতে পারে..?
আইমান ও ওর ভেজা চুলের টুপটুপ করে বেয়ে পড়া পানির দিকে খানিক চেয়ে থেকে বললো কি তুমি কি চাচ্ছ যে আমি কন্ট্রোললেস হয়ে যাই?
আলিশা লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে গেলো বললো এই অসভ্য লোক আপনি থামবেন আপনার মুখে কোনো কথা আটকায় না নাকি?
আইমান ওর দিকে এসে বললো বেইব আমি তো এখনো কিছুই করিনি তবে তোমার চাহনি আমার ভালো ঠেকছে না, যে কোনো সময় আমি তোমাতে ডুব দিতে পারি বুঝলে আমি এখন নিজেকে সংযত করছি তার মানে এই নাহ যে সারাক্ষন নিজের উপর আমার কন্ট্রোল থাকবে!
আলিশা সব চুপচাপ শুনলো তারপর কণ্ঠ নরম করে ভাইয়া...
ভাইয়া ডাক শুনে আইমান ভড়কে গেলো চোয়াল শক্ত করে রাগী চোখে আলিশার দিকে তাকিয়ে ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললো এই বেয়াদব মেয়ে আমি তোমার কোন জন্মের ভাইয়া লাগি হুম?
আলিশা ভয় পেয়ে গেলো কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বললো আপনি সব সময় আমার সাথে এমন করেন কেন আমি কি করেছি, আপনি নিজে এঁকে তো আমায় এখানে বন্দি করে রেখেছেন এখন ধমকাচ্ছেন পেয়েছেন টা কি হুম? আপনাকে ভাইয়া না বললে তো বলবো টা কি আমি সেটা ও তো বলে দেননি..!
চলবে..!🫠

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন