ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ স্পর্শ

২য় পর্ব

লেখক: Nahid Matabbor

নিষিদ্ধ স্পর্শ 

নাহিদ মাতাব্বর 
📛❌অনুমতি ব্যতিত কপি নিষেধ..!❌📛
(যারা অতি রোমান্টিক গল্প পছন্দ করেন না দয়া করে তারা নিজে দায়িত্বে এড়িয়ে যাবেন প্লিজ..!🙏)
আলিশা বলতে বলতে চুপসে গেলো হঠাৎ করেই মাথা ঘুরে গেলো যেন!
আইমান কিছু বলতে যাবে নিবে তখন ই ধপ করে বিছানায় লুটিয়ে পড়ল আলিশা, আইমান কিছুই বুঝতে পারছিলো না আর নিজেকে যথা সম্ভব ওর থেকে দূরে রাখার ট্রাই করছে, বারবার ওর ভেজা চুলের কারণে পিঠের জায়গার জামা টা ভিজে আছে খানিকটা না চাইতেও চোখ বারবার ওদিকে চলে যাচ্ছিলো, আর তখন ই আইমান এর ভিতরে কিছু একটা কাজ করছিলো নিজেকে কেমন মাতাল মাতাল লাগছিলো পুরোপুরি কন্ট্রোললেস হওয়ার উপক্রম, নিজেকে শত চেষ্টা করে বুঝালো এভাবে মেয়েটার অসুস্থতার সুযোগ নেওয়া কোনো ভালো মানুষের কাজ নয়!
কিন্তু ঠিক ওই মুহূর্তে নিজেকে সামলানো টা ও যে খুব কষ্টকর, আইমানের নিজেকে নিজের কাছেই নেশাগ্রস্ত মনে হলো সামনে থাকা ফ্লাওয়ার বাস টা নিচে ছুঁড়ে ফেলে টি টেবিলে একটা শক্ত ঘুষি মারলো আর দাঁতে দাঁত পিষে বললো "ননসেন্স" কোথায় কিভাবে চেন্সলেস হতে হয় সেটা ও বুঝে না, ডিসগাস্টিং এঁকে এখন কে জাগিয়ে তুলবে বাস্টার্ড মেয়ে একটা আমার হাড় জ্বালিয়ে খাবে দেখছি মেয়ে টা!
আলিশা কে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে পড়লো হনহন করে!
আলিশার ঘুম ভাঙলো রাত সাড়ে ১০ টার পর ঘুম থেকে উঠে ও দুপুরে কি ঘটেছিলো মনে করার চেষ্টা করছিলো কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না!
কিছুক্ষন পর আইমান ঘরে ঢুকে রাগী চোখে ওর দিকে তাকালো, আলিশা বুঝে পাচ্ছে না যে ওর সাথে এই ছেলেটার কিসের এতো শত্রুতা, একে তো উঠিয়ে নিয়ে এসে কই রাখছে কে জানে দুনিয়ার কোনো খবর নাই তারউপর আবার এই বজ্জাত এর হাড্ডি একটা সারাক্ষন কেমন রাগ দেখায় ভালো করে একে মুহূর্ত কথা বলে না, আলিশা মনে মনে ভাবতে থাকে যে এই অসভ্য লোক রে জিজ্ঞেস করবে যে আপনারে কি হওয়ার ওর আপনার মা মুখে একটু মধু দিতে পারে নাই, কিন্তু পরোক্ষনেই ওর মনে পরে যায় ওর সাথে করা দূরব্যবহার আর চোখের সামনে ভেসে উঠে আইমানের রাগী চেহারা তখন ই ভয়ে থম মেরে যায় মেয়ে টা, আর আহত চোখে তাকিয়ে থাকে আইমানের দিকে এতে আইমানের রাগ যেন বেড়ে সপ্ত আসমানে চড়ে যায়, কণ্ঠে ঝাঁঝ মিশিয়ে বলে..!
>এই ননসেন্স এভাবে তাকিয়ে আছো কেন হ্যাঁ, আর তোমার কি মৃগী ব্যারাম আছে নাকি?
এবার আর বেচারি আলিশা চুপ থাকতে পারলো না, চোখে পানি টলমল করছিলো কান্না ভেজা কণ্ঠে বললো আপনার সমস্যা কি হ্যাঁ, আপনি যখন তখন আমাকে ওমন করেন কেন, আর আপনাকে কে বলছে আমার মৃগী রোগ আছে অসভ্য লোক একটা আপনার নিজের আছে মৃগী রোগ আসছে আমারে বলতে যত্তসব ফালতু মানুষ..!
>আয় হায় রে এতো দেখি কান্না করে দিলো এতো পানি কোত্থেকে আসে চোখে হ্যাঁ, আমাকে ও কিছু পানি ধার দেও আর হ্যাঁ সব পানি এখন ই শেষ করে ফেলো না যেন ভবিষ্যত এ কান্না করার জন্য পরে পানি খুঁজে পাবে না!
শেষের কথাতে যেন ভয়ে সিটিয়ে গেলো আর কোনো কথা বললো না একদম গুটিয়ে নিলো নিজেকে!
আইমান বললো আর যখন তখন চেন্সলেস হয়ে পরা টা কি তোমার পুরোনো সমস্যা নাকি?
আলিশা তখন ও কোনো কথা বললো না, তাই দেখে আইমান খানিকটা ভড়কে গেলো যেই মেয়ের মুখে কথার খৈ ফুটে সেই মেয়ে এমন চুপ সেটা কিছুতেই মানা যাচ্ছে না!
আইমান ওর দিকে তাকিয়ে দেখলো মেয়েটা একদম চুপচাপ হয়ে গেছে আইমান ঠোঁটে কুটিল হাসি এনে বললো!
>কি কল্পনায় স্বামীর সাথে রোমান্স করছো নাকি হ্যাঁ?
<অসভ্য লোক একটা কি সব উল্টাপাল্টা কথা বলে ছিঃ!
> ওরে বাপরে আমি আবার কি করলাম?
<এই আপনি কি আমার বেয়াই লাগেনা নাকি যে মার সাথে মস্করা করছেন?
> এই তো বেইব এখন ঠিক আছে, তোমার এই খৈ ফোটা মুখে তালা একদম মানায় না, এবার বলো তখন চেন্সলেস কেন হইছো?
< স্ট্রেঞ্জ আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছেন, অসুস্থ কি মানুষ নিজে নিজে হয় নাকি?
> বাট বেইব আমার তো মনে হচ্ছে তুমি ইচ্ছে করেই অসুস্থ হয়ে পড়েছো যাতে আমার সাথে মলে যেতে না হয় আর শপিং ও না করা লাগে..!
> কি বললেন শপিং ও মাই গড, আমাকে আপনি জাগিয়ে তুললেন না কেন হ্যাঁ?
বলেই জিভ কাটলো উত্তেজনার বসে নিজেকে সামলাতে পারলো না মেয়ে টা..!
আইমানের অবশ্য ভালোই লেগেছে ওর এই শিশু সুলভ আচরণ, তাই ওর কাছে গিয়ে বললো টেনশন নিও না বেইব তুমি চাইলে পুরো মার্কেট টা নিয়ে আসব!
< কেন আপনি পুরা মার্কেট আনতে যাবেন কোন দুঃখে?
> দুঃখে না সোনা সুখে আনবো..!
< আমি বুঝি না আপনার এতো সুখ কোত্থেকে আসে সারাদিন করেন টা কি, আপনার কোনো কাজ নাই? শুধু কি গুন্ডামি ই করে বেড়ান দেশ বিদেশে?
আইমান খানিক টা হেসে বললো বেইব তুমি কি বলে ফেলেছো সেটা তোমার আন্দাজ আছে?
তোমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে সে এতক্ষনে উপরে চলে যেত বুঝলে, তাই নেক্সট টাইম কথা বললে একটু ভেঙে চিন্তে বইলো সোনা!
আলিশা নিজেই কথা টা বলে জিভে কামড় দিলো, এরপর আইমান রুম থেকে বেরিয়ে গেলো যাওয়ার খানিক বাদেই একটা মেয়ে আসলো বয়স মোটামুটি ২১ বছরের কাছাকাছি, এসেই বললো ম্যাম খাবার টা খেয়ে নিন প্লিজ আপনি দুপুরেও খাবার খাননি..!
আলিশা যারপরনাই অবাক হলো ওর চেয়ে বয়সে বড়ো মেয়ে ওকে ম্যাম বলছে, আর সবচেয়ে অবাক করার বিষয় যেটা সেটা হলো আলিশা কখনো কল্পনা ই করেনি যে এখানেও এতো ভালো কেউ থাকবে যে ওর খেয়াল রাখে, ভেবেই ওর চোখে পানি চলে আসলো আর তার ঠিক পর মুহূর্তে ওর মনে হলো এমন ও তো হতে পারে মেয়েটা ওই অসভ্য লোকটার কেনা দাসী তাই হবে হয়তো, আর আলিশার ভালোও লাগলো যে কেউ ওর কথা চিন্তা করে, আর এখানে আসার পর ছেলেটার আচরণে ও কোনো প্রকার খারাপ কিছু দেখতে পায়নি, ও যতই মুখে ছেলে টা কে অসভ্য লোক বলুক না কেন, বেশ মনে ধরেছে তাকে দেখতেও হ্যান্ডসাম আর ওকে এখানে তুলে আনলেও রেখেছে একদম রানীর হালে সেটাই আলিশা বুঝতে পারছে না যে কাউকে অপহরণ করে তুলে এনে কি কেউ এভাবে রাখে? আচ্ছা ছেলেটার উদ্দেশ্য কি এটা নিশ্চিত যে ওর বাজে কোনো মতলব নেই থাকলে এতদিনে ওর ক্ষতি করে ফেলতো আর কেউ কোনো টু শব্দ করার ও সাহস পেতো না এতদিনে যেহেতু কিছু করেনি তাহলে ওর অন্য কোনো মতলব আছে কিন্তু কি?
আলিশার ভাবনার সুতোয় টান পড়লো আইমানের আওয়াজে..!
কি বেইব আমাকে নিয়ে চিন্তা করছো?
এতো ভেবে কোনো লাভ নেই সোনা, আমি এতোটাও ভদ্র না তাই আমাকে ভদ্র ভেবে ভুল কইরো না!
আমার বয়েই গেছে আপনাকে ভদ্র ভাববো আর আপনাকে নিয়ে কোন দুঃখে চিন্তা করতে যাবো বলেন তো আপনি কে হ্যাঁ?
আপনি আমার লাইফ টা হেল করে দিতাছেন আর বলতেছেন আপনারে নিয়া ভাবমু, আইছে আজাইরা বেডা ফাউল লোক..!
এইডারে দেখলে কেমন গুন্ডা গুন্ডা লাগে (মনে মনে )
আমি আসলেই গুন্ডা বেইব..!😘
আলিশা মনে মনে ভাবতে হায় আল্লাহ এ মনের কথা কেমনে বুঝে..!😫
চলবে..!🫠

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন