ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ স্পর্শ

৩য় পর্ব

লেখক: Nahid Matabbor

নিষিদ্ধ স্পর্শ

নাহিদ মাতাব্বর 
🚫অনুমতি ছাড়া কপি নিষেধ!🚫
যারা বেশি মাত্রায় রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা দয়া করে এড়িয়ে যাবেন প্লীজ, শুধু শুধু ডিজলাইক দিয়ে মন টা ছোট করে দিবেন না, এতে লেখার আগ্রহ কমে যায়..!😌🙏
আইমান বললো দেখো বেইব আমি মনের কথা জানি না But তোমার মন পড়তে আমি সক্ষম, আর তুমি কি কোনো ভাবে আমায় পছন্দ করছো নাকি?
আলিশা মেকি রাগে ফেটে গেলো রাগ, রাগ দেখিয়ে বললো আপনার সারাক্ষন এসব ফালতু কথা ই কেন বলা লাগবে হ্যা?
আইমান বললো আচ্ছা বেইব সত্য করে বলো তো তুমি আসলেই আমাকে নিয়ে ভাবো নাই এতক্ষন..? 🤔
আলিশা চুপ করে গেলো, এই মুহূর্তে ও আর কোনো কথা বলতে চাচ্ছে না!
আইমান বললো তোমাকে খাবার দিয়ে যাওয়া হয়েছে?
আলিশা আমতা আমতা করে বললো জ্বি..!
> স্টুপিড মেয়ে, খাবার দিয়ে গেছে তো খাচ্ছ না কেন হ্যাঁ?
তুমি কি মামা বাড়ি এসেছো যে তোমাকে এখানে আদর করে খাইয়ে দিবে কেউ এসে, দেখো মেয়ে একদম বাড়াবাড়ি করবে না বুঝতে পেরেছো, বাড়াবাড়ি আমার একদম পছন্দ না, আমি যতটা না ভালো তার চেয়ে দ্বিগুন খারাপ কথা টা মাথায় রেখো..!
< আপনি কতটা ভালো সেটা এতদিনে দেখা হয়ে গেছে আমার আর কিছু বাকি নেই দেখার জন্য, আর আপনি এখানে নিজেকে সাধু প্রমান করতে এসেছেন নাকি? 
আপনাকে আমি বলছিলাম নাকি যে আমাকে দরদ দেখান, আমাকে খাইয়ে দিয়ে যান, আপনি আসেন কেন আপনাকে তো আসতে বলিনি আমি, আমার খেতে ইচ্ছে হচ্ছে না তাই আমি খাচ্ছি না এতে আপনার তো কোনো সমস্যা থাকার কথা না, আপনি আমাকে কেন কিডন্যাপ করেছেন বলেন!
আজ আমি সব টা সত্য জানতে চাই বলুন আপনি, মুক্তিপন চাই আপনার? তাহলে শুনে রাখুন আমার আব্বুর কোনো অসৎ উপার্জন নেই যে আপনার মতো একটা অসভ্য লোক কে টাকা দিবে..!
কথা গুলো সব এক নাগাড়ে বলে হালকা থামলো আলিশা এরপর নিঃশব্দে কান্না করল, চোখের কোন বেয়ে জল গড়িয়ে পরে ললাটে গিয়ে থামলো..!
আইমান এতক্ষন এ একটা টু-শব্দ ও করেনি চুপচাপ শুধু শুনেছে আলিশা যা বললো..!
এরপর পকেট থেকে রুমাল বের করে দিয়ে বললো চোখ মুছে নাও, এভাবে খুব বিশ্রী দেখাচ্ছে আর শুনো চোখ মুছে একটু কাজল লাগিয়ে নিও..!
আলিশা যারপরনাই অবাক হয়ে গেলো, ও মনে মনে ভাবলো আচ্ছা এ কি আদৌ মানুষ তো নাকি জ্বীন ভূতের আছর আছে এর সাথে?
এরে এতক্ষন আমি কি বললাম আর আমারে কি বলে গেলো, হায় আল্লাহ তোমার দুনিয়ায় কত মানুষ যে আছে নানান কিচিমের মানুষ..!
চোখের পানি মুছতে মুছতে পেটে হাত দিয়ে বললো হায় আল্লাহ গো, কি ক্ষুধা লাগছে মা গো না খেয়ে থেকে কোনো লাভ নাই রাগ গোস্বা সব খাওয়ার পর খাবারের সাথে কোনো প্রকার রাগ অভিমান করতে নেই আলিশা খেয়ে নে..!
টেবিলে বসেই মাথা ঘুরে গেলো ওর এতো খাবার, আচ্ছা লোক টা কি পাগল নাকি এক বেলাতে একটা মানুষ এতগুলো খাবার কেমনে খায়, নাকি এর বংশের সবাই খাদক ছিল তাই ছেলে ও সেই সুবাদে একটু আধটু হয়েছে, এসব ভাবতে ভাবতে খাচ্ছে আর নিজে নিজে হাসছে আলিশা, খেয়ে ওয়াসরুম এর দিকে পা বাড়াতেই ওর মনে পড়লো আইমানের কথা, তখন কি বলে গেলো ছেলে টা, আমি অজ্ঞান কেন হয়ে গেলাম আর শপিং আমার এতো পছন্দ আমি কীনা শপিং না করার জন্য অজ্ঞান হওয়ার বাহানা করছি কি সব কথা বার্তা..!
আইমান আলিশার ঘর থেকে এসে শরীর থেকে ব্লেজার খুলতে খুলতে কারো কাছে কল দিলো, ২বার ফোন রিং হওয়ার পর রিসিভ করলো কল রিসিভ করেই বললো স্যার ওর কোনো খবর পাইনি তবে এতটুকু জানতে পেরেছি লোক টা মেয়েটার মামা লাগে, আর এই লোক আর তার স্ত্রী মিলে মেয়েটা কে অনেক অত্যাচার করতো, কথা টা শুনার সাথে সাথেই রাগে আইমানের চোখ মুখ লাল হয়ে গেলো..!
ব্লেজার টা ছুড়ে মারলো ফ্লোরে আর চিৎকার করে বললো ওই জানোয়ারের চৌদ্দ গুষ্টির পরিচয় বের করে আমার সামনে নিয়ে আসুন..!
ফোন টা বিছানার উপর ফেলে বাথরুমে প্রবেশ করলো আইমান ওর লম্বা একটা শাওয়ার এর প্রয়োজন সারাদিন অনেক ধকল গেছে ওর উপর দিয়ে, অনেক টা সময় নিয়ে গোসল সারলো আইমান..!
আলিশা ভাবলো ও একটু বাড়ি টা ঘুরে দেখবে কিন্তু ও কিভাবে ঘুরবে কোই যাবে ও তো এখানে কিছুই চিনে না, চিনার ভিতর চিনে শুধু এই রুম টা আর বাথরুম টা, খুব দ্রুত গুটি গুটি পায়ে রুম থেকে বের হলো ভাবলো হয়তো পাহারাদার রা ওকে আটকে দিবে বা বলবে স্যারের নিষেধ আছে রাত বিরাতে বাইরে যাওয়া, কিন্তু তেমন কিছুই হলো একটু বেরিয়ে চারপাশ টা ভালো করে চোখ বুলিয়ে নিলো, বারান্দায় বেরোতেই মন টা আনন্দে নেচে উঠলো আলিশার কি সুন্দর হাসনাহেনার ঘ্রান মন টা একদম ফুরফুরা হয়ে গেলো, আরেকটু সামনে গিয়ে দেখলো সন্ধ্যামালতির গাছ, আরো সামনে চেনা অচেনা অনেক বাহারি দেশি বিদেশি ফুল গাছ দেখলো যার অধিকাংশ ফুলের নাম ই ও জানেনা, সামনেই একটা ঘর দেখতে পেলো আলিশা মুখ থেকে আচমকা ই বের হলো ওয়াও কি সুন্দর, ভাবলো এখানে এটা কার ঘর এতো সুন্দর ব্যালকোনি আবার ফুলগাছ, আচ্ছা এটা ওই অসভ্য লোকটার স্ত্রীর রুম নয়তো রুম অন্ধকার দেখে আবার ভাবলো ধুর এখানে তো কোনো মেয়ে মানুষ ই নেই, আর ওই বেটারে দেইখা মনে হয় না যে বিয়ে করছে নাকি করতেও পারে বেডা মানুষের ঠিক নাই বলতে বলতে দরজার কাছাকাছি গিয়ে উঁকি দিলো, রুম খোলা কিন্তু ভিতরে অন্ধকার দেখে কৌতূহল বসত ধাক্কা দিয়ে বসলো এতে দরজা আরো খুলে গেলো, আলিশা কৌতূহল ধরে রাখতে না পেরে পুরো দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে গেলো, ভিতরে ঢুকে যা দেখলো তা দেখার জন্য মেয়ে টা মোটেও প্রস্তুত ছিল না..!😁
আইমান তখন ই শাওয়ার নিয়ে বাথরুম থেকে বের হলো পুরো গা খালি উদাম গায়ে বেরিয়ে আসলো কোমরে একটা টাওয়াল জড়িয়ে, তাও আবার সেটা ভালো করে বাঁধেনি এমনিতেই নড়বড়ে করে পেছিয়ে বেরুলো আর ঠিক ওই মুহূর্তে আলিশা ঘর ঘুরে ঘুরে দেখছিলো ওর মুখ ছিল অন্যদিকে, ধাম করে খেলো এক ধাক্কা আইমানের শক্ত শরীরের সাথে, ভূত ভূত করে চিৎকার দিয়ে উঠলো আইমান হতোবুদ্ধি হয়ে গেলো আলিশার চিৎকার শুনে, কিন্তু বেচারা নিজের দিকে তাকাতে ভুলে গেলো আলিশার সাথে ধাক্কা খেয়ে কখন তার টাওয়াল খুলে নিচে পরে আছে সেই খেয়াল তার নেই, আলিশা যখন ই তার দিকে ফিরে তাকালো আরো জোরে চিৎকার করে উঠলো আইমান কিছুই বুঝে উঠতে পারলো না ওকে থামাতে যাবে তার আগেই ওর নজর পড়লো নিজের দিকে, নিচে তাকিয়ে দেখলো পুরো ফাঁকা মাঠ হয়ে আছে ও নিজেও চিৎকার করে উঠলো, আর বললো ননসেন্স মাথায় কিছু নেই নাকি কারো ঘরে পারমিশন নিয়ে ঢুকতে হয় এতটুকু ম্যানার ও নেই বের হও এক্ষুনি ফাস্ট গো নাউ..!
আলিশা সরে গেলো না বরং ঘুরে দাঁড়ালো আর বললো, অসভ্য লোক আপনি এতো বেহায়া কেন ওটা পড়ে নিন জলদি ছিঃ, জানেন বাসায় একটা মেয়ে মানুষ আছে তাও ঘরের ভিতর উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ান কেন, আর আমাকে বলে ননসেন্স আমি জানি নাকি এটা আপনার ঘর, জানলে আমি আর কক্ষনো ঢুকতাম এই ঘরে?
চলবে..!🫠

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন