#তুমি_কিন্তু_আমি
মীরা_রায়াদ
পর্ব–২৩
🚫অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ🚫
শ্রাবনী ও আহির ছুটে চলে গেলো সকলের দৃষ্টি সীমানার বাইরে। সেদিকে তাকিয়ে মিসেস বীথি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। মেয়েটার শুধু বয়সই বেড়েছে, আক্কেল-জ্ঞান হয়নি একদম। কোনো কথাও শুনতে চায় না। বাপের মতো স্বভাব পেয়েছে।
-কিছু মনে করবেন না। আসলে মেয়েটা একটু অন্য রকম। হাতে-পায়ে বড় হলেও কোথায় কি বলতে হয়, করতে হয় সেই বোধ হয়নি।
মিসেস বীথি ইতস্তত বোধ করলেন খুব। এরা সবাই এখন ঝুমের শ্বশুরবাড়ির লোক। মানুষগুলোর সামনে কি ঝুম ছোট হলো না? পরবর্তীতে যদি ঝুমের সাথে একারণে খারাপ আচরণ করে? সে শংকিত। মনের মাঝে মাতৃসুলভ দ্বিধা, ভয়। অথচ তাকে অবাক করে দিয়ে ইব্রাহিম আনসারী বড় আয়েশ করে হেসে বললেন,
-বাচ্চারা এমন একটু না করলে চলে না। নয়তো বাড়ি নির্জীব মৃ*ত মনে হয়। আপনি এসব নিয়ে চিন্তা করবেন না আপা।
ইব্রাহিম রেহমান আনসারী বরাবরই স্বল্পভাষী মানুষ। বউ ছাড়া সে তেমন একটা কারো সাথে কথা বলে না বললেই চলে। শাইয়ান যে তার বাবার এই গুন পুরোটাই রপ্ত করেছে তা বলার অবকাশ থাকে না। মানুষটি এখানে আসার পর থেকে একদম নীরব। তাকে না কোনো বিষয়ে মাথা খাটাতে দেখা গিয়েছে আর নাই বা কোনো বিষয়ে কথা বলতে দেখা গিয়েছে। লোকটা ছেলের অসুস্থতার সময়েও স্বভাব সুলভ আচরণ বজায় রেখেছে। অথচ আজ সে কথা বলল। হয়তো বর্তমান পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করতে চাওয়ার তাগিদে। স্বামীর কথায় মেহেরুন্নেসা মনে মনে খুশি হলেন। স্বামীকে সঙ্গ দিতে তাই নিজেও বললেন,
-হ্যা, আপনি এসব নিয়ে চিন্তা করবেন না আপা। আমাদের আহিরটা ভীষণ দুষ্টু। সে কিছু না করলে শ্রাবনী যে শুধু শুধু রিএক্ট করবে না সেটা আমরা সবাই জানি। তাই ওদের ব্যাপার ওরা সামলে নিবে, আমরা এসব নিয়ে আর না ভাবি।
মিসেস বীথি নিশ্চিন্ত হলেন খুব। সাথে ঝুমের ভবিষ্যৎ জীবনের কথা ভেবে মনে মনে ঝুমের জন্য দোয়াও করে দিলেন। তার বুঝতে কষ্ট হলো না এরা সবাই ভীষণ ভালো মনের মানুষ। ঝুম যে তাদের সাথে ভালো থাকবে তাতে সংকোচ নেই।
-আমি রুমে যাচ্ছি। আরীবা, আপনার সাথে কিছু কথা আছে।
ঝুম চমকে উঠল। লজ্জা পেল সকলের সামনে এভাবে বলায়। বিয়ের পর থেকে সে শাইয়ানের থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখে। তার কারণও রয়েছে। মানুষটা বড্ড নির্লজ্জ। আগে তাও রাখঢাক ছিল, কিন্তু এখন? এখন বিন্দুমাত্র লজ্জা না করে সে নির্দ্বিধায় ঝুমের দিকে তাকিয়ে থাকে। বড় বেহায়া তার কাজের ধরণ। সেসব দেখে আবার বখাটে আহিরটা তাকে জ্বালাতন করে। বলাবাহুল্য এই ২/৩ দিনে তার এবং আহিরের সম্পর্কটা সহজ হয়েছে ভাইবোনের মতো। সে আজকাল আহিরের সাথে সহজ হয়ে কথা বলতে পারে। নির্দ্বিধায় ভাইয়া বলে আবদার করতে পারে। অথচ শাইয়ানের সাথে সে সহজ হতে পারে না। কেমন একটা লজ্জা ঘিরে ধরে। কিন্তু লোকটা তা বুঝলে তো! বোঝে না। বুঝলে বুঝি আরো লজ্জা দেয়? ঝুম আঙুলের ডগায় নিজের হালকা রঙের শাড়ির সবুজ রঙা আঁচলটি পেঁচিয়ে যাচ্ছে। দৃষ্টি এদিক-ওদিক বাকিদের দিকে। অথচ সকলে এমন ভাব নিলো যেন কেউ শাইয়ানের বলা কথাটি শুনতেই পারেনি। তারা নিজেদের মাঝে কথা বলতে ব্যস্ত। ঝুম একটু স্বস্তি পেল, কিন্তু শাইয়ানের সেই স্বস্তি টুকুও সহ্য হলো না। সে আবারো তাড়া দিয়ে বলল,
-কি হলো চলুন।
-আপনি যান, আমি আসছি।
ঝুম ধীরে বলল। তার কণ্ঠ থেকে আওয়াজই বের হচ্ছে না লজ্জার কারণে। শাইয়ান সেসব পাত্তা দিলো না। তার বুকটা মরুভূমির মতো খাঁ খাঁ করছে। ঝুমকে সামনে বসিয়ে যতক্ষণ মন ভোরে দেখতে না পারছে ততক্ষনে কিছুই ভালো লাগছে না।
-সাথে চলুন এক্ষুনি।
একরোখা, তেড়া জবাব। চোখমুখের অবস্থাও বিশেষ ভালো না। ঝুম একবার চোখ তুলে তাকিয়ে আবারো চোখ নামিয়ে নিল। বুঝতে পারলো এই জেদি লোকটাকে এবং তার জেদগুলোকে ঝুমের সারাজীবন সহ্য করে নিতে হবে।
ঝুম আবারো সকলের দিকে একবার তাকিয়ে ছোট ছোট পা ফেলে এগিয়ে গেল নিজের রুমের দিকে। শাইয়ান তাকিয়ে দেখলো তার বউয়ের যাওয়া, হাঁটার তালে তালে বেজে ওঠা নূপুরের ঝুনঝুন শব্দ সবটাই সে অবলোকন করলো বড় শান্ত চোখে। অতঃপর মুরগির বাচ্চার মতো বউয়ের পিছু পিছু নিজেও হেটে চলে গেল। তাদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মেহেরুন্নেসা তৃপ্তি নিয়ে হাসল। এতগুলো দিন পর তার ছেলেটাকে সে শান্ত দেখছে, ভালো থাকতে দেখছে। সে তো এটাই চেয়েছিল। তাই না?
—-------------
-ইগনোর করছেন আমাকে?
মাত্রই তো রুমে প্রবেশ করলো ঝুম। এর মাঝে পিছন থেকে এমন কথায় একটু না অনেকটাই চমকালো মেয়েটা। ইগনোর? কাকে? এই পাগল লোকটাকে? আদোও সম্ভব? ঝুম ঘুরে দাঁড়ালো শাইয়ানের দিকে। ছেলেটা ততক্ষনে দরজা কিছুটা চাপিয়ে দিয়েছে, তবে পুরোপুরি নয়। ঝুম দেখলো, বুঝলো, অতঃপর ভালো লাগায় তার মন ভোরে গেল। শাইয়ান একটু পাগল হলেও তার সুযোগ, সুবিধা, অস্বস্তির দিকে সর্বদা খেয়াল রাখে। যদিও মাঝে মাঝে এমন এমন কাজ করে, যে ঝুমের আত্মা ছলকে, কেঁপে ওঠে।
শাইয়ানের পরনে বেইজ কালারের একটি ট্রাউজার ও কফি রঙের একটি ঢোলা, পাতলা ফুলহাতার টি-শার্ট। যার স্লীভস কনুই পর্যন্ত গোটানো এবং বুকের দিকের সবগুলো বোতাম খোলা। যার দরুন ফর্সা লোমহীন বুকটা হা করে ঝুমের দিকে তাকিয়ে আছে। ঝুম সাথে সাথে চোখ ফিরিয়ে নিল। বড় অস্বস্তি হলো তার। এভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই লোক? ছিঃ! নির্লজ্জ কি আর সে সাধে বলে?
-কি হলো? উত্তর দিচ্ছেন না কেন?
শাইয়ান বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে এলো ঝুমের দিকে। ঝুম হকচকিয়ে দু কদম পিছিয়ে গেলো সাথে সাথে। তা দেখে শাইয়ানের কপালে বড় বড় দুটি ভাঁজ পড়ল। বিষয়টা ঠিক কি হল?
-কোথায় ইগনোর করছি?
ঝুম হড়বড়িয়ে উত্তর দিল। শাইয়ান এবার ধীরে তাদের মাঝের দূরত্ব কমালো। কিন্তু একদম কাছে গেল না। বুক পর্যন্ত হওয়া ছোট, নাজুক মেয়েটাকে দেখে শান্তিতে বুক ভোরে যাচ্ছে তার। খোঁপা করে, শাড়ি পরে তার সামনে তার বউ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্বপ্ন স্বপ্ন লাগছে কেনো সবটা?
শাইয়ান কোমর বাকিয়ে ঝুঁকে গেলো ঝুমের দিকে। ঝুমের দৃষ্টি মেঝের দিকে। চোখ পিটপিট করছে বাড়ে বাড়ে। নিঃশ্বাসও অস্বাভাবিক ভাবে নিচ্ছে। শাইয়ানের উত্তপ্ত মন এতক্ষনে শান্ত হলো। ঠোঁটে ফুটে উঠলো চমৎকার একটি হাসি। শান্ত, অথচ ঝুমের বুকে কাঁপন তুলে দিয়ে বলল,
-ইগনোর করছেন না? তবে কি লজ্জা পাচ্ছেন? কাকে? আমাকে? আপনার স্বামীকে? আরীবা?
ঝুম সাথে সাথে চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিল। ধরে ফেলেছে লোকটা। ছিঃ! লজ্জা! ঝুম হঠাৎ লক্ষ্য করলো সে বদলে যাচ্ছে। এই লোকটার আশেপাশে থাকলে সে বদলে যায়। তার মাঝে অদ্ভুত এক অনুভূতি ছুটে বেড়ায়। যা পূর্বে কখনো অনুভব করেনি। তবে...তবে কি সে প্রেমে পড়েছে?
-এমন কিছু না।
মিনমিনিয়ে বললো ঝুম। এতে অবশ্য শাইয়ানের হাসি বাড়লো বৈ কমলো না।
-আচ্ছা! তাহলে কেমন?
শাইয়ানের কণ্ঠে স্পষ্ট রসিকতা। এই লোকের আর কত রূপ রয়েছে? ঝুম অবাক, প্রচুর অবাক।
-কেনো ডেকেছেন?
ঝুম এড়িয়ে যেতে চাইছে বুঝতে পেরেও শাইয়ান কিছু বললো না। উল্টো সোজা হয়ে বুক টানটান করে দাঁড়াল।
-মাথা তুলুন। আমার সামনে সব সময় মাথা তুলে কথা বলবেন। আপনি আমার রানী। রানীরা কখনো মাথা নত করে না। তাদের সামনে সকলে মাথা নত করে। বুঝেছেন?
ঝুম মাথা তুললো। তার চোখেমুখে ব্যাপক মুগ্ধতা। সাথে ভীষণ অবাকও মেয়েটা। সে বুঝি রানী? কার? শাইয়ানের রানী?
-আমি রানী?
ঝুম এখনো বুঝতে পারছে না। বাবা চলে যাওয়ার পর এভাবে কেউ কখনো বলেছে? এত স্পেশিয়াল ফীল করিয়েছে? করায়নি তো। তাহলে বুঝবে কিভাবে?
শাইয়ান হাসি হাসি মুখে ঝুমের মাথায় আলতো করে হাত রাখলো। অতঃপর ধীরে, ভীষণ ধীরে ঝুমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
-অবশ্যই। আপনি ছাড়া এই শাইয়ানের রানী হওয়ার যোগ্যতা আর কার? তবে হ্যা, শাইয়ানের একজন মহারানী রয়েছে।
ঝুমের মুগ্ধতা এক নিমিষে বিলীন হয়ে গেল। কপালে অস্পষ্ট ভাঁজের দেখা মিলল। মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে কথাটিতে সে রুষ্ট। অথচ মুখে একটা শব্দও উচ্চরণ করলো না। আচমকা খুব নীরবে অনুধাবন করলো, তার অন্তর জ্বলে যাচ্ছে।
শাইয়ান ওর মুখের বেহাল অবস্থা দেখে হেসে ফেলল। ঝুমের মাথায় তখনো তার ডান হাত। সেই হাতে আবার কালো হেয়ার ব্যান্ডটি উঁকি দিচ্ছে। শাইয়ান আবারো ঝুঁকে গেলো ঝুমের দিকে। মাথা থেকে হাতটা সরিয়ে ঝুমের নাকে জমে থাকা চিকচিকে ঘাম আঙুলের উল্টো পিঠ দিয়ে মুছে দিয়ে বলল,
-মহারানী কে না জেনেই রাগ করবেন?
-আমি রাগ করিনি।
সাথে সাথে উত্তর। এত দ্রুত আগে কখনো ঝুমকে উত্তর দিতে দেখা যায়নি।
-আচ্ছা। তবুও আমি বলি?
ঝুম একদম শাইয়ানের চোখে চোখ রাখল। ফ্যাকাসে চোখ দুটি আজ চিকচিক করছে। উচ্ছ্বল, প্রাণবন্ত লাগছে।
-বলবো?
-ইচ্ছা।
শাইয়ান মুখ টিপে হেসে উঠল। তা দেখে ঝুমের মাথা গরম হয়ে গেল। নাকের ডগা আবারো ঘেমে উঠল। শাইয়ান ধৈর্য হারালো না। দ্বিতীয়বারের মতো ধৈর্য নিয়ে বউয়ের নাকের ডগার ঘাম মুছে দিয়ে বলল,
-আম্মা, আমার আম্মা।
চকিতে ঝুমের দৃষ্টি পরিবর্তন হল। চোখ দুটি নরম হয়ে এলো। শাইয়ান একই ভাবে ঝুমের মুখের ওপর ঝুঁকে থেকে বলল,
-আমি আম্মাকে ভীষণ ভালোবাসি আরীবা। আর..আর আপনাকেও। আপনারা দুজন আমার হৃদপিন্ডের দুটি অংশ। সে আমার রাজ্যের মহারানী আর আপনি আমার রানী।
ঝুম শান্ত হয়ে শাইয়ানের প্রতিটি কথার ভাবার্থ বোঝার চেষ্টা করল। বুঝলোও। তাই তো এত শান্ত।
-বুঝেছেন?
-হুম।
-কি বুঝেছেন?
-আমি রানী।
-আচ্ছা? কার?
-আপনার।
শাইয়ানের চোখেমুখে চমক খেলে গেল। সে ঝুমের থেকে এতটা আশা করেনি। ঝুম মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে বুঝেই হয়তো আরো ভালো লাগছে। শাইয়ান দ্রুত ঝুমের থেকে সরে দাঁড়িয়ে বেডের কিনারায় বসার জন্য ইশারা করে বলল,
-বসুন, আপনার জন্য একটা উপহার এনেছিলাম অস্ট্রেলিয়া থেকে।
-অস্ট্রেলিয়া থেকে? কবে?
-ওই যে অস্ট্রেলিয়া টুর্নামেন্টে গিয়েছিলাম, আর আপনি আমাকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে এসেছিলেন, তখন। ভেবেছিলাম ফিরে আমাদের বিয়ে হলে আপনাকে তো কিছু উপহার দিতে হবে। বিয়ের উপহার, সেটাই।
ঝুম হতবাক। এতটাই হতবাক যে মেয়েটা কয়েক মুহূর্ত কথাই বলতে পারলো না। কি বলবে? এই লোক এত পাগল?
-বসুন, আমি নিয়ে আসি।
কথাটি বলতে বলতে ঝুমকে ছুঁতে গিয়েও আবার হাত গুটিয়ে নিল। ঝুম সেটা লক্ষ্য করে নিজেই বিছানার পাশে গিয়ে বসল। অল্প অগোছালো, এলোমেলো বিছানার চাদর। শাইয়ান এখানে শুয়ে ছিল তাই! শাইয়ান ওকে বসতে দেখে ছুটে গেলো লাগেজের কাছে। ঝুম তাকিয়ে দেখলো শাইয়ানের ব্যস্ত হাত দুটো কিছু একটা বের করছে। ঝুমের দিকে পিঠ দিয়ে বসার কারণে ঝুম দেখতে পেলো না কিছুই। শাইয়ান ফিরে এলো কয়েক সেকেন্ডের মাঝে। এসেই ঝুমের সামনে মেঝেতে বসলো। ঝুম একটু চমকালো কিন্তু শাইয়ানকে আজ বাধা দিলো না। ছেলেটার চোখেমুখে কি উচ্ছ্বল খুশি। দেখেও শান্তি লাগছে।
-দেখুন, পছন্দ হয়?
ছোট একটি চতুর্ভুজ আকৃতির কালো ভেলভেটের গয়নার বাক্স। ঝুম জানে এর ভিতরে কি। সম্ভবত হাতের আঙুলের জন্য আংটি। এমন বাক্সেই তো দেয়া হয়। ঝুম বাক্স থেকে চোখ সরিয়ে তাকালো শাইয়ানের দিকে। ছেলেটা দুহাতে বাক্স ধরে ঝুমের সম্মুখে বাড়িয়ে রেখেছে। ঝুম নিলো খুবই সাবধানে। যেন জোরে ধরলেই বাক্সটি ব্যথা পাবে। অতঃপর শাইয়ানের এত দিনের ধৈর্যের সমাপ্তি ঘটিয়ে বাক্সটি খুলে ফেলল। ভিতরে ছোট সিলভারের দুটি আংটি। তাতে আবার উপরে সাদা পাথর বসানো। এটা যে মুক্তা বুঝতে ঝুমের একটুও কষ্ট হলো না। সিলভার অংশটিও ভীষণ চকচক করছে। অবাক সে নিজের অজান্তেই বলে বসল,
-প্লাটিনাম?
-হ্যাঁ। ভালো লেগেছে? আসলে আমি কখনো কোনো মেয়ের জন্য কিছু কিনি নিই। এমন কি আম্মার জন্যও না। তাই বুঝতে পারছিলাম না মেয়েদের কি পছন্দ। এটা ভালো লাগলো তাই নিয়ে নিলাম।
শাইয়ান ভীষণ উৎসাহের সাথে কথাগুলো গড়গড়িয়ে বলে ফেলল। ঝুম বাক্স হাতে থম মেরে বসে রইল। তার বুক ধড়ফড় ধড়ফড় করছে। এসব সে ইহজনমে পড়েনি। কি চমৎকার!
-পছন্দ হয়নি?
ঝুমের মুখ দেখে শাইয়ান আতংকিত। তবে কি ঝুমের পছন্দ হলো না? তার খুশিতে হঠাৎ ভাটা পড়ল। মুখটা চুপসে গেল। মনটা নিমেষেই অনামিশায় ডুবে গেল।
-অপূর্ব।
ছোট একটি শব্দ। শাইয়ান তড়াক করে চাইলো ঝুমের মুখের দিকে। ঝুমের চোখে পানি ছলছল করছে। কিন্তু ঠোঁটে হাসি।
-এর আগে আমাকে এমন চমৎকার জিনিস কেউ উপহার দেয়নি মি. আনসারী। এটা ভীষণ সুন্দর। আমি পরি?
শাইয়ানের বুকে শীতলতা নেমে এলো। খুশিতে তার কান্না পেল। যার জন্য এত খুঁজে কিনলো তার ভালো লেগেছে, এর চাইতে খুশির কি হয়?
-আমি পরিয়ে দিই?
নিঃসঙ্কোচ নিবেদন। ঝুম বারণ করলো না। বাড়িয়ে দিলো বাক্সটি। শাইয়ান একমুহূর্ত অপেক্ষা না করে প্রথমে ঝুমের বাম পায়ে একটি আংটি পরিয়ে দিলো, পরমুহূর্তে ডান পায়ে অন্য আংটিটি পরিয়ে দিয়ে থামল। তখন তার দুহাতের মাঝে ঝুমের ডান পা বড় যত্ন করে ধরে রাখা।
-আপনার পা ছুঁতে পেরেও নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। নরম নরম পা। এত সুন্দর! মন চাচ্ছে বুকের ভিতর লুকিয়ে রাখি। আপনার পা, আপনি, আপনি পুরোটাই। মানিয়েছে না? আপনার বিয়ের উপহার। আরীবা... পাখি, আমি হয়তো পাগল হয়ে যাচ্ছি। কি বলছি বুঝতে পারছি না। আপনি সুন্দর, মারাত্মক সুন্দর, আমার কল্পনার থেকেও বেশি সুন্দর। এই সুন্দর মেয়েটা এখন আমার বউ তাই না? বলুন, বলুন! আপনি কার বউ?
ঝুম নিশ্চুপ। দৃষ্টি শাইয়ানের ডান হাতের কব্জিতে। সে মন্ত্রমুগ্ধের মতো সেদিকে তাকিয়ে। আদতে কিছু শুনেছে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
-ওটা হয়তো আমার।
ঝুম আঙ্গুল তুলে নির্দেশ করে বোঝাল। শাইয়ান ওর ইঙ্গিতকৃত জায়গায় দৃষ্টি দিয়ে হাসল। অতঃপর নির্লজ্জের মতো করে বলল,
-ছিল, এখন আমার।
-মানে?
ঝুম তার বড় বড় চোখ দিয়ে অবুজের মতো তাকিয়ে। শাইয়ান ওই চোখে যতবার তাকায় ততবার হারিয়ে যায়।
-আপনার সব কিছু এখন আমার।
এতটুকু বলে শাইয়ান থামলো। অতঃপর কন্ঠে এক সমুদ্র নেশা মিশিয়ে আবারো বলল,
-এমনকি আপনিও।
কি দৃঢ় অধিকারবোধ! ঝুম দিশেহারা। এই লোকের কথা তার বুকে গিয়ে লাগে প্রতিবার। কি ভীষণ আবেগ, ভালোবাসা! ঝুমকে মা*রতে চায় বুঝি? সে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
-ওটা পুরোনো। নতুন একটা দিচ্ছি।
শাইয়ান নাকচ করল। ঝুমের সামনে হাঁটু গেড়ে আরাম করে বসে দুহাতে ঝুমের দুপা জড়িয়ে নিল নিজের বুকে। অতঃপর ঝুমকে কিছু বুঝতে না দিয়েই ঠোঁট নামিয়ে পায়ে শব্দ করে কয়েকটি ভেজা চুমু খেয়ে বলল,
-এটা আমার কাছে থাকুক? আপনি আপনি ফীল পাই।
চলবে___
[ ওরে কষ্ট রে😭😭। এত কষ্ট করলাম তাও রিয়েক্ট নেই। পঁচা জনগণ😏]