ফন্ট সাইজ:
থিম:
অতৃপ্তির মাঝে তৃপ্তিময় সে

২৭তম পর্ব

লেখক: সালসাবিল সারা

#অতৃপ্তির_মাঝে_তৃপ্তিময়_সে

#লেখিকা- সালসাবিল সারা

পর্ব -২৭

___________________

৬০.

--"কি?আগামী সপ্তাহেই বিয়ে?এতো দ্রুত কেউ বিয়ের তারিখ ফেলে?"

ভ্রু জোড়া কুঁচকে আছে আলেয়ার।তৃপ্তি তার কাঁধে মাথা রেখে চোখ বুঁজে।সে নিজেও ভারী অবাক।কিন্তু,কিছু করার নেই।স্বয়ং ইনায়া বিয়ের তারিখ ফেলেছে।এই মহিলার তৃপ্তির প্রতি অনীহা দেখে, বাসায়ও বিয়ের তারিখ নিয়ে কিছু বলেনি।বাকি রইলো আদ্রিন!সে খুশীতে আহ্লাদী।প্রত্যেক রাতে ফোন দিয়ে বিয়ের সময় ঘনিয়ে আসছে,তার ভালোবাসার চাদরে তৃপ্তিকে মুড়িয়ে নেওয়ার জন্যে অপেক্ষা,সব কিছুর গল্পের প্রহর সাজিয়ে বলে।তৃপ্তি কি বা বলবে আর!এই ছেলেটা তার সবকিছু।আদ্রিনের মাথা ঠাণ্ডা আছে তাই ভালো।নাহলে পাগলের পাগলামি সহ্যের ক্ষমতা তৃপ্তির নেই।বিয়ের চিন্তা থাকলেও,তার অন্তরালে একটা স্বস্তি ভিড় করে।আদ্রিনকে সারাজীবনের জন্যে নিজের করে নেওয়ার স্বস্তি।

--"কিরে,ঘুমিয়ে পড়লি?"

আলেয়ার পুনরায় করা প্রশ্নে ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ে,

--"নাহ,ঘুমায়নি।"

--"বল না,এতো জলদি বিয়ে কেনো?"

--"জানিনা।আদ্রিন আর তার মা জানে।"

তৃপ্তি সোজা হয়।ক্যাম্পাসে উপস্থিত চারিদিকের মানুষের দিকে চোখ বুলায়।নতুন এডমিশনের জন্যে আজ বেজায় মানুষ।গরমটা কেমন ভ্যাপসা।ব্যাগ হতে টিস্যু বের করে গলায় চেপে ধরে।ঘামের বিন্দু বিন্দু জলের সংস্করণ চলে।

--"এইখান থেকে উঠি।চল রেস্টুরেন্টের দিকে যায়।"

আলেয়া জিদ করে একপ্রকার।

--"এখন?গরমে উঠতেই ইচ্ছে করছে না।বসে থাকি।"

তৃপ্তির কথায় আলেয়া রাগ দেখায়,

--"উঠ,আমাকে ট্রিট দিবি।বিয়ে করে বিবাহিত হওয়ার আগে আমাকে ট্রিট দে।"

আলেয়ার টানা হিচড়ায় হাসে তৃপ্তি।ব্যাগ কাঁধের বাম পাশে তুলে।উঠে পড়ে দুজন।গরমে দুইজনের গাল রাঙা।হেঁটে রাস্তা পার হয়।গাড়ির বেশ যানজট। হর্ণের শব্দে জর্জরিত এলাকা।তীব্র গরমে এমন হর্ণের শব্দ বেশ অসহ্যকর।মাথা ধরে যায় তৃপ্তির।আলেয়ার হাত ধরে রাস্তার বিপরীতে আসতেই চমকে।আদ্রিন দাঁড়িয়ে। হাতে সিগারেট।মুখের ভঙ্গি অন্যরকম।নিশ্চিত রেগে।সামনের ছেলেটাকে চিনে তৃপ্তি।আদ্রিনের সাথেই এসেছে হয়তো!জাওয়াদ নাম ছেলেটার।আদ্রিনের অফিসে কাজ করে।মাঝেমাঝে তৃপ্তির বাসায় এটাসেটা নিয়ে আসে,আদ্রিনের হুকুমে।

আলেয়া আদ্রিনকে দেখতে পেয়ে চিল্লিয়ে ডাকতে গেলে,তৃপ্তি মুখ চেপে ধরে তার,

--"উনি আসলেই বিপদ।তোর না ট্রিট লাগবে?উনি দেখতে পেলে সময় কমিয়ে দিবে।বেরুনোর জন্যে তাড়াহুড়ো করবে।তুই আর ট্রিট পাবি না শান্তি মতে।"

খাওয়ার লোভে আলেয়া চুপ করে যায়। দাঁত কেলিয়ে হাসে।অতঃপর দুইজন সাবধানে রেস্তোরায় ঢুকে পড়ে।

বেশকিছু খাবার টেবিলের রাখে।গরম থেকে এসির ভেতরে এসে তৃপ্তির যতো শান্তি। সে খাবার মুখে পুরে আলেয়ার সাথে খোশগল্পে মেতে উঠলো।অযত্নে পড়ে থাকা মুঠোফোন ব্যাগের ভেতরেই বাজতে থাকলো নিঃশব্দে।ক্লাস থেকে বেরিয়ে মেয়েটা আর ফোনের রিংটোন সচল করেনি।আলেয়া মেয়েটাও একই কাজ করে বসে আছে।

অথচ,তৃপ্তির কাকাতো ভাইয়ের অর্ধশত ফোনকল,বাড়ি থেকে ফোনকল,আদ্রিনের ফোনকল কারো ফোনই তার নজরে এলো না তৃপ্তির।নজরে এলো না আলিয়ারও।

প্রায় এক ঘন্টা পর বেরিয়ে যায় তারা।আলেয়াকে বিদায় জানিয়ে সম্মুখে হাঁটে তৃপ্তি। তখনই মনে পড়ে আদ্রিনের কথা।রোদটা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো যেনো।মাথার পীড়া একপাশে রেখে ব্যাগ হতে মোবাইল বের করে সে। স্ক্রিনে আলো জ্বললে,এতো এতো ফোনকল দেখে চিন্তার সূক্ষ্ম ঘাম বেয়ে পড়লো তার কপাল ঘেঁষে।অধর জোড়া কেঁপে উঠলো আপনা আপনি।শেষবার কল দিয়েছে আদ্রিন।মিনিট চার আগে।হলো কি?সবাই এইভাবে সমানতালে ফোন দিয়েছে কেনো?আতংকে হাতজোড়া অবশ হয়ে যায়।মোবাইলের ভারটাও যেনো অসহ্যকর।

হতদন্ত হয়ে আদ্রিনের কললিস্ট এড়িয়ে কাকাতো ভাইকে ফোন দিতেই সম্মুখে ভিড় করে এক মানব।যার লম্বা অবয়বের ছায়া তৃপ্তির মুখে সূর্যের আলো পড়তে বাঁধা দিচ্ছে।

মাথা তুলতেই আদ্রিনের এলোমেলো রূপ দেখে চমকায় তৃপ্তি।গায়ের শার্টটা কেমন ভিজে আছে ঘামে।ছেলেটার মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।রাগী আঁখিদ্বয়ে কেমন ক্ষোভ নাকি চিন্তা বুঝতে পারলো না সে।এরই মধ্যে আদ্রিনের পেছন হতে জাওয়াদ ছেলেটা দৌড়ে আসে কোথা থেকে।ঝুঁকে হাঁটুতে হাত রেখে হাঁপানো অবস্থায় বলে,

--"স্যার, ম্যামকে পাচ্ছি না।সিসিটিভি দেখে এসেছি।ম্যাম অনেক আগেই বেরিয়েছে।আমাদের উচিত আশে পাশের দোকান..."

আদ্রিন তাকে থামিয়ে বলে,

--"পেয়েছি আমি।অফিসে যাও তুমি।"

হাঁটু থেকে হাত উঠে সোজা হতেই ভীত তৃপ্তিকে দেখতে পায় জাওয়াদ।অতঃপর কিছু না বলেই কেটে পড়ে।তার স্যার আজ বেজায় রেগে।

--"কোথায় ছিলে?ফোন না তুললে ফোন ব্যবহার করো কেনো?"

শান্ত কিন্তু ছুরির মতো ধারালো শোনাচ্ছে আদ্রিনের কণ্ঠ।তৃপ্তি ভয় পেলেও প্রকাশ করে না।শীতল চোখে চেয়ে রয় রাগী মানুষটার পানে।

তার কাঁধ চেপে ধরে আদ্রিন এইবার নিজের রাগ সংবরণ করলো না।নিচু স্বরে ধমকে উঠলো,

--"উত্তর দিচ্ছো না কেনো?"

--"এটা রাস্তা।সিন ক্রিয়েট করবেন না।"

তৃপ্তির কাঁধ ছেড়ে আদ্রিন তার হাত চেপে বিনা বাক্যে সামনে এগুচ্ছে।অযথা তৃপ্তি প্রশ্ন করছে।আদ্রিন উত্তর দেয়নি একটাও।গাড়িতে গিয়ে বসে।তৃপ্তিও বসে নানান প্রশ্ন করে আদ্রিনকে।তবে, পূর্বের ন্যায় আবারো আদ্রিন উত্তর দিচ্ছে না দেখে তৃপ্তি মোবাইল বের করলো অর্ককে ফোন দেওয়ার উদ্দেশ্যে।সেই মুহূর্তে আদ্রিন বাম হাতে ফোন টেনে নেয়,

--"গিয়েই দেখো।তোমার কান্না কাটি আমার সহ্য হয় না।"

আরো ভয় ঢুকে যায় তৃপ্তির।সব গম্ভীর্যতা ভুলে আদ্রিনের বাহু আকড়ে ধরে,

--"কি হয়েছে বলুন না।"

--"মিস্টার অরিত্রনের এক্সিডেন্ট হয়েছে।হাসপাতালে আছেন।"

বাহু ছেড়ে দেয় সে আদ্রিনের।দুহাতে ঠোঁট চেপে ধরে।ফুপিয়ে কেঁদে উঠে মুহূর্তেই।চোখে ভাসতে থাকে আজ সকালের দৃশ্য।তার বাবা জোর করে আদর মেখে পুরি আর ডাল খাইয়েছে।তখন তো বাবা ঠিক ছিলো।তাহলে?কিভাবে কি হলো?

আদ্রিন তৃপ্তির মুখ থেকে হাত সরিয়ে দেয়।হাতের তালুতে অধর ছুঁয়ে বলে,

--"কাঁদে না।ভালো হয়ে যাবেন উনি।"

--"কি..কিভাবে হয়েছে?"

কান্নার রোল বাড়ে।

--"মেহেবুবা!কান্না করবে না।বললাম উনি ভালো আছে। হাতে,পায়ে একটু ব্যাথা পেয়েছে।"

আদ্রিন নরম সুরে বলতে চেয়েও ব্যাপারটা যেনো কঠোর শোনালো।

--"আপনি কি রেগে?"

নাক টেনে জিজ্ঞেস করে তৃপ্তি।

--"তা আর বলতে।তোমার বাবা ব্যথা পেয়ে মেয়ের বিয়ে পেছাতে তর্ক করছে।অদ্ভুত।"

--"মানে?"

তৃপ্তি গালের পানি মুছে।আদ্রিন গাড়ির এসির পাওয়ার কমায়।তৃপ্তিকে আলগোছে নিজের দিকে ধাবিত করে।ভঙ্গুর মেয়েটা নেতিয়ে যায়,মাথা রাখে আদ্রিনের কাঁধে।

আদ্রিন উত্তর দেওয়ার আগে তার ফোন বেজে উঠে।গাড়ির ডিভাইসের সাথে ফোন কানেক্ট থাকায় তৃপ্তিও ফোনের বিপরীতে থাকা মানুষটার কথা শুনতে পায়।অর্ক ফোন করেছে।তৃপ্তির ব্যাপারে খোঁজ নিলে আদ্রিন বলে,

--"তোর বোনকে পেয়েছি। রোদে রোদে দৌড়িয়েছে আমাকে, এই আরকি।"

অর্কের হাসির শব্দ শোনা যায়।দুই বন্ধু অতীতের স্মৃতি স্মরণ করে পূর্বের মতো এক হয়েছে প্রথম সাক্ষাতেই।

--"কাকার চেয়েও মেয়েটার চিন্তায় আমি অস্থির হচ্ছিলাম।কাকা খুঁজছে ওকে।নিয়ে আয়।"

অর্ক কথাটা বলতেই হাসি থামে আদ্রিনের,

--"তোর কাকা এখনো প্রলাপ করছেন?বিয়ে পেছানোর ব্যাপারে?"

--"এই অল্প সল্প আরকি।"

অর্কের চাপা কণ্ঠ।

--"ভাবছি,তোর বোনকে নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করবো।এছাড়া গতি নেই।"

আদ্রিন কথাটা বলতেই তৃপ্তি উঠতে চায় তার কাঁধ হতে।কিন্তু পারে না।এর পূর্বে আদ্রিন তার হাত দ্বারা আটকে নেয় তাকে।এক হাতে গাড়ি চালাতে বেশ দক্ষ আদ্রিন।

--"ভাই,এইসব করিস না।হাসপাতালে আয়।"

--"আসছি।"

আদ্রিন ফোন রাখতেই তৃপ্তি অনেক কিছু বলতে চেয়েও পারলো না।গলায় কথা আটকে যাচ্ছে।ভালো লাগছে না তার কিছুই।বাবার কথাটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

৬১.

হাসপাতালের পরিবেশ সর্বকালের মতো গুমোট।কেমন হাহাকার সবদিকে।তৃপ্তি নিষ্পলক হেঁটে যাচ্ছে।আদ্রিন তার সামনে।পাশের কিছু লোকজন লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় তৃপ্তি দৌড়ে আদ্রিনের শার্ট মুচড়ে ধরে।আহাজারি তার সহ্য হয় না মা মরার পর হতে।আদ্রিন বুঝতে পেরে তাকে সামনে হাঁটার নির্দেশনা দেয়।পেছন হতে সেও প্রেয়সীর হাতের মুঠোয় নিজের হাত গুঁজে।দুই তলায় যেতেই লিফট থামে।দূর হতে ইনায়া আসছে।চোখে সানগ্লাস।এই হাসপাতালের ভেতরেই।মহিলার ঢং আছে বেশ!

তৃপ্তি মিনমিনিয়ে বলে,

--"আন্টি এসেছেন?"

--"হুঁ।আমার জন্যে অপেক্ষা করছিলো।"

আদ্রিনের কথা শেষ,ইনায়াও ভেতরে আসলো।তৃপ্তি সালাম দিলে ইনায়া মাথা নাড়ায় কেবল।

আদ্রিন তৃপ্তির পিঠে হাত ঠেকে তাকে একপাশে নিয়ে যায়।ইনায়া এবং তৃপ্তির মাঝে সে'ই দাঁড়িয়ে পড়ে।

কেবিনের সম্মুখে সকল আত্মীয় স্বজন।সকলের সাথে সাক্ষাৎ করা অবস্থায় কান্নায় ভেঙে পড়ে তৃপ্তি।সচরাচর বাবার কিছু হোক,এটা কোনো মেয়েই চায় না।গলাটা কেমন করছে তার।চামেলী এসে তৃপ্তিকে ভেতরে নিয়ে যায়।আদ্রিন আর তার মাকেও আসার অনুরোধ করে মহিলা।সকলে ভেতরে গেলে তৃপ্তি তার বাবাকে দেখে জড়িয়ে ধরে আলগোছে।তার বাবা হাসে মেয়ের ভালোবাসায়।এমন ভালোবাসার জন্যে কতো বছর অপেক্ষা করেছে এই লোক!আজ যেনো ব্যথা পেয়েও শান্তি পাচ্ছে সে।ব্যান্ডেজ লাগানো হাতে সে তৃপ্তির মাথায় হাত রাখে,

--"ঠিক আছি মা।"

--"কই ঠিক আছো?এইযে ব্যান্ডেজ সব!"

তৃপ্তির কান্নারত সুর।

--"প্রিয় আসছে শুনলাম,তৃপ।এইভাবে কান্না করলে সেও ভয় পাবে।বাচ্চাটার জন্যে হলেও সামলাও নিজেকে।"

আদ্রিন নিজের নির্দেশনা শেষে পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়ায়।তৃপ্তি নিজেকে সামলিয়ে নিলেও বাবার ব্যান্ডেজে মোড়ানো হাত পা দেখে সামলাতে পারছে না নিজেকে।তাও কান্না সংবরণ করছে সে।

ইনায়া টুকটাক কথা সারলো।বিদায়বেলায় অরিত্রন অনুরোধ করে বলে,

--"আমার মেয়েটাকে এই মাসের শেষে উঠিয়ে দিতে চাচ্ছি।আগামী সপ্তাহে না হোক..."

--"কি বলছেন এইসব?আমার ছেলে আপনাদের জন্যে সব করেছে।আর আপনি!"

ইনায়া তার অন্য ক্ষোভটা যেনো প্রকাশ করলো।আদ্রিন হাত মুঠ করে নেয়।তৃপ্তি নিশ্চুপ বসে।মেয়েটার কি কিছু বলার নেই?আদ্রিন তার মাকে থামতে বলে,

--"আমার মিটিং আছে আম্মি।চলো যাই।আসছি আমরা।"

তার কথায় জেদ স্পষ্ট।

অরিত্রন চেয়ে রয় কেবল।কি করবে সে?অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটার বিয়ের দায়িত্ত্ব পালনে যে হেরফের হবে তা সুনিশ্চিত।মেয়েটার মুখটা মলিন। সে কি ঠিক করেনি কথাটা বলে?

আদ্রিন তার মাকে নিয়ে বেরুচ্ছে।চামেলী তৃপ্তিকে আদ্রিনদের বিদায় জানাতে আহ্বান জানায়।তৃপ্তি উঠে।আদ্রিন,ইনায়া দ্রুত হাঁটছে।তৃপ্তি বেশ চিল্লিয়ে বলে,

--"রাতে আসবেন?"

তৃপ্তি একটু দূরে।ইনায়া,আদ্রিন পেছন ফিরে।তৃপ্তিকে দেখতে পেয়ে আদ্রিন এগিয়ে আসে।দূরে দাঁড়ানো ইনায়া।

--"এসে কি হবে?তোমার বাবা বিয়ে দিবে আগামী সপ্তাহে?দিলে আসবো।"

আদ্রিনের কথায় ভীত চোখে চায় তৃপ্তি,

--"এমন করছেন কেনো।বাবার কষ্ট হচ্ছে তাই বলেছে এমন।"

--"আমার কষ্ট হয় না?কেবল উপরের ব্যথায় সব?মনের ব্যথা নেই?"

মানবটা বেজায় অভিমান করেছে।রাগী হলেও বেশ আদুরে দেখাচ্ছে এই মানবকে।হাসি এলো অধরে।কিন্তু,হাসলো না তৃপ্তি।হাসলে নিশ্চয় এই ছেলের আর দেখা পাওয়া যাবে না।

তৃপ্তিকে চুপ থাকতে দেখে আদ্রিন কিঞ্চিৎ ঝুঁকে তার কপালে আঙ্গুল দিয়ে খোঁচা মারে,

--"তোমার বাবা বারবার আমার সাথে বেইমানি করছে।কিছু করছি না তাই?কিছু করলে সহ্য হবে তার মেয়ের?"

--"এমন রাগছেন কেনো?বাবা সত্যিই কষ্টে আছে।"

মুখভঙ্গি পরিবর্তন হয় আদ্রিনের।মনে মনে অন্য সিদ্ধান্ত নিলেও প্রকাশ করলো না।অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা মেয়েটাকে আরো শায়েস্তা করতে তার গালে বৃদ্ধাঙ্গুল বুলিয়ে প্রশ্ন করে,

--"হ্যাঁ,সবার কষ্ট;কষ্ট।আর আমার কষ্ট কিছুই না?তোমার বাবা তোমার জন্যে কষ্ট পাচ্ছে স্নেহের।আর আমি কষ্ট পাচ্ছি আমার জানকে আমার সাথে মিশিয়ে নেওয়ার অভাবে।তোমার বাবার অন্তর আছে।আমার নেই?আমার কষ্ট লাগে না?"

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন