#অতৃপ্তির_মাঝে_তৃপ্তিময়_সে
#লেখিকা- সালসাবিল সারা
পর্ব-৩৫
_____________
৭৬.
--"শেষ খবর হলো,কালপ্রিট আপনার পরিবারের একজন,আদ্রিন স্যার।"
এমন বার্তা দেখে থমকে যায় আদ্রিন।সে এমনটা আশা করেনি।যতটুক ভেবেছিলো, তৃপ্তির পরিবারের গোপন কেউ এই ঘটনার সাথে জড়িত।নাস্তাটা যেনো গলায় আটকে যায়।দ্রুত পানি খায় সে।নিজ পরিবারের কে এমন জঘন্য কাজটা করতে পারে!তৃপ্তি মেয়েটা মিশুক।বিয়ের পর থেকে তার সম্পর্ক পরিবারের সাথে বড্ড মধুর।পরিবারের সবাই আবার তৃপ্তির প্রতি বেশ যত্নশীল।তাহলে কি হলো!কে দায়ী এইসবে?
ভাবুক হয় আদ্রিন।মাথার পেছনে সূক্ষ্ম পীড়া।
আপনজনদের মাঝে কাকে বা সন্দেহ করবে?তৃপ্তিকে জিজ্ঞাসা করা দরকার।কেউ কি মেয়েটার সাথে তার আড়ালে খারাপ ব্যবহার করছে?
নাস্তা প্লেটে বিদ্যমান।আদ্রিন নানান কিছুতে ভাবতে থাকে।তৃপ্তি কফির মগ হাতে ডাইনিং রুমে আসে। সকালে লোকটা তাড়া দিলো জলদি নাস্তা দিতে।অথচ এখনো নাস্তার রূপ পরিবর্তন হয়েছে অল্প।তৃপ্তি কফির মগ রাখে টেবিলে।আদ্রিনের কাঁধ ছুঁয়ে বলে,
--"কি হলো?খাচ্ছেন না কেনো?"
আদ্রিন সম্বিত ফিরে পায়।তবে,তৃপ্তির কথা তার বোধগম্য হয়নি। সে প্রশ্ন করে,
--"কিছু বললে মেহেবুবা?"
তৃপ্তি অবাক হয়।লোকটা কি ভাবছে এতো!
--"বলছি,নাস্তা খাবেন না?সকালে আমাকে বলেছে জলদি নাস্তার ব্যবস্থা করতে।"
--"এইতো খাচ্ছি।"
কথাটা বললেও,আদ্রিন তৃপ্তির পানে চেয়ে রয়।মেয়েটার আঁচল কোমরে গুঁজে।হালকা ঘেমে আছে।কয়েকটা চুল কপালের ঘামে লেপ্টে।আদ্রিন তার হাত ধরে।কোলে বসাতে চায়।কিন্তু, তৃপ্তি ঠাঁই দাঁড়িয়ে,
--"বসার ঘরে,কিচেনে সার্ভেন্ট আছে।কি ভাববে উনারা!"
আদ্রিন হাসে।গলা হাঁকিয়ে ডাকে তাদের।অতঃপর নির্দেশ দেয় তাদের,তারা যেনো কিছুক্ষণের জন্যে লিভিংরুমে কাজ করে।এইদিকে না আসে।সবার মাথা নিচু। ডানে দোলে।পরপর হেঁটে যায় সকলে।
তৃপ্তি মাথায় হাত দেয়।অস্ফুট স্বরে বলে,
--"আপনি পাগল।"
--"আসো।"
হাত টেনে তৃপ্তিকে নিজ উরুর উপর বসায় আদ্রিন।বা হাত প্রেয়সীর উদরে স্থগিত। ডান হাতে সে নিজে নাস্তা মুখ তুলছে নিজের আবার তৃপ্তির।সুযোগ বুঝে আদ্রিন তৃপ্তিকে বলে,
--"বাসায় কেউ কি তোমার সাথে রুড ব্যবহার করে?আমি বাসায় না থাকলে তখন?"
হঠাৎ এই প্রশ্নে তৃপ্তি ঘাবড়ে যায়।মাঝে মাঝে দাদী একটু খোঁটা দিলেও,প্রবীণ মানুষের কথা গায়ে মাখে না তৃপ্তি।এই বয়সে মানুষ নিতান্তই বাচ্চার রূপ ধারণ করে।এছাড়া বাকি সবার সাথে ভালো সম্পর্ক তার।বাদ বাকি চাচাদের সাথে সেভাবে কথা হয়নি কখনো।
--"না তো।সবাই আমাকে ভালোই সময় দেয়।সবাই অনেক বেশি যত্ন করে আমার।"
তৃপ্তি নাস্তা চিবিয়ে বলে।
--"চাচারা বা চাচী কখনো বাজে ব্যবহার অর কিছু নিয়ে খারাপ হিন্ট দিয়েছে। আম্মি কিছু বলেছে?"(অর অর্থ অথবা)
কফির কাপে চুমুক দেয় আদ্রিন।
তৃপ্তি আদ্রিনের পানে ফিরে বসে।গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে।লোকটা আজ বেশি প্রশ্ন করছে না! তাও আবার নিজ পরিবারের মানুষদের নিয়ে।
--"আরে,বললাম না সবাই আমাকে দেখতে পারে! নিজ পরিবারকে কেউ সন্দেহ করে?"
ভ্রু যুগল উচুঁ করে উত্তরের আশায় তৃপ্তি।আদ্রিন সরাসরি তাকালে দৃষ্টি নামায়।লোকটার দৃষ্টি বড্ড মোহনীয়।বুকে উথাল পাথাল হয় তৃপ্তির।বিয়ের এতো সময় বাদেও লোকটার দৃষ্টিতে ছারখার হয় তৃপ্তির দেহ,মন,অন্তর।
আদ্রিন দু আঙুলের সাহায্যে তৃপ্তির গাল চেপে।মোলায়েম সুরে বলে,
--"তোমার আর আমার মাঝে যে ক্ষতি করতে চেয়েছে সে আমাদের পরিবারের একজন।দুইদিন তোমাকে ওই বাড়িতে রাখিনি কি এমনি এমনি?ইনভেস্টিগেশন চলছিল।আজকে প্রধান খবর পেয়েছি।"
--"মানে?"
তৃপ্তির অবাকের অন্ত নেই। কে করেছে এমনটা!এটা মিথ্যে সংবাদ নিঃসন্দেহে।
--"মানে কিছু না। আম্মি করেনি এটা শিউর।উল্টো আম্মি আমাকে বলেছিল সঠিক খবর না পাওয়া অব্দি তোমাকে এইখানে রাখার ব্যবস্থা করতে।"
আদ্রিনের বাক্য তৃপ্তির নিকট অবাস্তব ঠেকছে।
পরিবারের কেউ আবার একই পরিবারের সদস্যকে কষ্ট দিতে পারে!কিন্তু,কে করলো এমনটা?
তৃপ্তির চিন্তিত মুখশ্রী ঘাবড়ে দেয় আদ্রিনকে।তার আবার প্রেসার না লো হয়ে যায়!তাই আগ বাড়িয়ে তাড়া দেয় সে তৃপ্তিকে,
--"এইসব নিয়ে ভেবো না।আমি আছি।তুমি বাসায় থেকো।ভার্সিটি যাওয়ার দরকার নেই আজও।"
তৃপ্তির টনক নড়ে।ফাইনাল ইয়ারে উঠে ক্লাস মিস দিচ্ছে সে অহরহ।রেজাল্ট ভালো আসবে?
দ্বিমত করে সে আদ্রিনের কথায়,
--"আমার পড়ালেখার বারোটা বাজবে।আমি অনেক ক্লাস মিস দিয়েছি।আপনি দিয়ে আসুন।আবার নিয়েও আসবেন!"
--"কাজ আছে রে জান।নাহলে বলতে হতো না।এছাড়া যতক্ষণ না আসল দোষী কে, এটা বের করতে পারছি,ততক্ষণ আমার শান্তি হবে না।তুমি বাসায় থাকো।"
আদ্রিন অধর স্পর্শ করে তৃপ্তির মাথার পিছে।
--"আলেয়াকে নোট নিয়ে আসতে বলি?"
তৃপ্তি আদ্রিনের কোল হতে নামে।ছেলেটা এখনি বেরিয়ে যাবে।
--"হুঁ,বলো।আর রাতে খাবার খেয়ে যাবে আলেয়া।বাড়ির সকলে আর তোমার বাড়ির সবাই আজ এইখানে আসবে।"
আদ্রিন কোট জড়ায় গায়ে।
--"সত্যি!"
আবেগপ্লুত হয় তৃপ্তি।
আদ্রিন হাসে।তার ছটফটে রাণীকে জড়িয়ে ধরে।পিঠে হাত বুলায়।মেয়েটা অল্পতেই খুশি হয়।
--"হ্যাঁ,আসবে।রিয়ানা আপু আসবে একটু পরে।সেদিন তুমি অনুষ্ঠানে যেতে পারোনি আমার জন্যে।তাই আজ তোমার জন্যে একটা সারপ্রাইজ রাখলাম।"
--"আমি অনেক অনেক খুশি।"
তৃপ্তি আরো মিশে যায় আদ্রিনের সমেত।পরক্ষণে ফোন বেজে উঠলে আদ্রিন তৃপ্তিকে ছাড়ে।কানে ফোন ঠেকিয়ে মেয়েটার সত্তায় ভালোবাসাময় স্পর্শ দিয়ে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছে সে।
তৃপ্তি আড়ষ্ট ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে।মনটা তার সুখে ভাসছে।কতদিন পর সবাই একসাথে হবে!পরিবারের কেউ একজন তার ক্ষতি করতে চেয়েছে ব্যাপারটা তৃপ্তি ভুলেই গেলো।ঘরের সার্ভেন্টদের নিয়ে নানান কাজে লেগে পড়ে তৃপ্তি।
৭৭.
পরিবেশে শীতের আমেজ।অল্প ঠান্ডা অনুভব হয় এখন।পাঁচটা বিশ বাজতে না বাজতেই ধরণী কালচে হয়।বাহিরে ব্যাপক আলোয় ভরপুর কৃত্রিম লাইটের দরুণ।ছোটখাটো আয়োজন করা হয়েছে বাড়ির পেছনের দিকে।সুইমিং পুলের পাশেই সকল কিছুর প্রস্তুতি।রিয়ানা,তার শ্বশুর বাড়ির সকলেই উপস্থিত।আদ্রিনের মা, রাফি এবং চাচারা ব্যতীত বাকি সবাই এসেছে।তৃপ্তির বাড়ির লোক এখনো পৌঁছায়নি।
তৃপ্তি তৈরি হচ্ছে।আদ্রিনের জন্যে খয়েরী রঙের শার্ট বের করেছে সে।নিজের পরনের শাড়ির রংটাও খয়েরী।পারিবারিক অনুষ্ঠানে নিজেকে সাধারণ রাখলো সে।হালকা প্রসাধনীর পাশাপাশি নিজের কাঁধের নিচের পিঠ সমান চুল সমানতালে রেখেছে।কানে ছোট দুল পড়লো।আজকের অনুষ্ঠানের জন্যে সে বেজায় খুশি। সকলে আসবে বলে কথা! তৃপ্তির পিঠের উপর স্থায়ী চুলে চিরুনি চালিয়ে আলেয়া তাকে বলে,
--"শাড়িতে তোকে বেশি ভালো লাগে।"
তৃপ্তি হাসে।আয়নায় নিজেকে পরখ করে পুনরায় বলে,
--"তাই নাকি!"
আলেয়া মাথা নাড়ে,
--"অবশ্যই।আদ্রিন ভাই কই?উনি কবে আসবেন?"
--"উনি সারাজীবনের ব্যস্ত মানুষ।আসবে হয়তোবা একটু পরে।"
তৃপ্তি হাসিমুখে জবাব দেয়।
--"সারাদিনে ফোন দেয়নি?"
আলেয়ার প্রশ্নে তৃপ্তি আহত গলায় বলে,
--"না রে।উনি একটু ব্যস্ত থাকে অফিসে লসের পরপর।সুযোগ পেলেই ফোন দেয়।"
কথা শেষে তৃপ্তির মনে আসে সকালে বলা আদ্রিনের কথা।সে আলেয়ার হাত চেপে বলে,
--"জানিস দোস্ত,আমার সাথে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার সাথে উনার অফিসের লস এইসবের পিছে উনার বাড়ির কেউ একজন দায়ী।"
চমকে উঠে আলেয়া,
--"কি বলিস?"
--"হুম,উনি এইসবে খুবই চিন্তিত।"
তৃপ্তি আবারও জবাব দেয়।
--"ভাইয়ার ফ্যামিলি আসলে অনেক স্ট্রং।তোর ঐ শ্বশুর বাড়িতে একবার গিয়েই আমি বুঝেছি।সেই বাড়ির চেয়ে এই বাড়ি ঢের ভালো।"
আলেয়া ভীত।
--"আগে পরে আদ্রিন এবং আম্মি এইখানেই চলে আসবেন।এটা আদ্রিনের একার বাড়ি।উনার আব্বুর দেওয়া।"
--"ভালো হবে বেশ।"
আলেয়া মুচকি হাসে।
.
পরিপাটি হয়ে তৃপ্তি নিচে নামে আলেয়া সমেত।ঘরের ভেতরেও আজ সুন্দর করে সাজানো রঙিন লাইটের বাহারে।ঘরের পেছনের দিকে যেতেই একে একে সকল তার দৃষ্টিতে অবলোকন হয়। মেতে উঠে সে সকলের সাথে।সাফা নাছোড়বান্দা। তৃপ্তির কোলে উঠে বসে রইলো।নামার নাম নেই।এইদিকে তৃপ্তি হাঁসফাঁস করলেও কিছু বললো না।আদুরে বাচ্চাটার বায়না সহজে ফেলা যায়!খানিক বাদে তৃপ্তির পরিবারের সবাই এলে সাফা নিজে তৃপ্তির কোল থেকে নামে। ছুটে যায় অন্যদিকে।
রাত আটটা, সবাই উপস্থিত হয়।তবে, রাফি,তার বাবা এবং চাচা,ইনায়া এখনো আসেনি।উনাদের ফোন করা হলে জানায় আসছে।রাফির ফোন বন্ধ।তার হদিস নেই।
হঠাৎ,তন্ময়কে দেখেই তৃপ্তি তার পানে ছুটে।ইতস্তত ভঙ্গিতে বলে,
--" আদ্রিন ফিরেছে?"
--"জ্বী, ম্যাম। স্যার বাসার ভেতরে গেলো আর আমি এইখানে আসলাম।"
তন্ময় জবাব দেয়।
--"অফিসে গন্ডগোল হয়নি তো!"
তৃপ্তির প্রশ্নে তন্ময়ের চেহারায় তিমির ছেয়ে গেলেও তন্ময় শক্ত রাখে নিজেকে,
--"কিছু হয়নি ম্যাম।"
--"ঠিক আছে।"
তৃপ্তি এলোমেলো পায়ে এগিয়ে যায়।কিছু একটা হয়েছে যেটা তন্ময় বলছে না।আদ্রিন আসুক তাকেই জিজ্ঞাসা করবে তৃপ্তি।
কিয়ৎপল কাটে।আদ্রিন আসে।মাথার চুল এখনো ভেজা।উচুঁ চুলগুলো পেছনের দিকে হেলিয়ে আছে।বুকের উপর দুইটা বোতাম খোলা।হাতের ফুল স্লিভ বোতামে আটকে। খেয়ালী হয়ে হাঁটছে সে।আলাপ সারছে।নজর তার ঘুর্ণিয়মান।তৃপ্তিকে খুঁজছে বুঝি!তৃপ্তি আলগোছে হাসে।লোকটাকে দেখে।আকর্ষিত করছে তাকে লোকটার সত্তা।তাদের ভালোবাসার মুহূর্তটুকু আঁখিতে ভাসমান হয় আনমনে।শরীরে অদ্ভুত উষ্ণভাব অনুভব করে তৃপ্তি।
লাজে আবৃত হয় আচমকা।
আদ্রিনের নজরে তার নজর মিললে আদ্রিন দ্রুত এগিয়ে আসে তৃপ্তির পানে।তার সম্মুখে বিদ্যমান চুল কানের পিছে গুঁজে বলে,
--"হাইড অ্যান্ড সিক খেলবে?"
তৃপ্তি মাথা নাড়ায়।
--"কেনো না?"
আদ্রিনের চোখে মাদকতা।ডুবে যায় তৃপ্তি।তার গালে বৃদ্ধাঙ্গুল ছুঁতেই তৃপ্তি অস্ফুট শব্দ করে,
--"আরে,বাড়ির সবাই আছে।"
--"কিছু করেছি আমি?"
আঁখি জোড়া ছোট করে তাকায় আদ্রিন।
--"গালে হাত দিচ্ছেন!সবাই দেখলে কি ভাববে?সাফা তাকিয়ে আছে।"
আদ্রিন ঘাড় বাঁকিয়ে পেছনে ফিরে।ছোট সাফা চেয়ারে বসে তাদের পানে তাকিয়ে।আদ্রিন তাকে হাতের ইশারায় ডাকে।সাফা মাথা দুলিয়ে আসতে থাকে।কাছাকাছি এলে আদ্রিন নিজেই কোলে তুলে নেয় সাফাকে,
--"তোমার মামী সুন্দর অনেক,তাই না?"
--"এত্তগুলো সুন্দর মামী।"
সাফা হাতের ইশারায় পরিমাণ বুঝায়।
--"তোমার মামা পঁচা তাই না সাফা?"
তৃপ্তি দুষ্টুমির আশায় বলে।
ছোট সাফা মাথা নাড়ায়। অতঃপর তিনজন হাসে।
তৃপ্তি হঠাৎই আদ্রিনের বাহুতে হাত রেখে শুধায়,
--"ক্লান্ত অনেক?"
--"উহুম।"
আদ্রিন ব্যস্ত সাফাকে নিয়ে।
--"অফিসে কিছু হয়েছে?"
--"নাহ রে বাবা।এতো চিন্তা করছো কেনো?"
তৃপ্তি নিজ গাল ঠেকায় আদ্রিনের বাহুতে,
--"জানিনা।ভয় করে অনেক।"
আদ্রিন এক হাতে সাফাকে স্থির ধরে অন্য হাতে নিজ বউয়ের কাঁধ আগলিয়ে নেয়। তৃপ্তি সরতে চেয়েও সরলো না।অজানা আশঙ্কায় তার মন কাঁদে।
--"ভয় পেও না,জান।আমি তোমার সব ভয়ের বিপক্ষে আছি।"
তৃপ্তি মাথা দোলায়।মনটা তার অশান্ত।কিছু অঘটন কি ঘটবে?লোকটার জন্যে ব্যাপক চিন্তা হয় তৃপ্তির।
তৃপ্তির মন খারাপ লক্ষ্য করে আদ্রিন সাফাকে বলে উঠে,
--"সাফা আকাশে এটা কি দেখা যায়?"
--"চাঁদ।"
সাফা জবাব দেয়।
--"ঐ চাঁদ সবার আর আমার পাশের চাঁদ শুধু আদ্রিনের।"
সাফা না বুঝলেও তৃপ্তি বুঝে। ঘাড় তুলে আদ্রিনের পানে তাকালেই সে অধর চৌখা করে চুমুর ইশারা করে।তৃপ্তি "ধেত" বলেই সরে যায়।
যেতে যেতে আদ্রিনকে শুনিয়ে যায়,
--"যখন তখন এইসব!মানুষ দেখে না?"
মেয়েটাকে হুটহাট রাগিয়ে শান্তি পায় আদ্রিন।তার এই মানিকটা বড্ড দামী তার জীবনে।আদ্রিনের অস্তিত্ব অনুষ্ঠানে থাকলেও তার দৃষ্টি কেবল তার প্রেয়সীর উপরেই সীমাবদ্ধ।
দূর হতেও মেয়েটাকে সে নজরে রেখেছে।সিগারেটের টানের সাথে তন্ময়ের নিকট আলাপে মগ্ন আদ্রিন।রাতে সীনু ভিডিও ক্লিপ পাঠাবে।
এরই মাঝে রাফি আসে।তাকে অপ্রস্তুত দেখাচ্ছে।আদ্রিনকে দেখে সরাসরি সে আদ্রিনের নিকট যায়।কানে কানে কিছু বলে।
তার পায়ের নিচ হতে মাটি সরে মুহূর্তেই।মিনিট এক বাদে খেয়াল করে লাল ডটের চিহ্ন।বুকটা আলোড়ন সৃষ্টি করে। ডটের চিহ্ন শিকার খুঁজছে।মস্তিষ্কে ভাটা পড়েছে আদ্রিনের।বুকে ব্যথা হয়।পায়ের গতি অটোমেটিক তৃপ্তির পানে ছুটে।
মনটা চিৎকার করে উঠে তার,
--"আমার মেহেবুবাকে হারালে আমি বাঁচবো না!"
চলবে........