ফন্ট সাইজ:
থিম:
ক্রাশ কনফেশন

৮ম পর্ব

লেখক: আফিয়া আপ্পিতা

ক্রাশ কনফেশন

লেখাঃ আফিয়া আপ্পিতা

পর্ব-৮

দৌড় প্রতিযোগিতার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে আমি আমার রুমে গিয়ে দরজা আটকে দিলাম। পিছন পিছন আসলো সবাই। আমি দরজা আটকে দরজার সাথে ঠেস দিয়ে বসে হাফাচ্ছি। দরজায় অনবরত নক হচ্ছে। বাবা মা অনবরত কাঠের দরজাটায় বাড়ি দিয়ে দরজা খুলতে বলছে। আভান দরজায় বাড়ি দিয়ে বলছে,

"আপি আপি দরজা খুলো দেখো মেহেমানরা আসার সময় কত গুলো নিয়াজ খালু শাল এনেছে। আসো জুস বানিয়ে খাবো। খুব ইয়াম্মি হবে।"

আভানের কথায় আমি হাফানো ভুলে গেলাম। কী বলে ছেলেটা! কিসের জুস বানিয়ে খাবে! নিয়াজ খালুর শালের জুস! লাইক সিরিয়াসলি! এগুলো কিসের নাম? পাত্রপক্ষের চিন্তা বাদ দিয়ে আমি নিয়াজ খালুর শালের রহস্য উদঘাটন করতে নেমে গেলাম। প্রথমে ভাবলাম আমার খালুর গায়ের দেয়া শালের কথা বলছে আভান। শাল মানে চাদর,শীতে পরে যে মোটা চাদর। ওই চাদর তো শীত নিবারনের জন্য গায়ে দেয়। তবে জুস খায় কিভাবে! চাদরটাকে কুচি কুচি করে কেটে পানি মিশিয়ে ব্ল্যান্ডার মেশিনের মাধ্যমে ব্ল্যান্ড করে তারপর চিনি গুলে শরবত বানিয়ে খায়? ইয়াক এটা কিভাবে খাওয়া যাবে? কাপড় কী খাওয়া যায়? প্রশ্নটা আওড়াতেই উত্তর এলো, কখনো তো খেয়ে দেখিনি। খেয়ে দেখলে বুঝতে পারতাম। অবুঝ মন সিদ্ধান্ত নিলো আজ কাপড় খেয়ে দেখবে। তবে যেই সেই কাপড় নয়, শীত নিবারক শাল খাবো। সারাদিন অসংখ্য চড় তারপর ঘুরানি এবং দৌড়ানি খেয়ে এখন চললাম চাদর খেতে। যত যাই হোক আজ এই শাল রহস্য বের করবোই করবো। এই ভেবেই কাভার্ডের দিকে পা বাড়ালাম। মিনিট পাঁচেক মহিষের শিং দিয়ে তৈরি চিরুনি নামের যে অভিযান আছে সেই অভিযান করে পাঙ্গাশ মাছের চামড়ার কালারের একটা চাদর খুঁজে পেলাম। হাফ ছেড়ে কাচি নিয়ে চাদর নিয়ে দরজার পাশে এসে বসলাম। চাদরের এক কোণায় কিছুটা অংশকে চতুর্ভুজাকৃতির ছোট ছোট করে কেটে নিলাম। কেটে মুখে পুরে চিবোতে লাগলাম। চুইংগামের মতো চিবোচ্ছি। নাহ কোন টেস্ট পাচ্ছি না। করলার মতো তিতাও না, চার আনা দামের লেভেন সোসের মতো মিষ্টি ও না। টেস্টটা যেন এলিয়েন এলিয়েন। মানুষ ও না আবার পশু ও না। তবে আমার মনে হয় চিনি দিয়ে গুলে খেলে ভালো লাগবে। চাইলে কেকাপ্পার রেসিপি ও করা যায়। নাম কি হবে? চাদর আর মুলার জুস, চাদরের মজাদার আচার, চাদর দিয়ে কচুর লতি, চাদর দিয়ে পটলের সন্দেশ, চাদর দিয়ে তিত করলার বার্গার। নাহ,এগুলো ভালো হবে না, তবে চাদরের টিকা ভালো হবে মনে হয়। মানে চাদরের টিক্কা আরকি।

চাদর খাওয়ার রহস্য উদঘাটন করলাম। আচ্ছা তারা চাদরের কি রেসিপি এনেছে? আভান বলেছে নিয়াজ খালুর শাল এনেছে জুস খাবে। তার মানে চাদর আস্ত এনেছে কেটে কেটে জুস বানাবে৷ ওহ আচ্ছা। এই কথা তাহলে? বড় একটা রহস্য উদঘাটন করতে পেরে যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে যাবো তখন কানে এলো মায়ের কথা। মা বলছে,

"আভান ভুল কথা বলো কেনো! ওগুলো নিয়াজ খালুর শাল নয়। ওগুলো পেঁয়াজ আলু আর তাল। মেহেমান এসবই এনেছে মেয়ে দেখতে আসার সময়। "

মায়ের কথা শুনে আমি ছক্কা মেরে অক্কা পেতে চাইলাম। কোথায় নিয়াজ খালির শাল আর কোথায় পেঁয়াজ আলু আর তাল! এই আভানটা না একটা কথাও ঠিক ভাবে বলতে পারে না। আমার রাগ হচ্ছে। ইচ্ছে করছে আভানকে মায়ের মাথার ভিতরের অবস্থিত পাগলাগারদের একমাত্র চিকিৎসা চড় থেরাপি দিই। ওর একটা ভুল কথার জন্য আমি কত চাদর খেয়ে নিলাম। ইয়াক! ভাবতেই রাগ লাগছে। আমার সেই রাগকে ভয়ে রূপান্তরিত করলো একটা শব্দ। তা হলো,"মায়ায়ায়ায়া"

আমি চমকে উঠলাম। ঘামতে শুরু করলাম। ভুলে যাওয়া সব কথা মনে পড়ে গেলো। বিড়বিড় করে বললাম,

"হিচামারা কোয়ালের হিচামারা জীবন।"

ধুরুম ধুরুম শব্দে দরজায় নক করলো কেউ। বলল,

"মা দরজা খুলুন। আমি আপনার হবু স্বামীর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সতিনের শ্বাশুড়ির একমাত্র ছেলের একমাত্র শ্যালকের একমাত্র বাবার একমাত্র স্ত্রীর একমাত্র মেয়ের একমাত্র ছেলে। দরজাটা খুলুন মা! আমি আপনাকে সালাম করবো। আমি হাত বাড়িয়ে আছি। আপনি দরজা খুলে পা বাড়িয়ে দিন। আমি আপনার পায়ের ধুলাবালি নিয়ে নিজেকে ধনিয়াপাতা আই মিন ধন্য করি। "

প্রদীপের বলা সম্পর্কের এই মারপ্যাঁচ শুনে আমার মাথা ঘুরাচ্ছে। আমি মাথায় হাত দিয়ে মাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,

"মা তোমার মাথার ভিতরে থাকা পাগলাগারদে আমার জন্য একটা সিট বুকিং দাও। আমার চিকিৎসা দরকার। আর হ্যাঁ বিলের চিন্তা করো না। বাংলা ছায়াছবির প্রডিউসারের সাথে কথা হয়েছে আমার। তারা আমাকে সাবানার ব্যবহার করে সেলাই মেশিন দিবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। আমি সেই সেলাই মেশিন দিয়ে সেলাই করে টাকার পাহাড় পর্বত টয়লেট বানিয়ে ফেলবো। সেখান থেকে তোমার বিল দিয়ে দিবো। "

অপাশ থেকে মায়ের গলা শুনা গেলো না। শুনা গেলো প্রদীপের গলা। সে দরজা নক করতে করতে বলছে,

"মা আপনি রুম থেকে বের হোন। বাবা বসার ঘরে অপেক্ষা করছেন। অনেক আশা ভরসা করে শেষ বয়সে আপনাকে বিয়ে করতে এসেছে। প্লিজ বাবাকে আশাহত করবেন না। বৃদ্ধ মানুষ হিসেবে দয়া করে হলেও বিয়ে করে নিন। মেয়েরা নাকি কুড়িতে বুড়ি সেই হিসেবে আপনি বাবার সমবয়সী। এই ভেবেই বিয়ে করে নিন। প্লিজ! আপনি শুধু একবার বিয়েটা করে নিন। তারপর দেখবেন সব কিছু হারপিক দিয়ে পরিস্কার করা টয়লেটের মতো পরিস্কার। আর হ্যাঁ, আজ বিয়ে হয়ে গেলে কাল আমি আপনাকে আর বাবাকে হানিমুনে পাঠাবো। আমি অলরেডি পাবনার হেমায়েতপুর পাগলাগারদে একমাসের প্যাকেজ বুক করে রেখেছি। এখন শুধু ইনজয় করবেন। পাশাপাশি আপনার চিকিৎসা ও করে নিতে পারবেন। এতসবের জন্য তো দরজা খুলতে হবে নাকি? প্লিজ দরজা খুলুন? নাহলে আমি নিজেকে দয়া ভেঙে দরজা ভাঙার চেষ্টা করবো। পারি না পারি সেটা আমার পার্সোনাল ম্যাটার। নাও ওপেন দ্যা ডোর।"

প্রদীপের লম্বা ভাষণ শুনে আমার মাথা ফ্যানের মতো ঘুরঘুর করে ঘুরাচ্ছে। কী বলে শেষ অব্দি হানিমুন কিনা পাগলাগারদে! তাও কিনা বাবার বয়সী একজনের সাথে! আল্লাহ রক্ষা করো। আমার কল্পনায় ভেসে উঠলো, আমি বধূ বেসে বসে মোবাইল হাতে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছি, গট ম্যারেজ উইথ মাই আংকেল টাইপ হাজবেন্ড। তখন বাবার বয়সী এক লোক বলে উঠলো, বউ? আমি বললাম, জ্বি আংকেল? তারপর তারপর....

নাহ আর ভাবতে পারছি না। আমার বাশ বাগানময় জীবন ভালো আছে। প্রদীপের বাবাকে বিয়ে করে বাঁশ বাগানে সার দেয়ার দরকার নেই। এখন আমি এই মা ডাক শুনতে পারছি এই বিয়ে হলে দিনে হাজার বার শুনতে হবে তখন আমি কী করবো। ও মা গো আমি জ্ঞান হারাবো। মরেই যাবো বাঁচাতে পারবে না কেউ। এর চেয়ে ভালো আমি পালাই। হ্যাঁ পালাবো আমি। প্রদীপ ইতিমধ্যে নিজেকে দয়া প্রমাণ করার কাজে লেগে পড়েছে। দরজা ভাঙার আগেই পালাই আমি। কিন্তু পালাবো কোথায়? কোথায় গেলে মিলবে মুক্তি এই প্রদীপ আর হারিকেন থেকে?

হুট করেই দিতিয়ার কথা মাথায় এলো। আমি উসাইনের মতো দৌড় লাগালাম। বারান্দায় গিয়ে ধুরুম ধুরুম করে পাশের বারান্দায় লাফ দিলাম। পাশের বারান্দায় গিয়ে পড়ে গেলাম। হাত চিলে রক্ত বের হচ্ছে। আমি হাতের দিকে তাকালাম। ওমা আমার রক্তের রংটা কী সুন্দর! একদম মরিচ লাল। এত সুন্দর রক্ত নিয়ে চলাচল করি বলে নিজেকে নিয়ে প্রাউড ফিল হচ্ছে। তবে এই রক্ত দেখে আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম, আমার রঙের সাথে ম্যাচিং করে একটা জামা বানাবো। কালারটা জোশ। কালার বুঝানোর জন্য এক সিরিঞ্জ রক্ত নিয়ে যাবো। তাহলে দোকানকদাররা বুঝতে পারবে আমি কোন কালারের কথা বলছি। যাই হোক, আগে এই বিয়ে নামক তিত করলার বার্গার খাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করি। তারপর বাকিসব দেখবো। এই ভেবেই ডানে বামে না তাকিয়ে দিতিয়ার রুমে চলে এলাম। দিতিয়া টিভি দেখছিলো আমি দিতিয়ার কাছে গিয়ে ধপ করে বসে বললাম,

"ওরে বইন আঁরে বাঁচা। আঁর উচে দুইন্নার বিপদ যার। কিত্তাম আই? হেগুনের কসসা বুঝাই আঁই বিয়া কইতান্নো। এই বিয়া করোনতুন লাডি দি টং করি মাতাত বাই দি মরি জন ভালা অইবো। ওরে বইন তুই আঁরে বাঁচা। তুই একদিন রাস্তাত্তে হিচলা খাই হোই যাইতি লাইগযোত আর আই হেসমে তোরে বাঁচাইছি যে হে উচুল্লায় ওইলেও বাঁচা। "

এক দমে কথা শেষ করে দিতিয়ার দিকে তাকালাম। দেখি দিতিয়া হা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি দিতিয়াকে ধাক্কা দিলাম। দিতিয়া খাট থেকে মেঝেতে পড়ে গেলো। সেখানে বসেও হা করে রইলো। আমি রেগে দাঁত কিড়মিড় করে তাকালাম দিতিয়ার দিকে। এতে দিতিয়ার হুশ হলো সে বলল,

"একে তো হুট করেই আসলি তারউপর কি সব বলছিস। যার মাথামুন্ডুর 'ম'টাও বুঝিনি আমি। প্লিজ তোর বিখ্যাত ভাষার অনুবাদ কর। "

অগত্যা আমি নেমে গেলাম অনুবাদে,

"ও বোন আমাকে বাঁচা। আমার উপরে দুনিয়ার বিপদ যাচ্ছে। কী করবো আমি? ওদের বল না বুঝিয়ে আমি বিয়ে করবো না। এই বিয়ে করা থেকে লাঠি দিয়ে টং করে মাথায় বাড়ি দিয়ে মরে যাওয়া ভালো। ওরে বোন তুই আমাকে বাঁচা। তুই একদিন রাস্তায় স্লিপ খেয়ে পড়ে যেতে ছিলি আর আমি তখন তোকে বাঁচিয়েছি যে সেই উসিলায় হলেও বাঁচা। "

আমার কথায় দিতিয়া ব্যাঙের মতো লাফাচ্ছে। আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম,

"এভাবে লাফাচ্ছিস কেনো?"

আমার কথার উত্তর না দিয়ে দিতিয়া খাতা কলম নিয়ে বসে গেলো। তারপর খাতায় লেখা শুরু করলো,

"ডাইনোসর - ১টা জাম্বুরা রঙের।

ভাল্লুক-১টা

বোয়াল মাছ একটা- গু কালারের।

ভূত ১টা মাটি রঙের....

আর লেখতে না দিয়ে আমি দিতিয়ার হাত থেকে খাতা চিনিয়ে নিলাম। রেগেমেগে বললাম,

"দিতুনীইইইই তোরে জ্বীনে ধইচ্ছেনি? কী অরোরে এগান? আঁর দুকখের কতা হুনি তোর মনে কি জ্বিনের চেব লাইগজেনি! এইচ্ছা কিল্লাই করোরে? কিয়া লেখোরে আবোলতাবোল এগান! আই এট্টে বিপদে হোই আইছি আঁরে সাহায্য নো করি কিয়া রং তামাশা লাগাই দিছত? আঁর মাতা গরম করিচ্ছা তাইলে তোরে জাম্বুরা বানানি দিমু।"

আমার কথা বুঝতে না পেরে দিতিয়া প্রশ্নবোধক চাহনি দিয়ে বলল,

"কী বললি তুই? গালি টালি দিলি নাকি? বেশি ভয়ংকর কিছু বলেছিস? সেই কথায় আমার ভীত হওয়া উচিত? আমি কি ভয় পাওয়ার ভান করবো? "

দিতিয়ার কথায় আমার রাগের পরিমাণ বেড়ে গেলো। ইচ্ছে করছে কানের কাছে কষে এক থাপ্পড় লাগাই। কিন্তু ইচ্ছে হলেও সেই ইচ্ছেটাকে প্রশ্রয় না দিয়ে অনুবাদে মন দিলাম। ওকে বুঝাতে চাই আমি ওর উপর রেগে ওকে হুমকি দিচ্ছি।

"দিতুনীইই তোকে কী জ্বীনে ধরছে? কী করছিস এসব? আমার দুঃখের কথা শুনে তোর মনে কী জ্বীনের থুথু লেগেছে? এমন কেনো করছিস? কী লেখছিস এসব আবোলতাবোল! আমি এখানে বিপদে পড়ে এসেছি আমাকে সাহায্য না করে কিসের রং তামাশা লাগিয়ে দিয়েছিস? আমার মাথা গরম করিস না তাহলে তোকে জাম্বুরার ভর্তা বানাবো।"

আমার কথা আর রাগি চেহারা দেখে দিতিয়া আমতা আমতা করতে করতে বলল,

"আসলে তোর বিয়ের কথা শুনে আমার খুব আনন্দ লাগছিলো তাই লাফাচ্ছিলাম। আর...

দিতিয়াকে থামিয়ে আমি খাতার দিকে ইশারা বললাম,

"আর এসব কি লিখেছিস? ডাইনোসর জাম্বুরা কালার,ভাল্লুক, বোয়াল মাছ,ভূত..এসবের মানে কী? কী মিন করছিস?"

দিতিয়া শান্ত গলায় বলল,

" আসলে আমি কাল টেডিবিয়ার স্টলে গিয়েছিলাম। সেখানে ডায়নোসর, বোয়াল মাছ,ভাল্লুক আর ভুতের টেডিবিয়ার দেখছিলাম। আমার খুব পছন্দ হয়েছিলো। নিবো বলেছিলাম কিন্তু মা কিনতে দেয়নি। তাই ভাবলাম টাকা জমিয়ে কিনবো।"

"তো এর সাথে আমার বিয়ের কী কানেকশন? "

ভ্রু কুঁচকে বললাম আমি। দিতিয়া বলল,

"তোর বিয়ের সময় তোর জামাইয়ের জুতা চুরি করে টাকা আদায় করে সেই টাকা থেকে এগুলো কিনবো ভেবেছিলাম। সেই ভেবেই লিস্ট করছি।"

আমি অবাক চোখে দিতিয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম। এই ধরনের ফাযিল বান্ধবী আমার মতো ভালো মেয়ের বন্ধুত্ব ডিজার্ব করে? করে না। এই মেয়ে তো আমার মৃত্যুর খবর শুনে কান্না না করে কুলখানির খাবারের মেন্যু ঠিক করতে বসে যাবে। নাহ,কোনভাবেই এই মেয়ে আমাকে ডিজার্ব করে না। ডিজার্ব তো প্রদীপের বাবাও করে না,তাও বাবা মা ডিজার্ব করাচ্ছে। ভেবে এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। এর মাঝে কলিংবেলের শব্দ কানে এলো আমার। ভাবনায় এলো প্রদীপ কাজি আর প্রদীপের বাবাকে নিয়ে এসেছে। তবে কি শেষ রক্ষা হবে না?

নায়ায়ায়া এ হতে পারে না। আমাকে আটকাতে হবে। কোনভাবেই। সেইভেবেই দিলাম আরেক ছুট। রুম থেকে বেরিয়ে দেখলাম দিতিয়ার মানে আন্টি দরজার দিকে এগুচ্ছে। আমি দ্রুতবেগে আন্টির সামনে৷ গিয়ে দাঁড়ালাম। আকস্মিক কান্না পেলো আমার। আন্টিকে জড়িয়ে ধরে বললাম,

"আন্টি দরজা খুলবেন না। আমি ওই লোককে বিয়ে করবো না। আমার লাইফটা নষ্ট হয়ে যাবে। আমি বাঁশ বাগানেই ঠিক আছি। আর বাঁশের প্রকল্প চাই না। প্লিজ! আন্টি আপনি আমাকে মেয়ে ভাবেন না? আমাকে দিতিয়া ভেবে আঁড়াল করুন। এই বিয়ে থেকে রক্ষা করুন! "

আন্টি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,

"তুই এই বিয়েটা আটকাতে চাস তো?"

আমি কাঁদতে কাঁদতে মাথা নাড়ালাম। আন্টি বললেন,

"তোর অমতে কে তোকে বিয়ে দিবে? তুই নিজ থেকে বিয়ে করবি বললেই বিয়ে দিবো আমরা। তুই এখানে নিশ্চিন্তে থাক। কেউ কিছু করবে না। আয় বস। পানি খা। নিজেকে রিল্যাক্স কর।"

আন্টির কথায় আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। যাক এবার বিয়েটা আটকালো বোধহয়। আন্টি আমাকে ধরে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসালেন। তারপর এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিলেন। আমি গ্লাস নিয়ে সব পানি খেয়ে নিলাম। আন্টি এবার একটা কাগজ আর কলম এগিয়ে দিয়ে বললেন,

"তুই যদি চাস আর কখনো কেউ তোকে বিয়ে নিয়ে প্রেশারাইজ না করুক। তবে এখানে সাইন করে দে। এরপর আর কেউ তোকে জোর করবে না।আর যদি না সাইন করিস তবে আমি দরজা খুলে দিবো তারপর তোকে তোর বাবা মায়ের হাতে তুলে দিব। "

বলে আন্টি আমার পাশের চেয়ারে বসলেন। আমি কোন মুক্তির পথ খুঁজে পেয়ে কোন কিছু না ভেবে কলম হাতে নিলাম। সাক্ষর করতে গিয়ে বুঝতে পারলাম আমি নিজের নামই ভুলে গেছি। তাই আন্টিকে বললাম,

"আন্টি আমার নাম কী?"

আন্টি ভ্রু কুঁচকে তাকালেন। আমি মিনমিনে গলায় বললাম,

"না মানে ভুলে গেছি।"

আন্টি হেসে বললেন,

"অভিহা বিনতে ফারুকী তোর নাম।"

ব্যাস নাম শুনতে দেরি আমার সাইন করতে দেরি নেই।

সাইন করে কাগজটা আন্টিকে দিলাম। আন্টি এক গাল হেসে আমাকে জড়িয়ে নিলেন। যেন আকাশে চাঁদ হাতে পেয়েছেন। তখনই আমার বাবার কন্ঠ কানে এলো,

"আশু সিনেমায় কী একটা ডায়ালগ আছে না এই মুহুর্তের? বলো তো?"

বাবার কন্ঠ শুনে আমি আঁতকে উঠলাম। তাকিয়ে দেখি রান্নাঘরের বাবা মা দুজনে দাঁড়িয়ে আছে। এতক্ষণ হয়তো লুকিয়ে ছিলেন। এবার কী হবে? ধরা পড়লাম আমি? এবার নিশ্চয়ই মা বাবা দুজনেই আমাকে চড় থেরাপি দিবে? আর আমাকে তা পানি দিয়ে গিলে খেতে হবে? কিন্তু আমার ভাবনাকে ভুল প্রমাণিত করে মা এগিয়ে এসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,

"দেখতে দেখতে আমার ছোট্ট মেয়েটা কত বড় হয়ে গেলো। দেখো আজ তার বিয়েও হয়ে গেলো। ভাবতেই কেমন লাগছে।এটাই ডায়ালগ ছিলো না?"

বাবার হেসে মাথা নাড়ালেন। আমি অসহায় চোখে আন্টির দিকে তাকালাম। আন্টি মাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

"মেয়েটাকে আর ভয় দেখাবেন না ভাবি। এখন তার বিয়ে হয়ে গেছে। সেটা মাথায় রাখুন। আর ওকে ওর স্বামীর কাছে নিয়ে গিয়ে চার হাত এক করে দিন।"

আন্টির কথায় আমি অবাক হয়ে তাকালাম । আন্টি হেসে বললেন,"কিছু বুঝতে পারছো না তাই তো?"আমি মাথা নাড়ালাম। আন্টি আমার সামনে সাইন করা কাগজটা এগিয়ে দিয়ে বললেন,

"মন দিয়ে পড়ো বুঝতে পারবে।"

আমি কাগজটায় চোখ বুলিয়ে আকাশ থেকে পড়লাম। আমাকে ভুলিয়ে বালিয়ে কাবিননামায় সাক্ষর করিয়েছে আন্টি। শেষ রক্ষা হলো না তবে! বিপদ আমাকে গ্রাস করে নিলো। কানে বাজছে যেই ভয়ংকর শব্দ। কিভাবে পারলো সবাই এমনটা করতে? উত্তর খুঁজতে আমি মা বাবা আন্টির দিকে তাকালাম। দেখলাম সবার মুখে বিশ্বজয়ের হাসি। আমার মাথা ঘুরাচ্ছে। তখন আভান এসে বলল,

"আপি বাদি কা বাদ্দু সাওগি তেয়া?"

আমি বিড়বিড় করে বললাম,"তুই ভুল বলছিস আভান। ওটা হবে, 'শাদী কা লাড্ডু খাওগি কেয়া'। আর শুন,ওই লাড্ডু নামক খাদ্য থেকে চড়, কুকুরের তাড়ানি, ধাক্কা,বাঁশ নামক খাদ্য ভালো ছিলো। অন্তত হজম হয়েছে। এই শাদী আর শাদী নামক লাড্ডু হজম হবে না আমার। আমি জ্ঞান হারাবো। মরেই যাবো। বাঁচাতে পারবেনা কেউ।" বলে জ্ঞান হারালাম।

*ব্যস্ততার কারণে রি-চেইক দেয়া হয় নি। তাই শাব্দিক ভুল থাকতে পারে। আসলে বইয়ের কাজে ব্যস্ত আছি তাই বেশি সময় দিতে পারছিনা। আশা করি সবাই বুঝতে পারবেন। আর গল্প পড়ে অভিহার বর কে গা গেস করুন এবং গঠনমূলক কমেন্ট করুন।

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন