ফন্ট সাইজ:
থিম:
ক্রাশ কনফেশন

১৫তম পর্ব

লেখক: আফিয়া আপ্পিতা

ক্রাশ কনফেশন

লেখাঃ আফিয়া আপ্পিতা

পর্ব-১৫

শ্যামবতা আসার সংবাদে বাসায় এলাহি কান্ড বেধে গেলো। মা কোমরে কাপড় বেধে রান্নায় নেমে গেলেন। বাবা একবার বাজারে যাচ্ছেন লিস্ট নিয়ে। কয়েক পদ সবজি এনে আবার যাচ্ছেন আবার গিয়ে মিষ্টি নিয়ে আসছেন। আভান তো রীতিমতো ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো লাফাচ্ছে। আমি সবার এতসব কান্ড দেখে সিম্পলের উপর গর্জিয়াছ করে একটা ভেংচি কাটলাম তারপর রুমে এসে দরজা দিলাম বেশ শব্দ করে। মনে মনে অগ্নি সাক্ষী রেখে শপথ করলাম আজ আর বেরুবো না। আর না শ্যামবতার সামনে যাবো। আসুক যাক মরুক আমি পাশের বাসার আন্টির মতো উঁকি দিয়েও দেখবো না। পণ করে গাল ফুলিয়ে

বসে রইলাম খাটের এক কোণে। এভাবে বসে থাকতে বোরিং লাগছে। তাই ফোন নিয়ে গান ছেড়ে হেডফোন গুজলাম কানে। কানে গুজানো হেডফোনে গান বাজে 'ফাইট্টা যায় বুকটা ফাইট্টা যায়। বন্ধু যখন বউ লোইয়্যা আমার বাড়ির সামনে দিয়া হাইট্টা যায় বুকটা ফাইট্টা যায়'। মমতাজ আপার হৃদয়কে নাঙল দিয়ে নাড়িয়ে দেয়া সেই গানে নিজেকে ডুবিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলাম আমি। শুনতে শুনতে চোখটা লেগে আসছিলো তখনি খট করে আওয়াজ হলো। চোখ খুলে তাকিয়ে দেখলাম, টেংরা মাছের গায়ের রঙা শার্ট আর কালি বসা পাতিলের তলার রঙা প্যান্ট পড়া এক সুদর্শন যুবক দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। বুঝাই যাচ্ছে সদ্য এসেছেন তিনি। বাদামী চামড়ার চোয়ালের মাঝে কালো মনির চোখ দুটোর দৃশ্য তার হাতে থাকা ফোনের দিকেই। দুনিয়া দারীর কোন খেয়াল নেই তার। আমি চোখ সরিয়ে নিলাম। সেই যুবক ফোন থেকে দৃষ্টি না সরিয়েই বলল,

"অভিহা একটা টাওয়াল দে তো। ফ্রেশ হওয়া লাগবে। বাইরে থেকে সরাসরি এখানে এসেছি।"

আমি তার কথা না শুনার ভান করে আবার আগের অবস্থানে ফিরে এলাম। বলবো না কথা। আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে এখন জামাই আদর খেতে এসেছে! শখ কত! মন তো চাচ্ছে এখন আমি ও বের করে দিই কিন্তু সেই সাহস নেই বলে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করতে হবে। ভেবেই এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। চোখ বন্ধ থাকায় শ্যামবতার অবস্থান বুঝতে পারছিনা। তবে আন্দাজ করতে পারি শ্যামবতা এখনো দাঁড়িয়ে আছেন। তার দৃষ্টি হয়তো আমার দিকে হয়তো বা ফোনের দিকে! কে জানে! মিনিট খানেক পর শ্যামবতার ভয়ংকর একটা কথা কানে এলো।

"অভিহা তুই কী জানিস? তোর পিছনে একটা তেলাপোকা.....

" তেলাপোকা"শব্দটা মমতাজ আপার 'ফাইট্টা যায়' গান বেধ করে কানে গিয়ে ঠেকলো। সাথে সাথে লাফিয়ে উঠলাম আমি। শ্যামবতার দিকে তাকাতেই শ্যামবতা আমার পিছনে ইশারা করলেন। আমি ঢোক গিলে পিছন ফিরে দেখলাম সত্যিই একটা তেলাপোকা খাট ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা দেয়ালে বসে আছে। আমি এক চিৎকার দিয়ে খাট থেকে কয়েক কদম দূরে দাঁড়িয়ে থাকা শ্যামবতার পিছনে গিয়ে আশ্রয় নিলাম। তারপর শ্যামবতার শার্ট খামছে ধরে মাথা ঠেকালাম পিঠে। যেন সামনে তেলাপোকা নয় কোন রাক্ষস আছে যে কিনা আমাকে খেয়ে ফেলবে। শ্যামবতা তেলাপোকার দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন,

"আরে অভিহা তুই ভয় পাচ্ছিস কেনো! ভয় পাওয়ার কিছু নেই। দেখ, তেলাপোকাটা ড্যাবড্যাব করে তোর দিকে তাকিয়ে আছে। তার চাহনিতে নেই কোন হিংস্রতা। আছে শুধু একরাশ মুগ্ধতা। সেই চাহনি দেখে মনে হচ্ছে তেলাপোকাটা তোকে দেখে ক্রাশ খেয়েছে। হতে পারে লাভ এট ফার্স্ট সাইট? বিয়ে শাদীও করতে পারে? হতে পারে অনেক আমার সাথে ডিভোর্সের অপেক্ষা করছে। এক্কেবারে টুরু লাভ। তুই দেরি করিস না দ্রুত তোর মেলায় হারিয়ে যাওয়া বয়ফ্রেন্ড আই মিন তেলাপোকার গলায় ঝুলে পড়। তোদের জুটি হিট খাবে। যাকে বলে মেড ফর ইচ আদার। তুই ডিম পাড়বি,ডিম বিক্রি করে তেলাপোকাকে নিয়ে সুখের সংসার করবি। তবে তুই চাইলে তোর তেলাপোকা স্বামীকে আমি আমার অফিসে একটা চাকরি দিতে পারি। আফটার অল এক্স ওয়াই জেড ওয়াইফের স্বামী বলে কথা দেয়াই যায়। কি বলিস?"

আমি কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম,

"প্লিজ শ্যামবতা ওটাকে তাড়িয়ে দিন। আমি ভয় পাচ্ছি।"

শ্যামবতা আমার দিকে ঘুরে বললেন,

"তেলাপোকাকে তাড়ালে আমার লাভ? আমাকে কি দিবি?"

আমি দেয়ার মতো জিনিস খুঁজতে লাগলাম। ড্রেসিংটেবিলে চোখ যেতেই পেয়ে গেলাম। শান্ত কন্ঠে বললাম,

" বিনিময়ে আমি আপনাকে একটা ফেয়ার এন্ড লাভলী ক্রিম দিবো। সকাল বিকেল রাতে মুখে লাগিয়ে আপনি সুন্দর হয়ে যাবেন। সবাই আপনার রূপে মুগ্ধ হবে। আপনার অনেক গুলো গার্লফ্রেন্ড থাকবে। রীতিমতো সমাজে ছেলারবেটা হয়ে যাবেন। আপনাকে সবাই একনামে 'গফের ভান্ডার'নামে চিনবে। সবাই ক্রাশ নামক বাঁশ খাবে। হজম করতে না পেরে বমি ও করতে পারে। তাদের বমি দেখে সবাই আপনাকে সন্দেহ করবে। আপনি,'এগুলো এডিট করা যায়' বলে ইগ্নোর করবেন। তারপর আপনার অনেক গুলো বাআয়াচ....

কথা শেষ করার আগেই ঠাস করে চড় পড়লো গালে। আমি গালে হাত দিয়ে শ্যামবতার দিকে তাকালাম। দেখলাম তার বাদামী চেহারা শুকনো মরিচের রঙ ধারণ করেছে। তখনি অগ্নিঝরা কন্ঠে বলে উঠলেন,

"তুই কী জানিস? তুই স্টুপিড কাজকর্মের উপর পিএইচডি করা একটা স্টুপিড? তোর নামের আগে ডক্টর যোগ করা উচিত। চরম লেভেলের অপদার্থ একটা। যার পর আর কোন পাশের বাসার আন্টির মেয়ে সীমা কিংবা বীমা নেই। সেই অপদার্থ তুই। এ ছাড়া সার্টিফিকেট প্রাপ্ত পাগল। যার স্থান কারো সংসারে নয়, পাগলাগারদে। আন্টি আংকেলের লাইফের সবচেয়ে বড় ভুল তোকে পাগলাগারদে না পাঠানোটা। আর একদিন যদি এমন কথা শুনলে তোর মুখ আমি গু কালার সুতো দিয়ে সেলাই করে দিবো। যত্তসব আজাইরা মার্কা মানুষ আসে আমার জীবনে। তেলাপোকা খাক তোকে,মর তুই। আই ডোন্ট কেয়ার।"

বলে হনহন করে ওয়াশরুমে চলে গেলেন। এদিকে আমি হা করে তাকিয়ে আছি! হুট করে রেগে গেলো কেনো! এর থেকে অদ্ভুত কথা তো শ্যামবতার মুখের বুলি। তবে রাগলো কেনো! আমি কি এমন বললাম! বকার মতো তো কিছুই বলিনি। ধ্যাৎ ভালোলাগে না। শ্যামবতা শুধু আমাকেই বকে। তাও কোন কারণ ছাড়া। আগে তো যা ছিলাম। এখন তো আমি উনার বউ। একটু ভালো আচরণ করলে কি হয়? ভেবেই এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম।

ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হলেন শ্যামবতা। আমি শ্যামবতার দিকে তাকালাম। চোখাচোখি হতেই আগুনঝরা চোখে তাকালেন আমার দিকে। যেন চোখ দিয়েই বাষ্প করতে চাইছেন। আমি ঢোক গিলে স্যালুট দিলাম। শ্যামবতা রাগত দৃষ্টি ফেলে হনহনিয়ে রুমের বাইরে চলে গেলেন।

শ্যামবতার যাওয়ার পানে চেয়ে রইলাম নির্বাক চোখে। চোখ ফেরাতে গিয়েই চোখ আটকালো দরজার চিপায় থাকা র‍্যাপি পেপার মোড়ানো একটা বড় প্যাকেটে। "গিফট" শব্দটা মাথায় আসতেই আমার মনটা খুশিতে নেচে উঠলো। একপ্রকার হরিণের মতো লাফিয়েই গেলাম সেদিকে। প্যাকেটটা টেনে এনে বিছানার কাছে বসলাম। র‍্যাপিং পেপার আর ভিতরে থাকা কার্টন খুলে

আমি অবাক। থ বনে গেলাম। বিস্ময়ে আমার চোখ হাঁসের ডিমের মতো হয়ে গেছে। হা করে তাকিয়ে রইলাম সামনে থাকা জিনিসটার দিকে। খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে হুট করেই আগলে নিলাম জিনিসটাকে। সেই জিনিস মানে গিফটটা হলো একটা বিড়ালের টেডিবিয়ার। দেখতে হুবহু ফরাসিয়ান বিড়ালের মতো। তুলতুলে সাদা রঙা সেকি চমৎকার! কদিন আগে শপিংমলে গিয়ে এই টেডিবিয়ারটি দেখে ভালো লেগেছিলো। পার্সে টাকা না থাকায় আর বাড়ি ফেরার তাড়ায় না কিনেই আসতে হয়েছে। পরদিন আমি আর দিতিয়া গিয়ে খুব খুঁজেছি কিন্তু পাই নি। এ নিয়ে আমার বেশ দুঃখ ও ছিলো। ফাইনালি পেয়েছি। কিন্তু কিভাবে পেলাম? কে দিলো? প্রশ্নদ্বয় মাথায় আসতেই আমি ভ্রু কুঁচকালাম। র‍্যাপিং পেপার মুড়ানো যেহেতু সুতারাং কেউ গিফট করেছে। কিন্তু কে করেছে? দিতিয়া? সেই তো জানতো এই ব্যাপারে। তবে যেই গিফট করুক তাকে খুঁজে বের করে জড়িয়ে ধরে একটা থ্যাঙ্কিউ দিবো। এটা তার প্রাপ্য। আগে গিফটদাতাকে খুঁজে বের করি। তার জন্য দরকার দিতিয়াকে। আমি বারান্দায় গিয়ে দিতিয়াকে ডাক দিলাম। আমার ডাকে সাড়া দিয়ে দিতিয়া রুম থেকে বেরিয়ে এলো। তাকে পরিপাটি দেখাচ্ছে সম্ভবত কোথাও বের হচ্ছে। হতে পারে আমাদের এখানে আসছে! যাক গে, আমি দিতিয়াকে আমার রুমে আসতে বললাম। দিতিয়া এলে আমি গিফট দেখিয়ে বললাম,

"তুই গিফট করেছিস তাই না রে?"

দিতিয়া খানিকক্ষণ সাদা বিড়ালটার দিকে তাকিয়ে বলল,

"আমাকে কি ভাদ্র মাসের পাগল কুকুরের কামড় দিয়ে জ্বালাপালা কালা করে ফেলেছে যে আমি নিজের জন্য টেডিবিয়ার না কিনে তোকে গিফট করতে যাবো! পাগল নাকি! আমি দিই নি গিফট।"

আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম,

"তুই না দিলে কে দিয়েছে? এটা এখানে কিভাবে এলো?সত্যিকরে বল।"

দিতিয়ার জবাব,

"আরে ওটা তো তোর স্বামী আই মিন ভাইয়াই....

দিতিয়াকে থামিয়ে আমি অবাক কন্ঠে বিড়বিড় করে বললাম,

" শ্যামবতা দিয়েছে! আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। শ্যামবতা আমায় গিফট দিয়েছে!"

লোকটার নাম নিতেই লোকটা হাজির। শার্টের হাতা গুজাতে গুজাতে রুমে এলো। তাকে দেখে আমরা দুজন চুপ মেরে গেলাম। শ্যামবতা কোন দিকে না তাকিয়ে আমার টেবিলের কাছে গেলেন। টেবিলের উপর থেকে তক্তার সমান লম্বা আর ভূতের মতো সাদা রঙের মোবাইলটা হাতে নিয়ে পকেটে রাখলেন। নিশ্চয়ই ফোন নেয়ার জন্যই এসেছেন তাই ফোন নিয়ে চলে যাবার জন্য পা বাড়াতেই তার চোখ গেলো দিতিয়ার উপর। শ্যামবতা দিতিয়ার দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললেন,

"তুই এই হাঁসের খামারে কি করছিস? তুই না বাসায় ছিলি!"

শ্যামবতাকে আমার পরে যদি কেউ ভয় পায় তবে সে হলো দিতিয়া। ভাই হলেও একটা কথা বলতে তার ভয়ে তোতলানো শুরু হয়। আজো সে অবস্থা। দিতিয়া তোতলিয়ে বলল,

"ড্ডিইম প্পায়ায়াড়তত্তে এএসসেচছি খামারে।"

দিতিয়ার কথায় আমি অসহায় দৃষ্টিতে তাকালাম ওর দিকে। কারণ আমি বুঝি ওর অবস্থা। এখন সে কি বলছে নিজেই জানে না। কিন্তু শ্যামবতা বুঝতে পারলেন না। তিনি ভ্রু কুঁচকে প্রশ্নবোধক চাহনি দিয়ে তাকিয়ে রইলেন দিতিয়ার দিকে। তারপর বললেন,

" তুই ও ডিম পাড়তে জানিস? বাহ! এবার তো আমার ডিমব্যবসায়ী হওয়া থেকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। নিজের গাড়ি বিক্রি করে প্রতিদিন সকালে বউ আর বোনের পাড়া ডিম ঠেলাগাড়ি করে সাপ্লাই দিবো। যা টাকা আসবে তা দিয়ে একটা চিড়িয়াখানা বানানোর কাজ শুরু করবো। সেখানে অনেক পাখির মাঝে তোরা দুই ঝটপাখি ও থাকবি। বেশ হবে না?"

এতক্ষণে হুশ ফিরলো দিতিয়ার। সে থতমত খেয়ে বলল,

"ছিঃ! আমি কি বলছি! আমি ডিম পাড়বো কেনো! ডিম পাড়বে তো তোর বউ।"

আমি রেগে বললাম,

"আমাকে টানছিস কেনো! তুই পাড় ডিম। আমি পারবো না ডিম পাড়তে। আর একদিন এমন উদ্ভট কথা বললে তোর পাড়া ডিম তোর মাথায় ভাঙবো।"

আমরা দুইজন লেগে গেলাম ঝগড়ায়। শ্যামবতা আমাদের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বললেন,

"এক পাগল সামলতে গিয়ে সবাই হিম সীম বীম খাচ্ছি। এখন দেখি আরেক পাগলের আমদানি।"বলে গেয়ে উঠলেন,

" বাবা তোর দরবারে সব পাগলের খেলা। হরেক রকম পাগল দিয়া মিলাইছে মেলা।" গাইতে গাইতে দরজার দিকে পা বাড়ালেন। আমি ঝগড়া রেখে দ্রুত পা ফেলে শ্যামবতার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। শ্যামবতা রাগী চোখে তাকালেন আমার দিকে। আমি সেই দৃষ্টি উপেক্ষা করে আমি শ্যামবতাকে জড়িয়ে ধরলাম। শ্যামবতা আর দিতিয়ার অবাক চেহারায় চোখ না দিয়ে খুশিতে গদগদ হয়ে বললাম,

"থ্যাঙ্কিউ থ্যাঙ্কিউ সো মাচ। আমি ভাবতেও পারছি না আপনি আমাকে টেডি গিফট করেছেন। আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। আপনি জানেন? এই টেডিবিয়ারটা আমি কত খুঁজেছি? কিন্তু পাইনি। সেই জন্য কত মন খারাপ হয়েছে আমার। ফাইনালি পেলাম৷ আপনি এনে দিলেন। এর জন্য এতগুলো থ্যাংকস। আমার যে কি পরিমাণ খুশি লাগছে বুঝাতে পারবো না। ইচ্ছে তো করছে আপনাকে টাইট করে একটা পাপ্পি দিই। কিন্তু আপনি রেগে দেহমোহর দিবেন বলে পারছিনা। আমি.....

আমার ননস্টপ কথার মাঝে ব্রেক কষে দিতিয়া কেশে দিলো। দিতিয়ার কাশি কানে যেতেই আমার হুশ ফিরলো। এতক্ষণ খুশিতে দুনিয়ায় ছিলাম না। দুনিয়ায় ল্যান্ড করে পড়লাম জঘন্য এক পরিস্থিতিতে। বুঝতে পারলাম খানিকক্ষণ আগে আমি কি জঘন্য কাজ করে ফেলেছি। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তার প্রমাণ দিতিয়ার মুখে হাসি আর শ্যামবতার রক্ত লাল মুখ। আমি লজ্জায় মাথা নিচু করে রইলাম। দিতিয়া শব্দ করে হেসে বলল,

" আমি যাচ্ছি। তোমরা চালিয়ে যাও। "বলে হেসে যাবার জন্য পা বাড়ালো। দুই কদম এগিয়ে পিছন ফিরে এসে আমার কানে কানে বলল,

" মাই ডিয়ার পাগলা বান্ধবী ওরফে ভাবী,এতক্ষণ তুই যাকে ক্রেডিট দিচ্ছিলি মূলত সে গিফটদাতা নয়। জাস্ট গিফট বহনকারী। "

আমি অবাক হয়ে দিতিয়ার দিকে তাকাতেই সে হেসে বলল,"অল দ্যা বেস্ট"

বলে উধাও হয়ে গেলো। এদিকে রুমে এখন আমরা দুজন। আমি নিশ্চিত শ্যামবতা এখন আমার ক্লাস নিবে। আমি নিজেকে প্রস্তুত করে নিলাম। খানিক পরেই শ্যামবতার কর্কশ গলা কানে এলো,

"বিয়ে নামক ঝঞ্জাট আমার কাধে চাপিয়ে আমার লাইফ হেল করে তোর শান্তি হয়নি? আমার এক চিমটি পরিমাণ মান সম্মান ছিলো সেটারও বোনের সামনে রফাদফা করে ফেললি! আমার জীবনটাকে কি তুই পান ভেবেছিস? যে ইচ্ছে মতো চিবিয়ে গাল লাল করে পিক করে পিচকি ফেলে শেষ করে দিবি! "

জবাবে আমি লজ্জামাখা গলায় বললাম,

"আসলে আমি ভেবেছিলাম গিফটটা আপনি দিয়েছে। তাই খুশি হয়ে....

আমার কথা টেনে নিয়ে তিনি বললেন,

" খুশি হলে জড়িয়ে ধরতে হবে? সব তোর বাহানা। তুই কি ভাবিস? তোর ধান্দা আমি বুঝি না? দেশে পুরুষ নির্যাতন মামলা করার বিধান থাকলে আমি এক্ষুনি তোর নামে মামলা করতাম। কিন্তু তা পারছিনা। তাই মন চাচ্ছে গুনে গুনে পয়ত্রিশটা চড় দিই। তোর বাসায় এসে তোকে চড় দেয়া খারাপ হবে ভেবে সেটাও পারছিনা। আমার ভীষণ রাগ হচ্ছে। রাগ না বাড়াতে চাইলে এক্ষুনি রুম থেকে বের হো।কুইক। না হয় আমি কি করবো নিজেই জানি না।"

আমি ঢোক গিলে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। আজ এই যমের হাতে মার খাবার ইচ্ছে নেই। দরজা পর্যন্ত যেতেই শ্যামবতা বললেন,"এটা কিসের চিরকুট! কোথা থেকে এসেছে? এই প্যাকেট কিসের! কিসব লিখেছে? পেত্না পেত্মী! হোয়াট দ্যা হেল ইয়ার?"

আমি পিছন ফিরে দেখলাম শ্যামবতার হাতে একটা চিরকুট। ঠিক তেমন চিরকুট যেমনটা পেত্না দিয়েছিলো। শ্যামবতা এটা ফেলো কোথায়? কোথাও এটা টেডিবিয়ার এর সাথে ছিলো না তো! হতে পারে আমি খেয়াক করিনি। তেমন হলে আজ আমি শেষ। শ্যামবতা পেত্নার কথা জানলে আমার ব্যান্ড বাজাবেন। আল্লাহ বাঁচাও।

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন