ফন্ট সাইজ:
থিম:
ক্রাশ কনফেশন

১৪তম পর্ব

লেখক: আফিয়া আপ্পিতা

ক্রাশ কনফেশন

লেখা ঃআফিয়া আপ্পিতা

পর্ব- ১৪

আমি মনে মনে শ্যামবতাকে একশো তিনটা গালি দিয়ে খাওয়া শুরু করলাম। কোন দিক দিয়ে খাবো বুঝে উঠতে না পেরে হাফিয়ে উঠছিলাম। সাহসের সঞ্চার করতে বেড সাইড টেবিল থেকে পানি ভর্তি গ্লাস নিয়ে পানি খেতে লাগলাম। খেতে খেতে শ্যামবতার দিকে চোখ বুলালাম। বাদুড় কালার টি-শার্টে সেকি সুদর্শন লাগছে ভিলেনটাকে! তার উপর চেহারায় রাগী ভাবটা খুব সুট করেছে। বাদামী চামড়ার কপালটায় বাঁকানো ভ্রু জোড়া যেন সেজে গুজে পার্টিতে লাগছে এমন সুন্দর লাগছে। ভাবতেই অবাক লাগে এই সুদর্শন ছেলেটাই আমার বর। ভিলেন ভাল্লুক উল্লুক বর। যে কিনা সারাক্ষণ আমাকে টর্চার করার ধান্দায় থাকে! কেনো একটু ভালো হলে কী হতো! কী হতো? প্রশ্নটা মনে আওড়াতেই বিষম খেলাম। হিচকি উঠে গেলো। উঠছে উঠছেই থামার নাম নেই। আমি হিচকি থামানোর চেষ্টায় যখন মগ্ন তখন শ্যামবতা এসে ঠাস করে চড় বসালেন। আকস্মিক এমন কিছুর জন্য প্রস্তুত না থাকার দরুন আমি হা করে শ্যামবতার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তাকিয়ে থাকার মাঝেই শ্যামবতা ঝাকি দিলেন।

"সময় চলে যাচ্ছে কিন্তু! পরে আবার জটিল শাস্তিতে আপত্তি করতে পারবি না। সব বাহানা বাদ দিয়ে চুপচাপ টাক্স কমপ্লিট কর। কুইক!"

শ্যামবতার কথায় আমার হুশ আসলো। হিচকির কথা মনে পড়তেই আমি খেয়াল করলাম আমার হেচকি আসছে না আর। অফ হয়ে গেছে। ভাবতেই খুশি লাগলো। যাক শ্যামবতা এই চড় কাজে লাগলো। আমি খুশি মনে আবার খাওয়া শুরু করলাম। শ্যামবতার বাজলো তখন। ফোন কানে দিয়ে কথা বলতে বলতে বারান্দায় চলে গেলেন শ্যামবতা। হয়তো জরিনা কল দিছে তাই প্রেমালাপ জুড়ে দিতে গেলেন! কেনো জানি এই জরিনাকে আমার সহ্য হয় না। নাম ও শুনতে পারি না। কেমন যেন লাগে। জানি না কি এর কারণ? শ্যামবতার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ভেংচি কেটে আবার খাওয়াতে মন দিলাম আমি। নিদিষ্ট সময়ের আগেই শেষ করতে হবে আমায়। নাহয় শনি আছে কপালে। এই ভেবেই তাড়াহুড়ো করে খেতে গিয়ে খানিক কাটা বেছে মুখে দিতেই গলায় কাটা বিধে গেলো। ব্যাস আমাকে আর পায় কে? দৌড়ে ওয়াশরুমে গিয়ে ওয়াক ওয়াক করছি। উদ্দেশ্য কাটা বের করা। গলায় হাত দিয়ে বমি করার চেষ্টা করেও বৃথা গেলো। এখন শুরু হয়েছে কাশি। অনবরত কাশি আর বমি করছি তাও কাটা আসছেই না। কষ্টে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে। খানিক পর আমার নাম ধরে ডাকতে ডাকতে দিতিয়া এলো। বলল,

"অভিহা তুই কাশছিস কেনো! তোর কাশির শব্দ শুনে আসলাম আমি। "

আমি অস্ফুট স্বরে বললাম,"পানি" দিতিয়া পানি এনে দিলো ধরে। আমি পানি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে পানি খেলাম। দিতিয়া ধরে খাটে বসালো। পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে শ্যামবতাকে না দেখে অবাক হলাম। ফ্ল্যাটের বিপরীত মাথা থেকে আমার কাশির শব্দে দিতিয়া এলো অথচ শ্যামবতা এলো না বারান্দা থেকে! আচ্ছা উনি কি বারান্দায় নেই? প্রশ্নটা মাথায় হানা দিতেই কানে এলো শ্যামবতার কন্ঠস্বর সম্ভবত কারো সাথে ফোনে কথা বলছেন। জরিনার সাথেই হবে। মানুষ এতটা নির্দয় কিভাবে হয়! একটা মানুষ মারা যাচ্ছে তাও দেখার সময় নেই? হায় কি বর জুটলো কপালে! এ যেন জসীমের জীবন। অশান্তিতে ভরা। আমাকে চিন্তার রাজ্য থেকে বের করে দিতিয়া বলল,

"তোর কোথায় প্রবলেম হচ্ছে? সুখবর?"

দিতিয়ার হেয়ালীপূর্ণ কথা শুনে রাগী চেহারায় তাকালাম আমি। তারপর ইশারায় মাছ আর গলা দেখালাম। ইশারা বুঝেই দিতিয়া দৌড়ে দিলো। খানিক পর লেবু হাতে ফিরে এলো। বলল,

"লেবু খা। কাটা নরম হয়ে গলে যাবে। "

কথা না বাড়িয়ে খেয়ে নিলাম। তর্ক করার অবস্থায় ছিলাম না কিনা! চোখ দিয়ে পানি পড়ছে তখনো। চোখের পানি মুছে শুয়ে পড়লাম আমি। ক্লান্তিতে চোখে ঘুম নামলো। সকালে উঠে আমি অবাক। চোখ খুলতেই চোখ পড়লো শ্যামবতার রাগী চেহারা। চেহারা তো নয় যেন আগুনের গোলা । তার মুখের উপর একটা ডিম ঢেলে দিলে এক্ষুনি ভাজা হয়ে যাবে। মজা করে সকালের নাস্তা করা যাবে। ভাবতেই আমার ডিম ভাজা খেতে ইচ্ছে হলো। আমার ডিম ভাবনার মাঝে শ্যামবতার রাগত স্বরে বলা কথা কানে এলো,

"আজ এই মুহুর্তে তুই এই বাসা ছেড়ে চলে যাবি। তোর আজাইরা ক্যাচালের জন্য রাতে আমি ঘুমাতে পারি নি। এখন মাথা ব্যাথা করছে। এত প্যারা নিতে পারছিনা আমি। তারচেয়ে বরং তুই তোর বাসায় যা। লাগবে না তোর সংসার করা আর লাগবে না আমার দেনমোহর দেয়া। সব বাদ। এখন আমার লাইফের মূল এজেন্ডা হলো তোকে বিদায় করা। সো কথা না বাড়িয়ে দূরে গিয়ে মর,বাঁচ যা ইচ্ছে কর। "

আমি ভ্রু কুঁচকে তাকালাম শ্যামবতার দিকে। কী এমন হলো যে একরাতেই আমার টর্চারের ভূত নেমে গেলো! কারণ জানতে ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করতে গেলাম। তাতেই শ্যামবতা থামিয়ে বললেন,

"আমি বাড়তি একটা কথাও চাচ্ছিনা অভিহা। আমার মেজাজ এমনিতেই ফুটানো গরম পানির মতো গরম। তুই যদি আবার হাসের মতো প্যাঁকপ্যাঁক শুরু করিস তো আমি প্রথম তোকে দিয়ে ডিম পাড়াবো তারপর আমার মেজাজ নামক ফুটানো গরম পানিতে তোর পেড়ে দেয়া ডিম সিদ্ধ করে তোকেই খাওয়াবো। তারপর ডেজার্ট হিসেবে এক হালি চড় দিয়ে বানানো চড়ের পায়েশ খাওয়াবো। কাল রাতে টাস্ক কমপ্লিট না করতে পারার শাস্তিও বাকি এখনো। খারাপ কিছু না চাইলে এক্ষুনি আমার চোখের সামনে থেকে দূর হো। "

আমি শ্যামবতা সিম্পলের উপর গর্জিয়াছ ধমকে ভয় পেয়ে কথা না বাড়িয়ে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। সিদ্ধান্ত মোতাবেক খাট থেকে নামতে নিলাম। কিন্তু শ্যামবতার হাতের ঘড়িতে ওড়না আটকে থাকায় আমাকে থামতে হলো। আমি বসে পড়লাম। মনে মনে স্মরণ করলাম প্রথমবার এমনভাবে কারো ঘড়িতে ওড়না আটকে যাবার পর কত ধরনের বাঁশ সেবন করেছিলাম। না জানি এবার ও কত ধরনের বাঁশের রেসিপি ট্রাই করতে হয়! আমার ভাবনার গাড়ির ব্রেক কষে শ্যামবতা বললেন,

"কি রে! বসে আছিস কেনো!"

আমি ঠিকঠাক মতো বসে শান্তকন্ঠে ওড়নার কথা বলার চেষ্টা চালালাম।

"আসলে আমার....

আমার কথা থামিয়ে শ্যামবতা গালে চড় বসালেন। বললেন,

" আবার প্যাঁকপ্যাঁক শুরু করতে চাচ্ছিস? তোকে না নিষেধ করেছে? আমার কথা শুনিস না কেনো! আর এক ওয়ার্ড কথা শুনতে চাচ্ছিনা তোর মুখ থেকে যা তাড়াতাড়ি।"

আমি ওড়নার কথা বলতে চাইলাম আবারো।

"আমার ও....

এটুকু বলতেই আবারো চড় পড়লো গালে। শ্যামবতা দিগুন রেগে বললেন,

" তুই আবারো কথা বলতে চাচ্ছিস!"

আমি মাথা নেড়ে ব্যাপারটা বুঝানোর জন্য বললাম,

"আমার ও...

আবারো গালে চড় পড়লো। আর আমাকে চলে যাবার তাড়া দিতে লাগলেন শ্যামবতা। কিন্তু আমি কিভাবে যাই যদি আমার ওড়নার অর্ধেক অংশের উপর শ্যামবতা বসে থাকেন। এই কথাটা বুঝাতে গিয়ে একে একে ষোলটা চড় খেলাম। তাও বুঝাতে পারলাম না। শেষে নিরুপায় হয়ে ওড়না রেখেই দৌড়ে নিজ বাসায় চলে আসলাম। বাসায় আসতেই আমাকে দেখে আভান বলল,

" আপি শাদী কা লাড্ডু খেয়েছো? কেমন টেস্ট বলো না? আমি ও খাবো। "

আমি এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আভানের গালে হাত দিয়ে বললাম,

"বাজে টেস্ট। তিত করলার জুসে নুডলস দিয়ে বানানো পরোটা চুবিয়ে খেলে এর চেয়ে ভালো টেস্ট পাওয়া যায়। নিজের ভালো চাইলে শাদীর লাড্ডু না খেয়ে কেকাপ্পার রেসিপি ট্রাই কর। মজা পাবি, সেই সাথে সাজার পরিমাণ ও কম পাবি। "

আমার কথা শুনে বসার ঘরে সোফায় বসে সিসিমপুরের শিকুর মতো নাকের ডগার উপর চশমা রেখে পত্রিকায় চোখ বুলাতে থাকা বাবা পত্রিকা থেকে চোখ তুলে চশমার উপর দিয়ে চোখ তুলে চেঁচিয়ে বললেন,

"আশু শুনছো? চমৎকার একটা সংবাদ আছে। তাড়াতাড়ি এদিকে আসো। আমি গরম গরম পরিবেশন করি।"

বাবার কথা শুনে মা উসাইন বোল্ডের মতো ঝড়ের বেগে রান্নাঘর থেকে দৌড় দিলেন। সেই দৌড় ব্রেক লাগালেন বাবার সামনে অর্থ্যাৎ ড্রয়িংরুমে। কপালে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘাম আঁচলে মুছে নিলেন। বাবা মুগ্ধ চোখে সেই দৃশ্য পরখ করে কন্ঠে আখ রস ঢেলে বললেন,

"দু'বছর আগে ৩০০টাকার এনার্জি লাইট ১০০টাকা কিনে বাসায় এনে লাগানোর পর ও কখনো এত ঝলক দেখিনি। কিন্তু বিশ বছর আগে পঞ্চাশ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করার বউয়ের রূপের ঝলক আজো দেখছি। সত্যিই পঞ্চাশ টাকা খরচ করে তোমাকে বিয়ে করে ঠকিনি। আমি মুগ্ধ আমার মনকুঠিরের হারিকেনের ভিতর জ্বলতে থাকা কেরাসিন তেলের রেশা ওরফে এনার্জি লাইটের আলো। হায় খুশিতে মুগ্ধতায় আমার বলতে ইচ্ছে করছে" হায় মে মার জাবা।"

বলে বাবা বুকে হাত দিলেন। আমি নিজের দুঃখ ভুলে বাবার সিসিমপুর,এনার্জি লাইট আর হারিকেনের জগতের ভ্রমণ করা দেখছি। মা তার হাঁসের ডিমের মতো গোল গোল করে করে রাখা চোখ গুলো এদিক ওদিক চকিদারের মতো টহল দিতে পাঠিয়ে আমাদের দেখে নিলেন। তারপর হাতে থাকা ভয়ংকর অস্ত্র অর্থ্যাৎ খুন্তি বাবার মুখের সামনে মেলে ধরে রাগত কন্ঠে বললেন,

"খুন্তিটা দিয়ে তোমার জিহ্বায় অক্টোপাস এঁকে দিতে ইচ্ছে করছে জানো? যাতে তোমার ওই জিহ্বা দিয়ে আমাকে ৩০০টাকার জায়গায় কেনা ১০০টাকার এনার্জি লাইটের সাথে তুলনা করতে না পারো। বুড়ো হয়েছো পাগলাগারদের পেসেন্ট আর ভূত আঁচর করা মতো মন মানুষিকতার দুই দুটো ছেলে মেয়ে আছে। একটা মেয়েকে আবার গতকালই বিয়ে দিয়েছো ভূত তাড়ানোতে এক্সপার্ট এক তান্ত্রিকের কাছে। তাও তোমার ভীমরতি যায় নি! বুড়ো বয়সে কী শুরু করেছো এসব!"

মায়ের হালকার উপর ঝাপসা ধমকে বাবা ভয় পেলেন। ভীত কন্ঠে বললেন,

"আরে আমি তো তোমাকে পটানোর চেষ্টা করছিলাম। তুমিই হরতাল ডেকে আমার পটানোতে বাধা দিলে। এটা কী ঠিক বলো? একটু পটলে ও তো পারো।"

মা ভ্রু কুঁচকে বলল,

" ঘাড়ের উপর স্বামী নামক হাইব্রিডের পাগল থাকতে তোমার মতো মাঘ মাসের কনকনে শীতে রাস্তায় খালি গায়ে বিচরণ করা পাগলের লো ভলিউমের ফ্লার্টে পটতে যাবো কেনো আমি! তাও আবার হাইব্রিডের দুই পাগল সন্তানের উপস্থিতিতে? তোমাকে আমি একটা কথা একশো লেবুর শক্তিযুক্ত ভিম লিকুইড দিয়ে ঘষামাজা করা থালাবাসনের মতো পরিস্কার ভাবে বলে দিই, আমার সাথে সারে আম ফ্লার্ট করার চেষ্টা করবে না। তিন মিনিট ধরে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনে গরম করা শিক কাবাবের শিক দিয়ে জিহ্বায় লিখে দিবো, ৩০০টাকার এনার্জি লাইট মাত্র ১০০টাকা। তখন বুঝবে কত ধানে কত চাল।"

তার তার চাহনিতে একঝাক প্রশ্ন ঢেলে বললেন,

" শাস্তির পরিমাণ দেখে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সারে আম ফ্লার্ট করবো না। তবে একটা প্রশ্ন বারবার পাশের বাসার আন্টির মতো উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে মনঘরে। তা হলো,প্রাইভেটলি ফ্লার্ট করা যাবে তোমার সাথে?"

"যদি হাতের কাছে গরম করা শিক আর বদ্ধ পাগল টাইপ দুই সন্তান না থাকে তবে যেতে পারে। সেসব কোন একদিন একান্তে সংলাপে বসে আলোচনা করা লিখিতভাবে জানানো হবে। যাক গে সেসব কথা। এখন গলির মোড়ে থাকা পাগলা কুকুরের মতো এক দৌড় দিয়ে পয়েন্টে আসো। কেনো ডেকেছো? হোয়াটস দ্যা ম্যাটার?" তীক্ষ্ণ কন্ঠে জবাব দিলেন মা। মায়ের কথায় বাবা কিছু একটা মনে করার চেষ্টা করলেন। তারপর বললেন,

"ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে। একটা চমৎকার সংবাদ আছে।"

মা ভ্রু কুঁচকে বললেন,

"কী সংবাদ? ধোঁয়া উঠানো কফির মতো গরম গরম পরিবেশন করো তাড়াতাড়ি। "

বাবা বললেন,

"সংবাদটা হলো...

বলেই থেমে গেলেন। আমরা তিনজন বাবার মুখ থেকে সংবাদ শুনার জন্য পপকন হাতে দর্শক সারিতে বসে সিনেমা দেখা পাব্লিকের মতো উৎসুক হয়ে আছি। বাবার এমন সাসপেন্স রাখা দেখে বিরক্তি কন্ঠে মা বললেন,

" তুমি এখানে চমৎকার একটা সংবাদ গরম পরিবেশন করছো, কোন কম্পিটিশনের উইনার ঘোষনা করছো না যে এত সাসপেন্স রেখে কথা বলতে হবে। তাড়াতাড়ি বলো। ওদিকে চুলোয় থাকা নুডলস দিয়ে রান্না করা কচুর লতি পুড়ে যাচ্ছে কিনা কে জানে?"

আভান বলল,

"বাবা কাড়াকাড়ি চলো। আমার জর বইছে না।"

"আভান তুই ভুল বলছিস। কথাটা হবে, বাবা তাড়াতাড়ি বলো। আমার তর সইছে না।

উৎসুখতার মাঝেও আমি আভানের ভুল কথা ঠিক করে দিলাম। বরাবরের মতো আভান এবারো বেশ ভাব নিয়ে বলল," হোয়াট এভার। বাবা তুমি চলো মানে বলো।"

বাবা এবার উৎফুল্ল হয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠলেন,

"দ্যা নিউ ইজ দিপ্ত তার তান্ত্রিকতা দিয়ে ভূত তাড়াতে শুরু করেছে। রেজাল্ট হাতের সামনে।"

বাবার কথা শুনে মা একবার আমার দিকে সচেতন চোখে তাকালেন। তারপর বাবার দিকে ফিরে লাফিয়ে বলে উঠলেন,

"সত্যিই চমৎকার হয়েছে ব্যাপারটা। আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না। "

মা খুশিতে গদগদ হয়ে দিন দুনিয়া আর কচুর লতি ভুলে বাবার সাথে আনন্দ ভাগ করতে লেগে গেলেন। মায়ের ভাব খানা এমন যে তিনি কোন ট্রফি জিতেছেন আর ঘোষণাটা বাবা-ই করেছে। এদিকে আমি আর আভান হা করে তাদের দিকে তাকিয়ে আছি। সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। আভান আমাকে বলল,

"আপি মা কিসের ট্রফি জিতেছে?"

"দাঁড়া জিজ্ঞেস করি।" বলে আমি মা বাবা দিকে এগুলাম।বললাম,

" ঘটনা কী বলবে?"

"তুই ছোডো মানোষ। বুঝদিনু। হুনি কীরবি?"

হেলায় বললেন বাবা। আমি অবাক হয়ে বললাম,

"আমি ছোট মানুষ! বুঝবোনা? শুনে কী করবো! মানে কি এসবের? কথা ক্লিয়ার করো।"

উত্তরে বাবা একবার বিরক্তিমাখা চাহনি দিয়ে আমার দিকে তাকালেন। তারপর মায়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,

"আশু একটা কাজ করি, লাঞ্চের জন্য তান্ত্রিক অর্থাৎ দিপ্তকে ইনভাইট করি। এত বড় কাজ করলো। ট্রিট আর এপ্রিশিয়েট তো দেয়াই যায়।"

মা সায় জানিয়ে রান্নাঘরে দৌড় দিলেন। বাবার তার দৃষ্টি ফেললেন পত্রিকায়। আর আমরা? আমরা তো এখনো স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখছি।

দুপুরের ঘটলো আরেক এলাহী কান্ড....

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন