ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমাকে ভাবিনি কখনও

২য় পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও

#পর্ব_২

#মায়িশা_নুরাইন

ক্লাসে বসে নীলা নাবিহার সাথে গল্প করছিলো। গত কয়েকদিন ভার্সিটি আসে নি বলে নাবিহার সাথে সাক্ষাৎ হয় নি। তাই এ কয়েকদিনের সব গল্প আজ করছে।

কিয়ান শিকদার , রসায়ন ডিপার্টমেন্টের নতুন লেকচারার হিসেবে জয়েন করেছে। আজ প্রথম ক্লাসটা তারই ছিলো। কিয়ান একদম প্রোফেশনাল শিক্ষকের মতো ক্লাসরুমে প্রবেশ করে। তবে নীলা সেদিকে মোটেও খেয়াল করে নি। সে নাবিহার সাথে গল্প করায় ব্যস্ত বলে সে সবার সাথে দাঁড়ায় নি। ফলে কিয়ানের নজর তার দিকে পরে। সাথে সাথেই সে গম্ভীর স্বরে ডেকে উঠে,

" হেই মিডল বেঞ্চ, কোকড়া চুল। স্ট্যান্ড আপ। "

কোঁকড়া চুল! নীলার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। আজকে সকালেই সে তার স্ট্রেইট চুলগুলো কার্ল করে এনেছে। এটাকে ফ্যাশন বলে, একে কোকড়া বললো কোন সাহসে! নীলা গাল ফুলিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলে,

" আমার মোটেও কোকড়া চুল নাহ। এটাকে স্টাইল বলে স্যার। আমার স্ট্রেইট চুলগুলোকে আমি আজ সকালেই কার্ল করে রেখেছি।"

" আমি আপনার থেকে এক্সপ্লেনেশন চাই নি। ক্লাসে শিক্ষক প্রবেশ করলে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব। পরিবার থেকে এসব নূন্যতম ম্যানার্সগুলোও শিখে আসেন নি? একজন ভার্সিটির স্টুডেন্ট হয়ে এত ম্যানার্সলেস হয় কিভাবে! "

" স্যার আপনি কিন্তু আমায় অপমান করছেন। "

" জ্বি, জেনে বুঝেই করছি। অপমানবোধ থেকে থাকলে নেক্সট টাইম থেকে এই ম্যানার্সগুলো পরিবার থেকে শিখে আসবেন। "

" এভরিওয়ান, সিট ডাউন প্লিজ। গতকাল একটা এসাইনমেন্ট দিয়োছিলাম আমি। যারা করেন নি তারা দাঁড়িয়ে থাকুন। আমার ক্লাসে কোন অজুহাত চলবে নাহ। "

নীলা ঠোঁট উল্টে নাবিহার দিকে তাকায়। কারণ নাবিহা এসাইনমেন্ট করে এনেছে। আর সে জানতো নাহ বলে করতে পারে নি৷ এখন তাকে একাই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। নীলা ঠোঁট উল্টানো দেখে নাবিহা ফোঁস করে শ্বাস ফেলে। নিজের করা এসাইনমেন্টটা ব্যাগে রেখে নিজেও নীলার পাশে দাঁড়িয়ে পরে। এতে নীলার মুখে হাসি ফুটে উঠে।

তার হাসিটা কিয়ান লক্ষ্য করতেই পুনরায় বলে উঠে,

" আপনাদের মিনিমাম লজ্জাবোধ নেই? স্কুলের স্টুডেন্ট আপনারা? হাতে ধরে ধরে সব শিখিয়ে দিতে হবে? দাঁড়িয়ে থেকেও কেমন নির্লজ্জের মতো হাসছে। "

নীলা প্রচন্ড অপমানে মাথা নামিয়ে রাখে। ক্লাসের সবার নজর তার দিকেই চলে যায়। কিয়ানের প্রথম ক্লাসেই এত অপমান শুনে নীলার ভেতর অজানা রাগের সৃষ্টি হয়। ফলে সে এক অভাবনীয় কাজ করে বসে। কোন কথা ছাড়াই ব্যাগ হাতে নিয়ে সে হনহন করে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে যায়। নাবিহা চমকে উঠে কি করবে বুঝতে না পেরে সে-ও ব্যাগ হাতে নিয়ে

" সরি স্যার " বলে নিজেও বেরিয়ে যায়। ক্লাসে সবার মাঝে ফিসফিসানি শুরু হয়। ক্লাসরুম থেকে শিক্ষকের সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলে তাতে শিক্ষককে অসম্মান করা হয়। আর নীলা আজ সেই কাজটাই করেছে।

এদিকে কিয়ান চোখ-মুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে। নীলার এমন কাজে সে অসম্মানিত হয়েছে। তাকে দেখেই মনে হচ্ছে এর শোধ সে তুলেই ছাড়বে।

নীলা সোজা ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে যেতে নিয়েছিলো। নাবিহা দৌড়ে গিয়ে নীলাকে আটকায়।

" দোস্ত, এটা কি করলি তুই? তুই তো এমন মেয়ে নাহ। "

" আজ হলাম৷ দেখিস নি তুই, এসে থেকেই একটা না একটা উপায়ে অপমান করেই যাচ্ছে। আমি কি ছোট বাচ্চা? আমাকে রাগ দেখি পরে চকলেট দিলে আমি গলে যাবো? "

" দোস্ত, দই-ফুচকা খাবি? "

" খাবো নাআআ... দই-ফুচকা? "

" ইয়েহ, আমিও জানি তোর রাগ কিসে কমবে। চল তাড়াতাড়ি। "

নীলার বাহু জড়িয়ে ধরে নাবিহা তাকে নিয়ে ভার্সিটি ক্যান্টিনে চলে আসে। দুটো প্লেট দই-ফুচকা অর্ডার দিয়ে তারা এসে বসে। তখন নীলা রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে বলে,

" আমার কোথাও শান্তি নাই রে। কোথাও শান্তি নাই। বাসায় বাবা কিসের যে বিয়ে নিয়ে পরেছে। জানিস, গতকাল কোন বন্ধুর পরিবার নিয়ে হাজির হয়েছে। মেজাজটাই খারাপ করে ফেলেছিলো। "

" ছেলে সুন্দর হলে বিয়ে করতে সমস্যা কোথায়? তোর তো আবার টাকা, সম্পত্তির নেশা নেই। বাপ-মেয়ের ছোট্ট পরিবার তোদের। ছেলে দেখতে সুন্দর, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হলে না করিস কেন? "

" কিসের সুন্দর? ৩৫ বছরের বুড়ো একটা। চিন্তা করতে পারছিস তুই? আমার থেকে গুনে গুনে ১৩ বছরের বড়। এত্ত বুড়ো একটা লোককে আমি বিয়ে করবো? নো ওয়ে..."

" লাইক সিরিয়াসলি? আঙ্কেল তোর জন্য বুড়ো কাউকে সিলেক্ট করেছেন? নাহ, বিশ্বাস হলো নাহ। আঙ্কেল তোর সাথে এত অবিবেচকের মতো কাজ করবে নাহ। "

" শুধু আল্লাহ জানে, আসলে আমার বাবা কি করতে চাচ্ছে। আমি তো তাদের সাথে দেখাই করি নি। আমার ঠেকা পরছে, আমার এই সুন্দর, কিউট চেহারাটা এক বুড়োর থোবড়ার সামনে গিয়ে দেখাতে। "

তাদের ফুচকা চলে আসলে নাবিহা একটা ফুচকা মুখে পুরে বলে,

" শোন নীলা, অনেক পুরুষই আছে বয়স বেশী হলেও ফিটনেস মেনটেইন করে চলে। ফোনে দেখিস নাহ বিদেশী পুরুষগুলোকে। ৫০ বছরের হয়েও ২৫ বছরের ছোকরার মতো লাগে। "

নীলাও ফুচকা খেতে খেতে বলে,

" এটা আমাদের দেশ ভাই। এখানে ৩৫ বছর বলতেই আমরা ওই পেট মুটো, বুড়িওয়ালা, টাক্কু লোকদেরকেই বুঝি। "

" আচ্ছা, এসব বাদ দে। পরে কি হলো বল। "

" ও হ্যাঁ। একটা কিউট বাবু এসেছিলো সাথে। ও সোজা আমার রুমে এসে আমাকে পরি, পরি বলে কি কথা। পাকনা ছেলে একটা। বলে আমাকে তার পছন্দ হয়েছে। তার কিয়ান চাচ্চুর সাথে বিয়ে হলে পরে নাকি সে আমার সাথেই থাকবে। বুঝলি তো, আজকালকার ছেলেপেলে! মায়ের পেট থেকেই পাকনা হয়ে বেরিয়ে আসে। "

নীলা হাসতে হাসতে আরেকটা ফুচকা মুখে পুরে নেয়। তার আয়েশ করে খাওয়া দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে এই ফুচকা নামক খাবারটাকে কতটা মনে প্রাণে ভালোবাসে।

নাবিহা হটাৎ বলে উঠে,

" কি যেন নামটা বললি? কিউট বাচ্চাটা কার নাম বললো? "

" কিয়ান চাচ্চু বলেছে। "

" কিয়ান! দোস্ত, আমাদের ক্যামিস্ট্রি নিউ লেকচারারও তো কিয়ান স্যার। "

ফুচকা মুখে নীলা ফ্রীজ হয়ে যায়। মনে পরে যায়, এজন্যই তখন এই নামটা তার খুব চেনা চেনা লাগছিলো। কিয়ান, কিয়ান, কিয়ান!

" শুনেছি আমাদের কিয়ান স্যার সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরেছেন। কোন দেশে ছিলেন জানা নেই। তবে দেশে ফিরেই আমাদের ভার্সিটিতে জয়েন করেছেন। স্যারের বয়স কত হতে পারে রে? "

নীলা তখনও শক্ড হয়ে বসে ছিলো। নাবিহা তাকে ধাক্কা দিতেই তার হুশ ফিরে। মুখের ফুচকা গিলে নিয়ে বলে,

" আর ইউ ম্যাড নাবিহা? তুই কি বলতে চাচ্ছিস, এই খাটাশ কিয়ানই গতকাল আমায় দেখতে গিয়েছিলো? "

" দেখ, আমি বলছি নাহ। আশঙ্কা করছি শুধু। হতেও তো পারে নাহ? "

" কখনোই পারে নাহ। বাবা কখনোই এমন খাটাশ কাউকে নিজের মেয়ের জন্য পছন্দ করতে পারেন নাহ। তিনি তো জানেন, তার মেয়ে কতটা প্যাম্পার পেতে পছন্দ করে। "

" হাইপার হচ্ছিস কেন? কিয়ান নাম কি একজন লোকেরই আছে নাকি? আরও কত কিয়ান আছে চারপাশে। তোর ভাষ্যমতে তোকে দেখতে আসা কিয়ান সেই পেট মোটা, বুড়ো লোকই হবে। "

" তাই হবে। তাও এই খাটাসের থেকে সেই পেট মোটা বুড়োই হাজার গুণ ভালো। "

কথা বলতে বলতে নীলা টিস্যু দিয়ে হাত মুছে এঁটো টিস্যুটা অন্যদিকে ছুড়ে দেয়। সে কথা বলায় ব্যস্ত থাকায় আশেপাশে খেয়াল করে নি। তবে হুট করে নিজের সীট থেকে নাবিহাকে দাঁড়িয়ে পরতে দেখে নীলা অবাক হয়।

" কি হলো? দাঁড়িয়ে গেলি কেন? "

" নীলা, পেছনে দেখ। "

" পেছনে কি আছে? "

নীলা পেছনে তাকাতেই সে নিজেও একটু থমকে যায়। তার ছোঁড়া টিস্যুটা গিয়ে একটা মেয়ের মুখের উপর পরেছে। নীলা অপর একটি পরিষ্কার টিস্যু হাতে এগিয়ে গিয়ে বলে,

" রিমলী আপু, মাই মিসটেক। আমি দেখে ছুড়ি নি। "

" হাউ ডেয়ার ইউ? তোমার সাহস হয় কিভাবে আমার উপর এঁটো টিস্যু ছোঁড়ার? "

" বললাম তো, মিস্টেক আপু। আমি মোটেও দেখে...."

আচমকা একটা ঘটনায় সবাই মুখে হাত দিয়ে বসে। ক্যান্টিনে থাকা সবাই উঠে দাঁড়িয়ে পরেছে। ক্যান্টিনের বাহিরেও কতিপয় শিক্ষার্থীর ভিড় জমেছে। নীলার মুখমন্ডল জুড়ে পানি চিকচিক করছে। সামনে থাকা কিছু চুল বেয়ে পানি গড়িয়ে পরছে। নীলা চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে।

" মিসটেক? আমার সামনে মিসটেক দেখাচ্ছো? তোমাদের মতো মেয়েকে আমি চিনি নাহ? ছোটলোক কোথাকার। "

নাবিহা দৌড়ে এসে একা টিস্যু দিয়ে নীলার মুখ মুছিয়ে দিতে যায়। তবে নীলা তাকে আটকে দেয়। মুখ তার অস্বাভাবিক রকমের থমথমে হয়ে আছে৷ নাবিহা তো ভয় পাচ্ছে তাকে এভাবে দেখে। নীলা রিমলীর দিকে কিছুক্ষণ তাকায়। তারপর নাবিহার ভয়কে সত্যি করে দিয়ে পাশ থেকে আরেক গ্লাস পানি নিয়ে সোজা রিমলির মুখে ছুড়ে মারে। এতে ক্যান্টিনের সবাই আরেক ধাপে শক খায়। নীলা কেন কিছুর পরোয়া না করে বলে,

" নাও ইট ওয়াজ ইনটেনশনালি মিস রিমলী। কথায় আছে টিট ফর ট্যাট। আমি ভালোভাবেই ক্ষমা চাচ্ছিলাম। আপনি নিজেই দুঃব্যবহার শুরু করেছেন। তাই আমাকে এই পদক্ষেপটা নিতেই হলো। "

রিমলীর সাথে থাকা আরেকটি মেয়ে কিছু বলতে নিলে নাবিহা তাকে আটকে দিয়ে বলে,

" ইউ শাট আপ। কথা আপনার সো কল্ড নেত্রীর সাথে হচ্ছে। আপনি মুখ বন্ধ রাখুন। "

রিমলী এবার রাগে ফেটে পরে।

" কে রে তুই? তুই চিনিস আমি কে? ছাত্রদলের নেত্রী আমি। আমার সাথে এমন ব্যবহার করার সাহস হয় তোর কিভাবে? "

" তুইতোকারি বন্ধ করুন। আপনি কে সেটা আমার দেখর বিষয় নাহ। আমার সামনে আপনি স্রেফ একজন মেয়ে ব্যতীত আর কিছুই নাহ। আমাকে আপনি পানি মেরেছেন, আমিও মেরেছি। ব্যস, কাহিনী শেষ। "

" তোকে আমি দেখে নিবো। "

" এখনই দেখে নেন নাহ। বাই দ্য ওয়ে, আমার মতো সুইট মেয়ে আপনি আশেপাশে খুব কমই পাবেন। "

" নিজের বড়াই করছিস? নিজেকে খুব সুন্দরী মনে করিস? "

" হ্যাঁ করি। তো? অন্তত আপনাদের মতো কুৎসিত মন নিয়ে ঘুরি নাহ। নেত্রী বলেন নাহ নিজেকে? এতদিন কি সাহায্য করেছেন কাকে? একে ওকে ধরে র্যাগ দেওয়া, হলে উঠতে হলে বাড়তি ইনকাম এসব আপনাদের মতো নেত্রীদের কাজ? যারাই একটু গরীব হয়ে থাকে, তাদের সেমিস্টার ফি নিয়ে একটু সাহায্য চাইলে উল্টো নিজেরা তাদের দিয়ে নিজেদের কাজ করিয়ে নেন। সাহায্যর বদলে তো নিজেরাই সাহায্য চেয়ে বসেন। এসব কাজ করে নিজেকে নেত্রী দাবি করেন। লজ্জা করে নাহ? "

ক্যান্টিনে এক মুহুর্তের জন্য নীরবতা নেমে আসে, যেন বাতাসও থমকে গেছে। রিমলীর মুখে এক অসম্ভব রাগ, অবিশ্বাস। চারপাশের সবাই থমকে আছে। কেউ কেউ ফোন বের করে এসবের ভিডিও করছিলো। নীলা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে এখন কোন ভয় নেই। রাগটা যেন এখন বরফের মতো জমে গেছে।

পাশ থেকে হটাৎ নীলার দিকে তাকিয়ে একজন নিচু কন্ঠে বলে,

" আরেহ, এ তো সেই মেয়ে যে গতবছর একটা সিনিয়রকে থা'প্পড় দিয়েছিলো। ভেবেছিলাম কিছু তো ঘটবেই। তবে সব যেন ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিলো।

রিমলী তার দিকে এগিয়ে এসে রাগী কন্ঠে বলে,

" তুই জানিস, তোকে আমি চাইলেই ভার্সিটি থেকে বের করে দিতে পারি। "

" চেষ্টা করতে থাকুন। গুড লাক। "

এ সকল কাহিনী কিয়ান ক্যান্টিনের বাহির থেকে দেখতে থাকে। এসব দেখে নীলার প্রতি তার রাগ আরও বাড়তে থাকে। এমনিই আজ নীলার কর্মকান্ডে সে অনেক অপমানিত বোধ করেছে। তাই আপাতত মেয়েদের এই মামলায় সে ঢুকতে চায় নি। সে চলে যেতেই পেছন দিয়ে নীলাও নাবিহার হাত ধরে টেনে নিয়ে চলে যায়।

রাগে সে গজগজ করছিলো। নাবিহা একটু চিন্তিত কন্ঠে বলে,

" এটা কি ঠিক হলো নীলা? ভার্সিটিতে রিমলীদের প্রভাব এমনিতেই বেশী। যদি কোন ক্ষতি করে বসে। "

" আমি কিছুই করি নি ব্রো। সে যা করেছে তারই রিপিট করেছে। ইন ফিউচার, আবার কিছু করতে আসলে আবারও আমি তারও রিপিট করবো। আর কত! মনে নেই সোহেলীর কথা? গরীব পরিবারের মেয়ে বলে যখন শেষে সেমিস্টার ফি দিতে সমস্যা হচ্ছিলো, আমাদের না বলে এই নেত্রীর কাছে গিয়েছিলো। তারপর কি হলো? সোহেলীর কোন খবর পেয়েছিস আর? আমরা তো ভাবছি তার বিয়ে হয়ে গেছে। আদও কি তাই? "

নাবিহাও সেসবই ভাবতে থাকে। ফার্স্ট ইয়ার থেকে সোহেলীর সাথে ভালো পরিচয় ছিলো তাদের। তারপর সেকেন্ড ইয়ারের ফাইনালের আগে দিয়ে হটাৎ করে সে যোগাযোগ ছাড়া উদাও হয়ে গেলো। তারপর আর খবর পাওয়া গেলো নাহ মেয়েটার।

এসব ভাবতে গিয়ে হটাৎ নাবিহা খেয়াল করে নীলা তার সাথে নেই। আশেপাশে তাকিয়ে দেখে একটু দূরেই নীলা একটা গাড়ির সামনে দাড়িয়ে আছে। গাড়িটার চারপাশে কি যেন দেখছে। নাবিহা দৌড়ে তার কাছে গিয়ে বলে,

" কি করছিস তুই এখানে? কার গাড়ি এটা? "

" খাটাশ কিয়ানের। "

" কিয়ান স্যারের? কিভাবে জানলি? "

" মাত্রই দেখলাম গাড়ি থেকে কি একটা নিয়ে বের হলো। "

" কি করতে চাচ্ছিস তুই এখন? "

" আমার স্কুটিটা নিয়ে আয়। "

নাবিহা কিছু না বুঝে স্কুটি নিয়ে এলে আগে নীলা বসে। তারপর পেছনে নাবিহা বসতেই নীলা তার স্কুটি চালিয়ে সজোরে গাড়ির পেছনে বাজিয়ে দেয়। ফলে গাড়ির পেছনের লাইটা ভেঙে যায়। আর গাড়ির বডিতেও স্ক্রেচ পরে। নাবিহা আঁতকে উঠে বলে,

" এটা কি করলি তুই? গাড়ির সাথে রাগ দেখাচ্ছিস কেন? "

" কারণ গাড়ির মালিকটা খাটাশ কিয়ান। বাই দ্য ওয়ে, তুই ভয় পাচ্ছিস কেন? ইট ওয়াজ যাস্ট এন এক্সিডেন্ট ব্রো৷ লেটস গো বেইব। "

নীলা স্কুটি চালিয়ে সোজা সামনের দিকে রওনা দেয়। আজ সারাদিনে তার সাথে ঘটা কাহিনীর পর সেই নিরীহ গাড়ির উপর দিয়ে সব চালিয়ে দিতে পেরে এখন সে শান্তি পাচ্ছে। তবে এটা তো জানে নাহ তার এই কাজের ফলে কালকে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে।

চলবে.........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন