ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমাকে ভাবিনি কখনও

৩য় পর্ব

লেখক: মায়িশা নুরাইন

#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও

#পর্ব_৩

#মায়িশা_নুরাইন

" নীলা, তোমাকে ডিপার্টমেন্ট হেডের অফিস থেকে ডাকছে। দ্রুত গিয়ে দেখা করে আসো। "

" হটাৎ আমাকে কেন ডাকবে? "

নীলার প্রশ্নে শিরিন মেয়েটা জানায়,

" আমি তো তা জানি নাহ। আমি আসছিলাম। তখনই পিয়ন মামা আমাকে বললো তোমাকে ডেকে দিতে। "

" একটা কাজ করিও। নাবিহা ক্লাসে আসলে বলে দিও আমি ওখানে আছি। "

নীলা হটাৎ ডাকার কারণ ভাবতে ভাবতে এগোচ্ছিলো। আপাতত তার মাথা পুরোপুরি ব্ল্যাঙ্ক হয়ে আছে। হেলতে দুলতে ডিপার্টমেন্ট হেডের অফিসে গিয়ে পৌছে বলে,

" মে আই কাম ইন স্যার? "

অনুমতি পেয়ে রুমে প্রবেশ করতেই সামনে দন্ডায়মান স্বয়ং কিয়ানকে দেখে সে থমকে যায়। হটাৎ করেই তার মাথায় আসে, গতকালকের তার ঘটানো ঘটনার কথা।।তার মানে এই বান্দা তারই বিচার দিয়েছে।

" ইন্ট্রুডিউস ইউরসেল্ফ। "

" ইয়েস স্যার। নীলা রহমান, থার্ড ইয়ার, ক্যামিস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট। "

" ডু ইউ নো, হুয়াই আর ইউ কল্ড হেয়ার? "

নীলা ইনোসেন্ট ভঙিতে উত্তর করে,

" নো স্যার। "

ডিপার্টমেন্ট হেড তখন সামনে থাকা লেপটপটা তার দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে বলে,

" ফুটেজটা দেখো। এই মেয়েটা কি তুমি? "

নীলা ফুটেজটা এমনভাবে দেখে যেন সে কিছুই জানে নাহ। তারপর সে সহজ-সরলভাবে উত্তর করে,

" জ্বী স্যার। গতকাল আমি এই পোশাকেই ছিলাম। স্কুটিটা আমার, মেয়েটিও আমিই। আর স্কুটির পেছনের মেয়েটা আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নাবিহা। এখনই সে-ও ক্লাসে চলে আসবে। আমি কি তাকেও ডেকে আনবো? "

কিয়ান রেগে যায়। সে গম্ভীর অথচ রাগত স্বরে বলে উঠে,

" আপনাকে কেউ বলে নি ডাকতে। আগে এটার এক্সপ্লেনেশন দিন। কেন আমার গাড়িতে আঘাত করে ক্ষতি করলেন। "

নীলা সরাসরি কিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে,

" কিন্তু স্যার, আপনি তো এক্সপ্লেনেশন পছন্দ করেন নাহ বলেছিলেন। গতকাল যে আমার কার্ল করা চুল নিয়ে এক্সপ্লেনেশন দিলাম, সেটা পছন্দ করেন নি। "

" আপনি কিন্তু বড্ড চালাক মিস নীলা। আপনাকে...."

" আহ কিয়ান! আমি দেখছি বিষয়টা। তুমি শান্ত থাকো। "

নীলা একবার কিয়ানের দিকে, আরেকবার হেডের দিকে তাকাতে থাকে। তাদের কথোপকথনে মনে হচ্ছে সম্পর্কে পরিচিত তারা! ডিপার্টমেন্ট হেড এখন নীলাকে নরম স্বরে বলে,

" নীলা মা, তুমি বলো তুমি কি এটা ইচ্ছে করে করেছো? কিয়ান স্যারের গাড়িটায় কি ইচ্ছে করে আঘাত করেছো? "

নীলা হটাৎই ভোল পাল্টে ফেলে। সে ছলছল চোখ নিয়ে হেডের দিকে তাকিয়ে বলে,

" এসব কি বলছেন স্যার? আমি ইচ্ছে করে কেন ক্ষতি করবো? বাপের জন্মে এত্ত বড় গাড়ি কাছ থেকে কখনো দেখিই নি আমি। গতকাল স্কুটি চালিয়ে যাওয়ার সময় ভুলবসত গাড়ির সাথে আঘাত লেগেছিলো। আমি বুঝতেই পারি নি এমনটা ঘটে যাবে।"

" এটা মিথ্যা কথা। ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আপনি ইনটেনশনালি আমার গাড়িতে ধাক্কা দিয়েছেন। "

নীলা এবার কিয়ানের দিকে তাকায়। তারপর নাবিহাকে বলা তার গতকালকের কথাটাই পুনরায় রিপিট করে,

" ইট ওয়াজ যাস্ট এন এক্সিডেন্ট স্যার। আই ডিডন্ট ডু ইট ইনটেনশনালি। বিলিভ মী স্যার। "

কিয়ান রেগে মেগে কিছু বলতেই নিবে, তখনই খেয়াল করে একফোঁটা জল মেয়েটির শুষ্ক গাল বেয়ে গড়িয়ে পরছে। সাথে সাথেই তার কথা গলায় আটকে যায়। মেয়েটি কান্না করছে! নীলা এবার ডুকরে কেঁদে উঠে।

" আমি এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করি নি স্যার। তবুও আপনি চাইলে আমি এর ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি। যদিও আমার বাবা দিন আনে, আমরা দিন খাই। তবুও আমি রাজি আপনাকে ক্ষতিপূরণ দিতে। "

নীলার অভিনয় এতটাই স্মুথ ছিলো যে, কিয়ানের মুখও বন্ধ হয়ে গেছে। আচমকা নীলার কান্না দেখে সে নিজেও ঠিক-ভুলের পার্থক্য করতে পারছে নাহ।

ডিপার্টমেন্ট হেড স্যার তাকে সামলাতে বলে,

" ওকে ওকে, ডন্ট ক্রাই নীলা। কিয়ান, তুমি কি বলতে চাও এখন। দেখো, মেয়েটা নিতান্তই ভুলবসত গাড়ির ক্ষতি করে ফেলেছে। তুমি কি এখন ক্ষতিপূরণ চাচ্ছো।"

নীলা একটু থেমে কথা শুনছিলো। কিয়ান তার দিকে তাকালে সে পুনরায় ঠোঁট উল্টে কান্নার অভিনয় করে। কিয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,

" নো স্যার। আমি কোনো ক্ষতিপূরণ চাই না। "

কিয়ানের কথা শুনে নীলা মাথা নিচু রেখেই ভেতরে ভেতরে বিজয়ীর হাসি হাসে। তবে বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে মেয়েটা এখনও কান্না সামলানোর চেষ্টা করছে। ডিপার্টমেন্ট হেড স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।

" গুড। তাহলে বিষয়টা এখানেই শেষ। তবে নীলা, ভবিষ্যতে একটু সাবধানে স্কুটি চালাবে। তোমার জন্য যাতে কখনো কারও কোন ক্ষতি না হয়। "

" জ্বী স্যার। আপনার কথা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো স্যার। "

এমন ভদ্র গলায় উত্তর দিলো যে মনে হচ্ছে জীবনে সে কোনো ভুলই করে নি।

" ঠিক আছে, এখন তুমি ক্লাসে যেতে পারো। "

নীলা মাথা নেড়ে বেরিয়ে যেতে নেয়। দরজার কাছে পৌঁছে হঠাৎ থামে।

" কিয়ান স্যার? "

" হ্যাঁ? "

" আমি আবারও সরি স্যার। আপনি চাইলে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি আমি। "

কথাটা বলে একবার কিয়ানের দিকে তাকালো। পরপরই ডিপার্টমেন্ট হেডের আড়ালে একটা মুচকি হাসি দিলো। যা কিয়ানের চোখে স্পষ্ট হয়ে ধরা দিলো।

ভেজা ভেজা চোখ দুটোতে মুচকি হাসির প্রভাব। যা কিয়ানকে মুহুর্তের মাঝেই চিন্তায় ফেলে দিলো। এত্ত স্মুদ অভিনয়!

******

নীলাকে ক্লাসে আসতে দেখেই নাবিহা এগিয়ে আসে।

" নীলু বেইব, তোকে নাকি হেড অফিসে ডেকেছিলো? গতকালকের বিষয়টা নিয়ে কিছু বললো নাকি? বেঁচে ফিরলি কিভাবে? "

" মিশন সাকসেসফুল দোস্ত। "

" মানে? "

" দুই ফোঁটা চোখের জল, আর হেড স্যারও মোমের মতো গলে গেলো। "

নাবিহা নীলার চোখের পানি দেখে বলে,

" আমি বুঝি না বাপু, তুই এত অভিনয় পারিস কিভাবে? "

" জন্মগত ট্যালেন্ট আমার। সবকিছু সবাই পারে নাহ। "

ক্লাসে স্যার আসতেই তারা কথা থামিয়ে দেয়। বাধ্য স্টুডেন্টের মতো মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করে। নীলা পড়াশোনায় মোটামুটি ভালো রকমের স্টুডেন্ট। নেহাত ফাকিবাজি করে বেশী। নয়তো ডিপার্টমেন্ট টপার হওয়ার মতোও যোগ্যতা আছে তার।

তবে কিয়ানের ক্লাস শুরু হতেই নীলা ইচ্ছে করেই অমনোযোগী হয়ে বসে থাকে। কিয়ানকে তার আর সহ্যই হচ্ছে নাহ। এসে থেকেই তাকে যন্ত্রনা দিচ্ছে। কিন্তু আজ সে ক্লাসে অমনোযোগী থাকলেও কিয়ান কিছুই বলে নি। কিয়ানের ক্লাসটাই তাদের শেষ ক্লাস ছিলো। ক্লাস শেষে সবাই বেরিয়ে পরলে নীলা হেলতে দুলতে বেরুতে থাকে। কিয়ানও তখন নিজের অফিসরুম থেকে বেরিয়ে যেতে নিচ্ছিলো। অমনোযোগী নীলা গিয়ে সোজা কিয়ানের সাথে ধাক্কা খায়। শক্তপোক্ত দেহের কিয়ানের সাথে ধাক্কা লাগা মাত্র নীলা উল্টে পরে যেতে নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিয়ান তাকে একহাতে আটকে নেয়। নীলা চোখ বন্ধ করে নিয়েছিলো। এভাবে পরে গেলে কোমড়ে তো নিশ্চিত আঘাত লাগবে। ভয়ে তার ঠোঁট তিরতির করে কাঁপছিলো। সে বিরবিরিয়প উঠে,

" আল্লাহ! এবারের মতো বাঁচিয়ে দাও। কোমড়টা যেন অক্ষত থাকে। নয়তো আমার ফ্যাশনের চৌদ্দটা বেজে যাবে গো। এবারের মতো রক্ষা করো মাবুদ।

কিয়ান সেদিকেই হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে ছিলো। তাদের এমন অবস্হায় চারপাশ যেন থমকে গেছে। এমন সময় সিঁড়ি বেয়ে একদল শিক্ষার্থীর আসার শব্দে কিয়ানের হুশ ফিরে। সে হেঁচকা টানে নীলা উঠিয়ে দাঁড় করায়৷ তারপর গমগমে সুরে বলে,

" এটা আমার গাড়ি নয় যে ভুলবসত এসে আঘাত করে বসবেন। নাকি যেখানে সেখানে ধাক্কা খাওয়া আপনার অভ্যাস, মিস. নীলা। "

নীলা তাকিয়ে নিজেকে সেইফ দেখে শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে। তারপর কিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে,

" ওপস, মিসটেক স্যার। খেয়াল করি নি আপনাকে। যদিও আপনা মতো বিশাল শক্তপোক্ত এক খাম্বাকে খেয়াল না করায় নিজেকে ধিক্কার জানাচ্ছি। "

" মিসটেক? অর ইনটেনশনলি? "

কথাটা শুনেই নীলা রেগে যায়। সে কোমড়ে হাত রেখে ঝগড়া করার মুডে চলে আসে।

" আমাকে কি ওসব গায়ে পরা মেয়ে মনে করেন নাকি? আমি মোটেও ওসব মেয়ে নাহ, যে ছেলে দেখলেই গায়ে পরতে চাইবো। যদিও আপনি এখন ছেলে নন, পিউর ব্যাডা মানুষ। ব্যাডা মানুষের গায়ে পরা তো আরও নয়। ছেলে মানুষ হলে তাও একটা কথা ছিলো। "

শেষ কথাটা খুবই ধীর স্বরে বলায় কিয়ানের কানে পৌছায় নি। নীলার কথা শুনে কিয়ান তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে বিরবির করে,

" একট্রেস গার্ল। "

পুনরায় সে সামনের দিকে হাটা ধরে। নীলাকে কিছু না বলে ইগনোর করায় নীলার আরও গায়ে লাগে। তাই সে জোরে হেটে কিয়ানের সামনে দিয়ে বেরিয়ে পরে। এভাবে শিক্ষককে পেরিয়ে আগে যাওয়া ঠিক নয় জেনেও সে এমন কাজ করে শান্তি অনুভব করে। কিয়ান শুধু তাকিয়েই দেখতে থাকে মেয়েটার সাহস আর অভদ্রতা। সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় মেয়েটাকে অন্যভাবে শাস্তি দিবে সে। আর এক্ষেত্রে সে শিক্ষক হওয়ায় সুবিধাই হয়েছে।

****

নাবিহা নীলাকে রেখে লাইব্রেরিতে এসেছিলো একটা বই ফেরত দেওয়ার জন্য। নীলা আসে নি, কারণ তারও আজ বই জমা দেওয়ার কথা ছিলো। তবে সে আনতে ভুলে গেছে। লাইব্রেরিয়ান দেখলে নিশ্চয়ই তাকে কথা শুনাবে।

নাবিহা বইটা ফেরত দিয়ে অপর একটি বই খুঁজছিলো। তার সাইকোলজিক্যাল বই পড়ার বেশ আগ্রহ আছে। তাই সে গুগল থেকে জেনে একটি বই খুঁজতে এসেছে। তবে অনেকক্ষণ ঘুরাঘুরি করেও সে কাঙ্খিত বইটি খুঁজে পাচ্ছিলো নাহ। তবে এভাবে অনেকক্ষণ ঘুরাঘুরির পর সে একটি সারির উপরের তাকে বইটি খুঁজে পায়। কিন্তু সেই বইটি ছিলো তার নাগালের বাহিরে। নাবিহা হাইটে একটু খাটো হওয়ায় বইটি তার নাগালে আসছিলো নাহ। এমন সময় সে নিজের পেছনে একজনের অবস্হান টের পায়। সে দ্রুত পেছনে ঘুরতে নিলে ছেলেটির বুকের সাথে তার নাকের আঘাত লাগে। সে নাক ঢলতে ঢলতে বলে,

" ধ্যাত, কোন দয়ালের ভাই সাহায্য করতে এসে আমার নাক ফাটিয়ে দিলো। কে বলছে এত দয়ালের বাপ-ভাই হতে? "

নাবিহার এমন কথায় ছেলেটি ঘাবড়ে যায়। বইটি তাক থেকে নামিয়ে তা নাবিহার দিকে বাড়িয়ে দেয়। ছেলেটি আমতা আমতা করে বলে,

" আসলে আপনাকে দেখলাম.. বই নেওয়ার জন্য লাফালাফি করতে। ভাবলাম সাহায্য করি। "

" তাই বলে নাক ফাটিয়ে দিবেন? "

" সরি আপু। "

" ইটস ওকে ছোট ভাই। সরো যাও সামনে থেকে। "

মুহুর্তেই অচেনা মেয়েটির থেকে তুমি সম্বোধন শুনে ছেলেটি আরও থমকে যায়।

" আপনি কোন ইয়ারের স্টুডেন্ট? "

" থার্ড ইয়ার। তোমার সিনিয়র বাছাদন। "

" কোন ডিপার্টমেন্ট? "

" এত প্রশ্ন কেন হ্যাঁ? পরে গিয়ে সিনিয়রকে লাইন মারতে চাও? সাহস তো তোমার কম নাহ। লাইব্রেরি বলে ছেড়ে দিলাম তোমায়। নয়তো জুনিয়র হয়ে সিনিয়রকে লাইন মারার জন্য খবর ছিলো তোমার। "

ছেলেটির হাত থেকে বইটি ছো মেরে নিয়ে নাবিহা বেরিয়ে পরে। ছেলেটি বোকার মতো তখনও দাঁড়িয়ে থাকে। মনে পরে বইটি সাইকোলজি সংক্রান্ত বই ছিলো। সে ভেবে নেয় সম্ভবত নাবিহা সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টের থাড ইয়ারের স্টুডেন্ট। কিছু একটা ভেবে সে মুচকি হাসে।

চলবে......

কেমন হবে টিচার-স্টুডেন্ট নামক এই সাপে-নেউলে সম্পর্ক? কি মনে হয়, এই কিয়ানই কি সেই বুড়ো কিয়ান, যে নীলাকে দেখতে গিয়েছিলো?

সর্বোচ্চ রেসপন্স করবে সবাই। ভালো লাগলে গঠনমূলক মন্তব্য করবে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন