#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও
#পর্ব_৯
#মায়িশা_নুরাইন
" পায়ের ড্রেসিং করিয়েছো? "
কিয়ানের প্রশ্নে নীলার হুশ ফিরে। সে উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে উত্তর দেয়। তারপর আর কি বলবে না বুঝে কিয়ান চুপ ছিলো। তখনই নীলা হটাৎই প্রশ্ন করে,
" আপনি রাতে চলে গেলেন কেন? "
প্রশ্নটি শুনে কিয়ানের গত রাতের কথা মনে পরে যায়। সে গলা খাঁকারি দিয়ে এদিক-ওদিক তাকাতে থাকে। পাঁজি সোহানটাও ফোনটা তার হাতে দিয়ে রুম থেকে চলে গিয়েছে। এদিকে নীলা উত্তর শোনার জন্য স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে। উপায় না পেয়ে কিয়ান বলে,
" একটা জরুরি কাজ পরে গিয়েছিলো তাই। "
" মিথ্যে বলছেন কেন? "
" তোমাকে মিথ্যে বলতে যাবো কেন? "
" জানি নাহ। "
নীলার কোলে গলু-মনু দুষ্টুমি করছিলো। হটাৎ একটা বাচ্চা নীলার আঙুলে কামড় দিয়ে বসে। নীলা ব্যাথায় একটু চোখ-মুখ কুঁচকে নিলে এপাশ থেকে কিয়ান অস্থির হয়ে বলে,
" এই মেয়ে, বিড়ালের ভ্যাকসিন দিয়েছো? কামড় দিচ্ছে যে।"
" আজকে দিয়ে এনেছি। "
নীলা অন্যান্য দিনের চেয়ে আজ একটু বেশীই শান্ত ছিলো। কিয়ান তার শান্তভাব দেখে একটু অবাকই হয়। মূলত বাবার পোস্টিং এর কথা জানার পর থেকেই নীলার মন ভালো নেই। রফিক সাহেব যতই বুঝাক তাকে, সে মানতেই চাচ্ছে নাহ। বারবার মনে হচ্ছে এইবার হয়তো বাবার সাথে তার দূরত্ব বেড়ে যাবে৷ সে একা থাকবে কিভাবে!
এসব ভাবতে গিয়ে তার চোখ জল এসে পরে। কিয়ান বিষয়টা লক্ষ্য করে কিছু বলতেই যায়, তখনই সোহান লাফিয়ে এসে বলে,
" পরিইই, আই মিসড ইউ। "
নীলা হেসে ফেলে। বাচ্চাটা এত্ত কিউট কেন! নীলার কোলে গলু-মনুকে দেখে সোহান বলে,
" ও পরি, এই বেবী ক্যাটগুলোর নাম কি? "
নীলার হাত দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সম্পূর্ণ সাদা বাচ্চাটা গলু, আর কালো বাচ্চাটা মনু। নীলা যখন হাত দিয়ে তাদের দেখাচ্ছিলো, তখন বাচ্চা দুইটা আরও লাফালাফি করছিলো৷
সোহান এবার জেলাসি স্বরে বলে,
" শোনো পরি, আমি তোমার কাছে থাকলে কিন্তু এই দুষ্টু বেবী ক্যাটগুলোকে তোমার কোলে উঠতে দিবো নাহ। "
" কেন বাবু? "
" কারণ তোমার কোলে আমি থাকবো। তুমি যখন তোমার নরম হাত দিয়ে আমার গাল টেনে দাও, আমার এত্ত ভালো লাগে! "
" ও মা, তাই নাকি! ঠিক আছে,, তুমি আসলে আমরা বেবী ক্যাটগুলোর সাথে ব্রেকআপ করে নিবো। "
সোহানকে ফোন নিয়ে কথা বলতে দেখে কিয়ান গিয়ে ফ্রেস হয়ে তৈরি হয়ে আসে। সে আয়নার সামনে গিয়ে চুল আঁচড়ে নিজেকে দেখছিলো। এদিকে ফোনের স্ক্রিন একটু হেলে পরায় নীলা স্পষ্ট তাকে দেখতে পারছিলো। কিয়ানের প্রতিটি মুভমেন্ট সে অবাক হয়ে দেখতে থাকে। এই লোকটার বয়স পঁয়ত্রিশ! অথচ দেখলে বুঝাই যায় নাহ। শক্তপোক্ত দেহ, উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ চেহারা, আর গম্ভীর সেই মুখমন্ডলের মাঝেও একটা অসাধারণ ব্যক্তিত্ব কাজ করে।
" ও পরি, কখন থেকে ডাকছি আমি। তুমি কোথায় তাকিয়ে আছো? "
এমন সময় কিয়ান ঘুরলে তাদের চোখাচোখি হয়ে যায়। নীলা লজ্জা পেয়ে যায়। কিয়ান তখন সোহানকে বলে,
" শোন পিচ্চি, আমি এখন বাহিরে যাবো। তুই তোর রুমে যা। রুমে গিয়ে যত ইচ্ছা কথা বল। "
সেহানও উঠে পরে ফোন হাতে বেরিয়ে আসে। এদিকে কিয়ান বাড়ি থেকে বের হতে নিলে পেছন থেকে মায়ের ডাকে আটকে পরে। তার মা মমতাজ বেগম বলেন,
" এখন কোথায় যাচ্ছিস কিয়ান? "
" বাহিরে একটু কাজ ছিলো। কিছু বলবে? "
" কালকে তোর সময় আছে? "
কিয়ান একটু ভ্রু কুঁচকে বলে,
" কেন বলো তো? "
" তোকে নিয়ে এক জায়গায় যাবো। "
কিয়ান হটাৎই বলে,
" এখন আবার বলো নাহ পাত্রী দেখতে যাবে। "
" এভাবে বলছিস কেন? বিয়ে করতে হবে নাহ তোর? এক জায়গায় গিয়ে অপমানিত হয়ে এসেছি বলে কি তোর বিয়ে আটকে রাখবো? বরং আরও ভালো মেয়ের সাথে তোকে বিয়ে দিয়ে সেই মেয়েকে বুঝাবো তার থেকেও ভালো মেয়ে এই দুনিয়ায় আরও আছে। "
কিয়ান বুঝতে পারে সেদিন নীলার আচরণে মা প্রচন্ড রেগে আছেন। অবশ্য রাগার মতোই কাজ করেছে মেয়েটা। সেদিন যদি সামনে এসে অন্তত দেখা দিয়ে যেতো, তবে এত ঝামেলা হতো নাহ। পরে নাহয় সে রিজেক্ট করতো, তবুও এতটা অপমান হতে হতো নাহ। কিয়ান এসে মাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলে,
" আমি একটা কথা বলি শুনো। বিয়ে এমন একটা জিনিস, যা আমাদের কারও হাতে নেই। যখন, যার সাথে মিল লিখা থাকবে, তখনই তার সাথেই বিয়ে হবে। আগে থেকে এত কষ্ট করে তবে লাভ কি? "
মমতাজ বেগম রেগে গিয়ে ছেলেকে সরিয়ে দিয়ে বলেন,
" সর তুই। তুই তো চাচ্ছিস মা'কে হেনতেন বুঝিয়ে বিয়ে থেকে পালাতে চাচ্ছিস? বড় ভাইকে দেখে শিখলি নাহ কিছুই? সে তো নিজে পছন্দ করে বিয়ে করে ফেলেছিলো। আর তুই বিদেশে থেকেও কিছুই করতে পারলি নাহ। "
" আমি কাজের কাজ করেও তো এত্ত বড় হয়ে বউয়ের সামনেই মাইর খেলাম। এটা কি সঠিক কাজ ছিলো? "
পেছন থেকে একটা কন্ঠস্বরে তারা সেদিকে তাকায়। ছেলেটিকে দেখেই মমতাজ বেগম কান টেনে ধরে বলে,
" ওরে ফাজিল, নিজের নাম শুনেই উড়ে এসে পরেছিস। "
" মা ছাড়ো। এখনই সোহান এসে পরলে আমার মান সম্মান যাবে। এমনিই বউয়ের সামনে আমার মানসম্মান ভাসিয়ে দিয়েছো। এখন আর ছেলের সামনে এমন করো নাহ। "
" ইয়েএএ, পাপা কানমুলো খাচ্ছে। কি মজা! কি মজা! "
সোহানের কথায় কিয়ান হাসতে থাকে। এদিকে তার বড় ভাই সামিন মুখ কালো করে দাঁড়িয়ে থাকে। আজ শেষে ছেলের সামনেও মান সম্মান গেলো! ছেলেকে ধরতে সামিন তেড়ে গেলে সোহান খিলখিলিয়ে হেসে দৌড়ে এসে চাচ্চুর কোলে উঠে বসে। কিয়ানও ভাতিজাকে ভাইয়ের হাত থেকে আগলে নেয়। তাদের এমন আনন্দঘন পরিস্হিতিতে একজনের উপস্হিতি সব এলোমেলো করে দেয়।
" বাহ ভাবী, ছেলেপেলে নিয়ে ভালোই আনন্দে আছো দেখছি। আমাদের কোন খবরও নেও নাহ। "
" আরে রোজা যে, কেমন আছো তুমি? "
" আছি কোন রকম। জামাইয়ের চাকরি নিয়ে টানাটানি পরলে মানুষ যেমন থাকে আরকি। "
তার এমন ত্যাড়া কথায় মমতাজ বেগম থেমে যান। রোজা বেগম সামিন আর কিয়ানকে বলে,
" কিরে, ফুফুকে আসতে দেখে ভালো লাগছে নাহ নাকি? "
" কি যে বলো নাহ ফুফু। কেমন আছো বলো। বাড়ির সবাই ভালো তো? "
" আছে ভালোই। কিয়ান কেমন আছিস? "
" ভালো আছি। "
" আমাকে জিজ্ঞাসা করলি নাহ আমি কেমন আছি? "
" মা তো জিজ্ঞাসা করলোই। তখনই তো উত্তর দিলে। "
এবার কিয়ানের এমন উত্তর শুনে রোজা বেগম থেমে যান। সামিন মুখ টিপে হাসতে থাকে। তখনই একজোড়া হাত এসে মমতাজ বেগমকে জড়িয়ে ধরে।
" মামী, কেমন আছো তুমি? "
" আরে মীমু যে। কেমন আছিস তুই? "
" অনেক ভালো। এখন তোমাদের দেখে আরও ভালো আছি।
সামিন ভাইয়া কেমন আছো? "
" আমি তো সবসময়ই ভালো থাকি। "
কিয়ান কোল থেকে সোহানকে নামিয়ে চলে যেতে নিচ্ছিলো। তখনই মীমু এসে তার পথ আটকায়। কিয়ান থেমে যেতেই বলে,
" আমার সাথে কথা বললে নাহ যে? আমাকে ইগনোর করছো? "
" তোকে ইগনোর করে আমার কি লাভ? "
" সেটা তো তুমিই ভালো জানো। "
" সর সামনে থেকে। আমি বাহিরে যাবো এখন। "
" আমাকেও নিয়ে চলো। আমি যাবো সাথে। "
" আমি বাহিরে ঘুরতে যাচ্ছি নাহ যে সাথে কাউকে নিয়ে যাবো। কাজ আছে আমার। পথ ছাড়। "
মীমু বাধ্য হয়ে সরে দাঁড়াতেই কিয়ান বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তার যাওয়ার পথে তাকিয়ে মীমুর মুখে হাসি ফুটে উঠে। সে কল্পনা করতে থাকে কিয়ানের বাহু জড়িয়ে ধরে আছে সে। আর কিয়ানও হাসি মুখে তার দিকে তাকিয়ে আছে৷ হুশ ফিরতেই মীমু বিরবিরয়ে বলে,
" তোমাকে যে আমার হতেই হবে কিয়ান ভাই। তোমার জন্যই তে এতদিন অপেক্ষা করলাম। এবার যেকোন মূল্যেই হোক, তোমাকে নিজের করে ছাড়বো। "
************
দুদিন পর নীলা ভার্সিটিতে আসলো। এসে দেখে নাবিহা উপস্হিত হয়েছে। দুজনে একত্রে কথা বলতে বলতে ডিপার্টমেন্টের দিকে আসছিলো। তখনই কোথা থেকে অনেকটা পানি এসে নীলার গায়ে আছড়ে পরে। আচমকা এমন ঘটনায় নীলা হতভম্ব হয়ে যায়। পাশে থাকা নাবিহাও অনেকটা ভিজে গিয়েছে। ভার্সিটি মাঠে ঘটা এমন ঘটনায় আশেপাশে অনেকেই জড়ো হয়ে গেছে। তখনই তাদের সামনে উপস্হিত হয় রিমলী আর তার দলবল। রিমলীর হাতে একটা পানির মগ রাখা। রিমলীর মুখের হাসি দেখেই নীলা বুঝে যায় তাকে সবার সামনে অপমানিত করার জন্যই সে এমন কাজ করেছে। পানিতে ভিজে তার গায়ের ড্রেসও ভিজে গেছে। আশেপাশে ছেলেমেয়েদের জড়ো হওয়া দেখে নীলা আলগোছে তার জুটি করা চুলগুলো ছেড়ে দেয়। পিঠ পর্যন্ত ঘন চুলগুলো সামনে মেলে দিতেই সামনের ভেজা কাপড় ঢেকে যায়। নীলা সামনে এগোতে নিলে নাবিহা আটকে বলে,
" ক্লাসে চল। বাদ দে, শুধু শুধু লাগলে ঝামেলা বাড়বে। "
নীলা তার কথা পাত্তা না দিয়ে রিমলীর সামনে আগায়। রিমলীর মুখোমুখি হয়ে বলে,
" আপনি কাজটা কি ইচ্ছাকৃত করেছেন, নাকি ভুলবসত? "
রিমলীও একই ভাবে বলে,
" জেনে বুঝে, ইচ্ছাকৃতই করেছি। কি করবি তুই? "
" কাজটা ঠিক করলেন নাহ আপু। সেদিনের ঝামেলার কথা ভুলে যাওয়াই বেটার ছিলো। "
" ভুলে যাবো আমি? তোর ভাগ্য ভালো আজ শুধু পানি ছোড়েছি। নয়তো তোর এই সুন্দর চেহারায় এ সি ড ঢেলে দিতে পারলে শান্তি পেতাম। "
রিমলীর কথায় নীলা হালকা হাসে। তারপর পিছিয়ে আসে তার আগের জায়গায়, যেখানটায় তার উপর পানি ছোড়া হয়েছিলো। সেখানে পানি পরে মাটি ভিজে কাঁদা হয়ে আছে। নীলা বসে পরে হাত দিয়ে সেখান থেকে কিছুটা কাঁদা তুলে নেয়। তারপর মুহুর্তের মাঝেই এগিয়ে এসে কাঁদা গুলো রিমলীর মুখে লেপ্টে দেয়। রিমলী কিছু বুঝে উঠার আগেই তার মুখে কাঁদা লেপ্টে যায়। মাঠে থাকা সবাই অবাক সুর দিয়ে উঠে। নীলা এবার ঠান্ডা গলায় বলে,
" থার্ড ইয়ারে পড়ছি আমি। এখন পর্যন্ত কারণ ছাড়া কারও সাথে আমার ঝামেলা হয় নি। তবে ঝামেলা হওয়ার মতো কারণ পেলে আমিও ছাড়ি নি। আপনার বিষয়ে অনেক কিছু জেনেও আপু বলে আমি সম্মান দিয়েছিলাম। তবে আপনি সেই সম্মানের যোগ্য নন। যেচে পরে ঝামেলা করতে আসলেন। তবে আমিও নীলা রহমান, ছাড় দিতে রাজি নই। আপনি আমার উপর পানি ছুড়লেন আজ, আর আমি ছুড়লাম কাঁদা। যাকে বলে ইটের বদলে পাটকেল। "
রিমলী রেগে বলে উঠে,
" তোর সাহস কিভাবে হলো! "
নীলা এক পা সামনে এগিয়ে শান্ত গলায় বলে,
" সাহস আপনি দিয়েছেন। কারণ ছাড়া কাউকে অপমান করলে তারও যে আত্মসম্মান থাকে, সেটা হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন। "
" তোকে আমি.... "
" এনাফ! এটা ভার্সিটি, কোন ঝগড়ার মাঠ নয়। "
কিয়ানকে দেখে রিমলী কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে,
" স্যার, এই মেয়েটাই আমার মুখে কাঁদা ছুড়েছে। স্যার, কিছু বলুন মেয়েটাকে। "
সেদিনও রিমলীর সাথে ঝামেলা করতে দেখায় আজ কিয়ান নীলাকেই দোষী ভেবে নেয়। সে সবার সামনে নীলাকে অপমান করে বলে,
" আর কত নীচে নামবে তুমি? শুরুর দিন থেকে দেখছি তোমার সকল বেয়াদবী। ছোট-বড় কাউকে মান্য করো নাহ। এই শিখেছো পরিবার থেকে? "
" স্যার আমি..... "
" চুপ! একটা কথাও তুমি বলবে নাহ। তোমার কোন কথাই আমি শুনতে চাচ্ছি নাহ। তোমাকে আমি খুব ভালো করেই চিনে গেছি। সবাই যার যার ক্লাসে যাও। রিমলী, নিজের কাজে যান। আর নীলা, অফিসরুমে এসে দেখা করে যাবে। "
কিয়ান আর কেন কথা না শুনে ভিড় সরিয়ে দিয়ে চলে যায়। মাঠ খালি হতেই রিমলী তার সেই কাঁদা মাখা মুখে হাসি ফুটিয়ে চলে যায়। তার সেই হাসিতে যেন নিজের বিজয় প্রকাশ পাচ্ছে। এদিকে বিনা কারণে অপমানিত হওয়ায় নীলা
সেখানেই স্হির দাঁড়িয়ে থাকে। নাবিহা নীলার শান্ত ভাব দেখে বলে,
" নীলা, চল বাড়ি যাই। "
" নাহ, ক্লাসে চল। আজকে আমার প্রেজেন্টেশন দেওয়ার কথা ছিলো। "
" কিন্তু এই অবস্হায়..."
" কিছুই হবে নাহ। ভেজা পোশাক সহজেই বাতাসে শুকিয়ে যাবে। "
নীলা অস্বাভাবিক শান্ত রয়েছে। আর তার এই রুপটাই বেশী ভয়ের। নাবিহার সাথে নীলার পরিচয় ভার্সিটির ফাস্ট ইয়ার থেকেই। প্রথম বর্ষে নীলা খুবই প্রাণোচ্ছল একটা মেয়ে ছিলো। যদিও এখনও তেমনই আছে। তবে দিনকে দিন তার ভেতরে কিছু পরিবর্তন হচ্ছে। দ্বিতীয় বর্ষে উঠার পর একদিন একটি ছেলে তাদের ফ্রেশার্স ভেবে কটুক্তি করছিলো। নাবিহা সেদিনই প্রথম নীলাকে কারও গায়ে হাত তুলতে দেখে। নীলা সবার সামনে ছেলেটিকে থাপ্পড় মেরে বসে। তারপর থেকে তাদের ডিপার্টমেন্টের ছেলেগুলো আর কখনও নীলার আশেপাশে আসার চেষ্টা করে নি। দূর থেকেই যতটুকু সম্ভব বন্ধুত্ব রেখেছে। তাই তাদের তেমন কোন ক্লোজ ছেলে বন্ধু নেই। নীলা সর্বদা ঝামেলা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে। ভার্সিটি আসবে, নাবিহার সাথে ঘুরবে, ফিরবে, আর ক্লাস শেষে বাড়ি চলে যাবে। তার ছোট্ট জীবনটা কিছু মানুষকে ঘিরে সুন্দর ভাবেই চলছিলো এরই মাঝে আজকাল মেয়েটা কেন যেন শান্তি পাচ্ছে নাহ।
আজকে ভার্সিটি আসার পর থেকে দেখছে সে মনমরা হয়ে আছে। তারই মাঝে রিমলীর এমন ব্যবহার। আবার কিয়ানের অপমান৷ না জানি নীলা এবার আর কি করে! নীলার অস্বাভাবিক শান্ত ভাব তার মনে ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে বারবার। কারণ প্রাণোচ্ছল মানুষ যখন হটাৎ করেই শান্ত হয়ে যায়, তখনই বুঝে নিতে হয়, সামনে০ কঠিন কোন ঝড় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চলবে.......
(দ্রুত রেসপন্স করবেন। এখন পর্যন্ত রেসপন্সের জন্যই আমার আরামে লেখা দুইটা গল্প স্হগিত রেখেছি। যেগুলো নিয়ে আমার অনেকদূর আগানোর ইচ্ছে ছিলো। তবে মানুষ না পড়লে আমি কেন কষ্ট করবো! এসব ভেবে আর আগাই নি। যেদিন দেখবো সবাই আমার লেখা পছন্দ করছে, রেসপন্স করছে। আমি সেই গল্প দুটো পুনরায় শুরু করবো। আমি আপনাদের রেসপন্সের আশা করছি।
এক্সাম চলছে আমার। তবুও পড়া রেখে গল্প দিচ্ছি আমি। পেইজে শীঘ্রই ১০কে করে দিয়ে আমাকে একটু স্ট্রেসমুক্ত হতে সাহায্য করুন। যারা এখনও ফলো দেননি, দ্রুত ফলো দিয়ে দিন। ধন্যবাদ সবাইকে। ভালোবাসা নিবেন❤️)