#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও (২৬)
#মায়িশা_নুরাইন
চোখের সামনে সারি সারি ফুচকার প্লেট দেখে নীলা হতবাক। পাশেই গম্ভীর মুখে কিয়ান বসে আছে। হাতে একটা চিকন লাঠি টাইপের বস্তু ধরা রয়েছে। নীলার জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে বিছানাতেই পেয়েছে। সবচেয়ে বেশী অবাক হয়েছে কিয়ানকে এখানে দেখে।
" স্টার্ট করো। একটা ফুচকাও যেন বাদ না পরে। কষ্ট করে সাজিয়ে দিয়েছি। সব শেষ করবে। "
" এ-এতগুলো? এখানে তো পাঁচ প্লেট ফুচকা! "
" তো? খাবেই যখন কম খাবে কেন? দ্রুত শুরু করো। এগুলো শেষ করলে বাকিগুলো বানিয়ে দিবো। "
" বাকিগুলো মানে? "
" আরো পাঁচ প্লেটের মতো ফুচকা হবে। তাছাড়া আরও অনেক কিছু বাকি আছে। "
" আ-আরো অনেক কিছু মানে কি? "
" বিরিয়ানি, বার্গার, পিৎজা সব আছে। বেশী নয়, বিরিয়ানি দুই প্লেট, বার্গার পাঁচটা, আর পিৎজা তিনটা। কত খেতে পারো তুমি আমিও দেখবো। "
" আ-আপনি পাগল হয়ে গেছেন? আমি পারবো নাহ এত খেতে।"
" পারবে নাহ মানে? কষ্ট করে আনি নি আমি? "
নীলা উঠে পালাতে চাইলে কিয়ান তার হাটুর পাশে বিছানায় লাঠিটা সজোড়ে আঘাত করে। নীলা চমকে উঠে ভয় পেয়ে যায়। তাকে জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকতে দেখেও কিয়ানের মনে দয়ামায়ার সৃষ্টি হয় নাহ। সে ধমকের সুরে বলে,
" শুরু করতে বলেছি তো। খাবার অপচয় করা আমার পছন্দ নাহ।"
নীলা ভয় পেয়ে একের পর এক ফুচকা খেতে থাকে। ক্ষণে ক্ষণে কিয়ানের দিকে তাকালে কিয়ানের গম্ভীর মুখ দেখে ভয়ে কিছুই বলতে পারে নাহ। এমনিই চোরের মতো এসে অজ্ঞান বানিয়ে ফেলেছিলো। এখন খাইয়ে মেরেই ফেলবে মনে হয়।
নীলা অনায়াসে দুই প্লেট ফুচকা হজম করে নেয়। কিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে,
" বলছি বাড়িতে ডুকলেন কিভাবে? তাও এত জিনিস নিয়ে? "
" তোমাকে জানতে হবে নাহ। আগে শেষ করো এগুলো। "
" খাচ্ছি তো। আপনি বলুন নাহ। "
" তোমার রুমের বাড়ান্দা দিয়ে। "
" কিহ! আপনি চোর নাকি ডাকাত! বাড়ান্দা টপকে চলে এসেছেন! "
কিয়ান চোখ রাঙাতেই নীলা খাওয়া শুরু করে। কিয়ান বাড়ান্দা দিয়ে ঘরে ঢুকে সদর দরজা খুলে খাবার ভেতরে এনেছে। ততক্ষণ নীলা রান্নাঘরেই ভয়ে বসে থাকায় কিছুই টের পায় নি। তাকে ভয় দেখাতেই কিয়ান মেইন লাইট অফ করে মুখ চেপে ধরেছিলো। ফলস্বরুপ ভয়ে নীলা তার উপরেই ঢলে পরে।
নীলা অনেক কষ্ট করে আরেক প্লেট ফুচকা শেষ করে। এত ভয়ের মাঝে খাওয়া যায় নাকি। কিয়ান বসে বসে ফোন দেখছে। এমন সময় নীলা একটা ফুচকা তুলে কিয়ানের দিকে
বাড়িয়ে দেয়। কিয়ান তাকাতেই বলে,
" চলুন নাহ, দুজনে একসাথে খাই। খেয়ে দেখুন, মজ..."
আঙুলে কিয়ানের ঠোঁটের স্পর্শ পেতেই নীলা শিউরে উঠে। লোকটা তো ফুচকা খাচ্ছে নাহ, যেন তার আঙুলই খেয়ে ফেলতে চাচ্ছে।
" থামলে কেন? মজাই তো লাগছে৷ খাইয়ে দাও। "
নীলা মিনমিন করে বলে,
" নিজে খেয়ে নিন নাহ। "
কিয়ান লাঠিটা নড়চড় করতোই নীলা দ্রুত আরেকটা ফুচকা তুলে কিয়ানের মুখে ঠেসে দেয়। কিয়ান একটু বিরক্ত হলেও কিছু বলে নাহ। এভাবে প্রায় চার প্লেটের মতো ফুচকা নীলাকেই শেষ করতে হয়। এতটুকু খেয়ে নীলা ক্লান্ত। সে হাত না ধুয়েই চিৎ হয়ে শুয়ে পরে।
" এই মেয়ে, উঠো। বিরিয়ানি, বার্গার, পিৎজা খাবে কে? "
" আপনিই খেয়ে নিন। আমার পেট ভরে গেছে। "
কিয়ান এসে নীলাকে টেনে তুলে। নীলা উঠতে মোটেও রাজি নয়। সে কাঁদো কাঁদো হয়ে বাবাকে ডাকতে থাকে।
" বাবা, বাঁচাও আমায়। এই রাক্ষসটা আমায় খাইয়েই মেরে ফেলবে। "
" রাক্ষসরা খাইয়ে মারে নাহ। বরং নিজে খেয়ে মারে৷ "
" তো খেয়ে নিন নাহ। "
" অনুমতি দিচ্ছো? খাবো তোমায়? "
নীলা হকচকিয়ে যায়।
" ব-বিরিয়ানি কোথায়? নিয়ে আসুন। আমি খেয়ে নিচ্ছি। "
কিয়ান বাঁকা হাসে। রসিকতা করে বলে,
" শিউর খেতে পারবে? নাকি এখনই আবার উল্টে পরবে?"
নীলা ছলছল চোখে তাকায়।
" এমন কেন করছেন? আমি কি করেছি আপনার সাথে? সারাটাদিন অনেক জ্বালিয়েছেন। আমার উচিত ছিলো আপনাকে শায়েস্তা করা। অথচ পাশা উল্টে দিয়ে আমাকেই জ্বালাচ্ছেন আপনি। "
" আমি বিরিয়ানি আনি। ততক্ষণে তুমি ভাবতে থাকো তুমি কি করেছো। "
বিছানা থেকে প্লেটগুলো নিয়ে কিয়ান বেরিয়ে পরে। নীলা বাবু হয়ে বসে ভাবতে থাকে সে কিয়ানের রেগে যাওয়ার মতো কি করলো! সারাদিনে তো কথাই হয় নি তাদের। কলেজে গেলো, নাবিহা-শান্তর সাথে আড্ডা দিলো। তারপর ক্লাসে গেলো। ক্লাসে কিয়ান গিয়েই তো অত্যাচার শুরু করলো। সে তো কিছুই করে নি। নীলা আর ভাবতে না পেরে আবারও শুয়ে পরে৷ পেট ভরা অবস্হায় শুয়ে চোখ বন্ধ করতেই তার চোখে ঘুম চলে আসে। কিয়ান এসে নীলাকে ঘুমাতে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। একটা পাত্রে করে পানি এনে নীলার হাত ধুইয়ে দেয়। তাকে ঠিকমতো শুইয়ে দিতে গেলেই নীলা লাফিয়ে উঠে বসে৷
" কা-কাছে আসছেন কেন? দ-দূরে থাকুন। আমি চিৎকার করবো কিন্তু। "
কিয়ান তার দিকে ঝুঁকে পরে। এতে নীলা ঘাবড়ে গিয়ে একটু পিছিয়ে পরতেই কিয়ান আরও ঝুঁকে আসে। এতে নীলা বিছানাতেই পরে যায়। কিয়ান বলে,
" তুমি না ঘুমাচ্ছিলে? "
" আমি ঘুমাই নি। চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভঙ ধরছিলাম। "
" তাই বুঝি? তাহলে তোমার হাত পরিষ্কার হলো কিভাবে? ভুতে সাহায্য করেছে বুঝি? "
নীলা নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়। পরক্ষণেই ভোলাভালা হাসি দেয়।
" হেহে... গালতি সে মিসটেক। ভুলে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম বোধহয়৷ "
" তুমি এত্ত কিউট কেন নীলা? মিথ্যে বলেও কেউ এভাবে হাসে? "
কিয়ানের রসিকতা দেখে নীলা গাল ফুলায়। অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বলে,
" সরুন প্লিজ। আমার খারাপ লাগছে। "
" স্বামী কাছে আসলেও খারাপ লাগে বুঝি। "
" না না, সেটা নয়..."
" ওহহ, তাহলে ভালো লাগছে বুঝি? "
একটু আগে এতখানি খাওয়ায় নীলার এখন পেটে গুড়গুড় করছে। নীলা মুখ চেপে ধরতেই কিয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
" আগেই ভয়ে মুখ চেপে ধরছো কেন? ভাবছো তোমায় চুমু-টুমু খাবো নাকি? "
নীলা কিয়ানকে ঠেলে উঠে বসে। এক দৌড়ে ওয়াসরুমে গিয়ে সে সব উগড়ে বের করে দেয়। পিছু পিছু কিয়ানও এসে এমন অবস্হা দেখে ঘাবড়ে যায়। নীলার চুলগুলো পেছন থেকে জড়িয়ে নিয়ে তাকে ধরে রাখে। বমি শেষে নীলা একদম কাহিল হয়ে পরেছে। কেন রকমে চোখ মুখ ধুয়ে তাকে বিছানায় আনে। নীলা আবারও শুয়ে পরে। কিয়ান বুঝে ব্যপারটা অতিরিক্ত হয়ে গেছে। খালি পেটে এত খেয়ে বদহজম হয়ে গেছে। ওয়াসরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে কিয়ানের ঘৃণায় মুখটা কুঁচকে নিলেও কোনমতে কাজ সেরে নেয়। রুমে এসে দেখে নীলা একপাশ হয়ে শুয়ে আছে। কিয়ান ডাকতে গেলে নীলা হটাৎই তার শার্টের কলার চেপে ধরে। রাগান্বিত কন্ঠে বলে,
" সমস্যা কি আপনার? এভাবে জ্বালাচ্ছেন কেন? কিছু বলছিনা বলে সাহস পেয়ে বসেছেন৷ এখন শান্তি তো আমাকে কষ্ট পেতে দেখে। "
" সরি নীলা, আমি ভাবি নি এতটা এক্সট্রিম হয়ে যাবে ব্যাপারটা। "
" বলুন ইচ্ছে করে করেছেন এসব। আমাকে কষ্ট পেতে দেখে আপনার শান্তি হয়। "
নীলা রাগে ফুঁপিয়ে উঠে কিয়ানের বুকে আগত করতে থাক। কিয়ান না রেগে উল্টো নীলার গালে ঠোঁট ছোয়ায়। অপরাধী স্বরে উত্তর করে,
" আমার ভুল আমি স্বীকার করছি। এতে অবশ্য আমি ততটাও অনুতপ্ত নই। দোষ তো তোমারই বেশী। স্বামী থাকা স্বত্বেও অন্য ছেলের কাছে কেন খাবারের বায়না ধরবে তুমি? ক্যাম্পাসে অন্য ছেলের সাথে এত কথা, হাসাহাসি কিসের? আমার সাথে তো দুটো ভালো কথাও বলো নাহ। আমার বুঝি রাগ হয় নাহ? "
নীলা চোখ বড় বড় করে তাকায়। হতবিহ্বল হয়ে বলে,
" এই সাধারণ কারণে এত বড় শাস্তি! আপনি জানেন ছেলেটা কে? শান্ত, নাবিহার বয়ফ্রেন্ড। নাবিহাকে পটাতে এসে আমার থেকে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করেছে। সেদিন তো দেখলেনই নাবিহাকে প্রপোজ করলো। দেখেন নি আপনি? তবুও প্রশ্ন তুললেন? "
" কিছুই দেখি নি আমি। কারণ তখন আমি তোমাকে দেখায় ব্যস্ত ছিলাম। "
" অসভ্য লোক। "
নীলাকে গাল ফুলাতে দেখে কিয়ান হাসে। মাথায় ঠোঁট ছুইয়ে তাকে রেস্ট করতে বলে নিজে রান্নাঘরে চলে আসে। বাসায় চাল, ডাল দেখে পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে খিচুরি রান্না করে নেয়। আপাতত যা আছে তা দিয়েই রাত পার করতে হবে। নীলাকে ভয় দেখানোর জন্য তখন বিরিয়ানি, বার্গার, পিৎজার কথা বলেছিলো। তার জানা আছে ফুচকা খেয়েই নীলা আর কিছুই খেতে পারবে নাহ। এখন যেহেতু সব উগড়ে দিয়ে পেট খালি হয়ে আছে। তাই রাতের জন্য রান্না করে নিলো।
*************
" কিয়ারা আপু, তুমি কখন এসেছো? "
" এইতো সকালেই। তোমরা কোথায় ছিলে? ভাইয়া, তুমি কোথায় ছিলে? "
নীলা বলে,
" আমি কালকে আমাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। আন্টিকে বলেছিলাম যাবো। আর ওনি কোথায় ছিলেন তা আমি জানি নাহ। "
কিয়ান অবাক হয়ে তাকায়। মেয়েটা খাঁড়ার উপর কিভাবে মিথ্যে বলে দিলো। কিয়ান না পারতে নিজের বন্ধুর সাথে ছিলো বলে জানায়। কিয়ারা মিটিমিটি হাসতে থাকে। নীলাকে কাছে টেনে নীলার জামাটা গলার কাছে টেনে দেয়। খোলা চুল সামনে এনে গুছিয়ে দেয়। দুজনে একত্রে রুমে দিকে যেতে যেতে বলে,
" বাহিরে বের হওয়ার আগে আয়নায় নিজেকে দেখে তারপর বের হবে। "
নীলা লজ্জায় পরে যায়। অসভ্য লোকটার জন্যই এত ঝামেলা। সকালে ঘুম থেকে উঠে কিয়ানের বুকে নিজেকে দেখায় ছুটোছুটি শুরু করেছিলো। তখনই বজ্জাত লোকটা তার ঘাড়ে কামড়ে দিয়েছে। কিয়ারাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে নীলা ঘাবড়ে গিয়ে বলে,
" আ-আপু, আপনি যা ভাবছেন তা নয়। আসলে..."
" আমি ওত আসলে-নকলে জানতে চাই নাহ। আমার ভাই ভালো থাকলে তাতেই আমার শান্তি। "
" সরি আপু। "
" হটাৎ সরি কেন? "
" ওটা বলা যাবে নাহ। ভাবলেই আমার নিজেরই লজ্জা লাগে। "
" তুমিও বুঝি অন্যদের মতো আমায় ভাইয়ার বউ ভেবেছিলে? "
নীলা অবাক হয়ে তাকায়। কিয়ারা হাসতে হাসতে বলে,
" আসলে ভাইয়া আর আমার বয়স কাছাকাছি। প্রায় পাঁচ বছরের ডিফারেন্ট হলেও আমরা পিঠেপিঠি বড় হয়েছি। ছোটবেলায় আমার মা মারা গেলে এই বাড়িতেই বেশী থাকা হয়েছে আমার। স্বভাবতই ভাইয়ার বন্ধুরা আমাকে ভাইয়ার পছন্দের ভেবে বসতো। যদিও আমরা সেসব নিয়ে অনেক হাসতাম। কারণ সেসব ভাবনা আমাদের মধ্যে কখনও আসেই নি।
বড় হলে পারিবারিকভাবেই আয়ানের সাথে আমার বিয়ে হয়। তখন কিয়ান ভাই বিদেশ ছিলো। সময় করে আসতে পারে নি। খুব রাগ করেছিলো তার অনুপস্থিতিতে বিয়ে করে নেওয়ায়। তবে উপায় ছিলো নাহ। আয়ানের বিদেশের মাটিতে চাকরি হয়, তাই দ্রুত বিয়ে করে আমায় নিয়ে চলে যায়। তারপর প্রায় তিন বছর পর দেশে ফিরলাম। "
" ভাইয়া কোথায় এখন? "
" চলে গিয়েছে নিজের কাজে। পরেরবার মাসখানিকের ছুটিতে আসবে বলেছে। দেখা যাক কি হয়। "
************
কিয়ারাকে নীলার রুমেই থাকতে বলা হয়েছে। ব্যপারটা জানার পর থেকেই কিয়ান রেগে আছে। সদ্য বিয়ে করে যখন বউয়ের কাছাকাছি থাকবে, তখন সেখানে বাঁধা পরে গেলো!
কিয়ান ছাদে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরায়। কয়েক টান দিতেই সেখানে কিয়ারা চলে আসে। কিয়ারাকে দেখেই কিয়ান মুখ ঘুরিয়ে নেয়। হাতে সিগারেট ফেলে পায়ে পিষে দেয়। কিয়ারা ধীরে পায়ে এগিয়ে আসে।
" কালকে তুমি নীলার সাথেই ছিলে নাহ? "
কিয়ান উত্তর দেয় নাহ। মুখ গম্ভীর করে দাঁড়িয়ে থাকে। কিয়ারা ব্যস্ত হয়ে বলে,
" ভাইয়া, তুমি নীলাকে পছন্দ করতেই পারো। তাই বলে এখনই এসব...."
" আমার বউ, আমি যা ইচ্ছা তাই করবো। তোকে বলতে হবে সব? "
" বউ মানে? তোমরা বিয়ে করে নিয়েছো? "
" হু। "
" হু মানে? এটা কি করলে তুমি? আমাকে জানালেও নাহ। বাড়ির কেউ আমাকে জানালো নাহ! "
" তুইও তো আমার অনুপস্থিতিতেই বিয়ে করে ফেলেছিলি। "
" দুটো বিষয় পুরোপুরি ভিন্ন। আমার সময় তুমি দেশেই ছিলে নাহ। দোষ আমার নাহ এখানে। "
" আমি তোরই দোষ ভেবে নিয়েছি। "
কিয়ারা রেগে গাল ফুলায়। একপাশে গিয়ে চুপটি করে বসে থাকে৷ কিছুক্ষণ পরে কিয়ান এসে তার পাশে বসে। ধীর স্বরে বলে,
" রেজিস্ট্রি করেছি শুধু। বাড়ির কেউ এখনও জানে নাহ। তোকেই প্রথম জানালাম। "
" হটাৎ কি এমন হয়েছিলো যে তাড়াহুড়ো করতে হলো? "
" পার্সোনাল ম্যাটার। "
" বুঝলাম। বাড়িতে জানাও নি কেন? "
কিয়ান সংক্ষেপে নীলাকে দেখতে যাওয়ার কাহিনী শুনায়। কিয়ারা সব শুনে বলে,
" এখন কি করবে ভাবছো? "
" আপাতত সময় নিচ্ছি। মা আমাকে বিয়ে দিতে উঠেপরে লেগেছে। ভাবছি এবার বাবা আর আঙ্কেল বাড়ি ফিরলেই সব জানিয়ে দিবো। ভুল যখন হয়েই গেছে, তার মাশুল তো দিতেই হবে। "
কিয়ান নড়েচড়ে বসে বলে,
" তা তো অবশ্যই দিবে। আমি আর নীলার রুম ছাড়ছি নাহ। বিয়ের আগে বউকে আর পাচ্ছো নাহ। এটাই তোমার শাস্তি। "
কিয়ারা হাসতে হাসতে যেতে থাকে। কিয়ান রেগে গেলেও বলে,
" সাবধানে দেখে শুনে পা ফেল। কিছু হলে হাত-পা ভেঙে বিছানায় ফেলে রাখবো। তারপর আমার বউ নিয়ে আমি ঘুরতে চলে যাবো। "
চলবে.......