#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও (২৭-ক)
#মায়িশা_নুরাইন
" নীলা, রুমে আসো দ্রুত। দরকার আছে। "
" নীলাকে কি দরকার? আমার জানামতে তোমার জিনিস তুমি নিজেই গুছিয়ে রাখো। এমন তো হওয়ার কথা নয় যে তোমার জিনিস খুঁজে দিতে নীলাকে লাগবে। "
" কিয়ারাআআ! তুই এখানে কেন? "
" হাহ! ভুলে গেলে? আমার তো নীলার সাথেই থাকার কথা। "
কিয়ান নীলাকে ডাকতে তার রুমে এসেছিলো। এখন এসে কিয়ারাকে দেখেই তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।
" তুমি চলে যাও ভাইয়া। নীলাকে আমার দরকার আছে। "
" কিসের দরকার তোর? "
" নীলা...নীলা এখন আমার মাথায় তেল দিয়ে দিবে। তাই না নীলা? "
নীলা ঘাবড়ে গিয়ে আমতা আমতা করতে থাকে।
" ইয়ে মানে...হ্যাঁ..."
কিয়ান দাঁতে দাঁত চেপে উত্তর করে,
" ও নিজের মাথাতেই তেল ছোঁয়ায়? তোকে তেল দিয়ে দিবে কি করে? সোনার চামচ মুখে দিয়ে বড় হয়েছে মহারাণী। এসব তার কম্য নয়। "
নীলা রাগে গজগজ করতে থাকে। এত বড় অপমান!
" আমি পারবো নাহ আপনাকে কে বলেছে? "
" পারবে? প্রমাণ দেখাও তবে। "
সবাইকে সরিয়ে দিয়ে কিয়ান রুমে ডুকে পরে। বিছানায় আসন করে বসে বলে,
" দাও, আমার মাথায় আগে এক্সপেরিমেন্ট করো। তোমার এই আনাড়ি হাত দিয়ে আমার বোনকে তো আর বিপদে ফেলতে পারি নাহ। "
" আমি আপনার মাথার চুল একটা একটা করে টেনে ছিড়বো, বদ লোক কোথাকার। "
" তুমিও বদ মহিলা। স্বামীর চুল ছিঁড়া কোন মহৎ কাজ নয়। "
" এই আমকে মহিলা বলেন কোন সাহসে? আমি মহিলা? হু?"
" নাহ, কচি খুকি তুমি। আমি তো বাল্যবিবাহ করেছি। দামড়ি মেয়ে একটা। "
" আপনাকে আমি ছাড়বো নাহ। "
কিয়ারা ওদের কান্ডকারখানা দেখে হাসতে থাকে। এমন সময় সেখানে সোহান হাজির হয়। সে কিয়ানকে খুঁজতে খুঁজতে এখানে চলে এসেছে।
" কি করছো তোমরা? মারামারি করছো কেন? "
" তোর চাচী বড্ড দুষ্টু হয়েছে। তাই শিক্ষা দিচ্ছিলাম। "
" চাচী? "
সোহানের অবুঝ প্রশ্নে কিয়ানের হুশ ফিরে। সে নীলার দিকে তাকাতেই নীলা ইশারায় না করে। এতে কিয়ান মজা পেয়ে মিচকে হাসি দেয়। সোহানকে টেনে এনে কোলে বসিয়ে বলে,
" এই যে এক পাগলিকে দেখছিস নাহ? এ কে জানিস? "
সোহান রেগে বলে,
" পাগলি বলবে নাহ। ও আমার পরি হয়। "
" হুস! পরি-টরি ভুলে যা। এখন থেকে নতুন নামে ডাকবি ওকে। "
নীলা ক্রমাগত না করছে। কারণ বাচ্চারা এতসব বুঝে নাহ। বাই এনি চান্স, বড়দের সামনে সব প্রকাশ করে দিলে খুব খারাপ হয়ে যাবে।
" এখন থেকে ওকে পরি না বলে বলবি পাগলী। দেখছিস চুলের কি অবস্হা করেছে। শুধু পাগলীদের চুলই এমন এলোমেলো থাকে। "
সোহান ভাবুক হয়ে বলে,
" আমাদের রাস্তাতেও একটা পাগলী আছে। রাস্তায় বসে থাকে, কখনও হাসে, কখনও কান্না করে। ওরও চুল অনেক এলোমেলো থাকে। "
" হু, আরেকটা পাগলীকে দেখে নে। এটা নীল পাগলী। মাথায় কাকের বাসা নিয়ে বসে আছে। "
" আপনি কাক। কালো কুচকুচে কাক। "
কিয়ান শয়তানি হেসে ফিসফিসিয়ে উঠে,
" আমার বাসা তো তোমার মনে নীলপরি। তোমার মাথার এলোমেলো চুলে নয়। "
নীলা রাগে লাল হয়ে যায়। একটা বাচ্চার সামনে তার প্রেস্টিজ পাংচার করে দিচ্ছে। কিয়ারা পরিস্হিতি সামলাতে বলে,
" ভাইয়া, অনেক হয়েছে। তুমি যাও তো এখন। "
" খেয়েছিস তুই? "
" খেয়েছিলাম দুপুরে। "
কিয়ান নীলাকে বলে,
" যাও তো, কিয়ারার জন্য কিছু ফ্রুটস কে'টে আনো। "
নীলা রাগে গজগজ করতে করতে চলে যায়। কিয়ারা হেসে ফেলে। বিছানায় এসে বসে বলে,
" শুধু শুধু মেয়েটাকে জ্বালাও কেন? দুদিন ধরে এসেছি আমি৷ একদিনও তোমাদের স্বাভাবিক দেখলাম নাহ। "
কিয়ান হালকা হাসে। মেয়েটা রাগ করলে যেই লাল বর্ণের চেহারা বানায়, তা দেখতে বড্ড সুন্দর লাগে তার কাছে। তাই তো বারবার সুযোগে সুযোগে রাগিয়ে দেয় মেয়েটাকে।
সোহান বসে বসে কিয়ানের ফোনে কার্টুন দেখছে। তার ধ্যান-জ্ঞান আপাতত টম এন্ড জেরীতে আবদ্ধ। ফোন দেখতে দেখতে হটাৎ সে বলে উঠে,
" চাচ্চু, একটু আগে তুমি আর পরিও এমন দুষ্টুমি করছিলে। ঠিক টম আর জেরীর মতো। "
কিয়ান হাসে। হটাৎ পায়ের কাছে কিছুর সুরসুরি অনুভব হলে কিয়ান দ্রুত পা তুলে নেয়। দেখে একটা বিড়াল ছানা তার পায়ের কাছে এসেছিলো। এই বিড়াল দুটোর জন্যই কিয়ান এ রুমে সহজে আসে নাহ। আসলেও দরজা থেকেই কথা বলে চলে যায়। আর এখন তাকে বাধা দিয়ে স্বয়ং কিয়ারাই উপস্হিত। বেচারা কিয়ান!
নীলা ফলের প্লেটসমেত রুমে হাজির হয়। এখনও এখানে কিয়ানকে বসে থাকতে দেখে বলে,
" আপনি এখনও জাননি? "
" তাড়িয়ে দিচ্ছো কেন? দেখি তো কেমন কাজ পারো তুমি? "
নীলার হাত থেকে ফলের প্লেট হাতে নিয়ে কিয়ান হোহো করে হেসে উঠে। আপেল কে'টে এনেছে সে। অথচ ছিলতে গিয়ে অর্ধেক আপেলই ফেলে দিয়েছে। কিয়ারাও হাসে। নীলা তা দেখে মুখ গোমড়া করে ফেলে।
" আপু, তুমিও? "
" সরি, আর হাসবো নাহ। এতটুকু যে করেছো, তাই অনেক। "
হটাৎ কিয়ান খেয়াল করে নীলার একটা আঙুল হতে র'ক্ত বের হচ্ছে। সে কিছুটা রাগান্বিত কন্ঠে বলে,
" ফল কা'টতে বলেছিলাম। আঙুল নয়.."
" হাহ? "
নীলা অবুঝ নয়নে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে র'ক্ত দেখেই চিৎকার করে উঠে। কিয়ান দ্রুত এসে তার আঙুল চেপে ধরে।
" সামান্যই তো কে'টেছে। চিৎকার করার কি আছে? "
" আআ, ব্যাথা করছে। "
" দেখ কাহিনী। এতক্ষণ দেখে নি, ব্যাথাও করে নি। এখন দেখতেই ব্যাথা পাচ্ছে। অভিনয় সব। "
নীলা ব্যাথায় চিৎকার করছিলো। আর কিয়ান তাকে সামলাতে ব্যস্ত। এমন সময় দরজায় এসে মমতাজ বেগম হাজির হন। "
" কি হচ্ছে এখানে? কিয়ান, তুই এখানে কি করছিস? "
নীলা চমকে উঠে দ্রুত নিজের হাত কিয়ানের থেকে ছাড়িয়ে নেয়। কিয়ান সোজা হয়ে দাঁড়ায়।
" কিয়ারার সাথে দেখা করতে এসেছিলাম। "
" তো নীলার সাথে কি? "
" ওর হাত কে'টে গিয়েছে। তাই দেখছিলাম। "
মমতাজ বেগম গম্ভীর মুখে এগিয়ে আসেন। নীলার হাত টেনে দেখতে থাকেন কতটা কে'টেছে। নীলা ঘাবড়ে ছিলো।
" রুমে এন্টিসেপটিক থাকার কথা। লাগিয়ে নিলেই তো হয়। সামান্য ব্যাথায় লাফালাফি করার কি আছে? "
নীলা মন খারাপ করে মাথা নামিয়ে নেয়। এই ব্যাথাকে তিনি সামান্য বলছেন! অথচ এমন সামান্য আঘাতে সে বাড়ি মাথায় করে তুলতো। বাবাও অস্হির হয়ে পরতেন। মেয়ের সামান্য আঘাতেই তিনি কষ্ট পেতেন। তার এখন বাবার কথা খুব মনে পরছে। মমতাজ বেগমের থেকে হাত ছাড়িয়ে সে মৃদু গলায় উত্তর করে,
" আমি... ঠিক আছি। কিছুই লাগবে নাহ। "
নীলার শান্ত অবয়ব দেখে মমতাজ বেগম একটু অবাক হলেও কিছুই বলেন নাহ। তিনি রুম থেকে বেরুতেই কিয়ানকেও বেরিয়ে আসতে হয়। অবশ্য আসার আগে কিয়ারাকে ইশারায় নীলাকে দেখতে বলে যায়। নীলা কা'টা হাতে কোন ঔষধ লাগায় নাহ। সেভাবেই নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে বাড়ান্দায় চলে আসে। সম্পূর্ণ সময়টাই সে মাথা নামিয়ে ছিলো।
সন্ধ্যা পেরিয়ে ধরনিতে রাতের অন্ধকার নেমে এসেছে। সেই অন্ধকারে নীলা বাড়ান্দায় বসে আছে চুপচাপ। বাবার নাম্বারে কয়েকবার ডায়াল করলেও বাবা রিসিভ করেন নি। এতে তার মনটা আরও খারাপ হয়ে যায়। বাবা তাকে ভুলে গেছে! আজকাল আগের মতো প্রতি বেলা কথাও হয় নাহ। তার চোখে পানি এসে জমে। তার কেউ নেই। কিয়ানও তার নয়। এক অদৃশ্য বন্ধনে তারা আটকে আছে। যেই বন্ধনের কোন নিশ্চয়তা নেই। বাঁধন ছিড়ে যখন-তখন তারা দুদিকে ছিটকে পরতে পারে। এই অনিশ্চিত জীবন নিয়ে নীলা হাঁপিয়ে পরেছে।
এমন সময় বাবা কল করে। নীলা রিসিভ করেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে। রফিক সাহেব ঘাবড়ে যান। কিছুদিন ধরে কাজের চাপ বেশী হওয়ায় মেয়ের সাথে তেমন যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে নাহ। তিনি সাজিদ সাহেবকে কাজের পাহাড়ায় বসিয়ে দ্রুত অফিসরুম থেকে বের হন। নিরিবিলি এক স্হানে বসে মেয়ের সাথে মন খুলে কথা বলতে চান তিনি।
" আমার মামনির কি হয়েছে? মন খারাপ? "
" আমাকে নিয়ে যাও.. বাবা। আমি এখানে আর থাকবো নাহ।"
" কিছু হয়েছে মা? কেউ কিছু বলেছে? "
" নাহ৷ আমার ভালো লাগে নাহ তোমাকে ছাড়া। খুব কান্না পায়। আমি তোমার কাছে আসবো। প্লিজ বাবা, আমাকে নিয়ে যাও। "
মেয়ের কান্না বাবার বুকের ভেতর বিঁধে যাচ্ছে। তিনি অসহায় হয়ে বলেন,
" মা রে, বাবার যে খুব কাজের ব্যস্ততা। তোকে নিয়ে আসি কিভাবে? "
নীলা দ্রুত চোখ মুছে বলে,
" আমি একাই আসতে পারবো। সামিন ভাইয়াকে বলবো আমায় গাড়িতে তুলে দিতে। তুমি আমাকে রিসিভ করবে। তাহলেই তো হয়। "
রফিক সাহেব কিছুক্ষণ ভাবতে থাকেন। অনেকদিন তো হলো তিনি এসেছেন। এখন মেয়ের একটু ঘুরে যাওয়াই বেটার হবে। বাবা-মেয়ের সাক্ষাৎ হবে, মেয়েরও কিছুটা ঘুরাঘুরি হবে৷ তাই তিনি পরে জানাবেন বলে কথা শেষ করেন।
ফোন রাখতেই নীলা একটু খুশি হয়। সিদ্ধান্ত নেয় এবার গিয়ে আর আসবেই নাহ। এখানে কিয়ানের মা তাকে পছন্দ করে নাহ। তানহার সাথে তেমন সাক্ষাৎই হয় নাহ। মীমু তাকে সহ্যই করতে পারে নাহ। আর রইলো কিয়ারা। সে তো সবে মাত্র আসলো। এবার নীলা বাবার কাছে গিয়ে এমন বায়না ধরবে, বাবা তাকে আর ফিরতে দিবেন নাহ। এসব ভেবে সে খুশি হয়ে যায়।
***************
" নীলু, আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে ট্যুরের আয়োজন করা হচ্ছে। খুব মজা হবে বল। "
" হু। "
" এবার কক্সবাজার যাবে শুনলাম। তিন দিন থাকবে। "
" হু। "
" কিসের হু হু করছিস? কথা বলছিস নাহ কেন? "
নীলা চমকে উঠে।
" কি বলছিলি? "
" কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলি? এবার ট্যুরে কক্সবাজার যাবে বলছে। খুব মজা হবে বল। আমরা কেউ-ই তো আগে যাই নি।"
" হুম। মজাই হবে। "
" তোর কি হয়েছে বল তো। এত মনমরা হয়ে আছিস কেন? ......স্যারের সাথে কিছু হয়েছে নাকি? "
নীলা চেতে উঠে।
" ওনার কথা বলবি নাহ আমায়। আস্ত বজ্জাত লোক। আমি ওনার নামও শুনতে চাই নাহ। "
" কি হয়েছে সেটা তো বল। "
" কি বলবো আমি? অসহ্যকর লোক উনি। ওনার মা যেখানে আমাকে পছন্দ করেন নাহ, সেখানে আমাকে বিয়ে করতে কে বলেছে? আজকে ওনাকে ভার্সিটি আসতে দেখেছিস? "
নাবিহা কিছুটা ভেবে বলে,
" নাহ তো। "
" দেখবি কিভাবে? ওনি এখন ডেটিংয়ে ব্যস্ত। "
" কিহ? "
" জ্বি। মেয়ে নিয়ে ঘুরতে গিয়েছেন ওনি। "
পরক্ষণেই মনমরা হয়ে বলে,
" গতরাতে ওনার আর মায়ের প্রচন্ড কথা-কাটাকাটি হয়। দুজনই একই সমান ঘাড়ত্যাড়া। অবশেষে মায়ের কথা রাখতে তিনি আজকে আরেকটা মেয়ের সাথে রেস্টুরেন্টে দেখা করতে গিয়েছেন। "
নাবিহা চেতে গিয়ে বলে,
" এটা ঠিক করেন নি। ওনার উচিত এখন সবাইকে বাড়িতে জানিয়ে দেওয়া। এভাবে কতদিন চলবে? পরে বিয়ে করতে বাধ্য করা হলে কি করবেন তিনি? "
" আমি জানি নাহ ওনার মনে কি চলতেছে। আমার ভালো লাগছে নাহ এসব। ভাবছি চলেই যাবো বাবার কাছে। আর আসবো নাহ এই শহরে। "
" নীলা! এসব কি বলছিস? "
" তো কি? এই শহরে আমার কেউ নেই। আমি বড্ড একা। "
" আর আমি? "
" তুই তো আজকাল শুভ্র ভাইয়াকে নিয়ে বেশী ব্যস্ত থাকিস। আমিই শুধু একা। "
নাবিহা একটু মেকী হাসি দেয়। একথা অস্বীকার করার মতো কোন উপায় নেই। নীলার মন ভালো করতে নাবিহা বলে,
" চল, গোল চত্ত্বরে নতুন একটা রেস্টুরেন্ট ওপেন হয়েছে। ঘুরে আসি দুজনে। "
নীলা কিছুটা ভেবে রাজি হয়। পেট শান্তি তো মন শান্তি। সকালে না খেয়েই সে চলে এসেছে। এমনকি আসার আগে কিয়ানের সাথেও দেখা করে নি। ফোন করলেও রিসিভ করে নি। থাকুক ওনি ওনার মায়ের কথা নিয়ে।
দুজন মিলে রেস্টুরেন্টে গিয়ে হাজির হয়। মেনু দেখে কয়েকটা খাবার অর্ডার করে। দুজন ট্যুরের ব্যাপারটা নিয়েই কথা বলছিলো। হটাৎ নাবিহার চোখ পরে নীলার পেছনে দুটো টেবিল পরে দুজন মানুষের দিকে।
" নীলা, ওটা.... কিয়ান স্যার নাহ? "
নাবিহার কথায় নীলা পেছনে তাকায়। তাকিয়ে নিজেও অবাক হয়ে পরে। ফরমাল ড্রেসআপে সুদর্শন পুরুষটি অন্য মেয়ে নিয়ে বসে আছে। মুহুর্তেই রাগে নীলার মুখ লাল হয়ে উঠে।
নাবিহা হকচকিয়ে গিয়ে বলে,
" দোস্ত, তুই ঠিক আছিস? "
" নাহ। "
" তোর মুখ লাল হয়ে এসেছে। "
" রাগে। "
" ও-ওহ। আব...খাবার..."
তখনই ওয়েটার এসে তাদের অর্ডার করা খাবার দিয়ে যায়। নীলা তখনও পেছনের দিকে তাকিয়ে কিয়ান আর ওই মেয়েটিকে দেখছে। তারা কিছু নিয়ে বেশ আড্ডায় মশগুল। খুব হাসাহাসিও করছে। যেই লোক গতকাল রাতেও রাগ দেখাচ্ছিলো, সে এখন মেয়েটির সাথে এত মিলে গেছে! এ তো সত্যিকার অর্থেই লিচু পুরুষ। বউ থাকতেও পরনারীর সাথে হাসাহাসি নাহ! এর শিক্ষা তো দিতেই হবে।
মাত্র অর্ডার করা লাচ্ছি দেখে নীলার একটা উপায় মাথায় আসে। সে লাচ্ছির গ্লাস হাতে নিয়ে নাবিহাকে বসতে বলে উঠে পরে। সোজা এগিয়ে যায় কিয়ানদের টেবিলের দিকে। নাবিহা বুঝে ফেলে আজ মেয়েটা শেষ।
মেয়েটির সামনে গিয়ে নীলা আচমকা হাতের গ্লাসটি মেয়েটির উপর ফেলে দেয়। মেয়েটি চমকে উঠে। মেয়েটির জামা ভিজে গেছে। সে উঠেই জামা ঝাড়তে থাকে। নীলা মুখে হাত দিয়ে অভিনয় করে করুন সুরে বলে,
" ওপস, সরি। নিজের স্বামীর সাথে পরনারীকে দেখে ভুল করেই গ্লাসটা হাত থেকে স্লিপ খেলো। আপনি ভিজে যাননি তো? "
চলবে......