#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও (৩০)
#মায়িশা_নুরাইন
" নীলা আমার ওয়াইফ। ওকে আমি বিয়ে করেছি। অফিশিয়ালি আমরা স্বামী-স্ত্রী। তাই আমার সম্মতি ছাড়া ওকে আপনি নিয়ে যেতে পারবেন নাহ। "
রফিক সাহেব চমকে উঠে মেয়ের হাত ছেড়ে দেন। তীব্র অবিশ্বাস তার চোখে মুখে ফুটে উঠছে। নীলা বাবার এমন অবস্হা দেখে এক ঝটকায় কিয়ানের হাত ছাড়িয়ে বাবার কাছে দৌড়ে যায়।
" বাবা, বাবা আমার কথা শুনো প্লিজ। "
রফিক সাহেব মেয়ের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে সোফায় বসে পরেন। তার বুকের ভেতরটা যেন কেউ মুঠো করে চেপে ধরেছে। এত বছর ধরে যে মেয়েটাকে নিজের চোখের মণির মতো আগলে রেখেছেন, সেই মেয়েই আজ তার অনুপস্হিতিতে হঠাৎ অন্য কারও স্ত্রী হয়ে গেছে। এটা যেন তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
নীলা বাবার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। দু'হাত দিয়ে বাবার হাত আঁকড়ে ধরে কাঁপা কণ্ঠে বলে,
" বাবা, প্লিজ আমার কথা একবার শুনো। আমি তোমাকে কিছুই লুকাতে চাইনি। সবকিছু এত হুট করে হয়ে গেছে যে..."
রফিক সাহেব ধীরে ধীরে মেয়ের দিকে তাকান।
" বিয়ে করেছিস? "
নীলার গলা শুকিয়ে যায়। শুকনো ঢুক গিলে সে ধীরে মাথা নাড়ে।
" কবে?"
" ক-কয়েকদিন আগে। "
রফিক সাহেব চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন।
" আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে৷ আর তা আজ আমায় অন্য কারও থেকে শুনতে হলো। হাহ! বাবা হিসেবে ব্যর্থ আমি। এতগুলো বছর নিজের চিন্তা না করে একা হাতে মেয়েকে বড় করে এই প্রতিদান পেলাম! "
" বাবা..."
" তুই একবারও ভাবলি না তোর বাবার কথা? কিভাবে পারলি এমনটা করতে? "
নীলার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে থাকে।
" ভেবেছি বাবা। প্রতিটা মুহূর্তে তোমার কথা ভেবেছি। কিন্তু তখন পরিস্থিতি এমন ছিল যে..."
" পরিস্থিতি? পরিস্থিতি তোরা তৈরি করেছিস, নীলা। তোর প্রতি যে বিশ্বাস ছিলো আমার, তা আজ ভেঙে গুড়িয়ে দিলি।"
কথাটা শুনে নীলা মাথা নিচু করে ফেলে। কিয়ান এতক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। এবার ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে রফিক সাহেবের সামনে দাঁড়ায়।
" আঙ্কেল, দোষটা নীলার একার নয়। "
রফিক সাহেব তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকান।
" তুমি চুপ করো। আমাদের বাবা-মেয়ের কথার মাঝে অন্য কাউকে চাচ্ছি নাহ আমি। "
" দয়া করে আমার কথাগুলো শুনুন৷ আপনি নীলাকে ভুল বুঝে এভাবে দূরে ঠেলে দিতে পারেন নাহ। "
" আমি কি পারি না পারি, তা তোমার থেকে জানতে চাই নি আমি। "
" তবুও আপনাকে সব শুনতেই হবে। এই বিয়েটাতে নীলার কোন হাত...."
" থামবেন আপনি? আপনাকে চুপ করতে বলা হয় নি? কেন আমাদের বাবা-মেয়ের কথার মাঝে ঢুকছেন? আর একটা কথাও বললে আমি নিজেই বাবার সাথে চলে যাবো। "
কিয়ান চমকে যায়। নীলার কথাগুলো তার বুকের ভেতরে গিয়ে আঘাত হানে। সে কিছু বলার জন্য মুখ খুললেও কিছুই বলতে পারে নাহ। হটাৎ করেই থেমে যায় সে।
নীলা কিয়ানের দিকে আর তাকায় নাহ। বাবার হাত আঁকড়ে ধরে স্পষ্ট কন্ঠে জানায়,
" বাবা, আমি দোষী। আমি দোষ করেছি, আমায় মারো, বকো, যা ইচ্ছা করো। তবুও আমার কথাগুলো শুনো প্লিজ। আ-আমি....আমি ওনাকে ভালোবাসি বাবা। ও-ও বাড়িতে গিয়ে আমি বুঝতে পেরেছি সেদিন বিয়েটায় প্রত্যাখ্যান করে আমি ভুল করেছি। ওনারা সবাই অনেক ভালো বাবা। আর ও-ওনি, আমার খুব খেয়াল রেখেছে এতদিন। আমি নিজেই ওনাকে ভালোবেসে ফেলি বাবা। ওনার কোন দোষ নেই। তুমি ওনাকে কিছুই বলবে নাহ। যা বলার আমাকে বলো। আমার কথাতেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমার মাথা তখন ঠিক ছিলো নাহ। তুমি তো জানোই তোমার মেয়ে কতটা জেদী, একরোখা একটা মেয়ে। "
কথাগুলো বলতে বলতে সে কান্না করতে থাকে। বাবার হাঁটুতে মুখ গুঁজে শব্দ করে কেঁদে উঠে। কিয়ান অবাক দৃষ্টিতে মিজের স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকে। এই অবুঝ মেয়েটা কবে এতটা বুঝদার হয়ে গেলো? সব দোষ নিজের কাঁধে নিয়ে তাকে এভাবে বাঁচিয়ে দিলো! এমন তো হওয়ার কথা ছিলো নাহ। কিয়ান তো চেয়েছিলো নীলাকে সকল বিপদ থেকে প্রোটেক্ট করতে। তবে আজ কেন এমন পরিস্হিতিতে সে কিছুই বলতে পারছে নাহ!
" আমি জানি বাবা তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে। বিশ্বাস করো, আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চাই না। তুমি আমার সবকিছু বাবা৷ তুমিই আমার জীবন। আমার যে তুমি ছাড়া আর কেউ নেই। আমাকে ছেড়ে দিওনা বাবা। "
রফিক সাহেবের দৃষ্টিপটে ভেসে উঠে সেই ছোট্ট নীলার ছবি। তার জন্মের দিন আকাশ অসম্ভব সুন্দর নীল বর্ণ ধারন করেছিলো। নীলার জন্ম হয়েছিলো নিজ বাড়িতেই। বাড়ির জানালা গলিয়ে বাহিরে তাকিয়ে নীলার মা বলেছিলো,
" দেখুন রফিক সাহেব, আজকের আকাশটা কত নীল! এমন দিনে আমাদের ঘরে এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম নিলো। ওর নাম নীলা রাখলে কেমন হয় বলুন তো! "
ওই একটা কথার দরুণ নীলার নামকরণ হয়ে যায়। ওনার প্রিয়তমা স্ত্রীর পছন্দের রং ছিলো নীল। মেয়ের নামের সাথে মিলিয়ে সর্বদা নীল রংয়ের পোশাক পড়াতেন। নতুন জামা পড়ে মেয়ের সে কি হাসি! সময়ের সাথে নীলা বড় হলেও ছোটবেলার স্বভাবের কিছুই পরিবর্তন হয় নি। আজও নীলা নতুন জামা পড়ে বাবাকে দেখাবে। কিছু হলেই বাবার বুকে কান্না জুড়বে। ভালো কিছু হলেই আগে বাবাকে জানাবে।
অথচ সেই মেয়ে বাবাকে না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলায় রফিক সাহেব মানতেই পারছিলেন নাহ। কিন্তু একটাই তো আদরের মেয়ে...
রফিক সাহেব মেয়ের মাথায় হাত রাখেন। হালকা হেসে বলেন,
" তোকে ছেড়ে দিবো কি করে? তুই যে আমার একমাত্র মা। "
নীলা মাথা তুলে হাউমাউ করে কেঁদে বাবার বুকে ঝাপিয়ে পরে। রফিক সাহেব মেয়েকে বুকে টেনে নেন। কিয়ান দূর থেকেই সবটা দেখতে থাকে। নীলার কান্না তার বুকের মাঝে গেঁথে যাচ্ছে। পারছে নাহ নীলাকে টেনে বুকে আগলে রাখতে৷
কিছুক্ষণ পরে রফিক সাহেব মেয়েকে ছেড়ে চোখ মুছে নেন। নীলা তখনও পাশে বসে হিচকি তুলছে। মেয়েকে এক হাতে আগলে রেখে কিয়ানের দিকে তাকায়। তাদের চোখাচোখি হতেই কিয়ান সোজা হয়ে দাঁড়ায়।
" কিছু বলার আছে তোমার? "
" জ্বি। "
" বলো কি বলবে। "
" আমি নীলাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। তাই আমি চাই আপনি নির্ধিদ্বায় আপনার মেয়েকে আমার হাতে তুলে দিন। আমি ওকে নিজের সাথে আগলে রাখবো বলে কথা দিচ্ছি। আপনি আমায় বিশ্বাস করতে পারেন। "
" তোমার পরিবার? "
পরিবারের কথা উঠতেই কিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে। নরম সুরে জানায়,
" আমার মা'কে মানিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আমার। আমার বাবার প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। আর ভাইয়া, ভাবী সবটা জানেন আগে থেকেই। "
" আমার তো তোমার মা'কে নিয়ে ভয়। যদি ওনি না মানেন? তবে আমিও বলে দিচ্ছি আমার মেয়েকে আমি আমার কাছে নিয়ে চলে আসবো। "
" সেই সুযোগ আমি দিবো নাহ। মাকে মানিয়ে নীলাকে তার যোগ্য সম্মান দিয়েই আমি নিজের কাছে রেখে দিবো। "
কিয়ানের সোজা কথায় রফিক সাহেব মনে মনে বেশ খুশি হন। তবুও কিয়ানকে পরিক্ষা করতে প্রশ্ন করেন,
" আমার মেয়েকে ভালোবাসো? "
" জ্বি। "
" কতটা? "
" যতটা ভালোবাসলে কোন পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই নিজের করে নিতে দ্বিধাবোধ করি নি। যতটা ভালোবাসলে তার হাসিমুখ দেখলে মনটা শান্ত হয়। কান্না করলে তা নিজের বুকে গিয়ে আঘাত করে। যতটা ভালোবাসলে নিজের সুখের চেয়েও তার নিরাপত্তা, সম্মান আর ভালো থাকাটাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।"
কিয়ান কিছুক্ষণ থেমে যায়। নীলা এখন কান্না থামিয়ে অবাক দৃষ্টিতে বাবা, স্বামীর দিকে তাকিয়ে আছে৷ কিয়ান তার দৃষ্টি লক্ষ্য করে জানায়,
" আমি জানি, নীলা আপনাকে ছেড়ে যেতে চায় না। আমিও চাই না সে আপনাকে ছেড়ে যাক। বরং আমি আপনার মেয়ের জীবনে আমি এমন একজন মানুষ হতে চাই। যার কাছে সে সর্বদা নিজের সবটুকু সুখ খুঁজে পাবে। তার বাবার পরে একমাত্র বিশ্বাসের স্হান আমি হতে চাই। "
কিয়ানের কন্ঠে কোন বাড়াবাড়ি নেই। নিজের ভালোবাসা প্রমাণ করার বাড়তি কোন তাড়াও নেই। বরং তার চোখে নিজের মেয়ের জন্য ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ স্পষ্ট।
রফিক সাহেব উঠে দাঁড়ান। ধীর পায়ে এগিয়ে আসেন কিয়ানের সামনে৷ তারপর অবাক করে দিয়ে কিয়ানকে বুকে টেনে নেন। কিয়ান অবাক হয়ে চোখ বড় বড় করে তাকায়৷
" শ্বশুর হয়ে জামাইকে বুকে টেনে নিলাম। তোমার প্রতি বিশ্বাস ছিলো বলেই মেয়েকে তোমার দায়িত্বে দিয়ে গিয়েছিলাম। জানতাম না দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার মেয়েটাকে এভাবে বাঁধনে বেঁধে ফেলবে। তবুও আমি খুশি। কারণ আমি জানি তুমি আমার মেয়েটাকে ভালো রাখবে। "
কিয়ান স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। নীলা নাক টানতে টানতে তাদের কাহিনী দেখতে থাকে। মেয়ে এখানে কাঁদছে, আর বাবা চলে গেলো মেয়ের জামাইকে বুকে টানতে।
" ভালোই জামাই-শ্বশুর মিল চলছে। এখানে আমার বউমা যে কেঁদেকুটে একাকার। সেদিকে কারও নজর নেই দেখছি। "
সাজিদ সাহেবকে দেখে নীলা চমকে উঠে দাঁড়িয়ে পরে৷ কিয়ানও বাবাকে এখানে দেখে অবাক৷ এরা সকাল সকাল এত হার্ট এট্যাক দিচ্ছে কেন?
" বাবা, তুমি এখানে? "
" এক বাবাকে পেয়ে আসল বাবাকে ভুলে গেলি? এজন্য এত ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছি? এই দিনও আমাকে দেখতে হলো! "
" বাবা প্লিজ... "
" তুই চুপ থাক। আগে আমার বউমাকে দেখতে দে। "
নীলার দিকে এগিয়ে যেতেই নীলা ঘাবড়ে গিয়ে কিয়ানের দিকে তাকায়। নীলার ঘাবড়ানো দেখে সাজিদ সাহেব হেসে নীলার মাথায় হাত রাখেন।
" ভয় পেও না মা। আমার ছেলের প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। ও যখন তোমায় ভালোবেসে বিয়ে করেছে, তখন তোমার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও মন দিয়ে পালন করবে৷ আমার দুটো ছেলেই ছোট থেকে জেদী। বড়জনও তো নিজ পছন্দে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে সারলো। তবে দুটোই কিন্তু নিজের মানুষের প্রতি বড্ড পজেসিভ। তোমাকে আমাদের পরিবারে স্বাগতম মা। "
নীলা এত ভালোবাসা পেয়ে আবারও ফুঁপিয়ে দেয়। রফিক সাহেব বন্ধুর কাঁধে হাত রাখতেই তিনি সরে যান। রফিক সাহেব এতে ভয় পান। বন্ধু তার উপর রাগ করলো না তো!
" সাজিদ...."
" চুপ থাক তুই। কথা বলিস নাহ। ঠিকই তো সকাল সকাল চলে এলি। জানিসই তো আমি রান্না পরি নাহ। আমার খাবারের কথা ভাবলিও নাহ। আমার ক্ষুধা লাগছে বেটা। "
রফিক সাহেব হেসে ফেলেন।
" আমিও তো খাই নি কিছুই। চল বাহির থেকে খেয়ে নিই। আজ আমি খাওয়াবো যা যা খেতে চাস। "
" তাহলে তো পুরো দোকানই আমি একাই সাবার করবো। চল তাড়াতাড়ি। "
কিয়ান মুচকি হাসে। যাক একটা দিক তো মিটমাট হলো। এখন রইলো মা। মা'কে মানানো একটু কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তার বিশ্বাস মা নীলাকে ভালোবাসেন। শুধু আগের জেদ মনে রেখে দিয়ে রাগ দেখান। ভেতরে ভেতরে ভালোবাসেন বলেই তো নীলার এত খেয়াল রাখেন।
****************
সারাদিন নীলা ঘুমিয়ে পার করেছে। সকালে বাবারা চলে যাওয়ার পর তার মাথা ব্যাথা শুরু হয়। পূর্বের কান্নার দখল মাথা ব্যাথায় রুপ নিয়েছে। তাই মাথা ঠান্ডা করতে সে ঘুমিয়ে গিয়েছিলো। এখন ঘুম থেকে জেগে আশে পাশে কিয়ানকে দেখতে পায় নাহ। কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেলো সে বুঝতেই পারলো নাহ। এত ঘুম তার! অবশ্য গতকাল রাতের মুভি দেখার ফল এসব।
নীলা আড়মোড়া ভেঙে উঠে। ভেবেছিলো কিয়ান হয়তো ওয়াসরুমে। এখন ওয়াসরুমের দরজা খোলা দেখে নীলা অবাক হয়। উঠে এসে বাড়ান্দা চেক করে কিয়ানকে না পেয়ে ঘাবড়ে যায়। পুরো রুমে কোথাও কিয়ানের কোন অস্তিত্ব নেই। ভয় পেয়ে ফোন হাতে নিতেই রুমের দরজা খুলে কিয়ানের প্রবেশ ঘটে। হাতে একটা খাবারে প্যাকেট। নীলাকে উঠতে দেখেও কিয়ান কিছুই বলে নাহ।
" কোথায় ছিলেন আপনি? আমাকে বলে যাননি কেন? খুব ভয় পেয়েছিলাম আমি। "
কিয়ান কোন উত্তর করে নাহ। হাতের প্যাকেট টেবিলে রেখে শার্টের বোতামে হাত রাখে। ধীরে সুস্হে শার্ট খুলে ফোন আর ওয়ালেট বিছানায় রেখে সে ওয়াসরুমে চলে যায়। নীলা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে কিয়ানের ভাবসাব দেখতে থাকে। এনার আবার কি হলো!
নীলা বিছানায় বসে কিয়ানের অপেক্ষা করতে থাকে। হটাৎ কিয়ানের ফোনে মেসেজ আসার শব্দ পেতেই নীলা সেদিকে তাকায়। এক অচেনা নাম্বার থেকে কিছু হুমকিস্বরুপ মেসেজ এসেছে। ফোন আনলক থাকায় নীলা সবটা দেখতে পায় নাহ।
কিয়ান ওয়াসরুম থেকে বের হতেই নীলা তার দিকে তাকায়। কিয়ান একটা বারও তাকাচ্ছে না তার দিকে। নীলার রাগ উঠে যায়। ধপধপ শব্দ করে সে কিয়ানের দিকে এগিয়ে যায়। কিয়ানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে কিয়ান দেখেও দেখে না তাকে। সে ঘুরে যেতেই নীলার ঘুরে গিয়ে সামনে দাঁড়ায়।
" আমি আপনার সাথে কথা বলছি। "
কিয়ান চলে যেতে নিলে নীলা রেগে কিয়ানের হাত তুলে বাহুতে সজোড়ে কামড় দিয়ে বসে। কিয়ান ব্যাথায় চোখ খিঁচে নিয়ে বলে,
" সমস্যা কি তোমার? জ্বালাচ্ছো কেন? দূরে সরে যাও। "
নীলা রেগে আবারও কামড় দিতে আসে। কিয়ান আচমকা তার দুই হাত আটকে ধরে তাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে৷
" সমস্যা কি বলবে? কথা বলতে না করেছো, বলছি না কিছুই। তবুও ভালো লাগছে নাহ? "
নীলার চোখে পানি এসে জমে। অভিমানী কন্ঠে বলে,
" সকালের কথা আমি ভুলে গিয়েছি। "
" আমি মনে রেখেছি। "
" আপনিও ভুলে যান। আমি রাগের মাথায় ওসব বলেছিলাম। "
" আমি ভুলতে পারছি নাহ। "
নীলা ছলছল চোখে তাকায়।
" বিশ্বাস করুন, আমি ইচ্ছা করে ওমন রাগ দেখাই নি। বাবা যদি জানে আপনি প্রতারণা করে আমায় বিয়ে করেছেন। বাবা কখনও আপনাকে মানবে নাহ। বাবা আমার প্রতি বড্ড সিরিয়াস। আপনাকে বাঁচাতেই আমি আপনাকে থামাতে চেয়েছিলাম। আমার কথা বিশ্বাস করুন প্লিজ। "
কিয়ান মনে মনে হাসতে থাকে। মাথায় শয়তানি বুদ্ধি আসতেই সে বলে উঠে,
" একটা চুমু দাও, তবেই বিশ্বাস করবো। "
নীলা বুঝে যায় কিয়ান এতক্ষণ মজা করছিলো। রাগ দেখিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে গেলেই ছাড়াতে পারে নাহ। কিয়ান তার দু-হাতই আটকে রেখেছে।
" অসভ্য, অসভ্য, অসভ্য। আমি আপনার কথা শুনবো নাহ। "
" আমি তবে তোমায় ছাড়বো নাহ। থাকো এভাবেই। এতে আমার লাভ ছাড়া ক্ষতি হবে নাহ। "
কিয়ান মিচকে হেসে নীলার ঘাড়ে মুখ গুঁজে দেয়। ছোট করে চুমু দিলে নীলা ছটফটিয়ে উঠতেই কিয়ান কামড় দিয়ে বসে। নীলা শব্দ করে উঠতেই কিয়ান শয়তানি হেসে বলে,
" কেমন লাগে? আমার হাতে তো বত্রিশটা দাঁতের মার্ক বসিয়ে দিয়েছো। "
" ভালো করেছি। আরও করবো, আপনার সমস্যা? "
" মেটেও নাহ। এটা তো আমার শরীর নাহ। এটা তোমার এক্সপেরিমেন্টের বিষয়বস্তু। যখন মনে চায় কামড় দিবে, ঘুষি দিবে। "
নীলা মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে থাকে। কিয়ান মুচকি হেসে নীলার ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ায়। পর মুহুর্তেই তাকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় বসে।
" আজ খুব খুশি আমি। তোমাকে বাবাকে মানানো আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিলো। অবশেষে সফল হলাম। "
নীলা তার গলা জড়িয়ে ধরে বসে। গাল ফুলিয়ে বলে,
" আমার জন্যই পেরেছেন। তারপরও রাগ দেখিয়ে বসে আছে। আপনারা পুরুষরা অসহ্যরকম। না বুঝে শুধু শুধু রাগ দেখিয়ে বসে থাকেন। "
" রাগ করলে যদি মিষ্টি মুহুর্ত পাওয়া যায়, তবে ক্ষতি কি? "
" আপনি কি জানেন, আপনি অত্যাধিক পরিমানের সুবিধাবাদী, লোভী পুরুষ। "
" আর তুমি আমার সেই মিষ্টি নীলাবতী, যার জন্য আমি আজীবন লোভী পুরুষ হতে রাজি। "
চলবে.........
(পিঁপড়াকে মিষ্টির লোভ দেখিয়ে লাভ নেই, পিঁপড়া চিনি পেলেই সন্তুষ্ট। কিয়ান পিঁপড়াকেও এমন অনেক মিষ্টি, রসগোল্লা, চমচমের লোভ দেখানো হবে। লোভী কিয়ান কিসে সন্তুষ্ট হয় দেখা যাক🐸)